05/09/2025
হালকা বেগুনি রঙের স্নিগ্ধ ফুলগুলোকে কেনো ‘বিউটিফুল ব্লু ডেভিল’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিলো? কেনোই বা এগুলো হয়ে উঠেছিল ইংরেজ প্রশাসনের মাথা ব্যথার কারণ?
বর্তমানে বাংলাদেশের খাল, বিল, নদী কিংবা জলাশয়ে সবুজ রঙের যেসব কচুরিপানা ও হালকা বেগুনি রঙের কচুরি ফুল দেখা যায় প্রায় দেড়শ বছর আগেও এদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না বাংলায়। এটি মূলত আমাজন জঙ্গলের জলাশয়ে থাকা একটি উদ্ভিদ। তবে কিভাবে আমাজন হতে বাংলায় এই উদ্ভিদের আগমন ঘটে তা নিয়ে নানা মতবাদ আছে। বাংলাপিডিয়া অনুসারে ১৮শ শতকের শেষভাগে (১৮৮৪ সাল) দক্ষিণ আমেরিকার দেশ (ব্রাজিল) থেকে জর্জ মরগান নামের একজন স্কটিশ ব্যবসায়ী অর্কিড সদৃশ হালকা বেগুনি রঙের ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমাজন থেকে বাংলায় এই কচুরিপানা নিয়ে আসেন। তবে আরেক গবেষণা অনুযায়ী, এই কচুরিপানা এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, এনেছিলেন নারায়ণগঞ্জের একজন পাট ব্যবসায়ী। আবার কলকাতা বোটানিক্যাল গার্ডেনে বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৮৯০ দশকের আশেপাশের কোনো সময়ে কচুরিপানার আগমন ঘটে বাংলায়।
উপযুক্ত পরিবেশ পেলে খুবই সহনশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল এই উদ্ভিদ মাত্র ৫০ দিনে একটি উদ্ভিদ থেকে তিন হাজারের বেশি সংখ্যায় বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ১৯২০ সালের মধ্যে বাংলার প্রতিটি নদী, নালা, খাল, বিল কচুরিপানায় ছেয়ে যায় এবং দুর্দশা ডেকে আনে কৃষি খাতে। যেটি পূর্ব বাংলার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠে। কারণ সেসময় বাণিজ্যের প্রধান রুট ছিল নদীপথ ও জলাশয়। কচুরিপানার কারণে বাণিজ্যে যাতায়াত ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। এছাড়াও কচুরিপানা পচে বিষাক্ত গ্যাস পানিতে মিশে যেতো এবং প্রচুর পরিমাণে জলজ উদ্ভিদ, মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যেত। জেলেরা কচুরিপানার জন্য জাল ফেলতে পারত না। মানুষের জন্যও এই পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে একসময়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা এবং বিভিন্ন পানি বাহিত রোগের কারণও কচুরিপানা। ম্যালেরিয়া রোগের জন্য দায়ী এনোফেলিস মশার আবাসস্থল ছিল এই কচুরিপানা, যার কারণে বঙ্গদেশে ম্যালেরিয়া প্রকোপের জন্যও পরোক্ষভাবে কচুরিপানাকে দায়ী করা হয়। মনে করা হয় এই অঞ্চলে মহাদুর্ভিক্ষে ৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর পেছনে কচুরিপানার অবদান কম নয়। এসব কারণে তখন কচুরিপানাকে ‘বিউটিফুল ব্লু ডেভিল’ এবং ‘বেঙ্গল টেরর’ আখ্যা দেয়া হয়েছিল।
এরপর অর্থনীতি বাঁচাতে শখের বশে নিয়ে আসা কচুরিপানা দমনের জন্য উঠে পড়ে লাগেন তৎকালীন ইংরেজ প্রশাসন। ১৯১৬ সালে ওয়াটার হায়াসিন্থ কমিটির সেক্রেটারি কেনেথ ম্যাকলিন ঢাকা এগ্রিকালচারাল ফার্মে কচুরিপানার রাসায়নিক উপাদানের উপর গবেষণা করেন এবং দেখতে পান এতে উচ্চমাত্রার পটাশ, নাইট্রোজেন, এবং ফসফরিক এসিড রয়েছে। তখন বাণিজ্যিক ভাবে কচুরিপানাকে জৈব সার, পশু খাদ্য, ও রাসায়নিক উপাদান তৈরিতে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্ববাজারে পটাশ সংকট মিটিয়েছিলো কচুরিপানা। তারপরও কচুরিপানা নিধন সম্ভব হলো না। তাই, ১৯২১ সালে তৈরি হয় কচুরিপানা নির্মূল কমিটি। কমিটি কচুরিপানার উপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেন। তারপরও ঠেকানো গেল না কচুরিপানাকে। ১৯৩৬ সালে ‘কচুরিপানা বিধি’ জারি করা হয়। বিধি অনুসারে নিজ নিজ জমি বা এলাকা থেকে কচুরিপানা নিষিদ্ধ করা হয় এবং কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে সকলের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়। এমনকি ১৯৩৭ সালে নির্বাচনের রাজনৈতিক দল গুলো পর্যন্ত বাংলাকে কচুরিপানা মুক্ত করার অঙ্গীকার দেয়। নির্বাচনের পর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কচুরিপানা নিধন কর্মসূচি হাতে নেন এবং ১৯৩৯ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তিনি ‘কচুরিপানা সপ্তাহ’ পালন করেন। এভাবে কচুরিপানা ১৯৪৭ সালের দিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
যে কচুরিপানার নিধনে দেড়শ বছর আগে মানুষ উঠে পড়ে লেগেছিল আজ তা শাপে বরদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে কচুরিপানা থেকে বায়োমাস তৈরি করে ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে বায়োফার্টিলাইজার প্রস্তুত করা হয়। কচুরিপানায় প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকায় এটি বায়োগ্যাস উৎপাদনেও ব্যবহার হয়। এছাড়াও হাওর অঞ্চল গুলো তে কচুরিপানা চাষ করা হয়, এগুলো হাওরের ঢেউ প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে এবং ভিটেমাটি রক্ষা করে। কচুরিপানা পাতা আর মূলের মাঝে ফাঁপা কাণ্ডসদৃশ অংশটি দূষিত পানি থেকে ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, সীসা এবং পারদসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুসমূহ শোষণ করে নিতে পারে যা দূষিত পানিকে দূষণমুক্ত করছে। গ্রামীণ বাংলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পেও বিস্তর অবদান রাখছে কচুরিপানা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পরিবেশ বান্ধব, দৃষ্টি নন্দন ও প্রসাধনী পণ্য সমূহ বিদেশে রপ্তানি হয়। সামগ্রিকভাবে এটি বর্তমানে অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে।
Team Science Bee
30/06/2025
দুইটি দ্বীপ একে অপরের খুব কাছাকাছি, মাত্র ৫ কিলোমিটার সমুদ্র দ্বারা পৃথক। শীতকালে, জমে যাওয়া পানির উপর দিয়ে হেঁটে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যাওয়া যায়।
ধরুন আপনি সকাল ১০টা সময় যাত্রা শুরু করলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টায় পৌঁছাবেন বলে আশা করছেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ঘড়িতে দেখা যায় একটি অদ্ভুত সময়।
এই দ্বীপদ্বয় আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার দুই পাশে অবস্থিত, এবং তাদের মধ্যে সময়ের পার্থক্য ২২ ঘণ্টা। এই অল্প দূরত্ব হাঁটলেই আপনি কার্যত এক দিন পেছনে বা সামনে চলে যান।
এই সুন্দর দ্বীপগুলো আমেরিকা ও রাশিয়ার মাঝে অবস্থিত। এদের নাম যথাক্রমে "লিটল ডায়োমিড দ্বীপ – গতকাল" এবং "বিগ ডায়োমিড দ্বীপ – আগামীকাল"।
(Collected)
20/06/2025
Brendon Grimshaw নামক একজন মহান প্রকৃতিপ্রেমী "A Grain of Sand" নামে একটি বই ১৯৯৬ সালে প্রকাশ করেন।
বিষয়বস্তু: বইটিতে তিনি সেশেলসের একটি পরিত্যক্ত দ্বীপকে কীভাবে ধীরে ধীরে একটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর স্বর্গে রূপান্তর করেছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
🌴 মূল ঘটনা: ব্রেন্ডন গ্রিমশোর জীবনকথা:
🔸 ১৯৬২ সালে তিনি সেশেলসের মোয়েন আইল্যান্ড (Moyenne Island) মাত্র ১৩,০০০ ডলারে কিনে নেন।
🔸 দ্বীপটি আগে ৫০ বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল।
🔸 স্থানীয় সঙ্গী René Lafortune-এর সহায়তায় তিনি দ্বীপে বাস শুরু করেন।
🔸 তাঁরা নিজের হাতে ১৬,০০০ গাছ 🌳 লাগান, ৫ কিলোমিটার রাস্তা 🛣️ বানান, প্রায় ২০০০ পাখি পুনর্বাসিত করেন 🐦, শতাধিক Aldabra giant tortoise পুনরুৎ্থান করেন 🐢
💰 ৫০ মিলিয়ন ডলারের অফার:
এক সৌদি রাজপুত্র তাঁর কাছে দ্বীপটি কেনার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার অফার করেন। তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন এই বলে: “আমি চাই না এটা ধনীদের অবকাশ যাপনের জায়গা হোক। আমি চাই এটা মানুষ ও প্রাণীদের জন্য একটি স্বাধীন স্বর্গ হয়ে থাকুক।”
🏞️ জাতীয় উদ্যান ঘোষণা: ব্রেন্ডনের স্বপ্ন অনুযায়ী, ২০০৮ সালে Moyenne Island-কে জাতীয় উদ্যান (Nature Reserve) ঘোষণা করা হয় – বিশ্বের সবচেয়ে ছোট জাতীয় উদ্যানগুলোর একটি।
🪦 মৃত্যু ও উত্তরাধিকার: ব্রেন্ডন গ্রিমশো জুলাই ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দ্বীপটির একমাত্র অধিবাসী ছিলেন। তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর কাজ এখনো জীবন্ত—Moyenne এখনো সংরক্ষিত একটি প্রাকৃতিক স্বর্গ।
🎥 ডকুমেন্টারি: 📽️ "A Grain of Sand" নামে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি হয় ২০০৯ সালে—যেখানে তাঁর কাজ ও দর্শন তুলে ধরা হয়েছে।
🧠 গভীর বার্তা: এক ব্যক্তি, এক জীবনে, প্রকৃতিকে ভালোবেসে—চাইলেই পুরো একটা পরিত্যক্ত দ্বীপকে রূপ দিতে পারে প্রাণভরে বাঁচার এক আশ্রয়ে।
19/06/2025
।।।।।।ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষন এর সতর্কতা।।।।।।
অবশেষে সকলের আশা পুরন হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ
মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারনে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রংপুর রাজশাহী সিলেট, ঢাকা,এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ স্থানে ভারী বর্ষন এর সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় এসব বিভাগের কিছুকিছু জেলায় অতিভারী বর্ষনও হতেপারে।
এছাড়া খুলনা, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতেপারে। তবে কিছুকিছু স্থানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ও রয়েছে।
ভারী বর্ষন এর কারনে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাতে পাহাড় ধ্বসের ঝুকি রয়েছে।
★তাই আপডেট টি শেয়ার করে সবাইকে সতর্ক করতে পারেন★
ধন্যবাদ
Courtesy: Bangladesh weather observation team
15/06/2025
জাপানি ব্যক্তির নাম যাসুশি তাকাহাশি (Yasushi "Yassan" Takahashi)।তিনি ২০০৮ সালে তাঁর প্রেমিকাকে প্রপোজ করার জন্য GPS আর্ট ব্যবহার করেন।তিনি একটি GPS ডিভাইস ব্যবহার করে জাপানজুড়ে মোট 7,163.7 কিলোমিটার ভ্রমণ করেন।তাঁর ভ্রমণের পথটি Google Earth-এ ট্র্যাক করে দেখা যায় তিনি "MARRY ME" (আমাকে বিয়ে করো) লিখেছেন এবং একটি হৃদয় চিহ্ন আঁকেন।এই কাজটি সম্পন্ন করতে তাঁর ৬ মাস সময় লেগেছিল।এটি Guinness World Record-এও জায়গা করে নিয়েছে "Largest GPS Drawing" হিসেবে।
14/06/2025
কারাকোরাম হাইওয়েঃ পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এবং বিপজ্জনক রাস্তা। পাকিস্তান ও চীনকে সড়কপথে সংযুক্ত করেছে এই রাস্তা। প্রাচীন সিল্করোডের যে পথের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে চীনের বাণিজ্য চলতো, সেই পথ ধরেই চলে গেছে কারাকোরাম মহাসড়ক। পাহাড় কেটে পথ করে নিয়েছে অ্যাসফল্টের রাস্তা।
১,৩০০ কি.মি. মহাসড়কের ৮৮৭ কি.মি. পড়েছে পাকিস্তানে, বাকি ৪১৩ কি.মি. চীনে। চীনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা জিনজিয়াংয়ের পশ্চিম অংশ ও পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের মাঝে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছে এই রাজপথ। প্রাচীন কাশগড় শহরের সাথে মিলেছে পাকিস্তানের ঝকঝকে রাজধানী ইসলামাবাদ।
এই মহাসড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬৬ সালের দিকে। প্রায় ১৩ বছর পর কয়েক হাজার টন ডিনামাইট আর বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে শেষ হয় রাস্তা বানানোর কাজ। যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় আরো পরে, ১৯৮৬ সালে।
অসংখ্য ভাষা-সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার রত, আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তানের সীমান্তও মিলিত হয়েছে এখানে। অতীতে উটের কাফেলায় চলাচল করা যাত্রীরা ডাকাতির কবলে পড়ত এখানে, খুনখারাবি ছিল নিত্যঘটনা। তাই একে বলা হয় রক্ত উপত্যকা (খুনজিরাব)। তবে এই উচ্চতায় আর রুক্ষতায়ও সৌন্দর্যের কমতি নেই। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বরফঢাকা পর্বতমালা ঢেকে ফেলবে দৃষ্টিসীমানা, নিচের তৃণভূমিতে চরে বেড়াতে দেখা যায় ইয়ক আর আইবেক্সদের।
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া।
12/06/2025
মানাটিকে মিষ্টি আলু খাওয়ানো হচ্ছে, যদিও এটা দেখতে সাধারণ সবজির মতো।
মানাটি হলো এক ধরনের বড়, শান্ত স্বভাবের জলজ প্রাণী। এদের অনেকেই "সমুদ্রের গরু" নামে চেনে। এরা সাধারণত অগভীর সমুদ্র, নদী আর উপকূলের কাছে থাকে। একটি মানাটির গড় দৈর্ঘ্য ৯-১০ ফুট আর ওজন প্রায় ১,০০০ পাউন্ডের মতো হতে পারে।
মানাটি শুধু গাছপালা খায়। এরা মূলত সমুদ্র ঘাস, ম্যানগ্রোভ গাছের পাতা আর শৈবাল খেয়ে বাঁচে। এই খাবারগুলো খেয়ে তারা সমুদ্রের পরিবেশ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
মানাটি খুবই শান্ত স্বভাবের। তারা কারও ক্ষতি করে না, এমনকি কুমিররাও তাদের রাস্তা ছেড়ে দেয়। তবে মানুষই এখন তাদের সবচেয়ে বড় বিপদ—মানুষের কাজকর্মে তাদের বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে, আর নৌকার সঙ্গে ধাক্কাও বড় সমস্যা।
তারা ঠান্ডা পানি সহ্য করতে পারে না, তাই ঋতু বদল হলে তারা বাসা বদলায়। বিশেষ করে ফ্লোরিডায় অনেক মানাটি থাকে।
(সংগৃহীত)
12/06/2025
১৯২১ সালে ডেনমার্কের ছোট্ট গ্রাম এগ্টভেদে প্রত্নতত্ত্ববিদরা খুঁজে পেলেন এক কিশোরীর সমাধি, যে আজ পরিচিত ‘এগ্টভেদ গার্ল’ নামে। ব্রোঞ্জ যুগের এই মেয়ে পৃথিবীতে এসেছিল আনুমানিক ৩৪০০ বছর আগে। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ থেকে ১৮ বছর।
তাকে পাওয়া গিয়েছিল একটি কূপাকৃতির সমাধির ভেতরে, ওক গাছের গুঁড়ি কেটে তৈরি একটি কফিনে, যা মোড়ানো ছিল বলের চামড়ায়। ডেনমার্কের ওই অঞ্চলের অম্লীয় মাটির গঠন এমন ছিল যে, সময়ের সাথে সাথে পচন থেমে গিয়েছিল, এবং অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছে তার জামাকাপড়, এমনকি কিছু নরম টিস্যুও।
এগ্টভেদ গার্লের উচ্চতা ছিল প্রায় ১.৬ মিটার। তার চুল ছিল ছোট, সোনালি রঙের আর নখ ছিল পরিচ্ছন্ন, ছাঁটা—যা ইঙ্গিত দেয়, নিজের পরিচর্যায় সে বেশ সচেতন ছিল। কিন্তু যা তাকে সবচেয়ে আলাদা করে তোলে, তা হলো তার পোশাক, যা যুগের তুলনায় বেশ ভিন্নই বলতে হবে। সে পরেছিল একটি ঢিলেঢালা, ছোট হাতার উলের ব্লাউজ, যা তার পেটের অংশ অনাবৃত রেখেছিল, এবং একটি ছোট স্কার্ট, যা মোটা উলের তার দিয়ে পাকানো ছিল। কোমরে বাঁধা ছিল ব্রোঞ্জের চাকতিসহ একটি উলের বেল্ট—সম্ভবত প্রতীকী, কিংবা অলঙ্কার। বাহুতে ছিল ব্রোঞ্জের চুড়ি।
তার পায়ের পাশে পাওয়া যায় এক শিশুর দেহাবশেষ—বয়স আনুমানিক ৫ থেকে ৬ বছর। এই শিশুর পরিচয় আজও রহস্য; কে ছিল সে? তার আত্মীয়া, সেবিকা, না কি অন্য কোনো ধর্মীয় অনুষঙ্গ?
মাথার পাশে রাখা ছিল বার্চ গাছের বাকলের তৈরি একটি ছোট বাক্স, যার ভেতরে ছিল তার দৈনন্দিন ব্যবহৃত ব্রোঞ্জের পিন, সূঁচ, ও একধরনের ছিদ্র করার সরঞ্জাম। এসব হয়তো তার কাজে লাগত জামাকাপড় তৈরিতে।
কৃতজ্ঞতা : দুনিয়ার জানা-অজানা