13/05/2026
১০টি অবস্থা। ১০টি আয়াত। আর প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহ শিফার দরজা রেখেছেন
কখনো এমন হয়েছে — শরীর অসুস্থ, মন ভেঙে আছে, আর আপনি শুধু একটা দোয়া খুঁজছেন?
এটা শুধু আপনার ঘটনা না। লক্ষ মানুষের ঘটনা। আমার-আপনার ঘরের ঘটনা। ওষুধ চলে, রিপোর্ট দেখা হয়, ডাক্তার দেখানো হয় — তবুও বুকের ভেতর ভয় থাকে। কারণ মানুষ চেষ্টা করে, কিন্তু শিফা দেন আল্লাহ।
কুরআন শুধু হিদায়াতের কিতাব নয়। কুরআন ভাঙা অন্তরের সান্ত্বনা, অসুস্থ শরীরের আশা, অস্থির মনের শান্তি।
থামুন।
এই কথাটা মনে রাখুন — শিফা আল্লাহর হাতে।
যখন জ্বরে শরীর পুড়ে যায়, দুর্বলতায় বিছানা ছেড়ে উঠতে কষ্ট হয়, তখন ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এই কথাটা পড়তে পারেন।
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
উচ্চারণ: ওয়া ইযা মারিদতু ফাহুয়া ইয়াশফীন।
অর্থ: “আর আমি অসুস্থ হলে তিনিই আমাকে সুস্থ করেন।”
(সূরা আশ-শু‘আরা: ৮০)
পানিতে ফুঁ দিয়ে বা শরীরে হাত বুলিয়ে ৭ বার পড়তে পারেন।
যখন মন অস্থির, চিন্তা থামছে না, বুকের ভেতর অজানা ভয় — তখন এই আয়াত অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়।
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
উচ্চারণ: আলা বিযিকরিল্লাহি তাতমাইন্নুল কুলূব।
অর্থ: “জেনে রাখো — আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় শান্ত হয়।”
(সূরা রা‘দ: ২৮)
চুপ করে বসে ১১ বার পড়তে পারেন। ধীরে ধীরে। মন দিয়ে।
যখন বুক ভার লাগে, মনে হয় সব পথ বন্ধ — তখন আল্লাহ বলেন, কষ্টের পাশেই স্বস্তি আছে।
فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
উচ্চারণ: ফা ইন্না মা‘আল উসরি ইউসরা।
অর্থ: “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।”
(সূরা আশ-শারহ: ৫)
ফজরের পর সূরা আশ-শারহ ৩ বার পড়তে পারেন।
যখন বদনজর, হিংসা বা অকারণ অশান্তি মনে হয় — আল্লাহর আশ্রয়ে ফিরে যান।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
উচ্চারণ: কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক।
অর্থ: “বলুন, আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের রবের কাছে।”
(সূরা আল-ফালাক: ১)
সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার পড়তে পারেন।
যখন রাতে ভয় লাগে, ঘুম আসে না — মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চান।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
উচ্চারণ: কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন নাস।
অর্থ: “বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে।”
(সূরা আন-নাস: ১)
ঘুমানোর আগে ৩ বার পড়ে শরীরে ফুঁ দিতে পারেন।
যখন কান্না আসে, কিন্তু কাউকে বলা যায় না — তখন সুন্দর ধৈর্যের দরজা খুলুন।
فَصَبْرٌ جَمِيلٌ
উচ্চারণ: ফাসাবরুন জামীল।
অর্থ: “তাই ধৈর্যই উত্তম।”
(সূরা ইউসুফ: ১৮)
সূরা ইউসুফ শুনতে পারেন, তিলাওয়াত করতে পারেন।
যখন শরীরে ব্যথা, মনেও ক্লান্তি — তখন কুরআনের শিফার কথা মনে করুন।
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ওয়া নুনাযযিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রহমাতুল লিল মুমিনীন।
অর্থ: “আমি কুরআনে এমন কিছু নাযিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”
(সূরা আল-ইসরা: ৮২)
ব্যথার জায়গায় হাত রেখে ৭ বার পড়তে পারেন।
যখন অপারেশন, রিপোর্ট বা বড় সিদ্ধান্ত সামনে — মূসা আলাইহিস সালামের দোয়া পড়ুন।
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
উচ্চারণ: রাব্বিশরাহ লী সদরী, ওয়া ইয়াসসির লী আমরী।
অর্থ: “হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করুন এবং আমার কাজ সহজ করুন।”
(সূরা ত্বহা: ২৫-২৬)
১১ বার পড়তে পারেন। বুকের ভেতর থেকে।
যখন মৃত্যুভয় আসে — সূরা মুলক পড়ার অভ্যাস করুন। আর হৃদয় ক্লান্ত হলে সূরা ফাতিহায় ফিরুন।
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন।
অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের রব।”
(সূরা আল-ফাতিহা: ২)
পানিতে পড়ে ফুঁ দিয়ে পান করতে পারেন।
১০টি অবস্থা — এক নজরে
১. জ্বর — সূরা আশ-শু‘আরা: ৮০
২. অস্থিরতা — সূরা রা‘দ: ২৮
৩. বুকের চাপ — সূরা আশ-শারহ: ৫
৪. বদনজর — সূরা ফালাক
৫. ভয় — সূরা নাস
৬. হতাশা — সূরা ইউসুফ: ১৮
৭. ব্যথা — সূরা ইসরা: ৮২
৮. বড় সিদ্ধান্ত — সূরা ত্বহা: ২৫-২৬
৯. মৃত্যুভয় — সূরা মুলক
১০. হৃদয়ের শিফা — সূরা ফাতিহা
📘 আরও জানতে চাইলে
“আয়াতে শিফা: রোগ ও চিকিৎসার আমল” বইটি আপনার জন্য একটি প্রয়োজনীয় সাথী হতে পারে।
✔️ রোগভিত্তিক কুরআনিক দোয়া
✔️ আয়াতে শিফা ও সহজ আমল
✔️ রুকইয়াহ ও সহজ ব্যাখ্যা
অর্ডার করতে ইনবক্স করুন
বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন: 01984-563362
লিখুন: আয়াতে শিফা বই চাই
মনে রাখবেন!
চিকিৎসা নিন। ওষুধ খান। ডাক্তারের পরামর্শ মানুন। আর কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখুন। কারণ মানুষ চেষ্টা করে — কিন্তু শিফা দেন আল্লাহ।
হে আল্লাহ, আমাদের অসুস্থদের শিফা দিন, ভাঙা অন্তরগুলোকে শান্ত করুন, আর আমাদের কুরআনের সাথে জীবন্ত সম্পর্ক দিন। আমিন।
আপনার এখন কোন অবস্থাটা সবচেয়ে বেশি দরকার — কমেন্টে শুধু লিখুন: ১ / ২ / ৩ / ৪ / ৫ / ৬ / ৭ / ৮ / ৯ / ১০
রেফারেন্স: সূরা আশ-শু‘আরা: ৮০, সূরা রা‘দ: ২৮, সূরা আশ-শারহ: ৫-৬, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা ইউসুফ: ১৮, সূরা ইসরা: ৮২, সূরা ত্বহা: ২৫-২৬, সূরা ফাতিহা: ২, সহিহ বুখারি: ৫০১৭ ও ৫৭৩৬, সুনানে তিরমিযি: ২৮৯১
/EKRAMHOSSAIN
01/04/2026
13/09/2025
17/08/2025
17/03/2024