Apparel Community of Bangladesh

Apparel Community of Bangladesh We will work for the students and let them know about textile and garment-related jobs. Besides, we will refer to essential courses for the students.

Apparel Community Bangladesh is for those textile and apparel related students who want to know about textile, apparel jobs, position and besides we will work for their career development. Apparel Community Bangladesh is for those textile and apparel-related students who want to know about textile, apparel jobs, positions, and besides we will work for their career development. Apparel is just not about textile engineering or apparel manufacturing engineering; It refers to a whole process of textile science with fiber, yarn, fabric, and perfect apparel and fashion industry with garments marketing, management, and merchandising. We want to make a bridge between textile and apparel students with the garments and buying houses as well as corporate level.

আমাদের সম্মানিত এডভাইজর Md. Monwarul Islam sir কে নিয়া লিখা... রংপুরের কৃতি সন্তান -বাংলাদেশী গবেষক মনোয়ারুল ইসলামের দুট...
11/05/2021

আমাদের সম্মানিত এডভাইজর Md. Monwarul Islam sir কে নিয়া লিখা...

রংপুরের কৃতি সন্তান -বাংলাদেশী গবেষক মনোয়ারুল ইসলামের দুটি আর্টিকেল প্রকাশিত হলো কোরিয়ার বিখ্যাত জার্নালে

দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত কোরিয়া ডিষ্ট্রিবিউশন সায়েন্স এসোসিয়েশন প্রকাশিত জার্নাল অব এশিয়ান ফাইন্যান্স, ইকোনমিক্স এন্ড বিজনেসে বাংলাদেশের গবেষক মনোয়ারুল ইসলামের দুটি গবেষনা আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে।
এই জার্নালটি একাডেমিক গবেষনা স্কপাস ইনডেক্সড ও ইমার্জিং সোর্স সাইটেশন ইনডেক্স-ইএসসিআই তালিকাভুক্ত একাডেমিক রিসার্চ জার্নাল।
বাংলাদেশ ডিজিটাল মার্কেটিং ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতের পারুল ইউনিভার্সিটি গুজরাটের পিএইচডি রিসার্চ ফেলে মনোয়ারুল ইসলামের দুটি গবেষনা আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে কোরিয়ার বিখ্যাত একাডেমিক জার্নালে যে গবেষনায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প উদ্যোক্তাদের মার্কেট ওরিয়েন্টেশন ও জেন্ডার নিয়ে গবেষনা করা হয়েছে। ২৩৩ জন উদ্যোক্তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষনা পরিচালিত হয়।
“দ্য ইফেক্ট অব এন্টারপ্রেনিউরাল ওরিয়েন্টেশন, মার্কেট ওরিয়েন্টেশন এন্ড জেন্ডার অন বিজনেস পারফর্মেন্স: এন এম্পিরিক্যাল স্টাডি অব এসএমই’স বাংলাদেশ” শীর্ষক
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়ে গবেষনায় ও আর্টিকেলটির টিমে প্রধান গবেষক হিসেবে ছিলেন ডক্টর মো: আতিকুর রহমান। তিনি বর্তমানে চিউচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনোমিক্স ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক।
গবেষক হিসেবে ছিলেন চীনের চিউচিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচিং এসিট্যান্ট ও ইন্টারন্যাশনাল অফিসের প্রজেক্ট ম্যানেজার চি মাইট, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস এর বিবিএ কো- অরিএডনেটর আতিক ওয়াকিফ, সাংবাদিক কানিজ ফাতেমা লুনা।
আরেকটি চলতি বছরেই বাংলাদেশ ইকোনমিক এসোসিয়েশনের সহযোগি সদস্য মনোয়ারুল ইসলামের আরেকটি গবেষনাপত্র প্রকাশ হয় যেটির শিরোনাম ছিলো “হোয়াট ফ্যাক্টরস ডু মোটিভেট এমপ্লয়িস অ্যাট দ্য ওয়ার্কপ্লেস, এডিডেন্স ফ্রম সার্ভিস অর্গানাইজেশেনস। “

মনোয়ারুল ইসলামের এই একাডেমিক গবেষনা সেক্টরে অর্জনের জন্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফাইন্যান্সিয়াল লিডারশিপ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট (ডিইউএফএলসি) শিবলী নুমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও এই গবেষককে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইয়ুথ ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউট কেন্দ্রীয় কমিটি।
প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস আন্তর্জাতিক ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে গবেষণার কাজ প্রকাশনার ইনডেক্স ও রর্যংকিং প্রকাশ করে। একটি জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বলতে বোঝায় ওই জার্নালে গত এক বা দুই বছরে যে আর্টিকেলগুলো প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো গড়ে একবার রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ হিসাবে একটি জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর যত বেশি সেই জার্নালের গুণগত মান তত বেশি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জার্নাল হচ্ছে সেই জার্নাল, যেখানে বিশ্বের যেকোনো দেশের মানসম্মত গবেষণার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়, প্রকাশিত আর্টিকেলের মোট সংখ্যার কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ দেশের বাইরের হতে হয় এবং সম্পাদনা পরিষদে কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ সদস্য বাইরের দেশের থাকতে হয়।

মনোয়ারুল ইসলাম রিবেল রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুলের সন্তান। তিনি ড্যাফোডিল গ্রুপের ডলফিন ডিজিটাল, ড্যাফোডিল সাইবার সিকিউরিটি সলিউশন, ড্যাফোডিল মাল্টিমিডিয়া, স্কিল জবস এ তিনি ছিলেন মার্কেটিং ডিরেক্টর। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রজেক্ট স্কিল.জবস এ মার্কেটিং ডিরেক্টর, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ফুড সেফটি ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ল্যাবরেটরির তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে মার্কেটিং ও অপারেশন হেড হিসেবে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। ড্যাফোডিল মেডিক্যাল কলেজ, কার্ডিওকেয়ার স্পেশালাইজড ও জেনারেল হসপিটাল, আমার হসপিটাল, আমার ফার্মা, আমার ফুড এর তিনি প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ইনচার্জ হিসেবে নতুন নতুন মার্কেটিং কৌশল তৈরি করেন। বর্তমানে একাধিক বিষয়ে দেশে ও বিদেশে পড়াশোনা করছেন সেইসাথে তৈরি করেছেন দেশের প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি কোম্পানী। এডিসন গ্রুপ ( সিমফোনী মোবাইল এর মাদার কোম্পানীর) আইটি ও এগ্রো সেক্টরের প্রতিষ্টাতা সিওও তিনি। সাফারা আইটি, সাফারা মেশিনারিজ, সাফারা এগ্রো, সাফারা ডিজেটাল, সাফারা হোল্ডিংস তারই চিন্তা , আইডিয়া ও পরিশ্রমের ফসল।
কর্পোরেট কালচার, ওয়ার্ক এথিকস্, ইনোভেটিভ অ্যাপ্রোচ, স্ট্রাটেজিক প্লানিং ও বিজনেস ডেভেলপমেন্টে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি মনোয়ারুল ইসলাম রিবেল। ইমপ্রেস গ্রুপের (চ্যানেল আই, ইনসেপটা) আইটি স্টার্টআপ আই ভেঞ্চার লিমিটেডের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর তিনি।
ব্যবসা-বাণিজ্যে তার হাতে খড়ি সেই কৈশোর বয়স থেকে যখন সে তার বাবার দোকানে সাহায্য করার জন্য সময় দিতেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ারে আছেন দীর্ঘ ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে। তিনি তার ক্যারিয়ারকে নিত্য নতুনভাবে এক্সপিরিমেন্ট করে বিজনেস ডেভেলপমেন্টকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

৫০ বছরে গার্মেন্ট সেক্টরের উন্নয়ন! বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রূপ ...
10/05/2021

৫০ বছরে গার্মেন্ট সেক্টরের উন্নয়ন!

বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রূপ ধারণ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সোনার বাংলা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করলেও ঘাতকরা তাকে বেশিদিন সে সুযোগ দেয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেন এবং তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য, প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতি হিসেবে আমাদের অর্জন নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো। সুদীর্ঘ ৫০ বছরের যাত্রায় বাংলাদেশ এর প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে ২০৬৪ ডলার মাথাপিছু আয়, ৭%-এর ওপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি (করোনাকালেও ৫.২%), ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ৯৮% প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, মহাকাশে পদার্পণ, প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭২.৬ বছরসহ আরও নানা পালক। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এই তিনটি সূচকে পরপর দুবছর ইউ এন সিডিপির ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে সফলতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পেয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের মর্যাদা। গৌরবান্বিত এই যাত্রাপথে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্প অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ৮০’র দশকের শেষের দিকে মাত্র ১২,০০০ ডলার মূল্যের পোশাকপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে যে শিল্পটি যাত্রা শুরু করেছিল, আজ তা পৃথিবীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। নিরন্তর পরিশ্রম করে চলা ৪০ লাখ শ্রমিক ভাইবোনের যতেœ তৈরি পোশাক বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬৭টি দেশে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ তৈরি করেছে। জাতীয় রপ্তানি আয়ের ৮৩% অর্জন করা এই শিল্পখাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, কর্মসংস্থান হয়েছে ২৫ লাখ নারী শ্রমিকের, এই শিল্প না থাকলে হয়তোবা যাদের অর্থনীতির মূলধারায় জড়িত হওয়ার সুযোগ থাকত খুব সীমিত। শুধু পিছিয়ে পড়া নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানই নয়, সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেছে তৈরি পোশাক শিল্প। অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি তারা নিজের ব্যাপারেও অনেক সচেতন হচ্ছে, যা পক্ষান্তরে মানব উন্নয়ন সূচকে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২০ সালের দ্য হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে আছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ভাষাতে ‘রোল মডেল’ হিসেবে অনুসরণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ সকল লক্ষ্য পূরণেই পোশাক শিল্প নীরব সৈনিকরূপে সহায়কের ভূমিকা পালন করেছে।

শুধু তা-ই নয়, বিগত এক দশকে সবুজ শিল্পায়নে পোশাক খাত অসাধারণ সফলতা দেখিয়েছে। আমাদের দেশে এখন লিড সার্টিফাইড গ্রিন পোশাক কারখানার সংখ্যা প্রায় ১৩৫টি, যার মধ্যে ৩৯টি প্লাটিনাম মানের। বিশ্বের প্রথম সারির ১০টি সবুজ কারখানার মধ্যে ৬টি বাংলাদেশে অবস্থিত। আরও প্রায় ৫০০টি কারখানা লিড সনদের জন্য আবেদন করেছে, যা টেকসই শিল্প বিনির্মাণে আমাদের অগ্রযাত্রা তুলে ধরে।

শ্রমিকের অধিকার, সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অর্জন বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিছু দুর্ঘটনার মাধ্যমে আমাদের শিল্পের অভ্যন্তরীণ কিছু দুর্বলতা উন্মোচিত হয়। ওই মুহূর্তে আমরা নিজেদের পুনর্গঠন এবং ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়েছি। প্রতিটি কারখানায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রেমিডিয়েশন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা জাতীয় পর্যায়ে জগএ ঝঁংঃধরহধনরষরঃু ঈড়ঁহপরষ (জঝঈ) প্রতিষ্ঠা করেছি, যার মাধ্যমে ক্রেতা, শ্রমিক, সরকার এবং শিল্প উদ্যোক্তারা একটি অভিন্ন প্লাটফর্মে একত্রিত হয়েছেন। আজ গর্বের সঙ্গে আমরা বলতে পারি, পৃথিবীতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অন্যতম নিরাপদ শিল্প পরিবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নয়, বিগত কয়েক দশকে আমাদের শিল্প শ্রমিকদের ব্যাপারে আরও সংবেদনশীল হয়েছে। ‘গো হিউম্যান, গো গ্রিন’ এই মূলমন্ত্র সামনে রেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী এবং জাতির পিতার ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিজিএমইএ সরকারের এস ডি জি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৭টি প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। পোশাক শিল্পের প্রাণ যে শ্রমিক ভাইবোনেরা, তাদের সহায়তা করা, সেইসঙ্গে আর্থসামাজিকভাবে উন্নত জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এসব প্রতিশ্রুতির মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, বর্তমানে মোট ৭০জন নারীকর্মী সংশ্লিষ্ট কারখানার সহায়তায় চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ প্রোগ্রামের অধীনে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন। যেসব শ্রমিক ভাইবোনদের সন্তানরা কারখানার ডে-কেয়ার সেন্টারে পুরো দিন কাটায়, তাদের অনলাইন শিক্ষা প্রদানের জন্য বিজিএমইএ এবং জাগো ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো পোশাক শিল্পখাতের কর্মরত শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য ‘মনের বন্ধু’ নামক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ৫০টি কারখানায় আবেগ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করা হয়েছে। টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পোশাকশিল্পের অর্জনসমূহ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য ইউএনডিপি এবং জিআরআই-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৪৭টি পোশাক কারখানায় ‘সাস্টেইনেবিলিটি রিপোর্টিং স্টাডি’ শীর্ষক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের অর্থনীতির বিকাশের যে নতুন মাত্রা প্রয়োজন ছিল, তা এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা শিল্পকে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রথাগত ব্যবসা এবং পণ্য থেকে বেরিয়ে বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণ, সর্বোপরি শিল্পখাত বহুমুখীকরণের ওপর আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। নিরাপত্তা এবং সবুজ শিল্পায়নের পাশাপাশি কারখানাগুলো এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে, সার্কুলার ফ্যাশনের ক্ষেত্রে কারখানাগুলো আরও সচেতন হচ্ছে। এটি অন্যান্য শিল্পের জন্যও অনুকরণীয় এবং নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো একটি বিষয়।

শুধু অর্জনের কথা বলে শেষ করতে চাচ্ছি না। যতটুকু লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, তার চেয়ে আরও বেশি অর্জনের দ্বারপ্রান্তে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, নিজস্ব অর্থায়নে গর্বের পদ্মাসেতু নির্মিত হচ্ছে, যা শিল্পে বিকেন্দ্রীকরণের দুয়ার উন্মোচিত করেছে। বিশ্ব পোশাক বাজারে আমরা মাত্র ৬.৮% শেয়ার দখল করতে পেরেছি। অর্থাৎ প্রচ্ছন্নভাবে আমাদের সামনে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। পণ্য বহুমুখীকরণ নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার জায়গা। বিশেষ করে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য তৈরিতে বিনিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। করোনা পরবর্তী সময়ে পোশাকের খুচরা বাজারে অন্যতম আরেকটি প্রধান পরিবর্তন যেটি লক্ষণীয় তা হলো- অনলাইনভিত্তিক বিক্রয়ের প্রসার। আমাদের জন্য পরবর্তী সুযোগের যে জায়গাগুলো আছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- ভার্চুয়াল বাজারে আমাদের অবস্থান সুসংহত করা, যেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক রপ্তানির সুযোগসহ আমরা আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পোশাক বিক্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারি। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (চচঊ’ং) অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। যদিওবা আমাদের শিল্পের সার্বিক সক্ষমতা বিচারে চচঊ-এর বাজার সম্ভাবনা এ মুহূর্তে খুব বেশি নয়। তদুপরি ৯১ বিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত সামান্য (মাত্র ৫০১ মিলিয়ন ডলার)।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আজ শুধু একটি বৈশ্বিক মহামারীই নয়; বরং দ্রুত এটি অর্থনৈতিক মহামারীতে রূপ নিচ্ছে। করোনাকালীন বাংলাদেশের পোশাকখাত যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এ শিল্পে এর আগে কখনো ঘটেনি। করোনাকালীন কারখানাগুলো যখন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে মুহূর্তে রপ্তানিমুখী খাতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন বাবদ ৫,০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ ঘোষণা দেন, যা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। এই ঋণ প্রণোদনার ফলে একদিকে কারখানাগুলো যেমন শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত প্রদান করে টিকে থাকার সুযোগ পায়। শুধু তা-ই নয়, শিল্পের সকল ক্রান্তিলগ্নে তিনি অভিভাবকের মতো আমাদের পাশে থেকেছেন, দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। ফলে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা টিকে থাকার সংগ্রামে শক্তি ও সাহস পেয়েছি।

তবে, বিশ্বব্যাপী করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় এ বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুর আগে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং রপ্তানি কোনোটাই স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশাবাদী হতে পারছি না। তারপরেও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি ছন্দ ফিরে পেতে। এ ব্যাপারে আরও কিছু সহায়তা প্রয়োজন, যা ব্যতিরেকে এ অতিমারী মোকাবিলা সম্ভব হবে না।

১। করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে প্রদত্ত ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি করা।

২। করোনার ফলে সংকটাপন্ন কারখানাগুলোর সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় ব্যবসায় ফিরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি।

৩। দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বায়ারদের থেকে আইনি সুরক্ষা।

এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এটুকু বলা যায়, আমরা সকলে মিলে এই দুর্যোগপূর্ণ সময়টি মোকাবিলা করতে পারলে আগামীতে আমাদের জন্য রয়েছে অপার সম্ভাবনা। অতএব এ ক্রান্তিকালে আমাদের অর্জনগুলো ধরে রাখতে সবাই মিলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তামিলনাড়ুর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এতো পার্থক্য কেন?তামিলনাড়ুর স্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদিও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পাল...
11/04/2021

তামিলনাড়ুর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এতো পার্থক্য কেন?

তামিলনাড়ুর স্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদিও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের দিক থেকে কোনভাবেই পিছিয়ে নেই, কিন্তু রাজনৈতিক জনসভাগুলোতেও দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদদের মতো অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার বিষয়টা সামনে আসেনি।

তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের রাজ্য নির্বাচন সম্পন্ন হল গত ৬ এপ্রিল। তবে ফলাফল প্রকাশিত হবে পশ্চিমবাংলার সাথে একই দিনে, ২ মে। এটি ১৬তম রাজ্য নির্বাচন। গণমাধ্যমে আসা বিগত কয়েকটি নির্বাচনের সংবাদে দেখা গেছে তামিলনাড়ু একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ভারতীয় রাজ্য। এই রাজ্যটিতে নির্বাচনের সময়ে ভারতের অন্য কোন রাজ্যের মতন এত ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় না। সাধারণ মানুষের জীবন একই গতিতে, স্বাভাবিক ছন্দেই চলেছে, রাস্তায় দেয়ালে তেমন কোন পোস্টার নেই, নেই তেমন কোনো জনসভাও। রাস্তায় রাস্তায় মিছিলও দেখতে পাওয়া যায় না। ফলে অনেকক্ষেত্রেই বোঝা যায় না যে রাজ্যটিতে কোনো নির্বাচন চলছে। বিদেশি পর্যটকরা, বিশেষ করে বাঙালিরা তামিলনাড়ুতে ব্যাপক হারে চিকিৎসার জন্য যাতায়াত করে, এই বাঙ্গালীদের অনেকেই বুঝতে পারে না যে রাজ্যটিতে নির্বাচন চলছে। এর রহস্য কোথায়?

তামিলনাড়ুর জনগণ ভাষা এবং ধর্মে নানানভাবে বিভক্ত। ভারতীয় মুসলিম বিকাশের একটি অন্যতম দ্বার দক্ষিণ ভারতের রাজ্য এ রাজ্য তামিলনাড়ু। আদিকালে এই অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচলের ফলশ্রুতিতে তামিলনাড়ুর সঙ্গে আরবীয় মুসলমানদের একটি যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এবং এই অঞ্চলে মুসলিম অভিবাসন ও ধর্মান্তরিত হওয়ার ইতিহাস অনেক পুরনো। দক্ষিণ ভারতের কেরালায় একটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে। তখন রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সা:) জীবিত।

ভারতীয় সমাজে গত কয়েকশো বছরে নানান সময়ে সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, কিন্তু গত ১০০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তামিলনাড়ুতে এই ধরনের সাম্প্রদায়িকতার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। গবেষণায় যে বিষয়গুলো সামনে আসে তা আরও অদ্ভুত। তামিলনাড়ুর প্রথম ভারতীয় ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আওতায় ১৯৩৭ সালে যে নির্বাচন ভারতের ব্রিটিশ শাসনের সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল কংগ্রেস দল। ১৮৮৫ সালে সনে যখন কংগ্রেস দলটির জন্ম হয় তখনো পুনে সম্মেলনে তামিলনাড়ুর জনগণের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব ছিল। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস জয়লাভ করে।

ব্রিটিশ শাসনামলে রাজ্যটির নাম ছিল মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি। রাজ্যটিতে মোট আসন ছিল ২১৫টি। এর মধ্যে ১৫৯টি আসনে কংগ্রেস জয়লাভ করেছিল। তার পরে পরেই তামিলনাড়ুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, কারণ সেসময়কার কংগ্রেসের নেতা -রাজা গোপালাচারী ঘোষণা করেন রাজ্যের আনুষ্ঠানিক ভাষা হবে হিন্দি। অথচ তখন তামিলনাড়ুর মাত্র এক শতাংশ মানুষ হিন্দি ভাষায় কথা বলত। তামিলনাড়ুতে তখন নানান ভাষা প্রচারিত ছিল: তামিল, মালায়লাম, আরবি। অন্তত সাতটা ভাষার চালু থাকার খোঁজ পাওয়া যায় তখনকার সময়। বহুভাষী এই রাজ্যের মূল ভাষা হিন্দি ঘোষণার কারণে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনের ফলে প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটে। এই আন্দোলন দু বছর স্থায়ী ছিল।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে রাজ্যগুলো থেকে পদত্যাগ করে। ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেলের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত কংগ্রেস বিরোধিতা করে। কংগ্রেস মনে করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ভারতীয় জনগণের কোন স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়, এ কারণেই কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করে। অথচ বিপরীতে মুসলিম লীগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করাকে সমর্থন জুগিয়েছিল।

কংগ্রেসের পদত্যাগের ফলে তামিলনাড়ু রাজ্যে গভর্নর শাসন চালু হয়। ফলে ভাষার বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়। তামিলনাড়ুর সেই আন্দোলন দীর্ঘকাল পরে আবার নতুন করে জাগ্রত হয়েছিল ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি। যখন ভারতীয় সংবিধান গ্রহণ করা হয়। ভারতীয় সংবিধান গ্রহণ করার সময় ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখ ছিল যে ১৫ বছর পরে ভারতের রাজ্যগুলোর ভাষা হবে হিন্দি।

১৯৫০ সালে তামিলনাড়ুর পথ ধরে আরো বহু রাজ্যে সে সময়ে ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। পশ্চিমবাংলা, মহারাষ্ট্র, আসাম সর্বত্র এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর ভারতের হিন্দি ভাষাভাষী রাজ্যগুলো ছাড়া অন্য সবগুলো রাজ্যে আন্দোলন শুরু হয় এবং এই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৬৫ সালে। ইংরেজি-হিন্দী কেন্দ্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আর রাজ্যগুলোতে রাজ্যের নিজ নিজ ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তামিলনাড়ু রাজ্য যখন ১৯৩৭ সালে ভাষা আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তখন এক অভূতপূর্ব ঐক্য রাজ্যের জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল। তারা রাজ্যের বিভিন্ন ভাষার পরিবর্তে সেই ব্রিটিশ উপনিবেশিক ভাষা ইংরেজিকে প্রতিষ্ঠা করার দাবি তুলেছিল। যদিও সেখানে তামিল ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০%, তারা নিজেদের মাতৃভাষার পরিবর্তে সমাজের ঐক্যবদ্ধতার লক্ষ্যে ইংরেজি ভাষাকে নিজেদের রাজ্যের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দাবি তুলেছিল।

তামিলনাড়ুর সমাজের আজকের ঐক্যবদ্ধতার তার পিছনেও সেই ভাষা আন্দোলন ভূমিকা রেখেছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। সেই ভাষা আন্দোলনের ভেতর থেকে রাজ্যের মানুষের মধ্যে যে সামাজিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল তাই আজকের তামিলনাড়ুর প্রধান শক্তি। সেই সময়ে রাজ্যটির নাম ছিল মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি, যা পরে আরও একাধিক রাজ্যে বিভাজিত হয় কিন্তু দক্ষিণের এই রাজ্যগুলো ভারতীয় অর্থনীতি এবং শিক্ষার সর্বোচ্চ অবস্থানে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলের একটি রাজ্য কেরালা যেমন শতভাগ শিক্ষায় শিক্ষিত, তেমনি রাজ্যটি ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিও। তামিলনাড়ুর নির্বাচন নিয়ে যেমন প্রচার-প্রচারণা নেই, তেমনি হানাহানিও দেখা যায়না। নির্বাচনী সহিংসতার নজির এখানে নেই বললেই চলে। সম্প্রতি সম্পন্ন নির্বাচনে মাত্র চারটি অভিযোগ পত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ের হয়েছে। পক্ষান্তরে পশ্চিমবাংলা সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে নির্বাচন-সহিংস রাজ্য। এখানকার প্রায় প্রত্যেকটি নির্বাচনী কেন্দ্রেই সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। এই নির্বাচনী সহিংসতা ভারতীয় স্বাধীনতার গত ৭০ বছর ধরেই পশ্চিমবাংলায় ঘটে চলছে। প্রতিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হতাহতের খবর থাকে দেশজুড়ে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সহিংসতার ইতিহাস দীর্ঘ। সত্তরের দশকে ব্যাপক হানাহানির ঘটনা ঘটেছিল নকশালপন্থী আন্দোলনের ফলে। সেই আন্দোলনে একদিকে যেমন নকশালপন্থীরা শ্রেনী শত্রু খতমের নামে সমাজের নানা স্তরের মানুষকে হত্যা করেছে তেমনি নকশালপন্থীদের উচ্ছেদের নামে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বহু মানুষকে হত্যা করেছে। ১৯৭০ দশকের সেই সমস্ত ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটেছিল কংগ্রেসের রাজ্য থেকে বিদায়ের মাধ্যমে। সত্তরের দশকের শেষের দিকে কংগ্রেস এই রাজ্যে ক্ষমতা হারায়। যেমনটি ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পরে আর কোনো নির্বাচনে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারে নাই দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে। সেই ছিল কংগ্রেসের শেষ শাসন।

তামিলনাড়ু তথা মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি এরপরে রাজ্য হিসেবে ভাগ হয়েছে। আরো রাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু কংগ্রেসের কখনো দক্ষিণের এ রাজ্যেগুলোতে ক্ষমতায় ফিরে যেতে পারেনি। যেমনটি ঘটেছে পশ্চিমবাংলার ক্ষেত্রেও। পশ্চিমবাংলায় সেই ৭০ দশকের হানাহানির ফলে কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটে। এবং গত ৪৪ বছরেও আর কখনো রাজ্যে ফেরত আসেনি।

তামিলনাড়ুতে যেমন একাধিক ধর্মের অবস্থান লক্ষ্য করা যায় পশ্চিমবাংলায়ও তেমনভাবে একাধিক ধর্মের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। তামিলনাড়ুতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী আছে। জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলিমদের অবস্থান তামিলনাড়ুতে তৃতীয়। ৮৯ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, ৬ শতাংশের মতন খ্রিস্টান, ৫ শতাংশের কিছু বেশি মুসলিম। আছে কিছু সংখ্যক জৈন, শিখ ও বৌদ্ধ- শতাংশ হারে এরা কেউই এক শতাংশের উপরে না। তারপরেও এই বহু ধর্মের অবস্থান কখনই কোনো সমস্য তৈরি করেনি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনাও নেই এ রাজ্যে। কিন্তু পাশাপাশি পশ্চিমবাংলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে কাশ্মীরের পরে শতাংশ হারে সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমবাংলার জনসংখ্যার দিক থেকে ৭০ শতাংশ হিন্দু, তারপরেই ২৭ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠী। এর বাইরে হিন্দু-মুসলিম ছাড়াও খৃষ্টান শিখ জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এ রাজ্যে বাস করে। কিন্তু দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মত পশ্চিমবাংলায় ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় না। কলকাতা শহরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়েছিল সেই ভারত বিভক্তির সময় ১৯৪৬ সালে, পশ্চিমবাংলায় তা আজো গভীরভাবে জেঁকে বসে আছে। ধর্মীয় দাঙ্গা থেকে রাজ্যটি মুক্ত হতে পারেনি। এবারের নির্বাচনেও পশ্চিমবাংলা সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি এখানে গেড়ে বসতে যাচ্ছে হিন্দুত্বের কথা বলে।

দেশটির প্রধান রাজনীতিবিদ নরেন্দ্র মোদি এবং তার অন্যতম সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবাংলায় যতবার নির্বাচনী জনসভা করেছেন প্রতিবারই হিন্দুত্বের কথা তুলে ধরেছেন।
অথচ তামিলনাড়ুর অবস্থা একেবারেই ভিন্ন। তামিলনাড়ু নির্বাচনে এই বিজেপি তেমন কোনো অবস্থানই তৈরি করতে পারেনি। নির্বাচনী প্রচারণায় সেখানে তেমন হিন্দুত্বের কথা বলা্র হয়নি। তারা তামিলনাড়ুতে উন্নয়নের কথাই বলেছেন। জাতীয় অর্থনীতি নিয়েই বেশি জনসভা করেছেন। তামিলনাড়ুর স্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদিও ধর্মীয় আচার আচরণ পালনের দিক থেকে কোনভাবেই পিছিয়ে নেই, কিন্তু রাজনৈতিক জনসভাগুলোতেও দেখা গেছে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার বিষয়টা সামনে আসেনি। যেটা পশ্চিমবাংলায় ঘটেছে। পশ্চিমবাংলায় ধর্মীয় বিভাজনের ফলে সম্ভবত বিজেপি ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

অক্সফোর্ড রিপোর্টে, তাদের গবেষণার এটি প্রকাশ পেয়েছে যে সেখানে বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাই বেশি। পশ্চিমবাংলার যে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিজেপি, তাতে মুসলিম ভোটাররাও বিভাজিত হয়েছে। আব্বাস সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বামপন্থীদের মধ্যে জোট গড়ে উঠেছে। সাথে আছে সেই ৪৪ বছর পূর্বে ক্ষমতা থেকে বিদাযয়ী কংগ্রেস। আব্বাস সিদ্দিকী একজন ধর্মীয় নেতা। এই জোট প্রকৃতপক্ষে বিজেপিকে সহায়তা করছে বলেই পশ্চিমবাংলার একাংশের ভোটাররা মনে করছে। এই জোট নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ জোট দাবি করে মোর্চা গঠন করেছে, যার ফলে ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোট নিঃসন্দেহে বিভাজিত হচ্ছে। পরিণতিতে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

মনোয়ারুল হক। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Different types of pocket design on apparel product for your understanding.
08/04/2021

Different types of pocket design on apparel product for your understanding.

শিশুরা আছে বলেই বোধহয় এই পৃথিবীটা এখনো অনেক বেশি সুন্দর। তেমনি একটা ঘটনা শুনুন। করোনাকালে বিভিন্ন দেশের মানুষের দুর্দশ...
07/04/2021

শিশুরা আছে বলেই বোধহয় এই পৃথিবীটা এখনো অনেক বেশি সুন্দর। তেমনি একটা ঘটনা শুনুন। করোনাকালে বিভিন্ন দেশের মানুষের দুর্দশা সম্পর্কে জানতে গিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের কথা জানতে পারে জাপানি চার শিশু সুজুকি, আন, তাইকি ও ইয়ুকি। এদের সবার বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। সবাই প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী।

এই চার শিশু রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে থাকা শিশুদের জন্য ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ নামে তহবিল খোলে। শুরুতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ১ লাখ ইয়েন বা আনুমানিক ৯০০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে সেই টাকায় লেখাপড়ার সামগ্রী কিনে বাংলাদেশে পাঠানো। কিন্তু ক্রাউড ফান্ডিংয়ে যে এত সাড়া পাওয়া যাবে, তা ওরা ভাবতে পারেনি।

গত বছর আগস্ট মাস থেকে শুরু করে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে প্রায় ২৭ হাজার মার্কিন ডলারের (৩০ লাখ ইয়েন) বেশি অর্থ জমা পড়ে তহবিলে। জাপানের দৈনিক পত্রিকা মায়নিচি শিম্বুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য এ বছর জানুয়ারিতে ওই চার শিশুকে ‘সিটিজেন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

তহবিলে জমা হওয়া অর্থ কীভাবে খরচ করলে ভালো হবে, সেই উপদেশ নিতে দলের সবচেয়ে বড় সদস্য—১২ বছর বয়সী সুজুকি টেলিফোনে বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোর সঙ্গে কথা বলে। রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে সোমা। রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে মোট জমা হওয়া অর্থ কয়েকটি অংশে ভাগ করে প্রতি তিন মাস অন্তর বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় শিশুরা। এরপর ৪ লাখ ইয়েন বা ৩ হাজার ৬০০ ডলারের প্রথম চালান জানুয়ারি মাসে তারা শরণার্থীশিবিরের একটি কার্যালয়ে পাঠায়, যা দিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য খাতা, স্কুলব্যাগ এবং বইপত্র কেনা হয়।

গতকালই আরেকটা খবরে অভিভূত হলাম। ১১ বছর বয়সী একটি শুিশু জানতে পারে তার ক্যানসার এবং সে আর বাঁচবে না। ওই শিশুটি মারা যাওয়ার একটি বাচ্চাকে তার কিডনি এবং আরেকটি বাচ্চাকে তার চোখ দান করে যায়। শিশুটির মৃত্যুর পর ডাক্তার এবং নার্সরা মাথা নিচু করে শিশুটিকে সম্মান জানায়।

আমি মহৎ মানুষদের জীবনী পড়ে দেখেছি, এই পৃথিবীর যারা বড় মানুষ দেখবেন বেশিরভাগই শৈশব কৈশোর থেকে পৃথিবী আর মানুষ নিয়ে ভাবতেন। তারা সেই মূল্যবোধ শিখতেন পরিবার ও সমাজ থেকে। আসলেই মূল্যবোধ শেখার সবচেয়ে বড় জায়গা পরিবার। কিন্তু বাবা-মারা সন্তানদের বললেই কী তারা শিখে যাবে?
Shariful Hasan

এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের ...
25/03/2021

এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

Address

Uttara 5, Road 9b, House 34
Dhaka
1230

Telephone

+8801706392743

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Apparel Community of Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Apparel Community of Bangladesh:

Shortcuts

Share

Category