An-Noor / আন-নূর

An-Noor / আন-নূর

Share

إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ
(Surah Mulk : 12)

17/07/2024

চাকরি বাঁচানোর জন্য যদি ছাত্রদের ওপর গু*/লি চালানোর অর্ডার মানতে হয়, তাইলে চাকরি ছেড়ে দেন। আরেকজনের সন্তান মে/রে এই চাকরির বেতন দিয়ে আপনার সন্তানের ভাত কিনবেন কিভাবে? 🙂

যেসকল পুলিশ ভাইরা পেজটাকে ফলো করেন, চাইলে আনফলো করতে পারেন কিন্তু তবুও গুলি করার আগে একবার ভেবেন 🙂

07/05/2024

আল্লাহ হুজুরকে নেক হায়াত দিন








03/02/2023

• প্রেক্ষাপট •

মু'তার যু*দ্ধকে বলা যেতে পারে একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা বিন্দু, কেননা এর মাধ্যমে মুসলিমরা বিশ্বের তৎকালীন 'সুপার-পাওয়ার' রোমানদের সাথে সংঘাতে প্রবেশ করে।
এই যু*দ্ধে মুসলিমদের বিপক্ষ শক্তি ছিল আরবের গাসসান গোত্র এবং বায়োজেন্টাইন বা পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য।

হুদাইবিয়ার সন্ধির পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে আরবের উত্তরদিকের গোত্রগুলোর সামরিক তৎপরতা বেড়ে যায়। বিষয়টা বেশ গুরুতর পর্যায় ধারণ করে যখন তারা আল-হারিস (রঃ) হ*ত্যা করে। আল-হারিস ছিলেন আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে রোমান গভর্নরের কাছে প্রেরিত দূত। দামাস্কাসের রাজার কাছে দূত পাঠানো হলে সে কোনো পাত্তা তো দেয়ইনি, উল্টো মদীনা আক্র*মণের হুমকি দেয়।

অন্যদিকে যাত-আতলাহ নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল পাঠিয়েছিলেন আমর ইবন কাবের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দলকে। তারা সে অঞ্চলের লোকদের ইসলামের দিকে আহবান করেন কিন্তু তারা এর জবাবে তীর ছুঁড়তে থাকে। আমর ইবন কা'ব ছাড়া সবাই মারা যান। এই ঘটনাগুলো ঘটে মূলত শামে। তৎকালীন শাম ছিল রোমান সাম্রাজ্যের মদদপুষ্ট। তারা শামের মুসলিমদের উপর অত্যাচার করতে থাকে। মাআনের গভর্নর মুসলিম হয়েছে এই খবর শুনে তারা তাকেও হ*ত্যা করে। এভাবেই তৈরি হয় মু'তার যুদ্ধের প্রেক্ষাপট।

•আমীর নির্বাচন •

শামে রোমানদের ভূমি আক্রমণ করার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ তিন হাজার সৈন্যের একটি শক্তিশালী বাহিনী পাঠানো সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত কোন অভিযান পাঠানোর সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ একজন আমীর নিযুক্ত করে দিতেন কিন্তু এবারে ক্রমানুসারে তিনজন সাহাবীকে আমির হিসেবে নিযুক্ত করলেন; যায়িদ ইবন হারিসা, জাফর ইবন আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবন রাওয়াহ।

• ময়দানে •

মুসলিমরা শামে পৌঁছালেন, বর্তমান সময়ের জর্ডান। সেখানে তারা আবিষ্কার করলেন শত্রুপক্ষের এক বিশাল বাহিনী, ২ লক্ষ! রোমান সৈনিকরা কিন্তু বেদুইনদের মতো নয় তারা ছিল পেশাদার, প্রশিক্ষিত এবং অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত। এক মুসলিম সৈনিক এর বিপরীতে ৬৬ জন কাফির সৈনিক! এর আগে মুসলিমরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার সৈন্যের সেনাদলকে সামাল দিয়েছে।

২ লাখ সৈনিকের খবর পেয়ে অনেকেই মুষড়ে পড়েছিলেন। আব্দুলাহ ইবন রাওয়াহ বলে উঠলেন-

"ভাইয়েরা! তোমরা সেই জিনিস কে অপছন্দ করছ যেটা সন্ধানে তোমরা বেরিয়ে এসেছো। সেটা কি? শাহাদাত! আমরা আমাদের সংখ্যা বা শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করছি না। আমাদের শক্তি হলো আমাদের দ্বীন! কাজেই এগিয়ে চলো ভাইয়েরা, আমাদের জন্য দুটো ভালো পরিণতিই অপেক্ষা করছে - হয় শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়, নয়তো শাহা*দাত!"
তার কথা শুনে সকলে প্রাণ ফিরে পেলেন, তারা প্রত্যেকে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠলেন।

আবু হুরায়রা (রঃ) অবাক হয়ে দেখছিলেন দুই লক্ষ সৈন্যের শত্রু বাহিনীকে। তিন হাজার সৈন্য নিয়ে দুই লক্ষ সৈন্যের মুখোমুখি হওয়া মানে নিশ্চিত পরাজয়, মৃত্যু সেখানে অনিবার্য। অ*স্ত্রের ঝনঝনানি, শক্তির প্রদর্শনী, সোনা-রুপার ঝলকানি দেখে আবু হুরায়রার চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল!

বিষয়টা একজন প্রবীণ সাহাবীর নজরে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
- মনে হচ্ছে, তুমি বিশাল একটা বাহিনী দেখছ!
- হ্যাঁ, অবশ্যই! দেখুন না, আমরা কাদের সাথে যু*দ্ধ করতে যাচ্ছি!
- শোনো, বদরের যু*দ্ধে তুমি আমাদের সাথে ছিলে না। সেদিন আমাদের বিজয় সংখ্যার জোরে আসেনি।

বদরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন সংখ্যার উপর বিজয় নির্ভরশীল নয়। বদরে তারা জয়ী হয়েছেন তাদের ঈমানের জোরে। জাহেলিয়াতের মানদন্ডে সংখ্যা আর শক্তিমত্তাই সব। কিন্তু ঈমানের মানদন্ডে সংখ্যায় শেষ কথা নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য ফলাফলের নির্ধারক।

• যু*দ্ধ শুরু •

যাইদ ইবন হারিসা (রঃ) ছিলেন এই যু*দ্ধের প্রথম আমীর। তাঁর হাতে মুসলিম বাহিনীর পতাকা উড়ছে। সবাই দেখলো, বীরের মতো যায়িদ ইবন হারিসা সামনের দিকে ছুটে গেলেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তাদের বাহিনীতে ঢুকে পড়লেন অকুতোভয় এক যুবক। যু*দ্ধ করতে করতে এক সময় শত্রুদের বর্শা আর বল্লমের মাঝে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তাকে আর দেখা গেল না। চারদিক থেকে তীর আর বর্শা ধেয়ে এল তার দিকে। তিনি যু*দ্ধ চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না বর্শার আঘাত তাকে থামিয়ে দেয়। শরীরে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে, শত্রুদের বর্শা তাঁর রক্তে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। যাইদ ইবন হারিসা আল্লাহর পথে শহী*দ হলেন। বীরের মতো পতাকা তুলে নিলেন দ্বিতীয় আমীর জাফর ইবন আবি তালিব (রঃ)।

শত্রুরা এবার ঘিরে ধরলো জাফরকে। সাধারণত সৈনিকরা চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের পতাকাবাহীকে আক্র*মণ করতে। রোমান সৈনিকরা জাফরকে চারপাশ থেকে নিশ্ছিদ্রভাবে ঘেরাও করে ফেললো। জাফর এতটুকু ভয় পেলেন না। তিনি জানতেন কী হতে যাচ্ছে। ঘোড়ায় চড়ে থাকার কারণে তার যু*দ্ধ করতে অসুবিধা হচ্ছিল তাই তিনি ঘোড়া থেকে লাফ দিয়ে নেমে নিজের ঘোড়াকে হত্যা করলেন যেন শত্রুরা সেই ঘোড়াকে কাজে লাগাতে না পারে।

পতাকা ছিল তার ডান হাতে, শত্রুরা ডান হাত কেটে ফেললো। তিনি এবার বাম হাতে পতাকা নিলেন, শত্রুরা বাম হাতও কেটে ফেললো। দুই কাটা হাত দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে, সেদিকে তাঁর ভ্রুক্ষেপ নেই। সেই কাটা দুই হাত দিয়েই জাফর ইসলামের পতাকা বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসছিল তার শরীর, শাহা*দাত হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। জাফর শহী*দ হয়ে গেলেন। তাঁর রবের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ হলো।

জাফরের শরীরের এখানে-সেখানে কম করে হলেও নব্বইটি জখমের চিহ্ন। সেই জখমগুলোর কোনোটিই তার শরীরের পেছনে না, সবগুলোই সামনে। তিনি পিছু হটার মানুষ ছিলেন না।

যু*দ্ধ তখনও চলছে। এবার নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন তৃতীয় আমীর আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রঃ),। পতাকা তুলে নিয়ে তিনি ঘোড়ায় চেপে বসলেন। কবিতার ভাষায় স্বগোতক্তি করলেন,

'হে আমার আত্মা! তুমি আজ আমার শরীর ছেড়ে চলে যাবে! যেতে তোমাকে হবেই, নয়তো জোর করে তোমাকে আমার শরীর ছাড়াবো!"

কিছুক্ষণ পরেই তার স্বপ্ন পূরণ হলো। আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহ্য হন্যে হয়ে শাহা*দাতের সন্ধান করছিলেন। শাহা*দাতও তাকে পরম মমতায় আলিঙ্গন করে নিলো। শত্রুরা তাকে হত্যা করলো। তিনি লাভ করলেন তার কাঙ্ক্ষিত সম্মান শাহা*দাহা

• খালিদ ইবন ওয়ালিদের (রঃ) নেতৃত্বগ্রহণ •

তিন আমীর একে একে শহী*দ হয়ে গেলেন, কিন্তু মুসলিমরা ময়দানে যু*দ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ততক্ষণে দিনের আলো নিভু নিভু। আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার হাত থেকে পড়ে যাওয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেন সাবিত ইবন আরকাম । পতাকা হাতে নিয়ে তিনি নিজেই নিজেকে আমীর ঘোষণা করেননি, বরং চাচ্ছিলেন একজন যোগ্য লোকের হাতে পতাকাটা তুলে দিতে। সাবিত ইবন আরকাম নিজেও একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা। তিনি বদরের যু*দ্ধ করেছেন, সত্যি বলতে তিনি নিজেই আমীর হবার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু তিনি এমন কারো হাতে দায়িত্ব দিতে চাইলেন যে মুসলিম বাহিনীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে আনতে পারবে। পতাকা হাতে তুলে বললেন, ভাইয়েরা! আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর নির্বাচন করো। সাহাবিরা বললেন, “আপনিই এ দায়িত্ব পালন করুন।' সাবিত বললেন, 'না, আমি সেটা করবো না।

সাহাবিরা এরপর খালিদ ইবন ওয়ালিদকে সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করলেন। খালিদ ইবন ওয়ালিদ, যার রণকৌশল নিয়ে নতুন করে কিছু বলাটাও বাহুল্য, তিনি এর আগে অসংখ্য যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যু*দ্ধক্ষেত্রে সেরাদের সেরা এবার আমীর হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। আর এটাই ছিল মুসলিমদের পক্ষে লড়া তাঁর প্রথম যু*দ্ধ। একজন নও মুসলিম হিসেবে জি*হাদে অংশ নিলেও তাঁর উৎসাহ ও উদ্দীপনার কমতি ছিল না। খাঁটি যোদ্ধার মতো লড়াই করলেন, লড়তে লড়তে নয়টা তলোয়ার ভেঙে গেল। একটা ইয়েমেনি তলোয়ার শুধু শেষমেশ রক্ষা পেল!

মু'তার ময়দানে কী হচ্ছে সেই খবর আল্লাহর রাসূলকে ﷺ পৌঁছে দিচ্ছিলেন স্বয়ং জিবরীল (আঃ)। আর তাঁর কাছ থেকে শুনে সাহাবিদের কাছে সেই যু*দ্ধের লাইভ বর্ণনা দিচ্ছিলেন আল্লাহর রাসূল। যাইদ, জাফর এবং আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার শাহা*দতের খবর শুনে তিনি কাঁদতে থাকেন। কিন্তু যখনই জানতে পারলেন খালিদ ইবন ওয়ালিদের হাতে যু*দ্ধের পতাকা, তখনই তিনি সবাইকে বিজয়ের সংবাদ দেন। বললেন, “আল্লাহর তলোয়ারদের মধ্য থেকে একটি তলোয়ার সেই পতাকা তুলে নিল এবং আল্লাহ মুসলিমদের বিজয় দান করলেন।'

প্রথম তিনজন আমীরের শুহাদার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল বলেন, 'তারা এখন যেখানে আছে, সেখানেই বেশি সুখে আছে!' আর খালিদ ইবন ওয়ালিদকে সেইদিন আল্লাহর রাসূল ও একটা নতুন নাম দেন, 'সাইফুম মিন সুয়ূফিল্লাহ' -- আল্লাহর তলোয়ারদের মধ্যে একটি তলোয়ার আল্লাহর রাসূল উপযুক্ত নামকরণই করেছিলেন। খালিদ ইবন ওয়ালিদ আর কোনো যু*দ্ধে পরাজিত হননি।

রাত নেমে এল, যু*দ্ধে বিরতি হলো। খালিদ ইবন ওয়ালিদ ভাবছেন কীভাবে মুসলিম বাহিনীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। যদি তারা দ্রুত পিছু হটেন, তাহলে শত্রুরা তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলতে পারে। সামরিকবিদ্যায় খালিদ ছিলেন একজন মেধাবি সেনাপতি। তিনি এমন একটা কৌশল বের করলেন যাতে মুসলিমরা পশ্চাদপসরণ করবে ধীরে ধীরে কিন্তু শত্রুরা মুসলিমদের ধরতে পারবে না। তিনি সবাইকে বললেন সবাই যেন আরও খানিকক্ষণ ধৈর্য ধরে। রাতের অন্ধকারে তিনি ডান পাশের সৈনিকদলকে বাম পাশে, আর বাম পাশের সৈনিকদের ডান পাশে স্থানান্তর করলেন। সামনের সৈনিকদেরকে পাঠিয়ে দিলেন পেছনে, পতাকাগুলোর অবস্থানও বদলে দিলেন।

খালিদের এই কৌশল চমৎকারভাবে কাজ করলো। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রোমানরা মুসলিম বাহিনীর নতুন চেহারা দেখে ভাবলো নিশ্চয়ই মুসলিম বাহিনীতে অতিরিক্ত সৈন্য যোগ হয়েছে। তারা বলাবলি করতে লাগলো, মুসলিমরা যদি মাত্র তিন হাজার সৈন্য আগের দিন ময়দানে টিকে থাকতে পারে, তাহলে নতুন সৈন্য নিয়ে না জানি তারা কী করবে। এই ভয়ে রোমানরা বেশ মুষড়ে পড়লো এবং পিছিয়ে গেল। খালিদ ঠিক এটাই চাচ্ছিলেন। এই সুযোগে তিনি পুরো বাহিনী নিয়ে মদীনায় নিরাপদে ফিরে এলেন। পুরো মুসলিম বাহিনী ধ্বংস হতে পারতো, কিন্তু খালিদ ইবন ওয়ালিদের (রঃ) অসাধারণ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহ তাআলা সেই বাহিনীকে নিরাপদে মদীনায় ফিরিয়ে আনলেন। দুই লক্ষ সৈনিকের মোকাবেলায় এই যু*দ্ধে মুসলিমদের মধ্যে মাত্র দশ জন শহীদ হন।

• মুসলিম বাহিনীর প্রত্যাবর্তন •

মুসলিম বাহিনী যখন মদীনার কাছাকাছি, তাদের অভ্যর্থনা জানাতে আল্লাহর রাসূল ﷺ ঘোড়ায় চড়ে বেরিয়ে পড়লেন। যে তিন হাজার সৈন্যের বাহিনী দুই লাখ সেনার বিপরীতে সাহসিকতার সাথে যু*দ্ধ করে কৌশলগত কারণে মদীনায় ফিরে এল, সেই বাহিনীই যখন মদীনায় প্রবেশ করলো, মুসলিমরা তাদের দিকে মাটি ছুঁড়ে মারলো! 'ছি! তোমরা যু*দ্ধের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে এসেছো!' আল্লাহর রাসূল তাদের ভুল শুধরে দিয়ে বললেন, না, তারা পালিয়ে আসেনি। তারা ফিরে এসেছে যেন তারা আবার যু*দ্ধ করতে পারে, ইনশাআল্লাহ!”

এই যু*দ্ধে নিজেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনাটাই ছিল বিজয়। তাই যখন আল্লাহর রাসূল ﷺ খবর পেয়েছিলেন খালিদের হাতে বাহিনীর নেতৃত্ব, তখন সবাইকে বলেছিলেন খালিদের হাতে বিজয় আসবে। এখানে লক্ষণীয় মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে আসাটা ছিল সাহাবিদের চোখে লজ্জাজনক পরাজয়। মু'তার যু*দ্ধ পরাজয় ছিল না, কিন্তু তবু তারা প্রথমে মানতে পারছিলেন না কীভাবে মুসলিম বাহিনী ময়দান ছেড়ে আসে। আসলে সে যুগের মুসলিমরা অনেক ইতিবাচকভাবে জীবনটা দেখতেন, আর আমরা আমাদের পরাজিত অবস্থাকে মেনে নিয়ে জিহা*দকেই পরিত্যাগ করে বসেছি।

।| মু'তার যুদ্ধ |।

21/12/2021

জানেন কিভাবে বুঝবেন আপনার আল্লাহ আপনার উপর খুশি কিনা?

তাহলে চলেন একটা টেকনিক জেনে নেই-

আপনি যখন খুঁজতে বের হবেন আল্লাহ আপনার উপর খুশি কিনা তখন যাচাই করবেন আপনি আল্লাহর উপর খুশি কিনা। আল্লাহ আপনার বিষয়ে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তে আপনি প্রশান্ত থাকেন তো?
একটু কোরআন থেকে যদি বলি তাহলে আল্লাহ সূরা ফজরের শেষের চার আয়াতে কি বলেন জানেন? আল্লাহ বলেন "হে প্রশান্ত আত্না, ফিরে আসো তোমার রবের দিকে সন্তুষ্ট ও সন্তোষজন হয়ে এবং আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও"
খেয়াল করেন আল্লাহ প্রশান্ত আত্নাকে বলছেন তাঁর বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে, অর্থাৎ হৃদয় হতে হবে প্রশান্ত।

১. আপনি দীর্ঘ পড়াশোনা শেষে চাকুরীর জন্য ছুটছেন অথচ একটা মাত্র চাকরি মিলছে না আপনি বলুন "আলহামদুলিল্লাহ"।

২. আপনি মাসে ৫-১০ হাজার আয় করেন আর মাস শেষে লবন মেখে ভাত খাওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা তবুও আপনি বলুন "আলহামদুলিল্লাহ"।

৩. পরিবারে মা-বাবার ঝগড়া, স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ ছাড়াও নানান সমস্যা তখনও বলুন "আলহামদুলিল্লাহ"।

মোদ্দা কথা জীবনের যেকোনো মুহূর্তে আপনার রবের সিদ্ধান্তে খুশি থাকুন। হয়তো আপনার একটি বিলাসবহুল বাড়ি আছে আপনি আরেকটার জন্য হৃদয়কে অস্থির করেন না, দুটি বড় কারখানার মালিক তবুও তৃতীয় কারখানা করার চিন্তায় ঘুম হয় না।
এইযে না পাওয়ার হিসাব এটা মিলাতে যাবেন না, আপনার কি ছিল? কি নিয়ে এসেছিলেন?
অথচ, দুবেলা খেতে পারছেন, পরিবার আছে, পোশাক আছে; এগুলো কি দয়া না আপনার রবের? আল্লাহ আপনাকে সেটাই দিয়েছেন যেটা আপনার জন্য ভালো। বলুনতো আপনি আল্লাহকে বেশি ভালোবাসেন না আল্লাহ আপনাকে বেশি ভালোবাসেন? যে রব এতো বেশি মহব্বত করেন তিনি কি ইনসাফ করবেন না আপনার উপর?
একান্তে ভেবে দেখবেন স্বার্থ ছাড়া দুনিয়ায় কোন সম্পর্ক নেই। স্বামী স্ত্রীকে আর স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসে সেখানে স্বার্থ থাকে, এমনকি ২৫-৩০ বছর হয়ে গেলে বাবা-মা ও বেকার ছেলেকে বোঝা মনে করে।
সত্যি ভালোবাসা একজায়গায় আর সেটা রহমানের ভালোবাসা। সন্তুষ্ট থাকুন আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্তে আর এভাবেই সন্তুষ্ট থেকে হোক মৃত্যু তবেই তো আপনাকে ডাকা হবে সন্তুষ্ট আত্না বলে এবং প্রবেশ করতে বলা হবে জান্নাতে।

03/09/2021

একদিন স্বল্পকালীন এই জীবনের সমাপ্তি হয়ে শুরু হবে ওপারের জীবন৷ বুকের মাঝে লালিত স্বপ্নগুলো পূর্ণতা পাবে ঠিক সেদিন, যেদিন মুমিনরা জান্নাতে পা রাখবে। অব্যক্ত দুঃখগুলো সব উবে যাবে জান্নাতের নিলুয়া বাতাসে৷ অশ্রুসিক্ত নিনাদগুলো পূর্ণতা পাবে, জান্নাতের মৃদুমন্ধ বাতাসের প্রথম স্পর্শে।

জান্নাতে মন ভাঙার কোনো গল্প নেই। জান্নাতে কখনো কারো মন খারাপ হবে না৷ সেখানে না পাওয়ার কোনো দুঃখ নেই। আবার পেয়েও হারানোর কোনো কষ্ট নেই। সেখানে থাকবে না কোনো পিছু টান৷ থাকবে না কোনো বারণ৷ থাকবে শুধু সুখ আর সুখ৷ যে সুখে মুমিনরা হাবুডুবু খাবে জনম জনম।
— ইমাম ইবনু আবিদ (রহঃ)

22/08/2021

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে কাদিসিয়্যার যুদ্ধে পাঠালেন। কাদিসিয়্যার যুদ্ধ ছিল ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোর অন্যতম। এ যুদ্ধে পাঠানোর আগে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস-এর প্রতি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নসিহা কী ছিল, জানেন? তিনি তাঁদের বর্ম, তলোয়ার আর তিরগুলোর ব্যাপারে প্রশ্ন করেননি। এগুলো নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না উমার। উমার চিন্তিত ছিলেন সালাত নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, সাদ, সবাই যেন সময়মতো সালাত আদায় করে তা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা আমরা পরাজিত হই আমাদের পাপের কারণে।

সালাত ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে বড় গুনাহ আর কী? আজ উম্মাহর মাঝে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখি, এগুলোর কারণও হলো আমাদের গুনাহ। বিজয়ী হতে হলে, আমাদের এ গুনাহগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বাহিনী প্রেরণের সময় উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছিল সময়মতো সালাত আদায় করা নিয়ে। সালাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তার প্রমাণ ।

17/08/2021
15/08/2021

আমার এক বন্ধু মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে এক লোকের সাথে তার দেখা। লোকটা উমরাহ করতে এসেছে। লোকটা তার কাছে থানার ঠিকানা জানতে চায়। এর পরের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বন্ধুটি বলে, আমি তখন খুবই ব্যস্ত। বিশেষ একটা কোর্সের ক্লাস শুরু হয়ে যাচ্ছে। পরের সপ্তাহেই এই কোর্সের ওপর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এতদসত্ত্বেও আমি তাকে গাড়িতে উঠাই— যাতে গন্তব্যের কাছাকাছি কোথাও তাকে ড্রপ করতে পারি। গাড়িতে ওঠার পর লোকটি বলে, ‘আমি হারামে এসে মানিব্যাগ, মোবাইল, টিকিটসহ আত্ম-পরিচিতিমূলক সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছি। এখন আমি অজ্ঞাতনামা। খেতে পারছি না। কোথাও থাকার মতো জায়গা পাচ্ছি না। কারও সাথে যোগাযোগও করতে পারছি না। এখন আমি ভীষণ ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত। তিন দিন ধরে আমি পথে পথে ভিক্ষা করছি। রাতে রাস্তায় ঘুমাচ্ছি।' এতটুকু বলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাকে খুব বিধ্বস্ত মনে হয়।
আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলি, ‘আল্লাহ আপনাকে প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো থেকে এজন্য বঞ্ছিত করেননি যে, আপনি অন্যের কাছে হাত পাতবেন। নিজেকে ছোট করবেন। বরং তিনি এজন্য এটা করেছেন যে, আপনি তাঁর দিকে ফিরে আসবেন। সজল চোখে তাকে সিজদা করবেন। কাতর সুরে তাঁর কাছে প্রার্থনা করবেন। আর তিনি পরম ভালোবাসায় আপনাকে বরণ করবেন। আপনার সকল প্রয়োজন পূরণ করবেন। এ কথা বলে আমি লোকটির হাতে ৮৩ রিয়াল ধরিয়ে দিই। আমার পকেটে তখন সর্বসাকুল্যে এ কয়টি রিয়ালই ছিল। রিয়ালগুলো পেয়ে লোকটির মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আমি তাকে তার গন্তব্যের কাছাকাছি ড্রপ করে ক্লাসে চলে যাই।

এক সপ্তাহ পর আমার পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা এত কঠিন হয় যে, আশানুরূপ উত্তর লিখতেও পারি না। কাজেই ফলাফল যে খুব ভালো হবে না—সেটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাই এবং সেরকমই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। অথচ রেজাল্টের দিন দেখা যায় যে, ১০০ এর মধ্যে ৮৩ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি—ঠিক যে-পরিমাণ অর্থ সে-দিন লোকটিকে দিয়েছিলাম সে পরিমাণ নম্বরই পেয়েছি।

হ্যাঁ, এমন অনেক কিছুর অস্তিত্ব আপনি যতই অস্বীকার করতে যাবেন ততই স্পষ্ট হয়ে আপনার কাছে ধরা দেবে। যখনই আপনি তা আর শুনতে চাইবেন না তখনই আরও জোরে-শোরে আপনার কানে সে-সবের নাম পৌঁছাবে। হ্যাঁ বন্ধু, তিনিই হলেন আমাদের রব। আল-জাব্বার। তিনিই আপন দয়াগুণে আমার বন্ধুটিকে ওমরা পালনকারীর দুঃখ মোচনে ব্যবহার করেছেন এবং এর মাধ্যমে তার সম্ভাব্য ব্যর্থতা ও হতাশা দূর করেছেন।

12/08/2021

হযরত লোকমান হাকিম (আঃ) এর দেওয়া কিছু উপদেশ যা মেনে চললে একজন দুনিয়া ও আখেরাত উভয়েই সফল হতে পারবে।

07/08/2021

আবু বকর (রাঃ) -
তাঁর পূর্ণ নাম ছিল 'আব্দুল্লাহ ইবন্ উসমান ইবন্ আল-আমির ইবন্ আল-আমর ইবন আল-কুরাইশ'। তিনি ছিলেন কুরাইশ গোত্রের এবং তার শারীরিক গঠন ছিল কিছুটা চিকন ও উজ্জ্বল বর্ণের। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। উমর (রাঃ) যখন তার কীর্তি, ত্যাগ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতেন তখন তিনি বলতেন "ও! আবু বকর (রাঃ) আপনার পরবর্তী খলিফার জন্য কতো উচু মানদন্ড রেখে যাচ্ছেন আপনি।"
তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন সকলকে উদারতায়, শালীনতায়, কোরআন পাঠে, সিয়াম পালনে। আলী (রঃ) এইজন্য বলতেন "তুমি যদি ভালো কিছু করার চিন্তা করো তবে তুমি দেখবে আবু বকর (রাঃ) ইতোপূর্বে তা করে রেখেছেন।"
তিনিই ছিলেন প্রথম স্বাধীন ইসলাম গ্রহণকারী। তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের দিকে আসেন সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ), ত্বলহা ইবন উবাইদুল্লাহ (রাঃ) প্রমুখ সাহাবি। তিনি এতটাই পবিত্র মনের অধিকারী ছিলেন যে কখনো মদ পান করেননি, ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও না। নবীজি (সঃ) তাকে নিয়ে বলেন "আমি আবু বকর (রঃ)-কে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া মাত্র কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।"
আল্লাহর রসুলের প্রতি তার বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় ছিল যে যখন মক্কার কাফেররা তাকে বলে "তোমার বন্ধু মুহাম্মদ (সঃ) বলছে সে এক রাতেই কিনা মক্কায় থেকে আল-আকসা গিয়েছিল এবং সেখান থেকে উপর আসমানে গিয়েছিল, এই কথা শুনেও কি তুমি তাকে বিশ্বাস করবে?" এ কথা শুনে আবু বকর (রাঃ) বললেন "আল্লাহর রসূল যদি এ কথা বলে থাকেন তাহলে আমি এটাই বিশ্বাস করি।" সুবহানাল্লাহ! কতটা দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে একজন কোন প্রকার দ্বিধা ছাড়াই শোনা মাত্র মেনে নিতে পারেন। এজন্যই তার উপাধি ছিল সিদ্দিক।
ইসলামের শুরুর দিনগুলোতে একদিন রাসূল (সঃ) এবং আবু বকর (রাঃ) কাবায় ছিলেন, কিছু কাফেরেরা রসূলকে (সঃ) গালাগালি করছিল এবং আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসল; আবু বকর (রাঃ) যদিও আকারে তেমন বড় ছিলেন না কিন্তু তার ঈমান এতো মজবুত ছিল যা পাহাড় কেউ কাঁপিয়ে দিত; তিনি রসূলকে (সঃ) বাঁচানোর জন্য সব কাফেরের সামনে একা দাঁড়িয়ে পড়লেন, মক্কার কাফেররা তাকে এত অত্যাচার করল যে তিনি বেহুশ হয়ে গেলেন পরবর্তীতে যখন তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো এবং প্রায় একদিন পর যখন তার হুশ ফিরল তখন তিনি জীবন-মৃত্যুর ভিতরেও প্রথম যে প্রশ্নটা করলেন "আল্লাহর রাসূল (সঃ) কেমন আছেন?" কি অকল্পনীয় ভালোবাসা ছিল তাঁর নবীজির (সঃ) প্রতি!

ইসলামের ইতিহাসের এই মহান ব্যক্তিকে নিয়ে আরো আলোচনা করা হবে ২য় পর্বে ইনশাআল্লাহ।
শেয়ার করার মাধ্যমে অন্যদের সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-দের জীবনী সম্পর্কে জানিয়ে দিন। উজ্জীবিত হয়ে উঠুক প্রতিটি হৃদয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের ইতিহাস যেনে।

20/07/2021

তাকব্বাল্লাহু মিননা ওয়া মিনকুম
ঈদের অনেক শুভেচ্ছা সকলকে 🌙

আল্লাহ আপনাদের ও আমাদেরকে জান্নাত নসিব করুন।
আমিন

18/07/2021

একদা নবীজি (সঃ) কে আবু জাহল আশালীন কথা বলে, গালাগালি করে। আব্দুল্লাহ ইবনে জুদআন এর বাদী যখন হযরত হামযা রাযি.-কে আবু জাহলের অশালীন ও অসঙ্গত কথা বলার সংবাদ প্রদান করেন, তখন হযরত হামযা রাযি. রাগে-ক্রোধে জ্বলে উঠেন।

হযরত হামযা রাযি. সে সাথে ক্রোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠলেন, আল্লাহ তাআলা তখন এর দ্বারা তার মর্যাদা বৃদ্ধির ইচ্ছা করলেন।' এ কথার দ্বারা বুঝা গেল, আল্লাহ তাআলা যখন কোন বান্দার মঙ্গলের ফয়সালা করেন তখন তার অন্তরে দুশমনদের প্রতি ক্রোধ ও অনীহা সৃষ্টি করে দেন। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা এবং আল্লাহদ্রোহী ব্যক্তি ও মত-পথের প্রতি ঘৃণা যখন সম পরিমাণ থাকবে তখনই তা পরিপূর্ণ ঈমান বলে গণ্য হবে। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে : রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন, "যে ব্যক্তি কাউকে আল্লাহরই কারণে ভালবাসে এবং কাউকে আল্লাহরই জন্য ঘৃণা করে তার ঈমান পরিপূর্ণ।" আল্লাহর জন্য ভালবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা-এ দুইটি বিষয় একের সাথে অপরটি জড়িত। একটি থেকে অপরটি মোটেই বিচ্ছিন্ন নয়, তাই একটির উপস্থিতিতে অন্যটিরও উপস্থিতি আবশ্যিকভাবে ঘটে থাকে। একটির উপস্থিতিতে অন্যটির অনুপস্থিতি মোটেই সম্ভব নয়। তবে কখনো আল্লাহর জন্য ভালবাসা প্রবল হয় এবং তার প্রকাশ ঘটে পূর্বে আবার কখনো তার বিপরীতটিও ঘটে। উভয় বৈশিষ্ট্যের মাঝে আল্লাহর জন্য ভালবাসাই হচ্ছে প্রধান।
এ থেকে বোঝা গেল হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা যেমন রাখতে হবে তেমনি আল্লাহদ্রোহীদের উপর ঘৃণাও রাখতে হবে নতুবা অন্তরে মুনাফেকি জাগ্রত হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka