10/06/2026
শিক্ষক যদি
আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার
★★★★★★★★★★★★★
শিক্ষক যদি লোভী হয়,
তাহলে সে শিক্ষক নয়,
তাহলে সে কসাই চামার।
কখনো সে প্যান্ট পরে,
কখনো সে জুব্বা ধরে,
কখনও-বা হয় চাটুকার।
শিক্ষক যদি লোভী হয়,
তাহলে সে শিক্ষক নয়,
তাহলে সে যাক ভিন্ন পেশায়।
গরু কিংবা ছাগল চরাক,
গাভী কিনে দুগ্ধ দোহাক,
দিনরাত মগ্ন থাক টাকার নেশায়।
(কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্মরণে)
16/05/2026
★★★★
সাদা নকশা
কামিনী কুসুম
আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার
★★★★★★★★★★★★★★
জান ত কামিনী সতী, কোমল কুসুম অতি
দূর হ'তে দেখিবারে, ছুঁইবারে নহে সে--
দূর হ'তে মৃদু বায়, গন্ধ তার দিয়ে যায়,
কাছে গেলে মানুষের শ্বাস নাহি সহে সে।"
কামিনী ফুলের সৌরভ যারা নাকে-মুখে গ্রহণ করে নি, ফুলের জগতের মাহাত্ম্য উপলব্ধি থেকে তারা বহুদূরে। সূয়াপুরে এসে, সে বছরই অনেক গাছ লাগিয়েছি। অফিসের দরজার সামনে, এই যে আমার পাশেই কামিনী ফুলের গাছ, সেদিন নিজ হাতে লাগিয়েছি। আজ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। বাহ! কী দারুণ পাগল করা ঘ্রাণ! যেনো--
"কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো"...
কামিনী ফুলের কোনো স্থানীয় নাম নেই। এর বৈজ্ঞানিক নাম Murraya Paniculata। গরমের সময়ে দু একটি ফুল হলেও বর্ষাকালে গাছে প্রচুর ফুল ফোটে। এটি Rutaceae পরিবারের একটি ফুল।
সামান্য যত্নেও টব ভর্তি প্রচুর ফুল পাওয়া যায় কামিনীর। শুধু বাগান সাজাতে নয়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এই ফুলের চাহিদা যথেষ্ট রয়েছে। আমার বাসায়, ঘরের সামনে টবের গাছটিও ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে।
কামিনীর একটি আশ্চর্য বিষয় লক্ষণীয়। ফুল যখন ফোটে তখন সারাদেশের সব গাছে একই দিন ফোটে, অবাক করা যোগাযোগ। অন্যান্য গাছের ক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা হেরফের লক্ষ্য করা যায়। তখন পরিপূর্ণ পুষ্পিত কামিনী অসংখ্য ফুলের ভারে নুয়ে পড়ে। সুগন্ধি ছড়িয়ে দেয় বাতাসে।
কামিনীর অল্পবয়সী গাছ যেন অল্প বয়সী বালিকা। তেমনি পরিণত গাছও পরিণত রমণী। ফুলের সৌন্দর্য দৃষ্টিকে নন্দিত করে এবং ফুলের সুবাস মনকে মুগ্ধ করে। এ গাছ এখনও ততটা দুর্লভ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু প্রতিনিয়তই গাছগুলো মানুষের হিংস্রতার শিকার হচ্ছে। ফুল বিক্রেতারা ফুলের ঝুড়ি সাজাতে কামিনীর ডালপালা ব্যবহার করে।
প্রায় সব পার্ক ও উদ্যানে এমনকি কারও কারও ব্যক্তিগত বাগানেও কামিনী চোখে পড়ে। গাছটি মোটামুটি দিনে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা রৌদ পায় তেমন স্থানে প্রতিস্থাপন করা উচিত, এতে গাছের বাড়বাড়ন্ত ভালো হয় এবং রোগে আক্রান্ত কম হয়। গাছটি কে মাটিতে বসানোর ৭-৮ মাস পরেই ফুল আসা শুরু হয়। কামিনী সুনিষ্কাশিত বেলে-দোঁয়াশ মাটিতেই ভাল হয়।
কামিনী বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ তাই ভালো হয় বড় গামলা জাতীয় টব নির্বাচন করলেI টব ভর্তি প্রচুর ফুল পেতে কামিনী গাছের বিশেষ পরিচর্যা করতে হবে, গাছ টবে প্রতিস্থাপন করলে ১০ ইঞ্চি অথবা ১২ ইঞ্চি টব নির্বাচন করতে হবে। গাছটি টবের তুলনায় মাটিতে খুব ভালো হয়। তাই গাছটি টবে বড় হওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কামিনী গাছ প্রতিস্থাপনের জন্য উর্বর দোঁয়াশ মাটি সব থেকে আদর্শ।
কামিনী ফুল গাছ মূলত ক্রান্তীয় এশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রজাতি। চিরসবুজ ছোটখাটো ধরনের গাছ, ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কখনও কখনও গুল্ম আকৃতিরও হতে পারে। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় সারা গাছ সাদা ও সুগন্ধি ফুলের থোকায় ভরে ওঠে। ফুল ২ সেন্টিমিটার চওড়া, ৫টি খোলা পাপড়ি, বাসি হলে ঝরেপড়ে। ফল ছোট ও ডিম্বাকার, পাকলে লাল-কমলা রঙের হয়। কিছুটা বড় আকারের পাতা ও ফুলের থোকার আরেকটি ভারতীয় প্রজাতি আছে।
প্রথাগতভাবে, কামিনী বেদনানাশক হিসেবে ঐতিহ্যগত ঔষধ এবং কাঠের জন্য ব্যবহার করা হয়। কামিনীর পাতার অশোধিত ইথানলীয় সার, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য জ্বলনশীল ব্যথার নিরাময় হিসেবে কাজ করে।
27/04/2026
★★★★
সাদা নকশা
তিন মামলায় হেরে গিয়ে অবশেষে থানায় অভিযোগ করলো মব সন্ত্রাসী জামাতি শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীরগং
সূয়াপুর নান্নার স্কুল এন্ড কলেজ
ধামরাই, ঢাকা।
১। হাইকোর্ট/ মামলা নম্বর-Writ pettition/15372 : ৫ই আগস্ট, ২০২৪ তারিখের পর গণ অভ্যুত্থানে দেশে সাময়িক সংকট দেখা দেয়। আইন শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটে। দেশে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও খুন-খারাবি বেড়ে যায়। এ সুযোগে স্কুল দখল ও লুটপাটের জন্য কতিপয় দুর্বৃত্ত শিক্ষক মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে। ফেইসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে, টাকা আত্মসাৎ ও ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে অপপ্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে। ভুল বুঝিয়ে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের উস্কে দেয়। ক্লাস বাদ দিয়ে আন্দোলনে নামায়। অবশেষে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে অধ্যক্ষের নিকট থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র নেয়।
অধ্যক্ষ উচ্চ আদালতে আবেদন করলে মহামান্য আদালত পদত্যাগপত্র বাতিল করে তাকে স্বপদে বহালের আদেশ দেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দিয়ে অধ্যক্ষকেই স্বপদে বহাল রাখেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট মহামান্য আদালত সেই আদেশ প্রেরণ করলে তারা এখনো তা অমান্য করে চলেছে।
২। মামলা নম্বর- ৪১০/২০২৫: একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক হয়ে মোহাম্মদ আলমগীর অধ্যক্ষসহ অত্র এলাকার কৃতী সন্তান, স্কুলের তৎকালীন সম্মানিত সভাপতি ড. মোঃ সাইদুর রহমান সেলিম সাহেবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা মামলা করে। যিনি নিজে নগদ দুই লক্ষ টাকা দিয়ে আজীবন দাতা হয়েছেন। তার আত্মীয়-স্বজন আরও ৫ জনকে দাতা বানিয়ে মোট ১২ লক্ষ টাকা স্কুল ফান্ডে জমা করেছেন। স্কুলের ফান্ড থেকে কোনো অর্থকড়ি না নিয়ে জমি ক্রয় বাবদ ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ১৫ শতাংশ জমি স্কুলের দখলে এনেছেন। আরও প্রায় ৯/১০ কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণের শুভ সূচনা করেন। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করে এই নিমকহারাম মোহাম্মদ আলমগীর। কোন প্রমাণ না থাকায় মামলা প্রত্যাহৃত হয়। বিজ্ঞ বিচারক আসামিদ্বয়কে অর্থ আত্মসাতের মামলা থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে এবং অব্যাহতি প্রদান করে।
৩। মামলা নম্বর-২৫৮/২৫: স্কুলের ফিজিক্যাল শিক্ষক মৃত মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে (জীবিত কালে) দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আরেকটি অর্থ আত্মসাতের মামলা করায় মোহাম্মদ আলমগীরগং। অথচ সাক্ষী প্রমাণ বিহীন এই মামলা কোর্টে শুনানির সঙ্গে সঙ্গে খারিজ করে দেন বিজ্ঞ বিচারক। অধ্যক্ষকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা দিয়ে তাকে অব্যাহতি প্রদান করে।
ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ঢাকা জেলার ডিসির পত্র মোতাবেক ধামরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত কার্যক্রম সম্পাদন করে রিপোর্ট প্রদান করে। সেই রিপোর্টেও কোনো অভিযোগের প্রমাণ মিলে নি।
এখন নিজেদের পীঠ বাঁচাতে এই মব সন্ত্রাসীরা অভিযোগ করছে ধামরাই থানায়। আর ধর্না দিচ্ছে বিএনপি নেতাদের কাছে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কখনোই অন্যায়-অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয় না। স্বাধীনতা বিরোধী, ধর্ম ব্যবসায়ী ও মব সন্ত্রাসীদের লালন করে না। প্রবাদ প্রতিম সত্য; বাংলাদেশের একমাত্র সৎ রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার প্রতিষ্ঠিত দল এই বিএনপি।