BCS Preliminary Analysis
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from BCS Preliminary Analysis, Educational Research Center, Dhaka.
24/07/2025
বিসিএসের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাগর বলেন, আমার পরিবারের আশা ছিল ম্যাটস থেকে পাস করে বেরিয়ে আমি চাকরিতে জয়েন করবো। কিন্তু আমি যেহেতু তা করতে পারিনি তাই আমার মধ্যে একটা দায়বদ্ধতা ছিলো। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলাম। ২০২১ সালের অক্টোবরে ঢাকায় আসলাম। অক্টোবরের ২৭ তারিখ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছিল। আমি এই ২৭ দিনকে ২৭ মাসে রূপান্তর করেছিলাম। গোসল খাওয়া বাদে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পড়তাম। ঘুমানোর আগে দেশী, বিদেশি সংবাদপত্র পড়তাম।
তিনি আরও বলেন, আমি সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে না বসে বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতে বেশি বসতাম। কিন্তু আমাদের যে লাইব্রেরিয়ান মামা ছিলেন তিনি আমাকে ঠেলে বের করে দিতেন। বই চুরি হবে সেই অজুহাত দিতেন। কারণ আমি ছাড়া আর কেউ তেমন থাকতো না। আমি চলে গেলে তিনিও সব বন্ধ করে চলে যেতে পারবেন। কিন্তু আমি তাকে বলতাম যে প্রয়োজনে চাবি আমাকে দিয়ে যান, একটা বই হারালে আমি তার দায় নেব কিন্তু আমাকে পড়তে দিতে হবে। এরপর উনি মাঝেমাঝে আমাকে চাবি দিয়ে যেত, আমি পড়া শেষে তালা দিয়ে চলে যেতাম। সফল হতে হলে লাইব্রেরি ওয়ার্ক খুবই জরুরি।
বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সাগর বলেন, ক্যাডার হওয়ার পর দুজন মানুষের ছবি আমার মনে ভেসেছে। একজন আমার বাবা আর একজন আমার দাদি। ফলাফল দেখার পর আমার মনে হয়েছে সন্তান হিসেবে আমি আমার বাবার জন্য কিছু করতে পেরেছি। আমার জন্য আমার বাবার নাম উজ্জ্বল হয়েছে। এটাই আমার অন্যতম সেরা একটি প্রাপ্তি।
23/07/2025
বিসিএসে সফল দম্পতির ক্যাডার হওয়ার গল্প
মো. মাসুদ রানা পড়াশোনা করেছেন বুয়েটে আর তহুরা আখতার পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্পর্কে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। তাঁরা উভয়ে ক্যাডার হয়েছেন ৪০তম বিসিএসে। একসঙ্গেই ছিল তাঁদের প্রস্তুতি যাত্রা। সফল এই দম্পতির বিসিএস প্রস্তুতি ও স্বপ্নজয়ের গল্প শুনেছেন আব্দুন নুর নাহিদ
বিসিএসে সফল দম্পতির ক্যাডার হওয়ার গল্প
বুয়েটে পড়াশোনার সময় চিন্তা-ভাবনা ছিল দেশের বাইরে যাব—এগোচ্ছিলাম ঠিক সেভাবেই। পরে ২০১৮ সালের শেষের দিকে লক্ষ্য স্থির করলাম বিসিএস দেব। একদম শূন্য থেকেই আমরা ৪০তম বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। এরপর আমি বুয়েটের হলে, সে তখন ঢাবির সুফিয়া কামাল হলে।
নীলক্ষেতে বই কিনতে যাওয়া, ডিএমসি, ঢাবি কার্জনে একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, ডিএমসির মোড়ের কোচিং, বুয়েটের লাইব্রেরি বা ঢাবির লাইব্রেরিতে চুরি করে ঢোকা—এমন অনেক স্মৃতি জমা আছে। ৪০তম বিসিএস প্রিলি শেষে রিটেন পরীক্ষা দিয়েই আমরা পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। বিসিএসের আগে প্রথম শ্রেণির সব চাকরিতেই আবেদন করেছিলাম, তা প্রায় শখানেক হবে। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্সি ফার্ম, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর, ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন, বুয়েটের গবেষণা সহকারী, সিনিয়র অফিসার, সোনালী ব্যাংকে ডাক পাই।
আমার স্ত্রী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, ওটাই তার প্রথম চাকরি। স্নাতক শেষে ২০১৭-তেই আমি চাকরিতে জয়েন করি, পাশাপাশি বুয়েটেই মাস্টার্সে ভর্তি হই, যেন হলে থাকতে পারি। সেও মাস্টার্সে ভর্তি হয়। প্রায় এক বছর চাকরির পর যখন সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করলাম যে দেশেই থেকে যাব, তখনই বিসিএস দেওয়ার চিন্তা, ধুম করে ডিসেম্বর ২০১৮-তে চাকরি ছেড়ে দিয়ে টিউশনি করতাম আর বিসিএসের পড়াশোনা করতাম।
সেও টিউশনি করত। দুজন টিউশনি শেষ করে বিসিএসের কোচিং এবং বিভিন্ন জায়গায় চাকরির পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছি। দুজনেই ছিলাম সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের। টিউশনি করার কারণে চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এটি আমাদের এগিয়ে রেখেছে। চাকরি ছেড়ে দিয়ে এক বছর পড়াশোনা করার সিদ্ধান্তটিই যথোপযুক্ত ছিল।
বিসিএসের প্রস্তুতি আমরা একসঙ্গেই নিয়েছিলাম। বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিসহ সব বিষয় সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে পড়েছি। মজার বিষয় হচ্ছে, আমরা দুজন একই সেন্টারে প্রিলি দিয়েছি, রিটেনও দিয়েছি পাশাপাশি রুমে, আমরা ভাইভাও দিয়েছি একই বোর্ডে
, কিছু প্রশ্নও উভ
23/07/2025
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ৪১তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকুলতা পার করে অনেক অদম্য মেধাবীরাই সুযোগ পেয়েছেন এবারের বিসিএস নিয়োগের সুপারিশে।
এমনই দুই যুবকের গল্প শোনাব আজ।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কেকের চর ইউনিয়নের ভাটি লঙ্গরপাড়ার দুই দরিদ্র পরিবারের সন্তান শামীম ও আল আমিন। ৪১তম বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন মেধাবী এ দুই যুবক।
শ্রীবরদী উপজেলার কেকের চর ইউনিয়নের ভাটি লঙ্গরপাড়া গ্রামের প্রান্তিক বর্গাচাষি আব্দুল কুদ্দুস ও হোসনে আরা দম্পতির ছেলে শামীম মিয়া।
পরিবারের অবস্থা দেখে বুঝার উপায় নেই, সদ্য ঘোষিত ৪১তম বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন এই পরিবারের বড় ছেলে শামীম। টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি তাদের ঘর। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে ছেলেদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস। কষ্ট একদিন ঘুচে যাবে বলে স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। অবশেষে সেই স্বপ্ন পুরণ হয়েছে। এখন তিনি বিসিএস ক্যাডারের বাবা।
শামীম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর ৪১তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃষি বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
শামীমের বাবা কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। আমাদের ছোট সংসার। খুব কষ্ট করে বড় ছেলে শামীমসহ তিন ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। আমার ছেলে বিসিএস চান্স পাইছে। আমার দেহডা আল্লাহ শান্তি করে দিছে।’
মা হোসনে আরা জানান, ছেলের সফলতায় খুব খুশি তিনি।
বিসিএস ক্যাডার শামীম বলেন, ‘অনেক প্রতিকুলতা-বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই আজকের এ সাফল্যে পেয়েছি। আমার এ সাফল্যের পেছনে আসল কারিগর আমার বাবা-মা। আমার সাফল্যের কৃতিত্ব তাদেরকেই দিতে চাই।’
একই এলাকার দিনমজুর বকুল আহমেদ ও মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সন্তান আল আমিন। নানা প্রতিকুল পরিবেশে লেখাপড়া করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নিয়েছেন তিনি; লড়ে গেছেন নিজের জীবন সংগ্রাম।
আল আমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ৪১তম বিসিএসে অংশ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন তিনি।
আল আমিনের বাবা বকুল বলেন, ‘আমার ছেলে খুব কষ্ট করেছে, বিসিএসে টিকেছে। আমি তার জন্য খুব খুশি।’
বিসিএস ক্যাডার আল আমীন বলেন, ‘এ দীর্ঘ পথযাত্রায় আমি অনেক মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী। পরিবারের পাশাপাশি অনেক মানুষ আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।’
একই গ্রামের অতি দরিদ্র পরিবারের দুই জনের এমন সাফল্যে খুশি স্থানীয়রাও
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka