15/09/2021
একটি সুন্নাহকে বাঁচাবো বলে: ৩০৬
ইবাদতে আল্লাহর সাহায্য
১: আমরা আল্লাহর ‘আবদ’-দাস। আবদের একমাত্র কাজ ইবাদত বা দাসত্ব করা। আমাদের সৃষ্টি করাই হয়েছে দাসত্বের জন্য। ইবাদতের জন্য। আমি আল্লাহর বান্দা। এটা মুখে বলার বিষয় নয়। কাজে প্রমাণ করার বিষয়। আমার সবকিছুই আল্লাহর। দাসের নিজের বলে কিছু থাকে না। থাকতে পারে না। সবই মুনিবের। মাবূদের।
২. আল্লাহর ইবাদত করতে পারা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহর খাস তাওফীক ছাড়া কেউ ইবাদত করতে পারে না। কুরআনে বলা হয়েছে,
بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ
বরং তোমরা যদি বাস্তবিকই (নিজেদের দাবিতে) সত্যবাদী হও, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তোমাদেরকে ঈমানের হেদায়াত দান করেছেন (হুজুরাত ১৭)।
৩. আমার উচিত প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফীক কামনা করে দোয়া করা। শুধু দুনিয়াবি কাজের জন্যই নয়, ইবাদত-বন্দেগীর তাওফীক কামনা করে দোয়া করাও কর্তব্য। নবীজি সা.-এর সুন্নতও তাই। আল্লাহ তা‘আলা হেদায়াতে পথে পরিচালিত করে, আমাদের প্রতি মহা অনুগ্রহ করেছেন। তিনিই সিরাতে মুস্তাকীমের উপর অটল রাখবেন। আমার করণীয় হল, নবীজির অনুসরণে আল্লাহর কাছে তাওফীক চেয়ে অনবরত বারবার দোয়া করতে থাকা। মুয়াজ বিন জাবাল রা. বর্ণনা করেছেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِهِ، وَقَالَ: ্রيَا مُعَاذُ؛ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَগ্ধ. فَقَالَ: ্রأُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ تَقُولُ:
আল্লাহর রাসূল মুয়াজের হাত ধরে বললেন, মুয়াজ! আল্লাহর কসম আমি তোমাকে ভালবাসি। আল্লাহর কসম আমি তোমাকে ভালবাসি। মুয়াজ, আমি তোমাকে ওসিয়ত করছি, প্রতি নামাজের পর দোয়াটি পড়তে কিছুতেই ভুলবে না,
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার জিকির করার, আপনার শোকর আদায় করার ও সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করার ব্যাপারে সাহায্য করুন (আবূ দাউদ ১৫২২)।
৪. প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচবার। এছাড়া সুযোগ পেলে অন্য সময়ও পড়তে পারি। তবে সুন্নতের অনুসরণে ফরজ নামাজের পর অবশ্যই একবার দোয়াখানা পড়ে নেবই। ইন শা আল্লাহ। আমি যত বেশি আল্লাহর কাছে তাওফীক চাইব, আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগও তত বৃদ্ধি পাবে। দোয়াটি ছোট্ট। অর্থও অপূর্ব। নবীজির একেকটি কথা ও দোয়া অসাধারণ অথবোধক। নবীজির শেখানো দোয়াগুলো একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারব, তিনি কত সারগর্ভ বক্তব্যের অধিকারী ছিলেন।
৫. দোয়াখানায় তিনটি বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়েছে। জিকির, শোকর ও ইবাদত। একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারব, উক্ত তিনটি বিষয়ে আমরা আল্লাহর তাওফীক লাভ করতে পারলে, আমাদের দুনিয়া আখেরাতে কামিয়াব হয়ে যাবে। জিকির সম্পর্কে নবীজি বলেছেন,
سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ. قَالُوا: وَمَا الْمُفَرِّدُونَ؟ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: الذَّاكِرُونَ اللهَ كَثِيرًا، وَالذَّاكِرَاتُ
মুফাররিদগন অগ্রগামী হয়ে গেছে। মুফাররিদ কারা? বেশি বেশি আল্লাহর জিকিরকারী বান্দা-বান্দীগন (আবূ হুরায়রা রা.। মুসলিম ২৬৭৬)।
৬. জিকিরকারী বান্দাগনই সাবিকূন-অগ্রগামী। আর শোকরকারী সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ
আর যারা কৃতজ্ঞ বান্দা, আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কার দান করবেন (আলে ইমরান ১৪৪)।
৭. উত্তম ইবাদতের জন্য সাহায্য চাওয়া হয়েছে। উত্তম ইবাদত বলতে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছোট-বড় যত কাজ করা হবে, সব কাজে আল্লাহ যেন সাহায্য করেন। মানুষের কর্তব্য তার প্রতিটি কাজকে ইবাদতে পরিণত করা। আর ইবাদতকে সুন্দর করার জন্য আল্লাহ প্রার্থনা করা,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আমি জি¦ন ও ইনসানকে শুধু আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি (যারিয়াত ৫৬)।
৮. আমি জাকের-জিকিরকারী হবো, শাকের-শোকরগুজার হব, আবেদ-ইবাদতগুজার হবো। সবই হবো আল্লাহর সাহায্য নিয়ে। আল্লাহর সাহায্য চেয়ে। দোয়াটি আলাদা মর্যাদা বহন করে। নবীজি বিশেষ গুরুত্বের সাথে মুয়াজকে দোয়াটি শিক্ষা দিয়েছিলেন। নবীজি যেন মুয়াজকে দোয়াটি হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন। প্রথমে বলেছেন ভালবাসার কথা। একবার দুই-দুইবার। সাথে কসমও খেয়েছেন। এমন গভীর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে নবীজি দোয়াটি শিখিয়েছেন। অতি আপনজনকে ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ যে উপহার দেয়া হয়, তা কি যে সে বিষয় হতে পারে? এত মূল্যবান একটি দোয়া আমি কেন পড়ব না? ইয়া আল্লাহ প্রতি ওয়াক্তে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
Collected