29/06/2020
একটি সুন্দর নাম ধন-সম্পদের চেয়েও উত্তম।শেষ বিচারের দিন আপনার সুন্দর ইসলামিক নামটি আপনাকে এনে দিতে পারে বিরাট সফলতা।নাম রাখা খুবই সহজ তাই বুঝে শুনে সুন্দর ইসলামিক নাম রাখুন।নাম রাখার ব্যাপারে ইসলাম একটু বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)শিশুর জন্মের সপ্তম দিন নবজাতকের উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি : ২/১১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নাম ও পিতার নামে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩০০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন,‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৯৮)
প্রিয় নবী (সা.)-এর দুটি নাম রয়েছে : মুহাম্মাদ ও আহমাদ। এ ছাড়া অন্য নবীদের নাম রাখা যায়। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপনাম ‘আবুল কাসেম’ অন্যদের জন্য রাখা নিষিদ্ধ। (বুখারি, হাদিস : ৫৮৩৩)।
ইসলাম সুন্দর ও অর্থবোধক যেকোনো নাম রাখার অনুমতি দিয়েছে।ভালো নাম মানে শুভ সূচনা।
ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) এক উটনীর দুধ দোহনের জন্য লোকদের জিজ্ঞেস করেন, এ উটনীকে কে দুধ দোহন করবে? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার নাম কী? সে বলল, তার নাম হলো মুররাহ। তিনি বলেন, বসো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, এ উটনীকে কে দুধ দোহন করবে? অন্য এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? সে বলল, তার নাম হারব। তিনি বললেন, বসে পড়ো। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ উটনীকে কে দুধ দোহন করবে? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার নাম কী? সে বলল, তার নাম ইয়ায়িশ। তিনি বলেন, ঠিক আছে, তুমিই দুধ দোহন করো। (জামউল ফাওয়ায়েদ)
প্রথম দুই ব্যক্তিকে দুধ দোহনে বাধা দেওয়ার কারণ হলো, প্রথম দুই নামের ভাবার্থ অপছন্দনীয় এবং সর্বশেষ নামের ভাবার্থ পছন্দনীয়। প্রথম নাম মুররাহ। মুররাহ মানে তিতা বস্তু। আর তিতা নিশ্চয়ই সবার পছন্দনীয় নয়। দ্বিতীয় নাম হারব মানে যুদ্ধ। এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে যুদ্ধ কোনো পছন্দনীয় কাজ নয়। পক্ষান্তরে ইয়ায়িশ শব্দ জীবন্ত থাকার অর্থবোধক। মহানবী (সা.) এ নাম পছন্দ করেছেন। এর মানে হলো, ইসলাম ব্যক্তি বা বস্তুর সুন্দর নাম চায়। ইসলাম মানুষকে আশাবাদী করতে চায়। সেই আশা জেগে ওঠে সূচনাতেই।
25/06/2020
---যে ব্যক্তি সালাতুল এশা জামা'আতে আদায় করল সে যেন অর্ধরাত্রি ইবাদত করল এবং সে জামা'আতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল সে যেন সারারাত সালাত আদায় করল।
(মুসলিম --৬৫৬)
25/06/2020
দুনিয়ার জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ার তুচ্ছতা সম্বন্ধে এক হাদিসে বলেছেন-জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কান কাটা মৃত বকরীর বাচ্চার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে এটাকে এক দিরহামের বিনিময়ে নিতে পছন্দ করবে? তারা বললেন, আমরা তো এটাকে কোন কিছুর বিনিময়েই নিতে পসন্দ করব না।
তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এটা তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ) এর চাইতেও অধিক নিকৃষ্ট (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৭)।
দুনিয়া অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় যেন আমরা আখিরাতের জীবনের নেক আমল অর্জন থেকে গাফেল না হই। আমরা যখন চিরসুখের জান্নাত লাভে সক্ষম হব তখনই আসবে আমাদের জীবনে সত্যিকার সফলতা।
25/06/2020
আল্লাহর ভয় অর্জন করা হচ্ছে জীবনে সফলতা অর্জনের একটি অন্যতম মানদণ্ড। আল্লাহ বলেন -তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সুরা হুজরাত আয়াত-১৩)
যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে তিনি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই সম্মানিত হয়। সকলেই তাকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে। অন্যত্র আল্লাহ বলেন- যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। (সুরা তালাক, আয়াত২-৩)
23/06/2020
মহান আল্লাহ বলেন: আর মানুষের মধ্যে থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে। আর তারা ঐগুলোকে হাসি ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব।(সূরা:লোকমান আয়াত:৬)
অতএব নিছক বিনোদনের ছলে যারা গ্রুপ খুলছেন এবং তাতে যারা যুক্ত হচ্ছেন উভয় সাবধান ।
21/06/2020
⭕কোনো স্ত্রী যখন তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন ঐ পুরুষের জন্য জান্নাতে নির্ধারিত স্ত্রী (হূর) বলতে থাকে, হে অভাগিনী আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুক, তোমার স্বামী কে কষ্ট দিও না, সে তো তোমার কাছে কিছু দিনের জন্য মেহমান মাত্র, অচীরেই সে জান্নাতে আমার কাছে চলে আসবে।
(তিরমিজিঃ১১৭৪)
⭕রাসূল সাঃ বলেছেন: কোন নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর দেহের বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে (ঐ নারীকে) দেখতে পাচ্ছে।
(বুখারী, হাদিস নং ৫২৪১)
⭕স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে (সঙ্গম করতে) আহ্ববান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতা তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।
(বুখারী ৩২৩৭)
⭕কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে নিজ প্রয়োজন ( সঙ্গম) পূরণের উদ্দেশ্যে ডাকলে সে যেন সাথে সাথে তার নিকট আসে, এমনকি সে চুলার উপর রান্না-বান্নার কাজে ব্যস্ত থাকলেও।
(তিরমিজিঃ১১৬০)
⭕স্ত্রী হলো স্বামীর গৃহের রক্ষক, সে তার রক্ষণাবক্ষণ (দায়িত্ব) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে(বুখারীঃ৫১৮৮)
⭕আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরার হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরার ওপরের হাড়। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি তা যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়ত করা হলো নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য।
(বুখারীঃ৫১৮৬)
⭕পুরুষ হলো নারীর কর্তা, কারণ আল্লাহ তাদের একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন"-
( সূরা আন-নিসা: ৩৪ )