04/09/2026
বাংলাদেশকে ঘিরে উপমহাদেশের হিন্দুদের ষ'ড়য'ন্ত্র আজকের না। আজ ৭০-৮০ বছর ধরেই তা চলছে। এ ষড়'য'ন্ত্রে'র সর্বশেষ পর্যায়ও চলছে প্রায় এক যুগ ধরে। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর গত ১১ বছর ধরে প্রায় নির্বিঘ্নে হি'ন্দু'রা তাদের ষ'ড়য'ন্ত্র চালিয়ে গেছে। এ সময়ে ভারতীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে। বিচার বিভাগ, প্রতিরক্ষা বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী সব জায়গাতে ভারতের অনুগত নামধারী মুসলিমদের পাশাপাশি বসানো হয়েছে অনেক হি'ন্দুকেও। হিন্দুদের গণহারে সরকারী চাকরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, দেয়া হয়েছে যত্রতত্র পূজা করার সুযোগ, হিন্দুদের পূজা মন্ডপ প্রতি ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, পূজা উপলক্ষে মুসলিমদের কাছ থেকে নেয়া ট্যাক্স থেকে দেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বরস্বতি পূজা ও হোলি পূজা উদযাপন শুরু হয়েছে, স্কুল-কলেজে হিন্দু কবি সাহিত্যকদের সাম্প্রদায়িক লেখনী পড়ানো হচ্ছে, সম্পত্তি প্রত্যাপর্নের নামে মুসলমানের সম্পত্তি তুলে দেয়া হচ্ছে হি'ন্দুদের হাতে। প্রশাসন হাত ছাড়া হয়ে গেছে অনেক আগেই। সেই সাথে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তি, ট্রানজিট ইত্যাদির মাধ্যমে পাকাপোক্ত করা হয়েছে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ। দেশের মিডিয়াগুলো প্রায় একচেটিয়াভাবে ভারতের দা''লালি করে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিছু মিডিয়া, যারা আমেরিকার দালালি করতে চায়, তাদেরও কাজ করতে হয় ভারতীয় প্র''ভুদের খুশি রেখে। দেশের পুঁজি বাজার, পণ্য বাজার এবং অর্থনীতিও চলে গেছে ভারতীয় চক্রের হাতে।
মোটকথা বাংলাদেশকে নামেমাত্র একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রেখে একে সম্পূর্ণভাবে ভারতের উপনিবেশে পরিণত করার প্রক্রিয়া গত ১১ বছর ধরে গুছিয়ে এনেছে ভারত। তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করার পর বাংলাদেশকে ঘিরে হি'ন্দু চক্রান্ত এখন প্রবেশ করেছে নতুন এক পর্যায়ে। নিজেদের অনুগত আওয়ামী লীগ এবং হাসিনাকেও এখন আর তোয়াক্কা করছে না হি''ন্দুত্ববাদী শক্তি। দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চয় ও প্রস্তুতির পর হি'ন্দুরা সর্বসম্মুখে তাদের ঔ'দ্ধ'ত্য প্রকাশ করতে এবং মুসলিমদের চ্যালেঞ্জ করতে এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
প্রশাসনে হি'ন্দু'দের দৌরাত্ম্য
পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশেরর মোট জনসংখ্যার ১০.৭% হল হিন্দু[1]। হাসিনা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের ভাষ্য অনুযায়ী সরকারী চাকুরেদের ২৫% হল সংখ্যালঘু[2]। কিন্তু প্রশাসনে হিন্দুদের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্যাবিনেট সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী ২০১৬ তে প্রশাসনের কমপক্ষে ২৯% চাকরি ছিল হিন্দুদের দখলে[3]। গত ৩ বছরে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে। বর্তমানে প্রশাসনের ৩৫% এর কাছাকাছি পদ দখল করে আছে হিন্দুরা।
হাসিনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে প্রশাসনে স্থান পাওয়া হিন্দুরা সাধ্যমত চেষ্টা করছে নিজের স্বজাতির লোকজন দিয়ে প্রশাসনকে ভরে ফেলতে। পরীক্ষক, পরিদর্শক, ভাইবা বোর্ড সদস্যসহ বিভিন্ন পদে থাকা হিন্দুরা নানান রকম অনিয়মের মাধ্যমে অন্যান্য হিন্দুদের প্রশাসনে জায়গা করে দিচ্ছে, এমন অনেক খবর পাওয়া গেছে। জাতীয় পত্রিকাতেও এসব নিয়ে নিউজ হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে পদোন্নতির জন্য প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে হিন্দুদের। বছর কয়েক আগে নতুন পদ সৃষ্টি করে প্রমোশন দেয়া হয়েছে ৬৫ জনকে। এর মধ্যে ৪৫ জন হিন্দু। সরকারের পক্ষ থেকে সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। সেখানেও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে হিন্দুদের। এভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে ভবিষ্যৎ পদোন্নতি। এ প্রক্রিয়া চলছে দীর্ঘদিন, প্রায় ১০ বছর ধরে। এভাবেই বিভিন্ন স্ট্র্যাটিজিক পজিশনে পৌঁছে গেছে হিন্দুরা। দেশজুড়ে হিন্দুদের প্রভাব বৃদ্ধি ও হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রশাসনে জায়গা করে নেয়া এই হিন্দুরা।
প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে খুব হিসেবনিকেশ করে বসানো হয়েছে হিন্দুদের। রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ – প্রতিটি ডিসি অফিসের উচ্চ পর্যায়ে এখন কোন না কোন হিন্দু আছে। বিশেষভাবে টার্গেট করে শিক্ষাখাতে জায়গা করে নিয়েছে অনেক হিন্দু। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের চেয়ারম্যান এক হিন্দু। এই মালাউনের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হচ্ছে, চলছে হিন্দুয়ানিকরণ।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ থানা ও জেলায় ওসি ও এসপি পদে বসানো হয়েছে হিন্দুদের। ১৯৭১ থেকে পরবর্তী ৩৩ বছর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কোন কা'ফি'র/মু'শ'রিককে নিয়োগ দেয়া হয়নি। কিন্তু ২০১৪ থেকে স্পেশাল ব্র্যাঞ্চেও হিন্দুদের নিয়োগ দেয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ডিবির প্রধানও নিযুক্ত করা হয়েছে এক হিন্দুকে। এসব হিন্দু অফিসাররা নিয়মিত মুসলিমদের উপর হম্বিতম্বি করে। হিন্দুদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হলে ফোন আসে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কিংবা ভারতীয় হাইকমিশন থেকে।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশে বৈধ ও অবৈধভাবে কাজ করছে প্রায় ১৫/২০ লক্ষ হি'ন্দু। গার্মেন্টস সেক্টরসহ বিশেষ কিছু ইন্ডাস্ট্রিতে টপ পজিশনগুলো এই হি'ন্দুরা দখল করে আছে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল বাংলাদেশের হিন্দুদের ৫০% এর বেশি হল নিম্ন বর্ণের হিন্দু, যাদের দলিত বা ‘হরিজন’ বলা হয়। এদের বেশিরভাগ নিম্নবিত্ত, সামাজিকভাবে এবং চাকরির দিক দিয়ে এদের অবস্থা ভালো না। উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা নিয়মিত এদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। সরকারী চাকরিতে এই ৫০% এর অবস্থান অত্যন্ত নগণ্য। সরকারী চাকরিগুলো যারা দখল করেছে তারা হল তুলনামূলক “উচ্চ বর্ণের’ হিন্দু। যার অর্থ, প্রশাসনের ৩৫% কিংবা তারও বেশি পদ দখল করে নিয়েছে এমন একটি গোষ্ঠী যারা মোট জনসংখ্যার ৫% চেয়েও কম। এই উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা ঐতিহাসিকভাবেই ভারতের দালালি এবং হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করে আসছে। আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ করা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহাও ছিল হিন্দু। এই সিনহার পদ প্রাপ্তি এবং ক্ষমতার মূল উৎস ছিল ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে তার সম্পর্ক। সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় বিচার বিভাগের অনেক রায় ডিকটেট করা হতো ভারতীয় হাইকমিশন থেকে।
কিছুদিন আগে একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী রিপোর্টে একটি চিঠির কথা উঠে এসেছে। হিন্দু সংগঠন ইসকনের পক্ষ থেকে সরকারী চাকরি করা হিন্দুদের এ চিঠি দেয়া হচ্ছে। চিঠির মাধ্যমে প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে নিজ প্রশাসনিক অবস্থান থেকে ইসকনের কথা অনুযায়ী কাজ করার। বিনিময়ে ইসকনের পক্ষ থেকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সব ধরণের সাহায্য। সেই সাথে মাসে মাসে দেয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে যে বেতন দেয়া হয় তার ৬০% বাড়তি। উল্লেখ্য স্বতন্ত্রভাবে এ চিঠির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে যদি এ বক্তব্য আসলেই সঠিক হয় তবে তাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না। (ইসকন নিয়ে আরো কথা পড়ে আসছে)
মোট কথা, যা'য়নি'স্ট ইহুদীদের আদলে, একই ধরণের কৌশল অবলম্বন করে, এবং হাসিনা সরকারের মদদে সঙ্ঘবদ্ধভাবে হি'ন্দুরা বাংলাদেশের প্রশাসন দ'খল করে নিয়েছে। সাম্প্রতিক যেসব ঘটনা আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেগুলো হল হিন্দুদের এই প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভাবের প্রত্যক্ষ ফলাফল