❑ মৃত ব্যক্তিকে কিবলার দিকে মুখ করানো:
প্রশ্ন: আমাকে জানানো হয়েছে যে, একটি হাদিস আছে যাতে বলা হয়েছে—মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে সাথেই তাকে এমনভাবে ঘুরিয়ে দিতে হবে যেন সে কাবার দিকে মুখ করে থাকে। এমনকি কবরটিও কাবার দিকে মুখ করে হওয়া উচিত। অর্থাৎ পায়ের দিক কাবার দিকে হওয়া উচিত। আর বলা হয়েছে, এর কারণ হলো—কিয়ামতের দিন মানুষ তাদের কবর থেকে উঠবে কাবার দিকে মুখ করে।
কিন্তু আমি যা পড়েছি এবং বুঝেছি তা হলো—কবরে মাথা/মুখ কিবলার দিকে থাকবে।
এ বিষয়ে সঠিক কথা কী?
আপনার এই কঠোর পরিশ্রমের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ।
আম্মা বা’দ:
ইবনু হাযম রহ. বলেছেন:
মৃত ব্যক্তিকে কিবলার দিকে মুখ করানো উত্তম কাজ। তবে যদি মুখ করানো না হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:
فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ
“অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও সেদিকেই আল্লাহর মুখমণ্ডল রয়েছে।” [সূরা বাকারা: ১১৫]
আর মৃতকে কিবলার দিকে মুখ করানোর কোনো স্পষ্ট দলিল নেই।
[আল মুহাল্লা, ৫/১৭৪]
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা রা. এর কক্ষে (হিজরে) মৃত্যুবরণ করেছেন। আয়েশা রা. মৃত্যুর মুহূর্তগুলো খুব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো উল্লেখ করেননি যে, তিনি নবীজীকে কিবলার দিকে মুখ করিয়েছিলেন।
[এই হাদিস বুখারী (৪৪৪০) ও মুসলিম (২৪৪৪) এ বর্ণিত]
একইভাবে কোনো সাহাবির থেকেও এ বিষয়ে কোনো সহিহ বর্ণনা প্রমাণিত নয়।
আর আবু কাতাদা রা. থেকে যে বর্ণনা এসেছে যে, তিনি মৃত্যুর সময় ওসিয়ত করেছিলেন যেন তাকে কিবলার দিকে মুখ করে রাখা হয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সমর্থন করে বলেছেন: “আসাবাল ফিতরাহ” (ফিতরাত অনুযায়ী করেছে), এই হাদিস দুর্বল এবং সহীহ নয়।
দেখুন: ইরওয়াউল গালীল (৩/১৫৩)।
আর কবরে মৃত ব্যক্তির অবস্থানের ব্যাপারে ইমাম ইবনে হাযম রহ. বলেন:
"মৃত ব্যক্তিকে কবরে তার ডান পাশে শোয়ানো হবে তার মুখ কিবলার দিকে থাকবে। তার মাথা ও পা কিবলার ডান ও বাম দিকে থাকবে।
এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত মুসলিমদের কবরস্থানে চলে আসছে এবং এভাবেই পৃথিবীর সকল মুসলিম কবরস্থান রয়েছে।"
[আল মুহাল্লা, ৫/১৭৩]
আর যে দাবি করা হয় যে, মানুষ কবর থেকে বের হবে কাবার দিকে মুখ করে—এটা গায়েবি বা অদৃশ্যের বিষয়, যার জন্য স্পষ্ট দলিল প্রয়োজন। কিন্তু এর কোনো দলিল কোথায়?
যা প্রমাণিত তা হলো, মানুষ যখন কবর থেকে উঠবে তখন তারা সরাসরি মাহশারের ময়দানের দিকে মুখ করে যাবে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
[তথ্যসূত্র: শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ-Islamqa]
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
❑ মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি কে কিবলার দিকে মুখ করানো কি শরিয়তসম্মত?
প্রশ্ন: মৃত্যুর পথযাত্রীকে কিবলার দিকে মুখ করানোর কি কোনো ভিত্তি আছে?
উত্তর:
এ বিষয়ে আমি শুধু একটি হাদিসের কথাই জানি:
«الكعبة قبلتكم أحياءً وأمواتًا»
“কা’বা তোমাদের কিবলা—জীবিত অবস্থায়ও এবং মৃত অবস্থায়ও।”
কিন্তু এই হাদিসের সনদে কিছু সমস্যা (দুর্বলতা) রয়েছে।"
- আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ.
মোটকথা, নির্ভরযোগ্য ও স্পষ্ট সুন্নাহ বা ইজমা দ্বারা প্রমাণিত নয় যে, মৃত্যুর সময় অবশ্যই মৃত্যুর পথযাত্রীকে কিবলার দিকে মুখ করাতে হবে। তবে যদি সহজে সম্ভব হয় এবং রোগীকে কষ্ট না দেয় তাহলে তাকে কিবলার দিকে মুখ করিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব (উত্তম) বলে অনেক ফকিহ মনে করেন।
আল্লাহ ভাল জানেন
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
ইসলামিক মাসআলা-মাসায়েল পোস্ট
***ইসলামের জ্ঞানার্জন করে অন্যদের মাঝে বিলিয়ে দিবেন***
হাফেয আবদুল গনী আল-মাকদিসী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
“একজন বান্দা তার রবের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তিনটি জিনিস চাইতে পারে, তা হলোঃ
১. আল্লাহ্র সন্তুষ্টি।
২. আল্লাহ্র মহামহিম চেহারা দর্শনের সৌভাগ্য।
৩. জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চতম স্থান।”
যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা” ইবনু রজব (৩/২০)
— সংগৃহীত
*❇️❇️এক নজরে*
*📢📢বিশেষ আলোচনা*
💠💠💠💠💠💠💠💠
✅সুরা মুলকের তিনটি আয়াত
২২ থেকে ৩০ পর্যন্ত আয়াতের সারমর্ম*
—————————
*২৮) তোমরা কি ভেবে দেখেছ— যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে?*
*• (২৯) বলুন, “তিনি পরম করুণাময়; আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপর ভরসা করেছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় আছে।”*
*• (৩০) বলুন, “তোমরা কি ভেবে দেখেছ— যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে হারিয়ে যায়, তাহলে কে তোমাদের জন্য প্রবাহমান পানি এনে দেবে?”*
*🛑🛑🛑তিনটি আয়াত কেন্দ্রিক তিনটি দুআ*
⬆️⬆️⬆️⬆️⬆️⬆️⬆️⬆️
💫 রূহের প্রকৃতি ও মৃত্যুর সময় ফেরেশতাদের আগমন
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোনো মুমিন বান্দার মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহর রহমতের ফেরেশতারা সাদা রেশমি কাপড় নিয়ে তার কাছে আগমন করেন এবং তাকে বলেন, হে পবিত্র রূহ! তুমি পবিত্র দেহ থেকে বের হয়ে আসো। আল্লাহর রহমত ও সুগন্ধি এবং এমন রবের দিকে চলো, যিনি তোমার ওপর রাগান্বিত নন। তখন সেই রূহ কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধি নিয়ে বেরিয়ে আসে। ফেরেশতারা তাকে বহন করে আকাশের দরজায় নিয়ে যান। আকাশবাসীরা জিজ্ঞাসা করেন, এই পবিত্র রূহটি কার? ফেরেশতারা তার দুনিয়ার সুন্দরতম নামগুলো উল্লেখ করে পরিচয় দেন। এভাবে তাকে সপ্তম আকাশে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিখে রাখো এবং তাকে পৃথিবীতে তার কবরে ফিরিয়ে দাও। কারণ আমি তাদেরকে মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি, সেখানেই ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই আবার পুনরুত্থিত করব। এরপর কবরে তার কাছে দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার রব কে? সে উত্তর দেয়, আমার রব আল্লাহ। তারা জিজ্ঞাসা করেন, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, আমার দ্বীন ইসলাম। তারা জিজ্ঞাসা করেন, এই ব্যক্তিটি কে, যাকে তোমাদের মাঝে পাঠানো হয়েছিল? সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। অতএব তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার কবরে জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। তখন তার কাছে জান্নাতের সুবাতাস আসতে থাকে এবং তার কবরকে তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
Reference: মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৮৭৬৯ (সহীহ)।
02/06/2026
উপকার করে খোঁটা দিলে সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়
••••••••••••••••••••••••
প্রশ্ন: কখনো কখনো মানুষ উপকারীর উপকার স্বীকার তো করেই না আরও উল্টো বদনাম করে। তখন যদি তাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যা যা উপকার করেছে তার কিছুটা বলা হয় তাহলে কি সেটা খোঁটা দেয়া হবে?
উত্তর:
ইসলামে কারো উপকার করে খোঁটা দেয়া হারাম। এর মাধ্যমে উপকারের সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُم بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ كَالَّذِي يُنفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا
“হে ঈমানদারগণ!তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান খয়রাত বরবাদ করো না সে ব্যক্তির মত যে নিজের ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। অতএব, এ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ পাথরের মত যার উপর কিছু মাটি পড়েছিল। অতঃপর এর উপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো, অত:পর তাকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিল। (সূরা বাকারা: ২৬৪)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
ﻻ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻣَﻨَّﺎﻥٌ
“সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যে উপকার করে খোঁটা দেয়।” (সুনান নাসাঈ, হা/ ৫৬৮৮, সহীহ, আলবানী)
খোঁটা কাকে বলে?
-----------------------------
আপনি কাউকে দান করে, ঋণ দিয়ে বা কোন উপকার করে তাকে বলেন, তোমার কি মনে নেই আমি তোমাকে দান করেছিলাম, এই এই উপকার করেছিলাম? এটাকেই খােঁটা বলা হয়। এর মাধ্যমে আপনার দান-সদকা বা উপকার করার সওয়াব নষ্ট হয়ে যাবে।
আপনি যার উপকার করেছেন সে যদি আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে বা আপনার ক্ষতি করে তাহলে এ জন্য সে গুনাহগার হবে। আপনি ধৈর্য ও সহশীলতার সাথে তার মোকাবেলা করবেন। কিন্তু আপনি যে তার উপকার করেছেন সেটা তুলে ধরে নিজে গুনাহগার হবেন না বা নিজের আমল নষ্ট করতে যাবেন না।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
----------------------------
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।
ঈদুল আযহার পরের তিন দিন তথা জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখকে ‘আইয়ামে তাশরীক’ বলা হয়।
হাদীসে এ দিনগুলোকে ‘পানাহার ও আল্লাহর যিকির’ এর দিন বলা হয়েছে। এ তিন দিন ফরয বা নফল রোযা রাখা নিষেধ।
◾‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ও ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন,
«لَمْ يُرَخَّصْ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ أَنْ يُصَمْنَ، إِلَّا لِمَنْ لَمْ يَجِدِ الهَدْيَ»
“যে (হাজী)র নিকট الهَدْيَ/ কুরবানীর পশু নেই তিনি ছাড়া অন্য কারও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সাওম পালন করার অনুমতি দেওয়া হয় নি”। (সহিহ বুখারী হা/১৯৯৭)
◾ নুবাইশা আল-হুযালী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أَيَّامُ التَّشْرِيقِ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرٍ لِلَّهِ
“আইয়্যামে তাশরীক পানাহার ও আল্লাহর যিকিরের দিন”।[সহীহুল জামে হা/২৬৮৯-নুবাইশা আল হুযালী রা. থেকে বণিত]
◾রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:
لا تَصُومُوا هَذِهِ الأَيَّامَ فَإِنَّهَا أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ
“তোমরা এই দিনগুলোতে রোযা রাখিও না। কেননা, এগুলো পানাহারের দিন।” (সহীহল জামে, হা/৭৩৫৫-হামযা বিন আমর আল আসলামীন থেকে বর্ণিত )
সুতরাং এ দিনগুলোতে কাযা, কাফফারা, মানত বা অন্য কোন ধরণের নফল রোযা রাখা বৈধ নয়। (কেবল হাজীদের বিশেষ ক্ষেত্রে রোজা রাখার বিষয়টি ভিন্ন)
উল্লেখ্য যে, আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বীজ বলা হয়। প্রতি মাসে এই তিনটি রোজা রাখলে সারা মাস রোজা থাকার সওয়াব পাওয়া যায়।
কিন্তু জিলহজ মাসের ১৩ তারিখ যেহেতু আইয়ামে তাশরীক এর অন্তর্ভুক্ত সেহেতু ওই দিন রোজা রাখা জায়েজ নেই।
অতএব জিলহজ মাসের ১৪ এবং ১৫ তারিখে এবং ১৩ তারিখের পরিবর্তে ১৬ তারিখ বা অন্য যেকোনো দিন রোজা রাখা যাবে। তাহলেও সারা মাস রোজা থাকার সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।
——————-
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।
🍇 সামান্য খাদ্যেও কৃতজ্ঞতার সওয়াব
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"আল্লাহ তাআলা সেই বান্দার ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন, যে বান্দা কোনো খাবার খাওয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) করে এবং কোনো পানীয় পান করার পর আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করে।"
Reference: সহীহ মুসলিম ২৭৩৪।
27/05/2026
_আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।_
*সবাইকে ঈদ মুবারক। তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।*
> *কুরবানী ঈদ উপলক্ষ্যে সচেতনতামূলক কিছু নির্দেশনা:*
১. নির্ধারিত ও উপযুক্ত স্থানে বা আড়ালে কুরবানী করুন; প্রকাশ্যে রাস্তা-ঘাট, জনসমাগমস্থল বা মানুষের চলাচলের পথে জবেহ্ করা থেকে বিরত থাকুন।
২. কুরবানীর সময় পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখুন এবং কোনো মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।
৩. পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, বর্জ্য ও অন্যান্য অবশিষ্টাংশ খোলা স্থানে বা ড্রেনে না ফেলে গর্ত করে মাটি চাপা দিন অথবা নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলুন।
৪. কুরবানীর স্থান দ্রুত পানি ও জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করুন, যাতে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ না হয়।
৫. পশুর প্রতি অমানবিক আচরণ, মারধর বা অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন; ইসলামে প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
৬. কোনো মানুষ অসুবিধায় পড়লে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
৭. জবেহ্ করার সময় প্রথমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়িয়ে চলুন।
৮. গরিব, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের হক আদায়ে যত্নবান হোন। এক্ষেত্রেও গোপনীয়তা বজায় রাখুন।
৯. অতিরিক্ত হৈচৈ হুল্লোড়, উচ্চ শব্দ, পটকাবাজি ইত্যাদি আচরণ থেকে বিরত থাকুন।
১০. সরকারি নির্দেশনা, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশ সংক্রান্ত নীতিমালা মেনে চলুন।
১১. জবেহ্ করার সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করুন এবং কম সময়ে সাবধানতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করুন।
১২. কুরবানীর মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, ত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন— অতএব অপচয়, লোক দেখানো ও বিশৃঙ্খলা থেকে বিরত থাকুন।
১৩. কুরবানীর পশু জবেহ্ করা, রক্ত বা মাংসের ছবি/ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকুন। সবাই সচেতন হোন।
_ইসলামী আদব, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের স্বার্থে উপরোক্ত কয়েকটি নির্দেশনা প্রদান করা হলো।_
*ইয়াওমে আরাফার ফযীলত ও আমল*
যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো আরাফার দিন। ৯-ই যিলহজ্জ যেদিন হাজীগণ আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন সেটা হলো আরাফার দিন। এ দিন নিয়ে আমাদের দেশের উলামায়ে কেরাম-এর দুটি মতামত পাওয়া যায়। কেউ বলেন, আমাদের দেশের চান্দ্র তারিখ অনুযায়ী আরাফার সাওম পালন করতে হবে। যেহেতু আমরা লোকাল মুনসাইটিং-এর ভিত্তিতে সকল ইবাদতের সিদ্ধান্ত নেই। আবার আরেক দল আলেম বলেন, আরাফার স্থান অনুযায়ী ৯-ই যিলহজ্জ তারিখে আরাফার সাওম পালন করতে হবে। সে মোতাবেক সৌদি আরবে যেদিন ৯-ই যিলহজ্জ সেদিন বিশ্বের সকল স্থানে আরাফার সাওম পালন করতে হবে। কেননা এটি আরাফার স্থানের সাথে সম্পর্কিত বিষয়।
এখানে উভয় মতামত গ্রহণের সুযোগ আছে। সকল উলামায়ে কিরামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের উচিত। তবে এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো বিশ্লেষণ করে আমার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত হচ্ছে, যেদিন হাজীগণ আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন সেই দিনটিকেই “আরাফার দিন” হিসাবে গণ্য করা উচিত। আর সেভাবেই আমরা আমলগুলো করতে পারি এবং রোযা রাখতে পারি।
*আরাফার দিনের কিছু ফযীলত :*
১. আল্লাহর দীন ও নি‘আমত পরিপূর্ণ হওয়ার দিন : মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের শেষ দিকে বিদায় হজ্জের সময় আরাফার দিন শুক্রবার আল্লাহ ইসলামকে পরিপূর্ণ দীন হিসাবে ঘোষণা করেন। আল্লাহ বলেন,
﴿ ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ ﴾ [المائدة: ٣
‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নি‘আমতকে সম্পূর্ণ করলাম। আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসাবে মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত নং ৩)
এ আয়াতটি আরাফার ময়দানে অবস্থানের সময়ে নাযিল হয়েছে। সেটি আমারা বুখারীর বর্ণনা থেকে জানতে পারি।
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একজন ইয়াহূদী তাঁকে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন। তা যদি আমাদের ইয়াহূদী জাতির ওপর অবতীর্ণ হতো, তবে অবশ্যই আমরা সে দিনকে ঈদের দিন হিসাবে পালন করতাম। তিনি বললেন, কোন আয়াত? সে বলল, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পরিপূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নি‘আমত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন মনোনীত করলাম।’ উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এটি যে দিনে এবং যে স্থানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি। তিনি সেদিন আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমু‘আর দিন।’ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০১৭
তাহলে আরাফার একটি বড়ো ফযীলত হলো, এ দিনের সুন্দর ক্ষণে বরকতময় মুহূর্তে আল্লাহ তা‘আলা দীন পরিপূর্ণ করার ঘোষনাটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাযিল করলেন এবং এ মহান আয়াতটি দিয়ে তিনি মুসলিম উম্মাকে দীন পরিপূর্ণ করার বার্তাটি প্রদান করলেন।
২. এই দিন সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় : আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَإِنَّهُ لَيَدْنُو ثُمَّ يُبَاهِى بِهِمُ الْمَلاَئِكَةَ فَيَقُولُ مَا أَرَادَ هَؤُلاَءِ،
‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে আরাফার দিনের চেয়ে জাহান্নাম থেকে বেশি মুক্তি দিয়ে থাকেন। তিনি সেদিন বান্দাদের খুব নিকটবর্তী হন। তাদেরকে নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন, এরা কী চায়? (অর্থাৎ তারা যা চায় আমি তাই দেব)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৪৮; ইবনু মাজা, হাদীস নং ৩০১৪।
৩. এ দিন আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে তাঁর বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِى مَلاَئِكَتَهُ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ بِأَهْلِ عَرَفَةَ فَيَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عِبَادِى أَتَوْنِى شُعْثاً غُبْراً.
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আরাফার দিন বিকালে আরাফায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন। অতঃপর বলেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে লক্ষ করো। তারা আমার কাছে এসেছে মাথায় এলোমেলো চুল নিয়ে ধুলি মলিন অবস্থায়’। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮০৩৩; সহীহুত তারগীব, হাদীস নং ১১৫৩; সহীহুল জামে', হাদীস নং ১৮৬৮।
এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, তাদের (আরাফার ময়দানে অবস্থানকারীদের) ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা ক্ষমা চাইতে চাইতে সারাটি দিন কাটিয়ে দিয়েছে।
৪. এ দিনের সিয়াম দুই বছরের গুনাহের কাফফারা : কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরাফা দিনের সিয়াম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ،
‘আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে আল্লাহর কাছে আমি আশা করি যে, তা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গোনাহের কাফফারা হবে।’ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২; আবূ দাঊদ হাদীস নং ২৪৪৫।
৫. আরাফার দু‘আ সবচেয়ে উত্তম দু‘আ : নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِى لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ.
‘সকল দু‘আর শ্রেষ্ঠ দু‘আ হলো আরাফার দিনের দু‘আ। আর শ্রেষ্ঠ কালিমা (যিকর) যা আমি পাঠ করেছি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ পাঠ করেছেন তাহলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর’। অর্থ : আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মা‘বূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শারীক নেই। তাঁরই রাজত্ব। তার জন্যই সকল প্রশংসা। তিনি সব কিছুর ওপরে ক্ষমতাবান’। তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৮৫; সহীহাহ, ১৫০৩। শাইখ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটি সহীহ বলে উল্লেখ করছেন।
আর ইবনু আব্দিল বার বলেন,
«وفي الحديثِ دليلٌ على أنَّ دعاءَ يومِ عرفة مُجابٌ في الأغلب، وأنَّ أفضلَ الذكرِ لا إله إلا الله .. »
‘‘হাদীসটির মধ্যে দলীল এবং প্রমাণ রয়েছে যে, আরাফার দিনের দু‘আ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কবুল করা হয় এবং উত্তম ও শ্রেষ্ঠ যিকির হচ্ছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” সুতরাং, এই যিকির আমাদের সবার করা উচিত।
উপরোক্ত ফযীলতগুলো আরাফার ময়দানের বাহিরেও প্রয়োগ হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই এমনটি বলেননি, যারা আরাফার ময়দানের বাহিরে থাকবে তাদের দু‘আ আমি কবুল করবো না। সুতরাং আমাদের উচিত, সেই সুযোগটি গ্রহণ করা। পাশাপাশি অন্যান্য ‘আম আমলগুলো পালনের মাধ্যমে আমলের পাল্লা ভারী করা। যেমন— তাকবীর, দু‘আ ও ইস্তিগফার ইত্যাদি। আল্লাহ আরাফার সকল ফযীলত আমাদেরকে অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
শাইখ ডঃ মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Address
Dhaka
1200