30/09/2022
বাতায়ন
আল মাসউদ
জীবন নামক আশ্রয়স্থলের জানালাগুলো কিভাবে রাখেন।জীবনের ঘরের কয়টা জানালাই বা রেখেছেন?আচ্ছা,নির্দিষ্ট করে বলি,পশ্চিম দিকের জানালাটা কতটা খুলে রাখেন,কিংবা দক্ষিন দিকের জানালা টা কতটা খুলে রাখেন অথবা বাকি দুই পাশের জানালা কিভাবে, কতটা উন্মুক্ত রাখেন!জীবনে কি খুব গরম চলছে?অতিরিক্ত কষ্টে, শোকে হাঁপিয়ে উঠেছেন?তাহলে দক্ষিন দিকের কর্নারের জানালাটা আস্তে করে খুলে দিন।দক্ষিনের ঠান্ডা স্নিগ্ধ হাওয়া আপনার আপদমস্তক শরীরসহ মনকে প্রশান্ত করবে।এতটা সময় ধরে জানালাটা খুলে রাখুন যতক্ষন না প্রযন্ত আপনি বাতাসের বিপরীত প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন।আবার একটা সময় দেখবেন আপনার জীবন খুবই মন্থর গতিতে চলছে।দক্ষিনের ঠান্ডা বাতাসে আপনি রীতিমতো কাঁপছেন।তৎক্ষনাৎ কাজ করুন,দক্ষিনের জানালাটা বন্ধ করে চুপটি করে ঘরে বসে থাকুন।মৃদু আলোর একটা আগুন জালান।খানিকক্ষণ এটা জালিয়ে রাখুন, আবার নিজের পুনরুজ্জীবন ফিরে পাবেন।এভাবে বেশিক্ষণ আগুন জালালে দেখবেন ঘরটা অতিরিক্ত ধোয়া,গন্ধে আর বাতাসের গোংয়ানি তে মাতিয়ে তুলছে সবকিছু।এইবার উত্তরের জানালা টা খুলে দিন তো।শীতের কর্কশ ঠান্ডা বাতাস এই গন্ধ,ধোয়াকে আর বাতাসের আর্তনাদকে গোগ্রাসে গিলবে।একটা সময় পর ঘরে আর এসব কিচ্ছু থাকবে না।হয়ত শীতের ঠান্ডা বাতাসে একটু কাবু হবেন।তাড়াতাড়ি কাজ করুন কম্বল বের করুন,এটার নিচে প্রস্থান করুন। হাতে এক কাপ গরম কফি নিন।দেখুনতো আবার কফি তৈরী করার জন্য আগুন জালাতেই হলো।আচ্ছা এইবার পুর্ব আর পশ্চিমের জানালা খুলে দিন তো।কফির অতিরিক্ত গরম বাস্প হয়ে আকাশে উড়ে যাক দূর নীলিমায়।বেশিরভাগ মানুষের জীবনে এমন চারটা জানালা থাকা আবশ্যক যেখান থেকে গরম ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হবে সবসময়। মানুষ তার ইচ্ছেমতো জানালাগুলোকে খুলবে, নিজের সময়কে স্থির করবে আবার ইচ্ছে হলেই বন্ধ করে দিবে।এভাবে যার জীবন বাতাসের সাথে ওঠানামা করে,অতিরিক্ত কষ্ট, দুঃখ, বেদনা কর্পুর এর মত জানালা থেকে বেরিয়ে মেঘের সাথে মিলিয়ে যায়,তারাই রাতে নিশ্চিন্তে অতি আদুরে ঘুম দেয়।আর যারা জীবনের বাতায়নগুলোকে ঠিক সময়ে উন্মুক্ত করতে পারেনি তারা অনেকেই আজ রাস্তায়, পথে,প্রান্তরে কিংবা পাগলা গারদে দিন কাটায়।শরীর আর মনকে একই সুতোঁতে বাধুন।যাই ঘটে যাক জীবনে শুধু নিজেকে বলুন“সবকিছু ঠিক আছে” আর জানালাগুলো খুলে দিন।বেরিয়ে যাক সব গ্লানি,কষ্ট,বেদনা, খারাপ সময় আর ফিরে আসুক আসমানী প্রশান্তির বানী।জীবনকে প্রশান্ত করে কোলো অন্ধকারকে বাক্সবন্দি করে নিয়ে যাক মেঘের কাছে। মেঘ ওই কালো অন্ধকারকে বৃষ্টি বানিয়ে শান্তির বানীসরুপ ফিরিয়ে দেক জমিনে।উর্বর হোক জমিন।উপকার পাক সমগ্র মানবজাতি।জমিনের সব ফুল আপনার জন্য ফুটুক।ফুলের সুঘ্রান মধ্যরাতে দখিনা নরম বাতাসের সাথে আপনার ঘরে প্রশান্তি ছড়াক।আপনি একটু শান্তিতে ঘুমান।
is Well