20/03/2026
Wishing you a blessed and joyful Eid from everyone at Rashid Ahmed Gangohi rh Institute for Learning. May this holy occasion bring peace, prosperity, and happiness to your home.
Eid Mubarak! 🌙
#2026
10/07/2024
' আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোন আদর্শের কথা নয়; এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ মেরে দিয়েছেন যে মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই। (ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্- মূল সভাপতির ভাষণ, পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলন, জানুয়ারী, ১৯৪৯)
আজকে বহুভাষাবিদ, জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্'র ১৩৯ তম জন্মবার্ষিকী। এই মহান শিক্ষাবিদের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও সশ্রদ্ধ সম্মান।
ছবি পরিচিতি: নিজের ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে পাঠে নিমগ্ন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।
ছবি কৃতজ্ঞতা: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্' র দৌহিত্রী শান্তা মারিয়া আপার ফেসবুক ওয়াল থেকে।
17/04/2024
FATHER OF ROBOTICS : ISMAIL AL-JAZARI (1136–1206)
Ismail Al-Jazari was a polymath: a scholar, inventor, mechanical engineer, artisan, artist and mathematician from the Artuqid Dynasty of Jazira in Mesopotamia.'The Book of Knowledge of Ingenious Mechanical Devices' is a medieval Arabic book written by Ismail al-Jazari in the 12th century. It describes over fifty mechanical devices and automata, including clocks, water-raising machines, musical automatons, and humanoid robots. Al-Jazari provides detailed instructions for constructing each device and includes anecdotes and historical references. The book had a significant influence on the development of European clockmaking and automata, and it offers insights into daily life and technological innovations in the Islamic world during the medieval period. It's his book that influenced key concepts of modern day robotics
19/07/2023
ইনি হলেন পশ্চিম ওড়িশার বাসিন্দা কবি হলধর নাগ। যার লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য। তিনি ২০টি মহাকাব্য রচনা করেছেন। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১৬ সালে ভারত সরকারের চতূর্থ শ্রেষ্ঠ সম্মানজনক "পদ্মশ্রী" পুরস্কার পেয়েছেন। দিল্লি যাবার পয়সা না থাকায় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদ্মশ্রী পুরস্কার ডাক যোগে পাঠিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হচ্ছে। অনেকেই তাঁর সাহিত্যে নিয়ে পিএইচডি করছেন। হলধর তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও সাহিত্যসেবীদের কাছে তিনি অনুস্মরণীয় ও অনুকরণীয়।
19/07/2023
আমাদের একজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
সমুদ্রের মতো বিশাল জ্ঞানী ছিলেন আমাদের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
২৪টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন। এর মধ্যে ১৮টি ভাষার ওপর তার উল্লেখযোগ্য পাণ্ডিত্য ছিল।
উল্লেখযোগ্য ভাষাসমূহ হলো-
১। বাংলা
২। উর্দু
৩। ফারসি
৪। আরবি
৫। ইংরেজি
৬। অসমিয়া
৭। ওড়িয়া
৮। মৈথিলী
৯। হিন্দি
১০। পাঞ্জাবি
১১। গুজরাটি
১২। মারাঠি
১৩। কাশ্মীরি
১৪। নেপালি
১৫। সিংহলি
১৬। তিব্বতি
১৭। সংস্কৃত
১৮। পালি।
তাঁর নামেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইন্স ফ্যাকাল্টির একটি হল আছে ❝ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল❞।
18/06/2023
সেই আদি আমল থেকে কচ্ছপ আর খরগোশের গল্প আমরা সবাই জানি। কিন্তু মজার বিষয় হল আমরা ১ম অধ্যায়টাই বেশি শুনেছি। কিন্তু এই গল্পের আরো ৩ টি অধ্যায় আছে। যা হয়তো আমরা কেউ শুনেছি, কেউ শুনিনি।
১ম অধ্যায়ঃ এই অধ্যায়ে খরগোশ ঘুমিয়ে যায়, আর কচ্ছপ জিতে যায়। প্রথমবার হেরে যাওয়ার পর খরগোশ বিশ্লেষণ করে দেখল তার পরাজয়ের মূল কারণ 'অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।' তার মানে অতি আত্মবিশ্বাস যে কারো জন্যই ক্ষতিকর। আর কচ্ছপ বুঝল, লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই!
২য় অধ্যায়ঃ হেরে যাওয়ার পর এবার খরগোশ আবারো কচ্ছপকে দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ করল আর কচ্ছপও রাজী হল। এবার খরগোশ না ঘুমিয়ে দৌড় শেষ করল এবং জয়ী হল। খরগোশ বুঝল, মন দিয়ে নিজের সামর্থের পুরোটা দিয়ে কাজ করলে দ্রুত সফল হওয়া যায়। আর কচ্ছপ বুঝল, ধীর স্থিরভাবে চলা ভালো, তবে কাজে উপযুক্ত গতি না থাকলে প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশে জয়ী হওয়া অসম্ভব!
৩য় অধ্যায়ঃ কচ্ছপ এবার খরগোশকে আরেকবার দৌড় প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানালো। খরগোশও নির্দ্বিধায় রাজী হয়ে গেল। তখন কচ্ছপ বলল, "একই রাস্তায় আমরা ২ বার দৌড়েছি, এবার অন্য রাস্তায় হোক।" খরগোশও রাজী। অতএব নতুন রাস্তায় দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হল। যথারীতি খরগোশ জোরে দৌড় শুরু করে দিল। কচ্ছপও তার পিছন পিছন আসতে শুরু করল। কচ্ছপ যখন খরগোশ এর কাছে পৌঁছাল, দেখল খরগোশ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু দৌড়ের শেষ সীমানায় যেতে পারেনি। কারন দৌড়ের শেষ সীমানার আগে একটি খাল আছে। কচ্ছপ খরগোশ এর দিকে একবার তাকালো, তারপর তার সামনে দিয়ে পানিতে নেমে খাল পার হয়ে দৌড়ের শেষ সীমানায় পৌছে প্রতিযোগিতা জিতে গেল। খরগোশ বুঝল, শুধু নিজের শক্তির উপর নির্ভর করলেই হবে না, পরিস্থিতি আর বাস্তবতা অনুধাবন করাও ভীষণ প্রয়োজনীয়! আর কচ্ছপ বুঝল, প্রথমে প্রতিযোগীর দূর্বলতা খুজে বের করতে হবে, তারপর সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।
গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়
৪র্থ অধ্যায়ঃ এবার খরগোশ কচ্ছপকে আরেকটি দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য আহবান জানালো এই একই রাস্তায়। কচ্ছপ ও রাজী। কিন্তু এবার তারা ঠিক করল, প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বরং এবারের দৌড়টা তারা দৌড়াবে সহযোগী হিসেবে!
শুরু হল প্রতিযোগিতা। খরগোশ কচ্ছপকে পিঠে তুলে দৌড়ে খালের সামনে গিয়ে থামলো। এবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠ থেকে নেমে খরগোশকে নিজের পিঠে নিয়ে খাল পার হল। তারপর আবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠে উঠে বাকী দৌড় শেষ করল আর এবার তার দু'জনই একসাথে জয়ী হল।
আমরা শিখলাম, ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকা খুবই ভালো। কিন্তু দলবদ্ধ হয়ে একে অপরের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলেই আসে সত্যিকারের সাফল্য যেখানে সবাই বিজয়ীর হাসি হাসতে পারে।
15/06/2023
**সেইম পোস্ট ফেসবুক সরায়ে দিয়ে মাল্টিপল রেট্রিকশন দেয়াতে, জেদ করে একটু চেঞ্জ করে আবার দিলাম**
স্কুল লেভেলে করা ম্যাথ নিয়ে আমার অবজারভেশন আছে। সেখানে শেখায় ডিস্ক্রিট ম্যাথ, মানে একটা উত্তর আসবে, কত টাকা পাবে, বা কত লাভ হবে। যেমন 'ক' কাজটি কতদিনে করবে? উত্তর হবে, হয় সে পারবে নাইলে পারবে না। এভাবে আমরা ম্যাথ করি, কিন্তু ম্যাথকে ভাবাটা শিখি না।
কিন্তু রিয়েল লাইফে এসে দেখসি, পারবে নাকি পারবে না থেকে, কাজটি কতদিনে হলে ইম্প্যাক্ট কেমন হবে, প্রবাবিলিটি কত? কাজটা না করলে কি হতে পারে সমস্যা, করলেও বা ইনপুট/আউটপুট রেসিও ঠিক আছে? - অনেক অনেক গ্রে এরিয়া ক্রিয়েট হচ্ছে। বাস্তব জীবনে সব প্রবাবিলিস্টিক, সবই একই সাথে ভালো বা খারাপ। হি_ট_লারের খারাপ দিক যেমন আছে, ভালো দিক আছে, আপনি স্ট্যা_লি_নকে হিরো যেমন বানাচ্ছেন, তার লক্ষ মানুষ মা_রা আবার ইগনোর করছেন। ইটস অল অবাউট আপনি কোন ন্যারেটিভকে কতটুক নিচ্ছেন। এটার কোন উত্তর নাই, রিয়েল লাইফের ম্যাক্স সমস্যা একদম ওপেন এন্ডেড এবং এর মধ্য থেকে আপনার চয়েস করা অপশনের উপর অনেক কিছু ডিপেন্ড করে। তখন ম্যাথের মত বাইনারি উত্তর আপনাকে হেল্প করবে না, তবে ক্রিটিক্যাল এনালাইসিস আপনাকে অনেকদূর আগায়ে নিবে
আর একটা ব্যাপক বয়স পর্যন্ত ম্যাথ পারি বলে নিজেকে সুপিরিয়র মনে হত। তারপর বুঝলাম, ম্যাথ,ফিজিক্স জানলে আপনি মোটামুটি ট্যালেন্টেড, কিন্তু যারা বৈশ্বিক পলিসি ঠিক করে, কনজুমার বিহেভিয়ার বা ইনফ্লুয়েন্স ক্রিয়েট করে, তাদের ট্যালেন্টের লেভেলই আলাদা,যুগে যুগে যতকিছু নিজের জীবনের লক্ষ্য বলে চালাচ্ছেন, সব এদের ঠিক করা। এইজন্য যুগে যুগে রাজা বাদশাহ বা পলিটিশিয়ানরা সভ্যতার ইতিহাসের অর্ধেক জায়গা জুড়ে আছে।
- সাফফাত নূর স্যার
19/03/2023
প্রফেসর হয়েও অসংখ্য আলেমের রাহবার
প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহকারী অধ্যাপক। হাফেজ্জী হুজুরের সান্নিধ্যে এসে পরিচিত হন প্রফেসর হজরত হিসেবে। প্রফেসর মানে অধ্যাপক। একজন অধ্যাপক কেমন করে হজরত (নামের আগে সম্মানার্থে ব্যবহৃত শব্দবিশেষ, সম্মানসূচক সম্বোধন) হয়ে ওঠেন- এ এক অবিশ্বাস্য গল্প।
একজন মানুষের দুনিয়াবিমুখতা, ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ঐকান্তিক পরিশ্রম, আলেমদের প্রতি সম্মানবোধ ও ভালোবাসা, শরিয়ত ও সুন্নতের ওপর সার্বক্ষণিক আমলের আপ্রাণ চেষ্টা কতটা নিবিড় ও আন্তরিক হতে পারে তা প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমানকে না দেখলে, তার সম্পর্কে না জানলে, তার সান্নিধ্যে না গেলে বলে কিংবা লিখে বোঝানো যাবে না। তার উদাহরণ বর্তমান সমাজে এক ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত। আলেমদের সোহবত তাকে এমন উচ্চতায় আসীন করেছে, অনেক আলেমদের জন্যও তিনি পরিণত হয়েছেন এক বাস্তব আদর্শে। অসংখ্য আলেম তাকে আধ্যাত্মিক রাহবার (পথপ্রদর্শক ও পীর) হিসেবে মানেন, তার হাতে বায়াত গ্রহণ করেছেন। তাকে দেখে অনেক বুজুর্গ এমনও মন্তব্য করেছেন, তার সান্নিধ্যে সাহাবিদের ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
প্রফেসর হজরত ৯ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছেন। এ সময় মক্তবে গিয়েছেন। গ্রামের বাড়ির কাছেই ছিল মক্তব। মক্তবের উস্তাদ মরহুম মাওলানা মাকবুল হুসাইন (রহ.)-এর কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। শৈশব থেকেই তার পিতা ইয়াসিন (রহ.) তাকে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মক্তবের উস্তাদদের খেদমতে নিয়োজিত করেছিলেন। তাদের সান্নিধ্যেই হজরতের মনে দ্বীনি অনুভূতি সঞ্চার হতে থাকে। এমনিতে তার বাবা ম্যাট্রিক পাস করে সরকারি চাকরি করতেন রেলওয়ে বিভাগে। কিন্তু কোরআন মাজিদের আশেক ছিলেন। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। বাসায় ফিরে বিকেলেও কোরআন পড়তেন। কোরআনের প্রতি পিতার এই ভালোবাসা সন্তানের মনেও আসন গেড়ে বসে।
ইসলামিয়া হাইস্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হতেই বাবাকে হারান। তারপর হজরতের জীবন কঠিন হয়ে ওঠে। সংসারে বাবাই ছিলেন একমাত্র আয়ের উৎস। তার ইন্তেকালে সংসারে নেমে আসে অভাব-অনটনের বোঝা। ঢাকার নিমতলীতে যে বাসায় মা এবং তার আরও দুই ভাইকে নিয়ে থাকতেন, সেখানেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। গ্রামে চলে যেতে হয়।
১৯৫৭ সালে কলেজ পাস করে ভর্তি হন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে বুয়েট)। এ সময় হজরতের সংসার চলত বাবার পেনশনের টাকায়। অনেক কষ্টে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। তারপর শুরু করেন কর্মজীবন। প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন এবং পরে ইংলিশ ইলেক্ট্রিক কোম্পানিতে চাকরি করেন। এ সময় বাসা ভাড়া নেন আজিমপুরে। আর তখনই পরিচয় হয় হজরত মাওলানা আবদুল্লাহ (রহ.)-এর সঙ্গে। তিনি অনেক বড় আলেম ছিলেন। তার কাছে নানা বিষয়ের জ্ঞান লাভ করেন। বিশেষ করে কোরআন মাজিদের ক্ষেত্রে হজরতের পারদর্শিতা মাওলানা আবদুল্লাহ হুজুরের সঙ্গে থাকার বরকতে অর্জিত হয়েছে।
১৯৬৫ সালে হজরত কোম্পানি থেকে ট্রেনিংয়ের জন্য ইংল্যান্ড যান। প্রায় ৯ মাস সেখানে ছিলেন। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে হজরতের দ্বীনি অনুভূতি অনেক বেড়ে যায়, তিনি দাড়ি রেখে দেন। হজরতের মা খুব পরহেজগার নারী ছিলেন। কোরআন তেলাওয়াত নিয়ে দিন-রাত পড়ে থাকতেন, তাহাজ্জুদ পড়তেন। ১৯৬৭ সালে তিনি বিয়ে করেন। তিনি ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। ছেলেরা সবাই হাফেজ ও আলেম।
ইংলিশ ইলেক্ট্রিক কোম্পানিতে হজরতের ব্যাপক পরিচিতি ছিল, সুনাম ছিল। বছর না ঘুরতেই তিনি কোম্পানির জন্য একটা সম্পদ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৯ সালের শুরুর দিকে কোম্পানির প্রোডাক্ট সেলের জন্য ঘুষের প্রচলন শুরু হলে তিনি এর বিরোধিতা করেন। এক পর্যায়ে লোভনীয় চাকরিটি ছেড়ে দেন।
পরে অনেক কম বেতনে ১৯৬৯ সালে তিনি বুয়েটে যোগ দেন। পদবি সহকারী অধ্যাপক। তিনি মাস্টার্স ও পিএইচডি করেননি। সুতরাং তার প্রমোশন হয়নি। এ সময় তিনি তাবলিগে প্রচুর সময় ব্যয় করেন। ইতিমধ্যে বড় ছেলেকে মাওলানা আবদুল্লাহ হুজুরের মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও যেন একটা অপূর্ণতা ছিল। কারণ, আল্লাহ তাকে যে কাজের জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, সেটি যেন এখনো হাতের নাগালেই রয়ে গেছে। শিগগিরই সেটিও পূর্ণ হয়ে যায়। তিনি হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর সোহবত লাভে ধন্য হন।
প্রফেসর হজরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর কাছে বায়াত হন ১৯৭৪ সালে। বায়াতের পর হজরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) অপূর্ব একটি নসিহত করেন। তাহলো- ‘চোখের গোনাহ থেকে বাঁচেন।’ এই এক কথায় হজরতের আমল শুরু হয়ে যায়। এর আগে তাবলিগে সময় লাগানোর কারণে কথাটি বহুবার শুনেছেন। কিন্তু আমলের সুযোগ হয়নি। হাফেজ্জী হুজুরের নসিহতের পর এ আমল শুরু করেন। বায়াত হওয়ার পাঁচ বছর পর তিনি হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর খেলাফত লাভ করেন।
১৯৮০ সালে তিনি হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর সঙ্গে হজের সফর করেন। মদিনায় একদিন ভোররাতে তাহাজ্জুদের নামাজের সময় হয়েছে। যথারীতি হাফেজ্জী হুজুর অজু করে প্রস্তুতি নিয়েছেন মসজিদে যাওয়ার। হাফেজ্জী হুজুরের একটা লাঠি ছিল, ওই সময় লাঠিটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে তাহাজ্জুদের সময় প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে। একটু খোঁজ করেই হাফেজ্জী হুজুর হজরতকে বললেন- ‘থাক, লাগব না লাঠি। আপনিই আমার জিন্দা লাঠি।’ দেশে ফিরেও এই কথা বলেছেন, ‘হামীদুর রহমান আমার জিন্দা লাঠি।’ তখন থেকেই হজরতের নাম হয়ে যায়- ‘জিন্দা লাঠি।’
প্রফেসর হজরত ১৯৮৫ সালে হাফেজ্জী হুজুরের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফর করেন। এ সফরে যাওয়ার আগে তিনি ছুটি পাননি। অনেক অনুরোধের পরও বুয়েট কর্র্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দেয়নি। এ জন্য তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। ইংল্যান্ড সফরের শেষ দিকে হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) হজরতকে বললেন, ‘আপনি আমার জন্য চাকরি ছেড়ে দিলেন? দেশে গিয়ে কী করবেন?’ হজরত বললেন, ‘হুজুর! আমি আল্লাহর খুশির জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। আমার তো কোনো ভয় লাগে না।’ কথার জবাব দেওয়া হয়ে গেল। এখন একটুখানি থেমে হাফেজ্জী হুজুর বললেন, ‘এবার দরসিয়াতের (কওমি নেসাবে) কিতাবগুলো পড়ে ফেলেন। নিজে আলেম হন। নিজে মাদ্রাসা করে পড়ান।’ চিন্তা করলে অবাক হতে হয়, আল্লাহর অলি কী জিজ্ঞেস করলেন, আর কী সমাধান দিলেন?
প্রফেসর হজরত আপন পীর ও শায়খের এই নসিহত পুরোপুরি আদায় করতে পারেননি বলে আফসোস করেন। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন ঠিকই, কিন্তু দরসিয়াতের কিতাবগুলো পড়তে পারেননি। এজন্য এখনো এই বৃদ্ধ বয়সে সময়-সুযোগ হলে কারও কাছে দরসিয়াতের কিতাব পড়ার চেষ্টা করেন।
প্রফেসর হজরত প্রফেশনালি খুব খ্যাতি অর্জন করেছেন। সরকারি পর্যায়ে গঠিত বিভিন্ন কমিটিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। তবে বৈষয়িকভাবে আর ব্যস্ত হতে চাননি। তিনি দুনিয়ার যশ-খ্যাতির তুলনায় আখেরাতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তিনি সফলও হয়েছেন। দুনিয়াতে এর নমুনাও প্রকাশ পেয়েছে। হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভি (রহ.)-এর সর্বশেষ খলিফা মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা আবরারুল হক (রহ.)-এর কাছে বায়াত হন এবং খেলাফত লাভ করেন।
২০১২ সালে তিনি আমেরিকায় দীর্ঘ সফর করেন। এ সময় নিউইয়র্ক, বাফেলো, নায়াগ্রা, মিশিগান, আটলান্টা, ফ্লোরিডা, লস এঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, ডালাস, হিউস্টন এবং অস্টিনে হজরতের প্রোগ্রাম হয়। এসব প্রোগ্রামে তিনি ইংরেজিতে বয়ান করেন। তার ইংরেজি বলার দক্ষতা অসাধারণ। পরে ২০১৪ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০১৫ সালে কানাডা সফর করেন। কিন্তু অসুস্থতার জন্য এরপরে আর বিদেশ সফর করতে পারেননি। তার বিদেশ সফর নিয়ে মাকতাবাতুল ফুরকান থেকে তিনটি সফরনামা বের করা হয়েছে। এ ছাড়া একই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তার অপূর্ব জীবনী, বয়ান, মালফুযাত ও অন্যান্য বিষয়ে আরও ১৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
হজরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ছিলেন কোরআনের মানুষ। তার জিহ্বা সর্বদা নড়ত, জিকির না হলে কোরআন তেলাওয়াত। গ্রামে-গঞ্জে মক্তব প্রতিষ্ঠার মিশন নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন। প্রফেসর হজরত এটা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন। তিনিও মক্তব প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের আনাচে-কানাচে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এখন যখন দুই জনের কাঁধে ভর দিয়ে তাকে দাঁড়াতে হয়, তখনো তিনি ছুটে চলছেন। গাড়িতে শুয়ে শুয়ে সফর করেন। মুখে কথা বলতে কষ্ট হয়। শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছেন। কিন্তু হাফেজ্জী হুজুরের সান্নিধ্য তার অন্তরে কোরআনের যে মহব্বত আসন গেড়েছে, তাতে বিন্দুমাত্র দুর্বলতা আসেনি। এক অপার্থিব রুহানি শক্তিতে তিনি পথ চলেন। এ পথ তিনি আমৃত্যু চলবেন, তার ছায়া আমাদের ওপর আরও দীর্ঘ হোক- দয়াময় আল্লাহর কাছে এই প্রাথর্না করি।
দেশ রূপান্তর॥ আদম আলী।
23/02/2023
বিখ্যাত পাকিস্তানি লেখক মরহুম আশফাক আহমেদ লিখেছেন, রোমে (ইতালি) ব্যস্ত থাকার কারণে আমি সময় মতো ফি জমা দিতে পারিনি, যার কারণে আমাকে আদালতে যেতে হয়েছিল।
বিচারকের সামনে হাজির হলে, তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।
আমি বলেছিলাম যে আমি একজন অধ্যাপক, আমি ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম তাই সময় পেলাম না।
আমি কথা শেষ করার আগে বিচারক বলেছিলেন -
"A TEACHER IN THE COURT ....!!"
এবং প্রত্যেকে উঠে দাঁড়াল এবং আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে চালান বাতিল করে দিল, সেদিন আমি জানতে পারলাম সে দেশের সাফল্যের রহস্য!
শ্রদ্ধার সাথে সমস্ত শিক্ষকের জন্য নিবেদিত রয়েছে বিশ্বের বহুদেশ। সেখানে সর্বাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি / ভিআইপি কে আপনি কি জানেন?
১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ভিআইপি বিবেচনা করে এমন দুই ধরনের লোক রয়েছে: বিজ্ঞানী ও শিক্ষক।
২) ফরাসী আদালতে কেবল শিক্ষকদেরই চেয়ারে বসার অধিকার রয়েছে।
৩) জাপানের পুলিশ সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার পরেই একজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারে।
৪) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি শিক্ষক কেবল তার আইডি কার্ড প্রদর্শন করে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত সমস্ত অধিকার পান।
৫) আমেরিকান এবং ইউরোপীয় দেশগুলিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা সর্বাধিক বেতন পান, কারণ তারা কেবল কাঁচা মাটি পাকা করেন।
৬) ফিনল্যান্ডে টপারদের প্রাথমিক শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
যে সমাজে শিক্ষকদের অপমান করা হবে, সেই সমাজের সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী।
Copied from Dr. Satter