15/08/2026
এক ছেলে পরীক্ষায় গণিতে খুব খারাপ নম্বর পেয়েছিল, বাকি সব বিষয়ে ভালো করেও। বাসায় গিয়ে রেজাল্ট দেখানোর সাহস পাচ্ছিল না, সারাদিন মন খারাপ করে বসে ছিল।
শেষমেশ যখন খাতা দেখাল, মা চুপচাপ পুরো খাতাটা দেখলেন। তারপর একটা প্রশ্ন করলেন, "এই যে দুই নম্বর প্রশ্নটা, এখানে তুমি কী ভুল করেছ বলো তো।"
ছেলে অবাক হয়ে গেল। সে ভেবেছিল বকা খাবে, মা তাকে বাদ দিয়ে সরাসরি ভুলটা নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন।
তারা দুজন মিলে বসে পুরো খাতাটা দেখলেন, একটা একটা করে ভুল বের করলেন। মা কোথাও রাগ করলেন না, শুধু জিজ্ঞেস করে গেলেন, "এখানে কেন এই ভুলটা হলো, কীভাবে ঠিক করা যায়।"
শেষে মা বললেন, "নম্বর কম এসেছে, ঠিক আছে। কিন্তু আজকে আমরা যা শিখলাম, এই ভুলগুলো তুমি আর করবে না। এটাই আসল লাভ।"
এই ঘটনাটা দেখলে বোঝা যায়, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারত এখানে। একটা হলো, খারাপ রেজাল্ট দেখে রাগ করা, বকা দেওয়া, তুলনা করা অন্যদের সাথে। আরেকটা হলো, রেজাল্টের পেছনের কারণ খুঁজে বের করা, শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা।
প্রথম প্রতিক্রিয়ার ফলাফল কী হয়? বাচ্চা ভয় পেতে শেখে, লুকাতে শেখে। পরের বার খারাপ রেজাল্ট হলে সেটা লুকানোর চেষ্টা করে, মিথ্যা বলে, কারণ তার কাছে সত্যি বলার পরিণতিটা ভয়ঙ্কর মনে হয়।
দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়ার ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাচ্চা শেখে, ব্যর্থতা মানে শেষ না, ব্যর্থতা মানে শেখার একটা সুযোগ। ভুল হলে লুকানোর দরকার নেই, বরং সেটা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা যায়। এই মানসিকতা তাকে সারাজীবন সাহায্য করে, শুধু পড়াশোনায় না, জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে।
আমরা অনেক সময় ভাবি, কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালে বাচ্চা সতর্ক হবে, পরের বার ভালো করবে। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টোটা বেশি ঘটে। ভয় থেকে যে পরিশ্রম আসে, সেটা টেকে না বেশিদিন। কিন্তু বোঝাপড়া থেকে যে শেখা হয়, সেটা স্থায়ী হয়।
আমাদের প্রতিষ্ঠানে আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বাচ্চাদের রেজাল্ট দেখি। খারাপ করলে শুধু নম্বর নিয়ে কথা না বলে, কোথায় ঘাটতি ছিল, কীভাবে উন্নতি করা যায়, এই আলোচনাটাই বেশি গুরুত্ব পায়।
সেই ছেলেটা পরের পরীক্ষায় গণিতে অনেক ভালো করেছিল। মাকে বলেছিল, "আমি ভয় পাইনি এবার, কারণ জানতাম খারাপ হলেও আমরা বসে বের করব কোথায় সমস্যা।"
ভয় দিয়ে না, বোঝাপড়া দিয়ে একটা শিশুকে এগিয়ে নেওয়াই বেশি কার্যকর।
#মাদরাসা