বদলি হজ্জ আদায় করার নিয়ম ✅
- শাইখ সালাহউদ্দিন মাক্কী।
COME to ISLAM
দুনিয়া এবং আখিরাতে মুক্তি এবং শান্তির একমাত্র পথ ইসলামী আদেশ নিষেধ মেনে চলা। ISLAM the only way to freedom.
30/04/2026
সৃষ্টি নিয়ে ভাবলে মানুষ নিজেকেই নতুন করে আবিষ্কার করে। আর মানুষ যখন নিজের ভেতরের গঠন, নিজের অস্তিত্বের সূক্ষ্ম রহস্যগুলো বুঝতে শুরু করে—তখন সে এক অদৃশ্য শক্তির সামনে নত হয়ে যায়।
একটু চিন্তা করুন…
একজন পুরুষের শরীরে, নীরবে-নিভৃতে চলছে এক বিশাল সৃষ্টি প্রক্রিয়া। অণ্ডকোষ—ছোট্ট একটি অঙ্গ, কিন্তু এর ভেতরেই তৈরি হচ্ছে জীবনের বীজ। প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার শুক্রাণু জন্ম নিচ্ছে, যেন অদৃশ্য কোনো কারখানায় নিরলস কাজ চলছে। প্রতিদিন কোটি কোটি নতুন প্রাণের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, অথচ আমরা কিছুই টের পাই না।
এই সৃষ্টি কিন্তু হঠাৎ করে সম্পূর্ণ হয় না। ধাপে ধাপে, সময় নিয়ে, প্রায় আড়াই মাস ধরে একটি শুক্রাণু পরিপূর্ণতা লাভ করে। প্রথমে গঠন, তারপর পরিপক্বতা, তারপর প্রস্তুতি—সবকিছুই এক নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ।
আরো অবাক করার মতো বিষয় হলো—এই অণ্ডকোষ শরীরের বাইরে ঝুলে থাকে কেন?
কারণ, এই সূক্ষ্ম প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে চলার জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট তাপমাত্রা। শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা একটু বেশি হলে শুক্রাণু তৈরি ব্যাহত হতে পারে। তাই অণ্ডকোষকে এমনভাবে রাখা হয়েছে, যাতে তা শরীরের তাপ থেকে কিছুটা দূরে থাকে।
গরমে এটি নিচে নেমে ঠান্ডা হয়, ঠান্ডায় আবার শরীরের কাছে এসে উষ্ণতা নেয়। কোনো যন্ত্র নয়, কোনো বোতাম নয়—নিজে নিজেই চলছে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
একটু ভাবুন…
এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য, এই নিখুঁত পরিকল্পনা—এগুলো কি নিজে নিজেই হয়ে গেছে?
আমরা এই দুনিয়ায় আসার আগেই, আমাদের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের অস্তিত্বের পেছনে রয়েছে এমন এক পরিকল্পনা, যা মানুষের বোধেরও বাইরে।
তারপরও আমরা অহংকার করি।
তারপরও আমরা ভুলে যাই।
যে রব আমাদেরকে এমন নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন, আমাদের প্রতিটি কোষের যত্ন নিয়েছেন—আমরা কি কখনো তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করি?
একটু থামুন।
নিজেকে অনুভব করুন।
নিজের ভেতরের এই বিস্ময়কর সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে উপলব্ধি করুন।
আর ফিরে আসুন সেই মহান সত্তার দিকে—
যিনি আপনাকে শূন্য থেকে এনে, এত যত্নে গড়ে তুলেছেন।
27/04/2026
গোপন পাপ ⚫
সবই তো করছেন—সালাত, সিয়াম, কিয়াম, নফল আমল, যিকির, তিলাওয়াত। কিন্তু, তারপরও কি মনে হয় জীবনটা গতি পাচ্ছে না? কেমন এক অদ্ভুত শেকলে যেন বারবার বাঁধা পড়ছে আপনার হাত-পা? কেমন অস্বস্তি, অসহ্য মন খারাপ আর অস্থিরতা যেন সর্বদা গ্রাস করে রাখছে আপনাকে?
সম্ভবত, আপনি একটা চোরাবালিতে আটকে গেছেন আর সেই চোরাবালির নাম—গোপন পাপ।
গোপন আমল যেমন বান্দাকে উতরে দেয়, তেমনি গোপন পাপ বান্দাকে ডুবিয়েও দিতে পারে।
জীবনকে সংকীর্ণ সংকীর্ণ লাগছে?
চারপাশের সবকিছুকেই বিরক্ত লাগে?
আমল করে শান্তি পান না?
সালাতে খুশুখুযু আনতে পারেন না?
আয় উপার্জনে বরকত পান না।
সম্ভবত, কোনো এক গোপন পাপের মাঝে আপনি আটকে পড়েছেন৷
নিজেকে নিয়ে বসুন। এই চোরাবালি থেকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করুন। বারাকাহর দরোজা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে, এই চোরাবালি থেকে চিরতরে মুক্তি লাভের ফিকির করতে থাকুন, আজই লাগাম টানুন নিজের নফসের।
- আরিফ আজাদ 🌱
17/04/2026
এই কপি পোস্টে আপনার প্রশ্ন এবং উত্তর চাই ✅
বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের শেখানো হয় যে পাকিস্তান ২৪ বছর আমাদের শোষণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন গুলো পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল।
ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছরে পূর্ব বাংলায় কোনো উন্নয়ন করেনি। যদি কিছু করার উদ্যোগও নেওয়া হতো, সেগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত কলকাতার দাদা-বাবুরা। কলকাতাকে তারা ভারতের রাজধানী বানিয়েছিল।
এমনকি আমাদের কথিত জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে, পূর্ব বাংলা যেন উন্নত না হতে পারে তাই ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠনের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন দেখে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে আলাদা করার জন্য এই দালালরা উঠেপড়ে লাগে। তৈরী করে বৈষম্যের মিথ্যা বয়ান।
▶️ পাকিস্তান আমলে মোট ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
◾রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩)
◾চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬)
◾জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০)
◾জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮)
◾পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিঃ) (১৯৬১)
▶️ পাকিস্তান আমলে মোট ৪ টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
◾বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৯৬২ সাল
◾রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১৯৬৪ সাল
◾চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১৯৬৮ সাল
◾খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৯৬৯ সাল
উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে মোট ৫ টা, যার মধ্যে ৪ টাই পাকিস্তান আমলের। আর পরবর্তী ৫০ বছরে হয়েছে ১ টা।
▶️ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার মোট ৮৭ টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে৷ যার মধ্যে রয়েছে
◾নটর ডেম কলেজ, ঢাকা (১৯৪৯)
◾সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (১৯৪৯)
◾বাঙলা কলেজ (১৯৬২)
◾ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ
উল্লেখ্য বর্তমানে ঢাকা শহরে মোট ৩৯ টি কলেজ আছে, যার ভেতর ৮ টি তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে, ২১ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান আমলে, আর মাত্র ১০ টি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে।
▶️ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৮ টা সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭)
◾রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮)
◾ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩)
◾স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বর্তমান নামঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) (১৯৬৬)
◾শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮)
◾রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০)
উল্লেখ্য ইংরেজ শাসন আমলের ২০০ বছরে মোট ১টি মেডিকেল তৈরি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ৷
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৭ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।
▶️ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ১৭ টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯টি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে করেছে ১৭ টি। আর বাংলাদেশ সরকার ৫০ বছরে করেছে ৩২টি৷
▶️ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৪ টি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ(১৯৫৮)
◾মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ(১৯৬৩)
◾ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ( ১৯৬৩)
◾রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (১৯৬৫)
উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ আছে ১২ টা এর ভেতর ৪ টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে।
▶️ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী, নৌ অফিসার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার জন্য ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনী কর্তিক এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর নাম "বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (BMA)"
▶️ এছাড়াও প্রতিষ্ঠা হয়েছে....
◾ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’ (১৯৫০) যার বর্তমান নাম "বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)"।
◾ চট্টগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
◾এরকম আরো অনেক বিশেষায়িত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। এছাড়া দেশ ব্যাপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাই স্কুল।
★অনেকেই অভিযোগ করেন পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে পুর্ব পাকিস্তান পিছিয়ে ছিলো, কারন পূর্ব পাকিস্তানে কম উন্নয়ন করা হয়েছে। লক্ষ করুন, ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র ১ টা, বিপরিতে পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৮ টা। অর্থাৎ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির আগ থেকেই আমরা উচ্চ শিক্ষার দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ১৮ গুন পিছিয়ে ছিলাম আমরা!
১৯৪৭ সালের পরবর্তী ১০ বছরে পুর্ব পাকিস্তানে যদি ১০ টা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হতো আর পশ্চিম পাকিস্তানে যদি একটাও তৈরি করা না হতো, তবুও তো আমরা পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়েই থাকতাম। আসলে ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা পাকিস্তানের তুলনায় এত বেশি পিছিয়ে ছিলাম, যার ফলে এই অঞ্চল কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে উন্নয়নের দৌড়ে খাপ খাওয়াতে পারেনি।
★ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার ছিলো মাত্র ১২%। ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে স্বাক্ষরতার হার দাড়ায় ২৪.৭%। অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছরে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার দ্বীগুন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের আদমশুমারী না হওয়ায় পাকিস্তান আমলের প্রকৃত স্বাক্ষরতার হার জানা যায়নি।
▶️শিল্প প্রতিষ্ঠান, মিল ও কল-কারখানা
◾ বাংলাদেশ সচিবালয় ( ১৯৭১ সালের পর এ সচিবালয়ের পুরাতন ৬ নং ভবনটি ভেঙ্গে ২০ তলা ভবন তৈরী করা হয়)
◾ পাকিস্তানের সেকেন্ড ক্যাপিটাল হিসাবে শেরেবাংলা নগর কে পরিকল্পিতভাবে তৈরী
◾ সংসদ ভবন
◾ বাইতুল মোকাররম মসজিদ
◾ বাংলা একাডেমি
◾ ইসলামিক একাডেমি (বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
◾ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
◾ কমলাপুর রেলস্টেশন (পূর্বতন রেলস্টেশন টি ছিলো গুলিস্তান-ফুলবারিয়ায়)
◾ মীরপুর চিড়িয়াখানা
◾ কুর্মিটোলা বিমানবন্দর (ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
◾ যমুনা সেতু (১৯৬৬ সনে সংসদে অনুমোদিত)
◾ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ( ১৯৬১ সালে এর পরিকল্পনা গ্রহন করে তখনকার পূর্বপাকিস্তানের অনেক কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষনে প্রেরণ করা হয়, যারা এখন ইরান ইরাকে কর্মরত। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়)
◾ শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
◾ গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প
◾ রামপুরা টেলিভিশন ভবন
◾ ঢাকা স্টেডিয়াম
◾ ঢাকা যাদুঘর (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন)
◾ WAPDA এবং এর অধিনে শতশত বাধ ও সেচ প্রকল্প
◾ ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বনানী প্রভৃতি আবাসিক এলাকা গঠন ও নগরায়ন
◾ শত শত পাট ও কাপড়ের কল যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
◾ শিল্পায়নের জন্য গড়ে তোলা হয় East Pakistan Industrial Development Corporation (EPIDC)
◾ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখান
◾ গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি
◾ মংলা সামুদ্রিক বন্দর ( চট্টগ্রাম বন্দরটি মুঘল আমলে তৈরী)
◾ঢাকার নিউমার্কেট সহ বিভাগীয় শহরে একটি করে নিউমার্কেট তৈরী
◾তেজগাঁও শিল্প এলাকা
◾হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প এলাকা
◾খালিশপুর শিল্প এলাকা।
◾আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ): ১৯৫১
◾খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস: ১৯৫৯
◾চিটাগং ড্রাই ডক: ১৯৬০
◾ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৬৮
◾ঢাকা জুট মিলস লিমিটেড: ১৯৫০ এর দশক
◾ আমিন জুট মিলস লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৫৩
◾ খুলনা জুট মিলস: ১৯৫০ এর দশক
◾ ইস্পাহানী কটন মিলস: পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
◾ কাপ্তাই জল বিদ্যুত - ১৯৬২
◾ চন্দ্রঘোনা পেপার মিল - ১৯৫৩
◾ কর্ণফূলী রেয়ন মিল – ১৯৫৩
◾ প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজ – ১৯৫৩
◾বাংলাদেশে একটিমাত্র তেল শোধনাগার সেটিও পাকিস্তান করে দিয়েছে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তান ঘাস খেয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ একটি পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে।
তাদের বিমান বাহিনীর আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের কারণে দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীর মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ১৪৩৪ টি যুদ্ধবিমান ও রনকৌশল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। যার মেরুদণ্ড হিসেবে আছে আমেরিকান এফ-১৬, জেএফ-১৭ থান্ডার এবং আধুনিক চীনা জে-১০সি।
তাদের কাছে আছে শাহীন-৩ (২,৭৫০ কিমি পর্যন্ত পাল্লার), গৌরী এবং গজনভীর মতো একাধিক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তাদের কাছে বাবর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং যা স্থল ও সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
তাদের সেনাবাহিনীর কাছে ২,৬০০টিরও বেশি প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কের একটি বহর রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত খালিদ, ভিটি-৪ এবং টি-৮০ইউডি ট্যাঙ্ক।
দেশটি তার প্রতিরক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে গিয়েছে। চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে নিজস্ব জঙ্গি বিমান বানিয়েছে। তাদের কাছে বুরাকের মতো উন্নত ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে এবং উইং লুং ড্রোনের জন্য চীনের সাথে সহযোগিতা করে।
তাদের কাছে আটটি সাবমেরিন রয়েছে, উপকূলরেখা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য নৌবহরে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট এবং দ্রুতগামী মিসাইল বোট রয়েছে।
এছাড়াও তাদের কাছে ৩,০০০টিরও বেশি কামান (টানা ও স্ব-চালিত উভয়ই) এবং একাধিক রকেট লঞ্চার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এমনকি পাকিস্তানের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পেয়েছে। শিক্ষার মানেও পাকিস্তান অনেক এগিয়ে।
আর ১৯৭১ সালে বিজয়ী বাংলাদেশের যুদ্ধ করে দাসত্বের সার্টিফিকেট নিয়েছে। ভারতই ঠিক করে বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে থাকবে।
ইউরোপের দেশগুলো যেখানে বিচ্ছিন্ন থাকার চেয়ে এক হয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন হয়েছে। যাদের সবার একই মুদ্রা, একই পার্লামেন্টে ও আদালত আছে। একটা দেশের মত তারা সবাই বিনা ভিসায় ইউনিয়নের সব দেশে ভ্রমণ করতে পারে। আমেরিকা ৫০ টি রাজ্য মিলে এক হয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়েছে। ইংল্যান্ড ৪ টি রাজ্য মিলে হয়েছে যুক্তরাজ্য, ভারতে ২৮ টি রাজ্য মিলে একসাথে থাকছে।
অথচ আমরা মাত্র ৫ টি প্রদেশ এক হয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থাকতে পারলাম না। মিডেল ইস্টে শহরের মত ছোট ছোট এলাকা তুর্কী খেলাফত থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার নামে আমেরিকার স্থায়ী গোলামে পরিনত হয়েছে। আর আমরা কথিত স্বাধীনতার নামে ভারতের স্থায়ী গোলামে পরিনত হয়েছি।
আল্লাহর দুশমনেরা সবাই এক হয়ে শক্তিশালী হচ্ছে আর আমাদের কথিত স্বাধীনতার নামে বিচ্ছিন্ন করে ওদের গোলামে পরিনত করেছে।
পাকিস্তান আমলে ৪ জন গভর্নরের মধ্যে ২ জন ছিল বাংলাদেশের। ৮ জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ৪ জন ছিল বাংলাদেশের এবং তাদের সম্মিলিত মেয়াদকাল পশ্চিম পাকিস্তানের ৪ টি প্রদেশ থেকে হওয়া প্রধানমন্ত্রীদের সম্মিলিত মেয়াদকালের চেয়ে বেশি ছিল। এরপরেও বলা হচ্ছে আমরা নাকি ছিলাম পাকিস্তানের অধীন! পরাধীন!
এই কথিত পরাধীনতার গল্প শুনিয়ে স্থায়ীভাবে যারা ভারতের গোলাম বানালো এদেশকে তারা সবাই স্বাধীনতার শত্রু। দেশবিরোধী দালাল।
লেখা : সংগৃহীত ও পরিমার্জিত
বোনদের প্রাপ্য ১ ইঞ্চি পরিমান সম্পত্তি মেরে দিয়ে- ওমরা বা বড় হজ্ব কোনোটাই কবুল হবে না, ইভেন ১ ওয়াক্ত নামাজও না। সাবধান!
হে আল্লাহ, আপনি কুদরতিভাবে আমাদের নফস'কে "নারী-আসক্তি" পাপ থেকে রক্ষা করুন। 😪
19/02/2026
একদা হযরত ঈসা (আঃ) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবরের মাটি ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল। (উল্লেখ্য, হযরত ঈসা (আঃ)-এর অন্যতম প্রধান মুজেযা (অলৌকিক ক্ষমতা) ছিল, তিনি মহান আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারতেন। )
হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "দুনিয়াতে তোমার কাজ কী ছিল?"
লোকটি উত্তর দিল, "হে আল্লাহর নবী! আমি একজন কুলি ছিলাম। মানুষের বোঝা মাথায় বহন করতাম এবং তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতাম। আমার জীবনটি খুব সাধারণ ছিল।"
হযরত ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কবরের অবস্থা কী? তোমার হিসাব-নিকাশ কেমন চলছে?"
লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"একবার আমি এক ব্যক্তির এক বোঝা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) মাথায় করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার দাঁতের ফাঁকে কিছু একটা আটকে গিয়েছিল। আমি মালিকের অজান্তেই সেই লাকড়ির বোঝা থেকে একটি ছোট্ট কাঠি (খিলাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য) ভেঙে নিলাম এবং তা দিয়ে দাঁত খিলাল করলাম।
এরপর যখন আমার মৃত্যু হলো, আল্লাহ তা’আলা আমাকে বললেন, 'হে আমার বান্দা! তুমি কি জানতে না যে আমি তোমাকে আজ এই হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? অমুক ব্যক্তি তার টাকা দিয়ে কাঠ কিনেছিল এবং তোমাকে মজুরি দিয়েছিল তা বয়ে নেওয়ার জন্য। তুমি সেই মালিকের অনুমতি ছাড়া কেন একটি কাঠি ভেঙে নিলে?'
হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কসম, আমি আজ ৪০ বছর ধরে এই একটিমাত্র খড়কুটোর হিসাব দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আজও মুক্তি পাইনি! দয়া করে আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন।"
আমরা অনেক সময় অন্যের অতি ক্ষুদ্র জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করি। আমরা একে খুব তুচ্ছ মনে করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আল্লাহর কাছে ‘আমানত’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অন্যের হক যদি একটি খড়কুটোর সমপরিমাণও হয়, তবুও পরকালে তার কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে।
(সূত্র: আয যাহরুল ফাইহ (ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)
17/02/2026
গায়রত কী?
উত্তরঃ সাহাবীরা তাদের স্ত্রী'র নাম পর্যন্ত পরপুরুষকে বলতো না। এটাই গায়রত।
একজন গায়রতহীন পুরুষ বড়ই ভয়ংকর। এখনকার সময়ের পুরুষদের গায়রত থাকবে তো দূর, তারা তাদের স্ত্রীর বেপর্দা ছবি ফেসবুকে আপলোড দেয়!! আল্লাহুম্মাগফিরলী..!
ঘটনা ১
একদিন এক ব্যাক্তি আলি ইবনু আবি তালিব (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন তার স্ত্রী কেমন আছে?
তিনি উত্তর দিলেন:
" যদি তোমার রক্ত হালাল হতো, তাহলে আমি তরবারি দিয়ে তোমার মাথা কেটে ফেলতাম।"
[ ইবনে কাসীর, আল- বিদায়া ওয়ান- নিহায়া]
ঘটনা ২
মক্কার এক মুশরিক তার উটকে জবেহ করে দিচ্ছিলো। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি উট টি জবেহ কেন করলেন?
আপনার টাকার প্রয়োজন হলেত বিক্রি করে দিতে পারতেন।
তখন লোকটি বললো,
এই উটের উপর আমার মহিলারা বসতো, বিক্রি করে দিলে এই উটের উপর অন্যপুরুষ বসবে এটা আমার সহ্য হবে না, তাই এই উটই আমি রাখবো না।
একজন মুশরিক হওয়া সত্বেও তার কত গায়রত!!! আর আমাদের ভাই- বোনদের কি দশা??
আস্তাগফিরুল্লাহ্
গায়রতহীন পুরুষরা সবাই দাইয়ুজ। রসূলুল্লাহ বলেছেনঃ তারা জান্নাত তো পাবেই না, জান্নাতের গন্ধও পাবে না।
وَمَا الْحَيَوةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ﴿۲۰﴾
আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।
(সুরা হাদীদ-২০)
এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে!
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?
(সূরা ফাজর, আয়াত-২০)
স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বন্ধুদের সাথে হাসি তামাসা আড্ডায় ব্যস্ত থাকে!!
বউয়ের চুল দেখা যাবে তাতে কষ্ট পাবে তো দূর, বিয়ের সময় বন্ধুকে নিজের বউকে দেখিয়ে পরে আবার শোনে, মেয়েটা কেমন রে!!
বন্ধুদের চোখের খোরাক বানিয়ে তারপর সে বিয়ে করে!
আর এটাই নাকি এখনকার ভদ্র সমাজের ট্রেন্ড!
আল্লাহুম্মাগফিরলী
আর এখনকার পুরুষদের গায়রত থাকবে তো দূরের কথা,,,
অনেকে গায়রত কি সেটাও জানেনা
হায় আফসোস!
এই উম্মাহর কোনো নারী গায়রতহীন পুরুষকে আপন করে নিছে এমন নজির নাই।
হায় আফসোস!
এই উম্মার পুরুষরা আজ জানেই না গায়রত কী?
মহিলারা আজ বোঝে না গায়রতের মর্ম।
বরং তারা গায়রতহীন চাকচিক্যময় নিবেদিত পুরুষদেরই খুঁজে ফেরে হর হামেশা
গায়রতহীন পুরুষরা সবাই দাইয়ুজ রসূলুল্লাহ বলেছেনঃ তারা জান্নাত তো পাবেই না, জান্নাতের গন্ধও পাবে না।
ইয়া রব বুঝার তৌফিক দান করুন সকল মুসলিম ভাই বোনকে। আমিন।
30/12/2025
[]সন্তানকে খাস পর্দায় অভ্যস্ত করতে একজন অভিজ্ঞ পর্দানশীন মায়ের পরামর্শ!!!
পর্দে মে রাহনে দো!
-
চট করে দ্বীন পালন শুরু করা বেশ কঠিন। ছোটবেলা থেকে দ্বীনদারি-চর্চায় অভ্যস্ত করে তুলতে না পারলে, বড় হলে রাগারাগি করে সন্তানকে দ্বীনদার বানানো প্রায় অসম্ভব কাজ!
হাঁ সন্তান নিজ থেকে আগ্রহী হলে, ভিন্ন কথা!
কন্যাকে পর্দায় অভ্যস্ত করে তুলতে হলেও সেই ছোট বেলা থেকেই মেহনত শুরু করা আবশ্যক।
তিন থেকে পাঁচ বছর বয়েস থেকে শুরু হওয়াই যুক্তিযুক্ত!
কারণ এই বয়েসেই সন্তান মা-বাবা ও আশেপাশের অনুকরণ করতে শুরু করে। আমরা একজন অভিজ্ঞ পর্দানশীন আরব মায়ের পরামর্শগুলো খতিয়ে দেখতে পারি। তিনি তার চারকন্যাকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তার আলোকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেনঃ
(এক) বাইরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময়, মেয়েকে দেখিয়ে দেখিয়ে বোরকা পরাঃ
মেয়ের জন্যে বোরকাধর্মী পোশাক বানানো।
যতটা সম্ভব ছোট্ট মামণিকেই নিজের বিশেষ পোষাক পরতে দেয়া।
না পারলে আম্মু বা বড় আপু হাত লাগাবে!
-
(দুই) মেয়েকে দায়িত্ব দেয়াঃ
-আম্মু! আমি বোরকা পরার পর, আমার চুল বাইরে থেকে দেখা যায় কি না, একটু ভাল করে দেখো তো!
চারপাশ চক্কর দাও!
আমি যখনই বোরকা পরবো, তুমি দেখবে, কোনও অংশ বোরকার বাইরে থেকে গেলো কি না!
-
(তিন) মেয়েকে বলে দেয়াঃ
ঘরে গাইরে মাহরাম কেউ এলে, যাদের সাথে বিয়ে বৈধ!
ছোট্ট বয়েসে এতটা বুঝবে না, নাম ধরে বলে দেয়া অমুক এলে, তুমি আমাকে আগেই বলে দিবে, কে এসেছে!
তাহলে আমি সতর্ক হতে পারবো!
-
(চার) যখন থেকে মেয়ে নিজে নিজে পোষক পড়তে অভ্যস্ত হবে, তখনই বলে দেয়াঃ
-তুমি যখন পোষাক পরবে, তার আগে রূমের দরজা বন্ধ করে দিবে!
খোলা স্থানে কখনোই পোষাক পরিবর্তন করবে না।
-
(পাঁচ) ছেলে বা মেয়ে কাউকে যদি এভাবে তোমার সামনে পোষাক বদলাতে দেখো, তুমি সেখানে থেকে উঠে চলে আসবে। সবাই লাজুক নয়, শালীন নয়।
সে লজ্জা না পেলেও তুমি অবশ্যই লজ্জাবোধ করবে! শুধু নিজের শরীর দেখানো নয়, অন্যের শরীর দেখাও হারাম!
-
(ছয়) মায়ের দায়িত্ব হলো, মেয়েকে বলে দেয়া: আশেপাশের ছেলেদের সাথে প্রয়োজনের বেশি কথা না বলা।
যা বলার আব্বু-আম্মু বা ভাইয়াকে বলা।
পাশের বাসা বা প্রতিবেশির ছেলে ছোট হলেও মেয়েদের সাথে থাকতে অভ্যস্ত করে তোলা!
-
(সাত) মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই কুরআন কারীমের কিছু কিছু অংশ মুখস্থ করিয়ে দেয়া।
বিশেষ করে পর্দার আয়াতগুলো পড়ে শোনানো।
না বুঝলেও কুরআনের শব্দেরও অনিবর্চনীয় একটা শক্তি আছে।
ক্রমে ক্রমে আয়াতগুলোর অর্থ বুঝিয়ে দেয়া।
আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যেই এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন!
তিনি তার এই ছ্ট্টো বান্দীটির কাছে কী চাচ্ছেন!
কুরআন কারীমের বরকতেই তার মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে!
পর্দা করা যে সরাসরি আল্লাহরই ইচ্ছা, সেটা বুঝতে শিখতে শুরু করবে!
-
(আট) সবচেয়ে ভাল হয়, মেয়েকে নিয়মিত কুরআন হিফয করতে অভ্যস্ত করে তোলা। এবং তাকে এর গুরুত্ব বোঝাতে শুরু করা। গল্পের মতো করে!
তার বয়েসের উপযোগী ঢঙে। বারবার বলা: যার মধ্যে কুরআন কারীম আছে, তাকে পর্দা করে চলতে হয়।
না হলে কুরআনের অপমান হয়।
আল্লাহ ও তার রাসূল নারাজ হন!
-
(নয়) সময় করে করে, দ্বীনী পরিবারগুলোতে মেয়েকে নিয়ে যাওয়া। যারা দ্বীনকে তাকওয়ার মানদন্ডে মেনে চলার চেষ্টা করেন।
এই দ্বীনদার পরিবারগুলোতে কিছু মুরুব্বী থাকেন।
যারা দ্বীনকে মানতে মানতে স্বভাবে পরিণত করেছেন, তাদের সাথে নিজের কন্যাকে কিছু সময় কাটাতে দেয়া।
তাদের সাথে গল্প করতে দেয়া।
তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে দেয়া।
-
(দশ) তবে খেয়াল রাখা, এসব করতে গিয়ে, মা বা বাবা যেন কখনোই কঠোরতার আশ্রয় না নেন।
তাহলে নিজের ভুলের কারণে মেয়েটা দ্বীন সম্পর্কে ভুল ধারনা নিয়ে বড় হতে পারে।
-
(এগার) সেই ছোট্টবেলা থেকেই ,মেয়ের জন্যে আলাদা একটা কুরআন কারীমের ব্যবস্থা করা।
কুরআন কারীমের আদব শিক্ষা দেয়া।
পর্দার আয়াতগুলো চিহ্নিত করে দেয়া।
মাঝেমধ্যে যেন নিজে নিজেই আয়াতগুলো পড়ে।
অর্থ আর তাফসীরও কিনে দেয়া। এতে কুরআনের সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
পাশাপাশি দ্বীনের বিধান সরাসরি কুরআন থেকে গ্রহণ করার একটা মানসিকতা গড়ে উঠবে।
-
(বারো) মেয়ে যদি পুতুলখেলায় অভ্যস্ত হয়, সেই পুতুলকেও বোরকা পরিয়ে রাখা। কারণ বাজারে যেসব পুতুল পাওয়া যায়, প্রায় সবগুলোই পাশ্চাত্যের ঢঙে সংক্ষিপ্ত পোষাক পরানো থাকে।
এগুলো দেখে দেখে মেয়ের মনে, পোষাক নিয়ে ছাড়াছাড়ির মনোভাব তৈরী হতে পারে।
তাই তাকে বলে দেয়া: তোমার পুতুল বন্ধুকেও বোরকা পরিয়ে রাখো।
প্রথম প্রথম মা-ই পুতুলকে শালীন পোষাক পরাবে!
পরে মেয়েকে দায়িত্ব দিবে।
তাহলে সে বুঝতে শিখবে, পুতুলের পোষাক বা চুলটা এভাবে রাখা ঠিক নয়।
এমন পোষাক ও বেশভূষাকে অজান্তেই অপছন্দ করতে শিখবে!
-
(তেরো) কুরআন কারীমের পাশাপাশি হাদীস শরীফও পড়তে শেখানো।
অর্থ বুঝিয়ে দেয়া।
পর্দাবিষয়ক হাদীসগুলো।
সামান্য ব্যখ্যাও সম্ভব হলে বলে দেয়া।
তার বুঝের স্তরের দিকে লক্ষ্য রেখে!
কারণ মায়ের কথার চেয়ে, নবীজি (সাঃ) এর কথার প্রভাব অনেক অনেক বেশি!
-
(চৌদ্দ) বুযুর্গ মহিলাদের জীবনী তার সামনে তুলে ধরা।
উম্মাহাতুল মুমিনীন, নবীজির স্ত্রীগনের জীবনী তাকে গল্পচ্ছলে শুনিয়ে দেয়া।
তার কাছ থেকেই গল্প শোনার বায়না ধরাঃ
-আম্মু! আমি তো সবসময়ই বলি, আজ তুমি একটা গল্প শোনাও! ঐ যে আয়েশা রা.-এর গল্প বলেছিলাম, সেটাই আমাদেরকে আজ শোনাও!
-
এভাবে মেহনত করলে, ইনশা আল্লাহ, মামণিরা খাসপর্দায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে! পরিবারে তাকওয়া-পরহেযগারির পরিবেশ গড়ে উঠবে!
লিখেছেনঃ- শায়খ আতিক উল্লাহ
19/11/2025
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
1000