Irsalus Sunnah Wa Dawah

Irsalus Sunnah Wa Dawah

Share

পৃথিবীর আনাচে কানাচে সর্বস্তরের মানুষের কাছে দ্বীন ইসলাম পৌঁছিয়ে দেওয়া ও বাস্তবায়ন করা।

09/09/2024

উম্মাহর এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের করনীয় কি ?

ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থকে সমস্ত দল-উপদল , সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের এমনকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থের উর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই - ইসলামের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সমস্ত দল , সংগঠন ভেঙ্গে দেয়ার এবং নাম , প্রতীক ও স্বাতন্ত্র্য মুছে ফেলে একাকার হয়ে যাওয়ার মত উদার ও সাহসী মানসিকতা অর্জন করতে হবে ; দল ও সংগঠনের চেয়ে দ্বীন ও উম্মাহর স্বার্থ প্রিয় হতে হবে। দ্বীন ও উম্মাহর স্বার্থকে সামনে রেখেই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দুটি বিষয়ের উপর:
১/ঈমানী ঐক্য।
২/মানব ঐক্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূণ্যসংস্পর্শে এশে সাহাবায়ে কেরামের অন্তর থেকে সুনাম-সুখ্যাতি , কীর্তি এবং দল-উপদল , সংগঠন ও ব্যক্তি স্বার্থের মোহ বিলকুল দূর হয়ে গিয়েছিল ; সবাই মিলে হয়েছিলেন একদেহ একপ্রাণ ঐক্যবদ্ধ জাতি। ফলশ্রুতিতে পৃথিবী ও মুসলিম উম্মাহ কি পেয়েছিল তা সবারই জানা। তাদের পথ ও পন্থা ছেড়ে নিজেদের মনগড়া পথ অবলম্বন করাই কি হারিয়েছি তা-ও সবার সামনে দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও পরিস্কার।

দেখুন - রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনদের মনে সুনাম সুখ্যাতির চিন্তা থাকে না, থাকে না ঝগড়া-বিবাদ ; সবার চিন্তা ও চাওয়া পাওয়া হয়; যেভাবেই হোক রোগী সুস্থ হয়ে উঠুক। গোটা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ আজ অন্তিম শয্যায় মুমূর্ষু রোগী। তাই আমাদেরকে আত্মস্বার্থ থেকে শুরু করে সকল কলহ-কোন্দল , হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করে দ্বীন ও উম্মাহর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবেই। কারণ , যেকোনো মহৎ কাজে আত্মকলহ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তাই আমাদের জীবন যতো সহজ ও অনাড়ম্বর হবে , ত্যাগ ও কোরবানীর মহত্ত্বে যতো মহীয়ান হবে; কর্মের ময়দানে , সংগ্রামের ক্ষেত্রে তাঁর সুফলও হবে ততো গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

28/07/2023

পরিপূর্ণ আনুগত্যের মাঝে সফলতা •••
ইতিহাস ও চরিত অধ্যায়নের মাধ্যমে দিবালোকের ন্যায় এটাই স্পষ্ট হয় যে, আমরা যাদেরকে আকাবির বলে দাবি করি, আমরা তাদের মতাদর্শ ও পন্থা অবলম্বন করি না। কারণ, সবক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ছিল ই’তিদাল তথা ইনসাফপূর্ণ। আর আমরা তাদেরকে অতিক্রম করে চলে গিয়েছি সেই জাহেলিয়াতের যুগে; যাদের অবস্থান ছিল, হয়তো ইফরাত, নয়তো তাফরীত; তবে আমাদের মাঝে ইফরাত তথা বাড়াবাড়ির মাদ্দা প্রবল! “মা’আযাল্লাহ”

তাদের অবস্থান ছিল - কোন বিষয়ে ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে সংশোধনের পথ ও পন্থা অবলম্বন করা; ভুলের স্বপক্ষে যুক্তি কিংবা দলিল দাঁড় করানো নয়। ভুল স্বীকার করার মাঝেই তো প্রকৃত উত্তরসূরীর আলামত পাওয়া যায়। নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে সম্মান বৃদ্ধি পায়। মানুষ বলতেই তো ভুল হতে পারে, মুক্তি ও সফলতা তো বর্জন করার মাঝে, ভুলকে ঠিক করার পিছনে যুক্তি কিংবা দলিল দাঁড় করানোর মাঝে তো পথ ভ্রষ্ট, পদস্খলন; যা ছিল শয়তানের কাজ। এটা কি ভাবে হয় একজন মুসলিমের কাজ! বুঝে আসে না...

আল্লাহ ক্ষমা করে পরিপূর্ণ ভাবে শরীয়তকে আঁকড়ে ধরার তৌফিক দিন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

বান্দা - মাওলানা সুহাইব।

26/07/2023

আদর্শ ও সুস্থ সমাজ গঠনে তা/লি/বা/নে/র ভূমিকা পশ্চিমা মিডিয়ায় উপেক্ষিত

আলী হাসনাত
Al Firdaus news

২০২১ সালের আগস্টে তা--লি--বা--ন যোদ্ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে আ-ফ-গা-নি-স্তা-নে-র রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করেন। সমাপ্তি ঘটান বিশ বছরের দীর্ঘ এক যুদ্ধের। তা--লি--বা--ন যোদ্ধারা তখন দেশটির প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে পূণরায় ইমারাতে ইসলামিয়ার ধারাবাহিকতা ঘোষণা করেন; প্রথমবার যা ১৯৯৬ সালে শুরু হয়ে ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল।

আ-ফ-গা-নি-স্তা-নে পূণরায় তা--লি--বা--ন কর্তৃক দেশের শাসনভার গ্রহণ করাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখেনি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত বিশ্বের প্রায় মিডিয়াই। পুরো সময়টা জুড়েই মিডিয়াগুলোর প্রচারনা ছিলো ইসলাম বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে। ফলে এসব মিডিয়ায় জায়গা পায়নি আ-ফ-গা-নি-স্তা-নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের হিসাব, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক কোনো পরিসংখ্যান। জায়গা পায়নি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পুতুল সরকার কর্তৃক দেশটিকে অর্থনীতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার পর মানুষ যখন খাবারের জন্য হাহাকার করছিল তখন দেশটির রিজার্ভ আটকে রাখার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ।

আবার, এহেন পরিস্থিতিতে তা--লি--বা--ন সরকার কর্তৃক আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কোনো কিছুই উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায়।

যেমন, তা--লি--বা--ন সরকার কর্তৃক দেশে চিকিৎসালয়, শিক্ষালয় ও আবাসন নির্মাণ, কর্মসংস্থান তৈরি, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজলভ্য করণ এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে তেল ও খনিজ সম্পদের মজুদ প্রক্রিয়াকরণ, কয়েকটি দেশের সঙ্গে শুরু হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য ইত্যাদি; এ ধরনের বিষয়গুলোতে কোনো দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি মিডিয়া আউটলেটগুলো।

বিপরীতে পশ্চিমা ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার জন্য আফগানিস্তানের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পশ্চিমাদের নিজস্ব অনুমান দ্বারা সংজ্ঞায়িত কথিত নারী অধিকারের নামে পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুসরণ বন্ধ করা, ইসলামি অনুশাসনে রাষ্ট্র পরিচালনা করা এবং গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস ও নিষিদ্ধ করার বিষয়গুলো।
যদিও বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নারীদের মাধ্যমিক স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে তালিবান সরকার, তবে সকল মাদ্রাসায় নারীদের শিক্ষাকার্যক্রম চলমান ছিল; অনেক প্রদেশে চলমান ছিল নারীদের মাধ্যমিক স্কুলও।

আবার নারীদের নিয়ে বিশেষ পুলিশ বাহিনী গঠন, নারীদের জন্য নামমাত্র খরচে নারীদের মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দেওয়া, অসহায় নারীদের ব্যবসা শুরু করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান এসব সংবাদ কখনোই স্থান পায়নি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায়।

ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রতি তার মনোভাব ছিলো স্পষ্ট। সাংবাদিকরা ইমারাতের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করল, এই পরিস্থিতিতে সঙ্গীতশিল্পীরা কী করবেন?
তখন উক্ত কর্মকর্তা উত্তর দিয়েছিলেন “তাদের এমন একটি চাকরি খুঁজে পাওয়া উচিত যা তাদের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করবে এবং অর্থনৈতিক ভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করবে।

সম্প্রতি ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসনের “ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে বারণ” মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, গান-বাজনার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে অভিযান চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গজনি সহ বিভিন্ন প্রদেশে তল্লাশি এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে কাজ শুরু করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অনেক বাদ্যযন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে “ইসলামী শরীয়তে এধরণের সঙ্গীতের কোন স্থান নেই।”

একই বিবৃতিতে এটাও বলা হয়েছে যে, এসব বাদ্যযন্ত্রের মালিকদের পরামর্শ এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তারা যেনো এধরণের নিষিদ্ধ গান-বাজনা না করেন এবং হালাল রিজিকের অন্বেষণ করেন।

উপরোক্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক রাজধানী কাবুল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জব্দ করা বাদ্যযন্ত্রগুলোকে পুড়িয়ে ধ্বংস করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের শেয়ার করা ছবিগুলিতে বলা হয়েছে যে, “এসব বাদ্যযন্ত্র, ক্যাসেট এবং অনুরূপ জিনিসগুলো সমাজের নৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে এবং তরুণদের বিকাশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। যার ফলে একটি বিকলাঙ্গ সমাজ গড়ে উঠে।”

আর সার্বিক এই বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করে যাচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়া ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া আউটলেটগুলো।

বিবিসির মতো অপর কিছু মিডিয়াও এমনকি তালিবান কর্তৃক মাদকের উৎপাদন ও বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণের বিষয়টিকেও নেতিবাচকভাবে প্রচার করার প্রয়াস চালিয়েছে।
পপিক্ষেত ধ্বংস করার ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করবে, দেশে বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ দেখা দিবে, পশ্চিমা দেশগুলোতে মাদকের মূল্যবৃদ্ধি ও মান কমে যাবে, পশ্চিমা দেশগুলোতে তখন অতিরিক্ত মাদক গ্রহণে মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে – ইত্যাদি নানান অনুমাননির্ভর ‘ক্ষতি’র তালিকা প্রকাশ করছে কথিত পশ্চিমা থিংকট্যাঙ্কগুলো।

অথচ এসকল সমস্যা যেন তৈরি না হয়, এজন্য তালিবান কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই চাষিদের জন্য পপি চাষের লাভজনক বিকল্প হিসেবে জাফরান ও গম চাষে ব্যাপক সহায়তা প্রদান করেছে। তাছাড়া দেশজুড়ে কৃষির সম্প্রসারণের জন্য কুসতিপার মতো বিশাল আকারের খাল খনন সহ বেশ কিছু মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে তালিবান কর্তৃপক্ষ। এগুলোর কোনটিই যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে স্থান পাচ্ছে না পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায়।

ময়দানের যুদ্ধ তা-লি-বা-নে--র কাছে পরাজিত পশ্চিমারা এখনও তাদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন এবং অর্থনৈতিক ও মিডিয়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

10/07/2023

কেন আমাদের দোয়া কবুল হচ্ছে না!

•ইব্রাহিম বিন আদহামকে জিজ্ঞাসা করা হল, আমাদের কি হলো দোয়া করি কবুল হয় না? অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন "তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো''।

•তিনি উত্তরে বলেন: কারণ তোমাদের অন্তর মৃত. আবার প্রশ্ন করা হলো, কিসে মেরে ফেলেছে অন্তর সমূহকে?

•তিনি তার উত্তরে বলেন আটটি অভ্যাস বা কারণ;
১- তোমরা আল্লাহ তা'আলার হক জেনে-বুঝেও তা আদায় করনা।
২- তোমরা কুরআন পড়ো। অথচ তার সীমারেখা অনুযায়ী আমল কর না।
৩- তোমরা বল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমরা মুহাব্বাত করি। অথচ তার সুন্নত অনুযায়ী চলনা।
৪- তোমরা বল আমরা মৃত্যুকে ভয় করি। অথচ তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছ না।
৫- আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয় শয়তান তোমাদের স্পষ্ট শত্রু, তাই তোমরা তাঁকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো"। অথচ তোমরা গুনার ক্ষেত্রে তার সাথে একমত পোষণ করেছো অর্থাৎ তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছো।
৬- তোমরা বলে থাক আমরা জাহান্নামকে ভয় করি অথচ তোমরাই তাতে তোমাদের শরীর পুড়াচ্ছো। অর্থাৎ তোমরা নিজেরাই জাহান্নামের শাস্তি ও কষ্টের দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছ।
৭- তোমরা বল আমরা জান্নাত চাই অথচ তার জন্য কিছুই করছো না।
৮- প্রতিদিন যখন তোমরা ঘুম থেকে উঠ তখন নিজেদের দোষ গুলো পিছে রেখে মানুষের দোষ গুলো সম্মুখে বিছিয়ে দাও। অর্থাৎ শুধু মানুষের দোষ গুলো খুঁজে বেড়াও। অথচ নিজেদের জীবনে দোষের অভাব নেই।
এই সমস্ত কাজ করে আল্লাহকে তোমরা রাগান্বিত করেছ. এখন তোমরাই বল: তিনি কিভাবে তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন?

(আল-মুখতার মিন ফারাইদিন-নুকূলি ওয়াল আখবার)। খন্ড ২ পৃষ ৯০
মুহাম্মাদ আওয়ামা হাফিজাহুল্লাহ।

28/06/2023

আদ-দ্বী+ন আন-না+সী+হা•••
মানুষের ভুল হতেই পারে, মানুষ তো ভুলের উর্ধ্বে নয়; তবে সাথে সাথে তাওবা করে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে আসা শ্রেষ্ঠ মানবের পরিচয়। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মুমিন জান-মাল দিতে সদা প্রস্তুত, তবুও বিন্দুমাত্র আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করতে রাজি নয়। কারণ, মানব জীবনে সকল অঙ্গনে আল্লাহর আনুগত্য করার নামই ইবাদত। তখনি ঈমান পুর্ণাঙ্গ হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো- কারো কাছে ভুল ধরা পড়লে, সে যদি ভুল ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের পথ বাতলে দেয়; এটা কি তাঁর অপরাধ, নাকি হিতয়শী? যে ভুল করে তাকে অপরাধী না বলে, যে ভুল ধরিয়ে দেয় তাকে কেন অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়; এটা শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু যুক্তিযুক্ত বা দালিলিক?

কিছুতেই আমার বুঝে আসেনা, বহুদিন যাবত ভাবছি, এটা কোন ধরনের বিচার, সিদ্ধান্ত? ভুল স্বীকার করতে সমস্যা কোথায়, কিই-বা ক্ষতি হয়ে যাবে! ভুল স্বীকার করার মাঝেই তো প্রকৃত উত্তরসূরীর আলামত। সফলতা কি গাছের পাতা চাইলাম আর পেয়ে গেলাম। সফলতা পেতে হলে ভুল স্বীকার করে সত্যের পথে আল্লাহর আনুগত্য করে ফিরে আসতেই হবে; মনগড়া পথ,আইন-কানুন বর্জন করে।

সবাই যদি মনে করে আমি শ্রেষ্ঠ মানব, আমি বিজ্ঞ, আমি সবকিছু ঠিকঠাক বুঝি, অভিজ্ঞ আর কেউ নেই; আমার কোন ভুল হতেই পারে না। আমাকে মানতে হবে। যে না মানবে সে পথভ্রষ্ট, গোমরাহ। ভুলের ক্ষেত্রে কাউকে অনুসরণ করা কি ঠিক বা বৈধ কিংবা জরুরি? তাহলে বিদায় হজে দীর্ঘ খুৎবা প্রদান করার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছিলেন-

أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ ؟ ". قُلْنَا : نَعَمْ. قَالَ : " اللَّهُمَّ اشْهَدْ، فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ ؛ فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلِّغٍ يُبَلِّغُهُ مَنْ هُوَ أَوْعَى لَهُ

আমি কি তোমাদের কাছে সবকিছু ঠিকঠাক পৌঁছিয়ে দিয়েছি? প্রতিউত্তরে সাহাবায়ে কেরাম বলছিলেন - অবশ্যই, ইয়া রাসূলুল্লাহ। হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। তাহলে শুনে রাখো - যারা উপস্থিত হয়েছো তোমরা যারা অনুপস্থিত তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিও। কারণ, বাহকের চেয়ে যার কাছে তা পৌঁছিয়ে দিবে সে তাঁর থেকে বেশি সচেতন-সংরক্ষণকারী । বুখারী [৭০৭৮ ]

আরেক জায়গায় প্রশংসা ও আরও স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন-

عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ ؛ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ.

যায়েদ ইবনে সাবিত রাযি. থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে সৌভাগ্যবান করুন, যে আমার কাছে হাদিস শুনে অন্যের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত ভালো ভাবে মুখস্থ রেখেছে। কারণ, অনেক ফেকাহ বহনকারীর চেয়ে যার কাছে নিয়ে যায় সে অধিকতর ফকিহ হয়। আর অনেক ফেকাহ বহনকারী ফকিহ হয় না।
আবু দাউদ [৩৬৬০]

এগুলো থেকে কি বুঝে আসে, সবাই তো বুদ্ধিমানের দাবিদার। ঘুমন্ত বিবেককে জাগ্রত করুন। নিজের মতো করে শরীয়ত না বুঝে, স্বর্ণযুগের ইসলামপন্থী উলামায়ে কেরাম থেকে দ্বীন বুঝে বাস্তবায়ন করুন। দেখুন কি হয়?

সুতরাং এই দুই হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে- প্রতি যুগেই ফকিহদের বুঝের মাঝে তারতম্য হবে; কেউ বেশি সমঝদার হবে, কেউ তাঁর চেয়ে কম আর কেউ বুঝবেই না। এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত চলতেই থাকবে। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন যোগ্য মরদে মুজাহিদ বিদগ্ধ আলেমে দ্বীনে-র মাধ্যমে আল্লাহ পৃথিবীতে ইসলাম-ধর্ম টিকিয়ে রাখবেন। তাই বুদ্ধিমান, সচেতন ও শরীয়তের সঠিক হেফাজতকারীদের মাঝে তারতম্য ঘটবেই। আল্লাহ সহায় হোন।

বান্দা - মাওলানা সুহাইব

16/06/2023

অভিশপ্ত শয়তানের অনুসারী কি হবে...?
মানব জাতির মুক্তির একমাত্র পথ ইসলাম তথা আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য; কথা ও কাজে, বিশ্বাস ও ভালোবাসার সাথে। ভয় ও আশা নিয়ে যদি আল্লাহর পূর্ণ অনুগত বান্দা হতে পারো তবেই মিলবে মুক্তি। যা তোমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই পরিপূর্ণ ভাবে মানতে হবে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করে; ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।

তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে- সেই আনুগত্যের বিপরীতে নাফরমানির খাতায় নাম লেখায় শয়তান; ধোঁকা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে। ব্যক্তি বিশেষ শয়তানের চক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সেজন্য সে ষষ্ঠদিক থেকে পেতেছে হাজারো ফাঁদ, আবদ্ধ করতে তাঁর মায়া জালে। ব্যক্তি যতবড় হয় তার ধোকাটাও হয় সূচালো-গুছালো, সুশোভিত। দেখলে মনে হবে, এটিই একমাত্র সরল ও সঠিক পথ। কিন্তু তা গোমরাহী, ভ্রষ্টতা ছাড়া বৈ কিছুই না। আসলে বিভ্রান্ত করতে যেভাবে সম্ভব সে মানুষকে তাঁর অনুসারী বানাতে প্রস্তুত। তাই মানুষ না জেনে না বুঝে তাঁর আনুগত্যের শিকার হয়। কারণ, শয়তানের প্রধানত হাতিয়ার হলো ধোঁকা, প্রতারণা-ছলনা আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি; যা মৃত্যুর পর প্রকাশ পাবে। তবে জ্ঞানীদের কাছে দুনিয়াতেও পায়।
মা’আযাল্লাহি মিনহু।

দেখুন সে অভিশপ্ত হওয়ার পর কি বলেছিল, কি ক্ষমতা নিয়ে এসেছিল জান্নাত থেকে পৃথিবীতে। আর মহান আল্লাহ কি বলেছিলেন তাকে ও তাঁর অনুসারীদেরকে উদ্দেশ্য করে - মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং আমল করার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। আল্লাহ-ই শ্রেষ্ট সহায়ক।

সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। [সুরা আরাফ - ১৬]

এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।
[সুরা আরাফ - ১৭]

আল্লাহ বললেনঃ বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথেচলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।
[সুরা আরাফ - ১৮]

তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না। [সুরা বনী-ইসরাঈল -৬৪]

আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করে প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান, তাহলে শয়তান কেনো; কেউ আপনাকে ধোঁকা দিতে পারবে না। কোন ক্ষতি করতেও না। কারণ, আপনি আল্লাহর হয়ে গেছেন, আল্লাহ আপনার হয়ে গেছেন। এখন আপনি আল্লাহর পূর্ণ নিরাপত্তায় আরামে বসবাস করছেন।

إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ وَكَفَى بِرَبِّكَ وَكِيلاً
আমার বান্দাদের উপর তোর কোন ক্ষমতা নেই আর আপনার পালনকর্তা যথেষ্ট কার্যনির্বাহী।
[সুরা বনী-ইসরাঈল - ৬৫]

বান্দা - মাওলানা সুহাইব

Photos from Irsalus Sunnah Wa Dawah's post 15/06/2023

শিয়া সম্প্রদায়, গলাবাজ, মিথ্যাচার কাফের গোষ্ঠী -
বহু আগ থেকেই এদের উৎপত্তি ঘটেছে, এরা চরম পর্যায়ের সাহাবা বিদ্বেষী মতাদর্শে বিশ্বাসী। এরা সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে অনেক বেশি গলাবাজি করে, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কলুষিত করতে চায় পবিত্র জামায়াতকে। সবাইকেই, তবে বিশেষ করে আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ও উমর ফারুক রাযি. এবং উসমান গনি রাযি. আর আয়েশা সিদ্দিকা ও হাফসা রাযি. -দের ব্যাপার চরম পর্যায়ে বিদ্বেষ পোষণ করে। আর অবাধ লেখালেখি ও বক্তব্য দিয়ে থাকে। অথচ যাদের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন- তাঁরা সত্যদল-ঈমানের মাপকাঠি। তাঁরা তারকাতুল্য, যেই তাদের কাউকে অনুসরণ করবে; সঠিক পথ পাবে। আমার সাহাবিকে যে ভালোবাসবে , অনুসরণ করে সে আমাকে মহব্বত করলো। আর যে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে আমার প্রতি আক্রোশ থাকার কারণেই এমনটি করে।

কিন্তু প্রতিযুগেই এরা আল্লাহর সৈনিকদের কাছে লাঞ্চিত হয়ে আসছে। তাদের প্রতিহত করছেন লেখালেখি, বক্তব্য ও মাঠে লড়াই করে। তবুও এদের চেলাপেলারা মাঝে মধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাই এযুগেও এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হয় এরা আরও হাঙ্গামা করে ছাড়বে। তাই উলামায়ে উম্মাহর রেখে যাওয়া লেখা, বক্তব্যগুলো ছেপে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রসার করা আর মানুষদেরকে এদের গোমরাহী সম্পর্কে অবগত করে দেওয়া, যেন এদের ধোঁকা থেকে মানুষ নিজেদের ঈমান আমলকে বাঁচাতে পারে।

এরা আলী রাযি. -কে নামে মাত্র তথা মুখে মুখে মানে, কাজে-কর্মে ইহুদী-খৃষ্টান এর চেয়ে কম নয়। সাথে সাথে সালমান ফারসী ও আবু জর গিফারী রাযি.-কে খুব ভক্তি শ্রদ্ধা করে। তাদের ব্যাপারে নিশ্চুপ হয়ে নিরবতা অবলম্বন করে। আর সমস্ত সাহাবিদের নিয়ে গলাথাপড়ায়। এমন কথা বলে যা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তাই নিচে কিছু স্ক্রিনশট দিলাম। দীর্ঘদিন যাবত এদের কথা শুনে আসছি। তবে তাদের সম্পর্কে তেমন পড়াশোনা বা তাহকীক করা হয় নাই; কিছুদিন যাবত এদের নিয়ে পড়ছি, যা মনে হলো - একজন সাধারণ মানুষের কাছেও যদি তাদের মতাদর্শ ও বক্তব্যগুলো পেশ করা হয়; নির্দ্বিধায় বলে দিবে এরা মিথ্যুক , চাপাবাজ, কাফের সম্প্রদায়।

বান্দা - মাওলানা সুহাইব

14/06/2023

শত্রুতা-মিত্রতা কালিমার আবশ্যক বিষয় •••
শরীয়তকর্তৃক নির্ধারিত শত্রুতা-মিত্রতা কার্যকর করা ব্যতীত শরীয়তের কোন আকীদা নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। কারণ, শত্রুতা-মিত্রতা তাওহীদের আকিদার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই শত্রুতা-মিত্রতা’র আলোচনায় তাওহীদের কারিমার ভিত্তি সম্পর্কে আলোচনা না থেকে পারে না। তাওহীদের আকিদা যথাযথভাবে জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরী। যেন তাদের শত্রুতা-মিত্রতা এর ভিত্তিতেই হয়। তাই তাগুতের সাথে শত্রুতা আর মুসলমান-মুমিনদের সাথে মিত্রতা গড়ে তোলার জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর ফলাফল উল্লেখ করে কুরআনে বলেছেন -

যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে। [সুরা মুজাদালাহ -২২]

বান্দা - মাওলানা সুহাইব

10/06/2023

একদেহ এক প্রাণ, ঐক্যবদ্ধ জীবন•••
যে জাতি ভিতরগত সমস্যায় জড়িয়ে যায়, তাদের উত্থান ঘটলেও পতন হয়ে যায় খুব দ্রুত; কারণ, তাদের মাঝে একতা বলতে কিছুই থাকে না, যা বিপ্লব ঘটানোর পর সঠিক পথে স্থিরতাকে দৃঢ়-মজবুত করে তোলে। তাই সবভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে জীবন-যাপন করা জরুরি। আর তাঁরা শুধুই হিংসা-বিদ্বেষ ও আত্মকলহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যা একটি জাতিকে বিভক্ত করে নির্মূল করে দেয়। ফলে তারা বাঁচার মতো বাঁচতে না পেয়ে পথ ভ্রষ্ট পথিকের ন্যায় ভবঘুরে।

মুসলিম উম্মাহর বিপ্লব ঘটাতে হলে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, নিজেদের মনগড়া আইন-কানুন ও মতবাদ ছেড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিতে হবে; এক পরিচয় ও এক দলবদ্ধ হয়ে। নববী তরীকায়, সাহাবায়ে কেরামের পথ ও পন্থায় ফিরে আসতেই হবে। আদর্শ ও ঈমানী চেতনা বৃদ্ধির এটাই একমাত্র পথ। কারণ, বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়া অবশ্যই ইসলামে নিন্দনীয় ও বর্জনীয়।

বান্দা - মাওলানা সুহাইব

06/06/2023

একমাত্র মুক্তি নববী তরীকায় •••
হে নবী আপনি বলুন - আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। [সূরা আনআম - ১৬২]
আমি যদি শুধু মুখে একথা বলি, সঙ্গে হৃদয়ের প্রতিধ্বনি ও অন্তরের সত্যতা না থাকে, অর্থাৎ বাস্তবে সালাতসহ আমার সকল ইবাদত এবং জীবন-মরণ আল্লাহর জন্য নিবেদিত না হয়, তাহলে আমার মুখের এ'দাবি আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে কি?

অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আবেগ অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন এ'ভাষায় -
والَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ودِدْتُ أنِّي أُقاتِلُ في سَبيلِ اللهِ فَأُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيا ثُمَّ أُقْتَلُ.
ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমার মন চায় আমি আল্লাহর পথে জিহাদ যুদ্ধ করবো, তারপর আমাকে শহীদ করা হবে, আবার জীবিত করা হবে, আবার শহীদ করা হবে, আবার জীবিত করা হবে এবং শহীদ করা হবে অর্থাৎ বারবার জীবিত হবো শহীদ হবো এটাই আমার মনের বাসনা। [বুখারী -৭২২৭]

এপরিস্থিতিতে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকে তাগুত কর্তৃক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ আখ্যা দেওয়ার সঙ্গে –আল্লাহর পানাহ!– একমত পোষণ করে আমার খায়েশ যদি হয় উদাহরণস্বরূপ তাহাজ্জুদের সালাতে মৃত্যুবরণ করা, তাহলে আমার প্রবৃত্তি রাসূলের আনীত দ্বীনের অনুগত বলে স্বীকৃতি পাবে কি?

অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষনা করে গেছেন -
لا يؤمنُ أحدُكم حتّى يَكونَ هواهُ تبعًا لمّا جئتُ بِهِ.
তোমাদের কেউ ঈমানদার হবে না তাঁর প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে আগমন করেছি তার অনুগত হওয়া পর্যন্ত।

সুতরাং একটু ভেবে দেখুন আমাদের অবস্থান কোথায় আর আমরা কি পরিমান দাবি করে থাকি; কথা ও কাজে শুধুই অমিল।

03/06/2023

সেই কওমের প্রতিপাদ্য বানাও আমাদের, যাদের ব্যাপারে তুমি বলেছো—
﴿یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ مَن یَرۡتَدَّ مِنكُمۡ عَن دِینِهِۦ فَسَوۡفَ یَأۡتِی ٱللَّهُ بِقَوۡمࣲ یُحِبُّهُمۡ وَیُحِبُّونَهُۥۤ أَذِلَّةٍ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِینَ أَعِزَّةٍ عَلَى ٱلۡكَـٰفِرِینَ یُجَـٰهِدُونَ فِی سَبِیلِ ٱللَّهِ وَلَا یَخَافُونَ لَوۡمَةَ لَاۤىِٕمࣲۚ ذَ ٰ⁠لِكَ فَضۡلُ ٱللَّهِ یُؤۡتِیهِ مَن یَشَاۤءُۚ وَٱللَّهُ وَ ٰ⁠سِعٌ عَلِیمٌ ۝٥٤
হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যারা স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ (তাদের পরিবর্তে) এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। যারা হবে ঈমানদারদের প্রতি বিনয়-নম্র, কাফেরদের প্রতি কঠোর। যারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী। [সুরা মায়েদা -৫৪]

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির রাহি. বলেন - নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর শরিয়ত বাস্তবায়ন ও দ্বীনের সহযোগিতা করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে; আল্লাহ তাদের পরিবর্তে এমন সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যারা হবে তাদের থেকে শ্রেষ্ট, আল্লাহর পথে প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর।

যেমনটি আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন- যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না। [সুরা মুহাম্মাদ -৩৮]

হে মানবকূল, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সরিয়ে তোমাদের জায়গায় অন্য কাউকে প্রতিষ্ঠিত করেন? বস্তুতঃ আল্লাহর সে ক্ষমতা রয়েছে। [সুরা নিসা -১৩৩]

তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল যথাবিধি সৃষ্টি করেছেন? যদি তিনি ইচ্ছা করেন, তবে তোমাদেরকে বিলুপ্তিতে নিয়ে যাবেন এবং নতুন সৃষ্টি আনয়ন করবেন।
আর এটা আল্লাহর পক্ষে মোটেই কঠিন নয়।
[সুরা ইবরাহীম - ১৯,২০]

বান্দা - মাওলানা সুহাইব

27/05/2023

ইন্টারফেইথ ষড়যন্ত্র-মুসলিম উম্মাহর জন্য কালসাপ•••
চতুর্দিকে আপনার-আমার ঈমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র চালু করে রেখেছে; তাঁরা আমাদের ঈমানী শক্তি ও সাহস বৃদ্ধি করতে এবং ঈমান নিয়ে বাঁচতে দিবে না। যেদিকেই তাকান দেখবেন ঈমান বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভাব নেই। শুনুন পথে টাকা দিলেও কষ্ট করে পথ চলা সম্ভব হয়, শরীর কিছুটা ক্ষতবিক্ষত হলেও ঈমান বেঁচে যায়। কিন্তু ঈমান নষ্ট হয়ে গেলে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে; কারণ, ঈমানহীন জীবন কোন কাজে আসে না, এজীবন নিয়ে বাঁচলেও কোন লাভ হয় না। শুধু বাহ্যিকটাই সুন্দর ও আকর্ষণীয় দেখায় ভিতরটা অন্ধকারে ডুবে থাকে।

ইন্টারফেইথ আসলে কি, একটু শুনবেন কি? তাহলে শুনুন - ইহুদী, খৃষ্টান তথা তাগুত সম্প্রদায়ের বক্তব্য - পৃথিবীতে ইসলাম থেকে শুরু করে সকল ধর্মই ঠিক; যে যা মানবে সেমতে পালন করবে তাই তাঁর জন্য মুক্তির মাধ্যম হবে। জান্নাতে যাওয়ার জন্য সহায়ক হবে, আল্লাহর কাছে ধরা পড়তে হবে না। এমন কুফরী মতবাদ প্রচার-প্রসার করে বর্তমান সময়ে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও ঈমানীবল বিনষ্ট করার পিছনে এরা জোরদার কাজ করে যাচ্ছে! শত্রুরা সজাগ -সচেতন , নির্ঘুম রাত কাটায় মুসলিম উম্মাহকে ধ্বংস করতে, মুছে দিতে অস্তিত্ব; যদিও পারবে না। আমরাই ঘুমন্ত, বিবেকহীন, উদাসীন হয়ে আছি; যে যা বলে তাই করু, ভাবার সময় নেই; ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষা না থাকায়।

আমাদের সবচেয়ে বড় মূল্যবান সম্পদ ঈমান, তা বিনষ্ট করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে; কীভাবে কি কি কাজ করে তা বাঁচানো যাবে এবং কিকি কাজে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় তা এই কিতাব থেকে সহায়তা পাবেন ইন শা আল্লাহ। তাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, বুঝুন ও আমলে বাস্তবায়ন করুন সকলের জীবনে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। বইয়ের রিভিউ দিবো পড়ে ইন শা আল্লাহ। এখন আপাতত সবাইকে পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।

আল্লাহ আমাদের ঈমান বিধ্বংসী ইন্টারফেইথ ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন ও ঈমান নিয়ে বাঁচা-মরার তৌফিক দিন।

বান্দা - মাওলানা সুহাইব

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Dhaka