07/08/2026
এই জুটিকে প্রথম চোখে পড়েছিল ২০২৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক) ড. ইরফান এবং তার স্ত্রী ড. অ্যাথেনার বিয়ের ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে চমৎকার কয়েকটি কথা লিখেছিল।
অনুপ্রেরণাদায়ক কথা- একই ক্যাম্পাসে একাডেমিক যাত্রা, তারপর এখানেই পরিচয়, একই সাথে পিএইচডি! আর, বিয়ের মাধ্যমে হ্যাপি এন্ডিং! একেবারে আদর্শ জুটি!
আর এখন শোনা গেলো সম্পর্কটা মোটেও আদর্শ ছিলো না! বরং ধারণা করা হচ্ছে- ড. ইরফানের সুইসাইডের পেছনে তার স্ত্রীই জড়িত! যার প্রমাণ ইরফানের বন্ধুদের বিবৃতিতে স্পষ্ট!
ইরফানের বন্ধুদের বিবৃতি (ইংরেজিতে লেখা ছিল, আমি অনুবাদ করে দিলাম):
"আমাদের প্রিয় বন্ধু ইরফান আল-হুসাইনি-যিনি ছিলেন আমাদের কমিউনিটির অন্যতম সদয়, বিনয়ী এবং সবার প্রিয় একজন মানুষ। তাকে ২২ জুলাই ২০২৬, সকালে স্ট্যানফোর্ডে অবস্থিত তার অ্যাপার্টমেন্টে তার স্ত্রী অচেতন অবস্থায় পেয়েছে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে প্রায় ৯ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মৃত্যুবরণ করে। এই মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা স্বাভাবিক পরিস্থিতির বলে মনে হয় না। এই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি গুরুতর এবং উদ্বেগজনক অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তার পরিবার, বন্ধু এবং পুরো কমিউনিটি এই ঘটনার পূর্ণ স্বচ্ছতা, একটি নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত এবং কী ঘটেছিল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকার রাখে।
দাবি করা হয়েছে, তিনি নিজের অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। কিন্তু তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার আগে যেসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়, তার সঙ্গে এই দাবি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয় না। আইসিইউতে তাকে দেখতে যাওয়া তার সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সকালে তার একটি প্রেজেন্টেশন ছিল, যা সকাল প্রায় ৯টার দিকে শেষ হওয়ার কথা। এর কিছুক্ষণ পর তিনি দলের গ্রুপ চ্যাটে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান যে, "আথি" অসুস্থ বোধ করছে এবং তিনি দিনের বাকি সময় ছুটি নেবেন। তবে তার সহকর্মীরা জানান, "আথি" নামে কাউকে তারা আগে কখনও চিনতেন না।
পালো অল্টো পুলিশের নথি অনুযায়ী, সকাল প্রায় ১০:৩০টার দিকে ইরফানের ঠিকানা থেকে ৯১১ নম্বরে একটি কল করা হয়। সেদিন সকালে অ্যাথেনা বাসায় ছিলেন এবং ইরফানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার সময়ও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কে প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যাপ্ত অক্সিজেন বা রক্ত সরবরাহ না হওয়ার কারণে ইরফানের মস্তিষ্কে অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হয়। সহকর্মীদের বক্তব্য, ৯১১ কলের সময়রেখা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ-সবকিছু মিলিয়ে সেদিন সকালে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অ্যাথেনা ইরফানকে ‘অচেতন’ অবস্থায় পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল?
ইরফান কি সত্যিই নিজের জীবন নিজেই শেষ করেছিল?
যদি তিনি সত্যিই আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-কে তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল?
নিশ্চিতভাবেই এটি তার পেশাগত জীবনের কারণে ছিল না। কর্মক্ষেত্রে ইরফান অত্যন্ত সফল হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রতি পদোন্নতিও পেয়েছিল। আমরা শুনেছি, তার স্কিপ-লেভেল ম্যানেজার প্রায় ৫০ সদস্যের একটি দলে তাকে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন। দলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বা জটিল সমস্যার সমাধানে ইরফানই ছিলেন তাদের প্রথম ভরসা।
তবে তার জীবনের যে দিকটি মারাত্মকভাবে অস্থির হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তা হলো তার বৈবাহিক জীবন এবং এর প্রভাবে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক। বহুজনের কাছ থেকে শোনা গেছে যে, গত কয়েক বছরে অ্যাথেনা নাকি ইরফানকে তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য করেছিলেন। প্রায় দুই দশকের পরিচিত তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও জানিয়েছেন, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ইরফান হঠাৎ তাদের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তার বহু সহপাঠী, সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ সামাজিক পরিমণ্ডলের মানুষও একই ধরনের আকস্মিক নীরবতার মুখোমুখি হয়েছেন। যারা ইরফানকে চিনতেন, তাদের মতে, এমন আচরণ তার স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
বন্ধুরা আরও অভিযোগ করেছে, অ্যাথেনা ইরফানের প্রতি অত্যন্ত কর্তৃত্বপরায়ণ, নিয়ন্ত্রণমূলক এবং মানসিকভাবে প্রভাব বিস্তারকারী আচরণ করতো। এমনকি একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও শোনা গেছে। বিয়ের আগে ইরফান যখন দ্বিতীয়বার ভাবার কথা বলেছিল, তখন অ্যাথেনা নাকি আত্মহত্যার হুমকি দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরফানকে পুলিশ ডাকতে হয়েছিল।
ইরফান আজ আর নিজের কণ্ঠে কথা বলতে পারবেন না। কিন্তু আমরা তার নামে সত্য, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার চাই। যাদের কাছে এ ঘটনার বিষয়ে কোনো প্রমাণ, প্রত্যক্ষ তথ্য বা প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে সামনে এগিয়ে এসে সত্য উদঘাটনে সহায়তা করুন।
#বদরুজ্জামান #বাংলাদেশ
- ড. বদরুজ্জামান খোকন