18/03/2026
দ্বীনী দাওয়াত الدعوة إلى الله تعالى
মাহে রমযানের বিদায় মুহূর্তে সকলের প্রতি আকুল আবেদন
March 19, 2026
পবিত্র মাহে রমযান আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং পরম করুণাময়ের সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মাহে রমযান এখন বিদায়ের পথে। বিদায়ী এই মুহূর্তগুলো মুমিনের জন্য একদিকে যেমন বিষাদের, অন্যদিকে তেমনি অশেষ সওয়াব ও কল্যাণ হাসিলের শেষ সুযোগ। এই সময়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা এবং কল্যাণ কামনায় রত হওয়াই মুমিনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
দোয়ার তাৎপর্য ও প্রয়োজনীয়তা
দোয়া হলো ইবাদতের মজ্জা। রমযানের শেষ দিনগুলোতে ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত দোয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের বিগত জীবনের ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাইতে পারি। রমযানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান হলেও এর শেষাংশ আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত লাভের মোক্ষম সময়। এই সময়ে একাগ্রচিত্তে কৃত দোয়া মহান রব্বুল আলামিন ফিরিয়ে দেন না।
দোয়ার পরিধি:
পরিবার ও সমাজ
ইসলাম কেবল নিজের মুক্তির কথা বলে না, বরং জগতের সকল মানুষের কল্যাণ কামনার শিক্ষা দেয়। তাই এই বিদায়লগ্নে আমাদের দোয়ার পরিধি হওয়া উচিত বিস্তৃত:
* ব্যক্তিগত ও পারিবারিক: নিজের এবং পরিবার-পরিজনের সুস্থতা ও ঈমানী দৃঢ়তার জন্য দোয়া করা।
* পূর্বসূরিদের জন্য দোয়া: আমাদের যে সকল আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম নর-নারী ইন্তেকাল করেছেন, তাদের রূহের মাগফিরাত, কবরের আযাব থেকে মুক্তি, জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভের জন্য প্রার্থনা করা।
* দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের জন্য দোয়া: মসজিদ, মাদরাসা, মারকায ও খানকাহসমূহের হেফাজত ও উন্নতির জন্য দোয়া করা, কারণ এগুলোই ইসলামের প্রাণকেন্দ্র।
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সম্মিলিত দোয়ার মাধ্যমে আমরা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে নির্যাতিত ও দুর্দশাগ্রস্ত মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে পারি। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সংহতিই পারে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
শেষ কথা:
পরিশেষে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান,
রমযান বিদায় নিলেও এর শিক্ষা যেন আমাদের সারা বছরের পাথেয় হয়। তাকওয়া খোদাভীতি দুস্থ মানবতার সমবেদনা জ্ঞাপন যেন হয় আজীবনের অভ্যাস। বিদায়ী এই মুহূর্তে চোখের পানি ফেলে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে হাত তোলা আমাদের কর্তব্য। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতি, ধর্ম ও বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণে জান মালের কোরবানি ও দোয়া করার মাধ্যমেই রমযানের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুন এবং কবুল করুন। আমীন।