07/05/2021
বিষয়:- বাংলা ২য়
টপিক:- দ্বিরুক্ত শব্দ
#কোনটা_কি_অর্থে_ব্যবহৃত:-
১. আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।
[সামান্য অর্থে]
ব্যাখা:- জ্বর জ্বর বোধ করছি মানে, হালকা জ্বর অনুভূত হচ্ছে।
২. সে বাড়ি বাড়ি হেটে চাঁদা তুলছে।
[ধারাবাহিকতা অর্থে]
ব্যাখা:- এক বাড়ির পর আরেক বাড়িতে গিয়ে চাঁদা তুলছে [সিরিয়ালি]
৩. আমার সঙ্গী সাথী কেউ নাই।
[অনুরুপ কিছু]
ব্যাখা:- আমার সঙ্গী সাথীর মত কিছু নেই। অর্থাৎ, অনুরুপ কিছু নেই।
৪. সে স্যার স্যার বলে কাঁদছে।
[আগ্রহ অর্থে]
ব্যাখা:- স্যারের প্রতি আগ্রহ বুঝাচ্ছে।
৫. ভাল ভাল আম নিয়ে এসো।
[আধিক্য অর্থে]
ব্যাখা:- আমরা যখন দোকানে গিয়ে বলি, "ভাল ভাল আম দিন", তার মানে বেশি বেশি করে ভাল আম দিন বুঝায়।
৬. নরম নরম হাতে গরম গরম জিলাপি।
[তীব্রতা/সঠিকতা অর্থে]
ব্যাখা:- নরম নরম, গরম গরম → এগুলা দ্বারা কোনো বস্তুর তীব্রতা বা একজাক্টলি কেমন, সেটা বুঝায়।
৭. মেয়েটার উড়ু উড়ু ভাব।
[সামান্য অর্থে]
ব্যাখা:- অর্থাৎ, মেয়েটা সামান্যই উড়ছে। এখনই লাগাম ধরতে হবে।
৮. দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এল।
[স্বল্পকাল স্থায়ী বুঝাতে]
ব্যাখা:- দেখতে দেখতে - মানে চোখের পলকে বা খুব দ্রুত। অর্থাৎ, স্বল্পকাল স্থায়ী।
৯. ডেকে ডেকে হয়রান।
[পৌনঃপুনিকতা বুঝাতে]
ব্যাখা:- পৌনঃপুনিকতা মানে বারবার। "ডেকে ডেকে" মানে, বারবার ডাকা বুঝাচ্ছে।
১০. লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান।
[আধিক্য বুঝাতে]
ব্যাখা:- লোকটা যে কত বেশি শয়তান, সেটা বুঝাতে দ্বিরুক্ত।
১১. শিশুটিকে চোখে চোখে রেখো।
[সতর্কতা অর্থে]
ব্যাখা:- চোখে চোখে রাখা- মানে দেখেশুনে রাখা। অর্থাৎ, সতর্কতা বুঝাচ্ছে।
১২. শিশুটি থেকে থেকে কাঁদছে।
[কালের বিস্তার/সময়ের ব্যবধান অর্থে]
ব্যাখা:- থেকে থেকে কাঁদা - মানে বিরতি দিয়ে দিয়ে কাঁদা। অর্থাৎ, এখানে সময়ের ব্যবধান বা কালের বিস্তার বুঝাচ্ছে।
#দ্বিরুক্ত_শব্দের_গঠন:-
দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের দুইটি উপায় আছে।
ক) অনুরুপ শব্দযোগে:-
যেমন- চোর চোর, মিট মিট, কলম কলম, রিফাত রিফাত, তুলি তুলি, ভাল ভাল
অর্থাৎ, একই শব্দ দুইবার হবে। শব্দের কোনো চেঞ্জ না করেই রিপিট হবে।
খ) সামান্য পরিবর্তন করে/যুগ্মরীতিতে:-
যেমন-
১. আদি স্বরের পরিবর্তন করে:-
মিটমাট [মি → মা]
২. অন্ত্য স্বরের পরিবর্তন করে:-
হাতাহাতি [তা → তি]
৩. ব্যঞ্জনের পরিবর্তন করে:-
কলম-টলম [ক → ট]
চোর-টোর [চ → ট]
ভয়-টয় [ভ → ট]
৪. সমার্থক শব্দযোগে:-
চোর - ডাকাত
ভয় - ডর
৫. বিপরীতার্থক শব্দযোগে:-
জন্ম - মৃত্যু
আদান - প্রদান
ছোট - বড়
৬. ভিন্নার্থক শব্দযোগে:-
তালা - চাবি
ডাল - ভাত
🔎 ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
অনুকার দ্বিরুক্তি
অনুকার অব্যয় 🔍
জিনিস একটাই। কিন্তু নাম ৪ টা। এগুলা তৈরি হয় ধ্বনি থেকে।
উদাহরণ:-
১| মানুষ : হি হি, ভেউ ভেউ
২| জীবজন্তু : কা কা, ম্যা ম্যা, ঘেউ ঘেউ
৩| বস্তু : মড় মড় [গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ]
হু হু [বাতাস প্রবাহের শব্দ]
৪| অনুভূতি : ছম ছম [ভয়], খাঁ খাঁ [শূন্যতা]
#কোনটা_কোন_পদ:-
১| বৃষ্টির ঝমঝমানি আমার ভালো লাগে না।
[ঝমঝমানি → বিশেষ্য]
সূত্র:- শব্দের শেষে "আনি" থাকলে → বিশেষ্য
২| কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
[কলকলিয়ে → ক্রিয়া]
সূত্র:- শব্দের শেষে "ইয়া", "ইবে", "ইতে", "ইল" থাকলে → ক্রিয়া
৩| সে ছল ছল চোখে তাকিয়ে আছে।
[ছল ছল → এখানে বিশেষণ]
সূত্র:- কিরকম চোখে তাকিয়ে আছে? ছলছল চোখে। অর্থাৎ, অবস্থা বুঝাচ্ছে। এজন্য বিশেষণ।
৪| তার চোখ ছলছল করছে।
[ছলছল → এখানে ক্রিয়া বিশেষণ]
সূত্র:- "ছলছল" একটা বিশেষণ। আর "করছে" একটা ক্রিয়া। পাশাপাশি দুটো বসলে হয়ে যায়, ক্রিয়া বিশেষণ।