জাপানিজ লিসেনিং প্র্যাকটিসের জন্য ভিডিও ক্লিপটি চমৎকার!!
Jamal Uddin Ahmed
SIMEC Institute of Technology তে IT related & civil engineering এর
Short Course এবং কেয়ার গিভার কোর্স সহ বেশ কিছু বিষয়ে paid training করা হয়।
25/02/2024
পিল খানা ট্র্যাজেডি -১
মেজর মাহবুব স্মরণে!!
২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯
ঠিকানা : মধ্য আকাশ ; নক্ষত্ররাজি।
প্রিয়, সোহেল (মেজর মাহবুবের ডাক নাম)
কেমন আছো মামা ওপারে । খুব জানতে ইচ্ছে করে ।
তুমি যখন মিশন (লাইবেরিয়া) থেকে ফিরলে তোমার সাথে ফোনে কয়েকবার কথা হলো । শেষ দিনের কথায় স্বভাবসুলভ তুমি আর সাহেদ (মেজর মাহবুবের ছোট ভাই) মিলে আমাকে রাগিয়ে দিলে। আমার কিছুটা অভিমান হয়েছিলো । তুমি সেটা বুঝতে পেরেছিলে । পরে আমাকে ফোনে বললে -"মিনা খালা রেডি হয়ে থেকো শুক্রবারে তোমাকে আমি এসে ধামরাই (মেজর মাহবুবের জন্ম স্থান) নিয়ে যাবো ।" আমিও অপেক্ষায় ছিলাম।
তোমার সাথে রবিবার অথবা সোমবার কথা হয়েছিলো । বুধবার থেকে তুমি হারিয়ে গেলে মামা।
কত শত শুক্রবার আসে যায় তুমি আর এলে না মামা।
সেই যে বুধবার থেকে তোমাকে খুঁজতে শুরু করলাম পিলখানা থেকে কামরাঙ্গীরচর লেক , সেনাসদরের লাশ রাখার ফ্রিজ ,ঢাকা মেডিকেল, মিটফোর্ড, পিজি সব জায়গায়। কোথাও তুমি নেই। তোমার লাশ খুঁজে না পেয়ে মনে মনে আশার সঞ্চার হতে থাকে । নিশ্চয়ই তুমি বেঁচে আছো । নিশ্চয়ই তোমাকে জীবিত পাবো । প্রত্যাশার প্রহর যেন শেষ হতে চায় না । ক্ষীণ একটা আশা গুমরে গুমরে কাঁদে এই বুঝি তুমি এসে বলবে আমি বেঁচে আছি। সেই মুহূর্ত গুলোর কথা কিভাবে তোমায় বুঝাবো মামা। পিল খানার সামনে আমরা সবাই বসে আছি আর বড় আপার ( মেজর মাহবুবের মা) মুখটা ভেসে উঠছে । কি প্রবল কনফিডেন্স তার তোমার কিছু হয়নি। সকালে তুমি তোমার মা'র সাথে কথা বলেছো । সকালের নাস্তা খেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করেছো, ঔষধ খেয়েছে কিনা খোঁজ নিয়েছি; সম্ভবত সেটাই তোমার জীবনের শেষ কথা । কি জীবন্ত সেই স্মৃতি। বৃহস্পতিবার হঠাৎ নিউজে বললো মেজর মাহবুব কে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার। আমাদের সেকি আনন্দ। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব দের ফোন করে খবর দিতে লাগলাম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই থমকে গেলাম। এ অন্য এক মেজর মাহবুব। আমাদের সোহেল নয়। হতাশায় দুমরে মুচড়ে গেলো আমাদের বিশ্বাস। ততক্ষণে বিশ্বাস করতে শুরু করে দিলাম হয়তো তুমি আর নেই। তাই প্রচন্ড যন্ত্রনা বুকে চেপে এবার জীবিত তুমি নও বরং কেন তোমার লাশটা যেন অন্তত পাই । ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। সকাল থেকেই পিল খানায় বসে আছি । আমি, সাহেদ ,ফারুক খালু , তোমার নীলু খালা , তোমার মামারা ,চাচাতো ও খালাতো ফুফাতো ভাই বোনেরা , অনেকেই ছিলাম । এদিকে তোমার মা'র আর তোমার সহধর্মিণী জুলিও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে তুমি আর নেই। হঠাৎ একটার দিকে দুই তিন সেনা অফিসার এসে বললো সেনা সদরের তোমাকে পাওয়া যাবে । আমি আর আইভি তোমার চাচাতো বোন গেলাম ছুটে। ততক্ষণে অনেক অফিসারের ফ্যামিলিও সেখানে তাদের প্রিয়জনের লাশ খুঁজতে লাগলো । তোমাকে খুঁজতে যেয়ে অনেককেই খুঁজে পেলাম। ফ্রিজের মধ্যে রাখা মৃত মানুষ গুলো অনেকটাই তামাটে রঙের হয়ে গেছে । শনাক্ত করতে কষ্ট হচ্ছিল ।
এতো ভয় ভীতি কোথায় গেলো বুঝিনি তো । দুর্দান্ত সাহসের সঙ্গে একটার পর একটা লাশ হাতরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু না তোমায় পেলাম না। ফিরে এলাম আবার পিলখানার সামনে। আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে তোমারই দুই তিন জন ব্যাচমেট সেনা অফিসার ইশারায় কাছে ডেকে তোমার ছবি দেখিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বললো মাহবুব কে পাওয়া গেছে আপনারা মিটফোর্ডে চলে যান। অবশেষে মিটফোর্ডে ছুটলাম সবাই । সেখানে যেয়ে দেখি তুমি আর মাহবুব হিসেবে নয় সারিবদ্ধভাবে লাশ হিসেবে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তামাটে রঙের ছেয়ে আছে সবার মুখ। সময় লাগলো না তোমাকে খুঁজে পেতে, চেনা যাচ্ছিল না, সাহেদ , তোমার নীলু খালা আমীর আলী মামা হঠাৎ ই থমকে গেল একটি দেহের সামনে। দেহটি উল্টে পাল্টে দেখে তোমার আইডি, জুলির ছবি তোমার জেরা ব্যাচ, ড্রাইভিং লাইসেন্স পকেটে পাওয়া গেল । শনাক্ত হলো মামা তোমাকে । মাহবুব হয়ে নয় মাহবুবের লাশ পেলাম আমরা। বুকের ভেতরের পাঁজর গুলো যেন কষ্টে ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল। তোমার বুকে পিঠে বুলেটের ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া দেহটা মামা কতো ভারি হয়েছিলো তা কোন মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। কেবল যার হারিয়েছে সেই বুঝবে ।
তুমি আমাদের মধ্য আকাশের নক্ষত্র । ৫৭ জন অফিসার ছিলেন বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তোমাদের এমন বিদায় কাম্য ছিল না। স্বাধীন দেশে এত নগ্ন , নির্মম নৃশংস হত্যাকান্ড আমাদের করেছে হতবম্ব , স্তব্ধ, নির্বাক। তুমি আজ নেই অনেক বছর হয়ে গেল। কিন্তু আজও তুমি কষ্টের ধ্রুব তারা হয়ে মিট মিট করে জ্বলছো আমাদের হৃদয়ে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে। তুমি চলে যাওয়ার পর তোমার একমাত্র মেয়ে ফাইজা চলে গেল (চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ)। আচ্ছা তোমার সাথে কি তোমার আদরের মেয়ে ফাইজার দেখা হয়েছে? বড় জানতে ইচ্ছে করে । তোমার ছোট বোন জাকি ও পাড়ি জমিয়েছে ওপারে । তোমাদের তিন জনের কি প্রায়ই দেখা হয় । তুমি ভালো থাকো মামা অনেক ভালো থাকো । মহান আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ জায়গায় রাখুন। তোমার মা, স্ত্রী ,ভাই বোনেরা আজ ও নিরবে নিভৃতে কাঁদে।। আমি ও তোমাকে খুব মিস করি। যখন ক্যাডেট কলেজে পড়তে ছুটিতে সাভার আসতে তুমি একটা গল্প বলতে । একই গল্প বার বার কখনো শেষ হতো না সেই গল্পটা। তোমার বিয়েতে হলুদের দিন জানতে চাইলাম আসলে গল্পের রহস্য কি । তুমি বললে আসলে তুমি এটুকুই জানতে। আমি হাসলাম। একবার সাপ কে লাথি মেরে এসে বীর দর্পে বললে লাথি মারা স্বত্বেও সাপ কামরায়নি। তোমার বিউটি খালা চেক করে দেখে সাপ অলরেডি তোমায় কামড়ে দিয়েছে। সেকি টেনশন। হাজারো স্মৃতি। কি করে তোমায় ভুলবো মামা বলো । তোমার স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে আমরা সবাই বেঁচে আছি। আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তোমার স্মৃতিগুলো বড় জীবন্ত, বড় দগদগে কষ্টের নীলিমায় আচ্ছাদিত। তুমি ভালো থেকো মামা।। অনেক ভালো থেকো। বিধাতার কাছে যত্নে থেকো । তোমার ফাইজাকে আমাদের আদর পৌঁছে দিও। তুমি ভালো থেকো। ভালো থেকো তুমি।
ইতি,
তোমার মিনা খালা!
Amina begum Mina এর ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত।
ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বুকের ভিতর থেকে চাপা কষ্টটা যেন বার বার জানান দেয় একটি কালো তারিখ । স্বাধীন দেশে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের একটি কলংকময় দিন । ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সেনা অফিসারের অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে যে নির্মম পাষন্ডরা তাদের বিচারের ভার বিধাতার কাছে থাকলো ।
হায় রে আমার স্বাধীন দেশ
হায় রে আমার দুঃখিনী মাতৃভূমি।
"আমি চিৎকার করে বলিতে পারিনি
করিতে পারিনি ধিক্কার"
২৫/০২/২০২৪ ইং ।
06/01/2024
২০২৪! নতুন বছরে সবাইকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা !!
speaking & listening practice!!
বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে সেপ্টেম্বরেই চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট॥
সপ্তাহে ৩ দিন মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার কোন প্রকার ট্রানজিট ছাড়াই সাড়ে ৬ ঘন্টা থেকে ৭ ঘন্টার মধ্যে দুই দেশের যাত্রীরা বহুল প্রত্যাশিত এই ভ্রমন করতে পারবে বলে Japanbanglanews কে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রেসিডেন্ট তোমোইচি ওনিশি ।
Boeing বোয়িং - ৭৮৭, ৮০০ ॥ ৯০০ যেই মডেল গুলো ওয়ার্ল্ড ক্লাসের ।
টোকিও - ঢাকা রুটে বিমানের ২০০৬ সালের নভেম্বরে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফ্লাইটটি পুনরায় সেপ্টেম্বর ২০২৩ এর প্রথম সপ্তাহেই চালু হতে যাচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কম্পানীর মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং), জনাব মোহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন টোকিও সফরে এসে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার সাথে মিটিং করছেন।
• নারিতা-ঢাকা সরাসরি ননস্টপ ফ্লাইট হবে।• তুলনামূলক সর্বোচ্চ পরিমাণ লাগেজের সুবিধা থাকবে এবং তুলনামূলক কমমূল্যে
• উন্নতমানের বোয়িং ও সেবা- সার্ভিস
রিপোর্টঃ Japanbanglanews
22/07/2023
#জাপানে ক্যারিয়ার গড়তে চান !! কিভাবে?
এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন অথবা পাশ করেছেন। এর জন্য চাই পরবর্তী ১ বছরের একটি রোড ম্যাপ। পরিকল্পনা!!
প্রথমে ৬ মাসে কি কি করবেন:
#জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ কোর্স N5 শুরু করবেন ফুলটাইম ষ্টুডেন্টদের মতো অর্থাৎ সপ্তাহে ৬ দিন (অফলাইন অনলাইন মিলিয়ে), ৮/১০ ঘন্টা পড়াশোনা।
Office Application; ৬ মাসের কোর্সে ভর্তি হবেন ভালো প্রতিষ্ঠানে, SEIP প্রজেক্টের আওতায়।
#কেয়ারগিভিং কোর্সে ভর্তি হবেন SEIP প্রজেক্টের আওতায়।
পরবর্তী ৬ মাস: জাপানিজ ভাষা N4
শুরু করবেন।
#ড্রাইভিং ভর্তি হবেন SEIP প্রজেক্টের আওতায়।
#কেয়ারগিভিং ইন্টার্নশিপ করবেন ৩ মাস যেকোনো হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে, বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন।
# পরবরর্তীতে এখানে অথবা যেকোন জায়গায় চাকরি পাবেন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে অথবা এর চেয়ে কম বেতনে অবশ্যই জয়েন্ট করবেন।
এর জন্য শুধু মাত্র থাকা, খাওয়া এবং যাতায়ত বাবদ খরচ করে ৯ মাস শেষে আপনি হয়ে যাবেন স্কিল।
নিজের পায়ে দাঁড়াতে এক বছরের পরিকল্পনায় বদলে যাবে আপনার জীবনের গতিপথ!!
ইনশাআল্লাহ ।
17/07/2023
SIMEC Entertainment Ltd : উত্তরায় এক ছাদের নীচে অত্যাধুনিক সব সুবিধা সম্বলিত অডিটোরিয়াম, কনফারেন্স হল, ভিআইপি মিটিং রুমসহ কর্পোরেট কনভেনশন সেন্টার।
কর্পোরেট কনভেনশন সেন্টারে রয়েছে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা, ওয়াইফাই, ডিজিটাল সাউন্ড, লাইট ও মাল্টিমিডিয়া সিষ্টেম, ষ্ট্যান্ডবাই পাওয়ার ষ্টেশন, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস। যে কোন কর্পোরেট ইভেন্টস বা মিটিং, কোম্পানী এজিএম, ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার বা কনফারেন্সসহ সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনে নির্ভরতার নাম সিমেক এন্টারটেইনমেন্ট এর কনভেনশন সেন্টার।
যেখানে আপনার ছোট, বড় সকল অফিসিয়াল প্রোগ্রাম করতে পারবেন
আপনার বাজেটের মধ্যে:
যোগাযোগ: ০১৭৪৭২২৯২৭১, WhatsApp
ঠিকানা: সেক্টর ১২, রোড় ১৫, হাউজ ৩৩, উত্তরা, ঢাকা ।
https://simec-inc.net/service/simec-entertainment/
15/07/2023
#মেট্রোরেল ভাড়ার চার্ট:-
Join us at The Coding Owl asap!
LAST DAY OF ENROLLMENT: 01/08/2023
Classes begin on August 5, 2023!
Sign Up Today: https://www.thecodingowl.com/sign-up-form
Contact Number: 01714387531
13/07/2023
13/07/2023
SIMEC Entertainment Ltd. উত্তরাতে নিয়ে এসেছে আপনাদের চাহিদা মত ছোট বড় অনেকগুলো Corporate Conference Center. যার মধ্যে রয়েছে সুবিশাল-
# অডিটোরিয়াম
# সেমিনার হল
# কনফারেন্স হল
# মিটিং রুম
যেখানে আপনার ছোট, বড় সকল অফিসিয়াল প্রোগ্রাম করতে পারবেন আপনার বাজেটের মধ্যে।
যোগাযোগ: ০১৭৪৭২২৯২৭১
ঠিকানা: সেক্টর ১২, রোড় ১৫, হাউজ ৩৩, উত্তরা, ঢাকা ।
https://simec-inc.net/service/simec-entertainment/
যে ব্যক্তির দোয়া কবুল হতে দেরি হয় না!!
ইস্তেগফার এমন এক আমল, যা মানুষকে আল্লাহর কাছে 'মুঝতাঝাবুদ দাওয়া' বানিয়ে দেয়। আর মুঝতাঝাবুদ দাওয়া হলো এমন ব্যক্তি, যে ব্যক্তি দোয়া করতে দেরি কিন্তু সে দোয়া কবুল হতে মুহূর্ত দেরি হয় না।
মুঝতাঝাবুদ দাওয়াহ হওয়ার আমলটি ছোট এবং সহজ। নিজেকে মুঝতাঝাবুদ দাওয়াহ হিসেবে তৈরি করতে সব সময় ইস্তেগফার করতে থাকা।
ওঠাবসা চলা ফেরায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নিয়তে তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে থাকার নিয়মিত আমল করা।
ছোট্ট একটি আমলের কারণেই সামান্য রুটি বিক্রেতা হয়েছিলেন, মুঝতাঝাবুদ দাওয়াহ যার দোয়া আল্লাহ তায়ালা অবিভাবভাবে কবুল করেছিলেন। যার সাক্ষী ছিলেন যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজেই।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনায় রুটি বিক্রেতার দোয়া কবুলের ঘটনা জগৎ বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি সারা জীবন হাদিস সংগ্রহে কাটিয়ে দিয়েছেন।
এটি তার শেষ জীবনের ঘটনা। একবার তিনি বৃদ্ধ বয়সে হাদিস সংগ্রহে এক সফরে বের হয়েছিলেন। সফরের মধ্যে রাত একবার এক মসজিদে মাগরিব আর এশার নামাজ আদায় করেন এবং রাত অতিবাহিত করার চিন্তা করেন। সময়টি ছিল শীতকাল। তিনি চিন্তা করলেন ফজরের নামাজ পড়েই এই মসজিদ থেকে বিদায় নিবেন।
তিনি মসজিদে বসে শীতের কাপড় মুড়ি দিয়ে হাদিস পড়া শুরু করলেন। এমন সময় মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এসে বললেন এ এলাকার নিয়ম হচ্ছে, রাতে মসজিদে থাকা যাবে না।
মহাদ্দিস আহমদ ইবনে হাম্বল অনেক বিনয়ের সঙ্গে বলার পরও মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী ব্যক্তি শুনলেন না। নিরুপায় হয়ে তাকে মসজিদ থেকে বের হতে হল।
শীতের রাতে হাঁটতে হাঁটতে এক বাজারে গিয়ে পৌঁছলে।সেখানে রুটির বিক্রেতা এক যুবককে দেখলেন। মহাদ্দিস আহমদ ইবনে হাম্বল রুটি বিক্রেতা যুবককে সালাম দিয়ে বললেন। হে যুবক শীতের রাত আমি কি তোমার কাছে আগুনের কাছে বসে আটটা কাটাতে পারব?
যুবক বিনয়ের সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে বললেন আহলান ওয়া সাহলান! আপনাকে স্বাগতম। এটা আমার খোশ নসীব! আপনি এখানে আগুনের পাশে রাত কাটালে আমার কোন সমস্যা নেই।
মুহাদ্দিস আহমদ ইবনে হাম্বল চুলার পাশে বসে হাদিস পড়ছিলেন। কিন্তু তিনি যুবকের একটা আমল লক্ষ্য করলেন। তা হল যুব ত্রুটি তৈরিতে যাই করছেন, তাতেই তিনি আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ বলছেন।
অর্থাৎ ইস্তেগফারের আমল করেছেন।
রুটি বিক্রেতা যুবকের এ আমল দেখে মুহাদ্দিস আহমদ ইবনে হাম্বলের কৌতূহল বেড়ে গেল। তিনি ভাবনায় পড়ে গেলেন এবার তিনি হাদীসের কিতাব বন্ধ করে যুবককে বললেন। এ যুবক তোমার কি হয়েছে? শুরু থেকেই দেখছি তুমি যে কাজই করছে সঙ্গে সঙ্গে ইস্তেগফার পড়ে যাচ্ছ?
ঘটনা কি? কেন তুমি এত বেশি ইস্তেগফার আস্তাগফিরুল্লাহ, এবার যুবক তার আমল ও প্রাপ্তির কথা জানালেন এবং আমি মুঝতাঝাবুদ দাওয়াহ। আমি যে দোয়া করি তা কবুল হয়ে যায়।
আমার জীবনের কোন চাওয়াই আল্লাহ বাকি রাখেননি, তবে আমার একটি দোয়া এখনো কবুল হয়নি। রুটি বিক্রেতা যুবকের কথা শুনে মুহাদ্দিস ইবনে হাম্বল এর কৌতুহল আরো বেড়ে গেল।
যুবকের এ কথা শুনে মুহাদ্দিস আহমদ ইবনে হাম্বল একেবারেই অবাক। তিনি যুবককে আবারও প্রশ্ন করলেন তুমি মুঝতাঝাবুদ দাওয়াহ, তুমি যে দোয়া কর তাই কবুল হয়ে যায়?
যুবক বললেন হাঁ আমি দোয়া করলেই কবুল তবে আমার একটা দোয়া এখনো কবুল হয়নি। সেটি ছাড়া আল্লাহ আমার সকল দোয়া কবুল করেছেন।
এবার ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আগ্রহ কৌতুহল নিয়ে জানতে চান তোমার সেই দোয়া কি? যা এখনো কবুল হয়নি? এবার রুটি বিক্রেতা যুবক বললেন আমার যে দোয়া কবুল হয়নি তা হলো আমি শুনেছি এ জামানার সবচেয়ে বড় শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল।
আমার ইচ্ছে হলো তাকে একনজর দেখা এবং তার হাতে হাত রেখে মুসাফাহা করা। আর তার কপালে একটা চুম্বন করা। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি আল্লাহ তায়ালা আমার এ দোয়া এখনো পূরণ করেননি।
আল্লাহ যে কেন আমার এই দোয়াটা কবুল করছেন না তা আমি বুঝতে পারছি না। এবার মহাদ্দিস ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে গেলেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললেন হে যুবক আল্লাহ তোমার এই দোয়াও কবুল করেছেন।
হে যুবক তুমি যে আহমদ ইবনে হাম্বল এর সঙ্গে দেখা করার জন্য দোয়া করছো। তোমার তার কাছে যাওয়ার দরকার নেই। তোমার প্রভু তাকে তোমার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
হে যুবক আমি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল। আহমদ ইবনে হাম্বল নিজেই তোমার কাছে ছুটে এসেছে (সুবহানাল্লাহ) সঙ্গে সঙ্গে যুবক চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহিকে জড়িয়ে ধরলেন।
তার হাতে হাত রাখলেন আর তার কপালে চুমু খেলেন এবং কাঁদতে থাকলে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এর কাছে দোয়া চেয়ে বললেন হে ইমাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার কোন দোয়াই বাঁকি রাখেননি যা একটা বাকি ছিল তাও আল্লাহ তা'আলা কবুল করে নিয়েছেন।
এ হচ্ছে মুঝতাঝাবুদ দাওয়াহ'র নমুনা। মহান আল্লাহ তার কাছে অবিরাম ক্ষমা প্রার্থীকে মঝতাঝাবুদ দাওয়াতে পরিণত করে দেন। সুতরাং মমিন মুসলমানের উচিত যে কোন প্রয়োজনে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।
ইস্তেগফারের আমল বিপুলে যায় না। ইস্তেগফার করে যে দোয়াই করা হয় তাই কবুল হয়ে যায়। আর যদি কোন বান্দা আস্তাগফিরুল্লাহ অর্থাৎ ইস্তেগফারের সঙ্গে আঠার মত লেগে থাকে তবে সে হবে মুঝতাঝাবুদ দাওয়াহ।
আল্লাহ তা'আলা ইস্তেগফারের কারণে ওই বান্দা সব চাওয়া পূরণ করে দিবেন। আল্লাহ তা'আলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় বেশি বেশি ইস্তেগফারের সঙ্গে লেগে থাকার তৌফিক দান করুন।
ইস্তেগফারের ছোট্ট আমল বেশি বেশি করার তৌফিক দান করুন। সুন্নত নববীর অনুসরণ ও অনুকরণের তৌফিক দান করুন আমিন।
সংগৃহীত!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
1230