02/01/2026
বিবাহিত জেনাকারীর শাস্তি কেন যৌক্তিক।
"Revive Iman through Islamic audio books!"
Youtube link: https://www.youtube.com/@reviveyouriman1
02/01/2026
বিবাহিত জেনাকারীর শাস্তি কেন যৌক্তিক।
লিখেছেন সাইদুল মুস্তোফা
গতকাল আরিফুল ইসলাম ভাইয়ের পোস্ট- “কোরআনে কোন নারীর হাসির কথা আছে” দেখে নিচের বিষয়টা মনে পড়লো। খুব চমৎকার একটা কুরআনিক ফাইন্ডিং। কিভাবে আল্লাহ নবীদের নামের অর্থ একই আয়াতে ভিন্ন আলাপের মোড়কে এনেছেন।
কুরআনের নির্দিষ্ট শব্দ ও বনি ইসরাইলের নবীদের নামগুলোর মধ্যে অদ্ভুত ভাষাগত সামঞ্জস্য দেখা যায়।
এই সামঞ্জস্য এমন নিখুঁতভাবে মিলে যা শুধু এমন কেউ করতে পারেন, যিনি হিব্রু ভাষায় পূর্ণ পারদর্শী।
বরং এমনভাবে দক্ষ যে তিনি হিব্রু নামগুলোর অর্থকে কুরআনের আরবি বাক্যে সূক্ষ্মভাবে প্রতিফলিত করতে পারেন।
🔹 যেমন আল্লাহ বলেন:
“وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ”
“তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি //হাসলেন//, আমরা তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিলাম।”
হিব্রু ভাষায় “ইসহাক” বলা হয় יִצְחָק (Yitzḥaq) — যার অর্থই হলো “সে হাসবে” বা “হাস্যরত”।
🔹 আরেক স্থানে:
“وَمِن وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ”
“ইসহাকের পর ইয়াকুব আসবেন।”
“ইয়াকুব” হিব্রু ভাষায় এমন শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ “পূর্বতন কারো পরে আসে”,
এটি “عَقِب” বা “পদচিহ্ন” মূল শব্দ থেকে উদ্ভূত।
🔹 আবার সূরা মরিয়মের শুরুতে বলা হয়েছে:
“ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا”
“তোমার প্রভুর দয়ার উল্লেখ, যা তিনি তাঁর দাস যাকারিয়াকে দান করেছিলেন।”
“যাকারিয়া” (זְכַרְיָה, Zekharyah) হিব্রুতে মানে — “আল্লাহর স্মরণ” বা “আল্লাহ স্মরণ করেছেন”।
🔹 আরেক স্থানে আল্লাহ বলেন:
> “وَحَنَانًا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَاةً وَكَانَ تَقِيًّا”
“আমাদের পক্ষ থেকে তাকে (ইয়াহইয়াকে) করুণা ও পবিত্রতা দান করা হয়েছিল, এবং তিনি ছিলেন পরহেজগার।”
কুরআনে “حنان” (করুণা) শব্দটি একমাত্র এই একবারই ব্যবহৃত হয়েছে।
হিব্রুতে “ইয়াহইয়া” বলা হয় “יְהוֹחָנָן (Yəḥôḥānān)” — যার অর্থ “আল্লাহর করুণা” বা “আল্লাহ তাঁর দয়া প্রকাশ করেছেন”।
অর্থাৎ প্রতিটি আয়াতের মধ্যেই সেই নবীর নামের অর্থের সঙ্গে উপযুক্ত একটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে —
যেন আয়াতের বিষয়বস্তুই হয়ে উঠেছে নামের অনুবাদ।
এমন ভাষাগত সামঞ্জস্যতা, যেখানে দুইটি পৃথক ভাষা (হিব্রু ও আরবি) এত সূক্ষ্মভাবে একে অপরকে প্রতিফলিত করে, তা কেবল তিনিই করতে পারে যিনি উভয় ভাষা সহ সকল ভাষার স্রষ্টা!
শায়খ আলী তানতাভি ছিলেন মিশরের একজন বিচারপতি। তিনি তাঁর জীবনে ২০ হাজারের অধিক কেবল বিবাহ সংক্রান্ত কেইস সমাধান করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে সফল দাম্পত্য জীবনের কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। তার মধ্যে একটা অন্যতম পরামর্শ ছিল— নিজেদের সমস্যা কখনোই তৃতীয় কাউকে শেয়ার না করা, এমনকি বাবা-মা, ভাই-বোনকেও না।
তাঁর মতে, স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের সমস্যা যখনই তৃতীয় কারও কাছে যাবে, সেটার শেষ পরিণতি বিচ্ছেদের রূপ নেবে। তাই পরামর্শ হলো: নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করা।
প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ রুকইয়া উদ্দেশ্যে আমার সঙ্গে তাদের দাম্পত্য জীবনের নানা কলহ শেয়ার করে। এখন পর্যন্ত আমি যতগুলো পরিবার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা দেখেছি বা শুনেছি, তার প্রায় ৯০% ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ কারণ লক্ষ্য করেছি — স্বামী-স্ত্রীর প্রাইভেসি না থাকা। দাম্পত্য জীবনে বাবা-মা/শশুর-শাশুড়ির হস্তক্ষেপ। নিজেদের সমস্যা নিজেদের মধ্যে না রেখে চৌদ্দ গুষ্টিকে জড়ানো। চাইলে আপনারাও মিলিয়ে দেখতে পারেন - আশেপাশের যেসব পরিবার ভেঙে গেছে, তাদের মূল কারণ হিসেবে দেখবেন এই ব্যাপারটা কতটা বাস্তব।
দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। প্রত্যেকের সাংসারিক জীবনেই আপনি মনোমালিন্য পাবেন। আমরা মানুষ, ফেরেশতা নই। প্রত্যেকের মধ্যেই ভালো-মন্দ রয়েছে।
একেবারে আপনার মনের মতো, আপনি যা চাইবেন, যেভাবে চাইবেন, হুবহু সেভাবে পাবেন এবং ন্যূনতম বাদানুবাদ হবে না— এমনটা কেবল জান্নাতেই পাবেন, এই দুনিয়াতে নয়।
আপনি যদি 'পারফেক্ট কাপল' হতে চান কিংবা পারফেক্ট সঙ্গী আশা করেন, তাহলে সেটা হবে অবাস্তব । এতে বরং আপনার হতাশা আরও বাড়বে, কারণ চাওয়া মাফিক না পাওয়ার হতাশা থাকবে।
আর বাস্তবসম্মত সমাধান এইটাই যে, এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং নিজেদের সমস্যাগুলো নিজেরা সমাধান করা।
আর এ কারণেই কুরআনে স্বামী-স্ত্রীকে পোশাকের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
"তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।" (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৭)
পোশাক যেভাবে মানুষের গোপনীয়তাকে ঢেকে রাখে, স্বামী-স্ত্রীও সেভাবে একে অপরের ভুলত্রুটিগুলো ঢেকে রাখবে।
সবথেকে বড় আইরনি কি জানেন? বিজ্ঞজনরা যেখানে বাবা-মা’র সাথেও স্বামী-স্ত্রীর বিষয়গুলো শেয়ার করতে নিষেধ করেছেন, সেখানে বর্তমানে মানুষ বাবা-মা তো বটেই, গোটা দুনিয়াকে নিজেদের সমস্যাগুলো প্রচার করে বেড়াচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায়। কেউ সরাসরি, কেউবা আকারে-ইঙ্গিতে।
বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তাদের পোস্ট, লেখালেখি বা স্ট্যাটাস দেখলেই বোঝা যায় তাদের দাম্পত্য জীবনে কী চলছে। এমনকি আল্লাহর কাছে দোয়া করে সেটাও ফেসবুকে পোস্ট করে। মনে হয় যেন তাদের দোয়া ফেসবুক হয়ে আল্লাহর কাছে পৌছাবে। নাউজুবিল্লাহ।
তাই সফল দাম্পত্য জীবন চাইলে সবার আগে নিজেদের প্রাইভেসি স্ট্রং করুন। স্বামী-স্ত্রী সকালে ঝগড়া করবেন,বিকালে মিটে যাবে। কিন্তু স্থায়ী ক্ষত হিসেবে রয়ে যাবে ঝগড়ার মুহুর্তে আবেগের বসে করে বসা ভুল, যার মাধ্যমে নিজেদের প্রাইভেসিকে নষ্ট করেছেন। আপনার দাম্পত্য জীবনের ভালো স্মৃতিগুলো পাথরে খোদাই করে লিখে রাখুন,আর খারাপ স্মৃতিগুলো লিখুন সমুদ্রের বালিতে। মনে রাখবেন-
"It’s not marriage that makes you happy,it's you that makes your marriage happy "
কাগজের মতো নরম কুয়াশা নামছিল সিয়াটলের আকাশে। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল। মাত্র ২৭ বছর বয়স, নীরবানার গায়ক কার্ট কোবেইন নিজের বাড়ির গ্রীনহাউসে নিথর পড়ে আছেন। দীর্ঘদিনের হেরোইন–নির্ভরতা আর তীব্র বিষণ্নতা তাকে একেবারে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলেছিল। পুলিশ ও মেডিক্যাল পরীক্ষা বলেছিল, মৃত্যুর আগে শরীরে হেরোইনের মাত্রা ছিল উচ্চ, পাশে ছিল আত্মহত্যার নোট।
শুধু কোবেইন নন। ২০১৭ সালে লিঙ্কিন পার্কের চেস্টার বেনিংটনও বহু বছরের ডিপ্রেশন ও আসক্তির সঙ্গে লড়াই করে আত্মহত্যা করেন; মৃত্যুর আগের মাসগুলো ছিল ঘণ্টায়–ঘণ্টায় তীব্র টানাপোড়েনের সময়। এই ঘটনাগুলো দেখায়—অনিয়মিত ট্যুর, ঘুমের ভাঙা ছন্দ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সর্বক্ষণিক পারফর্ম করার চাপ—সব মিলে সংগীতশিল্পীর জীবন ভেতর থেকে ক্ষয় করে।
এসব ঘটনা শুধু ইউরোপ আমেরিকায় ঘটে না, বাংলাদেশেও ঘটে অহরহ। কখনো পত্রিকায় আসে, কখনো আসে না।
খুলনার রবিন্দ্রসংগীত শিল্পী ফারহানা ইয়াসমিন শাওন-এর মৃত্যু সংবাদে বলা হয়, তিনি তার বাসায় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। পুলিশ-মেডিক্যাল রিপোর্ট অপ্রত্যক্ষভাবে বলেছে, তাঁর ঘর থেকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
বিখ্যাত রবিন্দ্রনাথ শিল্পী সাদি মোহাম্মদের কথা মনে আছে? আত্মহত্যার পর যার মরদেহ পড়েছিলো একা ঘরে!
তিনটি জীবনের এই করুণ পরিণতি আসলে হাজার হাজার শিল্পীর জীবনের ছায়াচিত্র, যেখানে খ্যাতি ও হাততালির আড়ালে লুকিয়ে থাকে নির্ঘুম রাতের গল্প, মাদকাসক্তির নীল ছোবল আর গভীর একাকিত্বের বেদনা।
যুক্তরাজ্যের হেল্প মিউজিশিয়ানস–এর “Can Music Make You Sick?” সমীক্ষায় দেখা গেছে, সংগীতজগতের অংশগ্রহণকারীদের ৭১ শতাংশ জীবনে কোনো না কোনো সময় উদ্বেগ/প্যানিক অ্যাটাক অনুভব করেছেন, ৬৫ শতাংশ ডিপ্রেশনে ভুগেছেন; যা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
শিল্পীদের ওপর ২০১৯ সালের Record Union–এর ১,৪৮৯ জনকে নিয়ে করা সমীক্ষায় ৭৩ শতাংশ বলেছেন—তাদের সংগীত-ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িত মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ আছে; ১৮–২৫ বয়সে এটি ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। একই ধারার তথ্য যুক্তরাজ্যের মিউজিশিয়ানস ইউনিয়নও তুলে ধরে। এই সব গবেষণা একটি কথাই বলে—বিষণ্নতা, উদ্বেগ, শিল্পীদের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, আর চাপ কমাতে তারা প্রায়ই অ্যালকোহল বা ড্রাগের দিকে চলে যান।
আসক্তির সুনির্দিষ্ট হার পেশাভেদে পরিমাপ করা কঠিন হলেও, শিল্পিদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের হারও গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আত্মহত্যার ঝুঁকিও উদ্বেগজনক। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের মৃত্যুহার নিয়ে বড় আকারের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে—সহিংস মৃত্যু (আত্মহত্যা, হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা, ড্রাগ–ওভারডোজ) সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বেশি।
২০২৫ সালের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ ও সংবাদসমূহে এমনও দেখানো হয়েছে যে “মিউজিশিয়ান/সিঙ্গার” পেশায় আত্মহত্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি; যুক্তরাজ্যের ONS–ডেটা উদ্ধৃত করে বলা হয়—এই ক্যাটাগরিতে পুরুষদের আত্মহত্যা–ঝুঁকি সাধারণ জনসংখ্যার চেয়ে প্রায় ২০% বেশি, নারীদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ঝুঁকি ৬৯% পর্যন্ত।
এই পরিসংখ্যানগুলো বিতর্কের ঊর্ধ্বে চূড়ান্ত সত্য কিছু নয়, তবে এগুলো ধারাবাহিকভাবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে, সঙ্গীত, নাচ-গান ইত্যাদি পেশা আত্মহত্যাজনিত ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্যভাবে স্পর্শকাতর।
আমাদের রামবামেরা সুস্থ সংস্কৃতির নামে কোমলমতি শিশুদের জন্য যে গান-বাদ্য-বাজনা বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন এগুলো হলো তার পরিণত ফলাফল।
এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের।
....
এবার আমরা অন্য একটা দিকে একটু খেয়াল করি। মানুষ তার মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হয়ে যাওয়ার পর বাড়তি কিছু পয়সাকড়ি হাতে থাকলে মাঝেমধ্যে একটু ফুটানি একটু অপচয় করে।
প্রাইমারি স্কুলে মৌলিক যেসব বিষয় শিক্ষা দেওয়ার আবশ্যক ছিলো আমরা কি সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে ফেলেছি? যে এখন একটু গানবাজনা করা আবশ্যক হয়েনপড়েছে!!!
আসুন সংক্ষেপে প্রাইমারি স্কুলের চিত্রটা একটু দেখে আসি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌলিক বিষয়াবলি শিক্ষার অবস্থা সম্পর্কে জরিপে উঠে এসেছে যে, তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৬১ শতাংশ ও পঞ্চম শ্রেণির ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর গণিতের দক্ষতায় দুর্বল। তাদের গণিতের দক্ষতা তৃতীয় শ্রেণির উপযোগী না।
এক সরকারি জরিপে আরও উঠে এসেছে, তৃতীয় শ্রেণির ৫১ শতাংশ ও পঞ্চম শ্রেণির ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলায়ও দুর্বল। তাদের মানও তৃতীয় শ্রেণির উপযোগী না।
(২০ আগস্ট ২০২৩, দৈনিক ডেইলি স্টার বাংলা)
১৬ জুলাই ২০২৫ এ প্রথম আলোর এক রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে যে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। ৬৫ হাজারের বেশি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৪ হাজার ১০৬টি পদই শূন্য পড়ে আছে। শুধু প্রধান শিক্ষকই নয়, প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদও ফাঁকা।
এমতাবস্থায় যারা গানের শিক্ষক নিয়ে তোড়জোড় করে তাদেরকে আপনি যদি জাতীয় শত্রু আখ্যায়িত না করেন তাহলে আপনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন?
@আহমাদ রফিক
দু চারটা জীবন ঘনিষ্ঠ নসীহত দিই
১। কাউকে উপকার করার নামে নিজের উপর জুলুম করবেন না। অন্যের হক আদায় করবেন, দায়িত্ব পালন করবেন—তবে সর্বোচ্চ তাকওয়া অবলম্বন ও ইনসাফ বজায় রেখে, নিজের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই তা করবেন।
২। সদাচরণ কেয়ামতের দিন মিজানের পাল্লায় ভারী হওয়া অন্যতম আমল। তাই সর্বদা সদাচরণ বজায় রাখবেন। তবে কেউ যদি বারবার শুধু নিজের স্বার্থে আপনাকে ব্যবহার করে, অন্তত তাকে তার মত করেই আচরণ করে বোঝাবেন যে আপনিও মানুষ—আপনিও দুঃখ-কষ্ট অনুভব করেন, আপনিও চাইলে দুকথা শুনিয়ে বলতে পারেন। কিন্তু আপনার তাকওয়া আপনাকে তাদের মতো আচরণ করতে বাধা দেয়৷
বিশেষ করে বাংগালির সাথে ডিল করার সময় মেজাজ ও ব্যবহার ঠান্ডা রাখা কঠিন৷
৩। এবার দৃঢ়ভাবে গেঁথে নিন—আপনি যদি আল্লাহ্ তায়ালার উপর ৯৯.৯৯% নয়, বরং পূর্ণ ১০০% ভরসা রাখেন, তাহলে ওয়াল্লাহি! তিনিও এই যুগে আপনাকে অলৌকিক সাহায্য পাঠাবেন—যেমন পাঠিয়েছিলেন তাঁর নবী-রাসূলদেরকে, খাস বান্দাদেরকে।
কিন্তু আবারও বলছি It requires 100%, not 99.99%
আপনি সংশয় রেখে, পাশাপাশি আরো অনেকজনকে ভরসা করবেন রেজাল্ট পাবেন না৷ তিনি প্রচন্ড গাইরতবান৷ তিনি চান আপনার ভরসা, দুয়া আর চেষ্টা৷ ব্যাস৷
যেভাবে তিনি সাহায্য করেছিলেন ইবরাহীম (আঃ)-কে, মূসা (আঃ)-কে, ঈসা (আঃ)-কে, সুলাইমান (আঃ)-কে এবং সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-কে। সাহায্য করেছিলেন তাঁর অন্যান্য নবী রাসুল গণকে, এবং অন্যান্য মুত্তাকী বান্দাদের।
তিনি কিছু ইচ্ছে করলে সেটার কোন উপলক্ষ্য লাগে না, যুগ লাগে না৷ লৌকিক, অলৌকিক সবই তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতার আওতাধীন৷ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আজীম৷
“এই যুগে রূহানী কিছু ঘটে না”—এটা ভুল ধারণা। সময় যুগ এসব আল্লাহর হুকুম মাত্র। আল্লাহ্ এক ছিলেন, এক আছেন এবং এক থাকবেন। যখন কিছুই ছিল না, তিনিই ছিলেন, যখন কিছুই থাকবেনা তিনিই থাকবেন।
আমি কোনো ব্যক্তিগত উদাহরণ দিতে পারবোনা, বা আসলে দিতে চাচ্ছি না।
তবে এটুকু বলি—আপনি শিখুন আল্লাহ্কে এমনভাবে ভরসা করতে, যেন মনে হয় তিনি যেন শুধু আপনাকেই দেখছেন, আপনার কথাই ভাবছেন, আর আপনার ও তাঁর মাঝে কোনো পর্দা নেই।
আপনি যদি উহুদ পাহাড়ও চান, একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখবেন, উহুদ পাহাড় আপনার ঘরে। (রূপক অর্থে)
নবুয়তের আগের কথা। একদিন আবু আল-আস নবী ﷺ -এর কাছে এসে বললেন:
“আমি আপনার বড় কন্যা জয়নবকে বিয়ে করতে চাই।”
(এটা ছিল আদব/শিষ্টাচার)
নবী ﷺ বললেন:
“আমি তার অনুমতি না নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না।”
(এটা শরীয়ত)
তিনি ঘরে গিয়ে জয়নবকে বললেন:
“তোমার খালাত ভাই এসেছে, তোমার নাম নিয়েছে। তুমি কি তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে?”
জয়নব লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন।
(এটা নারীর সবচে বড় গুণ- হায়া)
জয়নবের বিয়ে হলো আবু আল-আসের সাথে। দাম্পত্য জীবন সুখে ভরে উঠল, তাদের দুইটি সন্তান হলো—আলী ও উমামা।
(সুখী জীবনের উদাহরণ)
কিন্তু হঠাৎ এক কঠিন সময় এলো। নবী ﷺ নবুয়ত লাভ করলেন। আবু আল-আস তখন সফরে ছিলেন। ফিরে এসে দেখলেন তার স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
(আকীদাহ'র সম্পদ)
জয়নব স্বামীকে বললেন: “আমার কাছে একটি মহা সংবাদ আছে।”
স্বামী নিরবে উঠে চলে গেল।
(স্ত্রীর প্রতি সম্মান)
জয়নব বিস্মিত হয়ে পিছু নিলেন ও বললেন:
“আমার বাবা নবী হয়েছেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।”
স্বামী জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি আগে আমাকে জানালে না কেন?”
জয়নব বললেন:
“আমি তো আমার বাবাকে অস্বীকার করতে পারি না। তিনি তো সত্যবাদী, আমিন। আমি একা নই—আমার মা, ভাই-বোন, তোমার চাচাত ভাই উসমান, আলী, তোমার বন্ধু আবু বকর—সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন।”
তিনি উত্তর দিলেন:
“আমি আমার কওমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না, তারা যেন না বলে আমি কেবল স্ত্রীর জন্য বাপের ধর্ম ত্যাগ করেছি। তবে তোমার বাবাকে আমি মিথ্যা বলি না। তুমি কি আমাকে ক্ষমা করবে?”
(গঠনমূলক সংলাপ)
জয়নব বললেন:
“যদি আমি ক্ষমা না করি তবে আর কে করবে? আমি তোমার স্ত্রী, সত্যের পথে তোমাকে সাহায্য করব।”
(বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা)
জয়নব ২০ বছর ধরে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন।
(আল্লাহর পথে ধৈর্য ধরলেন)
এরপর হিজরতের সময় এলো। জয়নব নবী ﷺ -এর কাছে গিয়ে বললেন:
“আমি কি আমার স্বামীর সাথে থাকতে পারি?”
তিনি অনুমতি দিলেন।
(ভালোবাসা ও দয়া)
এরপর ঘটল বদরের যুদ্ধ। স্বামী শত্রুপক্ষের হয়ে যুদ্ধ করছে, আর বাবা মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জয়নব কাঁদতে কাঁদতে দোয়া করলেন:
“হে আল্লাহ! আমার সন্তানদের ইয়াতিম করো না, কিংবা আমাকেও বাবাহারা কোরো না।”
(দুশ্চিন্তা ও প্রার্থনা)
যুদ্ধ শেষে জয়নব জানতে চাইলেন:
“আমার বাবার কি সংবাদ?”
বলা হলো: “মুসলিমরা জিতেছে।”
তিনি আল্লাহর শুকরিয়া করলেন।
তারপর জানতে চাইলেন:
“আমার স্বামীর কী হলো?”
বলা হলো: “তাকে বন্দি করা হয়েছে।”
তিনি বললেন: “তাহলে আমি স্বামীর মুক্তির ফিদিয়া পাঠাব।”
(বুদ্ধিমত্তা ও আত্মত্যাগ)
তার কাছে কোনো সম্পদ ছিল না। তাই তিনি তার মায়ের (খাদিজা রা.) দেওয়া হার খুলে পাঠালেন।
নবী ﷺ যখন সেই হার দেখলেন, কেঁদে ফেললেন:
“এ তো খাদিজার হার।”
(খাদিজার প্রতি ভালোবাসা)
তিনি সাহাবাদের বললেন:
“আমরা তো এই মানুষকে (আবু আল-আস) জামাতা হিসেবে খারাপ পাইনি। তোমরা কি তার মুক্তি দেবে? আর হারটাও ফিরিয়ে দেবে?”
সাহাবারা রাজি হলেন।
(ন্যায়বিচার ও সৈন্যদের শিষ্টাচার)
নবী ﷺ আবু আল-আসকে আলাদা করে বললেন:
“আল্লাহ আমাকে মুসলিম নারী ও কাফির পুরুষকে আলাদা করার আদেশ দিয়েছেন। তুমি কি আমার কন্যাকে ফিরিয়ে দেবে?”
আবু আল-আস রাজি হলেন।
(পুরুষোচিত আচরণ)
তিনি জয়নবকে বললেন:
“আমি যাচ্ছি না, তুমি যাবে। কারণ আল্লাহ আমাদের আলাদা করেছেন।”
(আল্লাহর হুকুম মানা)
জয়নব ছয় বছর বিধবা থেকে গেছেন, অন্য প্রস্তাবগুলোও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
(বিশ্বস্ততা)
ছয় বছর পর আবু আল-আসের কাফেলা মুসলমানদের হাতে ধরা পড়ে। তিনি রাতে জয়নবের বাড়িতে এসে আশ্রয় চাইলেন। জয়নব সাহসী হয়ে মসজিদে ঘোষণা করলেন:
“আমি আবু আল-আসকে আশ্রয় দিয়েছি।”
নবী ﷺ মেনে নিলেন।
(সৎসাহস ও করুণা)
আবু আল-আস মক্কায় ফিরে সবার সম্পদ ফেরত দিলেন। তারপর বললেন:
“হে মানুষ! আর কিছু বাকি আছে কি?”
তারা বলল: “না, তুমি সুন্দরভাবে ফিরিয়ে দিয়েছ।”
তিনি ঘোষণা করলেন:
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, এবং মুহাম্মদ তাঁর রাসূল।”
(সত্য গ্রহণ)
তিনি মদিনায় ফিরে এসে নবী ﷺ -এর কাছে বললেন:
“আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমি কি জয়নবকে ফিরে পেতে পারি?”
নবী ﷺ জয়নবকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি এবারো লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন।
(চিরস্থায়ী সম্মতি)
কিছুদিন পর জয়নব অসুস্থ হয়ে মারা যান। আবু আল-আস তাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন। নবী ﷺ তাকে সান্ত্বনা দিলেন। তিনি বললেন:
“হে আল্লাহর রাসূল, জয়নব ছাড়া আমার এই দুনিয়া আর ভালো লাগে না।”
(আজীবনের সাথী)
এক বছর পর আবু আল-আসও মারা গেলেন।
(আত্মার মিলন)
সীরাতের এই ত্রিমাত্রিক ঘটনা আপনাকে কি শিখায়? কমেন্টে জানান।
পাকিস্তান চাইলে কাশ্মীর সংকট ছয়মাসে সমাধান করে দিতে পারে, কিন্তু করবে না। কারণ মুসলামদের স্বার্থ তাদের কাছে মুখ্য বিষয় না, মুখ্য বিষয় হলো কাশ্মীর সংকট জিইয়ে রেখে ভারতের বিরুদ্ধে জুজু জারি রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।
কাশ্মীর ফ্রন্টে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রিত অনেক জি:হাদী গ্রুপ আছে। তারা নিয়তের দিক থেকে আল্লাহর জন্যই জীবন দেয়, এবং আশা করি তারা শহিদ হিসেবে কবুলও হবেন, কিন্তু তাদেরকে তখন এবং ততটুকু জি/হাদই করতে দেওয়া হয় যখন এবং যতটুকু নাপাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা চায়। একারণে এধরনের এজেন্সি নিয়ন্ত্রিত জি/হাদের দ্বারা কখনো উম্মাতের মুক্তি মিলবে না, বরং জিল্লতী আরো দীর্ঘায়িত হবে, অনেক মুখলেস মানুষের জানমাল ব্যয় হবে সাম্রাজ্যবাদীদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের কাজে।
...
আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাথে জুলুমের ইতিহাস অনেক লম্বা। তাদেরকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার ইতিহাসও দীর্ঘ, কিন্তু কোনো সফলতা আসেনি, নানা কারণে। সেই কারণগুলো কী তা পর্যালোচনা সাপেক্ষ বিষয়। সেখানে তাদের নিজেদের ভুল, দুর্বলতা, অক্ষমতা ও দোষত্রুটি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে আমাদের ও সামগ্রিকভাবে গোটা উম্মাহর সংকট।
এখন এই দীর্ঘ জুলুমকে কাজে লাগিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা এখানে এসেছে তাদের নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে। তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আসেনি। তাদের এই পরিকল্পনায় মজলুম আরাকানী মুসলমানরা তাদের কাছে টুলমাত্র। এবং সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির স্থানীয় এজেন্ট হলো এই উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা।
সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মজলুমদের প্রতি এই অঞ্চলের গণমানুষের আবেগকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে। তাই উত্তেজনা সৃষ্টিকারী যেকোনো ইনফরমেশনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আরাকানে সাম্রাজ্যবাদীরা সমর্থন যোগায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর জুলুমকারী আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন মুসলিমবিদ্বেষী গেরিলা বাহিনীর প্রতি, বিপরীতে বাংলাদেশে গ্রেফতার হয় আরসার জুনুনী। অথচ নানা টুল কাজে লাগিয়ে পাবলিক পারসেপশান তৈরি করা হয় যে সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের বাঁচাতে এসেছে।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি জুলুমের অবসান ঘটাতে আমাদের পদক্ষেপ তো জরুরি, তবে যেহেতু অনেক বড় চক্রান্তকারীরা, অনেক বড় প্লেয়াররা এখানে জড়িত, তাই খুবই সতর্কতা জরুরি।
এই অঞ্চলের মুসলমানদের উপর চলে আসা জুলুম ঠেকাতে গিয়ে নিজেরা যদি আবার সাম্রাজ্যবাদীদের পাতানো ফাঁদে পা দিই, তাহলে মজলুমের উদ্ধার তো হবেই না, বরং নিজেদের নামও নতুন তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবে এবং জুলুমের কালো অধ্যায় আরও দীর্ঘায়িত হবে।
আবু তাসলিম
পাপের নগদ কিছু শাস্তি হলো:
° ইবাদতের মধ্যে বার বার মনোযোগ হারিয়ে ফেলা।
° ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছু ইবাদাত ছুটে যাওয়া।
° সময়ের কাজ সময়ে করতে না পারা।
° মনে অস্তিরতা অনুভব করা।
° মানসিক শান্তি বিনষ্ট হওয়া ইত্যাদি।
রাসূলুল্লাহﷺ দুআ করতেন,
اللَّهُمَّ قَنِّعْنِي بِمَارَزَقْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِي بِخَيْرٍ
"হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যে রিযক দিয়েছেন তাতে পরিতৃপ্তি দান করুন, আর এতে বরুকত দান করুন, আর আমার সকল অনুপস্থিত বিষয়কে আপনি আমার জন্য কল্যাণকর
করুন"।
[ইমাম হাকিম (রাহ.), আল মুস্তাদরাক, হা: ৩৩৬০, ইমাম হাকিম ও যাহাবীর (রাহ.)
মতে সহিহ]
আহ্বান: উম্মাহর পথে
রাতের আকাশে একদল তারা জ্বলে ওঠে, যেন অদৃশ্য কোনো হাত আমাদের দিকে ডাক পাঠাচ্ছে। ইতিহাসের অন্তঃস্থলে সেই ডাক যুগে যুগে প্রতিধ্বনিত হয়েছে “ফিরে এসো, আল্লাহর দিকে ফিরে এসো।” এই আহ্বান কেবল শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রক্তে, মজ্জায়, প্রতিটি নিঃশ্বাসে অনুভূত হয়।
আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ আছেন, চিরকাল আছেন, আর থাকবেন। তাঁর নামগুলো, তাঁর গুণগুলো যেমনটি কুরআনে ও রাসূল ﷺ -এর হাদীসে এসেছে তেমনই পবিত্র, তেমনই অক্ষুণ্ণ। কোনো বিকৃতি নেই, কোনো অলংকারময় মোড়ক নেই, কেবল শুদ্ধ সত্য। এই সত্যের আলোয় দাঁড়িয়ে আমরা নিজেদের মাপি, নিজেদের সংশোধন করি।
আমাদের হৃদয়ে ভালোবাসা আছে রাসূল ﷺ-এর সাহাবাদের প্রতি যারা তাদের জীবন দিয়ে সত্যকে বহন করেছেন। তারা কেবল মানুষ ছিলেন না; তারা ছিলেন আলোর প্রদীপ, যা আজও অন্ধকার ভেদ করে জ্বলে। তাদের প্রতি আঘাত মানে সত্যের প্রতি আঘাত, ধর্মের প্রতি আঘাত। আমরা তাদের ভালোবাসি, আমরা নবীর পরিবারকে ভালোবাসি কিন্তু সেই ভালোবাসা সীমাহীন উন্মাদনা নয়, বরং শরীয়তের অনুমোদিত পরিসরে শুদ্ধতম মমতা।
তবু আমরা জানি, জ্ঞানের নামে বিভাজনও আছে। ‘ইলমুল কালাম’ দার্শনিক কথার জাল, যা অনেককে সত্য থেকে দূরে সরিয়েছে। আমরা তার প্রতি বিমুখ। কারণ আমরা জানি, সত্যের আলো জটিল তর্কের দেয়ালে লুকায় না, বরং কুরআন আর সহীহ হাদীসেই উজ্জ্বল হয়ে থাকে।
আমাদের পথ সরল, তবে কঠিন। আমরা বইয়ের গল্পে ডুবে থাকি না, যদি না তা কুরআন বা রাসূল ﷺ -এর নির্ভরযোগ্য বাণী থেকে প্রমাণিত হয়। দুর্বল বর্ণনার রঙিন কাহিনি আমাদের আকর্ষণ করে না; সত্যই আমাদের পিপাসা মেটায়। যেমন ইবনে মুবারক বলেছিলেন: “সহীহ হাদীসই যথেষ্ট।”
আমরা কারো ওপর কাফেরের রায় চাপাই না, যতক্ষণ না সে স্পষ্ট শিরক করে, সালাত ত্যাগ করে, বা প্রকাশ্যে ধর্মত্যাগ করে। আমরা বিদ্রোহ করি না মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে, যতক্ষণ তারা ঈমান ধরে রেখেছে। কারণ বিদ্রোহ রক্ত ঝরায়, ঘর ভাঙে, সমাজকে ধ্বংস করে। বরং আমরা ধৈর্যের পথ বেছে নিই, যেন অশান্তির ভেতরেও ঐক্যের বীজ বপন করা যায়।
তবুও, আমাদের আহ্বান কেবল নীতি নয়, এক জীবনের যাত্রা। এটি এমন এক যাত্রা, যেখানে ভালোবাসা আর ঘৃণা দুটোই আছে ভালোবাসা আল্লাহর জন্য, ঘৃণা মিথ্যার বিরুদ্ধে। এখানে সমর্পণ আছে, কিন্তু সেই সমর্পণ কোনো মানুষের কাছে নয় কেবল আল্লাহর কাছে।
যদি তুমি এই পথে হাঁটো, দেখবে তোমার ভেতর নতুন এক আলো জ্বলে উঠেছে। পৃথিবীর ঝড়-ঝাপটায়ও সেই আলো নিভবে না। এটি সাহাবাদের থেকে এসেছে, সালাফদের থেকে এসেছে, আর একদিন তা তোমার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মে পৌঁছাবে।
এটাই আমাদের আহ্বান—এক উম্মাহ, এক পথ, এক আল্লাহর দাসত্ব।
যে আধুনিক মানুষ তার ঘরবাড়ির স্ত্রীকে শুধু আর্থিক সাহায্য না করার জন্য ‘ঝামেলা’ মনে করে, অথচ সে স্ত্রী রান্না করে, ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, সংসারের সব কাজ সামলায়, সন্তান গড়ে তোলে আর সম্মান ও সমর্থন দিয়ে থাকে—সে তার স্ত্রীর কোনো মর্যাদা পায় না।
একজন সৎ, ঐতিহ্যবাহী পুরুষ কখনোই তার এমন স্ত্রীকে বোঝে ‘ঝামেলা’ হিসেবে না; বরং তাকে ধরে রাখে এক অমূল্য রত্নের মতো, যার কাজকর্ম আর অবদান বলে বোঝানো যাবে না।
উম্মে খালেদ