27/12/2015
জীবনকে বদলে দেয় যে পরীক্ষা (IELTS)
[৫ ই জানুয়ারী উত্তরায় ফ্রি আইইএলটিএস সেমিনার ও ফ্রি Mock Test]
আদির কথাঃ
ঘরকুনো বাঙ্গালীর ঘুম ভেঙ্গেছে অনেক আগেই, বিশ্ব দরবারে নিজেদের তুলে ধরবার প্রয়াস শুরু হয়েছে সেই বৃটিশ আমল থেকেই। সেকালে পড়াশোনার জন্য বিলেতযাত্রা ছিল এক মহাসমারোহের ব্যাপার। আজ যে যুক্তরাজ্যের আনাচে-কানাচে বাঙ্গালী তথা বাংলাদেশীদের মুখর পদচারণা,তার শুরু সেই সময় থেকেই। সেসময় একদেশ থেকে আরেকদেশে যেতে এতো বিধি-নিষেধ ছিল না।
উত্তরায় ফ্রি আইইএলটিএস সেমিনারে অংশগ্রহণ করার লিঙ্কঃ
https://goo.gl/E2BdhL
দিন বদলেছে, বদলে গেছে আন্তঃমহারাষ্ট্রীয় নিয়ম-কানুন। এতোটাই বদলে গেছে যে, আমাদের বাঙ্গালীদের সবুজ পাসপোর্টখানা দেখলেই ওদের পিলে চমকে যায়। তাই বলে দুরন্ত বাঙ্গালী কবে-কোথায় থেমে থেকেছে! কি আছে তোমার নিয়ম-কানুন। বলো, তোমার নিয়ম মেনেই যাবো্।
IELTS নামক ভাষার বাধা
আমরা ভেতো বাঙ্গালী, আর ওরা ইংরেজী বলা সাহেব ভদ্রলোক। ওদের দেশেই যেহেতু যাচ্ছি,ব্যাটাদের ভাষাটা না শিখলে জ্ঞাণের রাজ্যে বিচরণ করবো কিভাবে? আমরা যারা নন-ইংলিশ নেশন, তারা আমাদের IELTS(International English Language Testing System) এর বাঁধনে বেঁধে ফেললো।
এই শিকঁল পরা ছল মোদের,এই শিকঁল পরা ছল,
এই শিকঁল পরেই তোদের করবো রে বিকল
অদম্য বাঙ্গালী এই বাঁধাকে তুচ্ছ করেই বিশ্বের তাবৎ বিখ্যাত ইউনিভার্সিটিগুলোতে জায়গা করে নিচ্ছে স্বযোগ্যতায়। চলুন জানি,IELTS এর আদ্যপান্ত আর একে জয় করার কিছু মোক্ষম অস্ত্র। স্কোর কয়টি Module এ বিভক্ত।
পৃথিবীর একটি কমন ভাষা বিশ্বমানবকে একসুতোয় গেঁথেছে আর সেই ভাষাটি হলো English আপনি কতটুকু English জানেন কিংবা English এ আপনার দক্ষতা পরিমাপের যে system সেটাই IELTS (International English Language Testing System)
এখন পৃথিবীর যে প্রান্তেই পড়তে যান কিংবা কাজ করতে যেতে চান IELTS এ একটা ভালো স্কোর লাগবেই। সাধারণতঃ IELTS দুটি মডিউলে বিভক্ত- একাডেমিক এবং জেনারেল ট্রেনিং। পড়াশোনা করতে যাবার জন্য একাডেমিক আর চাকুরী , কারিগরী প্রশিক্ষণ, ইমিগ্রেশন তথা PR এর জন্য প্রয়োজন জেনারেল ট্রেনিং।মডিউল দুটি নামে ভিন্ন হলেও পদ্ধতিগত পার্থক্য খুব একটা বেশি না।
প্রতিটি Module এর কয়টি অংশ
একাডেমিক এবং জেনারেল দুটিরিই কমন চারটি অংশ—
রিডিং
রাইটিং
লিসেনিং
স্পিকিং
রিডিং(Reading)
IELTS এর সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অংশ হলো রিডিং পার্ট। অধিকাংশ স্টুডেন্টের বেলায় দেখা যায়, রিডিং এ Band score কম এসেছে।আসলে এর সবচেয়ে বড় কারণটা হচ্ছে অবহেলা কিংবা নিজের ইংলিশ জ্ঞাণ সম্পর্কে নাক উঁচু ভাব। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম ধুর, রিডিং একটা ব্যাপার হলো নাকি ।SSC, HSC এর মতো Passage ই তো দিবে, সেখান থেকে উত্তর বের করে লিখে দিয়ে আসব, তা এ আর এমনকি। কিন্ত ভাইয়া, সহজ কিন্ত সহজ নয়।
প্রশ্নের ধরণ:
তিনটি প্যাসেজ/প্যারাগ্রাফ, ৪০ টি প্রশ্ন আর সময় এক ঘন্টা। বিভিন্ন জার্নাল, বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন থেকে প্যাসেজ কিংবা প্যারাগ্রাফ তুলে দেয়া হবে, আপনাকে সেগুলো পুংখানুপুংখভাবে পড়ে উত্তর বের করে নিয়ে আসতে হবে। মূলত সময়ই এখানে বড় বাধা কারণ এক ঘন্টা সময়ের মধ্যে তিনটি প্যাসেজ আত্বস্হ করতে হবে এবং ৪০ টি প্রশ্নের উত্তর বের করতে হবে। সাধারণত বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুজে বের করা ইত্যাদি টাইপের প্রশ্ন থাকে।
রিডিং এ ভালো করার মোক্ষম অস্ত্র
অস্ত্রটার নাম vocabulary, যার যত বেশি শব্দ জানা থাকবে, তার কাছে ততবেশি সহজ মনে হবে। passage কিংবা প্যারাগ্রাফে ব্যবহৃত word গুলোর মানেই জানেন না, উত্তর খুঁজবেন কিভাবে?কাজেই বেশি বেশি vocav খান, চাপার জোর বাড়ান।
পরীক্ষার সময় নীচের নিয়মগুলু follow করুন, আশা করি ফল ভালই পাবেন-
# প্রথমেই paragraph টি ২/৩ বার ধীরে সুস্থ্যে মনোযোগ দিয়ে পড়ুণ, যে অংশটি বা যে sentence/word টি গুরত্বপূর্ন মনে হয়েছে, সেটা মার্কিং করে রাখুন, পরবর্তীতে উত্তর খুঁজতে ভালো কাজে দিবে।
# গত দশ বৎসরের offline ও online এ রিডিং এর যতো sample পাবেন, solve করতে থাকুন, দেখবেন ব্যাপারটা আপনার কাছে সহজ ও মজার একটা বিষয় হয়ে উঠছে।
# প্রতিদিন নিয়ম করে ইংরেজী পত্রিকা/ম্যাগাজিন পড়ুন, কঠিন word গুলোর মানে শিখে কোথাও লিখে রাখুন। চেষ্টা করুন online থেকে UK, USA এবং Australia এর লিডিং পত্রিকা গুলো পড়ার।
# Word Meaning জানার জন্য বিভিন্ন E-Directory কিংবা Google Translator use করতে পারেন।
রাইটিং(Writing)
লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয় এ অংশে।লিখতে তো সবাই জানে,কিন্ত কতটা নির্ভুল,সাবলীল আর সৃজনশীল সেটাই বিবেচ্য।
এখানেও সময় ১ ঘন্টা ।এই সময়ের মধ্যে দুটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। সাধারণত: প্রথম প্রশ্নে কোন একটা বিষয়ভিত্তিক চার্ট বা ডায়াগ্রাম দেয়া হয়, সেটা দেখে ঐ বিষয়ে বিশ্লেষনাত্বক লেখা লিখতে হয় নূন্যতম ১৫০ শব্দের মধ্যে।আর দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে কোন বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে সুচিন্তিত মত বা যুক্তি তুলে ধরতে হয় ২৫০ শব্দের মধ্যে। শব্দসংখ্যা কম হলে কিন্ত নম্বর কমে যাবে তবে বেশি হলে ক্ষতি নেই।
প্রথম প্রশ্নের তুলনায় দ্বিতীয় প্রশ্নের মার্ক দ্বিগুণ।বুদ্ধিমানেরা তাই দ্বিতীয়টা দিয়ে শুরু করে আর টাইম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রেও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। এক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্নের জন্য ২০ মিনিট এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের জন্য ৪০ মিনিট বরাদ্দ রাখাই শ্রেয়।
রাইটিংয়ে ভালো করার কিছু অব্যর্থ টিপস
# লেখাটা একটু গুছিয়ে লিখুন, নিরেট sentence না লিখে বাক্যকে একটু অলংকৃত করুন।
# লেখায় বিখ্যাত কোন লোকের উক্তিকে coat করুন
# এক sentence এর সাথে অন্য sentence এর যেন অন্তঃমিল থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
# কম কথায় যেন অধিক কিছু বোঝানো যায় ,তার চেষ্টা করুন।
# অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবেন না এবং লেখাকে ছোট ছোট প্যারায় বিভক্ত করে আকর্ষনীয় করে তলুন।
# বানানে মনোযোগ দিতে হবে বেশি, বানান ভুল হলে কিন্ত নাম্বার কাটা যায় ।
# প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ে ৫টি লাইন হলেও লিখুন,দেখবেন হাত খুলে গেছে।
# লেখায় পারদর্শী হতে হলে শব্দ ভান্ডারকে মজবুত করতে হবে। প্রতিদিন নিয়ম
করে ৫ টি নতুন শব্দ শিখে ফেলুন। বুকে শব্দ থাকলে কলম এমনিই তরতরিয়ে চলবে।
লিসেনিং (Listening)
আমাদের sub continent, Asia, Africa,মহাদেশের অধিবাসীদের ইংরেজীর Accent আর Europe, America, Australia মহাদেশের অধিবাসীদের Accent এর মধ্যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ। ভালো ইংরেজী জানা সত্বেও একজন আমেরিকান কিংবা একজন অস্ট্রেলিয়ান এর কথা শুনে হা করে তাকিয়ে থাকতে হয়।
কাজেই বলা যায়, স্টুডেন্টদের Band Score Low হওয়ার পেছনে Listening এর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তাহলে উপায়? ঘাবড়ে যাওয়ার কোন কারণই নেই। চারটা পার্টের মধ্যে একমাত্র লিসেনিং এ এমন কিছু সরাসরি পদ্ধতি রয়েছে যাতে করে লিসেনিং এর সমস্যাটাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায়। তবে তার আগে ভাল করার দৃঢ় প্রত্যয় থাকতে হবে অবিচল চেষ্টা থাকতে হবে।
লিসেনিং-এ চারটি বিভাগে মোট ৪০টি প্রশ্নের Answer করতে হয়।সময় পাবেন ৩০ মিনিট।সাধারণত কোন বিষয়ের উপর বক্তৃতা, Dialogue, Story ইত্যাদি বাজিয়ে শোনানো হয়।এই শোনা থেকেই খুঁজে নিতে হবে উত্তর, প্রশ্ন থাকবে সামনে ।
কানটাকে খাড়া করে শূনতে হবে এবং British/Australian Accent বুঝার দক্ষতাটা আগেই তৈরী করে নিতে হবে। যেহেতু চারটি বিভাগে চারটি বিষয় থাকে, কাজেই প্রতিটি বিষয়ে একবারই বাজিয়ে শোনানো হয়্। সুতরাং মিস করার সুযোগ কম কিংবা কোন একটা অংশ না বুঝতে পারলে সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোরও সুযোগ নেই। কারণ হচ্ছে, এতে করে পরবতী প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজার scope কমে যায়।
লিসেনিং কে Lipsong বানানোর উপায়
প্রথমেই একটা গান শোনার হেডসেট কিনে নিন, পিসিতে বসে যান কিংবা মোবাইলের earphone কানে দিয়ে শুনতে থাকুন শত শত ডায়ালগ, speech কিংবা story. এখন প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো কোথায় পাবেন। Google মামার যুগে এ প্রশ্ন করলে মামা লজ্জা পাবে। Listening Practice for IELTS লিখে সার্চ দিলে হাজার হাজার টিউটেরিয়াল সাইট পাবেন।
এই সাইটগুলোতে নিয়ে রীতিমত গবেষণার আয়োজন রয়েছে। কি করে শুদ্ধ কথোপকথন আয়ত্ব করা যায়, তার হাজারো দিকনির্দেশনা রয়েছে, রয়েছে Accent ঠিক করার হাজারো কৌশল। শুধু কি তাই?শুনে শুনে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য রয়েছে হাজার হাজার অডিও ফাইল। তেমনি কয়েকটি সাইট-
www.audioenglish.net
www.englishcommunications.net
www.teachinenglish.org.uk
স্পিকিং(speaking)
English জানেন বিস্তর, কিন্ত পেটে বোমা পড়লেও দু চার বাক্য English বেরুতে চায়না, এমন বঙ্গসেনানীর সংখ্যাই বেশি।আচ্ছা বোমা না হয় পরে মারা যাবে, আগে জেনে আসি speaking এ পরীক্ষার ধরণটা কেমন।তিনটি পার্টে speaking skill test হয়,সময় ১০-১৫ মিনিট।
প্রথম পার্টে পরীক্ষাথীর ব্যক্তি জীবন সম্পকে তথা তার পরিচয়, পরিবার,শিক্ষা, রানিং স্ট্যাটাস ইত্যাদি সম্পর্কে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়।
দ্বিতীয় পার্টে নিদিষ্ট একটা বিষয়ের উপরে একনাগাড়ে ২ মিনিট বলে যেতে হয়।অবশ্য যে বিষয়ে কথা বলতে হবে, সে সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য ১ মিনিট সময় দেয়া হয়।
আর তৃতীয় পার্টে চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে Examiner এর সাথে কোন বিষয়ে Dialogue চালিয়ে যেতে হয়।
খুলে দিন মুখের তালা
কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা ছুটে যায়। চায়ের কাপে তুফানি ঝড় বয়ে যায়, আর বলে কিনা মুখে তালা!
ভাইয়া ঠিকই ধরেছেন, বাংলা মুখের তালার কথা বলিনি ইংলিশ মুখের তালার কথা বলেছি।পেটভরা ইংরেজী বিদ্যে, ১০-১২-১৪ বছরের অবিরাম ইংরেজী শিক্ষা মুখ দিয়ে বের করে নিয়ে আসুন, যত কষ্টই হোক।
# প্রতিদিন ঘড়ি ধরে ১০ মিনিটের জন্য বঙ্গবন্ধু হয়ে যান ভুল ভাল যাই আসুক বকে যান।
# ঘরের টেবিল, চেয়ার, আয়না, সোফা, মোবাইল সহ সবাইকে শ্রোতা বানিয়ে ৫ মিনিট করে গল্প শোনান।
# ৩-৪ মাস নিজে মজনু সাজুন, ইংলিশকে লাইলী বানান।
# বন্ধু বান্ধব, ভাই ব্রাদার, কলিগ সবার সাথে ইংলিশ বলুন ভুল হোক সমস্যা নেই।
# নেট থেকে নামিয়ে বিশ্ব-বিখ্যাত বক্তৃতা শুনুন দিন।
# যেভাবেই পারেন, একজন ইংরেজী বলার পাটনার খুঁজে বের করুন, আর ধুমসে ইংরেজীতে তর্ক, ঝগড়া, গল্প করতে থাকুন।পড়তে থাকুন যেন আপনি গল্প কথক কিংবা News presenter.
প্রতিদিন নিয়মিত উপরের practice গুলো করুন ২ মাসের মধ্যে মুখের তালা লজ্জা পেয়ে লজ্জাবতীর মতো মিইয়ে যাবে, আর খুলে যাবে সম্ভাবনার দ্বার।
স্কোর(Score)
IELTS এর স্কোরের স্কেল শুরু হয় এক থেকে এবং সেটা নয় পযন্ত দেয়া হয় ।Reading, Writing, Speaking, Listening- এই চারটি অংশে আলাদা আলাদা ব্যান্ড স্কোর দেয়া হয় এবং পরবতীতে এগুলোর গড় করে একটি চুরান্ত স্কোর দেওয়া হয়।বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্য সাধারণত ৬-৭.৫ পেতে হয়। তবে কিছু কিছু ইউনিভাসিটি আলাদা আলাদা হাই ব্যান্ড স্কোর ডিমান্ড করে।
উত্তরায় ফ্রি আইইএলটিএস সেমিনারে অংশগ্রহণ করার লিঙ্কঃ
https://goo.gl/E2BdhL
অথবা ফ্রি রেজিস্ট্রেশান করতে কল করুনঃ
01848389217
তারিখঃ ৫ ই জানুয়ারী, সময়ঃবিকাল ৩টা থেকে ৫টা
স্থান: SLS, Steps ltd, Uttara Office
উত্তরা অফিস :
সাঈদ গ্রান্ড সেন্টার (৮ম তলা),প্লট # ৮৯ ,
রোড # ২৮, সেক্টর # ০৭ ,উত্তরা , ঢাকা -১২৩০।
ফোন : ০২-৫৮৯৫৭৮৮০,
মোবাইল: 01780362348