09/09/2024
উম্মাহর এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের করনীয় কি ?
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থকে সমস্ত দল-উপদল , সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের এমনকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থের উর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই - ইসলামের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সমস্ত দল , সংগঠন ভেঙ্গে দেয়ার এবং নাম , প্রতীক ও স্বাতন্ত্র্য মুছে ফেলে একাকার হয়ে যাওয়ার মত উদার ও সাহসী মানসিকতা অর্জন করতে হবে ; দল ও সংগঠনের চেয়ে দ্বীন ও উম্মাহর স্বার্থ প্রিয় হতে হবে। দ্বীন ও উম্মাহর স্বার্থকে সামনে রেখেই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দুটি বিষয়ের উপর:
১/ঈমানী ঐক্য।
২/মানব ঐক্য।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূণ্যসংস্পর্শে এশে সাহাবায়ে কেরামের অন্তর থেকে সুনাম-সুখ্যাতি , কীর্তি এবং দল-উপদল , সংগঠন ও ব্যক্তি স্বার্থের মোহ বিলকুল দূর হয়ে গিয়েছিল ; সবাই মিলে হয়েছিলেন একদেহ একপ্রাণ ঐক্যবদ্ধ জাতি। ফলশ্রুতিতে পৃথিবী ও মুসলিম উম্মাহ কি পেয়েছিল তা সবারই জানা। তাদের পথ ও পন্থা ছেড়ে নিজেদের মনগড়া পথ অবলম্বন করাই কি হারিয়েছি তা-ও সবার সামনে দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও পরিস্কার।
দেখুন - রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনদের মনে সুনাম সুখ্যাতির চিন্তা থাকে না, থাকে না ঝগড়া-বিবাদ ; সবার চিন্তা ও চাওয়া পাওয়া হয়; যেভাবেই হোক রোগী সুস্থ হয়ে উঠুক। গোটা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ আজ অন্তিম শয্যায় মুমূর্ষু রোগী। তাই আমাদেরকে আত্মস্বার্থ থেকে শুরু করে সকল কলহ-কোন্দল , হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করে দ্বীন ও উম্মাহর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবেই। কারণ , যেকোনো মহৎ কাজে আত্মকলহ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তাই আমাদের জীবন যতো সহজ ও অনাড়ম্বর হবে , ত্যাগ ও কোরবানীর মহত্ত্বে যতো মহীয়ান হবে; কর্মের ময়দানে , সংগ্রামের ক্ষেত্রে তাঁর সুফলও হবে ততো গভীর ও সুদূরপ্রসারী।