18/02/2020
#সমন্বিত_ভর্তি_পরীক্ষার_ব্রেকিং_নিউজ
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, সে বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
তাতে বলা হয়েছে, কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার জন্য তিনটি পৃথক কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি করা হবে। এই তিন শাখায় তিন দিন আলাদাভাবে পরীক্ষা হবে। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর (স্কোর) ও মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থী বাছাই করবে। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পছন্দের কেন্দ্রে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির কাজ হবে; কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করা। এরপর সেই ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।
শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রচলিত পদ্ধতিতে (কিংবা যেভাবে তারা উপযুক্ত মনে করে) তাদের প্রয়োজনীয় শর্ত সংযোজন করে আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। শিক্ষার্থীরা তখন শর্তপূরণ সাপেক্ষে তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন করে আর পরীক্ষা নেবে না। শর্ত পূরণ হলে, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার স্কোর বিবেচনায় নিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের পুরনো পদ্ধতি ধরে রাখতে চাইলে: ইউজিসি চেয়ারম্যান এক অনুষ্ঠানে এর সমালোচনা করেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নতুন পদ্ধতি নিয়ে এখন আর সরাসরি দ্বিমত করছে না।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে ইউজিসির এক বৈঠকের পর জাননো হয়, এ বছর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে (সমন্বিত) ভর্তি পরীক্ষা নিতে সবাই সম্মত হয়েছে। এরপর ইউজিসি থেকে পরীক্ষা পদ্ধতির খসড়া প্রস্তাবনাটি গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠানো হয়।
তাতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে আগে যেভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে, তার প্রতি ‘সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই’ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা হবে।
⊞ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ‘অভিজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ’ শিক্ষকদের নিয়ে কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার জন্য পৃথক পৃথক তিনটি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হবে।
⊞ উচ্চ মাধ্যমিক ফল প্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির নির্ধারিত তারিখে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে। তিন শাখায় ( মানবিক, ব্যবসা, বিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ইউনিট) চার দিন আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
⊞ প্রত্যেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকবে। ছাত্র-ছাত্রীরা অভিন্ন প্রশ্নে তাদের পছন্দ অনুযায়ী কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।
⊞ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি তাদের সামর্থ্যের (পরীক্ষা নেওয়ার) অতিরিক্ত আবেদন জমা পড়ে, তাহলে মেধাক্রম অনুযায়ী নিকটতম অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
⊞ কেন্দ্রীয় এই ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের একটি স্কোর তৈরি করে দেবে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি।
⊞ পরে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।সেখানে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শর্ত যোগ করতে পারবে।
⊞ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন করে আর পরীক্ষা নিতে পারবে না। কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় প্রাপ্ত স্কোর বিবেচনা করেই তাদের শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।
⊞ তবে স্থাপত্য, চারুকলা ও সংগীতের মত বিশেষায়িত বিভাগগুলো তাদের প্রয়োজনমত ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার স্কোর যুক্ত করে মেধাতালিকা তৈরি করতে হবে।
যে যে গ্রুপ থেকে HSC পরীক্ষা দেবেন ওই গ্রুপের সাবজেক্ট অনুযায়ী পরীক্ষা দেবেন । চাইলে বিভাগ পরিবর্তন ও করা যাবে।
যেমন : বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা গণিত , পদার্থ , জীববিজ্ঞান , রসায়ন ইত্যাদি বিষয় থাকবে ।
মানবিক বিভাগ ও বিভাগ পরিবর্তন এর শিক্ষার্থীরা বাংলা , ইংরেজি ও সাধারণজ্ঞান, IQ ( বুদ্ধিমত্তা) বিষয়ে পরীক্ষা দেবেন।
B ও D ইউনিটের ( মানবিক ও বিভাগ পরিবর্তন ) MCQ + WRITTEN
আর ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলা , ইংরেজি সহ তাদের বিভাগের বিষয় গুলো অনুযায়ী পরীক্ষা হবে । পরীক্ষা হবে MCQ ও লিখিত ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই খসড়া নিয়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তি আছে কি না, তা ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই জানাতে বলা হয়েছে।
“প্রাথমিক এই খসড়া সামনে নিয়ে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হবে। তারা বসে দেখবে- কোথায় আর কী কী লাগবে, কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, খুঁটিনাটি সব বিষয় দেখে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।”
কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আপত্তি জানালে কী হবে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, “এখন পর্যন্ত কারো আপত্তি নেই। তবে প্রত্যেকেরই নিজস্ব ম্যাকানিজম আছে। সেই ম্যাকানিজমে যদি কোনো বাধা, অসুবিধা বা আপত্তি থাকে এবং রাজি না হয়, সেটা এই মাসের মধ্যেই জানাতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা বলছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের (একাডেমিক কাউন্সিল) সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
কারও আপত্তি থাকলেও চলতি বছরই এ পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দিয়ে অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বলেন, “আমাদের যেটা দায়িত্ব, সেটা আমরা পালন করব। আমরা কারো জন্য বসে থাকতে পারব না। আমরা এবারই কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেব, যে কয়জন থাকবে সে কয়জনকে নিয়েই নেব। যতদূর পারি, জনগণের দুর্ভোগ থেকে রক্ষায় মডার্ন এই পদ্ধতিতে এগোব।”
ইউজিসির একাধিক সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়েই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাবে ইউজিসি। শেষ পর্যন্ত যদি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অপারগ হয়, তাহলে তাদের বাদ রেখে বাকিদের নিয়েই এ বছর নতুন পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথমে এই পরীক্ষাকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বলা হলেও এখন এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা’ ইংরেজিতে এর সংক্ষেপ করে বলা হচ্ছে সিএটি বা ক্যাট (সেন্ট্রাল অ্যাডমিশন টেস্ট)।
প্রাথমিকভাবে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের ভিত্তিতে এই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হলেও উপাচার্যদের কেউ কেউ ৫০ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং ৫০ নম্বরের বহুনির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন নেওয়া হবে। আর ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে নভেম্বরের মধ্যে। এ বিষয়ে ইউজিসির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ভর্তির কাজটির জন্য শিগগির বিভিন্ন কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। কমিটিগুলোই এই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে।
তাই, এটা এখন নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, এ বছরই সমন্বিত অর্থাৎ CAT হতে যাচ্ছে। যে পরীক্ষার ফলাফলে একাডেমিক রেসাল্ট অর্থাৎ জিপিএ অনেক ভুমিকা রাখবে।
আর যেহেতু একটি মাত্র পরীক্ষাতেই তোমার সম্পূর্ণ বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদালয়ের পরীক্ষা হয়ে যাচ্ছে, তাই আশা করি বুঝতেই পারছো যে, এই একটি পরীক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
এই পরীক্ষাটিতে তারাই ভালো করবে যারা কিনা কৌশলগত ভাবে পড়াশোনা করবে এবং সেই সাথে CAT এর মুল সিলেবাস এবং প্রশ্ন কাঠামো অনুসারে পড়াশোনা করবে।
কোচিং জগতে প্রায় সকল কোচিং তাদের বিগত সালের শিট এবং কোর্স আউটলাইন দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানোতে আগ্রহী। তারা পরিবর্তনে আগ্রহী নয়। তাই অনেকেরই এই CAT নিয়ে দ্বিমত করার এটিই কারণ।
"মেরিট প্লাস" সেক্ষেত্রে বাস্তববাদী এবং শিক্ষার্থী বান্ধব সিদ্ধান্তে আগ্রহী এবং সেই জন্যে CAT পরীক্ষার আসল সিলেবাস এবং প্রশ্ন প্যাটার্ন ভিত্তিক ক্লাস নেওয়া, মডেল টেস্ট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য শুরু থেকেই আলাদা ভাবে প্রস্তুতি দিয়ে থাকবে।
মেরিট প্লাস" নিয়মিত ভাবেই নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির ধারণা ক্লাস এবং HSC 2020 এর শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তাদের সাব্জেক্ট ভিত্তিক আলাদা আলাদা একাডেমিক ক্লাস।
এর পরবর্তী ক্লাস / সেমিনার গুলোতে চলে আসো- চান্স তৈরি করে নাও, তোমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের!
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-
০১৯৭৩৭৮৮৭৫০-৬৫