28/05/2023
উম্মতের প্রতি নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা
নবী করিম (সা.) প্রত্যহ উম্মতের গুনাহের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুল (সা.)–এর অন্তর প্রসন্ন দেখলে আমি বলতাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমার জন্য দোয়া করুন। তিনি বলতেন, “হে আল্লাহ! আপনি আয়েশার আগে ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য গোনাহসমূহ ক্ষমা করুন।”’ রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর দোয়া শুনে হজরত আয়েশা (রা.) হেসে মাথা নিচু করে ফেলতেন।
তাঁর হাসিমাখা মুখ দেখে রাসুল (সা.) বলতেন, ‘আমার দোয়াতে কি তুমি আনন্দিত হয়েছ?’ হজরত আয়েশা (রা.) বলতেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এটা কেমন কথা, আপনার দোয়ায় আমি আনন্দিত হব না?’ তখন রাসুল (সা.) বলতেন, ‘আল্লাহর শপথ, এভাবেই আমি প্রত্যেক নামাজের পর আমার উম্মতের জন্য দোয়া করি।’ (ইবনে হিব্বান: ৭১১১)
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) গুনাহগার উম্মতের প্রতি বিশেষ স্নেহশীল ছিলেন। অনাগত উম্মতের প্রতি তাঁর তীব্র ভালোবাসা ছিল। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার ভাইদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইচ্ছা করছে।’ সাহাবিরা বললেন, ‘আমরা কি আপনার ভাই নই?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমরা তো আমার সাহাবি তথা সঙ্গী। আমার ভাই হলো যারা আমার ওপর ইমান আনবে, কিন্তু আমাকে দেখবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১২৭১৮)
উম্মতের প্রতি নবীজি (সা.)–এর ভালোবাসার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত হলো উম্মতের পক্ষ থেকে তাঁর কোরবানি প্রদান। তিনি মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে নিজেই কোরবানি করতেন। হজরত আবু রাফে (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির সময় দুটি মোটাতাজা ও শিংবিশিষ্ট দুম্বা ক্রয় করতেন।
ঈদের নামাজ আদায় করে খুতবা প্রদান করতেন। অতঃপর তিনি নামাজের স্থানে দাঁড়ানো থাকতেই একটি দুম্বা নিয়ে আসা হতো। তা নিজ হাতে ছুরি দিয়ে জবাই করে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! এটা আমার পুরো উম্মতের পক্ষ থেকে, যারা আপনার তাওহিদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং আমার রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৭৭৮২)