DU Soft Skills Club

DU Soft Skills Club

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from DU Soft Skills Club, Education, IML, DU, Dhaka.

26/10/2022

হন্যে হয়ে পাইলট খুঁজছে বিমান সংস্থাগুলো
দক্ষ প্রকৌশলী ও পাইলটের ঘাটতি অথচ তরুণদের স্বপ্ন ছোট পদের বিমানবালা বা কেবিন অফিসার হওয়া।

বিমান পরিবহন খাতে বছরে ৫০ জন পাইলটের চাহিদা থাকলেও চালু থাকা একমাত্র ফ্লাইং স্কুলটি থেকে প্রতিবছর মাত্র ৮ থেকে ১০ জন প্রশিক্ষিত পাইলট বের হয়। চাহিদার চেয়ে পাইলটের সংখ্যা কম হওয়ায়, নির্ধারিত সীমার বাইরেও তাদের বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়। কর্মঘণ্টা কমবেশি হলেও সব এয়ারলাইন্সই পাইলটদের কাজের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণে একমত।

বিমান পরিবহন খাতে তীব্র পাইলট সংকট ও বিশ্বব্যাপী বাড়তে থাকা ভ্রমণ চাহিদার কারণে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজস্ব পাইলট নিয়োগের সবচেয়ে সহজ ও সুনিশ্চিত পথ বেছে নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

সম্প্রতি দেশের বৃহত্তম বেসরকারি এই এয়ারলাইনস ২৩ জন ক্যাডেট পাইলটকে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রত্যেকের পেছনে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণত ফ্লাইং লাইসেন্স পেতে পাইলটদের নিজেদেরই প্রশিক্ষণের ব্যয়ভার বহন করতে হয়।

মহামারির পর ফ্লাইট সংখ্যা বাড়তে থাকায় গুরুতর পাইলট সংকট দেখা দেয়। পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একই সময় দায়িত্বরত পাইলটরাও অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

দেশে পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য তিনটি ফ্লাইং স্কুল ও ক্লাব থাকলেও এরমধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে গেছে। বিমান পরিবহন খাতে বছরে ৫০ জন পাইলটের চাহিদা থাকলেও চালু থাকা একমাত্র ফ্লাইং স্কুলটি থেকে প্রতিবছর মাত্র ৮ থেকে ১০ জন প্রশিক্ষিত পাইলট বের হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি এবং আরিরাঙ ফ্লাইং স্কুল দুটো এখন বন্ধ আছে। অন্যদিকে গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমির পাইলট তৈরির যথাযথ সক্ষমতা নেই।

এই অবস্থায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ফার্স্ট অফিসার তৈরি করতে একটি ফ্লাইট স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সিইও ক্যাপ্টেন লুৎফর রহমান। তবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)-র সঙ্গে স্কুল স্থাপনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বড় সমস্যা হলো তিন ফ্লাইট স্কুলের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই বছরে খুব কম পাইলট বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার লাইসেন্স পেয়েছেন।

ক্যাপ্টেন লুৎফর আরও বলেন, ইউএস-বাংলার ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ জন পাইলট প্রয়োজন হবে। এয়ারলাইনটি শিগগিরই আরও বিমান যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। আর তাই চাহিদা পূরণে পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ইনফোগ্রাফ- টিবিএস
এদিকে গ্যালাক্সির কাছে মাত্র তিনটি বিমান রয়েছে। তবে তারা আরও বিমান আনার চেষ্টা করছে কারণ প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে ২০০ জন শিক্ষার্থী নাম লিখিয়েছেন।

জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেরও পাইলট সংকট কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে।

বৃহৎ ও সর্বাধুনিক সব বিমান থাকা সত্ত্বেও পাইলট স্বল্পতার কারণে সংস্থাটি বিমানগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। বোয়িং ৭৮৭ বিমান পরিচালনার জন্য আরও ২০ জন পাইলটের প্রয়োজন।

এদিকে ঘাটতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সম্প্রতি বিমান ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দেওয়া এক চিঠিতে জানায়, অতিরিক্ত কাজ পাইলটদের চাপে ফেলেছে এবং তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

এমনকি নির্ধারিত সীমার বাইরেও তাদের বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়। কর্মঘণ্টা কমবেশি হলেও সব এয়ারলাইন্সই পাইলটদের কাজের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণে একমত।

নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যাসোসিয়েশন জানায়, অতিরিক্ত দায়িত্বপালনের কারণে বিমান চলাচলে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলিত হচ্ছে যার ফলে সংস্থাগুলোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

এ অবস্থায় বিমান বেশি বেতনে বিদেশি পাইলট নিয়োগের উদ্যোগ নেয়।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলট স্বল্পতার কারণে তারা বোয়িং ৭৮৭ বিমান সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারছে না। একটি বোয়িং ৭৮৭ প্রতিদিন ১৪ থেকে থেকে ১৫ ঘণ্টা চলতে পারলেও যখন বিমান এটি ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে পাইলটরা চাপের মধ্যে রয়েছেন, তবে বিমান কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করছে না।

'আমরা বাংলাদেশের একমাত্র এয়ারলাইন যারা যথাযথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার কারণে ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট (আইএএসএ)-র সনদ পেয়েছি', বলেন তিনি।

তিনি বর্তমানে কর্মরতদের ওপর চাপ কমাতে তারা নতুন পাইলট নিয়োগের চেষ্টা করছেন।

এমডি জানান, বিমান স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বোয়িং ৭৮৭-এর জন্য ১৮ জন পাইলট নিয়োগের জন্য আবেদন করেছে।

জুলাই থেকে মাত্র তিন মাসে বিমান ৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিমানের গুরুতর পাইলট সংকট

সূত্র জানায়, গত ২০ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ফ্লাইটে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এক নারী ক্রু সদস্য। অতিরিক্ত কাজের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে জানা গেছে।

হজ ফ্লাইট নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য ঘাটতিকালে ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয়াদি উপেক্ষা করে কাজ করে যাওয়ায় পাইলটদের আত্মচেষ্টার উল্লেখ করে গত ১০ অক্টোবর বাপা বলে, 'হজ ফ্লাইট আগেই শেষ হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও ফ্লাইটের সময়সূচির কোনো উন্নতি হয়নি। ফ্লাইট টাইম লিমিটেশন (এফটিএল) সম্পর্কিত সিভিল অ্যাভিয়েশন ডিরেক্টিভ (সিএডি) নিয়মিত লঙ্ঘন, অতিরিক্ত সময় ধরে দায়িত্বপালন, ছুটি বা বন্ধ না পাওয়া এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাসিক রোস্টার না থাকা ইত্যাদি সমস্যাগুলো এখনও চলমান। অথচ সমস্যাগুলো কমানোর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।'

'এর ফলে ক্রুরা ক্লান্ত, মানসিক ও শারীরিকভাবে তারা অবসাদগ্রস্তত। আমাদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো সবাই বিমান চলাকালীন নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে অবহেলা করছে'।

বাপা আরও জানায়, বিমান নিয়মিত পাইলট ইউটিলাইজেশন কমিটির (পিইউসি) সভা করছে না।

বাপার তথ্যমতে, প্রতিমাসে বিশেষ করে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পিইউসি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

'পিইউসি মিটিংয়ে আমরা ফ্লাইং ঘন্টা, ফ্লাইং সেক্টর, ফ্লাইট ডিউটি, ডে অফ, ছুটি, অসুস্থ থাকাকালীন ছুটি ইত্যাদি ঠিকঠাকমতো ভাগ-বাটোয়ারা করে নিতে পারি। নিয়মিতভাবে এই মিটিং হলে অসঙ্গতিগুলো দূর করে আমরা স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারি,' জানায় বাপা।

এই বিষয়ে বিমানের ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন মো. সিদ্দিকুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, পাইলটদের শিডিউলের কারণে তারা মিটিং করতে পারেননি। নিজে ফ্লাইট ডিরেক্টর হওয়া সত্ত্বেও তিনি পাইলট স্বল্পতার কারণে ফ্লাইট পরিচালনা করছেন বলেও জানান।

পাইলট স্বল্পতার বিষয়ে জানতে চাইলে, সিএএবি-র চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ফ্লাইট স্কুল ও ক্লাবগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পাইলট সংকট তৈরি করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমিকে পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য সরকার আগে ভর্তুকি দিলেও এখন না দেওয়ায় তা বন্ধ রয়েছে।

সিএএবি একাডেমি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করলেও তা যথাযথ ছিল না। ফলে ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, পাইলট প্রশিক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পাইলট তৈরি করা সিএএবি-র দায়িত্ব নয়। সিএএবি বড়জোর নীতি সহায়তা প্রদান করতে পারে। উচ্চ ঝুঁকি থাকার পাশাপাশি ব্যয়বহুল হওয়ায় বেসরকারি খাতের ফ্লাইট স্কুলের সংখ্যা বাড়েনি বলেও জানান তিনি।

তবে ইউএস-বাংলা এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অধীনে পাইলট প্রশিক্ষণ স্কুল প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

02/12/2021

৭০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্দিনে রহিমআফরোজ গ্রুপ

বদরুল আলম ও হাছান আদনান

দেশে ব্যাটারি শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছিল রহিমআফরোজ। আইপিএস আর সোলার প্যানেলের মাধ্যমে অন্ধকারে আলো পৌঁছে দেয়ার কাজেও নেতৃত্বও দিয়েছে গ্রুপটি। ১৯৫৪ সালে এ সি আবদুর রহিমের হাত ধরে জন্ম রহিমআফরোজ অ্যান্ড কোংয়ের। প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ৬০ বছরে উত্তরসূরিদের হাতে গ্রুপটির বিকাশ ও বিস্তৃতি হয়েছে ঈর্ষণীয় মাত্রায়। ব্যবসায়িক সততা ও কার্যকর সুশাসনের দিক থেকেও রহিমআফরোজের সুনাম ছিল গোটা করপোরেট জগতে। দীর্ঘকালীন অর্জিত সুনামের কারণে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণও পেয়েছে শিল্প গ্রুপটি।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ আছে রহিমআফরোজের। ব্যবসায়িক বিপর্যয়ে খেলাপি হয়েছে গ্রুপটির বেশির ভাগ ঋণ। পুনঃতফসিল করে ঋণ নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে গ্রুপটি। তবে ডাউন পেমেন্ট দেয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ জমা দিতে না পারায় আটকে গেছে অনেক ঋণের পুনঃতফসিল প্রক্রিয়া। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও এখন রহিমআফরোজের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একসময় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের চাকরির জন্য রহিমআফরোজ ছিল লোভনীয় এক করপোরেট হাউজ। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে শিল্প গ্রুপটিতে যোগদান ছিল সাধারণ ঘটনা। উৎপাদনের পাশাপাশি বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির ব্যাটারি বিপণনের মাধ্যমে দেশের ব্যাটারি বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। আইপিএস ও ইউপিএসের বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আমদানীকৃত গাড়ির টায়ার, লুব্রিকেন্ট ও জ্বালানির বাজারেও দাপট ছিল গ্রুপটির। সোলার প্যানেল ও আগোরার মতো রিটেইল সুপারশপের মাধ্যমে গণমানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল রহিমআফরোজের নাম।

এখন ব্যাংকের তালিকায় খেলাপি হওয়ায় ঋণপত্রও খুলতে পারছে না শিল্প গ্রুপটি। স্থবিরতা নেমে এসেছে ব্যাটারি উৎপাদন, বিপণন ও রফতানিতে। কোম্পানি টিকিয়ে রাখতে রফতানির চিন্তা বাদ দিয়ে আপাতত ব্যাটারির স্থানীয় বাজার ধরে রাখাতেই মনোনিবেশ করেছে গ্রুপটি।

নির্মম এ বাস্তবতার কথা মানছেন রহিমআফরোজের গ্রুপ পরিচালক নিয়াজ রহিমও। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে গিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছি। আগোরা করতে গিয়ে কৃষিতেও বড় অংকের বিনিয়োগ করেছিলাম। সেখানেও লোকসান হয়েছে ৭০-৮০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বাতাসে ভেসে গিয়েছে। এত বড় লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে করতেই এল করোনার আঘাত। গত দুই বছরে বেশির ভাগ সময়ই কর্মীদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হয়েছে। এ মুহূর্তে কর্মীদের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন খারাপ পরিস্থিতি রহিমআফরোজ গ্রুপের ৭০ বছরের ইতিহাসে আসেনি।

নিয়াজ রহিম ২০১৩ সালে অনেকটা আকস্মিকভাবে গুলেনবারি সিনড্রম (জিবিএস) রোগে আক্রান্ত হন। এরপর প্রায় তিন বছর তিনি দেশে ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ এ সময়ে ব্যবসা থেকে পুরোপুরি বাইরে ছিলেন তিনি। তার এ দীর্ঘ অনুপস্থিতি রহিমআফরোজ গ্রুপের ব্যবসায়িক বিপর্যয়ে প্রভাব ফেলেছে। মূলত ওই সময় থেকেই শিল্প গ্রুপটির কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমতে শুরু করে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নিয়াজ রহিম বলেন, বহুজাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য কর্মীদের আমরা নিয়োগ দিয়েছিলাম। কাজ করার জন্য তাদের একটি আদর্শ পরিবেশও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দায়বদ্ধতা না থাকায় ফলপ্রসূ হয়নি। সুস্থ থাকা অবস্থায় কাজ শেষে অনেক রাতেও বাসায় ফিরতাম। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেয়া হয়নি। এ জবাবদিহিতার অভাবই রহিমআফরোজের আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

১৯৪০-এর দশকে সীমিত পরিসরে ট্রেডিং ব্যবসায় যুক্ত হন এ সি আবদুর রহিম। ১৯৪৭ সালে যৎসামান্য পুঁজি নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে ব্যবসার পরিধি বড় করেন তিনি। এরপর ১৯৫৪ সালের ১৫ এপ্রিল রহিমআফরোজ অ্যান্ড কোং নামে একটি কোম্পানি গড়ে তোলেন তিনি। ১৯৫৯ সালে তিনি দেশে যুক্তরাজ্যের লুকাস ব্যাটারির বিপণন শুরু করেন। বিপণন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডানলপ টায়ারেরও। লুকাস ব্যাটারি ও ডানলপ টায়ারের বিক্রিতে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেন এ উদ্যোক্তা। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে লুকাস ব্যাটারি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়ে বড় সাফল্য আসে রহিমআফরোজের। ১৯৮২ সালে আবদুর রহিম মারা গেলে তার তিন সন্তান আফরোজ রহিম, ফিরোজ রহিম ও নিয়াজ রহিম ব্যবসার হাল ধরেন। পিতার রেখে যাওয়া কোম্পানি দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে আরো বড় হয়ে রূপ নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেটে।

১৯৮৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাটারি উৎপাদন শুরু করে রহিমআফরোজ। একই বছর ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের সহায়তায় শুরু হয় সোলার পাওয়ার বিপণন। ১৯৯২ সালে সিঙ্গাপুরে ব্যাটারি রফতানির মাধ্যমে রহিমআফরোজের নাম বিদেশেও বিস্তৃত হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে প্রথম আইপিএস চালু করে কোম্পানিটি। ২০০০ সালে ভারতের আহমেদাবাদে অফিস খোলে রহিমআফরোজ। ২০০১ সালে আগোরা নামের সুপারস্টোর চালু করে গ্রুপটি।

বর্তমানে রহিমআফরোজ গ্রুপের অধীনে চালু আছে ১৫টির বেশি কোম্পানি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ আছে রহিমআফরোজ ব্যাটারির নামে। কোম্পানিটির নামে ব্যাংকঋণ আছে ৫২২ কোটি টাকা। এছাড়া রহিমআফরোজ অ্যাকিউমুলেটরস লিমিটেডের নামে ৩৯৮ কোটি, রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশনের নামে ২৯৭ কোটি, রহিমআফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেডের নামে ২৫২ কোটি, রহিমআফরোজ ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের নামে ২২০ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ রয়েছে। এছাড়া শিল্প গ্রুপটির অধিভুক্ত কোম্পানি রহিমআফরোজ রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের নামে ১৬৫ কোটি, রহিমআফরোজ এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে ৯৯ কোটি, রহিমআফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে ৮১ কোটি, রহিমআফরোজ সিআইসি এগ্রো লিমিটেডের নামে ৬২ কোটি, আরজেড পাওয়ার লিমিটেডের নামে ৫৪ কোটি, রহিমআফরোজ গ্যাসটেক লিমিটেডের নামে ২৭ কোটি এবং আগোরা লিমিটেডের নামে ২২ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বাকি ঋণ রয়েছে রহিমআফরোজের প্রতিষ্ঠান এক্সেল রিসোর্সেস লিমিটেড, মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড, কোর নলেজ লিমিটেড ও রহিমআফরোজ সিএনজি লিমিটেডের নামে। সব মিলিয়ে রহিমআফরোজ গ্রুপের ১৬টি কোম্পানির নামে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ছিল ৬২৭ কোটি টাকা।

রহিমআফরোজের দুটি কোম্পানির নামে প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ঋণ আছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের। অনেক আগেই খেলাপির খাতায় নাম উঠেছে পুরো ঋণ। তবে ঋণটি পুনঃতফসিলের উদ্যোগ নিয়েছে রহিমআফরোজ গ্রুপ। এর মধ্যে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে পুনঃতফসিলের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। যদিও ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেয়ার শর্ত দিয়ে পুনঃতফসিল প্রস্তাবটি ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, রহিমআফরোজ ছিল দেশের সেরা করপোরেট গ্রুপ। অথচ কয়েক বছর ধরে গ্রুপটির ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে না। আমাদের ঋণটি খেলাপি হয়ে যাওয়ায় পুনঃতফসিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন কিছু শর্ত দিয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি। তবে আশা করছি, আমাদের কাছে থাকা রহিমআফরোজের ঋণটি পুনঃতফসিল হয়ে যাবে। দেশের ব্যাটারি ও সোলার শিল্পের সমৃদ্ধি ও বিকাশে শিল্প গ্রুপটির অনবদ্য অবদান আছে। রহিমআফরোজ ঘুরে দাঁড়াক, এ প্রত্যাশাই করছি।

রহিমআফরোজের কোম্পানিগুলোয় ঋণ আছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেরও। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, খেলাপি হয়ে যাওয়ার পর রহিমআফরোজ আমাদের ব্যাংকের ঋণটি পুনঃতফসিল করেছে। শিল্প গ্রুপটি আমাদের কাছে শুধু ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়েছিল। কোনো সুদ মওকুফ বা অন্য কোনো সুবিধা তারা চায়নি। রহিমআফরোজের উদ্যোক্তারা সৎ ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত। আশা করছি, গ্রুপটি দুঃসময় কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।

আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে বর্তমানে স্থায়ী সম্পদ ও কিছু কোম্পানি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে রহিমআফরোজ গ্রুপ। এরই মধ্যে সুপারশপ আগোরা বিক্রি করে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গ্রুপটি। তবে আগোরার বিদেশী অংশীদারদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতের অমিল হওয়ায় এখনো বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি রহিমআফরোজ। ব্যয় কমাতে গ্রুপটি এরই মধ্যে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। রহিমআফরোজের কর্মীর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার থেকে বর্তমানে এক হাজারে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

২০১২ সালে বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ালেখা শেষ করে রহিমআফরোজে যুক্ত হয়েছেন নিয়াজ রহিমের জ্যেষ্ঠ সন্তান ফারাজ এ রহিম। গ্রুপটির ব্যবসায়িক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিভিন্নমুখী কারণে রহিমআফরোজের ব্যবসা খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছে। তবে আমরা হারিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়িনি। আমাদের ব্যাটারির রফতানি বাজার হলো মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকা, আসিয়ান ও সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশ। করোনা শুরুর পর থেকেই এসব দেশে রফতানির জন্য তৈরি করা হাজার হাজার ব্যাটারি কারখানা ও চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে। পণ্য বহনের জন্য জাহাজ সংকটের কারণেও অনেক দেশের ক্রয়াদেশ নেয়া যাচ্ছে না। আপাতত আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবসা জোরদারের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আশা করছি, ব্যাংকঋণগুলো নিয়মিত হয়ে গেলে রহিমআফরোজ স্বমহিমায় ঘুরে দাঁড়াবে।

নিয়াজ রহিম বলেন, রহিমআফরোজ আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। উত্তরাধিকারীদের ঐক্য ধরে রাখতে আমাদের পারিবারিক সংবিধানও আছে। আমার তিন সন্তান বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। রহিমআফরোজের এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হলো ক্যাশ-ফ্লো সংকট। আমরা সরকার ঘোষিত কোনো প্রণোদনার অর্থ এখনো পাইনি। আশা করছি, দ্বিতীয় দফায় আমরা প্রণোদনার অর্থ পাব। কোনো ব্যাংক বা ব্যক্তির কাছে আমরা দয়া চাই না। ব্যাংকগুলোর কাছে শুধু ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন করছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ সহায় থাকলে কোনো সংকটই থাকবে না।

29/11/2021

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নোটিশ:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিক উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচীসমূহ দুটি স্লটে বিভক্ত। একটি আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যটির আয়োজক ঢা.বি এলামনাই এসোসিয়েশন। ঢা.বি কর্তৃপক্ষ আয়োজিত মুল কর্মসূচীটি 01 ডিসেম্বর,2021 বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত হবে এবং 01 ডিসেম্বর তারিখ হতে 04 ডিসেম্বর তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম হবে।
আলোচনা সভা একটু রেস্ট্রিকটেড হবে, অর্থাৎ যারা কার্ড পাবে শুধু তারাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম থাকবে উন্মুক্ত। সকলেই আমন্ত্রিত।

অন্যদিকে ঢা.বি এলামনাই এসোসিয়েশন আয়োজিত কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হবে 23 ও 24 ডিসেম্বর, 2021 তারিখে। এই প্রোগ্রামের মাত্রা থাকবে ভিন্ন। শুধু এলামনাই জীবন সদস্যরাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। জীবন সদস্য হতে লাগবেঃ ১) অনার্স /মাস্টার্স সার্টিফিকেট ফটোকপি। ২) ভোটার আইডি কার্ড ৩) দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ৪) পাঁচ হাজার টাকা। ঢাবি সিনেট ভবনের নীচ তলায় এলামনাই অফিস থেকে একটি ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে জমা দিলে মেম্বার হওয়া যাবে। অবশ্য নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। কনফার্মেশন ম্যাসেজ পাওয়ার পর জীবন সদস্য নাম্বার দিয়ে লগ ইন করে প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করার জন্য আবেদন করতে হবে এবং 1500/- টাকা ফি দিতে হবে। এটার শেষ সময় 30 নভেম্বর, 2021 খ্রষ্টাব্দ মঙ্গলবার। বিশেষ কারণে হয়ত রেজিস্ট্রশন সময় বৃদ্ধি পেতে পারে আরও এক সপ্তাহ। এবং এলামনাই আয়োজিত প্রোগ্রামটি 23 ও 24 তারিখ না হয়ে জানুয়ারি-2022 এর 14 ও 15 তারিখে অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও এখনও সার্কুলার হয়নি। যারা মেম্বারশীপের জন্য আবেদন করেছেন তারা সবাই জীবন সদস্য নাম্বার পেয়ে যাবেন, চিন্তার কোন কারণ নেই

10/03/2021

Family Business of Bangladesh


আলোকপাত: উত্তরসূরির সমস্যা ও দেশের পারিবারিক ব্যবসার ভবিষ্যৎ
ড. আরএম দেবনাথ

পারিবারিক ব্যবসা সম্পর্কে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮ সালের শেষ দিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন (১৮.১২.১৮)। একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সরকার যাতে নিয়ন্ত্রণ নেয় এজন্য একটি ‘গ্রুপের’ প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা পড়েছে। তিনি বলেন, এর কারণ তিনি জানেন না। তবে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী গ্রুপের মালিকের শরীর ভালো নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রত্যেক গ্রুপকেই ‘সরকারের নিয়ন্ত্রণে’ আনতে হবে। তিনি আর একটি বিশাল ‘বিজনেস গ্রুপের’ কর্ণধার সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। জিজ্ঞেস করেন ওই মালিকের উত্তরসূরি কে? এ দুটো মন্তব্যের সার কথা একটাই উত্তরসূরি কে? প্রথম গ্রুপটির মালিকের শরীর ভালো নয়, এতে কী হয়েছে? তার ছেলেমেয়ে তো নিশ্চয়ই রয়েছে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও গ্রুপের কর্ণধার সরকারকে অনুরোধ করেছেন তার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে। বিষয়টি অস্বাভাবিকই বটে। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি কে সরকারের হাতে তুলে দেয় বাধ্য না হলে। এখানে দেখা যাচ্ছে আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, স্বাস্থ্যগত অবস্থাই দায়ী। এবং বোঝা যায় উত্তরসূরিদের ওপর মালিকের ভরসা খুবই কম। দ্বিতীয় যে গ্রুপের কর্ণধারের কথা তিনি নাম উল্লেখ করেই বলেছেন সেই গ্রুপটি উদীয়মান, কিন্তু বর্তমানে বিশাল এবং খুবই প্রভাবশালী। ব্যাংক, বীমা, অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমদানি-রফতানি ব্যবসা এবং বিভিন্ন শিল্পে তার বিনিয়োগ বিশাল পরিমাণের। বিদেশেও তার ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্পদ, অফিস ও বিল্ডিং আছে বলে খবরের কাগজে বিস্তারিত প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু এই গ্রুপের সমস্যা কী? ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো করলে, উন্নতি করলে সাধারণ মানুষের ক্ষতি কী? বরং তা তো দেশের জন্য, অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক খবর। কিন্তু সমস্যাটা এখানে নয়। মুহিত সাহেবের জিজ্ঞাসা: তার উত্তরসূরি কে? এ আশঙ্কা থেকে তিনি ওই উদ্যোক্তাকে একটি ‘হুমকি (থ্রেট)’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হুমকিটি কী, অতিরিক্ত ব্যবসা সম্প্রসারণের হুমকি, নাকি উত্তরসূরি সম্পর্কিত হুমকি। প্রশ্নটি তিনি তুলেছেন, কিন্তু কোনো উত্তর দেননি।

আবুল মাল আবদুল মুহিত এখন আর অর্থমন্ত্রী নন। তিনি অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। মুহিত সাহেবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি, অর্থমন্ত্রী প্রায় বছর দুয়েক। তিনি স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, মেধাবী ছাত্র ছিলেন। উপরন্তু তিনি অত্যন্ত সফল একজন ব্যবসায়ী বলে খ্যাত। ব্যবসা-বাণিজ্যের অলিগলি তিনি চেনেন ও জানেন। মুহিত সাহেব ছিলেন চৌকস আমলা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দুই ব্যাকগ্রাউন্ডের দুজন অর্থমন্ত্রী (একজন সাবেক এবং আরেকজন বর্তমান) পারিবারিক ব্যবসা সম্পর্কে প্রায় একই ধরনের ধারণা রাখেন। কীভাবে তা বুঝলাম? বুঝলাম তার একটি সতর্ক বাণী থেকে। এ সতর্কতার কথাটি তিনি ব্যাংকারদের জানিয়েছিলেন (১০.৯.১৯)। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এক সভায় বলেছিলেন, ‘সন্তান-সন্ততি বিদেশে বসবাস করছে এমন পরিবারকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক’ থাকতে হবে। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যটি ততটা সরাসরি নয়। তবে বুঝতে কষ্ট হয় না যে এটিও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি সম্পর্কিত বিষয়। ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন উদ্যোক্তা। হয়তো সফল এবং বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অধিকারী। কিন্তু উদ্যোক্তার সন্তান-সন্ততি দেশে নেই। তারা থাকে ভিন দেশে। তাদের ঋণ দিলে ভবিষ্যতে বিপদ হতে পারে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে দুজনই পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে উত্তরসূরির প্রশ্নটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

আমাদের দৈনন্দিন খবরের কাগজের আলোচনায় উত্তরসূরির প্রশ্নটি সেভাবে আসছে না। আমরা খেলাপি ঋণ, ঋণখেলাপি এবং ব্যাংকের টাকা মেরে বিদেশে চলে যাওয়া ব্যবসায়ীদের আলোচনা খবরের কাগজে অধিকতর পাচ্ছি। এটা খুবই স্বাভাবিক। মুশকিল হচ্ছে, বর্তমানকে ভালো করে বোঝার চেষ্টায় যদি ভবিষ্যতের সমস্যার কথা আমাদের হিসাবের মধ্যে না থাকে, তাহলে এক সময়ে বিপদ হতে পারে। এক সময়ে কেন, এরই মধ্যে আমাদের দেশে পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে উত্তরসূরিগত তীব্র সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ সম্পর্কিত একটি গবেষণার কথায় পরে আসছি। আগে দুটো সাম্প্রতিক খবরের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রথম খবরটি স্বনামধন্য একটি বড় গ্রুপের। এর নাম ‘আবদুল মোনেম লিমিটেড’। বণিক বার্তার খবরের একটি শিরোনাম হচ্ছে: ‘আবদুল মোনেম লিমিটেড পুত্রদের ঐক্য ধরে রাখতে ব্যবসার হাল ধরলেন মা। মা মানে মোনেম সাহেবের স্ত্রী মেহেরুন্নেসা। গ্রুপটির ব্যবসার শুরু ১৯৫৬ সালে। ধীরে ধীরে আবদুল মোনেম লিমিটেড বড় হয়েছে বড় থেকে আরো বড় হয়েছে, মোনেম সাহেব মারা যান গত ৩১ মে। তার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তাদের মধ্যে দুজন বিদেশে। তাদের মধ্যে এখন হিস্যা নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়েছে। এদিকে প্রধান নির্বাহী কোম্পানি ছেড়েছেন। পেশাদার কর্মীরা এখন দুর্নীতি করছে বলে খবরে প্রকাশ। গ্রুপটির অধীনে মোট কোম্পানি ১২টি। তাদের ব্যাংকঋণ হবে শত শত কোটি নয় হাজার হাজার কোটি টাকা। বলাবাহুল্য ঋণদাতা সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। আবদুল মোনেম লিমিটেডের পরের খবরটি সিকদার গ্রুপের। এ গ্রুপের অধীনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মোট ১১টি। তাদের রয়েছে একটি ব্যাংক। বিদ্যুৎ, আবাসন, নির্মাণ শিল্পে তারা নিয়োজিত। বণিক বার্তার (২৭.২.২১) খবরে প্রকাশ, এর মালিক উদ্যোক্তা জয়নুল হক সিকদার সদ্য প্রয়াত হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত গরিব অবস্থা থেকে বড় হয়েছেন। কর্মজীবন শুরু করেন ড্রাইভার হিসেবে ১৯৫৭ সালে। তার মোট আট সন্তান। খবরে প্রকাশ, তাদের প্রায় সবাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দুজন ফৌজদারি মামলার আসামি। সিকদার সাহেবের মৃত্যুর পর পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে উত্তরসূরিদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রুপের হাল ধরেছেন সিকদার সাহেবের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। অথচ তাদের ব্যাংকঋণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

ওপরে চারটি বড় বড় গ্রুপের খবর দিলাম। বড় বড় গ্রুপ মানে সত্যি সত্যি বড়। দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এরা। প্রথম দুটোর নাম উল্লেখ করিনি। দ্বিতীয় দুটোর নাম দিলাম। এ দুটোর মালিক সদ্য প্রয়াত। এবারে ভিন্ন ধরনের আরেকটি খবর দেব, যা আমাদের ভাবার সুযোগ দেবে। গত ৫ মার্চের একটি বিজ্ঞাপন খবরের কাগজের প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে। বিজ্ঞাপনদাতা ‘আরব-বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেড’। বিজ্ঞাপনের শিরোনাম: ‘চেক ডিজঅনারের মামলায় সিনহা স্পিনিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান-এমডি এবং পরিচালকের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা’। চেয়ারম্যান ও পরিচালক যথাক্রমে আনিসুর রহমান সিনহা এবং আরিফুর রহমান সিনহা। দুজনেরই ছবিসহ বিজ্ঞাপনটি ছাপা হয়েছে। ভাবা যায়, ‘ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল’ গ্রুপের মালিকের ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বণিক বার্তার (৭.১.২১) খবরের শিরোনাম: ‘ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কারখানা এখন নিবুনিবু করছে’। খবরে প্রকাশ এ গ্রুপের কাঁচপুরের কারখানায় একসময় ৪৫ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এখন ১৩-১৪ হাজার। আনিসুর রহমান সিনহা তার কারখানা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু এত বড় ব্যবসা কেনার মতো ক্রেতা নেই। খবরে প্রকাশিত আনিসুর রহমান সিনহা পোশাক খাতের অন্যতম পথিকৃৎ উদ্যোক্তা। আজ থেকে ৩৬-৩৭ বছর আগে কাঁচপুরে ৪৩ একর জমির ওপর তিনি তার কারখানাটি স্থাপন করেন। এ পথিকৃৎ এখন নিবুনিবু। তিনি বোঝামুক্ত হতে চান। কিন্তু কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। ব্যাংকে ব্যাংকে তার দেনা প্রচুর। এসব খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। এ পরিপ্রেক্ষিতে যখন সিনহা সাহেবের ছবিসহ বিজ্ঞাপন ছেপেছে আরব-বাংলাদেশ ব্যাংক, তখন তার একমাত্র সন্তান তানজিয়া সেমহা দেশে নেই—যুক্তরাজ্যে। দেখা যাচ্ছে এখানেও উত্তরসূরির সমস্যা লুক্কায়িত।

বস্তুত বাংলাদেশে বড় বড় পারিবারিক ব্যবসায় উত্তরসূরির সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটার হাউজ কুপারস (পিডব্লিউসি) পারিবারিক ব্যবসার ওপর সম্প্রতি একটি জরিপের খবর কাগজে দিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আমাদের পারিবারিক ব্যবসাগুলোর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরই উত্তরসূরি কে হবে তার কোনো পরিকল্পনা নেই। সুশাসন ও যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব সর্বত্র। ভঙ্গুর পরিস্থিতি লক্ষণীয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে মালিকের মৃত্যুর পর পারিবারিক দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। বাস্তব ঘটনা এবং পিডব্লিউসির জরিপের তথ্য প্রায় একই। বস্তুত এ সমস্যা ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে। চট্টগ্রামে আমাদের পুরনো অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতি ছিলেন। তাদের অনেকেরই শুরু পাকিস্তান আমলের মাঝামাঝি সময়ে। তাদের বয়স হয়েছে। অনেকে প্রয়াত হয়েছেন। সেখানেও দেখা যাচ্ছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চরমে। এ কারণে ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে। ব্যাংকের টাকা আটকা পড়ছে। ব্যাংকে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের মামলা বাড়ছে। জেল-জরিমানা হচ্ছে। বহু নামিদামি প্রতিষ্ঠান এখন ঋণখেলাপি।

মূল মালিক জীবিত নেই। ছেলেমেয়েদের মধ্যে একতা নেই। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা ধরে রাখার মতো যোগ্যতাও নেই। এ সমস্যার দৃশ্যত শিকার ব্যবসার মালিক ও তাদের পরিবার, কিন্তু শেষ বিচারে এসবের বোঝা কিন্তু ব্যাংকের ঘাড়ে।

যে কথাটি বলা দরকার বলে মনে করি তা আমার মনে হয় আমাদের আলোচনার মধ্যে নেই। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনেকেই ঋণখেলাপি নয়। নানাভাবে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। কেউ যোগ্যতার বলেই টিকে আছে, কেউ কেউ সুযোগ-সুবিধার বলে টিকে আছে। কিন্তু তাদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে লুক্কায়িত বিশাল এক সমস্যা—উত্তরসূরির সমস্যা। যোগ্য, শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত উত্তরসূরি খুবই কম। অনেকেরই ছেলেমেয়ে বিদেশের নাগরিক। তারা দেশে ফিরতে আগ্রহী নয়। শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকার দায়-দেনাসহ বিশাল বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর মতো দক্ষতা অনেকেরই নেই। আবার ‘পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’ করার ইচ্ছাই তাদের নেই। তারা মুনাফা ভাগাভাগি করতে চান না। আবার চান না নিয়মকানুনের মধ্যে আসতে। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতার মধ্যে আসা মানেই নানা সমস্যা। অর্থাৎ তারা ‘ম্যানেজমেন্টকে প্রফেশনালাইজ’ করতেও রাজি না। অনেকে দেশেও থাকতে চান না। অনেকের সন্তান-সন্ততি বিদেশে। এ অবস্থায় যা ঘটার তাই কিন্তু ঘটতে শুরু করেছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হচ্ছে, কেউ কেউ জেলে যাচ্ছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ওইসব প্রতিষ্ঠান বিক্রি করত গেলে কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে ব্যাংকের টাকার কী হবে? ঋণ খেলাপির ওপর আলোচনার পাশাপাশি এ সম্পর্কেও আলোচনা দরকার।



ড. আরএম দেবনাথ: অর্থনীতি বিশ্লেষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক

05/11/2020

জ্বী, ১০০ বছর পূর্তির লোগো দেখে হতাশ হওয়া এক ঢাবিয়ানের ২ ঘন্টায় বানানো লোগো এটি!

কারিগর সৈয়দ আল জামি ❤️

12/05/2020

https://www.facebook.com/photo?fbid=102774464775860&set=a.101526478233992

একফ্রেমে একঝাঁক মনীষা। এখানে আনিসুজ্জামান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, বদরুদ্দীন উমর, খান সারওয়ার মুরশিদ, বিচারপতি হাবিবুর রহমান, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, হাসনাত আবদুল হাইসহ সব স্মার্ট বুদ্ধিজীবীরা আছেন।
অনেকেই পরপারে চলে গেছেন, কিন্তু ছবি হয়ে রয়ে গেছেন! এদের মধ্যে মিল হলো এরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এই রকম ক্লাসিক মানুষ আর আসবে কি?
ছবি : বদরুদ্দীন উমরের আমার জীবন, ২য় খণ্ড থেকে নেওয়া। sharfin Shah

09/05/2020

https://www.facebook.com/photo?fbid=135716624701191&set=a.100291304910390

বইয়ের নাম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৪৭-১৯৫১
লেখক: এ জি স্টক
অনুবাদক: মোবাশ্বেরা খানম
প্রকাশক: সুবর্ণ
পৃষ্ঠা: ২০৭
টাইমস এডুকেশনাল সাপ্লিমেন্টে একটি বিজ্ঞাপন দেখে ইংল্যান্ডের মেয়ে স্টক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে চাকরির জন্য আবেদন করেন। তার চাকরিটাও হয়ে যায়। ইংল্যান্ড থেকে একাই চলে আসেন কলকাতায়। তারপর জাহাজে নারায়ণগঞ্জ। পরে ট্রেনে ঢাকা।
স্টক ৫ বছর ঢাকায় অবস্থান করেন। সেসময়কার ঢাকার হাল-হকিকত বোঝার জন্য তার বইটি হাতে নেই। আমরা যেসব মৌখিক ইতিহাস পড়ি, তাতে কথকের কোন স্বার্থ-সংশ্লেষ থাকলে তাতে অতিরঞ্জন কিংবা অতিবর্জনের সম্ভাবনা থাকে। স্টক যেহেতু বহু আগেই ঢাকা ছেড়েছেন। তার কোন প্রকার সংশ্লেষ এদেশের কোন কর্মকাণ্ডে নেই, তাই তার ধারাভাষ্য আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
স্টক যখন ঢাকায় এসেছেন তখন পূর্ব বাংলা একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তার বিভাগের (ইংরেজি) ৯ জন হিন্দু শিক্ষক কলকাতায় চলে গেছেন। বাকি ৪ জনও যাওয়ার জন্য উদগ্রীব। কিন্তু পশ্চিম বাংলায় চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে তারা দেশ ছাড়তে সাহস পাচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও চান না হিন্দু শিক্ষকরা থাকুক। কিন্তু এদের অবর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ছে। তাই তারা ভিন্ন একটা প্রক্রিয়ায় হিন্দু শিক্ষকদের আটকে রাখার চেষ্টা করলেন। তাদের পেনশন স্কিমের টাকা দিতে অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ সময় স্টক সহকর্মী হিসেবে পান মুনীর চৌধুরী, খান সারওয়ার মুরশিদ, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, মো. সাজ্জাদ হোসাইন প্রমুখকে। এর মধ্যে দুজন ৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হন। সর্বশেষজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হন এবং তার জাতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বিতর্কিত হন।
স্টক কবি জসীমউদ্দিনের সাথে মিরপুরে একটি মাহফিলে যান। যেখানে ধর্মীয় সভা শেষে গান বাজনার দারুণ আয়োজন হয়। মৌলভীরা এর বিরোধিতা করলেও স্থানীয়রা তা বেশ উপভোগ করে। এতে বোঝা যায় তখনও সংস্কৃতি ও ধর্মের একটা সহঅবস্থান ছিল।
এই বইয়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ভাষা আন্দোলনের উন্মেষকালের নির্মোহ বর্ণনা। তিনি দেখেছেন সরকার কিভাবে ছাত্রদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পূর্ব বাংলার অসূর্যস্পর্শা মেয়েগুলো কিভাবে সংকোচ নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে পিকেটিং করার জন্য। জিন্নার সমাবেশেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। শুনেছেন একটা জাতির উপর কৃত্রিম একটা ভাষা চাপিয়ে দেয়ার তর্জন গর্জন।
১৯৫০ সালের এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বর্ণনা পাওয়া যায় তার লেখায়। শেরে বাংলার ভাইপো কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন মিথ্যা গুজব লাগিয়ে কিভাবে হিন্দুদের উপর মুসলিমলীগের গুণ্ডারা ঝাপিয়ে পড়েছিল তার সাক্ষ্য মিলে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্ররা সাহসী ভূমিকা রাখে। উপদ্রুত একটি পরিবারকে রক্ষা করতে খান সারওয়ার মুরশিদ এয়ারপোর্টে ছুটে যান।
সেসময় পাঠ্য পুস্তকে প্যান-ইসলামিক ভাবধারা সন্নিবেশের জন্য যেসব হাস্যকর কর্মকাণ্ড হয়েছিল তারও বিবরণ মিলে এতে।
বইটি পড়ে অনেকগুলো পাজল যেন মিলাতে পারলাম।-জয়দীপ দে শাপলু

07/05/2020

স্থার স্বীকার হলে, আমরাই যারা শিক্ষার্থী তারা কমেন্টে প্রতিবাদ জানাই, তীব্র নিন্দা জানাই। কিন্তু কই, কোন বড় বড় পদের সাবেক ঢাবিয়ান ভাইয়েরা তো কমেন্টে এসে বলে না যে, বিষয়টা আমি দেখছি বা ওপর মহলে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
⭕ সুতরাং সময় এখন একই লগোতে উপবিষ্ট হওয়ার। আপনি যে দলের রাজনীতি করুন, সেটা আপনার পার্সোনাল ব্যাপার। কিন্তু সর্বাগ্রে আপনার 'ঢাবিয়ান পরিচয়ই' বজায় থাকবে এটাই প্রত্যাশা। আপনি Care করুন, Care পাবেন। Hate করুন Hate পাবেন।

30/04/2020

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়... আমাদের উত্তরাধিকার ও গর্ব!

21/04/2020

এদেশ আমাদের । সুতরাং এদেশকে ভালো রাখতে হবে।

21/04/2020

Build resilience

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


IML, DU
Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00