03/02/2023
• প্রেক্ষাপট •
মু'তার যু*দ্ধকে বলা যেতে পারে একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা বিন্দু, কেননা এর মাধ্যমে মুসলিমরা বিশ্বের তৎকালীন 'সুপার-পাওয়ার' রোমানদের সাথে সংঘাতে প্রবেশ করে।
এই যু*দ্ধে মুসলিমদের বিপক্ষ শক্তি ছিল আরবের গাসসান গোত্র এবং বায়োজেন্টাইন বা পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য।
হুদাইবিয়ার সন্ধির পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে আরবের উত্তরদিকের গোত্রগুলোর সামরিক তৎপরতা বেড়ে যায়। বিষয়টা বেশ গুরুতর পর্যায় ধারণ করে যখন তারা আল-হারিস (রঃ) হ*ত্যা করে। আল-হারিস ছিলেন আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে রোমান গভর্নরের কাছে প্রেরিত দূত। দামাস্কাসের রাজার কাছে দূত পাঠানো হলে সে কোনো পাত্তা তো দেয়ইনি, উল্টো মদীনা আক্র*মণের হুমকি দেয়।
অন্যদিকে যাত-আতলাহ নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল পাঠিয়েছিলেন আমর ইবন কাবের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দলকে। তারা সে অঞ্চলের লোকদের ইসলামের দিকে আহবান করেন কিন্তু তারা এর জবাবে তীর ছুঁড়তে থাকে। আমর ইবন কা'ব ছাড়া সবাই মারা যান। এই ঘটনাগুলো ঘটে মূলত শামে। তৎকালীন শাম ছিল রোমান সাম্রাজ্যের মদদপুষ্ট। তারা শামের মুসলিমদের উপর অত্যাচার করতে থাকে। মাআনের গভর্নর মুসলিম হয়েছে এই খবর শুনে তারা তাকেও হ*ত্যা করে। এভাবেই তৈরি হয় মু'তার যুদ্ধের প্রেক্ষাপট।
•আমীর নির্বাচন •
শামে রোমানদের ভূমি আক্রমণ করার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ তিন হাজার সৈন্যের একটি শক্তিশালী বাহিনী পাঠানো সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত কোন অভিযান পাঠানোর সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ একজন আমীর নিযুক্ত করে দিতেন কিন্তু এবারে ক্রমানুসারে তিনজন সাহাবীকে আমির হিসেবে নিযুক্ত করলেন; যায়িদ ইবন হারিসা, জাফর ইবন আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবন রাওয়াহ।
• ময়দানে •
মুসলিমরা শামে পৌঁছালেন, বর্তমান সময়ের জর্ডান। সেখানে তারা আবিষ্কার করলেন শত্রুপক্ষের এক বিশাল বাহিনী, ২ লক্ষ! রোমান সৈনিকরা কিন্তু বেদুইনদের মতো নয় তারা ছিল পেশাদার, প্রশিক্ষিত এবং অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত। এক মুসলিম সৈনিক এর বিপরীতে ৬৬ জন কাফির সৈনিক! এর আগে মুসলিমরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার সৈন্যের সেনাদলকে সামাল দিয়েছে।
২ লাখ সৈনিকের খবর পেয়ে অনেকেই মুষড়ে পড়েছিলেন। আব্দুলাহ ইবন রাওয়াহ বলে উঠলেন-
"ভাইয়েরা! তোমরা সেই জিনিস কে অপছন্দ করছ যেটা সন্ধানে তোমরা বেরিয়ে এসেছো। সেটা কি? শাহাদাত! আমরা আমাদের সংখ্যা বা শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করছি না। আমাদের শক্তি হলো আমাদের দ্বীন! কাজেই এগিয়ে চলো ভাইয়েরা, আমাদের জন্য দুটো ভালো পরিণতিই অপেক্ষা করছে - হয় শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়, নয়তো শাহা*দাত!"
তার কথা শুনে সকলে প্রাণ ফিরে পেলেন, তারা প্রত্যেকে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠলেন।
আবু হুরায়রা (রঃ) অবাক হয়ে দেখছিলেন দুই লক্ষ সৈন্যের শত্রু বাহিনীকে। তিন হাজার সৈন্য নিয়ে দুই লক্ষ সৈন্যের মুখোমুখি হওয়া মানে নিশ্চিত পরাজয়, মৃত্যু সেখানে অনিবার্য। অ*স্ত্রের ঝনঝনানি, শক্তির প্রদর্শনী, সোনা-রুপার ঝলকানি দেখে আবু হুরায়রার চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল!
বিষয়টা একজন প্রবীণ সাহাবীর নজরে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
- মনে হচ্ছে, তুমি বিশাল একটা বাহিনী দেখছ!
- হ্যাঁ, অবশ্যই! দেখুন না, আমরা কাদের সাথে যু*দ্ধ করতে যাচ্ছি!
- শোনো, বদরের যু*দ্ধে তুমি আমাদের সাথে ছিলে না। সেদিন আমাদের বিজয় সংখ্যার জোরে আসেনি।
বদরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন সংখ্যার উপর বিজয় নির্ভরশীল নয়। বদরে তারা জয়ী হয়েছেন তাদের ঈমানের জোরে। জাহেলিয়াতের মানদন্ডে সংখ্যা আর শক্তিমত্তাই সব। কিন্তু ঈমানের মানদন্ডে সংখ্যায় শেষ কথা নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য ফলাফলের নির্ধারক।
• যু*দ্ধ শুরু •
যাইদ ইবন হারিসা (রঃ) ছিলেন এই যু*দ্ধের প্রথম আমীর। তাঁর হাতে মুসলিম বাহিনীর পতাকা উড়ছে। সবাই দেখলো, বীরের মতো যায়িদ ইবন হারিসা সামনের দিকে ছুটে গেলেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তাদের বাহিনীতে ঢুকে পড়লেন অকুতোভয় এক যুবক। যু*দ্ধ করতে করতে এক সময় শত্রুদের বর্শা আর বল্লমের মাঝে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তাকে আর দেখা গেল না। চারদিক থেকে তীর আর বর্শা ধেয়ে এল তার দিকে। তিনি যু*দ্ধ চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না বর্শার আঘাত তাকে থামিয়ে দেয়। শরীরে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে, শত্রুদের বর্শা তাঁর রক্তে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। যাইদ ইবন হারিসা আল্লাহর পথে শহী*দ হলেন। বীরের মতো পতাকা তুলে নিলেন দ্বিতীয় আমীর জাফর ইবন আবি তালিব (রঃ)।
শত্রুরা এবার ঘিরে ধরলো জাফরকে। সাধারণত সৈনিকরা চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের পতাকাবাহীকে আক্র*মণ করতে। রোমান সৈনিকরা জাফরকে চারপাশ থেকে নিশ্ছিদ্রভাবে ঘেরাও করে ফেললো। জাফর এতটুকু ভয় পেলেন না। তিনি জানতেন কী হতে যাচ্ছে। ঘোড়ায় চড়ে থাকার কারণে তার যু*দ্ধ করতে অসুবিধা হচ্ছিল তাই তিনি ঘোড়া থেকে লাফ দিয়ে নেমে নিজের ঘোড়াকে হত্যা করলেন যেন শত্রুরা সেই ঘোড়াকে কাজে লাগাতে না পারে।
পতাকা ছিল তার ডান হাতে, শত্রুরা ডান হাত কেটে ফেললো। তিনি এবার বাম হাতে পতাকা নিলেন, শত্রুরা বাম হাতও কেটে ফেললো। দুই কাটা হাত দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে, সেদিকে তাঁর ভ্রুক্ষেপ নেই। সেই কাটা দুই হাত দিয়েই জাফর ইসলামের পতাকা বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসছিল তার শরীর, শাহা*দাত হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। জাফর শহী*দ হয়ে গেলেন। তাঁর রবের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ হলো।
জাফরের শরীরের এখানে-সেখানে কম করে হলেও নব্বইটি জখমের চিহ্ন। সেই জখমগুলোর কোনোটিই তার শরীরের পেছনে না, সবগুলোই সামনে। তিনি পিছু হটার মানুষ ছিলেন না।
যু*দ্ধ তখনও চলছে। এবার নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন তৃতীয় আমীর আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রঃ),। পতাকা তুলে নিয়ে তিনি ঘোড়ায় চেপে বসলেন। কবিতার ভাষায় স্বগোতক্তি করলেন,
'হে আমার আত্মা! তুমি আজ আমার শরীর ছেড়ে চলে যাবে! যেতে তোমাকে হবেই, নয়তো জোর করে তোমাকে আমার শরীর ছাড়াবো!"
কিছুক্ষণ পরেই তার স্বপ্ন পূরণ হলো। আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহ্য হন্যে হয়ে শাহা*দাতের সন্ধান করছিলেন। শাহা*দাতও তাকে পরম মমতায় আলিঙ্গন করে নিলো। শত্রুরা তাকে হত্যা করলো। তিনি লাভ করলেন তার কাঙ্ক্ষিত সম্মান শাহা*দাহা
• খালিদ ইবন ওয়ালিদের (রঃ) নেতৃত্বগ্রহণ •
তিন আমীর একে একে শহী*দ হয়ে গেলেন, কিন্তু মুসলিমরা ময়দানে যু*দ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ততক্ষণে দিনের আলো নিভু নিভু। আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার হাত থেকে পড়ে যাওয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেন সাবিত ইবন আরকাম । পতাকা হাতে নিয়ে তিনি নিজেই নিজেকে আমীর ঘোষণা করেননি, বরং চাচ্ছিলেন একজন যোগ্য লোকের হাতে পতাকাটা তুলে দিতে। সাবিত ইবন আরকাম নিজেও একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা। তিনি বদরের যু*দ্ধ করেছেন, সত্যি বলতে তিনি নিজেই আমীর হবার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু তিনি এমন কারো হাতে দায়িত্ব দিতে চাইলেন যে মুসলিম বাহিনীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে আনতে পারবে। পতাকা হাতে তুলে বললেন, ভাইয়েরা! আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর নির্বাচন করো। সাহাবিরা বললেন, “আপনিই এ দায়িত্ব পালন করুন।' সাবিত বললেন, 'না, আমি সেটা করবো না।
সাহাবিরা এরপর খালিদ ইবন ওয়ালিদকে সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করলেন। খালিদ ইবন ওয়ালিদ, যার রণকৌশল নিয়ে নতুন করে কিছু বলাটাও বাহুল্য, তিনি এর আগে অসংখ্য যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যু*দ্ধক্ষেত্রে সেরাদের সেরা এবার আমীর হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। আর এটাই ছিল মুসলিমদের পক্ষে লড়া তাঁর প্রথম যু*দ্ধ। একজন নও মুসলিম হিসেবে জি*হাদে অংশ নিলেও তাঁর উৎসাহ ও উদ্দীপনার কমতি ছিল না। খাঁটি যোদ্ধার মতো লড়াই করলেন, লড়তে লড়তে নয়টা তলোয়ার ভেঙে গেল। একটা ইয়েমেনি তলোয়ার শুধু শেষমেশ রক্ষা পেল!
মু'তার ময়দানে কী হচ্ছে সেই খবর আল্লাহর রাসূলকে ﷺ পৌঁছে দিচ্ছিলেন স্বয়ং জিবরীল (আঃ)। আর তাঁর কাছ থেকে শুনে সাহাবিদের কাছে সেই যু*দ্ধের লাইভ বর্ণনা দিচ্ছিলেন আল্লাহর রাসূল। যাইদ, জাফর এবং আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার শাহা*দতের খবর শুনে তিনি কাঁদতে থাকেন। কিন্তু যখনই জানতে পারলেন খালিদ ইবন ওয়ালিদের হাতে যু*দ্ধের পতাকা, তখনই তিনি সবাইকে বিজয়ের সংবাদ দেন। বললেন, “আল্লাহর তলোয়ারদের মধ্য থেকে একটি তলোয়ার সেই পতাকা তুলে নিল এবং আল্লাহ মুসলিমদের বিজয় দান করলেন।'
প্রথম তিনজন আমীরের শুহাদার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল বলেন, 'তারা এখন যেখানে আছে, সেখানেই বেশি সুখে আছে!' আর খালিদ ইবন ওয়ালিদকে সেইদিন আল্লাহর রাসূল ও একটা নতুন নাম দেন, 'সাইফুম মিন সুয়ূফিল্লাহ' -- আল্লাহর তলোয়ারদের মধ্যে একটি তলোয়ার আল্লাহর রাসূল উপযুক্ত নামকরণই করেছিলেন। খালিদ ইবন ওয়ালিদ আর কোনো যু*দ্ধে পরাজিত হননি।
রাত নেমে এল, যু*দ্ধে বিরতি হলো। খালিদ ইবন ওয়ালিদ ভাবছেন কীভাবে মুসলিম বাহিনীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। যদি তারা দ্রুত পিছু হটেন, তাহলে শত্রুরা তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলতে পারে। সামরিকবিদ্যায় খালিদ ছিলেন একজন মেধাবি সেনাপতি। তিনি এমন একটা কৌশল বের করলেন যাতে মুসলিমরা পশ্চাদপসরণ করবে ধীরে ধীরে কিন্তু শত্রুরা মুসলিমদের ধরতে পারবে না। তিনি সবাইকে বললেন সবাই যেন আরও খানিকক্ষণ ধৈর্য ধরে। রাতের অন্ধকারে তিনি ডান পাশের সৈনিকদলকে বাম পাশে, আর বাম পাশের সৈনিকদের ডান পাশে স্থানান্তর করলেন। সামনের সৈনিকদেরকে পাঠিয়ে দিলেন পেছনে, পতাকাগুলোর অবস্থানও বদলে দিলেন।
খালিদের এই কৌশল চমৎকারভাবে কাজ করলো। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রোমানরা মুসলিম বাহিনীর নতুন চেহারা দেখে ভাবলো নিশ্চয়ই মুসলিম বাহিনীতে অতিরিক্ত সৈন্য যোগ হয়েছে। তারা বলাবলি করতে লাগলো, মুসলিমরা যদি মাত্র তিন হাজার সৈন্য আগের দিন ময়দানে টিকে থাকতে পারে, তাহলে নতুন সৈন্য নিয়ে না জানি তারা কী করবে। এই ভয়ে রোমানরা বেশ মুষড়ে পড়লো এবং পিছিয়ে গেল। খালিদ ঠিক এটাই চাচ্ছিলেন। এই সুযোগে তিনি পুরো বাহিনী নিয়ে মদীনায় নিরাপদে ফিরে এলেন। পুরো মুসলিম বাহিনী ধ্বংস হতে পারতো, কিন্তু খালিদ ইবন ওয়ালিদের (রঃ) অসাধারণ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহ তাআলা সেই বাহিনীকে নিরাপদে মদীনায় ফিরিয়ে আনলেন। দুই লক্ষ সৈনিকের মোকাবেলায় এই যু*দ্ধে মুসলিমদের মধ্যে মাত্র দশ জন শহীদ হন।
• মুসলিম বাহিনীর প্রত্যাবর্তন •
মুসলিম বাহিনী যখন মদীনার কাছাকাছি, তাদের অভ্যর্থনা জানাতে আল্লাহর রাসূল ﷺ ঘোড়ায় চড়ে বেরিয়ে পড়লেন। যে তিন হাজার সৈন্যের বাহিনী দুই লাখ সেনার বিপরীতে সাহসিকতার সাথে যু*দ্ধ করে কৌশলগত কারণে মদীনায় ফিরে এল, সেই বাহিনীই যখন মদীনায় প্রবেশ করলো, মুসলিমরা তাদের দিকে মাটি ছুঁড়ে মারলো! 'ছি! তোমরা যু*দ্ধের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে এসেছো!' আল্লাহর রাসূল তাদের ভুল শুধরে দিয়ে বললেন, না, তারা পালিয়ে আসেনি। তারা ফিরে এসেছে যেন তারা আবার যু*দ্ধ করতে পারে, ইনশাআল্লাহ!”
এই যু*দ্ধে নিজেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনাটাই ছিল বিজয়। তাই যখন আল্লাহর রাসূল ﷺ খবর পেয়েছিলেন খালিদের হাতে বাহিনীর নেতৃত্ব, তখন সবাইকে বলেছিলেন খালিদের হাতে বিজয় আসবে। এখানে লক্ষণীয় মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে আসাটা ছিল সাহাবিদের চোখে লজ্জাজনক পরাজয়। মু'তার যু*দ্ধ পরাজয় ছিল না, কিন্তু তবু তারা প্রথমে মানতে পারছিলেন না কীভাবে মুসলিম বাহিনী ময়দান ছেড়ে আসে। আসলে সে যুগের মুসলিমরা অনেক ইতিবাচকভাবে জীবনটা দেখতেন, আর আমরা আমাদের পরাজিত অবস্থাকে মেনে নিয়ে জিহা*দকেই পরিত্যাগ করে বসেছি।
।| মু'তার যুদ্ধ |।