ব্যাপারটা যদি এমন হত রেপিস্ট ক্রিমিনালরা কনভিক্টেড হয়ে যাবজ্জীবন বা দশ বছরের কারাদণ্ড পাচ্ছে কিন্তু তারপরেও রেইপ কমছে না তাহলে রেইপের শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবীর একটা যৌক্তিকতা থাকত। আমাদের সমস্যা হচ্ছে রেইপের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষীই প্রমাণ করা যাচ্ছে না। এখন আপনি শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন রেখে কী করবেন ? অভিযুক্ত যে অপরাধী সেটা প্রমাণ করতে না পারার কারণে আসামি খালাস পেয়ে যাচ্ছে। আমরা আছি মৃত্যুদণ্ড নিয়ে। যার দোষ প্রমাণিত হয় নাই তাকে মৃত্যুদণ্ড কীভাবে দেবেন ?
আমাদের দেশে ক্রিমিনাল মামলায় কনভিকশনের রেট ১০-১২% মাত্র। অর্থাৎ আমাদের দেশে ১০০ টা ক্রিমিনাল মামলা হলে ১০- ১২ টা মামলায় আসামি সাজা পায় বাকি প্রায় ৯০ টা মামলায় আসামি খালাস পায়। রেইপের ক্ষেত্রেও স্ট্যাটিস্টিক্স একইরকম। ১০০ টা রেইপ মামলা দায়ের করা হলে ১০-১৫ টার মত মামলায় আসামিকে দোষী প্রমান করা যায় এবং শাস্তি হয়। বাকি ৮০% এর অধিক মামলায় আসামি খালাস পেয়ে যায় কারণ তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
অপরাধীকে কম শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এটা আমাদের সমস্যা না৷ আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে অপরাধীর অপরাধ প্রমাণ করা যাচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে আমরা বিচার বিভাগকে হয়ত কিছুটা দোষারোপ করতে পারি। কিন্তু বিচারককে দোষ দিতে পারি না৷ কারণ, বিচারক তার সামনে উত্থাপিত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেবেন। অভিযোগকারী পক্ষ যদি পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ না দিতে পারে তাহলে খালাস দেওয়া ছাড়া বিচারকের কাছে আর কোন অপশন থাকে না। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও বিচারক অনেক সময় জামিন না দিয়ে আসামিকে কারাগারে আটকে রাখেন এটিও আসামির প্রতি অন্যায়।
প্রথমে থানায় এফআইআর বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কমপ্লেইন দায়ের করে মামলা শুরু হবে। এরপরে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন শুরু করবে। এই পর্যায়ে এসে দেখতে হবে পুলিশে রেইপ, মার্ডার এর মত সিরিয়াস ক্রাইম গুলো ইনভেস্টিগেট করার মত দক্ষ অফিসার আছে কিনা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনেকের প্রটোকল দেওয়ার পাশাপাশি ধীরে সুস্থে ইনভেস্টিগেশন করার সামর্থ্য এবং সুযোগ পুলিশের আছে কিনা। স্বাভাবিকভাবেই এত বড় দেশে একটা থানায় এত অল্প সংখ্যক পুলিশ দিয়ে সব অপরাধের ক্ষেত্রে সঠিক ইনভেস্টিগেশন সম্ভব না। এরপরে আসে পুলিশের ইনভেস্টিগেশন নিরপেক্ষ হবে কিনা। পুলিশের উপর প্রভাবশালীদের প্রেশার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের লোভ থেকে ইনভেস্টিগেশন নিরপেক্ষ নাও হতে পারে। অনেকক্ষেত্রে এমন হতে পারে প্রভাবশালীদের ভয়ে ভিকটিম থানায় আসারই সাহস পেল না৷
এরপরে প্রসিকিউশন লইয়ারের কাজ হচ্ছে কোর্টে অপরাধ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা। বাংলাদেশে প্রসিকিউটরই নিয়োগ করা হয় সরকারি দলের কর্মী উকিলদের মধ্য থেকে। তাদের বেশীরভাগই অদক্ষ। প্রসিকিউটরের বেতন দিনমজুরদের চেয়েও কম। তাই কোন ভালো উকিলই প্রসিকিউটর হতে চায় না। এক্ষেত্রে আসামি যদি প্রভাবশালী হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী কোর্টে এসে সাক্ষ্য দিতে ভয় পায়।
কোর্টে বিচারক আছে প্রয়োজনের তুলনায় পাঁচ ভাগের একভাগ। তাই মামলা ঝুলে থাকে অনেকদিন। টাইম টেবিলের কোন ঠিক নাই। এত ভোগান্তি স্বীকার করে কে এসে কোর্টে সাক্ষ্য দেবে!! ততদিনে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার বদলি হয়ে দেশের অন্য প্রান্তে চলে যায়। তাকে এনে জেরা করতে অনেক সময় পার হয়ে যায়।
এই ব্যাপারগুলো রেইপসহ সব ক্রিমিনাল কেইসের ক্ষেত্রে সত্যি। এখন এগুলো ঠিক করতে না পারলে অপরাধী তো অপরাধ করেছে তাই প্রমাণিত হবে না। প্রমাণের অভাবে খালাস পেয়ে বেরিয়ে যাবে। তাহলে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদন্ড আইনে রেখে কোন লাভ হচ্ছে না৷
অপরাধবিজ্ঞানী রাফায়েলে গ্যারোফ্যালো বলেছেন, Severity of punishment doesn’t deter. It is certainty of punishment that deters.
উদাহরণস্বরূপ : ১০০ জন রেপিস্ট রেইপ করেছে। এখন বিচারব্যবস্থা যদি এমন হয় যে দশজন রেপিস্টের ফাঁসি হয়েছে কিন্তু ৯০ জন প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে গেছে। তাহলে রেইপ খুব একটা কমবে না। কারণ, ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা ৯০%। কিন্তু যদি এমন হয় যে, রেইপের শাস্তি ৫ বছরের জেল। ১০০ জন অপরাধীর ক্ষেত্রে ৯০ জনের ৫ বছর করে জেল হল, ১০ জন ছাড়া পেল তাতে কিন্তু অপরাধ অনেক কমে যাবে। কারণ, এবার ধরা পড়ার সম্ভাবনা ৯০%।
তাই কঠোর শাস্তির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শাস্তির নিশ্চয়তা।
রেইপকে নারীর প্রতি সহিংসতার জায়গা থেকে দেখে নারীর নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নের জন্য অবশ্যই কাজ করতে হবে। কিন্তু বিচারের ক্ষেত্রে রেইপকে দেখতে হবে একটা ক্রাইম হিসেবে। ক্রাইমের বিচার পেতে হলে শুধু রেইপের জন্য কিছু রিফর্মেশন দাবী করে লাভ হবে না। কথা বলতে হবে পুরো 'ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম' এর রিফর্মেশন এর জন্য। আমাদের এখন যে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম আছে তাতে রেইপসহ যেকোন ক্রাইমের ক্ষেত্রে রিফর্মেশন না আনলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা মোটামুটি অসম্ভব।
© Habibur Rahman , DU
Law Squad
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Law Squad, Education, Dhaka.
28/07/2020
https://www.facebook.com/107027674325901/posts/158746895820645/
Judicial Interpretation of the Preamble of the Constitution : Part 1 This lecture focuses on (1) justiciability and (2) judicial interpretations of the preamble of the Constitution of Bangladesh. It clarifies the constitutiona...
জমির দলিলপত্রে বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দের পূর্ণরূপঃ
সাং = সাকিন, সাকিম। সাকিন বা সাকিম শব্দের অর্থ ঠিকানা, বাসস্থান।
গং = অন্যরা, সমূহ। অমুক [ব্যক্তিনাম] ও অন্যান্য বা তার সহযোগীগণ।
দং = দরুন, বাবদ, দখল।
মোং = মোকাম। এর অর্থ আবাস, বাসস্থান হলেও মূলত বাণিজ্য স্থান।
কিঃ = কিস্তি। কিন্তু শব্দটি দফা, বার, ক্ষেপ এই অর্থেও ব্যবহূত হয়।
এজমালি/ইজমালি = যৌথ, সংযুক্ত, বহুজনের একত্রে।যেমন: এজমালি সম্পত্তি বলতে যৌথ মালিকাধীন সম্পত্তিকে বোঝায়।
কিত্তা/ কিতা = আববি ‘ক্বত্বহ’ শব্দজাত। এর অর্থ অংশ, জমির ভাগ, পদ্ধতি।
ছানি = আরবি শব্দ, অর্থ দ্বিতীয়বার। পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা। যেমন: ছানি মামলা।
নিম = ফারসি শব্দ। এর অর্থ অল্প, অর্ধেক, অধস্তন বা অধীন ইত্যাদি।
ছোলেনামা = মীমাংসা, আপোষ/আপস। ছোলেনামা মানে আপস-মীমাংসাপত্র।
জঃ = জমা। সাধারণ অর্থে ‘জমা’ বলতে সঞ্চিত, রাশীকৃত।
নং = নম্বর বা সংখ্যা অর্থে বোঝানো হয়।
পঃ = পঞ্চম বা পাঁচের স্থানীয় ভাষ্য।
পোঃ = পোস্ট অফিস বা ডাকঘর বোঝানো হয়।
মহঃ = মহকুমা। ব্রিটিশ আমলে জেলার একটি প্রশাসনিক অংশকেই মহকুমা বলা হতো।
মুসাবিদা = খসড়া তৈরি করা। মুসাবিদাকারক মানে যিনি দলিল লেখেন।
হিঃ = হিসাব শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ
চৌঃ = চৌহদ্দি। চৌহদ্দি শব্দের অর্থ হচ্ছে চারধারের সীমানা।
তঃ/তপঃ = তফসিল, তহশিল।
তামাদি = ফারসি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত সময়সীমা।
বিতং = বিস্তারিত বিবরণ, কৈফিয়ত, বৃত্তাত অর্থে ব্যবহূত হয়।
মাং/ মাঃ = মারফত। মারফত মানে মাধ্যম, অর্থাৎ যার হাত দিয়ে বা মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।
সহঃ = সহকারী, যিনি কাজে সহযোগিতা করেন।
সুদিখত = একশ্রেণীর বন্ধকী দলিল।
তমঃ = তমসুক। আরবি শব্দজাত, যার অর্থ দলিল, ঋণ-স্বীকারপত্র বা খত। অর্থাৎ কর্জ গ্রহীতা যে লিখিত পত্র, বিশেষত সরকারি স্ট্যাম্প বা কাগজমূলে কর্জদাতার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। বন্ধকী তমসুক মানে হলো বন্ধকনামা বা বন্ধকী বা বন্ধকী খত।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন করেন।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন
খারিজ = সাধারণ অর্থে বাতিল করা হয়েছে এমন বোঝায়। ভূমি আইনে একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়াকে বোঝায়।
মৌরাশি: পুরুষানুক্রমে কোনো ভূমি ভোগ দখল করাকে মৌরাশি বলে।
বায়া (Vender): বিক্রেতা, বিক্রেতার সম্পাদিত দলিলকে বলে বায়া দলিল।
তফসিল: কোনা জমি যে মৌজায় অবস্থিত সে মৌজার নাম, জে. এল. নং, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির শ্রেণী, পরিমাণ, জমির চৌহদ্দি বর্ণনা ইত্যাদি পরিচিতি সম্বলিত বিবরণকে ঐ জমির তফসিল বলে।
মিনাহ (Deduction): কম, কমতি, জমি সিকস্তি হলে তার কর আদায় স্থগিত করাকে মিনাহ বলে।
খতিয়ান: খতিয়ান হলো দখল স্বত্বের প্রামাণ্য দলিল। এক বা একাধিক দাগের সম্পূর্ণ বা আংশিক ভূমি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে সরকার বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক যে ভূমি স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। প্রতি খতিয়ানের একটি পৃথক পরিচিতি নম্বর থাকে। খতিয়ানকে “রেকর্ড অব রাইটস” বা “স্বত্বলিপি” বলা হয়। খতিয়ান হচ্ছে নিখুঁত মালিকানা স্বত্ব ও দখলী স্বত্বের প্রমাণ্য দলিল। খতিয়ানে তৌজী নম্বর, জে. এল. নম্বর, স্বত্বের বিবরণ, মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা থাকে।খতিয়ানের অপর পৃষ্ঠায় দাগ নম্বর, প্রত্যেক দাগের উত্তর সীমা (উত্তর দাগ), ভূমির শ্রেণী দখলকারের নাম, ভূমির পরিমাণ, হিস্যা, হিস্যা মতে পরিমাণ লেখা থাকে। উপযুক্ত আদালত কর্তৃক ভুল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত খতিয়ান নির্ভূল হিসাবে গণ্য হতে থাকে।
লেখক,
Advocate Rashel Siddique
Bangladesh Supreme court
26/07/2020
♠মানবাধিকার কি?
বর্তমান বিশ্বে 'Human Rights' শব্দটি বহুল আলোচিত ও বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। মানবাধিকারের বিষয়টি হচ্ছে কতগুলো সংবিধিবদ্ধ আইন বা নিয়মের সমষ্টি, যা মানব জাতির সদস্যদের আচার আচরণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে বুঝায়। অন্যভাবে বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনে চলার জন্য মানুষের যেসকল অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত তাদেরকে মানবাধিকার বলে।
অর্থাৎ কোন মানুষ জন্মগতভাবে যে অধিকার লাভ করে তাকেই মানবাধিকার বলা হয়।
জাতিসংঘের Universal Declaration of Human Rights এর ১ম অনুচ্ছেদে লেখা রয়েছে যে,
All human beings are born free and equal in dignity and rights.
অর্থাৎ ‘জন্মগতভাবে সকল মানুষ স্বাধীন এবং সমান সম্মান ও মর্যাদা অধিকারী ।
♠মৌলিক অধিকার কী?
মানবাধিকারের সাথে মৌলিক অধিকার শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।মানবাধিকার কিছুটা হলেও অস্পষ্ট কিন্তু মৌলিক অধিকার তেমন নয়।
সাংবিধানিক সংজ্ঞা অনুসারে,যে সমস্ত অধিকার বা মানবাধিকার যেগুলা কোন রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত ও সংরক্ষিত তাকে মৌলিক অধিকার বলে।
মৌলিক অধিকারগুলো সবই মানব অধিকার। তবে এগুলোকে মৌলিক অধিকার বলার কারণ হলো যেহেতু সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন বা মৌলিক আইন। এবং ঐ সংবিধানে সংযোজিত অধিকারগুলি মৌলিক আইনের অংশ। এদেরকে বিশেষ সাংবিধানিক আইনে রক্ষা করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ১৮ টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
সংবিধানের ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
♠মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের মধ্যে পার্থক্যঃ
১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য : সকল মৌলিক অধিকারই মানব অধিকার, সকল মানব অধিকার মৌলিক অধিকার নয়। কেবল মাত্র ঐ সকল অধিকারকে মৌলিক অধিকার বলা হয় যা কোন দেশের সংবিধানে লিপিবদ্ধ হয়।
২. মৌলিক অধিকার নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেমন বাংলাদেশের ১৮টি মৌলিক অধিকার।কিন্তু মানবাধিকার নির্দিষ্ট দেশের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
৩. মানবাধিকারের ক্ষেত্র ব্যাপক কিন্তু মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্র সংকীর্ণ ।
৪. মৌলিক অধিকারের উৎস মূলত কোনো দেশের সংবিধান। অর্থাৎ কোনো মানবাধিকার যখন সংবিধানে স্থান পায় তখন তাকে মৌলিক অধিকার বলে। অন্যদিকে, মানবাধিকারের উৎস হলো আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বিষয়।
৫. মৌলিক অধিকারগুলি দেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। পক্ষান্তরে মানবাধিকার সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত নয়।
৬. মানবাধিকার পৃথিবীর প্রত্যেকের কাছে সমানভাবে প্রযোজ্য কিন্তু মৌলিক অধিকারগুলো শুধুমাত্র তার নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বীকৃত।
♠ মৌলিক অধিকার কীভাবে বলবৎ করা যায় ?
প্রত্যেকটি মৌলিক অধিকার সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। বাংলাদেশ সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলোকে বলবৎ করার উপায় সংবিধানেই বলা হয়েছে।
তৃতীয় ভাগের শুরুতে অর্থাৎ ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না। আর যদি করা হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে।
সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ ইচ্ছা করলেই মৌলিক অধিকার পরিপন্থী আইন তৈরি করে এর ব্যতয় ঘটাতে পারবে না।
৩২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।
৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা করিবার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হাইকোর্ট মৌলিক অধিকার পরিপন্থী যে কোন পদক্ষেপকে বাতিল ঘোষণা করতে পারবে।
১০২(১) অনুযায়ী কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে হাইকোর্ট প্রজাতন্ত্রের যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদেশ দিতে পারে।
©...............শামীমা দোলন
( শিক্ষার্থী )আইন বিভাগ, বা.উ.বি.
24/07/2020
শিশুরা ফুলের মতো পবিত্র। পবিত্র তাদের দেহমন। আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। আজকে যে ছোট্ট কোমল শিশু, একদিন সে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করবে।
কিন্তু বাংলাদেশসহ পৃথিবীর দেশে দেশে একটি সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এটি হলো কিশোর অপরাধ। কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চুরি, হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, পকেটমার, মাদক সেবন, ইভ টিজিংসহ এমন সব ভয়াবহ কাজ ও অঘটন ঘটিয়ে চলছে এবং এমন লোমহর্ষক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা অকল্পনীয়। বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানী, অপরাধবিজ্ঞানী, আইনবিদ, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে সভ্যতার এ চরম উত্কর্ষের যুগে আমাদের ভবিষ্যতের আশা-ভরসার স্থল কিশোরসমাজের এ ব্যাপক বিপর্যয় সত্যিই বড় দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক।
তবে সুনির্দিষ্টভাবে কত বছর বয়সসীমা পর্যন্ত অপরাধ ‘কিশোর অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত, তা নির্ভর করে সেই দেশের অপরাধ আইনের ওপর। কোনো কোনো সমাজে এটি ১৮ বছর এবং কোনো কোনো সমাজে আরো বেশি। তবে কোনো সমাজেই ২১ বছরের বেশি বয়স হলে কিশোর হিসেবে গণ্য করা হয় না।
‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯’-এর প্রস্তাবনা ও অনুচ্ছেদ ১-এর মর্ম অনুসারে, ভ্রূণ সৃষ্টির সময় থেকে ১৮ বছরের নিচে প্রত্যেক মানবসন্তানই শিশু।
⏹️ শিশু-কিশোর অপরাধের কারণ :
ক.মনস্তাত্ত্বিক কারণ : বয়ঃসন্ধিপ্রাপ্ত ছেলে-মেয়ের মধ্যে সহনশীলতার অভাব খুব প্রকট হয়ে ওঠে। এ সংকটের অন্যতম কারণ অপরিণত আবেগের বৃদ্ধি। সেই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে যদি বাধা আসে, তাহলে সহনশীলতার অভাব ঘটতে বাধ্য। এই বিপর্যয়ই কৈশোরের অনেক বিতণ্ডার মূল।
খ. শিশু-কিশোরদের আমরা অনেক কিছুই ঠিকমতো শেখাই না। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা সেভাবে সচেতন হয়ে উঠতে পারে না। জীবনে অনেক জিনিসই পাওয়া যায় না। এ না পাওয়ার ব্যাপারটা যে জীবনেরই অঙ্গ, আমরা তা শেখাই না।
গ. কোনো কোনো ছেলে-মেয়ে এ বয়সে Pathological lier হয়ে যায়। তারা মিথ্যার মধ্যেই থাকতে শুরু করে। মিথ্যা আর সত্যের মধ্যে ভেদ রেখাটা তাদের সামনে ক্রমেই মুছে যায়। তারা অবাস্তব স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। মাতা-পিতার সঙ্গে যত বেশি মানসিক বিভেদ, বাড়িতে যত অশান্তি বাড়তে থাকে, ততই এ মিথ্যাচারও বাড়তে থাকে। অসম্ভব জেদি, রাগী, একগুঁয়ে, সন্দেহপ্রবণ হয়ে এমন একটা পর্যায়ে তারা ক্রমেই চলে যায়, শেষ পর্যন্ত জীবনবিমুখ হয়ে পড়ে। সব রকম আনন্দ, স্পৃহা, উৎসাহ থেকে দূরে চলে যায়।
স্বভাবগত কারণ : কিশোরদের অপরাধী হওয়ার নেপথ্যে কিছু স্বভাবগত কারণও রয়েছে। যেমন—
সৃষ্টিজগতের প্রতি নির্দয় ব্যবহার, অতিরিক্ত অবাধ্যতা, স্কুল-পলায়ন, দেরিতে ঘরে ফেরা, বেঢপ ও মলিন পোশাক পরিধান, শারীরিক অপরিচ্ছন্নতা, অকর্তিত কেশ, দুঃসাহসিকতা, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়তা, অতিমাত্রায় ছায়াছবি প্রিয়তা ইত্যাদি।
⏹️ কিশোর অপরাধের কারণ হিসেবে মাতা-পিতা :
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাতা-পিতার কারণে কিশোর অপরাধী হয়ে থাকে।
ক. সংসারত্যাগী বা পলাতক মাতা-পিতা। এরা সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না করে পলাতক হয়েছেন। সন্তান তাঁদের স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত থাকে।
খ. অপরাধী মাতা-পিতা। এরা সন্তানকে পাপের মধ্যে রেখে বড় করেন। কখনো বা সন্তানের সহায়তায় পাপ করেন।
গ. অপকর্মে সহায়ক মাতা-পিতা। এরা সন্তানের অপরাধস্পৃহায় উৎসাহ দেন।
ঘ. অসচ্চরিত্র মাতা-পিতা। তাঁরা নির্বিচারে সন্তানের সামনেই নানা অসামাজিক কাজ করেন ও কথা বলেন।
ঙ. অযোগ্য মাতা-পিতা। এরা সন্তানকে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানে অমনোযোগী বা অপারগ।
আধুনিককালে শহরগুলোতে দেখা যায়, মা-বাবা উভয়ে ঘরের বাইরে কাজ করছেন। ফলে সন্তান তাঁদের উপযুক্ত স্নেহ-শাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা আচরণে বিদ্রোহধর্মী হয়ে যাচ্ছে। এমনটিও দেখা যায় যে মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদের ফলে কোনো কোনো কিশোর মা অথবা বাবাকে হারাচ্ছে।
এ কারণেও কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দেয়। তারা সমাজবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত হয়। পরিবার হলো সমাজের প্রাণকেন্দ্র। সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি ও বৃদ্ধি হয় পরিবারকে কেন্দ্র করে। মানবজাতির প্রথম ঐক্যের ভিত্তি হলো পরিবার। পরিবারকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা উন্নত সংস্কৃতির কারণে পশ্চিমা অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ মানসিক দিক থেকে অনেক সুখী। ভোগবাদী মানসিকতা ও পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার কারণে বর্তমানে সে সুখের জায়গায় চিড় ধরেছে। পারিবারিক সুখের বন্ধনগুলো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। এর শিকার হচ্ছে শিশু-কিশোররা।
অনেক ক্ষেত্রে অসৎ সঙ্গকেও কিশোর অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়।
⏹️ দারিদ্র্য : দারিদ্র্য যে অপরাধের জন্য দায়ী, তা বলাই বাহুল্য। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত পরিবারে কিশোর-কিশোরী তার নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়। ফলে তার মধ্যে কিশোর অপরাধমূলক আচরণ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এরা ছোটখাটো চুরি বা ছিনতাইয়ে অংশগ্রহণ করে। দারিদ্র্যের কারণে আত্মহত্যা বা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় পতিতাবৃত্তি গ্রহণ করতেও বাধ্য হয় অনেক কিশোর-কিশোরী।
সন্তানদের সঠিক প্রতিপালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে ইসলাম। এ প্রসঙ্গে ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.) বলেছেন, ‘পিতার ওপর পুত্রের যে অধিকার আছে, পুত্রের ওপরও পিতার তদ্রূপ অধিকার আছে। পিতার অধিকার হলো, পুত্র শুধু আল্লাহকে অমান্য করার আদেশ বাদে তাঁর সব আদেশ মেনে চলবে এবং পুত্রের অধিকার হলো, পিতা তার একটি সুন্দর নাম রাখবে, তাকে উত্তম প্রশিক্ষণ দেবে এবং কোরআন শিক্ষা দেবে।’ (নাহজুল বালাগা)
সমাজকর্মী, মনোবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে যে অবক্ষয় ঘটছে, তারই প্রভাবে শিশু-কিশোর অপরাধ বাড়ছে। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রেও সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ‘দুর্বল’ শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে।
কিশোর অপরাধের জন্য বিশ্লেষকরা সবচেয়ে বেশি দায়ী করছেন আকাশ সংস্কৃতি এবং অনলাইন প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবকে। আকাশ সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ না করলে কিশোর অপরাধ দমন করা কঠিন।
বলা যায়, এটি অসম্ভবও বটে!
23/07/2020
https://m.youtube.com/watch?v=nDhARnmbdCU&t=144s
Preamble of the Constitution of Bangladesh : Lecture 2 This lecture focuses on two issues regarding the preamble. First, is the preamble a part of the Constitution? In answering this question, the lecture makes a...
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নাকি প্রয়োজন সমাধান ?
জিসান তাসফিক : আমরা মানুষ। আমরা সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করি। আমাদের রয়েছে সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যেটাকে আমরা ন্যায় সম্মত কাজ অথবা অন্যায় বলে থাকি।
আসলে ন্যায় আর অন্যায় কি ?
সমাজবিদদের মতে যে সমস্ত কাজ সমাজের মানুষের জন্য কল্যাণকর ও সমাজে শান্তি-শৃংখলা থাকে এবং ঐ সমাজের রীতিনীতি ও আইন অনুযায়ী হয়, এতে কারও অধিকার ও ক্ষুণ্ন হয় না এই সবই ন্যায়। আর এর বিপরীতের কাজগুলো অন্যায় কাজ। কিন্তু এমন কি কাজ আছে যেটা করলে সেটা ন্যায় হবে কিংবা অন্যায়? আসলে এটা নির্ধারণ করে কোনো রাষ্ট্রের ঐ সময়কার শাসনব্যবস্থা । উদাহরণস্বরূপ : বিচারের পর বিচারকের আদেশে মৃত্যু দন্ড হলে সেটা ন্যায় আবার অন্যকেউ এমন কাজ করলে এটা অন্যায়। এইভাবেও ন্যায় অন্যায় নির্ধারিত হয়ে থাকে। আমি এরুপ কার্যের বিরোধী নই কেননা এটা প্রচলিত সমস্যা সমাধান আর থেকে ভালো কোনো উপায় পাওয়া যায় নি।
আজকে আমার লেখার বিষয় বস্তু হল অন্যায়ের জন্য প্রয়োজন প্রতিবাদ নাকি সমাধান ?
একটা সময় ছিল যখন এই পৃথিবীতে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু দুর্লভ ছিল, কিন্তু সেটা কালেক্রমে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিবর্তনের ফলে মানুষের কাছে এসেছে। এর ফলে জ্ঞান চর্চা খুবই সহজ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে সাংবিধানিক আইনে জ্ঞান চর্চাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে আমাদের জ্ঞান দ্বারা আজ সমাজে কোথায় কোনো অন্যায় হলে তা আমরা বুঝতে পারি এবং প্রতিবাদ করতে পারি, প্রতিকার, প্রতিরোধ অথবা সমাধান ও করতে পারি । কোনটি অন্যায় আর কোনটি ন্যায় আমরা বুঝতে পারি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর জেগে ওঠে আর ন্যায়ের ক্ষেত্রে সহমর্মিতা । আমরা লেখার মাধ্যমে কিংবা রাস্তায় আন্দোলন, মিছিল মিটিং করে দেশের মানুষের কাছে তথা সরকারের কাছে প্রকাশ করি। আপনি আমি এভাবে কাজ করলে নিপীড়িতদের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে কিন্তু তাতে আমাদের সমাজ থেকে অন্যায় দূর হবে বলে আমি মনে করি না। আমার প্রশ্ন তাতে কি সমাজে অন্যায় - অবিচার কমে গিয়েছিল ? নাকি সে নতুন ভাবে রূপান্তরিত হয়ে নতুন কোথাও আবির্ভাব হয় ? আচ্ছা যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ প্রতিবাদ করেছে সে কি কখনও অন্যায় করে নি ? নাকি করবে না। কখনও কখনও সমাজে পরিচিতি পাবার জন্য আমরা অন্যের সাথে হওয়া অন্যায়কে দূর্বলতার পূজি ব্যবহার করে প্রতিবাদ করি। এতে মানুষের দৃষ্টি আর্কষণ হয় । এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হলে অনেকেই বলবে আমরা কি তাহলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বন্ধ করে দিব ? আমার মতে অবস্থা ভেদে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জ্ঞানী ব্যক্তির জ্ঞানই সমাজে আলোকিত করে।
তাহলে আমাদের কি করা উচিত হবে ?
আমি মনে করি প্রতিবাদ করে নয় বরং সমাধান করা উচিত যাতে কখনও অন্যায়ই না হয়। যে অন্যায় করে বা করতেছে বা করবে তার বা তাদের কাছে বিষয়টি এমন ভাবে উপস্থাপন করা উচিত যাতে তার বা তাদের মনে হয় এই যে কাজ করে হবে ? এতে সমাজের লাভ কি ? অতীতে এরূপ কাজের ফল কি ছিল ? আমাদের কি ফল হবে ? ভবিষ্যতে কি ফল আসব ? কিংবা সমাজের কি হবে ? আমাদের কাছে কি বিকল্প ব্যবস্থা নাই যার জন্য সমাজের জন্য অন্যায় হবে না ? এর পাশাপাশি আমাদের দেখা উচিত যে অন্যায় আর ন্যায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলের তারতম্যটাকে। কখনও দেখা যায় অন্যায় কে বিত্তবান হয়েও তার ভোগ করতে পারে না কিন্তু সামান্য উপার্জন করে সমাজের প্রিয় মানুষ হয় রয়েছে। সুতরাং এরূপ ভাবে চিন্তা করে উত্তর খুজে বের করলে অন্যায় অনেক কমে যেত। অন্যায় প্রতিরোধ করে যাতে অন্যা না হয়, অন্যায়ের প্রতিকার করে যাতে আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়, এবং সমাধান করতে হবে তারে কারও কোনো সমস্যা না হয়।
অন্যায় এক বড় ধরনের সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় সমস্যা, সমাজের নির্মাতারা চাইলে এরূপ কাজ করে সমাধান করতে পারে।। ধর্মগ্রন্থে আবার সমাজ সংস্কারকদের লেখা বইতে এসবের সমাধান আছে বলে আমি মনে করি। এই ভাবে ন্যায়-অন্যায় ভেদাভেদ করে আদর্শ সমাজ গঠিত হলে আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে বাস করতে পারব।
হয়তবা আমার এই চিন্তা চেতনা ধারণ করে অনেক সমাজপতি তাদের অন্যায় কৃতকর্ম থেকে দূরে থাকবে না কিংবা প্রতিবাদি কন্ঠস্বর থেমে থাকবে না কিন্তু সমাধানে যদি যদি সাফল্য আসে তবে রক্তাক্তের কোনো প্রয়োজন নেই। এতে করে পরিপূর্ণ ভাবে শেষ হবে না কিন্তু মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে।
লেখক
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
19/07/2020
জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য এমন এক ধরনের সাক্ষ্য, যে সাক্ষ্যের কথা সাক্ষী অপর কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে শ্রবণ করেছে কিন্তু ঘটনাটি সে নিজে দেখেনি।
বিচারপতি বেস্ট এর ভাষায়, "জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য বলতে এমন সাক্ষ্য কে বোঝায় যা সাক্ষী নিজ চোখে দেখেনি বা প্রত্যক্ষভাবে শুনেনি অথবা ঐ ঘটনার সাথে সে কোন প্রকারে সংশ্লিষ্ট ছিল না অথবা তার নিজের কাছে ধরা পড়েনি; তবে ঘটনাটির বিষয় অথবা বিবেচ্য ঘটনাটি যে ঘটেছে, তা সে তৃতীয় ব্যক্তির কাছে শুনেছে।"
#জনশ্রুতি_মূলক_সাক্ষ্য 'সাক্ষ্য আইনে' গ্রহণযোগ্য নয়।
সাধারণত কোন ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষী সজ্ঞানে যা জানে, আদালতে হাজির হয়ে তাকে তা ব্যক্ত করতে হয়। কিন্তু যদি সেই সাক্ষীর--
(১) মৃত্যু হয় বা,
(২) তাকে খুঁজে পাওয়া না যায় বা,
(৩) আদালতের মতে অধিক সময় বা অর্থ ব্যয়ের কারণে সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত করা সম্ভব না হয়, --
তবে ওই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা নাও যেতে পারে।
এই অবস্থায় সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার বিধানমতে কোনো অনুপস্থিত সাক্ষীর বক্তব্য জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য আইনে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সাক্ষ্য আইনের ৩২ এবং ৩৩ ধারায় কতগুলো ব্যাতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। যার সাপেক্ষে জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।
▶️উদাহরণঃ
'করিম' 'রহিম' এর মুখে শুনেছে যে, 'জসিম' 'মান্না'-কে হত্যা করেছে। এখন 'করিম' আদালতে হাজির হয়ে হলফপূর্বক তার শোনা কথাটি আদালতে বললে তা জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য হবে।
🔳 যে কারনে জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য বর্জন করা যায়ঃ-
সাক্ষ্য আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো শোনা সাক্ষ্য গ্রহণীয় নয়। আপত্তি উত্থাপন না করলেও বা সম্মতি প্রদান করলেও শোনা সাক্ষ্য গ্রহনীয় হবে না। এটা হতে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, অত্র আইনের ব্যতিক্রমে না পড়লে শোনা সাক্ষ্য বা জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য গ্রহণের কোনো ইচ্ছাধীন ক্ষমতা আদালতের নেই। যেসব কারণে জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য(Hearsay evidence) সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয় না তা হলো নিম্নরুপঃ-
(১) জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য যেহেতু সরাসরি সাক্ষ্য নয়, সেহেতু সচরাচর তার সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয় না। কারণ আদালতে শোনা কাহিনীর কোন মূল্য নেই।
(২) জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্যে স্বার্থমূলক কোন বর্ণনা থাকলেও থাকতে পারে। তাই এই সাক্ষ্যের আদালতে মূল্য নেই।
(৩) জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য না হওয়ায় আদালতে তা গ্রহণীয় নয়। কারণ এই সাক্ষ্য উৎকৃষ্ট সাক্ষ্য মতবাদের পরিপন্থী।
(৪) জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য , সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুসারে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলেও তা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহনীয় নয়।
(৫) জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য যদি প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত না হয়, তবে তা সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হয় না।
(৬)এরূপ সাক্ষ্য জেরার দ্বারা পরিক্ষা করা যায় না। সেহেতু এক্ষেত্রে সঠিক সত্য প্রকাশ নাও হতে পারে।
(৭)জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য অনেক সময় ভালো সাক্ষ্য কে বিকৃতি করে খারাপ সাক্ষ্য প্রদান করতে পারে।
(৮)জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য গৌণ সাক্ষ্যের পর্যায়ে পরে বলে এরূপ সাক্ষ্যের সাথে ব্যক্তিগত দায়িত্ব জড়িত থাকে না।
(৯) জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্য শঠতার পথ উন্মুক্ত করতে পারে। অনুরূপ শঠতা শাস্তিপ্রদান এবং শাস্তি হতে অব্যহতি লাভের জন্য আদালতকে প্ররোচিত করতে পারে।
🔲 জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্যের ব্যতিক্রমগুলো সাধারণত দুটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। যথাঃ--
(ক) যেসব ক্ষেত্রে প্রিয়জনের প্রশ্ন জড়িত, সেসব ক্ষেত্রে উৎকৃষ্টতম সাক্ষ্য পাওয়া না যায়, তবে জনশ্রুতি সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। এবং,
(খ) যদি বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে কোন ঘটনা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হওয়ার অবকাশ না থাকে, তবে জনশ্রুতি মূলক সাক্ষ্যগ্রহণ করা যায়।
--------- এম.এ. ওমর নাসিম।
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, বা.উ.বি
15/07/2020
🔶 প্রমানের ভার বলতে কি বুঝায়:
একটি মামলায় যদি কোন ব্যাক্তি কোন ঘটনার অস্তিত্ব দাবি করে আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চায়, তখন উক্ত ঘটনার অস্তিত্বের সত্যতা বিচারের জন্য প্রমানের প্রয়োজন হয়, আর তা প্রমান করার দায়িত্ব বা ভার কে প্রমানের ভার বলা হয় ।
🔷 প্রমানের দায়িত্ব কার?
কোন মামলায় বাদীপক্ষ এবং বিবাদী পক্ষ আদালতে উপস্থিত হয়, এমন একটি ঘটনার সত্যতা বা অস্তিত্ব প্রমাণ করতে, যা বিবাদী পক্ষের উপর অভিযোগ আনা হয়েছে। এখন প্রশ্ন জন্মায় বিবাদী পক্ষ কি তার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ দিবে নাকি বাদি পক্ষ তাদের আনা অভিযোগ প্রমাণ করবে?
আইনে বলা আছে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যাক্তির উপর আনিত অভিযোগ প্রমাণ না হয় ততক্ষণ সে নির্দোষ। আইনের ভাষ্য মতে, তাহলে #বিবাদীকে আর তার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ দিতে হচ্ছে না?
না ঠিক তা নয়, প্রথম অবস্থায় বিবাদীকে তার নির্দোষ হওয়ার প্রমান দিতে হবে না অর্থাৎ, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব #বাদী_পক্ষের।
🔷 যখন বাদী পক্ষ কোন তথ্য, প্রমাণ বা সাক্ষ্য আদালতে পেশ করবে তখন বিবাদী পক্ষ যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চায় তাহলে বাদি পক্ষের পেশকৃত তথ্য-প্রমাণাদির খণ্ডন মূলক অপর কোন তথ্য, প্রমাণ বা সাক্ষ্য আদালতে পেশ করতে হবে। অর্থাৎ তখন তার উপর প্রমানের ভার বর্তাবে। প্রমাণ করার ভার কথাটিকে আইন অনুযায়ী দুইভাবে ব্যাবহার করা যায়, তথা:
১. কোন দাবি প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব, এবং
২. সাক্ষ্য উপস্থাপনের দায়িত্ব।
> পূর্বেই বলা হয়েছে যে, যখন বাদি পক্ষ বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে কোন তথ্য, প্রমাণ বা সাক্ষ্য পেশ করবে তখন প্রমাণের ভার বিবাদী পক্ষের উপর বর্তাবে উক্ত তথ্য, প্রমাণ বা সাক্ষ্যের অস্বীকৃতি জানানোর জন্য । কিন্তু প্রথম অবস্থায় প্রমাণের ভার বাদী পক্ষের উপর ন্যাস্ত থাকে, তাই বলা যায় যে, কোন দাবি প্রতিষ্ঠা করার ভার এক পক্ষ থেকে অপর পক্ষের স্থান পরিবর্তন করতে থাকে।
> সাক্ষ্য উপস্থাপনের দায়িত্ব সর্বদা এক পক্ষের উপর উপর থাকে মামলার বিচারের শেষ পর্যন্ত মামলাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
🔷 ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১০১ থেকে ১১২ ধারায় অভিযোগ প্রমাণের ভার সম্পর্কে নীতি উল্লেখ রয়েছে। ১০২ ধারায় বলা আছে যদি কোন দেওয়ানি মোকদ্দমায় বা কার্যক্রমে কোন সাক্ষ্য দেয়া না হয়,তাহলে যে পক্ষ মামলায় হারবে সে পক্ষের উপর উক্ত মামলার বিষয়বস্তুর প্রমাণের ভার বর্তাবে। অর্থাৎ, যদি মোকদ্দমায় বিবাদী পক্ষ বাদী পক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে তাহলে বাদী পক্ষ তাদের অভিযোগ প্রমাণের ভার নিতে বাধ্য থাকবে।
🔰ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে, যদি কোন মামলায় বিবাদি পক্ষ সরল মনে বিশ্বাস করেন যে, তার উপর আনিত অভিযোগ দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যাতিক্রমের আওতাধীন কোন কর্ম, তাহলে তা প্রমাণের ভার বিবাদী পক্ষের উপর বর্তাবে।
♻ যেমন:- হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত " জিসান" আদালতের কাছে অভিযোগ করেন যে, তার দ্বারা সংঘটিত কার্যটি তার জীবন রক্ষার্থে করা হয়েছে এবং যদি উক্ত হত্যাটি সে না করতো তাহলে তার মৃত্যু হবার আশংকা ছিলো, তাহলে তাকে অবশ্যই উক্ত হত্যা যে জীবন রক্ষার্থে করা হয়েছে তা প্রমাণ করতে হবে।
🔶 কারো মৃত্যুর সংবাদ প্রমাণের দায়িত্ব : যদি কোন ব্যাক্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়, কিন্তু গত ত্রিশ বছরের মধ্যে উক্ত ব্যাক্তি জীবিত ছিলো বলে জানা যায়, তাহলে মৃত্যুর সংবাদ যে প্রচার করেছে তার উপর উক্ত মৃত্যু প্রমাণ করার দায়িত্ব বর্তাবে।
🔷 মালিকানা বা অংশীদার প্রমাণের ভার: যখন কোন সম্পত্তিতে মালিকানা বা অংশীদারের স্বত্ব থাকা বা না থাকার প্রশ্ন উঠে, তখন যে ব্যাক্তি দাবি করে যে, উক্ত সম্পত্তিতে অপর পক্ষের কোন মালিকানা বা অংশীদারিত্ব নেই কিংবা পূর্বে ছিলো এখন অবসান হয়েছে। তখন উক্ত বিষয়বস্তু প্রমাণ করার দায়িত্ব সে ব্যাক্তির উপর বর্তায় ।।
14/07/2020
Lecture on the Preamble of the Constitution of Bangladesh.
DR. Muhammad Ekramul Haque Sir
Professor (Department of Law ,DU)
Lecture 1 on the Preamble of the Constitution This lecture on the preamble of the Constitution includes a basic textual analysis of the preamble. It includes a discussion on the features of the preamble ...
14/07/2020
★অপরাধবিজ্ঞান ও শাস্তিবিজ্ঞান গবেষণা পদ্ধতি ( Research Methodology of Criminology & Pelology)ঃ
কোন বিষয়ের উপর বিশেষায়িত অধ্যায়ন কে গবেষণা বলে। বিশেষ লক্ষ্য ও জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য ও তত্ত্ব অনুসন্ধান গবেষণার অংশ। গবেষণার কাজে ব্যবহৃত ধারাবাহিক প্রক্রিয়া কে প্রণালী বা পদ্ধতি বলে। প্রত্যেক বিষয়ের বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা পদ্ধতি রয়েছে। অপরাধ বিজ্ঞান একটি সামাজিক বিজ্ঞান।গবেষণাকাজে অপরাধবিজ্ঞানী শাস্তিবিজ্ঞানীগণ কতিপয় নিজস্ব প্রণালী বা পদ্ধতি অনুসরণ করে। যেমন-
১.ব্যক্তিগত কেইস গবেষণা পদ্ধতি
২.ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতি ৩.পরিসংখ্যান গবেষণা পদ্ধতি
৪.মুক্ত অপরাধী গবেষণা পদ্ধতি
৫.জনমত গবেষণা পদ্ধতি ৬.পরীক্ষা গবেষণা পদ্ধতি ৭.পর্যবেক্ষণ গবেষণা পদ্ধতি
৮.তুলনামূলক গবেষণা পদ্ধতি
৯.ব্যক্তি ঘটনা অধ্যয়ন পদ্ধতি
★অপরাধবিজ্ঞান গবেষণা পদ্ধতির শ্রেণীবিভাগ ( Classification of Criminological Research Method ) :
অপরাধ - বিজ্ঞানের বিষয় সমূহ গবেষণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার প্রয়ােজন । অপরাধবিজ্ঞানী E.H. Sutherland এর Principles of Criminology ' গ্রন্থে অপরাধ বিজ্ঞানের পদ্ধতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে , “ The explanations of crime have been derived from two general types of methodology ” অর্থ- অপরাধ সম্পর্কে আলােচনা ও বিশ্লেষণে দুপ্রকারের গবেষণা পদ্ধতি আছে ।
যেমন :
(১) Commonsense methodology (জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি) :
(২) General methodology ( সাধারণ পদ্ধতি )
( ১ ) Commonsense methodology ( জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি )ঃ সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি দ্বারা গবেষকগণ সম্প্রদায় , ব্যবসা , রাজনীতি বা ধর্ম ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে । এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন ঐতিহাসিক ও সমাজ - বিজ্ঞানীগণ । বিজ্ঞানীগণ অভিজ্ঞতা আলােকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত সকল বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেণ । এগুলাে সুসজ্জিত করণে এই পদ্ধতি প্রয়ােগ করেন । একারণে এই পদ্ধতিকে সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি বলা হয় ।
( ২ ) General methodology ( সাধারণ পদ্ধতি )ঃ সাধারণ পদ্ধতি দ্বারা গবেষকগণ অভিযুক্ত ব্যক্তি বা গ্রেফতারকৃত অথবা অভিযােগের প্রেক্ষিতে পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণা কার্য পরিচালনা করেন । E.H. Sutherland তার Principles of Criminology ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন , ' এই পদ্ধতি সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির চেয়ে অধিক সঠিক এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক । এই পদ্ধতি চালক এবং সাধারণ অপরাধীর আচরণ গবেষণা ও অধ্যয়ন করে ।
13/07/2020
অনেক শিক্ষার্থীর সাথে আলাপপ্রসঙ্গে দেখেছি যে, দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি নিয়ে কম মনোযোগী এবং অনেকের কাছে নাকি জটিলও ঠেকে! অনেকের আবার মনে থাকে না বা ইত্যাদি নানারকম সমস্যা। এই সমস্যাগুলো মোকাবেলায় দণ্ডবিধির একটি ভালো ওভারভিউ বা সামগ্রিক একটি আলোচনা বোঝা থাকলে সহজেই দণ্ডবিধি বোঝা যায়। সেই কারণে এই লেখাটির অবতারণা। এর মোট ৫টি সিরিজ লেখা রয়েছে। সেগুলো ধারাবাহিকভাবে এখানে প্রকাশিত হবে আশা রাখি। তারই প্রথম পর্বের লেখা এটি।
দণ্ডবিধি একটি তত্ত্বগত আইন। কিন্তু পুরো দণ্ডবিধিটি যে তাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সেটিরই বর্ণনা করা আছে এর ১ থেকে ১২০খ পর্যন্ত ধারাগুলোতে। বার কাউন্সিল বা জুডিসিয়ারির এমসিকিউ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পড়ার সুবিধার্থে দণ্ডবিধিকে প্রধান ৫টি ভাগে ভাগ করবো। এর প্রথম অংশে ‘দণ্ডবিধির বেসিক’ শিরোনামের ভেতরে ধারা ১ থেকে ১২০খ, ‘বিবিধ অপরাধ – ১’ শিরোনামে ধারা ১২১ থেকে ২৯৮ পর্যন্ত, ‘দেহ ও জীবন সংক্রান্ত অপরাধ’ শিরোনামে ২৯৯-৩৭৭ ধারা পর্যন্ত, ‘সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ’ শিরোনামে ৩৭৮-৪৮৯ঙ পর্যন্ত এবং সবশেষে ‘বিবিধ অপরাধ – ২’ শিরোনামে ৪৯০-৫১১ ধারা পর্যন্ত। এই ৫টি ভাগের অধ্যায় উল্লেখসহ একটি ছক তুলে দেওয়া হলো আপনাদের পারসেপশনের সুবিধার্থে।
দণ্ডবিধিকে তত্ত্বগত আইন বলা হয় এই কারণে যে, এই আইনে প্রায় সমস্ত রকম ফৌজদারি অপরাধের কথা বলা আছে। এখানে প্রধান ফৌজদারি অপরাধগুলোর সংজ্ঞা, তার ব্যতিক্রম, বিভিন্ন শর্ত, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা, উদাহরণ এবং কোন অপরাধের শাস্তি কী পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ করা আছে। এককথায় সমস্ত অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তির পরিমাণ উল্লেখ করা আছে। ফলে এটি তত্ত্বগত আইন। আর এই আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ফৌজদারি কার্যবিধি [এটি একটি পদ্ধতিগত আইন] অনুযায়ী তার বিচার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় এই দণ্ডবিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধিই প্রধানতম আইন। এর সাথে সাক্ষ্য আইনও কাজে লাগে। তবে বিশেষভাবে এটি মনে রাখলেই চলবে যে, দণ্ডবিধিতে তাত্ত্বিক যা বিষয়বস্তু বর্ণিত আছে তারই বাস্তব প্রয়োগ করা হয় ফৌজদারি কার্যবিধি দিয়ে। যাইহোক, ফৌজদারি কার্যবিধির কথা ভুলে যান। দণ্ডবিধি নিয়ে আমরা কথা বলছি। চলে আসি মূল পয়েন্টে।
এবার আপনাদের জানা দরকার যে, কেন দণ্ডবিধির ১ থেকে ১২০খ ধারা পর্যন্ত দণ্ডবিধির বেসিক বলে উল্লেখ করলাম?
দণ্ডবিধিতে যে বিভিন্নরকম অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তির পরিমাণ উল্লেখ আছে, সেগুলোরও একটি ভিত্তি আছে। একটি ছোট্ট উদাহরণে যাই। ধরুন, দণ্ডবিধিতে কোনো একটি সংজ্ঞায় ‘অসাধুভাবে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘অসাধুভাবে’ শব্দটির সংজ্ঞা দণ্ডবিধিতে ২৪ ধারায় দেওয়া আছে। ফলে দণ্ডবিধির যেকোনো স্থানে যেকোনো অপরাধের সংজ্ঞায়, ব্যাখ্যায় বা উদাহরণে যখন এই ‘অসাধুভাবে’ শব্দটি ব্যবহার হবে সেটির অর্থ তখন উক্ত ২৪ ধারায় বর্ণিত ‘অসাধুভাবে’ শব্দটির সংজ্ঞা অনুযায়ীই ব্যাখ্যা করতে হবে। অর্থাৎ দণ্ডবিধির সংজ্ঞাগুলো এই বেসিক অংশে বর্ণিত বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা অনুযায়ীই ব্যাখ্যা করতে হবে। ফলত এটি দণ্ডবিধির বেসিক অংশ।
আবার দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বর্ণিত আছে। সেই শাস্তির মূলনীতিগুলোও এই বেসিক অংশে আছে [ধারা ৫৩-৭৫]।
তুলনামূলক জটিল হলেও আরেকটি উদাহরণ বিবেচনায় নিতে পারেন। ধরুন, খুন করা একটি অপরাধ। কিন্তু যখন আপনি নিজের আত্মরক্ষার্থে খুন করবেন, অর্থাৎ সামান্য মুহূর্ত একটু এদিক-ওদিক হলেই আপনি নিজেই খুন হয়ে যেতে পারতেন, এমতাবস্থায় আপনি যদি সেই আক্রমণকারীকে খুন করে বসেন তাহলে এটি কোনো অপরাধ নয়। এটি দণ্ডবিধির ১০০ ধারার বিষয়বস্তু। ১০০ ধারায় আরো সুনির্দিষ্টভাবে ৬টি কারণ উল্লেখ করা আছে যেখানে আপনি অন্য একজনকে খুন করে বসলেও সেটি খুন বলে গণ্য হবে না আইনের দৃষ্টিতে। যেমন, একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে – ধর্ষণের উদ্দেশ্যে কোনো নারীকে আঘাত বা আক্রমণ করা হলে, সেই নারীটি উক্ত সম্ভাব্য ধর্ষণকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে খুন করে ফেললেও সেটির জন্য খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন না উক্ত ভিকটিম। এটিকে দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রম বলা হয়। তো, খুন কাকে বলে এটির সংজ্ঞা দণ্ডবিধিতে ৩০০ ধারায় দেওয়া আছে। তাহলে ৩০০ ধারায় থাকা খুনের সংজ্ঞাটি ১০০ ধারার এই ব্যতিক্রমসাপেক্ষে পড়তে হবে, যদিও ৩০০ ধারায় এটি বলা নাও থাকে যে, ১০০ ধারায় বর্ণিত বিষয়সমূহের ব্যতিক্রমসাপেক্ষে খুনের সংজ্ঞাটি বিবেচনা করতে হবে! ১০০ ধারাটি দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রম। এরকম আরো ‘সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ সংক্রান্ত সমস্ত ধারাই পুরো দণ্ডবিধিতে সমস্ত সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আকারে ধরতে হবে যদিও উক্ত অপরাধের সংজ্ঞার ধারায় ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ নাও থাকে – এই নীতিটির কথা সুনির্দিষ্টভাবে ৬ ধারাতে বলা আছে!
উদাহরণ প্রসঙ্গে ‘সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ এর কথা বললাম উপরের প্যারায়। এটি দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারা পর্যন্ত বিধৃত রয়েছে। তাহলে এই ‘সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ দণ্ডবিধির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা কিনা পুরো দণ্ডবিধির সমস্ত অপরাধের সংজ্ঞাতেই প্রভাব বিস্তার করে। তাহলে এটিকে দণ্ডবিধির বেসিক অংশ বলে ঘোষণা করতে কোনোই দ্বিধা নেই। এরূপভাবে দণ্ডবিধির ১ থেকে ১২০খ পর্যন্ত যা কিছু বর্ণিত আছে তার সবই দণ্ডবিধির বেসিক অংশ হিসেবে আমি চিহ্নিত করেছি।
এবারে আমরা এর প্রতিটি অংশের আলাদা আলাদা করে সংক্ষিপ্ত পরিচয় বুঝবো। সম্ভব হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্ক অনুধাবনেরও চেষ্টা করবো।
প্রতিটি আইনেই শুরুতে উক্ত আইনের উদ্দেশ্য, কার্যকরীকরণের সময়, সাল, বিস্তৃতি, সংজ্ঞা এবং আইনের প্রাধান্য বিষয়ক ধারা সন্নিবেশিত থাকে। দণ্ডবিধিও তার ব্যতিক্রম নয়। এর ধারা ১ থেকে ৫ পর্যন্ত এর প্রথম অধ্যায়। এই কয়েকটি ধারায় সংজ্ঞামূলক ধারাগুলো নেই, তবে এর একেবারে বেসিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ আছে। ৩ ও ৪ ধারা দুইটি একত্রে পাঠ করতে হবে। একই বিষয়বস্তু বর্ণিত আছে। ৫ ধারাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বুঝে নেবেন ধারাটি। এই ধারায় যে নীতির কথা বলা আছে, তা প্রায় প্রতিটি মূল আইনেই কোনো না কোনোভাবে বলা আছে। নীতিটি হচ্ছে – বিশেষ আইন সাধারণ আইনের চেয়ে প্রাধান্য পাবে। দণ্ডবিধি একটি সাধারণ আইন বা মূল আইন। অপরাধ সংক্রান্ত অন্য কোনো বিশেষ আইনের উপস্থিতি থাকলে দণ্ডবিধির সংজ্ঞা কম গুরুত্ব বহন করবে – এটিই এই নীতির মূল কথা। আইনের অন্যতম প্রধান নীতিগুলোর মধ্যে এটি একটি।
অনেক অতিচালাক শিক্ষার্থী ভাবতে পারেন যে, এইরকম একটি তত্ত্বীয় বিষয়সমৃদ্ধ ধারা থেকে এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবে না! উক্ত অতিচালাকের গলায় কিন্তু দড়ি হয়ে যেতে পারে!! কথায় আছে – ‘অতিচালাকের গলায় দড়ি’। ৫ ধারা থেকে ধারাভিত্তিক বা বিষয়বস্তুভিত্তিক প্রশ্ন আসতে পারে। গুণগত মানের দিক থেকে এটি একটি ভালো এমসিকিউ প্রশ্ন হতে পারে। আবার এই ৫ নং ধারাটি বুঝে উঠলে অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রেও সমজাতীয় ধারণার ধারা আছে। ফলে সেটিও বুঝে ফেলা ও মনে রাখা সহজ হবে।
২য় অধ্যায়ে আসুন এবার। এর বিস্তৃতি ৬ থেকে ৫২ক পর্যন্ত। এই ধারাগুলোর বা অধ্যায়টির শিরোনাম হলো ‘সাধারণ ব্যাখ্যাসমূহ’। এই শিরোনামে এখানে মূলত দণ্ডবিধিতে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে বা একাধিক অর্থ করা যেতে পারে বা কনফিউশন হতে পারে এমন শব্দগুলোর সংজ্ঞা দেওয়া আছে। যেমন, নারী বা নর বলতে কী বোঝাবে, বা বিচারক, আদালত, অসাধুভাবে, দলিল ইত্যাদির সংজ্ঞা দেওয়া আছে। বিচারকের সংজ্ঞা কত ধারায় আছে দণ্ডবিধিতে এমন প্রশ্ন বিগত ২০১৭ সালে এসেছিলো। তার মানে এগুলো বাছাই করে সিস্টেম করে হজম করে ফেলতে হবে। পরীক্ষার আগে এসব মনে রাখার ভালো টিপস দেবো অনলাইনে। যাইহোক, এরকম বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা দেওয়া থাকলেও এর শুরুর দুইটি ধারায় [ধারা ৬ ও ৭] কোনো শব্দের সরাসরি সংজ্ঞা দেওয়া নেই। তবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা আছে। যেমন ধরুন, এর ৬ ধারাটি। আমি নিজে এই ধারাটিকে দণ্ডবিধির ‘সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ অর্থাৎ ৭৬-১০৬ ধারাগুলোর ‘প্রাণভোমরা’ নামে অভিহিত করেছি আমার বইয়ে। ধারাটি পড়লেই বুঝবেন। উপরের উদাহরণেও এককথায় প্রসঙ্গটি টেনে এনেছিলাম। যাইহোক, বই থেকে পড়বেন ভালো করে।
২য় অধ্যায় নিয়ে আরেকটু কথা আছে। ৩৪ থেকে ৩৮ ধারা – এই ৫টি ধারা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ৫টি ধারা একত্রে পড়তে হবে। এখানে ‘সাধারণ অভিপ্রায়’ নিয়ে আলোচনা আছে। এই কয়েকটি ধারা এবং ধারণার সাথে দণ্ডবিধির ৫ ও ৫ক অধ্যায় দুইটির ধারণাগুলোর সাথে গুলিয়ে ফেলেন অনেকেই। পারস্পরিক সম্পর্ক ও পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অপরাধের ক্ষেত্রে যৌথ দায় নির্ধারণ করা হয় নিম্নোক্ত ৩টি টপিক থেকে।
১. সাধারণ অভিপ্রায় [ধারা ৩৪-৩৮]
২. অপরাধে সহায়তা [ধারা ১০৭-১২০]
৩. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র [ধারা ১২০ক-১২০খ]
এগুলো ভালো করে না বুঝে পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে পারলেও বাস্তব জীবনে গিয়ে সমস্যায় পড়বেন। এখনই সময়!
৩য় অধ্যায়ে আসি এবার। এর বিস্তৃতি ৫৩-৭৫। এর শিরোনাম ‘সাজা প্রসঙ্গে’। প্রতিটি অপরাধের সংজ্ঞার ধারায় অথবা তার পরপরই ধারাগুলোতে একটি অপরাধের শাস্তির পরিমাণ কী হবে, তা কোন কোন শর্তের অধীনে হবে এসবের বর্ণনা থাকলেও আলাদাভাবে দণ্ডবিধিতে এই অধ্যায়ে সাজা বা শাস্তি প্রসঙ্গে বেসিক নীতিসমূহ বর্ণিত আছে। এই ৩য় অধ্যায়ের ধারাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের শাস্তির কথা বলা হয়নি; বলা হয়েছে শাস্তির নীতি প্রসঙ্গে। যেমন, শাস্তি কত প্রকার, শাস্তি হ্রাস বা লঘু করার ক্ষমতা, সর্বোচ্চ শাস্তি কী, সশ্রম বা বিনাশ্রম সাজার নীতি, অর্থদ- বা জরিমানার নীতি, নির্জন কারাবাস ইত্যাদি প্রসঙ্গে এক্কেবারে বেসিক কথাগুলো। শাস্তির এই অধ্যায় থেকে ঝুমবৃষ্টির মতো প্রশ্ন আসতে পারে। ২০১৫ সালের এমসিকিউ পরীক্ষায় দণ্ডবিধির জন্য বরাদ্দকৃত ২০টি প্রশ্নের ভেতরে ৮টি প্রশ্ন শুধু এই অধ্যায় থেকেই এসেছিলো। ফলে গুরুত্ব দিয়ে এটি পড়তে হবে।
৪র্থ অধ্যায় সেই ৬ ধারাটির সাথে সম্পর্কিত। ‘সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ এর শিরোনাম। ৭৬ থেকে ১০৬ ধারা পর্যন্ত। তবে এই অধ্যায়ে একটি আলাদা উপশিরোনামে ৯৬-১০৬ ধারা পর্যন্ত ধারাগুলো বিন্যস্ত আছে – ‘ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার’ শিরোনামে। এটি একটি মজার ও সহজ অংশ।
৫ম অধ্যায়ে অপরাধে সহায়তা বা অপসহায়তা, প্ররোচনা ইত্যাদি সম্পর্কে অনেকগুলো ধারায় [১০৭ থেকে ১২০] বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে। তবে ১০৭, ১০৮, ১০৯ এর প্রধান তিনটি ধারা। অন্য ধারাগুলোও বাদ দিয়ে পড়াটা মুশকিল। তবে কম করে হলেও ১১৫, ১১৬ এবং ১১৭ ধারা তিনটি দেখবেন।
এরপর ৫ক অধ্যায়। এই অধ্যায়টি ১৮৬০ সালে যখন প্রণীত হয় তখন ছিলো না। ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীনে থাকার সময়ই একটি সংশোধনীর মাধ্যমে এই অধ্যায়টি যুক্ত হয় দুইটি ধারা দিয়ে; ১২০ক ও ১২০খ [CHAPTER VA was inserted by the Indian Criminal Law (Amendment) Act, 1913 (Act No. VIII of 1913)]। এই দুইটি ছোট্ট ধারা থেকেই অনেকগুলো প্রশ্ন করা সম্ভব। এর প্রতিটি শব্দ বুঝে বুঝে পড়ে নেবেন।
🔷 গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও পড়ার নির্দেশনা :
১. ধারা ৩ ও ৪ একসাথে পড়বেন। কোনো অপরাধ দেশের ভেতরে হোক অথবা বাইরে হোক; অপরাধী দেশের নাগরিক হোক অথবা বাইরের হোক; নীতি বা বিবেচনা একটাই – দেশের আইনে উক্ত অপরাধটি ‘অপরাধ’ কিনা – তাহলেই দেশের আদালতে দণ্ডবিধি অনুযায়ী তার বিচার করা যাবে!
২. ধারা ৫। বিশেষ আইন সাধারণ আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে[Special law prevails over general law] – এটিই ৫ ধারা মূলকথা।
৩. ধারা ৬। দণ্ডবিধির সমস্ত সংজ্ঞা ব্যতিক্রমসমূহ সাপেক্ষে হবে। এটি দণ্ডবিধির ৪র্থ অধ্যায়ের প্রাণভোমরা। ব্যাপারটা একবারেই বুঝে নেবেন। সারাজীবন কাজে দেবে।
৪. ধারা ৭। দণ্ডবিধিতে একবার প্রকাশিত অর্থ সমস্ত স্থানেই একই অর্থ বহন করবে।
৫. ধারা ৩৪-৩৮ একসাথে পড়বেন। সাধারণ অভিপ্রায় নিয়ে আলোচনা। ৩৪, ৩৫ ও ৩৮ ধারা ভালো করে বুঝে রাখতে হবে। একটি বিশেষ কথা মনে রাখবেন – সাধারণ অভিপ্রায়ের উপস্থিতি প্রমাণের জন্য অপরাধটি অবশ্যই সংঘটিত হতে হবে।
৬. সংজ্ঞা সংক্রান্ত অন্যান্য ধারাগুলোর ভেতরে ১০, ১১, ১৯, ২০, ২২-২৫, ২৯, ৩৩, ৩৯, ৪০, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৭. ৫৩ থেকে ৭৫ শাস্তির নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারা রয়েছে। এগুলো শুরুতেই প্রধান ২টি অংশে ভাগ করে নিতে পারেন। যেমন, ৫৩ থেকে ৬০ ধারা পর্যন্ত মূলত কারাদণ্ড নিয়ে কথা। ৬৩ থেকে ৭০ পর্যন্ত অর্থদণ্ড নিয়ে কথা। আবার, কারাদণ্ড অংশে ৫৩ ও ৫৩ক মূলত দণ্ডের প্রকার ও ধরণ নিয়ে কথা। ৫৪, ৫৫ ও ৫৫ক মূলত কোনো শাস্তিকে হ্রাস করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের ক্ষমতার কথা বলা আছে। এভাবে এগুলোর একটি ধারাবাহিকতা ও মিল অমিল খেয়াল রেখে পড়লে মনে থাকবে। এই অংশের সবগুলো ধারাই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বারংবার অনুশীলন করতে হবে যে আপনি না দেখে সেগুলো মনে রাখতে পারছেন কিনা।
৮. ধারা ৭৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ আলোচনা করা আছে। এখানে একটি উপশিরোনামে ধারা ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত মূলত ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার আলোচনা করা আছে যেটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
৯৬ ধারা এর বেসিক।
৯৭ ধারায় ৯৯ ধারাটির ব্যতিক্রমসাপেক্ষে দেহ ও সম্পত্তির ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকারের বিধান আলোচিত হয়েছে।
১০০, ১০১ এবং ১০২ এ দেহ সংক্রান্ত আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা আছে।
একই ছন্দে আবার ১০৩, ১০৪ ও ১০৫ এ সম্পত্তি সংক্রান্ত আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা আছে।
আবার ১০০ ধারায় দেহরক্ষা বিষয়ে কোন ৬টি ক্ষেত্রে অন্যের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যাবে সেটি বলা আছে, তেমনি ১০৩ ধারায় সম্পত্তি রক্ষায় কোন ৪টি ক্ষেত্রে অন্যের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যাবে সেটি বলা আছে।
ওদিকে আবার ৭৬-৯৫ ধারা পর্যন্ত ৮২-৮৬ ধারাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবাদে অন্যান্য ধারাগুলোর একবার মনোযোগী রিডিং দেয়া জরুরি, বিশেষ করে এসবের উদাহরণগুলোতে।
দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ সংক্রান্ত এই চতুর্থ অধ্যায়টির সাথে ধারা ৬ এর একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে – তা ভোলা যাবেনা। দ্যাটস অল ইয়োর অনার!
৯. ধারা ১০৭ থেকে ১২০ পর্যন্ত অপরাধে সহায়তা বা অপসহায়তা [Abetment] নিয়ে আলোচনা। এখানে মূলত ১০৭-১০৯ এবং ১১৫-১১৭ এই ৬টি ধারা গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন।
১০৭ ধারায় ৩ উপায়ে এবেটমেন্ট করা যায় তা বলা আছে। ১০৮ এ এবেটর এর সংজ্ঞা। ১০৮ ধারায় আরেকটি জরুরি কথা হচ্ছে – অপসহায়তার ক্ষেত্রে প্ররোচনা দিলেই তার অপরাধ অনুষ্ঠিত হবে; এর জন্য অপরাধটি সংঘটিত হবার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ প্ররোচনাকারীর কোনো রেহাই নেই আইনে। আর ১০৯ ধারায় মূলত অপসহায়তার ক্ষেত্রে অপরাধটি সংঘটিত হলে অপসহায়তাকারীর শাস্তির নীতি বর্ণিত আছে। খুব জরুরি ধারা।
১০. ধারা ১২০ক ও ১২০খ তে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কথা। এর শাস্তি সম্পর্কিত ১২০খ ধারাটি খুব ভালোভাবে আত্মস্থ করলেই এই অংশের পড়া শেষ বলে মনে করতে পারেন আপনি।
লেখক : অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
4/KA,GOVT.LABORATORYSCHOOLROAD,DHANMONDI,1205