একটু আগে আউলা থেকে টিএসসি মেট্রো যাওয়ার জন্য বের হইলাম। বের হয়েই এক রিকশাওয়ালা মামার সাথে ভাড়া ঠিক করে উঠে পড়লাম রিকশায়।
মামা ক্যাম্পাসের মধ্যে দিয়ে রিকশা চালানো শুরু করলো। ভিসির অফিসের সামনে এসে হঠাৎ বলতেছে, "ভিসি পাল্টাইছে মামা।"
আমি: "হ্যাঁ, মামা । কালকেই তো পালটাইলো।"
রিকশা মামা: "হয় পেপারে দেখলাম।"
এরপর মামা আমার ডিপার্টমেন্ট জানতে চাইতেছে, ডিপার্টমেন্ট বলার পর এক এক করে ডিপার্টমেন্ট এর সব সিনিয়র টিচার এর নাম বললো নিজেই ।
যাইহোক একটু পর মামা আবার জিজ্ঞাসা করতেছ যে বাসা কই ।
বললাম রংপুর ।
এই শুনে মামা বললো, "আমার বাসায় তো মামা রংপুরের অনেকে আছে । আমার বাসা সাভার।"
আমি: "সাভারে নিজের বাসা নাকি মামা?"
রিকশা মামা: "হ্যাঁ নিজের বাসা তো, ওইখানে ভাড়া দিছি এর এইখানে একটা ফ্ল্যাট নিয়া থাকি।"
আর কিছু বলিনাই ।
যাইহোক এখন মেট্রো তে আছি, মেট্রোর অবস্থা খুবই বাজে । আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝাঁকি দেয় চলার সময়, আমি যেমন ঝাঁকি খাইলাম মামার কথা শুনে ।
- আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
Engineer's Diary, BUET
This is the BUET Student Chapter page of Engineer's Diary. Check out Merch at edy.pw/EdHud
বুয়েট পাশ করার দ্বারপ্রান্তে এসে/পাশ করার পর বিশাল সংখ্যক লোক কনফিউজড থাকে, এবার কি করবে।
কি মজার একটা বিষয় দেখেন!
জীবনের ৫-৬ বছর খরচ করে ফেললো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে। কিন্তু জানেও না এই ৫-৬ বছর ঠিক কি উদ্দেশ্যে কমিট করবে!!!
কি করবে এইটা না জেনেই ঢুকেছিল!!!
৫-৬ বছর।
For literally nothing!!!
বহু লোক বুয়েট চুজ করে "বাইরে যাবো" বলে।
কিন্তু ২৪-২৫ বছর বয়স হতে হতে অনেকেই বুঝতে পারে, বিশেষত মফস্বল-মধ্যবিত্ত ব্যাকগ্রাউন্ডের পোলাপানেরা বুঝতে পারে, জীবনে অন্যান্য প্রায়োরিটি আছে। তার শিকড় মাটিতে। আকাশ ছুঁতে গেলে শিকড় ছিঁড়ে ফেলতে হবে।
সেসব জটিলতায় দেশেই থাকতে হয়।
ভাবে একটা সরকারী চাকরি পাইলে মোটামুটি খেয়েপরে চলে যাবে। পরিবারের সাথে তো থাকা যাবে।
সরকারি চাকরিতে ঢুকার পর চোখ খোলা শুরু করে। বাস্তবতা দেখা শুরু করে। একসময়ের এলাকার বিখ্যাত বুয়েটিয়ানকে কেউ চুল দিয়ে ও পোছে না। ফুটো পয়সা মূল্য দেয় না।
ডিপ্লোমা ফোরম্যানরা জুতায়। এলাকায় ফুটো পয়সা দাম নেই। ৩৫ হাজার টাকা বেতন। লিগালি এক্সট্রা কোনো ইনকামের সুযোগ নাই।
প্রাইভেট সেক্টরে কর্পোরেশনের পোষা কুত্তা হয়ে যাইতে হয়। সবাই নাক সিটকায়।
ফলে সরকারি চাকরি না খুঁজে ও উপায় নাই।
গ্রাজুয়েট কয়েকশো। চাকরির সার্কুলার আসে ২-৪ টা। পোস্ট ৪-৫ টা।
শেষে ব্যাঙ্কের চাকরি খোঁজা শুরু করে। এক সময়ে যে বাদাম চিবাইতে চিবাইতে ফিজিক্স-অঙ্ক কাপাইতো। যে গুগল, বোয়িংয়ে যাওয়ার গন্ধ পাচ্ছিলো, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অঙ্ক মুখস্থ করেছে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। ফুরিয়ার-লাপ্লাস ট্রান্সফর্মেশনে হাত পাকিয়েছে, সে ব্যাঙ্কের টেবিলে বসে ৯-৫ পর্যন্ত ফর্দ লিখবে আর কাস্টমারের সাথে গ্যাজাবে।
হা হা। প্যাথেটিক লাগে?
তারপরও যেকোনো কেরানির চাকরি হলেও সরকারি চাকরি বলে কথা। ঢোকা লাগে।
আধবুড়ো ঘুষখোর কেরানিদের সাথে গ্যাজাইতে গ্যাজাইতে এক সময়ের ক্রিস্টাল স্ট্রাকচার এনালাইসিস করা মগজ আস্তে আস্তে ক্ষয়ে দূর্বল হয়ে যায়। একদিন হয়ত আর মনে করতে পারে না আগে সে কে ছিল।
বেতন তো আগেই বলা হলো। টেনেটুনে, কোনো রকম চলা আরকি। পদে পদে অক্ষমতা টের পাওয়া। পরিবার চালাইতে গিয়ে কিপ্টামো। বুড়ো বাপ মা থাকলে একটু উন্নত চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা না থাকা।
এই হল পরিণতি।
এইসব কিছু না জেনেই, না বুঝেই কৈশোরের উত্তেজনায় সে "ভুয়াটে পড়বে" বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো।
৫-৬ বছর না, ক্ষেত্রবিশেষে পুরা জীবনটাকে ই কমিট করে ফেলেছে। ফলাফল কিছু চিন্তা না করেই।
SM Plabon
14/05/2026
বুয়েটের ১৬তম ভিসি হলেন ড. একরামুল হক
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর অধ্যাপক ড. একরামুল হককে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৪ মে তারিখের এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়। তিনি বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
উল্লেখ্য, প্রফেসর ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সরকারের এক আদেশে উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
প্রফেসর ড. একরামুল হক ১৯৮৯ সালে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মেধাতালিকায় অনার্স মার্কসসহ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। একই বছর তিনি বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে ১৯৯২ সালে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৯৭ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৫ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ড. একরামুল হক ১৯৯৬ সালে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণাক্ষেত্রে তার অবদান দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তার ৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
কুমিল্লা শহরে জন্মগ্রহণকারী ড. একরামুল হক ১৯৮১ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১৪তম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ৫ম স্থান অর্জন করে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
নবনিযুক্ত উপাচার্যের নেতৃত্বে বুয়েট শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
[Get BUET Merch at sutonu.shop/buet ]
03/05/2026
অ্যালামনাই অবদান | একসাথে এগিয়ে নিচ্ছে DChE
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (DChE) আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছে যে বিভাগের ফুয়েল ল্যাবরেটরির সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য প্রফেসর এম. সাবদার আলি একটি উদার অনুদান প্রদান করেছেন।
প্রফেসর আলি এই প্রকল্পে ১ কোটি টাকা (প্রায় ৮১,৫০০ মার্কিন ডলার) দান করেছেন, যা ল্যাবরেটরির সংস্কার এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে স্নাতক পর্যায়ের ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম এবং জ্বালানি বিশ্লেষণ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। DChE-এর একজন বিশিষ্ট শিক্ষক হিসেবে তিনি বিভাগের প্রধান হিসেবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন, এছাড়াও বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন এবং ডুয়েট-এর উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পূর্বের ফুয়েল ও ফ্লুইড ল্যাবরেটরিকে পুনর্গঠন করে দুটি পৃথক ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উন্নত ল্যাবগুলোতে সংযোজন করা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি, যেমন—অটোমেটিক কার্ল ফিশার (KF) টাইট্রেটর, গ্যাসোলিনের জন্য অক্সিডেশন স্টেবিলিটি অ্যানালাইজার, উচ্চ তাপমাত্রার ক্যালসিনেশন ফার্নেস, ASTM D86 ডিস্টিলেশন অ্যাপারেটাস, অটোমেটিক বম্ব ক্যালোরিমিটার, কপার স্ট্রিপ করোশন অ্যানালাইজার এবং নির্ভুল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ওয়াটার বাথ। এছাড়াও আগামী মাসগুলোতে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
DChE প্রফেসর এম. সাবদার আলির এই দূরদর্শী অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষাদান, গবেষণা এবং ল্যাবরেটরি সুবিধাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উপকৃত করবে।
02/05/2026
পলাশীর মোড়ে টিকে আছে ঢাকার রেল ইতিহাসের শেষ প্রহরী!
আধুনিক ঢাকার বুকে আমরা কি কখনও ইতিহাসের পায়ের ছাপ খুঁজি? পলাশী মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় হয়তো অনেকেরই নজর এড়িয়ে যায় এই জরাজীর্ণ লোহার খুঁটিটি। কিন্তু এটি কোনো সাধারণ ইলেকট্রিক পোল নয়।
এটি সেই সময়ের রেলওয়ে সিগন্যালিং ও টেলিগ্রাফ লাইন, যখন এই পথ দিয়েই ট্রেন ছুটে যেত ফুলবাড়িয়ার দিকে। আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা শহরের সব আধুনিকায়নের পরেও এই একটি খুঁটি আজও তার মাথায় ধারণ করে আছে সেই প্রাচীন সিরামিক ইনসুলেটরগুলো।
সোনারগাঁও রোড থেকে পলাশী—পুরো ঢাকা শহর থেকে রেলের চিহ্ন মুছে গেলেও, পলাশীর এই মোড়ে আজও টিকে আছে এক টুকরো জীবন্ত ইতিহাস। আমাদের শহরের এই প্রাচীন প্রকৌশলগত নিদর্শনগুলোকে চিনে রাখা এবং সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব।
কুয়েট থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার মাহির পোস্ট হুবহু শেয়ার দিলাম। ক্রাউড ফান্ডিং বিনিয়োগ নামক স্ক্যাম সংক্রান্ত এটাই আপাতত আমার শেষ পোস্ট। সে তার পোস্টে কার কথা বলেছে, তাকেই জিজ্ঞেস করবেন, আমাকে না!
....
আমি গতবছর ‘স্বনামধন্য’ ক্রাউডফান্ডিং এগ্রো কোম্পানিতে ৪-৫ মাস পার্ট টাইম ছিলাম।
কোম্পানিতে অযোগ্য আর ইনএক্সপেরিএন্সড সব রিসোর্স দিয়ে ভর্তি ছিলো। ফার্স্ট আমাকে বলা হয়েছে, পুরো নতুন করে টিম সাজাতে হবে। গিয়ে দেখি রাজত্ব করতেছে তার বাচ্চাকালের সব ফ্রেন্ড, যাদের নুন্যতম এগ্রি বা রিটেল ইন্ডাস্ট্রি এর সম্পর্কে ধারণা নাই।
ফাইনান্স একাউন্টিং এ বসে আছে, যে জীবনেও ফাইনান্স হ্যান্ডেল করে নাই, অডিট রিপোর্ট তো দূরে থাক।
আরেক বন্ধু অপারেশনস সেলস হেড, যার কাজ বছরে দুই বার করে ঢাকা ভার্সিটি এর এক হলে গিয়ে গরু দিয়ে আসা।
আল্লাহ এর ওয়াস্তে কোম্পানি চালাইতেছে।
ভাবসি এগুলো নিয়ে লিখবো না।
এদের বিএসটিআই ৪ মাস আগে রেইড দিছিলো। এরপর থেকে যে দোকান খালি এখনো প্রোডাক্ট তুলতে পারে নাই, বিএসটিআইও এর কোন সার্টিফিকেট নিতে পারে নাই।
শুধু একটা গরুর মাংস বেচে একটা দোকান জীবনেও প্রফিটেবল হইতে পারে না। তাও এত রিসোর্স দিয়ে। স্বপ্ন এখন পর্যন্ত গরু রাখে ফুটফল প্রোডাক্ট হিসেবে।
আমার এখনো মনে আছে, স্বপ্নতে যখন সাপ্লাই দিতাম। গরু যে দামে নিত, ঠিক ওইদামে বিক্রি করত। ওদের মডেলই ছিলো, যে গরু কিনবে সে সাথে আরো ৫ টা আইটেম কিনবে।
আমি বার বার সেই ফাউন্ডারকে তার ভাই ব্রাদার দের অক্ষমতা সম্পর্কে বলে আসছিলাম। কিন্তু তিনি ঘুরে ফিরে তার অক্ষম, ভাই ব্রাদার দিয়ে কোম্পানি চালাইতেছে।
আর ফেসবুকে উনি গদ্য লেখে দেশে কেন ব্যবসা করা যায় না।
কিন্তু ব্যবসা যে উনি করতে পারে না, এই অক্ষমতা সম্পর্কে সে বলে না।
যাই হোক, এগুলো হয় না যদি নিজের লেজিট ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকে।
24/04/2026
৪৫ তম বিসিএসের ভাইভার জন্য আমি ছুটি নিয়েছিলাম, কিন্তু এটেন্ড করিনি। বাসা থেকে অনেকবার বলেছে, অনেকে বুঝিয়েছে—আমি যেন অ্যাটলিস্ট ভাইভাতে এটেন্ড করি। আমার ইচ্ছে হয়নি। আমি যাইনি। ঘুমিয়েছি। আমি ছোটবেলা থেকেই এরকম—বেয়ারা। যা ভালো লাগবে না বা করতে মন চাইবে না, সেটা হাজার জোর করেও কেউ করাতে পারবে না।
ছোটবেলা থেকেই খামখেয়ালি স্টুডেন্ট ছিলাম, এমনি এমনি পড়তাম—ইচ্ছা হলে। নাহলে ঘুমাতাম, পোলাপান পড়াতাম। সেই ক্লাস ৯ থেকে পড়ানো শুরু করি। ৯-এ উঠে ৮-এর পোলা/মাইয়াগো পড়াতাম। পড়াতাম—অভাবে আর স্বভাবে। তারপর থেকে একটা নেশার মতো হলো। ক্লাস বাদ দিয়ে পড়াতাম, ক্লাস ৮ থেকে ইস্কুল করা বাদ দিয়েছি। কারণ একটাই—স্কুলের টিচার পড়াতে পারতেন না। স্টুডেন্ট ছিলাম সব মিলিয়ে ৭ জন। সায়েন্সে ৩ জন, আর্টসে ৪ জন। আমার স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছে ৩০+ বছর আগে। ইতোপূর্বে কোনোদিন সেই স্কুল থেকে কেউ জিপিএ ৫ পায় নাই। আমিই প্রথম টেস্ট পরীক্ষা আর এসএসসিতে এ প্লাস পাই।
এরপর কলেজেও ভর্তি হলাম, ক্লাস করি নাই। দুই বছরে দুই মাসও ক্লাস করি নাই। হুদাই বিভিন্ন টিচারের কাছে যেতাম, পরীক্ষা দিতাম; ফার্স্ট ইয়ার হয়ে সেকেন্ড ইয়ারের ব্যাচে পড়তে যেতাম। যেদিন ইচ্ছা হতো যেতাম, ইচ্ছা না হলে যেতাম না। তারপরও কেন জানি আমার স্যারেরা আমাকে পছন্দ করত। ইংরেজি এক স্যারের কাছে তো ইচ্ছেমতো যখন-তখন যেতাম। স্যারকে বলেছিলাম, "স্যার আমি এসএসসিতে ইংরেজির কারণে গোল্ডেন মিস করছি, এইবার সেটা মিস দেওয়া যাবে না।" স্যার আমার খালি পরীক্ষা নিতেন; তাঁর তখন অনেক ব্যস্ততা, অনেক স্টুডেন্ট, তাও আমাকে পড়াতেন—ফ্রি পড়াতেন। কৃতজ্ঞতা।
আরেক স্যারের কাছে যেতাম, তাঁর প্রাইভেট মিস দিলে আবার জরিমানা দেওয়া লাগত। আমার জরিমানা কোর্সের ফি-এর চাইতে বেশি হয়ে গিয়েছিল।
কলেজে যখন টেস্টে এ প্লাস পাইলাম, স্যাররা খোঁজে—এই পোলা কে? কোনোদিন তো কলেজে দেখি নাই! যদিও বুয়েটে চান্স পাওয়ার পর গিয়ে স্যারদের সাথে দেখা করে এসেছি। তখন উনি চিনেছেন, ওহ তুমিই সেই ছেলে!
অ্যাডমিশনে আল্লাহ ফিরায় দেয় নাই। যেখানেই পরীক্ষা দিয়েছি, সেখানেই চান্স পেয়েছি—ঢাবিতে ৬০০+, জগন্নাথে ১৭, রুয়েটে ৩৩, বুয়েটে ৩০০+, রাবিতে ১ম। চুয়েট, কুয়েটে দেওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল; যাওয়া, থাকা-খাওয়ার টাকা ছিল না, তাই যাই নাই। ওই সময় ঢাবিতে পড়ার ইচ্ছে ছিল, ভর্তিও হয়েছিলাম; কিন্তু পরে বুয়েটে হয়ে যাওয়ায় আর পড়া হয়নি, চলে গেলাম বুয়েটে। রাবি/রুয়েটেও পড়ার খুব ইচ্ছে ছিল, নিজের এলাকার প্রতিষ্ঠান; আলাদা একটা ফ্যাসিনেশন ছিল।
বুয়েটে গিয়ে হলো আরেক নতুন ইতিহাস। এই ইতিহাস লিখতে লাগবে আরেক উপন্যাস। যাহোক, আমি বহু কষ্টে বুয়েট পার করছি, আরেকটু হলে জান বের হয়ে যেত। গলা ধাক্কা দিয়ে আমাকে যে বুয়েট পাস করিয়ে বের করে দিয়েছে, এইটাই শুকরিয়া। এখনো মাঝে মাঝে ঘুমের মাঝে বুয়েটের ল্যাব, সিটি আর ফাইনালের ট্রমা ঘুরে বেড়ায়।
বুয়েট থেকে বের হয়ে ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আইবিএ-তে পরীক্ষা দিলাম। হেব্বি কম্পিটিশন, ভাবলাম হবে না। কেমনে জানি প্রিপারেশন ছাড়াই হয়ে গেল। (অনেকেই এখন বিশ্বাস করবেন না, না করলেই নাই; কেউ সাক্ষী নাই, জানে খালি আমার বউ)। হেরে জিগায় দেখেন, আমি কেমনে কিতা করতাম। যাহোক, আইবিএ আমার এক ভালোবাসার নাম হয়ে থাকবে সারাজীবন। শেষ করতে পারলে আরও ভালো লাগত। সেই সময় চাকরি হয়ে যাওয়ায় চলে যেতে হলো চট্টগ্রাম, আর সময়-সুযোগ হলো না। সেকেন্ড সেমিস্টারের একটা পরীক্ষা বাকি ছিল, ছুটি দিল না। চট্টগ্রাম থেকে আসতে পারলাম না। আমিও আর প্যারা নিই নাই। আর ঢাকাতে থাকারও ইচ্ছা হলো না।
নতুন চাকরিতে পোস্টিং নিয়ে রাজশাহী চলে এলাম। রাবিতে পড়ার ইচ্ছে ছিল, আগেই বলেছি। এত সুন্দর একটা ক্যাম্পাস, অফিস শেষ করে ক্যাম্পেসে গিয়ে বসে থাকতে দারুণ লাগে। আগের পরিচিত অনেক জুনিয়র, ছাত্র-ছাত্রীও জুটে গেল। এর মধ্যে MIT OCW-এ Prof. Jonathan Gruber-এর 'Principles of Microeconomics' কোর্সটা করে দারুণ মজা পেলাম। এছাড়া ইকোনমিকসের কোনো কিছু পড়তে ভালো লাগা শুরু করল। নিজের স্বপ্ন আর ভালোলাগার ক্যাম্পাস দেখে ভর্তি হয়ে গেলাম রাবির ইকোনমিকসে। এখানেই পড়তেছি। ভালোই লাগছে।
চাকরি জীবনে একটা প্রিলি/লিখিততে ফেল করি নাই (ফ্লেক্স না, জাস্ট সত্য কথা)। বিবি এডির প্রথম ভাইভায় প্রথমবার ফেল করছি, আল্লাহ পরেরবার আর ফেল করায় নাই। বিবি-তে এসে গত এক বছরের বেশি সময়ে বেশ ভালো লাগার একটা সময় কেটেছে। আমি যেমন চাই, অনেকটা তেমনই। দেশের ইকোনমি নিয়ে কাজ করব; ভবিষ্যতে কিছু একটা হতে পারলে দেশের জন্য কিছু একটা করা যাবে। তবে এখানেও যে অপ্রাপ্তি নেই, তা না। আছে। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মিলিয়েই জীবন চলছে।
দুটো ছবির মাঝে ব্যবধান ১০ বছরের। আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার জন্য শুকরিয়া। এ জীবনে কি পরিমান যে পরিশ্রম করেছি, তা জানে এই মস্তিষ্ক আর এই রোগাপাতলা শরীরটা😅 জীবনে একটা টাকা ঘুষ খাইনি, ১ টাকা অন্যায় করে কারও কাছে থেকে নিই নি। একাধিক চাকুরীর ভেরিফিকেশনে এসেও অনেকে নানা ফন্দি ফিকির করে টাকা চেয়েছে। দিই না। এক পয়সাও না।
এত কিছু লেখার উদ্দেশ্য কী? কিছুই না। মনে হলো, তাই লিখলাম। কারও যদি একটু ভালো লাগে, কেউ যদি এই আজব বাস্তব কাহিনী শুনে নিজের দিশা খুঁজে পায়, অনুপ্রেরণা পায়—তবে মন্দ কী?
- মাইনুল ইসলাম সুজন
24/04/2026
রিসেন্টলি ডিপ্লোমাপাড়ায় উৎসব বয়ে যাচ্ছে- তারা নাকি SCImago Ranking অনুযায়ী বুয়েট থেকেও এগিয়ে আছে! এই নিউজ পড়ার পরে ভাবতে বসলাম- কিরে SCImago Ranking এতো ত্রুটিপূর্ণ Ranking সিস্টেম তো হবার কথা না। নিশ্চয়ই ভিতরে ঘাপলা আছে।
পেলামও তাই। বিশ্বাস করবেন না ভাই, এই ডিপ্লোমাদের যে কমন সেন্সের এতোই অভাব, আগে জানতাম না।
ব্যাখ্যা করি আপনাদেরকে দাড়ান-
SCImago Ranking বিভিন্ন ধরনের হয়। এর মাঝে ডিপ্লোমারা যে ক্যাটাগরিতে বুয়েটের থেকে এগিয়ে গেছে সেটি হচ্ছে জেনারেল ক্যাটাগরি- এখানে দেখা হয়- আপনার ভার্সিটিতে আর্টস-কমার্সের ছাত্র কয়জন, সামাজিক কার্যক্রম কেমন হয় ইত্যাদি আজাইরা বিভিন্ন বিষয়। আরও বলে দেই ভাই- কোনো ভার্সিটিতে টিচার কুয়ালিটি কেমন, ছাত্রদের মাঝে প্রতিযোগিতা কেমন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর এই Ranking এ দেখাই হয় না।
তাই একটি Engineering বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই ক্যাটাগরি উপযুক্ত না। Engineering University গুলোর তুলনা করার জন্য আলাদা ক্যাটাগরি আছে- 'Engineering Category' । এখানে গিয়ে সার্চ করতেই নজরে আসলো - মেধাবী ডিপ্লোমা ভাইদের ক্যাম্পাস DUET এর Rank- ১৯৩১ তম। যা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১১৯৩ ধাপ পিছিয়ে আছে।
আর এরা লেখাপড়া না করে, কোটার জন্য আন্দোলন করে ভাবছে- "দেশ সেরা হয়ে গেছি"। ভাই রে ভাই, ঠিক কতটা ঘিলুহীন এরা- নিজেদের র্যাংকিং কোন ক্যাটাগরিরটা দেখলে ঠিক হবে, তাও বুঝে না।
- মুহাম্মদ রাফি
15/04/2026
The actual image of Archi Plinth, নববর্ষ-১৪৩৩
C. Ruhfayed Sakib
10/04/2026
বুয়েট ই-রিকশার বিশেষ বৈশিষ্ট্য
বুয়েটের ডিজাইন করা ই-রিকশার বিশেষত্বের মধ্যে অন্যতম হলো এর সর্বোচ্চ গতি, ব্যাটারি রেঞ্জ এবং ব্রেকিং সিস্টেম।
ব্যাটারি রেঞ্জ: এক চার্জে ৭০-৮০ কিলোমিটার।
সর্বোচ্চ গতি: ৩০ কিমি/ঘণ্টা।
ব্রেক টাইপ: হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক (৩টি চাকাতেই)।
এছাড়াও, এতে পার্কিং ব্রেক এবং হাইড্রোলিক ব্রেকিং সিস্টেম রয়েছে, যা রিকশাকে দ্রুত ও সুষমভাবে থামাতে সহায়তা করে, ফলে দুর্ঘটনা কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
গঠন ও নিরাপত্তা
বুয়েট ই-রিকশার গঠনটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি উঁচু গতি এবং ভারী যাত্রী বহনে স্থিতিশীল থাকে।
ব্যালেন্সড চেসিস: রিকশার ভরকেন্দ্র নিচে রাখা হয়েছে, যা উচ্চ গতিতেও সুষম এবং স্থিতিশীল রাখে।
মজবুত বডি ফ্রেম: এটি ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম।
স্মার্ট কন্ট্রোলার: ব্যাটারি চার্জ এবং মোটরের গতি নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আধুনিক কন্ট্রোলার ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়া, হাই-বিম হেডলাইট, টার্ন ইন্ডিকেটর, পেছনের আয়না এবং ইলেকট্রিক হর্ন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
কারিগরি ও গাঠনিক বৈশিষ্ট্য
এটি লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অন্যান্য অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় হালকা এবং দীর্ঘস্থায়ী।
ব্যাটারি: ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বেশি ক্ষমতা ধারণ করতে সক্ষম।
স্পিড লিমিট: সর্বোচ্চ গতি ৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
লোড ক্ষমতা: এটি ৩২৫ থেকে ৪২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে।
স্মার্ট প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা
বুয়েটের ই-রিকশাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে, যা সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা বাড়ায়।
জিও-ফেন্সিং: এই প্রযুক্তি নির্ধারিত এলাকার বাইরে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাঠাবে বা রিকশাটি বন্ধ হয়ে যাবে।
ডিজিটাল লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ: চালকদের জন্য ডিজিটাল লাইসেন্স এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা চালকের দক্ষতা নিশ্চিত করবে।
উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম: হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক এবং পার্কিং ব্রেক ব্যবস্থার মাধ্যমে রিকশার নিয়ন্ত্রণ সহজ এবং সুরক্ষিত।
কার্টেসিঃ এখন টিভি
09/04/2026
কালো টাকার গরম দেখতে দেখতে বাঙালী হালাল ইনকামের থেকে অল্প পাওয়াকে তাচ্ছিল্য করতেছে, স্বাভাবিক। হালাল ইনকামের থেকে ২০ হাজার টাকা দিতেও যে গায়ে লাগে, সেটা বুঝতেছে না এসব কমেন্টকারী। ব্যাপার না। ভালো কাজ করতে গেলে এসব শুনতেই হয়।
-সাবেক বুয়েটিয়ান
এমন ফান্ডিং বাহিরের ইউনিভার্সিটিতে অনেক আগে থেকেই চালু ছিলো। বুয়েট প্রথমবার এই ফান্ড করলো।সামনে আরো বড় ফান্ড আশা করা যাচ্ছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Lalbagh
Dhaka
1000