19/09/2026
পেস্কেল ২০২৬ এর বিস্তারিত--
কার্যকরের তারিখ: এই আদেশ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর গণ্য হবে।
১. ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন (মূল বেতন ও নিট পেনশন):
~~১ জুলাই ২০২৬ – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: নতুন স্কেলে স্কেলভিত্তিক বর্ধিত অংশের ৪০% (৯ম ও তদূর্ধ্ব) এবং ৫০% (১০ম–২০তম) প্রদান করা হবে।
~~১ জানুয়ারি ২০২৭ – ৩০ জুন ২০২৭: বর্ধিত অংশের ৭০% (৯ম ও তদূর্ধ্ব) এবং ৭৫% (১০ম–২০তম) প্রদান করা হবে।
~~১ জুলাই ২০২৭ থেকে: শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন ও নিট পেনশন প্রদেয় হবে।
~~বকেয়া প্রদান: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়সীমার বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
২. জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ (মূল স্কেল পরিবর্তন)
আগের বেতনস্কেল (২০১৫) দ্বিগুণ করে ২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
~~১ম গ্রেড: ১৫৬,০০০ টাকা (নির্ধারিত) (আগে ছিল ৭৮,০০০ টাকা)।
~~১০ম গ্রেড: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা (আগে ছিল ১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০ টাকা)।
~~২০তম গ্রেড: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা (আগে ছিল ৮,২৫০ – ২০,০১০ টাকা)।
*বিশেষ পদমর্যাদা: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১৭২,০০০ টাকা এবং সিনিয়র সচিবদের ১৬৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা (টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড)
**১ম উচ্চতর গ্রেড: একই পদে ৮ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে ৯তম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন।
**২য় উচ্চতর গ্রেড: প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে ৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে ৭ম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড মিলবে।
**ব্লকড পদ: যেসব পদে পদোন্নতি নেই, সেসব পদে ৩টি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে (৮ বছর, ৬ বছর এবং পরবর্তী ৮ বছর পূর্তিতে)।
**সীমাবদ্ধতা: আর্থিক এই সুবিধা কেবল ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে (৩য় বা তদূর্ধ্ব গ্রেডে এই সুবিধা কার্যকর নয়)।
৪. প্রথম নিয়োগ প্রাপ্তদের সুবিধা
**ক্যাডার পদ: বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত অগ্রিম বেতনবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) প্রদান করা হবে।
**বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিবিএস, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, ফিজিক্যাল প্ল্যানিং বা আইনে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের পদ অনুযায়ী ১টি থেকে ২ টি অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হবে।
৫. অবসর ও পেনশন সুবিধা
**পেনশন পুনর্নির্ধারণ: বিদ্যমান পেনশনভোগীদের জন্য নিট পেনশনের ওপর স্ল্যাবভিত্তিক ৫৫% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
**ল্যাম্পগ্রান্ট ও এলপিআর: আগের মতোই ১২ মাসের পূর্ণ গড় বেতনে অবসর-উত্তর ছুটি (LPR) এবং ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।
৬. বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা
**বাড়ি ভাড়া ভাতা (১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে প্রদেয়):
**ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ: স্কেলভেদে মূল বেতনের ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত।
**অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও নির্ধারিত পৌরসভা: ৩৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত।
**অন্যান্য এলাকা: ২৫% থেকে ৪৫% পর্যন্ত।
**মেডিকেল ভাতা: ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ৩,০০০ টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪,০০০ টাকা (অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বয়সের ওপর ভিত্তি করে ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত)।
অন্যান্য নির্দিষ্ট ভাতা:
* নববর্ষ ভাতা: মূল বেতনের ১৫%।
* টিফিন ভাতা (১১শ-২০তম গ্রেড): ৫০০ টাকা/মাসিক।
* যাতায়াত ভাতা (১১শ-২০তম গ্রেড, সিটি কর্পোরেশন): ৬০০ টাকা/মাসিক।
* মোবাইল ভাতা: ৫ম ও তদূর্ধ্ব ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ-২০তম গ্রেডের জন্য ১৫০ টাকা।
* শিক্ষা সহায়ক ভাতা: সন্তান প্রতি ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ ২টি সন্তানের জন্য ১,০০০ টাকা)।
* বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান ভাতা: প্রতি সন্তান ৩,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ ২টি সন্তান)।
* পাহাড়ি / দুর্গম এলাকা ভাতা: মূল বেতনের ২০% (সর্বোচ্চ ৫,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা)।