Pi Academy

Pi Academy

Share

Discover The Power Of Mathematics

13/08/2026

প্ল্যাটফর্মের এই অল্প আলো আর দীর্ঘ ট্রেন যেন এক চিরন্তন সত্যকে মনে করিয়ে দেয়। জীবন এক অবিরত যাত্রাপথ।
কেউ এই মুহূর্তে বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউবা নতুন গন্তব্যের আশায় দাঁড়িয়ে। এই যে সাময়িক সময়ের জন্য সবার এক জায়গায় মিলিত হওয়া এটাও তো এক মায়া। ট্রেনের চাকা ঘুরতে শুরু করলেই আবার সবাই বিচ্ছিন্ন, ভিন্ন ভিন্ন পথের যাত্রী।

ঠিক একিরকমভাবে কি আমরাও জীবনের এই যাত্রাপথে একে অপরের সাথে জড়াই আবার কোনো এক স্টেশনে নিঃশব্দে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই?

আলোআঁধারিতে ঘেরা এই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে যেন অনুধাবন করা যায়, সম্পর্ক আর পরিচিতি সবকিছুই সাময়িক, প্রকৃত ধ্রুব সত্য শুধু এই অচেনা যাত্রাপথের একাকী এগিয়ে যাওয়া। জীবনের এই অবিরাম গতিতে আসা যাওয়ার খেলাই যেন আমাদের বাস্তবতা, যেখানে স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই কেবল কিছু সময়ের জন্য আমরা এক অপরের সঙ্গী হই,,,,,,,

11/08/2026

লেখক বলেছিল,,,

আমি থেকে গিয়েছিলাম কারণ আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে তাকে ছাড়া আমি কী হয়ে উঠব।

অর্থাৎ এটি ভেবেই আমি তার দরজায় আটকে গিয়েছিলাম যে তাকে ছাড়া আমার কী হবে?
আমার ভয় হতো যে তাকে ছাড়া তো আমি বাঁচতেই পারব না।

কবির ভাষায়,

সে তো সুবাস, হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে,
চিন্তা তো ফুলকে নিয়ে, ফুল কোথায় যাবে?

অর্থাৎ সে তো সুবাস আমাকে ছাড়াও অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে, আতর হয়ে থাকবে। কিন্তু আমি তো ফুল আমার মধ্যে সুবাস না থাকলে আমাকে কে দেখবে?

তাকে ছাড়লে আমি কোথায় যাব? আর সে ছেড়ে দিলে তো আমিতো মরেই যাব। অর্থাৎ তাকে ছাড়া আমি বাঁচতেই পারি না। আমার অস্তিত্বের জন্য তার উপস্থিতি খুব প্রয়োজন। আমাদের একসঙ্গে থাকা খুব জরুরি।

কবি বলেছেন,,,,
তোমার জন্যই চলেছিলাম, তোমার জন্যই থেমে গেলাম, তুমি বললে তাই বেঁচে উঠলাম, তুমি বললে তাই মরে গেলাম।

অর্থাৎ তোমার থাকার ওপরই সবকিছু নির্ভর করে জীবনও, মৃত্যুও। তোমাকে ছাড়া তো আমি মরতেও পারি না।

কবির ভাষায়,,,,
তাকে ছাড়া একটুও শান্তি পাই না, যার নামটাও আমি জানি না। ভালোবাসায় ব্যর্থ হলে আমি করবটা কী? আমি তো আর অন্য কোনো কাজও জানি না।

অর্থাৎ তাকে ছাড়া আমি করবটা কী? আমি তো শুধু ভালোবাসতেই পারি। আর আমি কী করব, এই ভয়েই আমি সেখানেই রয়ে গেলাম, তার দরজাতেই পড়ে রইলাম আর তার অপেক্ষা করতে লাগলাম।

কিন্তু অন্য কবি বলেন,,, আমি চলে এসেছি কারণ তার সঙ্গে থাকতে থাকতে আমি কী হয়ে উঠছিলাম, তা দেখে আমি ভয় পাচ্ছিলাম।
অর্থাৎ আমি ভালোবাসা পছন্দ করি, কিন্তু ভালোবাসায় পেড়ে আমি যেমন পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম, তাতে নিজের ভেতরের এই রূপ দেখে আমি ভয় পেতে শুরু করেছিলাম।তাই সে আমাকে ধোঁকা দেওয়ার আগেই আমি নিজেকে সামলাতে তাকে ছেড়ে চলে আসি, যাতে আমি পাগল বা মজনু না হয়ে যাই।

কবি বলেন,,,,
তাই তাকে ছেড়ে দিলাম যখন সে অনুগত থাকল না, ঘুরে দাঁড়িয়ে আমরাও তাকে কোনো অনুরোধ জানালাম না।আমি তো তাকে ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু সে কি সৃষ্টিকর্তাকে সাক্ষী রেখে বলতে পারবে যে সে আমাকে ভালোবাসেনি?

আমি ভালোবেসেছিলাম, কিন্তু সে অবহেলা করেছে। তাই আমি সরে এসেছি।যদি সে এখনো মনে করে যে আমি তার প্রতি অনুগত ছিলাম না তবে তাই ভাবুক। কারণ আমার হৃদয় তো জানে সত্যটা কী। আমি তো শুধু নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়েই তার সঙ্গ ছেড়েছি,,,,,,,,,

24/07/2026

কী এই সময়?
কী এমন জিনিস যা প্রতিনিয়ত বয়ে চলেছে?
যখন শুরু হয়নি, তখন তা কোথায় ছিল?
কোথাও তো নিশ্চয়ই ছিল!
পার হয়ে গেছে যখন, এখন তা কোথায়?
কোথাও তো নিশ্চয়ই থাকবে!
কোথা থেকে এলো, কোথায় গেল?
কবে থেকে চলে আসছে এই ধারা?
সময় আসলে কী?

কখনও কখনও আমি ভাবি, চলন্ত গাড়ি থেকে গাছ দেখলে মনে হয় আমরা বিপরীত দিকে যাচ্ছি, কিন্তু বাস্তবে গাছ তো সেখানেই স্থির রয়েছে।​তাহলে কি এটা সম্ভব যে, সমস্ত শতাব্দীগুলো একটার পর একটা লাইনে সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে, নাকি সময় স্থির আর কেবল আমরাই পার হয়ে যাচ্ছি?​এই একটি মুহূর্তেই কি সমস্ত মুহূর্ত, সমস্ত শতাব্দী লুকিয়ে রয়েছে? না আছে কোনো ভবিষ্যৎ, না আছে অতীত! যা ঘটেছে, যা ঘটছে, যা ঘটতে চলেছে, সবকিছুই কি এখনই ঘটছে?​
আমি ভাবি, এটা কি সম্ভব যে যাত্রাপথে আসলে আমরাই আছি, অতিক্রম আমরাই করছি? যাকে আমরা বয়ে যাওয়া ভাবছি, তা কি আসলে থমকে আছে?​তা কি একক, নাকি খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত?​
কে জানে সময় আসলে কী!

24/07/2026

⏱️⏱️

এলিফ শাফাক তাঁর 'Forty Rules of Love' বইয়ে লিখেছেন যে,

If you are the same person before and after you loved, then you haven't loved enough.

অর্থাৎ প্রেম করার আগে আর প্রেম করার পর যদি আপনার ব্যক্তিত্বে সামান্যতম পরিবর্তনও না আসে, আপনার জীবনযাপনের ধরণ না বদলায়, কথা বলার ধরণ না বদলায়, দুনিয়া দেখার দৃষ্টিভঙ্গি না বদলায়, খাওয়াদাওয়ার পছন্দ না বদলায়, গানের পছন্দ না বদলায়, সিনেমার পছন্দ না বদলায়, তবে আপনি পুরোপুরিভাবে প্রেমকে অনুভব করেননি, প্রেম করেননি। আপনার ভালোবাসার ধরণে কোনো সমস্যা আছে।

কারণ ভালোবাসা হলো একটা বইয়ের মতো। আর আপনি যখন কোনো বইয়ের মধ্য দিয়ে যান বা বই পড়েন, তখন আপনি আর আগের মানুষটি থাকেন না।

আর আপনি যদি এখনও আগের মানুষটাই থেকে যান, তবে আপনি বইটা সঠিক উপায়ে পড়েনইনি, অথবা সেই বইয়ের মধ্যে বিশেষ কোনো কথা ছিল না।

এখন ভালোবাসার কথা বললে, ভালোবাসা হলো একটি সার্বজনীন বিষয়, একটি ইউনিভার্সাল বই, তাতে কোনো কমতি নেই। আপনার ভালোবাসার উপায়েই হয়তো কোনো ঘাটতি থেকে গেছে, নইলে আপনার ভেতরে পরিবর্তন আসতোই।

যেমন কবি বলেছিলেন,

ভো তেরে মেরে ইশ্‌ক কা এক শায়রানা দৌর সা থা,
ভো তু ভি কোই অউর থি, ভো মেঁ ভি কোই অউর হি থা।

অর্থাৎ আমরা যখন প্রেমে ছিলাম, তখন আমরা অন্যরকম কিছু একটা ছিলাম। ভালোবাসার আগেও অন্যরকম ছিলাম, আর এখন ভালোবাসা থেকে বেরিয়ে আসার পরও আমরা অন্যরকম।
ভালোবাসার কষ্ট কিংবা ভালোবাসার তীব্রতা আপনাকে কিছুটা হলেও বদলে দেয়। আর যদি আপনি না বদলান, তবে আপনার অনুভূতির তীব্রতায় বা আপনার নিয়তে কোনো না কোনো ঘাটতি রয়ে গেছে।

লেখক বলেছিল
অবকে হাম বিছড়ে তো শায়দ কাভি খাবোঁ মেঁ মিলেঁ,
জিস তরহ সুখে হুয়ে ফুল কিতাবোঁ মেঁ মিলেঁ।

কবিতার ভাষায়,
না ভো তু, না ভো মেঁ হূঁ, না ভো মাঝি হ্যায় ফরাজ,
জৈসে দো শকস তামান্না কে সরাবাঁ মেঁ মিলেঁ।

যে, এখন আর আমরা মিলতে পারবো না, কারণ আমরা বদলে গেছি। আর যদি মিলেও যাই, তবে কোনো মরীচিকায় মিলবো, বাস্তব জীবনে আর মিলবো না।

প্রেম দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়, আপনার জীবনযাপনের ধরণ বদলে দেয়, কথা বলার উপায়ে পরিবর্তন আনে। কারণ যখন আপনি প্রথমবারের মতো দেখেন, মাসের সেই সাতটা দিন যখন আপনার প্রেমিকা কষ্টে থাকে, আর আপনি যখন তার সেই কষ্টটা অনুভব করতে পারেন, তখন আপনি নারীকে আর আগের দৃষ্টিতে দেখেন না৷ আপনি নারীর কষ্ট বুঝতে শেখেন।
ঠিক তেমনি, একজন নারীও যখন একজন পুরুষের কষ্টগুলো দেখে, তখন সে মা হওয়ার আগেই যেন এক মায়ের রূপ নেয়, সে বুঝতে পারে পুরুষেরও এমন কষ্ট হতে পারে এবং সে পুরুষের সব কষ্ট বুঝতে শুরু করে।

কবির ভাষায়,
বিস্তর, ধুল অউর খুশবু ওহি পুরানি হ্যায়,
উস কামরে কি অপনি এক কানি হ্যায়।
তেরি খাতির কিতনা খুদ কো বদল দিয়া,
অপনে উপর মুঝকো ভি হৈরানি হ্যায়।

অর্থাৎ আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই যে, আমি কীভাবে এত মানিয়ে নিতে পারছি!

আপনার নিজের কাছে নিজেকে যতই ভালো বা খারাপ মানুষ মনে হোক না কেন, যতক্ষণ না আপনি প্রেমে পড়ছেন এবং যতক্ষণ না আপনার ব্যক্তিত্ব কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, ততক্ষণ আপনি বুঝতে পারবেন না আপনি আসলে কেমন মানুষ, ভালো নাকি খারাপ। আর এটা আপনি কেবল ভালোবাসাতেই করতে পারবেন, অন্য কোনো সম্পর্কে নয়। কারণ ভালোবাসা ছাড়াও অনেক সম্পর্ক টিকে থাকে। কিন্তু ভালোবাসাতেই আপনি মানিয়ে নিতে বা সহ্য করতে পারেন। যেমন এমন হতে পারে, আপনার সঙ্গীর ফ্যান চালাতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু আপনার লাগছে। আপনার গরম লাগছে অথচ তার ঠান্ডা লাগছে, তখনও আপনি তার জন্য ছাড় দেন, নিজেকে মানিয়ে নেন।এর ফলে আপনার চিন্তাভাবনা বদলে যায়।
হতে পারে আপনি আগে হয়তো মসজিদে যেতেন না বা প্রার্থনা করতেন না, কিন্তু সে আপনাকে সাথে নিয়ে যাবে, আপনি যাবেন, দু হাত তুলে দোয়া করবেন, কিংবা সিজদায় লুটিয়ে পড়বেন। এটা কেবল ভালোবাসাতেই সম্ভব, ভালোবাসা ছাড়া আর কোথাও সম্ভব নয়,,,,,,,,

24/07/2026

কখনো কখনো মনে হয়, কিছু মানুষ হয়তো কোনো সম্পর্কের জন্যই মানানসই নয়।

ফ্রাঞ্জ কাফকা যেমনটা বলেছিলেন-

এমন কিছু সময় আসে যখন আমি নিশ্চিত হয়ে যাই যে, আমি মানুষের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখারই উপযুক্ত নই।

আবার মহসিন নকভির সেই বিখ্যাত পংক্তি-

আমার হাতের রেখায় এই একটাই খুঁত আছে মহসিন,আমি যে মানুষকে ছুঁয়ে দেই, সে আর আমার হয়ে থাকে না,,,

সম্পর্কের এই নিঃসঙ্গতা আর দূরত্ব হয়তো এক একজনের জীবনে এক এক রূপে আসে। কারো কাছে মনে হয় সে নিজেই অযোগ্য, আবার কারো ভালোবাসাই হয়তো মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়,,,,,,,!

24/07/2026

🙅‍♂️🙅‍♂️

Two parallel lines never meet.
but in what universe are we talking about?

দুই সমান্তরাল রেখা কখনো মেলে না, কিন্তু কোন জগতে?

ইউক্লিডের জ্যামিতি বলে যে দুই সমান্তরাল রেখা একটি সমতল পৃষ্ঠে কখনো মেলে না। তারা একে অপরের পাশাপাশি চলতে থাকে, কিন্তু কখনো একে অপরকে অতিক্রম করে না।

কিন্তু প্রজেকশন জ্যামিতি বলে যে এই মহাবিশ্ব বা জগত কোনো সমতল পৃষ্ঠ নয়। তাই দুটি সমান্তরাল রেখা মেলে, তবে অসীম বা অনন্তকালে অনন্তে গিয়ে মেলে।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, দুটি সমান্তরাল রেখা যদি একে অপরের পথকে অতিক্রম করে ফেলে, ছেদ করে ফেলে, মিলে যায় তবে কি তারা আর সমান্তরাল থাকে?

সমান্তরাল রেখার সমান্তরাল থাকা তো এই কারণেই ছিল যে তারা একে অপরকে অতিক্রম করে না। তারা যদি অতিক্রম করেই ফেলে, তবে তো সেই সমান্তরাল বিষয়টি আর রইলই না!

Ship of Theseus Paradox ও অনেকটা এমনই কথা বলে।
ভালবাসা বা প্রেমেও ঠিক এমনই ঘটে।

অনেক সময় দুজন মানুষ একে অপরের ভাগ্যে রেললাইনের পাতের মতো হয়। তারা পাশাপাশি চলতে তো পারে, কিন্তু একে অপরের সাথে মিলতে পারে না, অতিক্রম করতে পারে না।

যেমন কবি বলেছিলেন,

বহতে হুয়ে দরিয়া কে কিনারো কি তরহা থা,
তুঝসে মেরা রিশতা কাভি খাবো কে তরহা থা।
মে উসকো পড়া করতা থা হর রাত বহুত দের,
ভো শখস মেরে পাস কিতাবো কি তরহা থা।

অর্থাৎ, আমাদের সম্পর্ক ছিল রেললাইনের পাতের মতো, নদীর দুই তীরের মতো যে পাশাপাশি তো ছিল, কিন্তু একসাথে ছিল না। আমরা যেন ছিলাম জমিন আর আসমানের মতো।

এর ওপর কবি আরো বলেছিলেন,

ভো নেহি মেরা মগর,
উসসে মহব্বত হ্যায় তো হ্যায়।
আব ইয়ে রসমো রিওয়াজো সে বগাবত হ্যায় তো হ্যায়।
দূর থে অউর দূর হ্যায় জমিন ও আসমা,
দূরিও কে বাদ ভি দোনো মে কুরবত হ্যায় তো হ্যায়।

দুটোই তো দূরে, পাশাপাশি চলে, কিন্তু তা সত্ত্বেও উভয়ের মাঝে এতো প্রেম আছে তো আছে। কিছু সম্পর্ক এমনই হয়।

কিন্তু প্রজেকশন জ্যামিতি যদি এখানে আসে, তবে সে বলবে, জমিন আর আসমানকে যদি আমরা দিগন্তে দেখি, তবে তারা তো মেলে। এখানেই তাদের মাঝে দূরত্ব, এখানেই তারা সমান্তরাল, কিন্তু তারা অসীমে গিয়ে মেলে যেখানে আসমান আর জমিন মিশে যায়।

কিন্তু আমার প্রশ্ন তো এটাই যে, অনন্তে গিয়ে যদি জমিন আর আসমান মিলেই যায়, তবে কি তা আর জমিন আর আসমান থাকে? তা তো তখন দিগন্ত হয়ে গেল! সেখানে না আছে জমিন, না আছে আসমান!

এতে একটি কবিতা বলা যায়,
পহেলে হুয়া করতে থে জো, হাম ভো নেহি রহে।দেখো শবে ফিরাক হ্যায় অউর রো নেহি রহে।

কারণ মূল কথা তো এটাই,
If I wait, I will not be that person. If you will stay, you will not be that person.

আমি যদি তোমার অপেক্ষা করি, তবে অপেক্ষার মাঝে আমি আর সেই আগের মানুষটি থাকব না। আর তুমি যদি ফিরে আসো, তবে তুমিও সেই মানুষটি হয়ে ফিরবে না যে ছেড়ে গিয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে বিষয়গুলো বদলে যায়।

কবি বলেছিল,

তেরে লিয়ে চলে থে হাম, তেরে লিয়ে ঠেহর গয়ে,
তুনে কাহা তো জি উঠে, তুনে কাহা তো মর গয়ে।
তু ভি কুছ অউর অউর হ্যায়, হাম ভি কুছ অউর অউর হ্যায়,
জানে ভো তু কিধর গয়া, জানে ভো হাম কিধর গয়ে।

তাই না তো আমি সেই মানুষটি আছি যে অপেক্ষা করার পূর্বে ছিলাম, অপেক্ষার এই প্রক্রিয়ায় আমি বদলে গেছি; আর না তো তুমি ফিরে এসে সেই মানুষটি হবে যে আমাকে ছেড়ে গিয়েছিল। আমরা যদি কখনো মেলেও যাই, আমরা আর কখনোই আগের মতো থাকব না,,,,,

23/07/2026

জেমস জয়েস বলেছিলেন, "Absence is the highest form of presence" অনুপস্থিতিই হলো উপস্থিতির সর্বোচ্চ রূপ । অর্থাৎ কোনো কিছুর উপস্থিতির সবচেয়ে সেরা রূপ হলো তার অনুপস্থিত থাকা।
এ প্রসঙ্গে গালিব বলেছিলেন,
তুমি আমার কাছেই থাকো যেন,
যখন অন্য কেউ পাশে থাকে না।

অর্থাৎ যখন আমার সাথে কেউ থাকে না, আমি যখন চরম একাকীত্বে থাকি এবং নিজের চিন্তায় মগ্ন থাকি, ঠিক তখনই আমি তোমাকে পূর্ণরূপে, নিজের অন্তরের গভীর থেকে আত্মা পর্যন্ত অনুভব করতে পারি।

কবি বলেছিল,
পরিস্থিতি এমন যে, এখানে তোমার নামের কোনো চিহ্নও নেই,
তবুও আমাদের একাকীত্ব তোমার উপস্থিতিতেই পরিপূর্ণ হয়ে থাকে।

অর্থাৎ তুমি যেখানে নেই, সেখানেই তোমার চিন্তায় আমার একাকীত্ব ভরে ওঠে।
এমনটাই তো হয় যখন কেউ আমাদের খুব কাছাকাছি থাকে, তখন তাকে আমরা পুরোপুরি অনুভব করতে পারি না। কারণ সে নিজেই আমাদের জন্য একটি বিভ্রান্তি বা মনোযোগ বিচ্যুতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা না পারি তাকে সঠিকভাবে দেখতে, না পারি তার সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে।
যেমন কবি বলেছিলেন,

"তুমি আমার সামনে উপস্থিত আছ এবং খুব কাছেও আছ,
এখন তোমাকে দেখব, নাকি তোমার সাথে কথা বলব?"

এ প্রসঙ্গে কবি আরো বলেন,,

"পৃথিবীর শেষ দৃশ্যপট ভেসে উঠতে লাগল,
যে পাথরটির দিকে আমি তাকিয়ে ছিলাম, সেটিই যেন স্পষ্ট হতে লাগল।
যতক্ষণ তা সামনে ছিল, কমই দেখতে পাচ্ছিলাম,
যখন চলে গেল, তখন থেকেই পুরোপুরি দেখতে পাচ্ছি।"

অর্থাৎ সে যখন আমার কাছে ছিল, তার উপস্থিতিই আমাকে মনোযোগ বিভ্রান্ত করছিল। কখনও তার চোখের দিকে তাকাচ্ছিলাম, কখনও পায়ে, কখনও বা তার হাতের দিকে... তার কথা গভীরভাবে ভাবতেই পারছিলাম না। কিন্তু এখন সে চলে গেছে, তাই তাকে শতভাগ অনুভব করতে পারছি।

আমেরিকার একজন বিখ্যাত কবি এডওয়ার্ড এস্টলিন কামিংসের একটি কবিতা রয়েছে:

"I carry your heart with me, I a never without it.
I go, you go, my dear, and whatever is done by only me is only your doing."

এর মানে হলো, আমি সর্বদা তোমার হৃদয়কে নিজের সঙ্গে বহন করে চলি, এটি ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারি না। আমি যেখানেই যাই, তুমি আমার সঙ্গেই যাও। আমি যা ই করি না কেন, তাতে তোমারই অবদান থাকে। আমি তো নিজের চিন্তার মধ্যেও একা নই।

ভালোবাসার এই চরম অনুভূতি যখন কাউকে ঘিরে ধরে, তখন মনের একাগ্রতায় স্থায়ী চিড় ধরে। নিজের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলোর ওপর থেকে মনোযোগ সরে যায়, ভুল হতে শুরু করে পদে পদে। কারণ মানুষটি আপনার কাছ থেকে দূরে থাকলেও, আপনার পুরো আবেগ আর চিন্তাজগৎ জুড়ে শুধুই তার অনুপস্থিতির এক বিশাল আর একচ্ছত্র উপস্থিতি রয়ে যায়।

16/07/2026

প্রিয়তমাসু

সীমান্তে আজ আমি প্রহরী
অনেক রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করে
আজ এখানে এসে থমকে দাঁড়িয়েছি
স্বদেশের সীমানায়।

ধূসর তিউনিসিয়া থেকে স্নিগ্ধ ইতালী,
স্নিগ্ধ ইতালী থেকে ছুটে গেছি বিপ্লবী ফ্রান্সে
নক্ষত্র নিয়ন্ত্রিত নিয়তির মত
দুর্নিবার, অপরাহত রাইফেল হাতে;
-ফ্রান্স থেকে প্রতিবেশী বর্মাতেও।

আজ দেহে আমার সৈনিকের কড়া পোষাক
হাতে এখনো দুর্জয় রাইফেল,
রক্তে রক্তে তরঙ্গিত জয়ের আর শক্তির দুর্বহ দম্ভ,
আজ এখন সীমান্তের প্রহরী আমি।

আজ কিন্তু নীল আকাশ আমাকে পাঠিয়েছে আমন্ত্রণ
স্বদেশের হাওয়া বয়ে এনেছে অনুরোধ
চোখের সামনে খুলে ধরেছে সবুজ চিঠি;
কিছুতেই বুঝিনা কী করে এড়াব তাকে,
কী করে এড়াব এই সৈনিকের কড়া পোষাক?
যুদ্ধ শেষ; মাঠে মাঠে প্রসারিত শান্তি,
চোখে এসে লাগছে তারই শীতল হাওয়া,
প্রতি মুহুর্তে শ্লথ হয়ে আসে হাতের রাইফেল
গা থেকে খসে পড়তে চায় এই কড়া পোষাক
রাত্রে চাঁদ ওঠে, আমার চোখে ঘুম নেই।

তোমাকে ভেবেছি কতদিন,
কত শত্র“র পদক্ষেপ শোনার প্রতীক্ষার অবসরে
কত গোলা ফাটার মুহূর্তে।
কতবার অবাধ্য হয়েছে মন, যুদ্ধ জয়ের ফাঁকে ফাঁকে,
কতবার হৃদয় জ্বলেছে অনুশোচনার অঙ্গারে
তোমার আর তোমাদের ভাবনায়।
তোমাকে ফেলে এসেছি দারিদ্র্যের মধ্যে,
ছুঁড়ে দিয়েছি দুর্ভিক্ষের আগুনে,
ঝড়ে আর বন্যায় মারী আর মড়কের দুঃসহ আঘাতে
বার বার বিপন্ন হয়েছে তোমাদের অস্তিত্ব।
আর আমি ছুটে গেছি এক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আর এক যুদ্ধক্ষেত্রে।
জানিনা আজো আছো কি নেই,
দুর্ভিক্ষে ফাঁকা আর বন্যায় তলিয়ে গেছে কি-না ভিটে,
জানি না তাও।
তবু লিখছি তোমাকে আজ, লিখছি আত্মম্ভর আশায়,
ঘরে ফেরার সময় এসে গেছে।

জানি আমার জন্যে কেউ প্রতীক্ষা ক’রে নেই,
মালায় আর পতাকায় প্রদীপে আর মঙ্গল ঘটে
জানি সম্বর্ধনা রটবে না লোকমুখে,
মিলিত খুশীতে মিলবে না বীরত্বের পুরষ্কার।
তবু, একটি হৃদয় নেচে উঠবে আমার আবির্ভাবে-
সে তোমার হৃদয়।
যুদ্ধ চাইনা আর, যুদ্ধ তো থেমে গেছে;
পদার্পণ করতে চায় না মন ইন্দোনেশিয়ায়।
আর সামনে নয়,
এবার পেছন ফেরার পালা।
পরের জন্য যুদ্ধ করেছি অনেক,
এবার যুদ্ধ তোমার আর আমার জন্যে।
প্রশ্ন করো যদি এত যুদ্ধ করে পেলাম কী? উত্তর তার-
তিউনিসিয়ায় পেয়েছি জয়,
ইতালিতে জনগণের বন্ধুত্ব,
ফ্রান্সে পেয়েছি মুক্তির মন্ত্র;
আর নিষ্কন্টক বর্মায় পেলাম ঘরে ফেরার তাগাদা।

আমি যেন সেই বাতিওয়ালা-
যে সন্ধ্যায় রাজপথে-পথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে
অথচ নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালার সামর্থ্য
নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার।

লেখক:- সুকান্ত ভট্ট্যাচার্য

15/07/2026

যদি তুমি একটা সুযোগ পাও তার সাথে দেখা করার...
কিছুই বলো না, শুধু চুপ থেকো।
আর তাকে মন ভরে দেখো।
সে তোমাকে কতটা ভেঙেছে,
কোন পরিস্থিতিতে কেমন করে ছেড়েছে,
নিজের এই সব প্রশ্নের বই...
বন্ধ রেখো।
আর তার চোখে নিজেকে দেখো।
সে তোমার সামনে থাকবে...
তুমি ভাগ্যবান!
পলক ফেলো না।
তার ছায়া নিজের ছায়ার ওপর নিও,
আর তার অস্তিত্বের অনুভূতি অনুভব করো।
আর সবচেয়ে জরুরি কথা...
যেদিকে বাতাস বইবে,
তার উল্টো দিকে বসো।
যেন যে বাতাস তোমার দিকে আসে,
সেটি তাকে ছুঁয়ে তোমার কাছে আসে।
কিন্তু এবার যখন সে চলে যাবে,
তখন নিজের চোখ বন্ধ রেখো।
খোলা চোখে তাকে চলে যেতে দেখলে...
আমি জানি মন দুর্বল,
তুমি ডেকে বসবে!
তাই ভালো হয় নিজের চোখ বন্ধ রেখো,
আর এই দেখাকে একটি স্বপ্ন ভেবো...
এবং প্রতিদিন দেখো,,,,,,,

12/06/2026
Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka
1230