ইসলামিক মাসআলা-মাসায়েল পোস্ট

ইসলামিক মাসআলা-মাসায়েল পোস্ট

Share

***ইসলামের জ্ঞানার্জন করে অন্যদের মাঝে বিলিয়ে দিবেন***

14/08/2026

সদকা নাকি উমরা: কোনটা বেশি উত্তম?
প্রশ্ন: যদি একই সাথে দুটি কাজ করা সম্ভব না হয় তবে উমরা করা উত্তম নাকি গরিব-অসহায়দের মাঝে দান-সদকা করা বেশি ভালো?
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর। অতঃপর-
▪️ সদকা যদি ফরজ হয় (যেমন: জাকাত বা কোনো ওয়াজিব মানত) তবে তা আদায় করা নফল উমরার চেয়ে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি উত্তম।
তবে সাধারণ নিয়মে নফল সদকার চেয়ে নফল হজ ও উমরা করা উত্তম। কারণ উমরার মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি শারীরিক ইবাদত—যেমন: তাওয়াফ, সাঈ, জিকির, সালাত ও তালবিয়ার মতো একাধিক ইবাদত একসাথে পালনের সুযোগ হয়।
▪️তবে যদি আপনার আশেপাশে এমন সমস্যাগ্রস্থ মানুষ থাকে যাদের‌ নিকট বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদ বা অবলম্বন নেই কিংবা আপনার নিজের নিকটাত্মীয়রা অভাব-অনটনে ভুগছে অথচ তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার পাশাপাশি উমরা আদায় করবেন -এমন সমন্বয় করাও আপনার দ্বারা সম্ভব না হয়—তবে এই অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি উত্তম।

- হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত গ্রন্থ 'কানজুদ দাকায়িক'-এ রয়েছে:
«حَجُّ النَّفْلِ أَفْضَلُ مِنَ الصَّدَقَةِ»
"সাধারণ দানের চেয়ে নফল হজ করা বেশি উত্তম।"
[কানযুদ দাকায়িক]
- ইমাম মালেক (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, নফল হজ নাকি সদকা—কোনটি আপনার কাছে বেশি প্রিয়? তিনি জবাবে বলেন:
«الْحَجُّ، إِلَّا أَنْ تَكُونَ سَنَةُ مَجَاعَةٍ»
"হজ করাই উত্তম। তবে দেশ যদি দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যায় তবে দান করা উত্তম।"
[মওয়াহিবুল জলীল]
- শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তার 'আল ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে বলেছেন:
«وَأَمَّا إِذَا كَانَ لَهُ أَقَارِبُ مَحَاوِيجُ، فَالصَّدَقَةُ عَلَيْهِمْ أَفْضَلُ، وَكَذَا إِذَا كَانَ هُنَاكَ قَوْمٌ مُضْطَرُّونَ إِلَى نَفَقَتِهِ، فَأَمَّا إِذَا كَانَ كِلَاهُمَا تَطَوُّعًا، فَالْحَجُّ أَفْضَلُ، لِأَنَّهُ عِبَادَةٌ بَدَنِيَّةٌ مَالِيَّةٌ، وَكَذَا الْأُضْحِيَةُ وَالْعَقِيقَةُ أَفْضَلُ مِنَ الصَّدَقَةِ بِقِيمَةِ ذَلِكَ»
"কিন্তু কারও যদি অভাবগ্রস্ত আত্মীয়স্বজন থাকে তবে তাদের সাহায্য করাই বেশি উত্তম। একইভাবে যদি এমন লোকজন থাকে যে তারা তার আর্থিক সাহায্যের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল তাহলেও তাদের দান করা উত্তম। আর যদি দুটিই সাধারণ নফল কাজ হয় (অর্থাৎ কেউ চরম বিপদে নেই) তবে হজ করাই উত্তম। কারণ এটি একই সাথে শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত। ঠিক যেমন কুরবানি ও আকিকা করা অধিক উত্তম সেগুলোর মূল্য দান করে দেওয়ার চেয়ে।"
[আল ইখতিয়ারাত]

- ইমাম শাওকানি (রহ.) 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে
«أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ فَذَكَرَ الإِيمَانَ، ثُمَّ الْجِهَادَ، ثُمَّ الْحَجَّ»
"কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইমানের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর জিহাদ, এরপর হজের কথা।" [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম] এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন:
«هُوَ حُجَّةٌ لِمَنْ فَضَّلَ حَجَّ النَّفْلِ عَلَى الصَّدَقَةِ»
"এটি সেই আলেমদের পক্ষে দলিল, যারা সাধারণ দানের চেয়ে নফল হজকে অগ্রাধিকার দেন।" [নাইলুল আওতার]

বর্তমান যুগে মুসলিম উম্মাহর বাস্তব পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, তীব্র সংকট ও অভাবের মুখে থাকা মানুষের সংখ্যা অগুনতি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মুসলমান আজ খাদ্য, পানি ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বারবার নফল উমরা বা হজ না করে সেই অর্থ বিপন্ন মানুষের সেবায় ব্যয় করা নিঃসন্দেহে বেশি সওয়াব ও অগ্রগণ্য।
والله أعلم
(আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)

🔶 ইসলাম ওয়েব-এর আরেকটি ফতওয়ায় বলা হয়েছে, "ইসলামে বারবার হজ ও উমরা করার এবং একটির পর আরেকটি আদায় করার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে, এটি মানুষের দারিদ্র্য দূর করে এবং গুনাহ মিটিয়ে দেয়।
তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«تَابِعُوا بَيْنَ الحَجِّ وَالعُمْرَةِ، فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الكِيرُ خَبَثَ الحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالفِضَّةِ، وَلَيْسَ لِلحَجَّةِ المَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الجَنَّةُ»
"তোমরা বারবার হজ ও উমরা পরপর আদায় করো। কারণ এ দুটো দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে পরিষ্কার করে দেয়। আর কবুল হজের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।"
[সহিহুল জামে]
এ ছাড়া আরও অনেক দলিল রয়েছে, যা হজের মর্যাদা, গুনাহ মাফের শক্তি এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কথা প্রমাণ করে।
সাধারণ নফল দান-সদকার চেয়ে হজ ও ওমরা আদায় করা বেশি উত্তম। তবে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যদি কেউ আর্থিক সংকটে থাকে তাহলে ভিন্ন কথা।" (অর্থাৎ সেক্ষেত্রে বারবার নফল হজ বা উমরা আদায় করার থেকে আর্থিক সংকটে নিপতিত ও বিপদগ্রস্ত এই মানুষগুলোর জন্য সাহায্য-সহযোগিতা করা অধিক উত্তম এবং এতে বেশি সওয়াব রয়েছে।)

💢 সারাংশ:

সাধারণ ও স্বাভাবিক অবস্থায় নফল উমরা বা হজ করাই বেশি উত্তম। তবে যদি নিকটাত্মীয় বা আশেপাশের মানুষ চরম অভাব-অনটন বা সংকটে থাকে তখন উমরার চেয়ে তাদের মাঝে দান-সদকা করাই অধিক উত্তম।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে যথাসাধ্য গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অধিক পরিমাণে নফল ওমরা ও হজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এসোসিয়েশন, সৌদি

14/08/2026

*তোমরা সত্যকে মিথ্যের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না।*

> সূরা আল-বাকারা : ২/৪২

14/08/2026

আমাদের দেশের অধিকাংশ নারীদের আকিদা ও বিশ্বাস এমন যে তারা বলে : দোয়া কালামতো আছেই কিন্তু কিছু জিনিস আছে যা বদ জ্বিন ভয় পায়,যেমন আগুন,লোহা,রসুন,মরিচ, গর্ভকালীন সময়ে বদ জ্বীনের প্রভাব থাকে তাই ৪ কূল পরে শরীর বন্ধ রাখবেন আর এই লোহাও ওড়নার কর্নারে বেধে রাখবেন, এইটা কোনো তাবিজ না যে আপনার গুনাহ হবে।

এ বিষয়ে আল্লাহতা'য়ালা কি বলছে চলুন আমরা জেনে আসি।
﴿وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُم بِاللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ﴾
"তাদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, কিন্তু (একই সঙ্গে) শিরকও করে। (সূরা ইউসুফ: ১০৬)

সিরাতের কিতাব থেকে একটি ঘটনা দেখে আসি চলেন...

ইবন সা'দ বলেন: আমাদেরকে মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন ওয়াকিদ আল-আসলামী (আল-ওয়াকিদী) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আলী ইবন ইয়াযীদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহব ইবন যাম'আহ তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর ফুফুর সূত্রে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন:
"আমরা শুনতাম যে, যখন আমিনা বিনতে ওয়াহব রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তখন তিনি বলতেন:
'আমি অন্য নারীদের মতো গর্ভধারণের কোনো ভার বা কষ্ট অনুভব করিনি। শুধু আমার মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
একদিন আমি ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলাম।

তখন একজন আগন্তুক এসে বললেন:
"তুমি কি জানো যে তুমি গর্ভবতী?"
আমি যেন উত্তর দিলাম: "না।"
তখন তিনি বললেন:
"তুমি এই উম্মতের নেতা ও নবীকে গর্ভে ধারণ করেছ।"
এটি ছিল সোমবারের ঘটনা।
এরপর আমি নিশ্চিত হলাম যে আমি গর্ভবতী।

প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে সেই আগন্তুক আবার এসে বললেন:
"বলো: আমি এই সন্তানকে সেই এক আল্লাহর আশ্রয়ে সমর্পণ করছি, যাঁর কাছে মানুষ বড় বড় বিপদের সময় আশ্রয় প্রার্থনা করে, যেন তিনি তাকে হিংসুকদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।"

আমিনা (রা.) বলেন:
"আমি এই দোয়াটি পড়তে থাকলাম এবং বিষয়টি আমার পরিবারের নারীদের জানালাম। তারা আমাকে পরামর্শ দিলেন, আমি যেন গলায় ও হাতে একটি লোহার টুকরা ঝুলিয়ে রাখি।
আমি তাই করলাম। কিন্তু একদিনের মধ্যেই সেটি টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেল। এরপর আমি আর তা ঝুলিয়ে রাখিনি।"

উৎস: আত-তাবাকাতুল কুবরা, কিতাব আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১ম খণ্ড

শয়তান থেকে হেফাজতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাই তাঁর ওপর ভরসা করুন এবং কুরআন-সুন্নাহর দোয়া ও যিকর আঁকড়ে ধরুন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই।"
— সূরা আল-আন‘আম, ৬:১৭

রাসূল ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলাল, সে শিরক করল।"
— মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ১৭৪২২ (সহীহ বলে গ্রাহ্য)

অতএব, গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তার জন্য তাবিজ, সুতা, লোহা বা কুসংস্কারমূলক কোনো বস্তু নয়; বরং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, নিয়মিত যিকর এবং কুরআন-সুন্নাহর দোয়াই একজন মুমিনের প্রকৃত আশ্রয়।

সকলে বেশি বেশি শেয়ার করবেন ইনশাআল্লাহ

সংগ্রহিত

13/08/2026

🌻 *দরুদ এবং সুরা কাহাফ পাঠ করার ফজিলত:* (ﷺ)🌻

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَىٰ تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ
তুমি উপদেশ দিতে থাকো; নিশ্চয়ই, উপদেশ মু'মিনদের উপকারে আসবে।
(সূরা আয্ যারিয়াত ৫১:৫৫)
©️————————©️

বৃহ্‌স্পতিবার দিবাগত রাতে ও জুম’আর দিনে প্রিয় নবী (ﷺ) এর শানে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা। নবী (ﷺ) বলেছেন, *”তোমাদের দিনগুলির মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুম’আর দিন।”*
সুতরাং ঐ দিন তোমরা আমার উপর অধিকমাত্রায় দরূদ পড়।

সুতরাং *”আসুন প্রতি বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে জুম’আর দিন মাগরিব পর্যন্ত অধিক পরিমাণে দুরুদ পাঠ করি।”*

📚[আবূ দাউদ ১০৪৭, নাসায়ী ১৩৭৪, ইবনু মাজাহ ১৬৩৬]

*🌻সূরা কাহফ পড়ার ফজিলত:*

আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত,
নবী (ﷺ) বলেছেন, *“নিশ্চয়ই যে জুম’আর দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তাকে দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়টাতে নূর দান করা হবে।”*
[সহীহ আল-জামে, হাদীস নং:৬৪৭০]

অন্য বর্ণনায় আছে, *“যে ব্যক্তি জুম’আ রাতে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার ও বায়তুল্লাহর মধ্যবর্তী স্থানকে নূর দ্বারা আলোকিত করে দেওয়া হবে।”*
[সহীহ আল-জামে, হাদীস নং:৬৪৭১

13/08/2026

তাঁর আরেকটি নিদর্শন হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখতে পাও শুষ্ক-অনুর্বর, অতঃপর যখন আমি তার উপর পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি মৃতদেরও জীবিতকারী। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

> সূরা ফুসসিলাত : ৪১/৩৯

12/08/2026
12/08/2026

*"মাসিক" বিষয়ে শায়খ ইবনে বায রহিমাহুল্লাহর ব্যাখ্যা:*
⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️

১. যদি কোনো ঋতুবতী নারী ফজরের আগে পবিত্র হন, তবে তিনি পূর্ববর্তী মাগরিব ও ইশার নামাজ পড়বেন।

২. যদি তিনি ফজরের পরে কিন্তু সূর্যোদয়ের আগে পবিত্র হন, তবে তিনি শুধু ফজরের নামাজ পড়বেন।

৩. যদি তিনি সূর্যোদয়ের পরে পবিত্র হন, তবে তাকে ফজরের নামাজ পড়তে হবে না, বরং যোহরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

৪. যদি তিনি যোহরের পরে পবিত্র হন, তবে তিনি শুধু যোহরের নামাজ পড়বেন।

৫. যদি তিনি আসরের পরে পবিত্র হন, তবে তিনি যোহর ও আসর উভয় ওয়াক্তের নামাজ পড়বেন।

৬. যদি তিনি মাগরিবের পরে পবিত্র হন, তবে তিনি শুধু মাগরিবের নামাজ পড়বেন।

৭. যদি তিনি ইশার পরে পবিত্র হন, তবে তিনি মাগরিব ও ইশা উভয় ওয়াক্তের নামাজ পড়বেন।

10/08/2026

নিশ্চয়ই সে সাফল্য লাভ করবে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে।

এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও স্বলাত কায়েম করে।

কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দাও,

অথচ আখিরাতের জীবনই সর্বোত্তম ও স্থায়ী।

> সূরা আল-আ'লা : ৮৭/১৪-১৭

10/08/2026

জুমার দিন জুমার সালাত আদায়ের আগে ওয়াজ-নসিহত করার বিধান

*প্রশ্ন: জুমার দিন জুমার সালাত আদায়ের আগে ওয়াজ-নসিহত করার বিধান কি?*

উত্তর:
জুমার দিন জুমার নামাজের আগে ওয়াজ-নসিহত বা দরস প্রদান করা উচিৎ নয়।

কারণ প্রখ্যাত সাহাবী আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন,

نَهَى عنِ التَّحلُّقِ يومَ الجمعةِ قبلَ الصَّلاةِ

রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার সালাতের আগে (ওয়াজ-নসীহতের) বৈঠক করতে নিষেধ করেছেন।”
> (তিরমিযী, অধ্যায়: সালাত হা/৩৩২,নাসাঈ,অধ্যায়: মসজিদ হা/৭১৪, আবুদাউদ,অধ্যায়: সালাত হা/১০৭৯, হাদীসটি হাসান, সুয়ূতী ও আলবানী রহ)

কারণ,এটি জুমার সালাতের জন্য উপস্থিত মুসল্লীদেরকে যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, নফল সালাত, কাতার বদ্ধ হয়ে বসা এবং যে খুতবা শুনার জন্য মহান আল্লাহ তার রাসূলের মাধ্যমে আমাদেরকে আদেশ করেছেন সেই খুতবা শোনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণে অমনোযোগী করে তোলে।

খুতবার আগে যদি নিয়মিতভাবে এবং অধিক পরিমানে ওয়াজ-নসিহত করা হয় তবে মানুষের অন্তরে জুমার খুতবার মর্যাদা এবং প্রভাব কমে যায়।

সুতরাং এটা করা হলে আল্লাহ তায়ালা যে উদ্দেশ্যে এই খুতবার ব্যবস্থা করেছেন সে উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ হবে।

তাছাড়া জুমার সালাতের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি (ইমাম বা খতীব সাহেব) যদি খুতবার মধ্যে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়াজ-নসিহত পেশ করার প্রতি যত্নবান হন তবে খুতবার আগে অন্য কোন ওয়াজ-নসিহতের প্রয়োজন থাকে না।

তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তারা খলাফায়ে রাশেদাগণ এমনটি করতেন না। অথচ প্রকৃত কল্যাণ নিহীত রয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার খোলাফায়ে রাশেদার আদর্শের অনুসরণেই মধ্যেই।

অবশ্য যদি বিশেষ কোন প্রয়োজন দেখা যায় অথবা তা যদি জুমার সালাত বা খুতবা সংশ্লিষ্ট হয় তবে এতে কোন অসুবিধা নাই।তবে সতর্ক থাকতে হবে যে, এটা যেন প্রতিনিয়ত এবং নিয়মিত না করা হয়। তাহলে এতে ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা নাই। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم

*ফতোয়া প্রদানকারী:*
প্রধান: আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন বায
উপ-প্রধান: আবুর রাযযাক আফীফী
সদস্য: আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন কুঊদ।
উৎস: ফতোয়া এবং গবেষণা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, সউদী আরব
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।

07/08/2026

ঈমান ও তাওহীদের উপর অটল থাকার পুরস্কার সম্বলিত একটি সত্য ঘটনা

ফিরআউনের কন্যার চুল আঁচড়ে দেওয়া সেই নারী (মাশিতা)-এর ঘটনা
ফিরআউনের কন্যার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিলেন একজন নারী। হঠাৎ তাঁর হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে গেল। তিনি চিরুনি তুলতে ঝুঁকে বললেন, "বিসমিল্লাহ।"
ফিরআউনের কন্যা বলল, "তুমি কি আমার বাবার (ফিরআউনের) নাম নিচ্ছ?"
তিনি বললেন, "না। বরং আমার রব, তোমার রব, তোমার বাবার রব এবং আসমান-জমিনের রব আল্লাহর নাম নিচ্ছি।"
মেয়েটি গিয়ে তার বাবাকে এ কথা জানিয়ে দিল।
ফিরআউন সেই নারীকে ডেকে পাঠাল এবং জিজ্ঞেস করল,
"তোমার রব কে?"
তিনি দৃঢ়ভাবে উত্তর দিলেন,
"আমার রব এবং তোমার রব আল্লাহ।"
তখন ফিরআউন একটি বিশাল তামার পাত্রে তেল ফুটানোর নির্দেশ দিল। এরপর তার সন্তানদেরকে—যাদের মধ্যে একটি দুধের শিশু ছিল—সেখানে আনা হলো।
এক ছেলেকে আনা হলো। প্রহরীরা তাকে ফুটন্ত তেলের ওপর ধরে রাখল। ফিরআউন আবার জিজ্ঞেস করল,
"তোমার রব কে?"
তিনি বললেন,
"আমার রব এবং তোমার রব আল্লাহ।"
অতঃপর তার বড় ছেলেকে ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করা হলো ।
এরপর আরেক সন্তানকে আনা হলো। আবার একই প্রশ্ন করা হলো।
তিনি একই উত্তর দিলেন,
"আমার রব এবং তোমার রব আল্লাহ।"
ফলে তাকেও ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করা হলো।
এরপর তার দুধের শিশুকে আনা হলো। শিশুটিকে তিনি খুব ভালোবাসতেন। ফিরআউন আবার বলল,
"তোমার রব কে?"
মায়ের হৃদয় কেঁপে উঠল। সন্তানের প্রতি মমতার কারণে তিনি কিছুক্ষণ নীরব হয়ে গেলেন।
তখন আল্লাহর ইচ্ছায় সেই দুধের শিশু কথা বলল। সে বলল,
"হে মা! অবিচল থাকুন। আপনি সত্যের ওপর আছেন। বলুন, ‘আমার রব এবং তোমার রব আল্লাহ।"
তখন তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করলেন,
"আমার রব এবং তোমার রব আল্লাহ।"
অতঃপর শিশুটিকেও ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করা হলো। তারপর প্রহরীরা সেই নারীকেও তার সন্তানদের মতো ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করল। এভাবেই তারা সবাই শাহাদাত বরণ করলেন।
তবে মৃত্যুর আগে মাশেত্বাহ (চিরুনী দাত্রী সেই নারী) অনুরোধ করেন—তাঁর ও তাঁর সন্তানদের হাড় যেন একত্রে দাফন করা হয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে যখন মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন জিবরীল আলাইহিস সালামের সঙ্গে এক উপত্যকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অপূর্ব সুগন্ধ অনুভব করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
"হে জিবরীল! এ কী সুগন্ধ?"
জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন,
"এটি ফিরআউনের কন্যার চুল আঁচড়ে দেওয়া সেই নারী এবং তাঁর সন্তানদের সুগন্ধ।"
হাদিসটি আল-হাকিম তাঁর আল-মুস্তাদরাক-এ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। ইমাম যাহাবিও তাঁর মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়েছেন। এছাড়া ইবনু হিব্বানও এটি তাঁর সহিহ-এ বর্ণনা করেছেন।

প্রফেসর ড.আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
হাফিযাহুল্লাহ

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Dhaka
1200