18/08/2026
আপনার সন্তান কেন মাদ্রাসা থেকে ঝরে পড়ছে?
বুকভরা আশা নিয়ে সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করান—
স্বপ্ন, একদিন সে আলেম হবে, হাফেজে কুরআন হবে।
আপনার জানাজা সে পড়াবে, মৃত্যুর সময় আপনার পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াত করবে, আপনার জন্য দোয়া করবে, কবর জিয়ারত করে মাগফিরাত কামনা করবে—
কী সুন্দর স্বপ্ন!
কিন্তু একটু নিজেকে প্রশ্ন করুন—
সন্তানের দ্বীনদারির স্বপ্ন দেখছি, অথচ আমি নিজে কি নামাজি?
সন্তানকে হালাল-হারাম শেখাচ্ছি, অথচ আমার উপার্জনে কি হালাল-হারামের হিসাব আছে?
সন্তানের অন্তরে কুরআনের নূর চাই, অথচ আমার ঘরের পরিবেশ কেমন?
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।”
—সূরা আত-তাহরীম: ৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
তাহলে সন্তানের ইসলাহ কি শুধু মাদ্রাসার উস্তাদের দায়িত্ব?
না।
উস্তাদ সন্তানকে কয়েক ঘণ্টা শিক্ষা দেন; কিন্তু সন্তান তার পরিবারের পরিবেশে থাকে দিনের অধিকাংশ সময়।
ঘরে যদি নামাজের গুরুত্ব না থাকে,
হালাল-হারামের পরোয়া না থাকে,
অশ্লীলতা, গান-বাজনা ও হারাম বিনোদনে পরিবেশ ভরে থাকে,
সুন্নাতের আমলকে তুচ্ছ মনে করা হয়,
তাহলে শুধু মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে একটি শিশুর অন্তরে দ্বীনের পূর্ণ নূর প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন।
মনে রাখবেন—
আলেম বা হাফেজ বানানো শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার নাম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ তারবিয়াতের বিষয়।
আপনি সন্তানের কাছে যা চান, তার কিছুটা নিজেকেও হতে হবে।
আপনি চান সে নামাজি হোক—
নিজে নামাজ কায়েম করুন।
আপনি চান সে কুরআন ভালোবাসুক—
নিজেও কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ুন।
আপনি চান সে হালাল-হারাম বুঝুক—
নিজের উপার্জন ও জীবনযাত্রায় হালাল-হারামের ব্যাপারে সতর্ক হোন।
আপনি চান সে সুন্নাতের অনুসারী হোক—
নিজের জীবনেও সুন্নাতকে জীবন্ত করুন।
কারণ সন্তান শুধু আপনার কথা শোনে না—
সে আপনাকে দেখে শেখে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا
“তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকো।”
—সূরা ত্বহা: ১৩২
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা—
সন্তান মাদ্রাসা থেকে ঝরে পড়লে শুধু সন্তানকে দোষ দেবেন না।
একবার দেখুন—
তার পড়াশোনার প্রতি আমরা কতটা খোঁজ নিয়েছি?
উস্তাদের সাথে কতটা যোগাযোগ রেখেছি?
তার আমল-আখলাকের খোঁজ নিয়েছি কি?
মাদ্রাসার শিক্ষাকে ঘরের পরিবেশে কতটা সহযোগিতা করেছি?
শুধু সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ নয়।
সন্তানের দ্বীনি তারবিয়াতে অভিভাবক ও উস্তাদ—উভয়ের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।
ইলম হলো নূর।
আর সেই নূর পাওয়ার জন্য নিজের জীবনকেও নূরের পথে আনতে হয়।
তাই আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন—
সন্তানের ইসলাহের আগে নিজের ইসলাহ শুরু করব।
নামাজ কায়েম করব।
হারাম থেকে বাঁচব।
হালাল রিজিকের চেষ্টা করব।
ঘরকে কুরআন-সুন্নাহর পরিবেশে সাজাব।
সন্তানের পড়াশোনা ও আমলের খোঁজ রাখব।
উস্তাদদের সম্মান করব এবং তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব।
ইনশাআল্লাহ, তখন আপনার সন্তান শুধু একজন হাফেজ বা আলেম হবে না—
সে হবে আপনার জন্য দুনিয়ায় চোখের শীতলতা এবং আখিরাতে নাজাতের উসিলা, আল্লাহর রহমতে।
সন্তানকে বদলাতে চান?
আজ থেকেই নিজের ঘরটাকে বদলান।
اللهم أصلح لنا ذرياتنا واجعلهم قرة أعين لنا
হে আল্লাহ! আমাদের সন্তান-সন্ততিকে সংশোধন করে দিন এবং তাদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন। আমিন। 🤲
#সন্তানের_তারবিয়াত #মাদ্রাসা_শিক্ষা #অভিভাবকের_দায়িত্ব #ইসলামিক_শিক্ষা #কুরআন_সুন্নাহ #হাফেজ #আলেম #ইসলাহ