14/09/2026
সাদা নকশা
★★★★★
একদিন যখন সব ছাত্রছাত্রী জানবে অযোগ্য, অথর্ব, অর্থলোভী ও মিথ্যাবাদী শিক্ষকেরা তাদেরকে ভুল পথে ও বেআইনি পথে পরিচালিত করেছে! তখন তাদের কেমন লাগবে...
১. ৫ই আগস্ট, ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানের পর। দেশের আইন-শৃঙ্খলা সংকটের সময় সূয়াপুর নান্নার স্কুল এন্ড কলেজের কতিপয় সুবিধাবাদী অর্থলোভী দুর্বৃত্ত শিক্ষক সরকারি আদেশ অমান্য করে, সভাপতির নির্দেশ উপেক্ষা করে, শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে ও উস্কে দিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় এবং পদত্যাগ দাবি করায়। শিক্ষকেরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে স্কুলের ভিতরে সংবাদ সম্মেলন করে। ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় নামায়। অশ্লীল অশালীন ও মিথ্যা কথাবার্তা লিখে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করায়। কতিপয় শিক্ষক এই বে-আইনি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়। ফেইসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে। হিংস্র হায়েনার মত একটানা এই কুকর্ম চালিয়ে এলাকার পরিবেশ নোংরা ও বিপর্যস্ত করে তোলে। প্রধান শিক্ষকের জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র নিতে বাধ্য করে।
২. একটি স্কুলে একজন মহৎপ্রাণ সভাপতির বিরুদ্ধে, সরকারি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, মিথ্যা মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত ১১ জন শিক্ষক। কি আশ্চর্য! একেবারে মাথা থেকে শুরু! ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ এরা আদালতে দাঁড়িয়ে সত্য কথার শপথ নিয়ে মিথ্যা কথা বলবে! এরা ছেলেমেয়েদের কী পড়াবে? কী শেখাবে? এতদিন কী শিখিয়ে এসেছে? ভাবা যায়? যখন সব ছাত্রছাত্রী জানবে এসব অধিকাংশ সিনিয়র শিক্ষকেরা অযোগ্য, অথর্ব, নিষ্কর্মা, অর্থলোভী ও মিথ্যাবাদী। তখন তারা কী করবে...
৩. তাদের কারও কারও নিয়োগের ইতিহাস ঘাটলে আমাদের পূর্ব পুরুষদের লজ্জা আর শিক্ষা ব্যবস্থার দৈন্যদশাই চোখে পড়ে। এরা না দুই লাইন শুদ্ধ বাংলা লিখতে পারে, না দুই লাইন শুদ্ধ ইংরেজি লিখতে জানে! পড়াশোনোতো বহুদূর...। অথচ নিজেদের দাবি করে 'মাস্টার'। এরাই নাকি জাতি গড়ার কারিগর! ক্লাসে গিয়ে তারা যে আকাম করে তাকে পাঠ উপস্থাপনা বলা যায় না।
অথচ এরাই প্রাইভেট পড়িয়ে, ভাগ-বাটোয়ারা পেয়ে গ্রামে জমি-জিরাত কিনে ধনী বনে গেছে। শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ এসব দেখলে তাদের গা ঘিনঘিন করবে। এমনি করেই এরা ফাঁকি দিয়ে, ঠকিয়ে এসেছে এই গ্রামীণ জনপদের অসহায়, দরিদ্র মানুষের নির্বোধ ছেলেমেয়েদের।
৪. এরা নিম্ন মানের নোট-গাইড পাঠ্য করে, লাখ লাখ টাকা ভাগ-বন্টন করতো। ফকির-মিসকিন, কুলি-মজুর, ঠেলাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা, মুদি-মুচি কেউ রক্ষা পেতো না এদের হাত থেকে। এসব খেটে-খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ কত কষ্টে টাকা ইনকাম করে। এরা সেখানে ভাগ বসায় সুকৌশলে। নোট-গাইড কিনতে বাধ্য করে। অচেতন, অসচেতন মানুষগুলো বুঝে না। তাদের বোঝাবার কেউ নেই। এসব দস্যুপনা দেখার কেউ নেই। ঠিক সেখানে আঘাত করেছিলেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি মহোদয়। ফলে আজকের এই মিথ্যা মামলা।
৫. এসব শিক্ষকদের সম্পর্কে বিখ্যাত লেখক আহমদ ছফা যথার্থই বলেছেন, "মাছের পচন যেমন মস্তক থেকে শুরু হয়, তেমনি যাবতীয় অসুখের জীবাণু শিক্ষকদের চিন্তা-চেতনায় সুন্দরভাবে স্থান করে নিয়েছে। সুতরাং এই ব্যাধি সংক্রমিত হতে সময় লাগে না।" আর তাই তাদের অতিদ্রুত অধঃপতন শুরু হয়ে গেছে। এসএসসির পাশের হার ৯৫℅ থেকে ২৬℅ নেমে এসেছে। জিপিএ ফাইভ ১৩ থেকে নেমে ২ এ এসেছে।
কলেজে ভর্তি ১০০-১১৫ থেকে নামতে নামতে এবার ২০-২২ জনে এসে ঠেকেছে। ডিসিপ্লিন ভেঙে পড়েছে। পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সময়মত ক্লাসে আসে না। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল ড্রেস পরে না। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আগের মত চলে না।
গার্লগাইডস, স্কাউট কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে প্রাণহীন, জরাজীর্ণ এক ধ্বংস স্তুপে পরিণত হচ্ছে সূয়াপুর নান্নার স্কুল এন্ড কলেজ।
৬. অথচ এরা কী অদ্ভুতভাবে নাটক সাজালো। ২১ শে জুন, ২০২৫ তারিখ, শনিবারে, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক স্কুলে গিয়ে হিসাবের খাতা ছিনতাই করলো। সহকারী প্রধান শিক্ষক, মোহাম্মদ আলমগীরকে পংগু করার হুমকি দিলো। ১১ জন শিক্ষক তাকে উদ্ধার করে জীবন রক্ষা করলো। ছি! ছি! ছি!
৭.অথচ সেদিন সভাপতি ও অধ্যক্ষ স্কুলে যান নি। ঢাকায় ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও পুলিশি রিপোর্টে প্রমাণ রয়েছে। শিক্ষকেরা এমন মিথ্যা ঘটনা কীভাবে লেখলো? অথচ সর্বোচ্চ আদালত ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে জোরপূর্বক পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তাদের পুনর্বহাল করে বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে। নতুবা তাদের ম্যানেজিং কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮. বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে সবাইকে। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী। রাজনীতিবিদ। সমাজকর্মী। পেশাজীবী। শ্রমজীবী। অভিভাবক। বর্তমান যারা স্কুলে পড়ছে ভাবতে হবে তাদেরকেও।
(পরিমার্জিত ও ভুলত্রুটি সংশোধন যোগ্য।)
চলবে...