৪৯তম বিশেষ বিসিএসে নেওয়া হবে ৬৮৩ শিক্ষা ক্যাডার
© রবিউল আলম লুইপা
===================
৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন। এর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬৮৩ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৫। পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা রবিউল আলম লুইপা।
✅ পরীক্ষা পদ্ধতি
প্রথম ধাপে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত পরীক্ষা এবং পরবর্তীতে ১০০ নম্বরের ভাইভা নেওয়া হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় সাধারণ বিষয় অর্থাৎ বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০, বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০, গণিতে ১০, মানসিক দক্ষতায় ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষা পিএসসি প্রণীত ‘প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস’ অনুযায়ী হবে। লিখিত পরীক্ষার বাকি ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হবে পদসংশ্লিষ্ট।
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের সাধারণ বিষয় (১০০ নম্বর) এবং পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের (১০০ নম্বর) সিলেবাস প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
সাধারণ বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য বাজারের প্রচলিত যেকোনো সহায়ক বই সিলেবাস ধরে ধরে পড়তে পারেন। পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস অনুযায়ী প্রার্থীর নির্ধারিত বিষয়ের উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বই থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
✅ প্রস্তুতি
৪৯তম বিসিএসের এমসিকিউ পরীক্ষা হবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। প্রস্তুতির জন্য এখন থেকে দুই মাসের মতো সময় পাওয়া যাবে। যাদের প্রস্তুতি ভালো, তাদের রিভাইসের জন্য এটা পর্যাপ্ত সময়। কিন্তু নতুন প্রার্থীদের জন্য এই সময়টা যথেষ্ট না। এ ক্ষেত্রে রুটিন সাজিয়ে পরিকল্পিত প্রস্তুতির বিকল্প নেই। এখানে ৬০ দিনে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।
নমুনা রুটিন দেওয়া হলো (কমেন্টবক্স দেখুন)
✅ একনজরে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার
বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে পদায়ন, পদোন্নতি, বদলিসহ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। কারিগরি শিক্ষা ছাড়া শিক্ষার সব পর্যায়ের (প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার গঠন করা হয়েছে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদ ও কাজের পরিধি সংকুচিত হয়েছে। সরকারি সাধারণ কলেজ, শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম), শিক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-সহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রকল্পগুলোতে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়।
সরকারি কলেজগুলোতে এই ক্যাডারের পদক্রম হলো প্রভাষক>সহকারী অধ্যাপক>সহযোগী অধ্যাপক>অধ্যাপক। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে পদসোপান হলো শিক্ষা/গবেষণা কর্মকর্তা>সহকারী পরিচালক>উপপরিচালক> পরিচালক> মহাপরিচালক।
✅ প্রশিক্ষণ ও বেতন-ভাতা
চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে চার মাস মেয়াদি বনিয়াদি প্রশিক্ষণ (ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স-এফটিসি) নিতে হয়। এই ক্যাডারের কোনো বিভাগীয় প্রশিক্ষণ নেই। তবে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট শিক্ষা গবেষণা কোর্স, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, সিনিয়র স্টাফ কোর্স অন এডুকেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট—এ ধরনের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এ ছাড়া অফিস ব্যবস্থাপনা, ই-ফাইলিং, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে হতে পারে। সরকারি-বেসরকারি বৃত্তি নিয়েও দেশে-বিদেশে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুযোগ আছে। সব ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরকারি বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০ টাকা মূল বেতনে চাকরিজীবন শুরু করেন। যোগ দেওয়ার সময় একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। একাডেমিক পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি (সমমান) থাকলে আরো একটি ইনক্রিমেন্ট দেবে। মূল বেতনের ওপর নির্ধারিত হারে বাড়িভাড়া ভাতা (জেলা শহরে ৪০%, অন্যান্য বিভাগে ৪৫%, ঢাকা বিভাগে ৫০%) দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, সন্তানের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা, উৎসব ভাতা, নববর্ষ ভাতা, সরকারি দায়িত্ব ও যাতায়াতের জন্য টিএ/ডিএ ভাতাসহ সরকারি আর্থিক সুবিধা পান এ ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
✅ পদায়ন ও দায়িত্ব
এই ক্যাডারে শিক্ষকতা ও দপ্তর উভয় পর্যায়ে চাকরির সুযোগ আছে। বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব পদে পুলের সুযোগসহ অন্যান্য ক্যাডারের মতো সিভিল সার্ভিসের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত কর্মস্থল থাকায় বাংলাদেশের সব জেলায়ই পদায়নের সুযোগ আছে। তবে শিক্ষা ক্যাডারে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি না হয়ে বিষয়ভিত্তিক/সাব-ক্যাডারভিত্তিক পদোন্নতি হয়। তাই পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়! এই ক্যাডারে গাড়ি সুবিধা, আবাসন ও কর্মপরিবেশ অন্যান্য দপ্তরের মতো নয়। কর্মস্থলভেদে কাজের চাপ কম-বেশি হতে পারে।
✅ আবেদন যেভাবে
শুধু একটি ক্যাডারের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় এবার পছন্দক্রম নির্ধারণের সুযোগ নেই। এই বিসিএসের পরীক্ষা শুধু ঢাকা কেন্দ্রে নেওয়া হবে। আবেদনের প্রক্রিয়া ও অন্যান্য যোগ্যতা সাধারণ বিসিএসগুলোর মতোই। প্রতিটি পদে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন হতে হবে। নির্ধারিত বিষয়ে স্নাতক নেই, কিন্তু স্নাতকোত্তর আছে, এমন হলে আবেদন করা যাবে না।
কোনো কোনো পদে সংশ্নিষ্ট বিষয় একটি আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিকও হতে পারে। যেমন—প্রভাষক (গণিত) পদের জন্য গণিত এবং ফলিত গণিত উভয় বিষয়ের স্নাতকধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
✅ আবেদনে খেয়াল রাখুন
১. কম্পিউটার দোকান বা অন্য কারো মাধ্যমে আবেদন না করে নিজে নিজে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের চেষ্টা করুন।
২. এসএসসি সার্টিফিকেটে নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ যেভাবে আছে, সেভাবেই আবেদন ফরম পূরণ করুন। এসএসসি সার্টিফিকেটে নেই এমন কোনো নতুন শব্দ নামের সঙ্গে যোগ করবেন না।
৩. বর্তমানে কোনো চাকরিতে কর্মরত থাকলে ‘এমপ্লয়মেন্ট স্ট্যাটাস’ অপশনে এই তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবী হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করুন। তাহলে ভাইভার সময় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে সুবিধা হবে।
৪. মেয়েদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানায় বাবার বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করতে পারেন।
৫. স্নাতক পর্যায়ের পরীক্ষার সব কার্যক্রম যদি ২২ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে শেষ হয়, তাহলে ৪৯তম বিসিএসে ‘অ্যাপিয়ার্ড’ প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।
ভাইভার সময় ‘অ্যাপিয়ার্ড প্রত্যয়নপত্র’ জমা দিতে হবে।
৬. আবেদনের সময় আপলোড করা পাসপোর্ট আকারের ছবিতে ক্লিনিক্যাল চশমা বা হিজাব ব্যবহার করা যাবে। তবে মুখমণ্ডল স্পষ্ট থাকতে হবে।
৭. আবেদন জমার সময় পাওয়া ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখুন।
পরবর্তী কার্যক্রমে এগুলো দরকার হবে।
✅ আবেদন লিংক (কমেন্ট বক্স দেখুন)
(দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৬ জুলাই ২০২৫ থেকে নেয়া)
BCS Target 46th
Helpful for BCS prepara
30/06/2025
৪৪তম বিসিএসের ভাইভার রেজাল্ট প্রকাশিত হলো। অভিনন্দন যারা ক্যাডার এবং নন ক্যাডার হয়েছেন। 💕
যারা নিয়মিত মেসেঞ্জার গ্রুপে পড়াশোনা করতে চান, তাঁরা কমেন্ট করুন। ২০ জন মেম্বার নিবো।
29/01/2025
20/08/2024
১৩ বছর পর বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও ফেরা হবে না সাবিতের!
২০০৯-২০১০-এর দিকে। বললেন, ‘তখন তো বিসিএস দিচ্ছি। প্রথমবার দিলাম, ভাইভা পুলিশ ভ্যারিফিকেশন হলো, মেডিক্যালও হলো, তারপরে চাকরি হলো না। আর দ্বিতীয়বার আমাকে ভাইভাতে জিজ্ঞেস করা হলো—এর আগে বিসিএস দিয়েছি কিনা। দিয়েছি বলার পরে হলো না কেন, প্রশ্নে আমি কী উত্তর দেওয়া উচিত বুঝতে পারছিলাম না। আমি বলেছিলাম, কোনও কারণে হয়নি।’
তাহলে এখন তো হলো, কেমন লাগছে জানতে চাইলে সাবিত যেন এক বুক নিশ্বাস নিয়ে বলেন, ‘খুব ভালো।’ ফিরবেন চাকরি করতে, প্রশ্ন করলে সাবিত বলেন তার জীবনের গল্প। তিনি বলেন, ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমি তিতাসে চাকরি পাই ২০১২ সালে। আমাদের সাইট ইন্সপেকশনে যেতে হয়। তেমনই একটা ঘটনায় ঝামেলা শুরু হয়। একদিন আমার সিনিয়রকে আমার সামনে থাপ্পড় দেয় সেই লোক (ঠিকাদার)। ঘটনা গড়ায় তদন্ত পর্যন্ত। আমাদের ডাকা হলো জবানবন্দি নিতে। সেটা করতে ডিজিএমের ঘরে ঢুকে দেখি সেই লোক বসা। তাকে দেখেই আমরা বুঝতে পারি, এটা দিয়ে কিছু হবে না। আমি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশের বাইরে আসার। বুঝতে পারি সম্মান আর সৎভাবে চাকরি করতে পারবো না। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে চলে আসি যুক্তরাষ্ট্রে। এখানে আমি চাকরি করছি। জীবন অনেক দূর চলে গেছে, আর ফেরা হবে না।’
এখন প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে একটা প্রাইভেট ফার্মে কর্মরত আছি, সেটাও আলহামদুলিল্লাহ। বাংলাদেশের কয়জন মানুষ ঠিকমতো জানত যে গত ১৫ বছরে দেশ থেকে শুধু ১১ লাখ কোটি টাকা পাচারই হয়নি, অন্তত ২৫৯ জনকে বিসিএসের ভাইভাতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও গেজেট প্রকাশের সময় বাদ দেওয়া হয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। চিন্তা করতে পারেন কত লাখ মেধাবীকে বাদ দিয়ে শুধু দলকানা দালালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?’
‘আমার প্রফেশনাল ক্যারিয়ার নিয়ে বিন্দুমাত্রও আক্ষেপ নেই। বিসিএস না হলেও আমি এশিয়া প্যাসিফিকের মতো স্বনামধন্য ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছি, তিতাস গ্যাসে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং মেধাক্রমে ছিলাম এক নম্বরে। আমেরিকাতে ফুল-ফান্ডিং নিয়ে উচ্চতর শিক্ষায় আসি। মাস্টার্স শেষে গত ৫ বছরে ৪টি ফেস-টু-ফেস ইন্টারভিউ দিয়ে ৪টি চাকরিই পেয়েছি। সম্প্রতি উপজেলা/কাউন্টি লেভেলে ডেপুটি চিফ অব ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের ইন্টারভিউ দিয়ে এলাম। আক্ষেপ করার কি কোনও কারণ আছে? একটু হয়তো আছে, ১৩ বছর আগে এই চাকরিটা হয়তো আমি চেয়েছিলাম, হয়তো আমার রেমিট্যান্সের বদলে দেশের কাজে মেধা একটু হলেও লাগাতে পারতাম’—বলেন সাবিত।
26/04/2024
আজকে অনুষ্ঠিত িসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের সমাধান। অগ্রদূত সিরিজের বইগুলো থেকে ৮৫ শতাংশ প্রশ্ন সরাসরি কমন।
৪৬ তম বিসিএস কাট মার্ক:
ক্রিটিকাল এনালাইসিস শেষে
একটা সেইফ প্রেডিকশন দিলে,
১২০+ একদম সেইফ,
১১৫+ সেইফ
১১০+ ভাল প্রস্তুতি। লিখিত প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে থাকেন।আসলেও লাভ,না আসলেও লাভ..
26/04/2024
৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারী প্রশ্ন...(সমাধান আসছে...)
৪৬তম বিসিএসে এখন পর্যন্ত আবেদন ২ লক্ষ ৪০ হাজার। আবেদনের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
যারা প্রথমবার বিসিএস দিবেন তাদের জন্য!!
📌📌বিসিএস নিয়ে যা যা জানা প্রয়োজন যারা প্রথমবার বিসিএস দিবেন তাদের জন্যঃ
১. বিসিএস একটা দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা। সার্কুলার থেকে প্রিলি, রিটেন, ভাইভা, নিয়োগ পর্যন্ত ২.৫-৩ বছর সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক টেনশন, হতাশা আসবে, কিন্তু ধৈর্য ধরতে হবে।
২. বিসিএস এর অনেকগুলা ধাপঃপ্রিলি, রিটেন, ভাইভা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভেরিফিকেশন (পুলিশ, এনএসাই, ইউএনও, স্পেশাল ব্রাঞ্চ), গেজেট, পোস্টিং।
♦️♦️ফরম পূরণঃ
১. টেকনিক্যাল ক্যাডার ও বোথ ক্যাডার। যারা শুধুমাত্র টেকনিক্যাল ক্যাডার দিবেন, তাদের চয়েস একটাইঃ বিসিএস(স্বাস্থ্য), রসায়ন, গণিত ইত্যাদি। আর যারা বোথ ক্যাডার দিবেন তারা প্রথমে প্রশাসন, ফরেইন, পুলিশ, ট্যাক্স ইত্যাদি দিবেন, এরপর স্বাস্থ্য/নিজের সাবজেক্ট।
২. ফরম পূরনের সময় স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই দিলে ভাল। না হয় দুই জায়গায় ভেরিফিকেশন হবে। তবে স্থায়ী ঠিকানায় বাড়ি বা জমি থাকতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা পরে পরিবর্তনের সুযোগ নাই।
৩. নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ইত্যাদি এস এস সি সার্টিফিকেট অনুযায়ী দিতে হবে।
৪. স্নাতক লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেই Appeared সার্টিফিকেট দিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা যায়।
♦️♦️প্রিলিমিনারী পরীক্ষাঃ
১. প্রিলিতে সবার জন্য পাস মার্ক/কাট মার্ক একই। অর্থাৎ প্রায় ৩,৫০০০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে যে ১২-১৫ হাজার প্রিলিতে টিকবে আপনাকে এর মধ্যে একজন হতে হবে। এখানে কোন ধরনের কোটা/আলাদা কাট মার্ক এপ্লাই করা হয় না, তাই সেই লেভেলের প্রস্তুতি নিতে হবে।
২. প্রিলি একটি বাছাই পরীক্ষা। এই নাম্বার পরবর্তীতে যোগ হবে না। তাই ১ম হয়ে প্রিলি পাস করা আর ১৫,০০০ তম হয়ে প্রিলি পাস করা একই কথা।
♦️♦️রিটেন পরীক্ষাঃ
১. যারা বোথ ক্যাডারে দিবেন তাদের জন্য পরীক্ষা হল ১১০০ নাম্বারের। আর যারা শুধুমাত্র ট্যাকনিকাল/শুধুমাত্র জেনারেল ক্যাডার তাদের ৯০০ নাম্বারের পরীক্ষা। ট্যাকনিকালদের বাংলা ২য় পত্র ও বিজ্ঞান পরীক্ষার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ট্যাকনিক্যাল বিষয়ে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। বোথ ক্যাডারদের জেনারের ক্যাডারের সব বিষয় সাথে নিজ বিষয়ের ২০০ নম্বরের পরীক্ষা।
২. লিখিত পরীক্ষা পাস নম্বর গড়ে ৫০%। সবাইকে অবশ্যই ৫০% মার্কস পেতে হবে ভাইবা দেওয়ার জন্য। আপনার ক্যাডারে যত সিটই থাকুক আপনি যদি রিটেনে ৫০% মার্কস না পান, তাহলে আপনি রিটেনে ফেল। তবে শুধুমাত্র ৫০% মার্কস ক্যাডার প্রাপ্তি নিশ্চিত করে না। যত বেশি মার্ক পাবেন রিটেনে তত ক্যাডার প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়বে।
৩. রিটেন পরীক্ষায়ও কোন ধরনের কোটা/আলাদা কাট মার্ক এপ্লাই করা হয় না।
৪. কোন পরীক্ষায় ৩০% এর কম পেলে ওই সাবজেক্টের নাম্বার যোগ হবে না।
৫.বিসিএস পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল লিখিত পরীক্ষা।এখানে যে যত বেশি পাবে, তার ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
♦️♦️ভাইভাঃ
১. ভাইভা পরীক্ষা ২০০ নম্বরের, পাস মার্ক ১০০। ভাইভা বোর্ডে ৩ জন পরীক্ষক থাকেন। ১ জন পিএসসির মেম্বার, বাকি দুজন বাইরের এক্সটারনাল।
২. যারা জেনারেল/বোথ ক্যাডারে ভাইভা দিবেন তাদের এক্সটারনাল যে কোন বিষয়ের হতে পারে।
৩. যারা শুধুমাত্র ট্যাকনিক্যাল ক্যাডারে ভাইভা দিবেন, তাদের বোর্ডে সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টের দুইজন এক্সটারনাল থাকবেন। যেমনঃ স্বাস্থ্য দুজন ডাক্তার(যে কোন সাবজেক্টের), গণিতে দুই জন গণিতের শিক্ষক ইত্যাদি।
৪. ভাইভার উপর ক্যাডার প্রাপ্তি নির্ভর করে না। কারণ ভাইভাতে বেশিরভাইগই পাস করে এবং এভারেজ একটা নাম্বার পায়। অল্প কিছু পরীক্ষার্থী খুব ভাল ভাইভা মার্কস পান। নিজেকে সাধারণ ভাবুন। ধরে নিন এভারেজ ভাইভা দিবেন, কিন্তু অসাধারন রিটেন দেওয়ার প্রস্তুতি নিন।
৫. কোন ধরনের তদবির থেকে দূরে থাকুন। বিসিএস ই একমাত্র চাকুরি যা তদবির ছাড়া পাওয়া যায়।
৬. রিটেন ও ভাইভার প্রাপ্ত নাম্বার যোগ করে কোটা এপ্লাই করে চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষাঃ
চূড়ান্ত ফলাফলের কিছুদিন পর অনুষ্টিত হয়। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ /ইন্সস্টিটিউট এ হয়। ওজন, উচ্চতা, প্রশ্রাব, চক্ষু ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সাধারণত কেউ বাদ পড়ে না।
♦️♦️ভেরিফিকেশনঃ
১. পুলিশ, এনএস আই, ইউ এন ও, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইত্যাদি সংস্থা ভেরিফিকেশন করে। এখানে দেখা হয় কোন মামলা আছে কিনা, রাজনৈতিক পরিচয় নিজের এবং আত্মিয়স্বজনের, স্থায়ী ঠিকানা ঠিক আছে কিনা, স্কুল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় এ ও ভেরিফিকেশন করা হয়।
২. মামলা থাকলে ভেরিফিকশনে বাদ যাবে।
৩. বিরোধী রাজনৈতিক দলের কেউ হলে নিজে কিংবা ফ্যামিলি তাহলে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা। এগুলা আগে থেকেই যে কোন ভাবে ম্যানেজ করতে হবে।
৪. কোটাধারীদের কোটা সংক্রান্ত কাগজপত্র খুব ভালভাবে যাচাই, বাচাই করা হয়।
৫. অনেকে মনে করেন ট্যাকনিকাল (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ইঞ্জিনিয়ারিং) ক্যাডারের জন্য ভেরিফিকেশন সহজ। আসলে তা নয়। একই ব্যক্তিই এক এলাকায় সব ক্যাডারের ভেরিফিকেশন করেন, তাই সব ক্যাডারে সমানভাবেই সব যাচাই বাচাই করা হয়।
♦️♦️গেজেটঃ
সব রিপোর্ট ওকে থাকলে তারপর সরকারী গেজেটে নিজের নাম দেখা যাবে।
♦️♦️জয়েনিংঃ
১. গেজেট দেওয়ার ১৫-৩০ দিনের মধ্যে নিজ মন্ত্রণালয়ে জয়েন করা লাগে।
২. মন্ত্রণালয়ে জয়েনিং এর পর কর্মস্থলে জয়েনিং এর জন্য আলাদা গেজেট প্রকাশিত হয়। এটা মন্ত্রণালয়ে জয়েনিং এর ৭ দিনের মধ্যে হয় সাধারণত। এতগুলা প্রসিডিউর সফলভাবে শেষ করতে পারলে তবেই আপনি বিসিএস ক্যাডার। গুরুত্বপূর্ণ হল রিটেন পরীক্ষা, রিটেনে ভাল নাম্বার পেলেন তো আপনি ক্যাডার হওয়ার পথে অনেকদূর এগিয়ে গেলেন। এরপর যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল ভেরিফিকেশন। মামলা যদি থেকে থাকে যে কোন ভাবে মামলা তুলে নেওয়ার/সমাধান করার চেষ্টা করুন। রাজনৈতিক বিরোধ মিটমাট করুন। ভেরিফিকেশন শুরু হওয়ার আগে প্রতিবেশী /এলাকাবাসীকে /চেয়ারম্যান-মেম্বার এদের হাতে রাখুন। তো স্বপ্নের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য আজকে থেকেই শুরু করুন প্রস্তুতি।শুভকামনা সবার জন্য।
©
৪৩তম বিসিএসে আরো যুক্ত হচ্ছে ৪০৪টি ক্যাডার পদ। বিস্তারিত কমেন্টে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Dhaka