17/03/2026
#ভর্তিপরীক্ষা_বনাম_লটারী
আমাদের দেশ গরিব। জনসংখ্যা বেশি। সম্পদ কম। তাই কোন নাগরিক সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে অন্য দেশের মতো চাওয়াটা কোন সহজ চাওয়া নয়।।
তবুও মানুষ হওয়ার কারনে তুলনা চলে আসেই।
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা বলি। আমার বাচ্চা দু'জনের একজন তখন ক্লাস ওয়ান শেষ করেছে, অন্যজন ক্লাস টু। আমরা গিয়েছিলাম সম্ভবত অগাস্টের ১৯ বা ২০ তারিখ। সেপ্টেম্বর থেকে সেশন শুরু। যাওয়ার আগেই ভিসা কন্ডিশন অনুযায়ী ওদেরকে স্কুলে ভর্তি কনফার্ম করতে হয়েছিল।
এখন, স্কুলে ভর্তি করার জন্য আগে বাসা ভাড়া নিতে হলো। মানে আমরা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগেই আমার হাসবেন্ডকে ফ্যামিলি বাসা ভাড়া কনফার্ম করতে হয়েছিল, কারণ ঠিকানা চাই!
যে এলাকায় আমি বাসা ভাড়া নিব, সে এলাকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আমার বাচ্চাকে ভর্তি করতে বাধ্য।
ওরা পৌছানোর আগেই ওদের স্কুলে ভর্তি করা হয়ে গেল। বয়স অনুযায়ী ক্লাস।
আমরা পৌছানোর পর, স্কুল শুধু একটা জিনিস যাচাই করেছিল, বয়স অনুযায়ী তারা যে গ্রেডে ভর্তি হল, সেই standard এর English এবং Math তারা জানে কিনা!
আমার বাচ্চারা পেরেছিল, বরং তারা একটু advance ছিল, তাই তাদের Year 2 এবং Year 3 এ admission confirm করে সেই grade এর advance section এ enrolled করে নিল। তারা যদি কম জানতো, তাহলে তাদের জন্য আলাদা ESL and Math class দেওয়া হতো।
Simple.
কোন ভর্তি পরীক্ষা না!
কোন লটারী না!
আমি যেহেতু এই এলাকার বাসিন্দা, তাই আমার বাচ্চারা সে এলাকার সরকারী স্কুলে পড়বে, ফ্রি। এটা তার অধিকার।
এদেশেও private school আছে। সেখানে ভর্তি হতে পরীক্ষা দিতে হয় এবং বেতন যথারীতি high.
এদেশেও কোচিং সেন্টার আছে। ভালো রেজাল্টের জন্য high payment দিয়ে parent বাচ্চাদের সেখানে পড়তে পাঠায়।
এই প্রক্রিয়াটা আমার কাছে স্বচ্ছই মনে হয়। তুমি তোমার এলাকার সরকারী স্কুলে বাচ্চাকে পড়াতে চাইলে, তোমার জন্য কোনো ভোগান্তি নাই। যাবে, ভর্তি হবে।। প্রাইভেটে পড়াতে চাইলে, competitive exam দিয়ে ঢুকবা, তারপর আবার payment করতে হবে।
কিন্তু আমরা কী করি? থাকবো ধানমন্ডিতে, ভর্তি হবো নারায়নগঞ্জের বা গুলশানের সরকারী স্কুলে! কারণ সেটার সুনাম আছে! তাহলে ব্যালেন্সিং টা কি করে সম্ভব?
এজন্য, সরকারি স্কুলে কোন ভর্তি পরীক্ষা না রেখে, সমস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসাথে আবেদন পত্র নিয়ে, শিক্ষার্থীর বর্তমান ও স্হায়ী ঠিকানা অনুযায়ী ৩/৪ টি পছন্দের স্কুলের ক্রম অনুযায়ী sorting করাটাই যৌক্তিক।
কোন এলাকায় সিটের চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে, তখন স্কুলে ডাবল সিফট, ট্রিপল সিফট খুলতে হবে। মোট কথা, কাউকে বলা যাবে না সিট নাই।
প্রাইভেট স্কুলের ক্ষেত্রে, ভর্তি অথবা লটারী, প্রতিস্ঠানের সিদ্বান্ত নেওয়ার সেই স্বাধীনতা থাকাটা জরুরি, অবশ্যই কিছু বেসিক সরকারী নীতিমালার অধীনে।
অভিভাবকদেরও মনে রাখা উচিত, সব বাচ্চার একটা ভালো স্কুলে পড়ার অধিকার সমান। এখানে মেধাবী হওয়া না হওয়াটা প্রথম কন্ডিশন হতেই পারে না।
আমার চোখে আমার বাচ্চা আর অন্যের বাচ্চা যেন সমান হয়🤲।
#ভর্তিপরীক্ষা
#প্রাথমিকবিদ্যালয়
17/03/2026
17/03/2026
24/02/2026
23/02/2026
23/02/2026
22/02/2026
22/02/2026