06/07/2025
শয়তানের মূল অস্ত্রগুলো কি কি জানি আসুন
চার ইমামসহ আহলুস্সুন্নাহ্ ওয়াল জামাতের বিশুদ্ধ ঈসলামী আকীদা গ্রহণ ও প্রচার
06/07/2025
শয়তানের মূল অস্ত্রগুলো কি কি জানি আসুন
ঈমান ভংগের 10 টি কারণ
শায়খ আবু বকর যাকারিয়া হাফি: টাইমলাইন থেকে:
আল-হামদানি আমাকে হতভম্ব করে দিয়েছে
আল-হামদানি আমাকে হতবুদ্ধি করে দিয়েছে
মুহাম্মাদ ইবন তাহির আল-মাকদিসি, (সুফিবাদীদের মধ্য থেকে একজন প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদ), তার নিজের সম্পর্কে তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একবার (আশআরী মতবাদের বিখ্যাত প্রবক্তা) আবুল-মাআলি আল-জুওয়াইনির মজলিসে যোগ দিয়েছিলেন তখন তিনি বলছিলেন: “সেখানে আল্লাহ ছিলেন এবং কোনো আরশ ছিল না, এখন তিনি সেখানে আছেন যেখানে পূর্বে ছিলেন” বা এই অর্থের কোনো শব্দ।
তখন আবু আলী আল হামাদানী বললেন: হে শেখ, আরশের কথা ছাড়ুন না, (এটার আলোচনার আগে আমার আগত প্রশ্নের জবাব দিন) আমাদের এই প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলুন যা আমরা আমাদের হৃদয়ে খুঁজে পাই, কারণ একজন আরিফ (আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী ব্যক্তি) যখনি বলেছে ‘হে আল্লাহ’, তখনি তিনি তার মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ভাবে খুঁজে পেয়েছেন যে, হৃদয় এমন আল্লাহর জন্য এমন একটি উচ্চতা চায়, যা ডান বা বাম দিকে ফিরে যায় না, তাহলে আমরা কীভাবে এই প্রয়োজনীয়তাকে আমাদের হৃদয় থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারি?
তিনি বললেন: তখন আবুল মাআলি চিৎকার করে তার মাথায় থাপ্পড় দিয়ে বলতে থাকলেন:
আল- হামদানি আমাকে হতভম্ব করে দিয়েছে।
আল-হামদানি আমাকে হতবুদ্ধি করে দিয়েছে।
বস্তুত সুস্থ মানব মন আল্লাহকে সৃষ্টির উপরেই সাব্যস্ত করে। কোনো প্রকার বাইরের প্রভাব না পড়লে সেটা কেউ রোধ করতে পারে না।
🇧🇩⛔ ঈমানের গুরুত্ব ও ফযীলত...
✅ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘ঈমান’। প্রত্যেক নবী-রাসূলের প্রথম দাওয়াত ছিল ঈমানের দাওয়াত। ঈমান ব্যতীত বান্দার কোন আমল আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। ঈমানের উপর নির্ভর করেই বান্দার জান্নাত-জাহান্নাম ও পরকালীন মুক্তি। আলোচ্য প্রবন্ধে ঈমানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়, গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।-
👉ঈমানের পরিচয় : ঈমান (الإيمان) শব্দটি আম্ন (امن) শব্দ থেকে নির্গত। আমন অর্থ- নিরাপত্তা, আশংকামুক্তি, নিশ্চিন্তত্রা ইত্যাদি।[1] যা ভীতির বিপরীত। আর মুমিন শব্দের অর্থ হ’ল- বিশ্বাসী, আস্থাশীল, আস্থাবান। যেমন হাদীছে এসেছে, المُؤْمِنُ مَن أمِنَهُ النّاسُ، ‘মুমিন তো তিনিই যাকে মানুষ নিরাপদ মনে করে’।[2] পরিভাষায় ঈমান বলা হয়,الْإِيْمَانُ هُوَ التَّصْدِيْقُ بِالْجَنَانِ وَالْإِقْرَارُ بِاللِّسَانِ وَالْعَمَلُ بِالْأَرْكَانِ، يَزِيْدُ بِالطَّاعَةِ وَيَنْقُصُ بِالْمَعْصِيَّةِ، اَلْإِيْمَانُ هُوَ الْأَصْلُ وَالْعَمَلُ هُوَ الْفَرْعُ، ‘ঈমান’ হ’ল হৃদয়ে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়নের সমন্বিত নাম। যা আনুগত্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় ও গোনাহে হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। বিশ্বাস ও স্বীকৃতি হ’ল মূল এবং কর্ম হ’ল শাখা।
ঈমান কি? জিব্রীল (আঃ)-এর এমন প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ ‘ঈমান হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকালকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং এছাড়া তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করা’।[3]
🔷ঈমানের গুরুত্ব ও ফযীলত : ঈমানের গুরুত্ব ও ফযীলত অপরিসীম। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হ’ল- (১) ইসলামের প্রথম ভিত্তি ঈমান : ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির প্রথমটি হ’ল ঈমান তথা ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল’ এই সাক্ষ্য দেওয়া। ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ-
ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে পাঁচটি। ১. আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহর রাসূল এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. ছালাত প্রতিষ্ঠা করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রামাযানের ছিয়াম পালন করা’।[4] যুগে যুগে সমাজে নানাবিধ খারাপ কাজ বিদ্যমান থাকলেও প্রত্যেক নবী-রাসূলের প্রথম দাওয়াত ছিল ঈমানের। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ، ‘আর তোমার পূর্বে আমরা এমন কোন রাসূল প্রেরণ করিনি যার নিকটে এই অহি করিনি যে, আমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা আমার ইবাদত কর’ (আম্বিয়া ২১/২৫)। ক্বাতাদা (রাঃ) বলেন, তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআনে শরী‘আত ভিন্ন ভিন্ন থাকলেও সকল নবীকে তাওহীদ (তথা ঈমান) দিয়ে পাঠানো হয়েছে।[5] অন্য আয়াতে প্রত্যেক নবীর দাওয়াতের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ ‘হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই’ (আ‘রাফ ৭/৫৯)।[6] রাসূল (ছাঃ)-এর প্রথম দাওয়াতও ছিল ঈমানের। তিনি বলতেন, قُوْلُوْا لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ تُفْلِحُوْا، ‘তোমরা বল আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তাহ’লে তোমরা সফলকাম হবে’।[7]
📗রেফারেন্স :
[1]. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, মু‘জামুল ওয়াফী, পৃ. ১৫৮।।
[2]. ইবনু মাজাহ হা/৩৯৩৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৬৫৮।
[3]. মুসলিম হা/৮; আবু দাঊদ হা/৪৬৯৫।
[4]. বুখারী হা/৮; মুসলিম হা/১৬।
[5]. তাফসীরে কুরতবী, সূরা আম্বিয়া ২৫নং আয়াতের তাফসীর দ্র:।
[6]. আ‘রাফ ৭/৫৯, ৬৫, ৭৩, ৮৫; হূদ ১১/৫০, ৬১, ৮৪; মুমিনূন ২৩/২৩; আনকাবূত ২৯/৩৬।
[7]. আহমাদ হা/১৬০৬৬; হাকেম হা/৩৯, ৪২১৯, হাদীছ ছহীহ।
01/08/2023
27/12/2022
▌দুনিয়া নিয়ে টেনশান করবেন না!
________________________________
(এক)
সবকিছু একদিন ধ্বংস হবেঃ
দুনিয়া নিয়ে দুনিয়াবাসীর সাথে প্রতিযোগিতা করবেন না, দুনিয়াবী কোন বিষয় নিয়ে আফসোস করবেন না। কেননা, দুনিয়ার সবকিছু একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে।
আল্লাহ তায়া'লা বলেন,
کُلُّ مَنۡ عَلَیۡہَا فَانٍ
পৃথিবী পৃষ্ঠে যা আছে সবই ধ্বংসশীল,
وَّ یَبۡقٰی وَجۡہُ رَبِّکَ ذُو الۡجَلٰلِ وَ الۡاِکۡرَامِ
কিন্তু চিরস্থায়ী আপনার রব্বের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।
সূরা আর-রাহমানঃ ২৬-২৭।
_____________________________________
(দুই)
সারা দুনিয়ার মূল্য কতটুকু?
দুনিয়ার বাস্তবতা সম্পর্কে বুঝার জন্য এই দুইটি হাদীস একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
(i) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যদি আল্লাহর নিকট মশার ডানার সমান দুনিয়ার (মূল্য বা ওজন) থাকত, তাহলে তিনি কোন কাফেরকে তার (দুনিয়ার) এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।"
তিরমিযীঃ ২৩২০, ইবনে মাজাহঃ ৪১১০।
(ii) জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাজারের পাশ দিয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় যে, তাঁর দুই পাশে লোকজন ছিল। অতঃপর তিনি ছোট কানবিশিষ্ট একটি মৃত ছাগল ছানার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি তার কান ধরে বললেন, তোমাদের কেউ কি এক দিরহামের পরিবর্তে এটাকে নেওয়া পছন্দ করবে?’’ তাঁরা বললেন, আমরা কোনো জিনিসের বিনিময়ে এটা নেওয়া পছন্দ করব না এবং আমরা এটা নিয়ে করবই বা কি?’ তিনি বললেন, তোমরা কি পছন্দ কর যে, (বিনামূল্যে) এটা তোমাদের হোক?’’
তাঁরা বললেন, আল্লাহর কসম! যদি এটা জীবিত থাকত তবুও সে ছোট কানের কারণে দোষযুক্ত ছিল। এখন তো সে মৃত (সেহেতু একে কে নেবে)?’ তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের নিকট এই মৃত ছাগল ছানাটা যতটা নিকৃষ্ট, দুনিয়া আল্লাহর নিকট তার চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট।’
সহীহ মুসলিমঃ ২৯৫৭, আবু দাউদঃ ১৮৬, আহমদঃ ১৪৫১৩।
_____________________________________
সংগৃহীত: তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও
#জান্নাহ্: সফলতার পথে আহবান।
23/08/2022
24/07/2022
কুরআনের আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দুআ দ্বারা তাবিজ ব্যবহারের বিধান কি? শরীর থেকে তাবিজ খুলে তা কোথায় ফেলা উচিৎ?
▰▰▰◄✪►▰▰▰▰
প্রশ্ন: তাবিজ শিরক-এ কথা জানার পর কেউ তাবিজ শরীর থেকে খুলে ফেলে তাহলে তা কোথায় ফেলবে যদি তাবিজের গায়ে বা তার ভেতর কুরআনের আয়াত বা হাদিসে বর্ণিত দুআ লেখা থাকে?
উত্তর:
প্রথমে আমরা জানব, তাবিজ কি আসলেই শিরক?
আমাদের জানা প্রয়োজন যে, ইসলামে তাবিজ ব্যবহারে অনুমতি নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবিজ ব্যবহারকে শিরক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
(مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ)
“যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শির্ক করল”।[মুসনাদে আহমাদ, (৪/১৫৬) ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (১/৮০৯)]
এ মর্মে আরও অনেক হাদীস রয়েছে।
▪তাবিজে যদি কুরআনের আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দুআ লিখা থাকে তাহলেও কি তা ব্যবহার করা বৈধ নয়?
একথা গোপন নয় যে, তাবিজে বিভিন্ন ধরণের অর্থহীন আঁকিবুঁকি, ইবলিশ শয়তান, নমরূদ, ফেরআউন, হামান, কারূন ইত্যাদির নাম লেখা হয়। লেখা হয় বিভিন্ন যাদু ও তেলেসমাতী বিষয়। তাবিজে এসব লেখা থাকলে তা ব্যবহার করা শিরক এতে কোন সন্দেহ নাই।
তবে পুরো কুরআন, কুরআনের আয়াত, হাদিসের দুআ, আল্লাহর নাম ইত্যাদি দ্বারা তাবিজ লেখা হলে অনেক আলেম তাকে শিরকী তাবিজ হিসেবে আখ্যায়িত করেন নি। কিন্তু তা শিরকী তাবিজের রাস্তাকে খুলে দিতে পারে- এ দৃষ্টি কোন থেকে অনেকেই হারাম বলেছেন।
তাছাড়া তাবিজে আল্লাহর নাম, আল্লাহর কালাম ইত্যাদি থাকলে তাতে এগুলোর অসম্মান হয় নানাভাবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। কারণ, মানুষ এগুলো গলায়, বাহু কোমর ইত্যাদি স্থানে পেঁচিয়ে রাখে যার কারণে, অনেক সময় ঘুমের মধ্যে সেগুলো তার শরীরের নিচে চাপা পড়ে, তাবিজ পরা অবস্থায় স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়, স্বপ্নদোষের মাধ্যমে শরীর নাপাক হয়, এগুলো শরীরে ঝুলা অবস্থায় মানুষ কত শত অশ্লীলতা ও পাপাচারে লিপ্ত হয়, টয়লেট ও নাপাক স্থানে যায়। ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে কুরআন, কুরআন ও হাদিসের দুআ ইত্যাদি দ্বারা তাবিজ ব্যবহার করা হারাম।
সর্বোপরি কথা হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও কুরআন ও দুআ লিখে তাবিজ ব্যবহার করেছেন বা কাউকে লিখে তাবিজ দিয়েছেন তার কোন প্রমাণ নাই। বরং তিনি কুরআনের বিভিন্ন সুরা ও বিভিন্ন দুআ পড়ে রুকিয়া (ঝাড়ফুঁক) করেছেন, তার প্রিয় দৌহিত্র দ্বয় তথা হাসান ও হুসাইন রা. কে রুকিয়া করেছেন, তাঁর কন্যা ফাতিহা রা. কে রুকিয়া করতে বলেছেন এবং তা উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। কুরআনের তাবিজ বৈধ হলে তিনি অবশ্যই নিজে বাস্তবায়ন করতেন এবং সাহাবীদেরকে তার শিক্ষা দিতেন। কিন্তু এমন কোন তথ্য সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়।
উল্লেখ্য যে, “আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ তাঁর অবুঝ সন্তানদের জন্য তাবীয লিখে তা লটকিয়ে দিতেন” বলে তাবিজ ব্যবহারের পক্ষে যে দলীল দেয়া হয় তা মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে দুর্বল। শাইখ আলবানী রাহ. হাদিসের এ কথাটুকু যঈফ হওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
সুতরাং কুরআনের আয়াত, হাদিসের দুআ, আল্লাহর নাম ও সিফাত ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা তাবিজ দেয়া হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে শিরক। অন্যথায় অনেক আলেমের মতে তা শিরক না হলেও হারাম। (যদিও কোন কোন আলেম তা জায়েয বলেছেন। কিন্তু তা দলীল দ্বারা সাব্যস্ত হয় না।)
মোটকথা কুরআন, আয়াত, দুআ, আল্লাহর নাম ও সিফাত ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা লিখিত তাবিজ সর্বসম্মতিক্রমে শিরক কিন্তু এগুলো দ্বারা লিখিত তাবিজও অগ্রাধিকার যোগ্য মতানুসারে হারাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ পরিপন্থী কাজ।
যাহোক, আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলব, উত্তম হয়, তাবিজটি ভেঙ্গে দেখা যে, তার ভেতরে কাগজে কুরআনের আয়াত, হাদিসের দোয়া, কালিমা, আল্লাহর নাম ইত্যাদি লেখা আছে কি না। যদি না থাকে তাহলে তা ময়লা ফেলার স্থানে ফেলে দিবে আর যদি এগুলো লেখা থাকে তাহলে উক্ত কাগজটি সম্মানের সাথে আগুন দ্বারা এমনভাবে পুড়িয়ে ফেলতে হবে যেন অক্ষর গুলো সম্পূর্ণরূপে মুছে যায় অথবা যদি পানি দ্বারা ধৌত করলে সেগুলো মুছে যায় তাহলেও যথেষ্ট হবে।
আর তাবিজের বাক্সের গায়ে যদি কালিমা, আল্লাহর নাম ইত্যাদি কিছু লিপিবদ্ধ থাকে তাহলে তা কোন কিছু দিয়ে ঘষে অথবা অন্য কোনভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা করতে হবে অথবা এমন স্থানে পুঁতে রাখতে হবে যেন আল্লাহর কালাম বা আল্লাহর নামের অসম্মান না হয়।
আল্লাহু আলাম।
▰▰▰◄✪►▰▰▰▰
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/photos/a.348214375598114/582890968797119/?type=3&theater