কবিতা
দেনা পাওনা
জি, এম, কামরুল
একটা সময় প্রতিদিন দেখা হওয়া তা'র সাথে বছরে একবারও দেখা হয় না,
একদশকেও না..
একটা সময়ে অবুঝ আমি সারাক্ষণ বুধ হয়ে থাকতাম তার কল্পনায়,
সপ্তাহের একদিনের ছুটিও মনে হতো অল্পনয়!!
সকালে দেখা হলে কাঙ্খিত হাসি ছিলো যেন আমার প্রতিদিনের পাওনা,
ঐ হাসিতেই বুকের মাঝে শুরু হতো অজানা তোলপাড়!!
তার প্রতিটি বিষয়ে ছিলো আমার সুষম মনোযোগ,
গোসলের পরে তার ভেজাচুলের সাথে দুচোখে দেয়া একটুখানি কাজল বা
হঠাৎ ঘাড় ঘোরানো কিঞ্চিত স্ফিত হাসি!! আবার দেখে না দেখার ভনিতা,
সেসবের সাথে যেকোনকিছুই তুলনাহীন!
তোমার কাছে আমার এমন ছোট ছোট পাওনা হিসেবে করলে তুমি একজীবনে কয়েকবার দেউলিয়া হয়ে যাবে!
পুরা একটা জীবন কাটিয়ে দিলাম তোমার ঘোরে!!
হয়তো আবার হবে দেখা, শতসহস্র রাত পেরিয়ে কোন এক ভোরে।।
BankMan Diary
Banking knowledge
ছোট গল্প: ১
সম্রাট হুমায়ুনের পালিত কন্যা...
বারো তেরো বছরের মেয়ে, নাম তার অম্বা। পরিবারের লোক তার বিয়ে ঠিক করেছে। অম্বাদের বাড়িতে আত্নীয় স্বজন পাড়াপ্রতিবেশির ভিড়। কিন্তু বিয়ের পাত্র কে, সে সম্পর্কে তাকে জানানো হয়নি, বলতে গেলে মেয়েকে জানানোর প্রয়োজন মনে হয়নি তাদের। মেয়ে মানুষ, অভিভাবকের যেখানে ইচ্ছা সেখানে বিয়ে হবে, তাতে আবার মেয়ের সম্মতি কিসের গো বাপু.....
অম্বার সখিরা এসে বিয়ে সম্পর্কে আলাপ করতে লাগলো, এদিকে পরিবারের অন্যরা এসে কনেকে গোসল সহ সাজু গুজু করানোর জন্য তোড়জোড় শুরু করলো।
বরপক্ষের লোকেরা উপস্থিত হয়েছে, পুরোহিতও বিয়ের আসরে সমাসীন হয়ে মন্ত্র জব করছেন। অম্বা তার এক সখীকে পাঠালো বর কেমন দেখে জানাতে। সখী এসে বরপক্ষের বসার জায়গায় এসে উকি ঝুকি মেরে বরকে দেখার চেষ্টা করলো, কিন্তু বরকে সে দেখতে পেলো না।
ফিরে যেয়ে অম্বাকে সে বললো,
সখি, এতো লোক এসেছে কিন্তু তোর বরকে তো দেখলাম না। তবে একজন রসিক বৃদ্ধকে দেখলাম৷ সম্ভবত বরের বাবা মানে তোর শ্বশুর মশাইয়ের মত কোন একজন এসেছেন খুব সাজুগুজু করে, বয়স ৭০ এর কাছাকাছি। মাথায় টোপর পরা ও মুখে রুমাল চেপে বসে আছেন। শ্বশুর যদি এমন হয়, তার ছেলে নি:সন্দেহে আরো বেশি রশিক হবে!! কি, তখন কি আমাদের ভুলে যাবি অম্বা?
অম্বা শুনে মুখচেপে কিছুটা হাসলো, বিয়ের দিন বলে অম্বার মধ্যে একটা চাপা উৎকন্ঠা, অন্যরকম অনুভুতি কাজ করছে। এতদিন বাবার বাসায় ছিলো, ছোট ভাইটার সাথে কত খেলাধুলা, খুনসুটি ঝগড়া করেছে। আজ সেই ছোট ভাই অরুন ও তার সাথে খুবই সুন্দরভাবে কথা বলছে। কোন কিছুতেই তার সাথে জিদ দেখাচ্ছে না। তবে সে অনেক খুশি, জামাই বাবু আসবে, কতকিছু কিনে দিবে সামনের বড় পুজোর বাজার থেকে। তার বন্ধু নরেনের জামাইবাবু গত পুজায় তাকে কতকিছু কিনে দিয়েছিলো পুজোর বাজার থেকে। এবার দেখি নরেনের জামাউবাবু নরেনকে বেশি খেলনা কিনে দেয়, নাকি তার জামাইবাবু বেশি কিনে দেয়। অরুন আরেকটা বিষয়ে মনে মনে খুব খুশি, আজকের পর থেকে অম্বার পড়ার টেবিল সহ ছোট রুমটা তার নিজের হবে। এতদিন অম্বা অরুনকে তার রুমে বেশিক্ষণ থাকতে দিতো না...
চারদিকে সাজসাজ রব। কিন্তু অম্বা জানে না কোথায় যাবে সে, আজকের পর থেকে নিজ পরিবার ছেড়ে কোথায় কোন পরিবারের সাথে দিনানিপাত করবে। এসব ভেবে না চাইলেও চোখের কোনে জল চলে আসছে সহসাই, সেজন্য চোখের কাজল ও সাজুগুজু বারবার মুছে যাচ্ছে তার৷
অবশেষে পরিবারের লোক এসে একটি আসনে বসিয়ে বিয়ের মঞ্চে নেয়া হলো যেখানে আগে থেকেই পুরোহিত বসে মন্ত্র পড়ে সাতপাক ঘোরানোর কাজ সমাধা করার জন্য প্রস্তুত আছেন। দুটো পানপাতা দিয়ে অম্বার মুখ ঢাকা ছিলো, একটু ফাকা করে বরের দিকে তাকাতেই তার হুশ হারানোর মতো অবস্থা হলো, দেখলো সেই ৭০ বছরের চুলপাকা বৃদ্ধটাই তাকে বিয়ে করার জন্য বসে আসে। তার মাথাটা কিছুটা ঘুরলেই পাশে থাকা তার একজন দিদি তাকে শক্ত করে ধরে রাখলো। অবশেষে ৭০ বছরের বুড়ার সাথে ১৩ বছরের অম্বার বিয়ে হয়ে গেলো।
পরেরদিন সকালে বিয়ে বাড়িতে উৎসবের পরিবর্তে শোকের ছায়া নেমে আসলো। বহুদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভোগা বর বিয়ের রাতেই মারা গেছে। বরের বাড়ির লোকজন গোল হয়ে বসে "বলো হরি হরি বোল" জপ করছে। কেউবা কান্নাকাটি করছে, তাছাড়া সত্তুর বছরের বৃদ্ধের দুনিয়ায় আর কেউ নাই কান্নাকাটি করার জন্য কারণ তার প্রথম পক্ষের বউ বাচ্চা সবাই কলেরার মহামারীতে একসাথে সবাই মারা গেছে৷ শেষ বয়সে দেখাশুনা করার জন্য একজন লোকের দরকার ছিলো, তাই সে অম্বাকে বিয়ে করেছিলো অনেক টাকা পয়সা খরচা করে, বিয়ে যেহেতু করতেই হবে, অল্প বয়সি কচি মেয়েকে বিয়ে করলে মন্দ কি। পুরুষের এই চাহিদাটা নাকি ৯০ বছরেও থাকে।
যাইহোক, সবাই এখন শ্বশানঘাটে উপস্থিত। ঢোল বাজছে, কাসার ঘন্টা বাজছে, চারপাশে সবাইমিলে সমস্বরে থেকে থেকে বলে উঠছে, সীতা মাইকি জয়....পুরোহিতরা গোলহয়ে বসে মন্ত্রপাঠে ব্যস্ত, ডোমেরা ভাং বা চেলাই মদের মটকা নিয়ে বসে আছে পুরোহিতে ডান পাশে, মাদকাসক্ত হয়ে তাদের চোখগুলো লাল হয়ে আছে। একদল মাদকাসক্ত লোক লাঠিসোটা নিয়ে শ্বশানের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে যেন স্বামীর সাথে সতী স্ত্রীকে আগুনে দিলে সে দৌড়ে পালাতে না পারে।
অম্বাকে শ্বশানঘাটে আনা হয়েছে। তাকে সাজানো হচ্ছে, সে এখনো জানে না তার কপালে কি আছে। মাঝে মাঝে তার বাবা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে চলে যাচ্ছে, কিন্তু স্বামীর মৃত্যুতে তার কোন কান্না আসছে না, এটা নিয়ে পাড়া পড়সি টিপ্পনি কাটছে,...কি দস্যি মেয়ে গো বাবা, স্বামীর মৃত্যুতে চোখে একবিন্দু জল নাই, হরি হরি হরি...।
অম্বা বরং মনে মনে খুশী এই ভেবে যে তার আর পরিবার ছেড়ে অন্য বাড়িতে যাওয়া লাগবে না। আর স্বামী কি, সেটা কি কাজে লাগে, সেটা তো সে বুঝেই নাই এখনো...
অবুঝ মেয়ে, সে এখনো জগতের কোন নিয়ম জানে না, এ সমাজ তার জন্য কি নিদারুন উপহার সাজিয়ে রেখেছে, সেটা বোঝার মত জ্ঞানবুদ্ধি কোনটাই তার হয়ে উঠেনি। সে অদ্যবদি শুধুমাত্র তার ছোটভাই অরুন অথবা সখিদের সাথে খেলাধুলায় হারানোর ম্যারপেচটুকুই ধরতে পারে, এর বাহিরে চিন্তা করার শক্তি তার নাই।
এদিকে পাশের বাড়ির জ্যাঠা অম্বার বাবাকে বলে গেলো অম্বাকে "আরক" খাওয়াতে যাতে সে মাতাল হয়ে থাকে এবং স্বেচ্ছায় জ্বলন্ত চিতায় যেতে রাজী হয়ে যায়। এই প্রথমবার অম্বা ভয়ে কেপে উঠলো, তার মাথা ঘুরেগেলো, চারিদিকের আলো যেন নিমিষেই নিভে যেতে থাকলো। সে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পরে চোলাই মদ আসলো তার কাছে, সে কৌশলে অল্প পান করে বাকিটা ফেলে দিয়ে নেশার ভান করে বসে থাকলো এই আশায় যে যদি জীবন বাচানোর কোন উপায় ভগবান করে দেন।
এদিকে সম্রাট হুমায়ুন ঘোড়া ব্যবসায়ীর ছদ্দবেশে তার ব্যক্তিগত সহকারী ও দেহরক্ষী সহ বাংলামূলক স্বচোক্ষে দেখার জন্য বেরিয়েছেন। ঘুরতে ঘুরতে তিনি এই শ্বশানঘাটের কাছে এসে থমকে দাড়ালেন। ব্যক্তিগত সহকারীর নিকট থেকে জানতে পারলেন যে এখানে একটু পরেই সতীদাহ হবে। সম্রাট সতীদাহপ্রথা সম্পর্কে আগেই জানতেন কিন্তু আজ সেটার ভয়াবহতা নিজচোখে অবলোকন করছেন।
হুমায়ুন বলে উঠলেন, আমি আজি ফরমান দিয়ে সতীদাহ প্রথা বন্ধ করে দেই?
- আলমপনা, সেটি করলে আপনার হিন্দু প্রজারা ক্ষেপে উঠবেন, শাসনকার্য চালানো অসম্ভব হয়ে যাবে।
- আমি কি মেয়েটির সাথে কথা বলতে পারি?
-আলমপনা, আপনি ছদ্দবেশে আছেন, তাই তারা আপনাকে তার সাথে কথা বলতে দিবে না।
-তাহলে দুর থেকে আমাকে অনুসরণ করা আমার দেহরক্ষীদের ডাকুন।
-দেহরক্ষীরা শ্বশানঘাটে এসে সম্রাটকে ঘিরে রাখলো। উপস্থিত সকলেই সম্রাটের উপস্থিতি দেখে ভয় পেয়ে গেলো। সম্রাটের সামনে অম্বাকে আনা হলো।
-সম্রাট জিজ্ঞাসা করলো, তোমার নাম কি? তুমি কি স্বামীর সাথে চিতায় পুড়তে চাও, নাকি বাচতে চাও?
- আমার নাম অম্বা, আমি বাচতে চাই।
- তাহলে আমি যা বলবো, তুমি তাই করবে, তুমি আমার হাতের একপিয়ালা পানি "বিসমিল্লাহ" বলে পান করো। তারপর আমি দেখছি।
উপস্থিত সকলের সামনে অম্বা বিসমিল্লাহ বলে পিয়ালার পানি পান করলো।
এবার সম্রাট হুমায়ুন উপস্থিত সবাইকে জানিয়ে দিলো, এই মেয়ে একজন মুসমানের হাতের পানি বিসমিল্লাহ বলে পান করেছে, তাই এখন সে আর হিন্দু নাই, মুসল্মান হয়ে গেছে। আর ইসলাম ধর্মমতে, স্বামীর চিতায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা নিষিদ্ধ। আজ থেকে এই অম্বা আমার পালিত কন্যা। আমি একে নিয়ে যাচ্ছি।
অম্বার বাবা মা খুশি হবে নাকি বেজার হবে বুঝে পাচ্ছে না। একদিকে মেয়ে মুসল্মান হওয়াতে জাত গেলো, সমাজে তাদের একঘরে করে রাখা হবে, অন্যদিকে মেয়ের জীবন বাচলো বলে মনে মনে খুশিই হলো।
কিন্তু এই সমাজ বাবা মায়ের স্নেহ ভালোবাসাকে থোড়াই কেয়ার করে।
সম্রাট মেয়েটিকে ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে শিবিরের দিকে রওনা হলেন। অমনি ভাং খেয়ে মাতাল ডোমের দল লাঠিসোটা নিয়ে তাদের পিছু নিল, সাথে সকল পুরোহিত ও এলাকার লোকজন... চীতা থেকে সতীকে ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে কথা...
সম্রাট তীরন্দাজদের তীর মেরে তাদের নিব্রিত করার আদেশ দিলেন। সাথে সাথে তীরন্দাজের নিশানা তিনজন পুরোহিতের বুকে বিধে তাদেরকে ভূপাতিত করলো। এটা দেখে বাকিরা ভয়ে পিছে দৌড়ে পালালো।।।।।
আর এভাবে অম্বা সম্রাট হুমায়ুনের পালিত কন্যা হিসাবে রাজপ্রাসাদে তার নিজ কন্যার সাথে বড় হতে লাগলো..
ধন্যবাদ
জি, এম, কামরুল
১১.১০.২০২৪
সহজ ভাষায় ব্যাংকিং-পর্ব:১৫১
মার্জার ও একুইজিসান:
বর্তমানে মার্জার ও একুজিসান একটা হটটপিক। অনেকেই উদ্বিগ্ন যে মার্জারের পরে ব্যাংকগুলোর কি হবে না হবে। সহজ উত্তর, আমাদের দেশের মতো দেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আতংকের তেমন কোন কারণ নাই। বড়কথা, আতঙ্কিত হয়ে লাভ ও নাই। সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে।
মার্জার:
যখন দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের উভয়ের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে মার্জার বলে।এর ফলে অপারেসানাল কস্ট কমে যায়, ইফেসিয়েন্সি বাড়ে, এক প্রতিষ্ঠানের স্ট্রেথ, অভিজ্ঞতা, এক্সপাটিজম অন্য প্রতিষ্ঠানের দূর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। ফলে সিনার্জি ইফেক্ট কাজ করে, ১+১ >২। মার্জারের ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে একটি নতুন নামকরণ করতে হয় সাধারণত।
আমাদের দেশে মার্জার নতুন কিছু নয়।
২০০০ সালে Standard Chartered Bank এবং Grindlays Bank মার্জ হয়ে Standard Chartered Grindlays নামকরণ করা হয়। পরে আবার Standard Chartered Bangladesh নামকরণ করা হয়।
২০০৯ সালে "বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক" ও "বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা" মার্জ হয়ে " বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক" নামকরন করা হয়।
ব্যাংক মার্জারের ফলে ব্যালেন্সশিটের এসেট ও লায়াবিটির জন্য নতুন ম্যানেজমেন্ট ১০০% লায়াবল থাকেন।
এবার আসি একুইজিসানে:
এটা জাস্ট একটা প্রতিষ্ঠান কতৃক অন্য প্রতিষ্ঠানকে ক্রয় করে নেয়া। ফলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের কোন প্রশ্ন আসে না। কিন্তু বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব থাকে না। ২০০১ সালে ব্যাংক এশিয়া কানাডিয়ান ব্যাংক Bank of Nova Scotia Dhaka কে এক্যুয়ার করে নেয়।
২০০২ সালে এই ব্যাংক এশিয়াই পাকিস্তানভিত্তিক Muslim Commercial Bank এর বাংলাদেশের অপারেসান এক্যুয়ার করে নেয়।
২০০৬ সালে Standard Chartered Bank, এমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকের বাংলাদেশের অপারেসান এক্যুয়ার করে নেয়।
সাম্প্রতিক দুবাইভিত্তিক "ব্যাংক আল-ফালাহ" এর বাংলাদেশের অপারেসান এক্যুয়ার করার জন্য ব্যাংক এশিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। সুতরাং এর মাধ্যমে ব্যাংক আল-ফালাহের সকল কার্যক্রম বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যাবে।
সুতরাং, এই মার্জারের বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে চোখ কান খোলা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।
ধন্যবাদ
জি, এম, কামরুল ইসলাম
সিটিজেন্স ব্যাংক
২০.০৪.২০২৪
পর্ব-১১৭ঃ
ইন-অপারেটিভ একাউন্ট, ডরমেন্ট একাউন্ট, আনক্লেইমড ডিপোজিট (অদাবীকৃত আমানত) আসলে কি?
অনেকেই ইন-অপারেটিভ একাউন্ট ও ডরমেন্ট একাউন্ট নিয়ে কনফিউজড হয়ে যান। তবে আমরা যদি এদুটির কার্য-কারণ ধরতে পারি, তবে মনে রাখা সম্ভবঃ
১. যেমন, কোন ক্লাইন্ট যদি তার চলতি, এস এনডি (Short Noticed Deposit), সঞ্চয়ী হিসাবে একটানা ছয় মাস কোন লেনদেন না করেন, তখন উক্ত একাউন্টকে ইন-অপারেটিভ একাউন্ট বলে। একাউন্টের চার্জ কাটা, বা সুদ ধার্যকরাকে লেনদেন বলে ধরা হবে না, কারণ এই ট্রাঞ্জেকসান ব্যাংক অটোমেটিকভাবে করে থাকে।
একাউন্ট ইন-অপারেটিভ হলে হিসাবধারীকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার বরাবর আবেদন করে আবার সচল /অপারেটিভ করতে হয়।
২. অন্যদিকে যদি কোন হিসাবধারী তার চলতি বা এস এন ডি একাউন্ট ইন-অপারেটিভ হবার ৬ মাস পরেও কোন লেনদেন না করেন, সঞ্চয়ী হিসাবে পরবর্তী ১৮ মাস কোন লেনদেন না করেন, তখন সেই একাউন্টকে ডরমেন্ট একাউন্ট বলা হবে।
পাচ বছরের মধ্যে এই ডরম্যান্ট একাউন্টকে পূণরায় সচল করতে হলে হলে হিসাবধারীকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার বরাবর আবেদন করলেই চলবে, কিন্তু যদি ৫ বছর পরে আবেদন করেন, তাহলে ব্যাংকে এসে পূণরায় KYC ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই কার্যক্রমে ব্যাংক কোন চার্জ কর্তন করতে পারবে না।
মনে রাখতে হবে, ইনঅপারেটিভ না ডরমেন্ট মার্ক করা অবস্থায় সেই একাউন্টে উপরের প্রসেস মেনে পুণরায় হিসাব সচল না করে স্বাভাবিক ট্রানজেকশন করা যায় না।
৩. এখন, প্রশ্ন হতে পারে, এই ডরমেন্ট একাউন্ট হোল্ডার যদি আর কখনও ব্যাংকেই না আসেন, তাহলে ব্যাংক কি করবে?
যদি এমন হয় যে কোন একাউন্ট হোল্ডার এটলিস্ট ১০ বছর তার একাউন্টে কোন লেনদেন করেন না বা তার সাথে কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তখন তার একাউন্ট ব্যালেন্সের টাকা BRPD সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংলাদেশ ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংক হতে ১০ বছর অতিবাহিত হওয়া টাকার ক্লাইন্টওয়াইজ লিস্ট সার্কুলেসান (ওয়েবসাইট বা অন্যভাবে) করবে যেখানে সংশ্লিষ্ট হিসাবধারীকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক মারফত টাকা ফিরে পাবার আবেদন করতে বলা হয়। এই নোটিশ জারীর এক বছরের মধ্যেও যদি কোন হিসাবধারী (তার নমিনী) সংশ্লিষ্ট ব্যাংক মারফত ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট হতে টাকা ফিরে পাবার না আবেদন করেন, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই হিসাবের অর্থ "সরকারি হিসাবে" ট্রান্সফার করবে।
*Current/SND account= 06 months (inoperative)+additional 06 month, i.e. total 12 months =Dormant
**Savings Bank account =06 months (inoperative)+additional 18 months, i.e total 24 months =Dormant..
*** After 10 years = amount transferred to Bangladesh Bank as unclaimed deposit..
**** After one year of notice = amount transferred to Govt. Account... (খবরে খতম হু)
ক্লিয়ার???
ধন্যবাদ।
জি, এম, কামরুল ইসলাম
ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস,
৩০ অক্টোবর ২০২২
পর্ব-১১৬ ৷
রেসিডিউয়াল (Residual Risk) রিস্ক কি?
আপনি যদি গাড়ীতে চড়েন, তাহলে এটার সাথে ইনহারেন্ট কিছু রিস্ক আছে। ইনহারেন্ট রিস্ক হলো সেই রিস্ক, যেটা শুধুমাত্র ঐ নির্দিষ্ট সেক্টরকে বিবেচনায় নিলে নির্দিষ্ট কিছু রিস্ক বা ঝুকি আসে। গাড়ীতে চড়ার ইনহ্যারেন্ট রিস্ক হলো, গাড়ীটি যে কোন সময় দূর্ঘটনায় পতিত হতে পারে, গাড়ী ড্যামেজ হতে পারে, কেউ মারা যেতে পারেন, হাত পা ভেঙ্গে আংশিক বা পার্মানেন্ট ডিজএবেল হতে পারে। তাই বলে কি দূর্ঘটনাজনিতে রিস্কগুলোর জন্য সবাই গাড়িতে চড়া বাদ দিবে? মোটেও না। সেক্ষেত্রে এই রিস্কগুলোকে কাভার করে গাড়িতে চড়তে হয়। গাড়ী নষ্টের জন্য ইন্স্যুরেন্স, ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি বোধ করার জন্য "এয়ার ব্যাগ" রাখা, সিটবেল্ট পরার সতর্কতা অবলম্বন করে গাড়িতে চড়া হয়।
কিন্তু এইসব সতর্কতা সত্ত্বেও যে কোন গাড়ি কিন্তু দূর্ঘটনায় পড়তে পারে ও যাত্রীর যে কোন ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। সুতরাং, যথাসম্ভব সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা সত্বেও যে রিস্ক বা ঝুকিগুলো ঘটে যেতে পারে, যেটার বিপক্ষে কোন সতর্কতা কাজ করে না, তাকে রেসিডিউয়াল রিস্ক বলে।
ব্যাংক বা কোন প্রতিষ্ঠানের IT খাতের ইনহ্যারেন্ট রিস্কের বিপক্ষে যতই সতর্কতা অবলম্বন করেন না কেন, আপনার সার্ভার হ্যাক হতে পারে, হার্ডওয়্যার৷ সফটওয়্যার মেলফ্যাংশন করতে পারে। সুতরাং IT খাত সেট আপের সময় ম্যানেজমেন্টকে মূল্যায়ন করতে হয়, এখানে রেসিডিউয়াল রিস্কের পরিমাণ কি কি, এবং এই ঝুকি সামলানোর মত তার ফাইনান্সিয়াল ও অবকাঠামোগত সামর্থ আছে কি না।
আবার, ব্যাংকের কাজ যেহেতু লোন দেয়া, সুতরাং যে কোন পার্টি বা সেক্টরে লোন দেয়ার আগে সেখানকার রেসিডিউয়াল রিস্ক আইডেন্টিফাই করতে হবে, সেটাকে আর্থিক অংকে মূল্যায়ন করতে হবে, কারণ ব্রোয়ার যদি রিস্ক সহ্য করতে না পারেন, তাহলে তার প্রজেক্ট ফেল করবে ও ব্যাংকের লগ্নিকৃত অর্থ ব্রোয়ার ফেরত দিতে সামর্থ হবেন না। (একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের (গার্মেন্টস) রেসিডিউয়াল রিস্ক কি আর এটার সাথে ইনহ্যারেন্ট রিস্কের পার্থক্য কি, কমেন্টে জানাতে পারেন)
আজ উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়/সাইক্লোন "সিত্রাং" বয়ে যাচ্ছে। জ্ঞান বিজ্ঞানের কল্যানে অনেকদিন আগেই থেকেই এই ঝড়ের নামকরণ সহ মোটামুটি নিখুত পূর্বাভাস পাওয়া গেছে এবং এই ঝড়ের ইনহ্যারেন্ট রিস্ক/ ঝুকিগুলি মোকাবেলায় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বা হচ্ছে, এতকিছুর পরেও দেখবেন কিছু ঝুকি রয়ে গেছে এবং সেজন্য অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। আশাবাদী আল্লাহর ইচ্ছায় এই ঝড়ের রেসিডিউয়াল রিস্ক কম হবে ও তার প্রভাবও কম হবে।
ঝড়ের দিনে বাংলাদেশ টিমকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ঝড়বাদলের মাঝেও এত সুন্দর মূহুর্ত উপহার দেয়ার জন্য...
জি, এম, কামরুল ইসলাম
উত্তরা, ২৪.১০.২০২২
পর্ব-১১৫
২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মহামন্দার কারণঃ
*Derivative product effect...
লেখাটা বড়, সময় থাকলে পুরাটাই মন দিয়ে পড়ুন, অথবা স্কিপ করা যেতে পারে, পুরাটাই ইকোনোমিক টার্ম, অনেকের হয়তো ভালো লাগবে না...
ছোট বেলায় "শয়তানের চিটাগুড়ের" একটা গল্প শুনেছিলাম। গল্পটা এমন,
একদিন শয়তান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কোন এলাকা দিয়ে যাবার সময় দেখে এই এলাকায় কোন সমস্যা নাই, সবাই সুখে শান্তিতে আছে। তখন শয়তান তার সাগরেদদের বললো, দেখ আমি কিভাবে এদের মধ্যে অশান্তি তৈরী করি...
যেই কথা সেই কাজ, শয়তান একটা গাছ তলায় কিছু টিটাগুড় ছিটিয়ে রাখলো, এই চিটাগুড় খেতে পিপড়া হাজির হলো, পিপড়া খেতে টিকটিকি ও হাজার হাজার পাখিরা আসলো, সহজে পাখি ধরতে প্রথমে পাশের এলাকার লোকেরা আসলো, পরে পাশের গ্রামের লোক, তার পরে দূরের গ্রামের লোক সমাবেত হলো। গ্রামের লোকেরা দূরের গ্রামের লোকেদের পাখি ধরতে দিতে সম্মত হলোনা, ফলে শুরু হলো হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি, পরে লাঠিশোঠা, দা কুড়াল নিয়ে মারামারি, খুনাখুনি। পুলিশ এসে দুই গ্রামের প্রায় সব লোককে ধরে নিয়ে জেলে ঢুকিয়ে রাখলো, মামলা জেলজরিমানা ফাসি হলো।।।
তাহলে, এখানে দেখেন একটা ধারাবাহিক কার্যকারণ আছে। ইবলিস শুধু চিটাগুড় রেখেছে, তার পরে টিকটিকি, পাখি, মানুষ, মারামারি, খুনাখুনি, জেলজরিমানা ফাসি...একটার জন্য আরেকটা... এই কার্যকারণ /Cause and Effect থিওরিটা মাথায় রাখুন, ২০০৮ এর ইকোনোমিক রিসিসান বুঝতে সাহায্য করবে।
এবার ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করি, আপনারাও একটু সময় নিয়ে বুঝে বুঝে একের পরে এক কার্যকরণ নির্ণয় করে এগিয়ে যেতে থাকুন...
১. ১৯৯৬/৯৭ সালের দিকে USA তে টেকনোলজি নির্ভর শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে, ফলে মানুষ শেয়ার কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
২. এসব শেয়ারের ফাকা বাবল ২০০০-২০০২ সালের মধ্যে ফুস হয়ে যায়, ফলে শেয়ার প্রাইস অনেক কমে যায়। মানুষ শেয়ার সেল করে স্টক মার্কেট থেকে ক্যাশ টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায়।
৩. ঐ সময় ব্যাংকের ডিপোজিটের ইন্টারেস্ট রেট ছিলো ১% এর কম, তাই ইনভেস্টরগণ ব্যাংকেও টাকা রাখছিলো না। সঙ্গতকারনে লোনের রেট ও ছিলো ১% এর কাছাকাছি।
৪. ২০০২/০৩ সালের দিকে US Govt. সাধারন জনগণকে ঘরবাড়ি/ফ্লাট কিনতে আগ্রহী করে তুলে, ফলে জনগণ রিয়েল স্টেটে ইনভেস্টমেন্ট এ আগ্রহী হয়, ব্যাংক থেকে কম সুদে লোন নিয়ে ফ্লাট বাড়ি কিনতে থাকে, ফলে রিয়েল স্টেটের দাম বাড়তে থাকে, ব্যাংকগুলি ও মর্টগেজ লোন দিয়ে প্রচুর লাভ করতে থাকে।
৫. ব্যাংকের লাভ দেখে Investment Bank গুলো ও লোভ সামলাতে পারে না। যেখাএন সাধারণ ব্যাংকের কাজ হলো ডিপোজিট গ্রহণ ও লোন প্রদান, সেখানে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের কাজ হলো মধ্যস্ততা করা (Intermediary), ক্যাপিটাল রেইজ করা, মার্জিং এক্যুইজেসান করতে হেল্প করা, ডিরাইভেটিভ প্রডাক্ট ক্রয়/বিক্রয় করা।
ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক সাধারণ ব্যাংক থেকে লোনগুলি ক্রয় করে ব্যান্ডেল Complex Derivatives Products তৈরি করে, যেটার নাম হলো Collateral Debt Obligation বা চডো। এবং সেগুলো আবার সাধারণত Investors এর নিকট বিক্রি করতে থাকে।
৬. ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি থেকে এই CDO গুলির রেটিং করিয়ে নেয় এবং রেটিং এজেন্সিগুলো ৭০% এর উপর AAA রেটিং করে, যার অর্থ CDO গুলির পেমেন্ট ফেল করার পসিবিলিটি খুবই কম। ফলে CDO এর সেল প্রচুর বেড়ে যায় ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলি প্রচুর লাভ করতে থাকে।
৭. ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলি তখন সাধারণ ব্যাংকগুলির কাছে আরো লোন পার্সেস করার জন্য অর্ডার দেয়৷ ফলে ব্যাংকগুলি আগে যেখানে কাস্টমারের প্রফাইল স্টাটাস,ইনকাম, রিপেমেন্ট ক্যাপাসিটির ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে লোন দিতো (যেহেতু লো ক্যাটাগরির লোন, তাই এই লোনকে Subprime mortgage loan বলে) সেখানে তারা এবার বেশি লাভের আশায়
তেম্ন বাছবিচার না করে রিয়েল স্টেটে লোন দিয়ে আবার সেই লোন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের কাছে সেল করতে লাগলো। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ও লোন পার্সেস করে CDO করে সাধারণ ইনভেস্টরদের নিকট সেল করতে থাকলো।
৮. ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের এই লাভ দেখে ইন্সুইরেন্স কোম্পানিগুলোও লোভ সামলাতে পারলো না। তারা COD এর বিপরীতে ইন্সুইরেন্স প্রিমিয়াম নিয়ে ইন্সুইরেন্স ফ্যাসিলিটি অফার করতে লাগলো, অর্থাৎ যদি COD এর মেইন ব্রোয়ার রিপেমেন্ট ফেইল করে, তাহলে ইন্সুইরেন্স কোম্পানিই ইনভেস্টরদের টাকা পেমেন্ট করে দিবে। যেহেতু ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক জানে যে, COD ফেল করতে পারে, তাই তারা ইন্স্যুরেন্স নিয়ে রাখলো।
৯. দেখেন, ২০০০ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সাধারণ ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, পরে ইন্সুইরেন্স কোম্পানি সবাই ধুমছে প্রফিট করতে লাগলো, যারে বলে হানিমুন পিরিয়ড।
১০. যেখানে প্রথম প্রথম লোনের ইন্টারেস্ট রেট ছিলো ১% (এডজাস্টবল রেট), সেটা আস্তে আস্তে বেড়ে ২০০৭/০৮ এর দিকে ৫% এ উঠে যায়, ফলে যেসব ব্রোয়ারদের বাছবিচার করে লোন দেয়া হয়নি বা যাদের ইনকাম কম ছিলো, তারা লোনের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলো।
১১. ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণে মর্টগেজ সম্পত্তি সেল করে তাদের বকেয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করতে থাকলো। একসাথে অনেক রিয়েলস্টেট সম্পত্তি বিক্রি করার কারনে রিয়েলস্টেট সম্পত্তির মূল্য ব্যাপকহারে কমে গেলো। ফলে যে সম্পত্তি কেনার জন্য ১০০ টাকা লোন দেয়া হয়েছিলো, সেটার বকেয়া যখন ৭০ টাকা, ও সেটার বিক্রি মূল্য যখন ৫০ টাকায় নেমে এলো, তখন ব্রোয়াররা ভাবলো, আমার ৫০ টাকা সম্পত্তির জন্য কেন ব্যাংককে ৭০ টাকা পরিশোধ করবো। তার চেয়ে ব্যাংক আমার সম্পত্তি বিক্রি করে তাদের লোনের বকেয়া নিয়ে নিক।
১২. ফলে, যারা কিস্তি অল্প করে চালাচ্ছিলো, তারাও কিস্তি দেয়া বন্ধ করে দিলো।
১৩. যেহেতু লোনের কিস্তি আদায় করা যাচ্ছে না, তাই COD এর তেমন কোন ভ্যালু থাকলো না। তাই ব্যাংক ক্ষতিপূরণ পাবার জন্য ইন্সুইরেন্স কোম্পানির কাছে দাবি করলো। আমেরিকার সবচেয়ে বড় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি AIG এর ইন্সুইরেন্স দায় ছিলো প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার। যেহেতু AIG এর প্রচুর কর্মচারী ছিলো, তাই তাদের দেউলিয়া থেকে বাচানোর জন্য ওবামা সরকার ৮৫ বিলিয়ন ডলার বেইল আউট প্যাকেজ দেয়। ফলে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলো ইন্সুরেন্সের টাকা পেয়ে প্রাথমিকভাবে কিছুটা লাভবান হয়।
১৪. যেহেতু, আগের COD ফেল করেছে, তাই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের হাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অবিক্রিত COD আর কোন ইনভেস্টর কিনতে চাইলো না। ফলে আমারিকার প্রথম সারির ৫ টি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলো। তাদের মধ্যে Lehman Brothers (যাদের প্রায় ২৫০০০ ইম্পোয়ির চাকুরি চলে যায়) কে জেমি মরগান ব্যাংক কিনে নেয়।
১৫. এই চক্রে পড়ে ব্যাংক, ইন্সুইরেন্স কোম্পানি, ইনভেস্ট ব্যাংকগুলোর প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার গচ্চা যায়।
১৬. ফলশ্রুতিতে সাধারণ ব্যাংকগুলির কাছে ব্যবসায়ীক লোন দেয়ার টাকা থাকে না, ফলে শুরু নতুন "Credit Crunch"। Credit Crunch হলো সেই অবস্থা, যেখানে লোন নেয়ার লোক আছে, কিছু লোন দেয়ার লোক নাই।
১৭. ফলে লোনের অভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে গেলো, কর্মী ছাটাই হতে থাকলো। যেহেতু আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে "বড় ইকোনোমি", তাই তাদের সাথে জড়িত বা নির্ভরশীল পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অনেক ব্যাংক ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এর প্রভাবে দেউলিয়া হয়ে গেলো।
১৮. ফলে বিশ্ব ব্যাপী দেখা দিলো অর্থনৈতিক মহামন্দা....
আশাকরি কিছুটা ধারণা দিতে পেরেছি...
জি, এম, কামরুল ইসলাম
উত্তরা, ঢাকা
২৩.১০.২০২২
19/10/2022
পর্ব-১১৪-
Asset Securitization কি?
ধরা যাক, Bankers Welfare Bank বা BW ব্যাংক ৫০০ গ্রাহককে ২০০০ কোটি টাকা হোম লোন বিতরণ করলো, যেগুলির এভারেজ মেয়াদ ছিলো ১৫ বছর, ইন্টারস্ট রেট ১০%, সেই হিসাবে বছরে সুদ ইনকাম প্রায় ২০০ কোটি টাকা, ১৫ বছরে এভারেজ সুদ ইনকাম ৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, যদি লোনগুলির কিস্তি যদি সঠিকভাবে পরিশোধ করা হয়, তাহলে ব্যাংক ১৫ বছর পরে আসল ২ হাজার + সুদ ৩ হাজার মিলে লোনগুলির বিপক্ষে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের ল্যান্ড ও বিল্ডিং আছে মর্টগেজ জামানত হিসাবে।
এখন BW ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট চিন্তা করলো যে, তারা শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিতেও ১৫০০ কোটি টাকা ইনভেস্ট বা লোন দিতে চায়, কিন্তু তাদের কাছে পর্যাপ্ত ফান্ড/লিক্যুইডিটি নাই হোম লোনে ইনভেস্ট করার কারণে।
এখন BW ব্যাংক ম্যানেজমেন্টর কাছে কতগুলি বিকল্প আছে;
১. মার্কেটে শেয়ার বা স্টক বিক্রি করে ফান্ড সংগ্রহ করতে পারে, সেক্ষেত্রে বর্তমান শেয়ার হোল্ডারদের শেয়ার মালিকানা কমে যায়।
২. মার্কেট থেকে ডিবেঞ্চার/বন্ডের মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহ করতে পারে, তবে সেখানে সুদ খরচ ও টাকা পরিশোধ করার দায় থেকে যায়।
৩. BW ব্যাংক তার ২ হাজার কোটি টাকার মর্টগেজ লোন (যেটা নেক্সট ১৫ বছরে সুদে মূলে ৫ হাজার কোটি টাকা রিসিভেবলস) তৃতীয় কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (ধরুন PQ asset management Ltd) কাছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় বিক্রি করে দিতে পারে। এখানে PQ Asset Management কে SPV (special purpose vehicle বলে, যাদের এখন মেইন কাজ হলো এই আড়াই হাজার কোটি টাকার এসেট ছোট ছোট সিকিউরিটিজ (শেয়ার বা বন্ডের মত)অংশে ভাগ করে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়া। ( এটাচড ছবি দেখুন)
ধরুন, আড়াই হাজার কোটি টাকা এসেট আড়াই লাখ (২৫০০০০) শেয়ারে ভাগ করা হলো যার প্রতিটির মূল্য হবে এক লক্ষ টাকা (সহজীকরণের জন্য SPV লাভের অংশ বাদ দিলাম) ক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিকিউরিটিজ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হলো যেখানে প্রতিটি সিকিউরিটির মূল্য ও প্রতি বছরে কত টাকা হারে রিটার্ন করা হবে সেটা দেয়া থাকে।
এখানে BW ব্যাংকের লাভ কি?
এই শেয়ার/বন্ড বিক্রি করা ও শেয়ার/বণ্ডের বিপরীতে টাকা রিটার্ন করা, মর্টগেজ লোন গ্রহীতাদের নিকট থেকে EMI কালেক্ট করা সবই SPV বা PQ Asset Mgt কোম্পানির দায়িত্ব। BW ব্যাংকের আর কোন দায় থাকলো না, ২ হাজার কোটি টাকা লোন যেটা ১৫ বছর ধরে ৫ হাজার কোটি টাকা ক্যাশ পেতো, আজ তারা ২৫০০ কোটি টাকায় বিক্রি করে নগদ টাকা হাতে পেলো। লোনগ্রাহকের নিকট থেকে লোনের টাকা আদায় না হওয়ার কোন রিস্ক থাকলো না। ২৫০০ টাকা তার পুণরায় অন্যখাতে ইনভেস্ট করতে পারবে।
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন ছোট ছোট সিকিউরিটিজ কিনবে?
যেহেতু ২০০০ কোটি টাকার লোন ৫০০ গ্রাহককে দেয়া হয়েছে, তাই একসাথে ৫০০ গ্রাহক থেকে টাকা না ফেরত পাবার চান্স/ প্রবাবিলিটি অনেক কম। আবার যেহেতু ৫০০০ কোটি টাকার রিসিভেবল ২৫০০ কোটি টাকায় কিনে বান্ডেল প্রটফোলিও করা হয়েছে, তাই রিটার্ন ও অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। তাছাড়া, এই সিকিউরিটি হোল্ডার চাইলে সেকেন্ডারি মার্কেটে তার সিকিউরিটি(শেয়ার) বিক্রি করে ক্যাপিটাল গেইন করার সুযোগ পেতে পারে।
তাহলে এখানে আপাতত পক্ষ চারটি
১. মর্টগেজ লোন গ্রাহক
২. BW ব্যাংক
৩. SPV ( PQ Asset Mgt. Co)
৪. সিকিউরিটিজ হোল্ডার
এখানে দেখুন, ২ (ব্যাংক) ও ৩ নম্বর (SPV পক্ষের কিন্তু আর কোন রিস্ক নাই, তারা টাকা পেয়ে গেছে (Bank পেল একবারে ২৫০০ কোটি টাকা, SPV ছোট ছোট সিকিউরিটিজ বিক্রি করে পেলো ২৫০০ কোটি টাকা)। এখন সব রিস্ক ও রিওয়ার্ড ৪ নং পক্ষের (সিকিউরিটিজ হোল্ডারের), আর ১ নং পক্ষ আগের মতই লোন গ্রাহক, তাকে ১৫ বছর যাবত SPV কে নিয়মিত Installment পেমেন্ট করতে হবে।
টোটাল প্রসেসটি ভালোভাবে বুঝতে এটাসড ছবিটি দেখে উপর থেকে আরেকবার পড়া যেতে পারে।।
এখন কথা হলো, এই সিক্যুরিটাইজেসানের সাথে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মহামন্দার কি সম্পর্ক?
সেটা নিয়ে আসছি, নেক্টট পর্বে ইনশাআল্লাহ....
জি, এম, কামরুল ইসলাম
ডাচ-বাংলা ব্যাংক
১৮.১০.২০২২
পর্ব-১১১
সম্পত্তি মালিকানা ট্রান্সফার/হস্তান্তরের প্রকারভেদঃ
সম্পত্তি সাধারণত দুই সময়ে/দুই স্টেজে হস্তান্তরিত হয়;
ক। জীবিত ব্যক্তি হতে জীবিত ব্যক্তির মধ্যে হস্তান্তর (যেমনঃ দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয়)
খ। মৃত ব্যক্তি হতে জীবিত ব্যক্তি বরাবর হস্তান্তর (যেমনঃ উত্তরাধিকার সূত্রে ট্রান্সফার)
জীবিত ব্যক্তি হতে জীবিত ব্যক্তির মাঝে সম্পত্তি ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে সাধারণত "Transfer of property Act 1882" ব্যবহার করা হয়। এখন দেখি জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে মোটাদাগে কি কি প্রকারে ট্রান্সফার হতে পারে;
১. ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমেঃ সাফ কবলা
কোন সম্পত্তি অর্থের বিনিময় বা আর্থিক মূল্যে পরিমাপযোগ্য কোন কিছুর বিনিময়ে একপক্ষে থেকে অন্যপক্ষের কাছে হস্তান্তরিত হতে পারে। এই দলিলকে "সাফ-কবলা" বা সেল ডিড বলে।
২. দান বা হেবার মাধ্যমেঃ
স্বামী-স্ত্রী ও রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয়দের মধ্যে "দানের" মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা ট্রান্সফার হতে পারে। এই দলিলকে "হেবা দলিল"/দানপত্র/Gift Deed নামে পরিচিত। আপনি চাইলে আপনার অনাত্নীয় (রক্ত সম্পর্কহীন) এক বন্ধুকে সম্পত্তি হেবা করতে পারবেন না।
হেবা আবার দুই প্রকারঃ
a. সাধারণ হেবাঃ কোন বিনিময় মূল্য ছাড়া দান
b. হেবা বিন এওয়াজঃ নামকাওয়াস্তে কোন কিছুর বিনিময়ে দান। যেমনঃ ১ কোটি টাকার একটা সম্পত্তি একটা টোকেন মানির (যেমন ১০০ টাকা/১০০০ টাকা) বিনিময়ে হেবা বিন এওয়াজ করা হলো।
৩. লিজ বা ইজারার মাধ্যমেঃ
সরকার কতৃক নির্ধারিত কোন সংস্থার মাধ্যমে কিছু শর্তপূরণ সাপেক্ষে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তির সাময়িক বা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়, সেটাকে লিজ বা ইজারা বলে। বাংলাদেশে সাধারণত ৯৯ বছর মেয়াদী লিজ দেয়া হয়। লিজ ডিড কিন্তু সাধারণ ডিডের মত নয়, এটা সাধারণত সাদা কাগজে বুকলেট আকারে সম্পাদিত হয়, তবে এতে বিশেষ এডেসিভ স্টাম্প লাগানো থাকে।
৪. বিনিময়/এওয়াজ বদল সূত্রেঃ
এটা কোন এলাকার একজনের সম্পত্তির সাথে অন্য একজনের সম্পত্তি বদল/বিনিময়/ Exchange করা হয়। যেমমঃ রহিমের রাস্তার পূর্ব পাশের ১০ কাঠা জমির সাথে রাস্তার পশ্চিম পাশের ৮ কাঠা জমি করিমের সাথে বদল করা হলো। এটাকে " এওয়াজ বদল" দলিল হিসাবে ডাকা হয়।
৫. আদালতের রায়ের সূত্রেঃ
আদালত কতৃক কোন ডিক্রি, সোলেনামা, নিলাম, হস্তান্তর ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা ট্রান্সফার হতে পারে। যেহেতু আদালতের রায়টি দলিল হিসাবে গণ্য করা হয় তাই এটি আলাদাভাবে দলিল রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়।
খ. মৃত্যুর পরের মালিকানা ট্রান্সফার
১. উত্তরাধিকার সূত্রেঃ
উত্তরাধিকার সূত্রে ওয়ারিশদের মধ্যে খতিয়ানের উপর ভিত্তি করে বা সাকসেসান/ওয়ারেসান সার্টিফিক অনুসারে মালিকানা অর্জিত হয়। তাই আলাদা হস্তান্তর দলিল দরকার হয় না।
২. উইল বা অসিয়াত নামা সূত্রেঃ
মৃত্যুর পরবর্তী কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তি কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দান করাকে উইল বলে। যেহেতু উইল মৃত্যুর পর থেকেই কার্যকর হয়, তাই উইলকারী জীবীত থাকতেই উইল বাতিল করতে পারেন। তবে মুসলিম আইনে কোন ব্যক্তি তার এক তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি উইল করতে পারেন না।
ধন্যবাদ।
জি, এম, কামরুল ইসলাম
ডাচ-বাংলা ব্যাংক
১২.১০.২২
পর্ব-১০৪ঃ #
প্রাইভেট হস্পিটাল বা ক্লিনিকে লোন দেয়ার জন্য কমপ্লায়েন্স ডকুমেন্টসঃ
Retail and SME loan assessment:
আমরা যখন কোন প্রফেসানালকে রিটেইল লোন দেই বা কোন বিশেষ প্রফেসানের সাথে রিলেটেড ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে এস এম ই বা কর্পোরেট লোন দিয়ে থাকি, সেক্ষত্রে ক্লাইন্টের লোনের উদ্দেশ্যের সঠিকতা ও পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি উক্ত ব্যবসা বা প্রফেসানের কম্পলায়েন্স রিলেটেড কাগজপত্র নিয়ে থাকি যাতে করে তার ব্যবসা/প্রফেসান পরিচালনায় আইনগত কোন জটিলতা না থাকে। কারণ, আইনগত জটিলতা রেখে লোন দিলে পরবর্তীতে তিনি যদি তার ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারেন, তাহলে লোনটি ক্লাসিফাইড হয়ে যেতে পারে। আজ তেমন একটি বিষয় নিয়ে আলাপ করি...
ধরুন, একজন ডাক্তার যিনি আপনার কাছে তার একটা নার্সিং হোম বা ক্লিনিকের ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবসায়িক লোন চাচ্ছেন? তাহলে আপনি লোনের উদ্দেশ্যের সঠিকতা ও পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি নিন্মোক্ত কমপ্লায়েন্স রিলেটেড ডকুমেন্টস নিতে পারেন;
১. নার্সিং হোমের বা ক্লিনিকের মালিক যদি ডাক্তার হন তাহলে তার ডাক্তারি সনদপত্র!
২. ক্লিনিক পরিচালনার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিকট হতে "ট্রেড লাইসেন্স"
৩. ডাইরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ থেকে "License for Private Hospital Clinic" নিতে হবে
৪. কলকারখানা ও প্রতিষ্টান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে "শিল্প প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স" নিতে হবে
৫. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে "মাদকদ্রব্য ব্যবহারের জন্য পারমিটের আবেদন পত্র" নিতে হবে
৬. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হতে "ফায়ার লাইসেন্স" নিতে হবে।
৭. ভ্যাট/ট্রাক্স রিটার্নের কপি...
৮. পরিবেশগত ছাড়পত্র
৯. এটোমিক এনার্জি কমিশন লাইসেন্স (যদি এক্স-রে/আলট্রাসনোগ্রাম থাকে)
অর্থাৎ কেউ যদি দেশের আইন কানুন মেনে ক্লিনিং/নার্সিং হোম/ প্রাইভেট হস্পিটালের ব্যবসা করতে চায়, তার উপরোক্ত ডকুমেন্টস আপডেট থাকতে হবে। ডায়োগোনেস্টিক সেন্টারে যন্ত্রপাতিভেদে ভিন্নভিন্ন লাইসেন্সের ও প্রয়োজন হতে পারে। মোটকথা ক্লাইন্ট দেশের নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য যে ডকুমেন্টস দরকার হয়, লোন নিতে গেলে তাকে সেই ডকুমেন্টস ব্যাংককে সরবরাহ করতে হবে।
সুতরাং এই রিলেটেড কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোন কনজুমার লোন বা ব্যবসায়ীক লোন দিতে হলে ব্যাংককে অবশ্যই উপরোক্ত ডকুমেন্টস (হালনাগাদ) ক্লাইন্টের নিকট হতে সংগ্রহ করতে হবে। এর বাহিরে অন্যান্য কাগজপত্র তো আছেই... :-)
ডকুমেন্টস গুলি বোঝার সুবিধার্তে কিছু ছবি সংযুক্ত করা হলো।
ডিসক্লেইমারঃ লাইসেন্সের ছবিগুলো শুধুমাত্র শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই ডকুমেন্টসগুলি ডাউনলোড না করার জন্য অনুরোধ রইলো। আর আপলোডে কারো কোন আপত্তি থাকলে আমি রিমুভ করে দিবো।
ধন্যবাদ।
জি, এম, কামরুল ইসলাম
ডাচ-বাংলা ব্যাংক
১২.০৯.২০২২
# আলো আসবেই #
পর্ব-১০৩ #
রিসিডিউলিং ও রিস্ট্রাকচারিং এর হিসাব নিকাশঃ
রফিক সাহেব চাচ্ছেন তার ১০ কোটি টাকার ক্লাসিফাইড (ব্যাড এন্ড লস) ওডি লোনটাকে রিসিডিউলিং করতে। উনি ব্যাংকে এসে ব্যাংক ম্যানেজার সাহেবকে বললেন, করোনার কারনে আমার ব্যবসা খুবই খারাপ গেলেও এখন আমার ব্যবসা আস্তে আস্তে ভালোর দিকে যাচ্ছে। আমি আমার লোনটাকে রিসিডিউলিং করে CIB ক্লিন করতে চাই। এখন আমার কত টাকা ডাউন পেমেন্ট ডিপোজিট করতে হবে ও কত দিন মেয়াদী লোন পাবো?
উত্তরঃ
এই লোনটি রিসিডিউলিং করতে হলে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে;
১. রফিক সাহেব কি "ইচ্ছেকৃত" ডিফল্টার নাকি ব্যবসায়ের প্রকৃত ক্ষতি হয়েছে যেটা তার নিয়ন্ত্রণের বাহিরে ছিলো?
২. যদি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে থাকে, তাহলে এখন ব্যবসায়ের কি অবস্থা উন্নতি হয়েছে বা হচ্ছে যেটা থেকে উনি কিস্তির টাকা নিয়মিত পরিশোধ করতে সামর্থ হবেন।
৩. যদি সামর্থ হোন, তাহলে তাকে এখন ডাউনপেমেন্ট একবারে তার একাউন্টে জমাকরনের জন্য বলতে হবে। এখানে ডাউনপেমেন্টের পরিমাণ হবে ১০ কোটি x 4% বা ৪০ লাখ টাকা। এবং এই ডাউনপেমেন্ট জমা করার পরে ৯.৬০ কোটি টাকা (১০ কোটি -৪০ লাখ) ৫ বছরের মধ্যে মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করবেন (চলতি/তলবী লোনের পরিমাণ ৫০ কোটির কম হলে ৫ বছর মেয়াদ পাবে)
৪. রফিক সাহেবের ১০ কোটি টাকার ওডি লোনটি যদি পূর্বে EC কমিটি এপ্রোভ করে থাকেন, তাহলে এখন রিসিডিউলিং প্রপোজালটি একধাপ উপরে অর্থাৎ বোর্ড অফ ডাইরেক্টর মিটিং এ এপ্রোভ হতে হবে।
৫. রফিক সাহেব রিসিডিউলিং এর মাধ্যমে তার লোনটি নিয়মিতকরণের পরে ম্যানেজার বরাবর নতুন লোনের জন্য আবেদন করলে তাকে তার বিদ্যমান লোনের ৩% টাকা কম্প্রোমাইজড এমাউন্ট হিসাবে জমা দেয়ার জন্য বলা হলো, অর্থাৎ তার রিসিডিউলড লোনের ব্যালেন্স যদি এখন ৯ কোটি টাকা থাকে, তাহলে তাকে আরো ২৭ লাখ টাকা জমা দিতে হবে নতুন লোনের জন্য আবেদন করার জন্য।
সিচ্যুয়েসান -২ঃ
ধরা যাক, রফিক সাহেবের ১০ বছর মেয়াদী একটি ২ কোটি টাকার টার্ম লোন আছে, যেটা মাত্র ২ বছর অতিবাহিত হয়েছে। লোনটি রেগুলার আছে, অর্থাৎ ক্লাসিফাইড হয়নি। এখন কিস্তির পরিমাণ মাসিক ৩ লক্ষ টাকা। রফিক সাহেব চাচ্ছেন, লোনের অবশিষ্ট ৮ বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে এই কিস্তির পরিমাণটা কিছুটা কমাতে। ব্যাংকে এই মেয়াদ বাড়ানোর /রিস্ট্রাকচারিং এর আবেদন করলে নিন্মোক্ত বিষয়গুলি খেয়াল করতে হবে,
১. লোনটি আনক্লাসিফাইড আছে কি না,
২. যদি থাকে, তাহলে বর্তমানের অবশিষ্ট মেয়াদ কত বছর, এখানে ৮ বছর আছে...
৩. রফিক সাহেবের এই লোন আগে কি কখনো মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিলো? কারণ এক একাউন্টে সর্বোচ্চ একবার রিস্ট্রাকচারিং করা যায়।
৪. যদি না হয়, তাহলে তাকে বিদ্যমান অবশিষ্ট মেয়াদের সর্বোচ্চ ৫০% টাইম বর্ধিত করা যাবে, অর্থাৎ রফিক সাহেব ৮ বছরের পরিবর্তে আরো অরিরিক্ত ৪ বছরের মেয়াদ বর্ধিত পাবেন বা ১২ বছর মেয়াদে পাবেন, ফলে কিস্তি কমে আসবে।
৫. এই রিস্ট্রাকচারিং এর জন্য ডাউনপেমেন্ট দেয়া লাগবে না।। রিসিডিউলিং করা কোন লোন রিস্ট্রাকচারিং করা যাবে না (এক ছাগল দুইবার জবাই দেয়া যাবে না :-) )
ধন্যবাদ,
জি, এম, কামরুল ইসলাম
ডাচ-বাংলা ব্যাংক
১১.০৯.২০২২
(পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা এশিয়া কাপ ফাইনাল)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka