01/10/2025
"গোলাপি রঙের কেক"
পাঁচ বছরের ছোট্ট যায়নাবের আজ প্রচুর মন খারাপ। খাটের পাশে জানালাটা দিয়ে আকাশ দেখছে সে। নীল আকাশটা আজ ভীষণ কালো লাগছে তার কাছে।
দাদি চুপিচুপি পায়ে এসে যায়নাবের পাশে বসল। মাথায় হাত বুলিয়ে কোমল কণ্ঠে বলল, ‘ও আমার জাদুমণি, সোনামণি, আমার হাফিজা, আমার চড়ুই পাখি। মন খারাপ করে না। মা তো ঠিকই বলেছে, জন্মদিন করা তো ভালো না। যেটা ভালো না, সেখানে যাওয়াও তো ভালো না।’
যায়নাব এবার ঠোঁট বাঁকিয়ে কাঁদকাঁদ গলায় বলল, ‘নিশি, ফাতিমা, রিনি, মিতুল ওরা জন্মদিন কেন করে? জানো দিদুন, ফাতিমাদের বাসায় আজ মস্ত বড় কেক এসেছে। গোলাপি রঙের কেকটা কত সুন্দর জানো! সবাই যাবে আমি কেন যাব না? সবাই যা করে আমি তা কেন করতে পারব না?
‘ওরে আমার আদুরি, আমার সোহাগী। তুমি তো স্পেশাল।’
দাদির মুখ থেকে স্পেশাল শব্দটা শুনে একটু ভালো লাগল যায়নাবের। বাবাও তাকে বলেছে সে স্পেশাল। দাদু আর মা-ও তাকে বলে এই শব্দটা।
কিন্তু পরক্ষণেই আবার গাল ফুলিয়ে বলল, ‘না আমি কোনও স্পে-স্পে-স্পে না। আমি ফাতিমার জন্মদিনে যেতে চাই। গোলাপি রঙের জামা পরে। ওর গোলাপি রঙের কেকও খেতে চাই।’
দাদি এবার যায়নাবকে কোলে তুলে নিলেন, ‘বলো তো ময়না পাখি, তোমাকে সব থেকে বেশি কে ভালবাসে?
: বাবা, আম্মি, দাদুভাই আর তুমি।
: না, হয়নি। আবার ভেবে বলো।
যায়নাব এবার চিন্তায় পড়ে গেল–আর কে হতে পারে? কে ভালবাসতে পারে? পরক্ষণেই তার মনে পড়ল আম্মির কথা - আমাদের রব আমাদের সব থেকে বেশি ভালবাসে। আম্মি, বাবা, দাদুভাই, দিদুনের থেকেও বেশি।
: আল্লাহ তা‘আলা আমাকে সব থেকে বেশি ভালবাসে দিদুন।
: মাশাআল্লাহ, তুমি ঠিক বলেছ। এবার বলো তো চড়ুই পাখি, সব থেকে বেশি যে আমাদের ভালবাসে, সে কি কখনও আমাদের ক্ষতি চাইতে পারে?
: না।
: তাহলে তুমি জানো আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্মদিন পালন করতে নিষেধ করেছেন। জন্মদিনের দাওয়াতেও যাওয়া যাবে না। জন্মদিন সংশ্লিষ্ট কোনও কাজে অংশগ্রহণ করা যাবে না।
এই যে এই দুনিয়াতে তুমি একটা গোলাপি রঙের কেকের লোভে পড়ে জন্মদিনে যেতে চাচ্ছ, এটা তো তোমার জন্য পরীক্ষা। তুমি তোমার লোভকে জিতিয়ে দিয়ে নফ্সকে সফল ও সন্তুষ্ট করতে পারো। আবার লোভকে হারিয়ে দিয়ে গুনাহের কথা চিন্তা করে নফ্সকে বিফল করে সন্তুষ্ট করতে পারো তোমার রবকে।
এখন তুমি বলো, তোমার কী চাই, জন্মদিনের গোলাপি রঙের কেক আর সাথে তোমার রবের অসন্তুষ্টি? না কি জন্মদিনের গোলাপি রঙের কেক থেকে বিরত থেকে তোমার রবের সন্তুষ্টি?
যায়নাব দাদিকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘কেক না দিদুন, রবের সন্তুষ্টি।’
: আলহামদুলিল্লাহ আমার চাঁদ! নিশ্চয়ই তোমার রব তোমাকে এত দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে।
দরজার আড়াল থেকে মেয়ে আর মায়ের কথোপকথন শুনে খুব খুশি হলো আহমেদ।
• • •
দুই মাস পর আজ যায়নাবের একটা স্পেশাল দিন। সে আরবি সবগুলো হরফ পড়া আর লেখা শিখে গেছে। আজ তার মন খুব খুশি। তার ওপর দাদুভাই তাকে একটা পিংক কালারের জামা হাদিয়া দিয়েছে। জামাটা পরে জোনাকির মতো আলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে সে এঘর থেকে ওঘরে।
এমন সময় আহমেদ ডেকে নিয়ে গেল যায়নাবকে। আর তারপর খুশিতে চমকে উঠল যায়নাব, ‘আরে, কত বড় গোলাপি রঙের কেক!’
এক লাফে বাবার কোলে যায়নাব। বাসার সবাই মিলে মজা করে কেকটা খেল। হঠাৎ যায়নাবের কুরআনের একটি আয়াত মনে পড়ে গেল, “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।”
01/10/2025
29/09/2025
28/06/2023
27/08/2022
29/06/2022
15/05/2022