11/06/2022
হাদীসটি যতবার পড়ি ততবারই মুগ্ধ হই!
উম্মুল মু'মিনীন আ'ইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
"আমি যখন আমার সে ঘরে প্রবেশ করতাম যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুয়ে আছেন, তখন আমি আমার বড় চাদর খুলে রাখতাম আর ভাবতাম ইনি হলেন আমার স্বামী আর অপরজন (দ্বিতীয় কবরে) আমার পিতা (আবু বকর আস-সিদ্দীক্ব)।
পরে যখন 'উমার (রাঃ) কে এই ঘরে দাফন করা হল, মহান আল্লাহর কসম – আমি কখনো পুরো শরীর কাপড়ে না ঢেকে সেখানে প্রবেশ করি নি; 'উমার (রাঃ) কে লজ্জা করার কারণে।"
[মুসনাদে আহমাদ, মিশকাতঃ১৬৭৪]
গায়রে মাহরাম ব্যক্তির কবরের সামনেও তিনি পর্দা করতেন! সুব'হানআল্লাহ!
কুরআনে নিকাবের ব্যাপারে আয়াত আছে কিনা, সহীহ হাদীস আছে কিনা – এইসব যুক্তি-তর্ক আমার কাছে স্রেফ অজুহাত মনেহয়।
পর্দা আসে লজ্জাশীলতা থেকে। আর লজ্জা হল সভ্য জীবনের অপরিহার্য অংশ। যার লজ্জা নেই, সে অনেক কিছুই করতে পারে।
এই গ্ল্যামার খুব ক্ষনস্থায়ী, খুব বেশী ক্ষনস্থায়ী।
আর ক'টা বছর পর যখন বিদেশী উন্নতমানের ফাউন্ডেশন, প্যানকেক, ফেসপাউডারেও বার্ধক্য আড়াল করা সম্ভব হবে না, তখন মুখের বলিরেখা, মেসতা আড়াল করতে পর্দার আশ্রয় নিলেও এর আদতেই কোন লাভ নেই।
আজ আরেকবার সূরা আন-নূরের ৩১ নাম্বার আয়াতটা হয়ে উঠুক আমাদের চিন্তা খোরাক।
ওয়ামা তাওফিক্বী ইল্লা বিল্লাহ।
(মুহাম্মদ জাভেদ কায়সার রাহিঃ এর টাইমলাইন থেকে)
আমার মন্তব্য :অনেকে চেহারা দেখানো যায়েজ বলে, চেহারা দেখানো কে কিছু মনে করে না। আমি বলব না, আপনার পর্দা হয় নি। তবে আপনার চেহারা দেখানোর ফলে কেউ ফিতনায় পড়লে তার জন্য কিন্তু আপনার দায়ভার এড়াতে পারবেন না। যদি চেহারা দেখিয়ে পর্দা করতাম, তাহলে পরিবারে আমার পর্দাশীল বোনেরা খুটা শুনতেন না।
অনেকে বলে, আমি আমার কাজিনদের সঙ্গে ছোট থেকে চলে আসছি। তাদের সামনে মুখ ঢাকতে কেমন যেন লাগে।
আশ্চর্য!!!! যেসব বোনেরা মুখ ঢেকে পর্দা করে তাদের ও কিন্তু কাজিন আছে।সুতরাং এটা আপনার দুর্বলতা।
যার ইমানের স্তর যত মজবুত, আমার মনে হয় তার পর্দার দিকে মনোযোগ তত বেশি।
তাই মুখ খোলা রাখা জায়েজ তা নিয়ে ফ্যান্টাসিতে না ভোগে, এই ফিতনার যুগে যেখানে বৃষ্টির মতো একটার পর একটা ফিতনা চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে, সেখানে আপনি মুখ ঢেকে পর্দা করার চেষ্টা করুন
©