02/08/2025
পৃথিবীর সবচেয়ে দামী পদার্থের কথা বললে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে হীরা, স্বর্ণ কিংবা প্লাটিনামের মতো নাম। কিন্তু বিজ্ঞানের জগতে এদের সবাইকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে দামী পদার্থ হিসেবে উঠে আসে এক ভয়ংকর, অথচ বিস্ময়কর নাম—অ্যান্টিম্যাটার।
অ্যান্টিম্যাটার এমন এক পদার্থ, যার প্রতিটি কণা আমাদের পরিচিত জগতের কণাগুলোর বিপরীত—অর্থাৎ, ইলেকট্রনের বিপরীতে পজিট্রন, প্রোটনের বিপরীতে অ্যান্টিপ্রোটন। এরা একে অপরের সংস্পর্শে এলেই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে নির্গত হয় বিশাল পরিমাণ শক্তি। এই ধ্বংসপ্রক্রিয়াকে বলে "annihilation", এবং এখানেই অ্যান্টিম্যাটারের ভয়াবহ শক্তি ও মূল্য লুকিয়ে আছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা অ্যান্টিম্যাটার কৃত্রিমভাবে উৎপাদন করতে পারেন, কিন্তু তা অবিশ্বাস্যরকম কঠিন ও ব্যয়বহুল। অ্যান্টিম্যাটার উৎপাদনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পার্টিকেল অ্যাক্সেলারেটর, যেমন CERN-এর Large Hadron Collider ব্যবহার করা হয়। একক পজিট্রন বা অ্যান্টিপ্রোটন তৈরি করতে প্রতি কণায় লাগে বিপুল পরিমাণ শক্তি ও সময়, এবং উৎপাদনের পর তা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ চৌম্বক ফাঁদ ও উচ্চ ভ্যাকুয়ামযুক্ত চেম্বার। কারণ, অ্যান্টিম্যাটার যেকোনো সাধারণ পদার্থের সংস্পর্শে এলেই তা সাথে সাথে ধ্বংস হয়ে যায়।
ন্যাসার হিসাব অনুযায়ী, ১ গ্রাম অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করতে খরচ হতে পারে প্রায় ৬২.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এককভাবে পৃথিবীর মোট জিডিপি থেকেও বেশি। ২০০৬ সালে Fermilab মাত্র ১০ বিলিয়ন অ্যান্টিপ্রোটন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, যার মোট ভর ছিল ১ ন্যানোগ্রামেরও কম। এ থেকে বোঝা যায়, ১ গ্রাম অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করা কতোটা কল্পনাতীত।
অ্যান্টিম্যাটারের এই বিশাল দামের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে—প্রথমত, এটি উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও শক্তির পরিমাণ বিপুল। দ্বিতীয়ত, এটি অত্যন্ত অস্থির ও সংরক্ষণে কঠিন। তৃতীয়ত, অ্যান্টিম্যাটার এখনও শুধুই গবেষণার পর্যায়ে, কোনো ব্যবহারিক প্রয়োগ নেই। ফলে এর প্রাপ্তি অত্যন্ত সীমিত এবং একান্ত গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ।
তবে এই পদার্থের শক্তি প্রশ্নাতীত। ১ গ্রাম অ্যান্টিম্যাটার ও ১ গ্রাম ম্যাটার একত্রে annihilate হলে যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হবে, তা প্রায় ৯×১০¹³ জুল, যা হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার শক্তির দ্বিগুণেরও বেশি। এই শক্তি দিয়ে গোটা একটি শহর ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।
অ্যান্টিম্যাটার নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, ভবিষ্যতে এটি যদি কার্যকরভাবে উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়, তবে তা হয়ে উঠতে পারে মহাকাশযানের জ্বালানি, ক্যান্সার চিকিৎসার অস্ত্র, কিংবা অন্যকোনো বৈপ্লবিক প্রযুক্তির ভিত্তি। তবে এই ভবিষ্যৎ কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ এর বিপদের দিকটিও কম নয়।
অ্যান্টিম্যাটার তাই বিজ্ঞানীদের কাছে যেমন এক স্বপ্নময় সম্ভাবনা, তেমনি এক দুঃস্বপ্নের মতো বাস্তবতা। দামের দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে মহামূল্য সম্পদ, আর শক্তির দিক থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক। বস্তু জগতের এই উল্টোপিঠ আমাদের শেখায়—বিজ্ঞানের শক্তি সীমাহীন, কিন্তু তা ব্যবহারের দায়িত্বও ঠিক ততটাই গুরুতর।
01/08/2025
মব জাস্টিসের ফসল চলমান ৪৬ বিসিএসের গণিতের প্রশ্ন!
একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধার যাচাই ঘটে তার নিখুঁত গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং ইংরেজির দক্ষতার ( রিডিং, টাইটিং, লিসেনিং, এবং স্পিকিং) উপর।
আর্টস, কমার্সের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নাইনের বই থেকে বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার রিটেন প্রশ্ন হয়েছে!! তাদের যুক্তি ছিল, গণিত প্রশ্ন কঠিন করলে সাইন্সের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকে!!
এবার আসুন, সাইন্সের শিক্ষার্থীরাও যদি দাবি করে, বাংলা, ইংরেজির সাহিত্য অংশ বাদ দিতে হবে কারন নাইন টেনের সিলেবাসে এসব নাই! এটা মানবে পিএসসি!
আসলে প্রকৃত মেধাবী খুঁজতে হলে প্রশ্ন যথাসাধ্য কঠিন করতে হবে। সেই কঠিন প্রশ্নের মধ্যে সর্বাধিক নম্বর প্রাপ্তদের বেছে নেওয়া পিএসসির আসল কাজ। অথচ, বিসিএসের মতো পরীক্ষার জন্য এভাবে নাইনের মডেল টেস্টের প্রশ্ন দেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে পিএসসির প্রশ্নের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা, সমালোচনার সুযোগ করে দেওয়া!
30/07/2025
সারাবছর অল্প অল্প না পড়ে, পরিক্ষার আগে ফাটিয়ে পড়তে গেলে দেখবেন নিজেই ফেটে গেছেন এভাবে। 🙂
25/06/2025
মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। দেশের অন্যতম কঠিন পেশাগত ডিগ্রি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সিতে (CA) নতুন এক ইতিহাস লিখেছেন তিনি। মাত্র ১ বছর ৬ মাসে সম্পন্ন করেছেন এই দীর্ঘ ও জটিল কোর্সটি। তার এই অর্জন শুধু প্রশংসনীয় নয়, বরং বিস্ময়কর। আর সেই স্বীকৃতি হিসেবে পাচ্ছেন 'ICAB Gold Medal'—যা শুধুমাত্র দেশের সবচেয়ে দক্ষ এবং সময়ানুগ পারফর্মারদেরই প্রদান করা হয়।
CA, অর্থাৎ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস কোর্স, সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় নেয়। শত শত শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন লেভেল পার করার চেষ্টায় থাকেন। রিয়াজের পথটাও সহজ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস, সেশনজট, আর্থিক চ্যালেঞ্জ—সবকিছুর মাঝেই তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা ও প্রস্তুতি। প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে তিনি পড়তেন, পরিকল্পনা করতেন সপ্তাহজুড়ে কী কী পড়তে হবে। কঠিন বিষয়গুলো তিনি ভাগ করে নিয়েছিলেন ছোট ছোট ইউনিটে। সেই অনুযায়ী দিন, সপ্তাহ এবং মাস ভিত্তিক পরিকল্পনায় এগিয়ে গেছেন।
রিয়াজের এই রেকর্ড গড়ার আগে সর্বনিম্ন সময়ের CA হবার কৃতিত্ব ছিল এহসানুল হক নামের একজনের, যিনি ১ বছর ৯ মাসে কোর্সটি সম্পন্ন করেছিলেন। সেই রেকর্ড এখন ভেঙে দিয়েছে রিয়াজের অর্জন। শুধু সময় কম নয়, বরং পারফরম্যান্সেও ছিল নিখুঁত শৈল্পিকতা। অ্যাডভান্সড লেভেলের তিনটি বিষয়েই তিনি প্রথম চেষ্টাতেই উত্তীর্ণ হয়েছেন—যেখানে ব্যর্থতার হার সবচেয়ে বেশি।
তার সাফল্য এসেছে নিঃশব্দ অধ্যবসায় থেকে। বন্ধুদের আড্ডা, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা অবকাশ—সবকিছু ছেঁটে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক নির্ভুল রুটিনে। তার প্রতিদিনের জীবনে ছিল শুধু অধ্যয়ন, অনুশীলন এবং আত্মবিশ্লেষণ। কোথায় পিছিয়ে আছেন, কীভাবে উন্নতি করতে হবে—এই চর্চার মধ্য দিয়েই প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি।
CA শেষ করে এখন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি অডিট ফার্মে কাজ করছেন রিয়াজ। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। তার স্বপ্ন আরও বড়—আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি প্রতিভার প্রতিনিধিত্ব করা, বিশ্বমঞ্চে দক্ষতার ছাপ রেখে আসা।
রিয়াজ উদ্দিনের এই পথচলা আমাদের শেখায়—স্বপ্ন যদি তীব্র হয়, পরিকল্পনা যদি নিখুঁত হয়, আর নিষ্ঠা যদি অবিচল থাকে, তাহলে অসম্ভব কিছুই নয়। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সির মতো কঠিন গন্তব্যেও পৌঁছানো যায় আগেই—সময়ের আগেই।
- পাবলিকিয়ান
08/08/2024
খু্বই আশ্চর্যের ব্যাপার! কোন ট্রাফিক ট্রেনিং ছাড়াই ছাত্ররা যেভাবে দায়িত্ব পালন করছে❤️ তা দেখে ট্রেনিংপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশদের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠবেই!!!
28/05/2024
On May 27, 2024, I received my second accomplishment, "𝗜𝗻𝗳𝗼𝗿𝗺𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻 𝗦𝗲𝗰𝘂𝗿𝗶𝘁𝘆 𝗣𝗿𝗼𝗳𝗲𝘀𝘀𝗶𝗼𝗻𝗮𝗹 𝗖𝗲𝗿𝘁𝗶𝗳𝗶𝗰𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻," from the Institute of Management, Technology & Finance, Portugal.
18/04/2024
৪৩তম বিসিএসে বিজ্ঞানের প্রার্থীরাই সবচেয়ে এগিয়ে (৬৬%), এরপর মানবিকের প্রার্থী (২৪%), ব্যবসায় শিক্ষার প্রার্থী (৮.১৮%), অন্যান্য ২ শতাংশের কিছু বেশি।
সূত্র: পিএসসি (c)
10/04/2024
ঈদ মোবারক🌙
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।