Light of Quran and Sunnah-কুরআন ও সুন্নাহের আলো
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Light of Quran and Sunnah-কুরআন ও সুন্নাহের আলো, Education, Dhaka.
29/05/2022
যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সালাতে রয়েছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি!
===========================================
প্রশ্ন: ক) হাদিসে পড়েছি, “যে ব্যক্তি যোহরের পরে ৪ রাকাত সুন্নত পড়বে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।” প্রশ্ন হল, এ ৪ রাকআত নামায কি যোহরের ফরযের পরের দু রাকআত সুন্নতে রাতেবা (নিয়মিত সুন্নতে মুআক্কাদা) এর পরে অতিরিক্ত পড়তে হবে নাকি সে দুই রাকআতের সাথে আরও দু রাকআত যুক্ত করে মোট ৪ রাকআত পড়তে হবে?
প্রশ্ন খ) যোহরের পরে এই ৪ রাকআত নামাযের নিয়ত কিভাবে করব?
🔺️উওর: ক) যোহরের পূর্বে ৪ রাকআত এবং পরে ৪ রাকআত সালাত পড়ার ব্যাপারে হাদিসে বিশাল ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।
নিম্নে এ ব্যাপারে দুটি হাদিস পেশ করা হল:
▪ ১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহধর্মীনী উম্মে হাবিবা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
مَنْ صَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعًا بَعْدَهَا لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ
“যে ব্যক্তি যোহরের আগে চার রাকাআত এবং পরে চার রাকাআত নামায পড়বে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্ষ করবে না।” (সুনান নাসাঈ, হা/ ১৮১৭ ও তিরমিযী হা/৪২৮)
▪২) আবু দাউদ ও তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে:
مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ
“যে ব্যক্তি যোহরের আগে চার রাকাআত ও পরে চার রাকাআতের উপর যত্মশীল হবে আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।” (ইমাম তিরমিযী বলে, এ হাদিসটি হাসান-সহীহ, শাইখ আলবানীও উক্ত হাদীসটিকে সহীহ বলে সাব্যস্ত করেছেন)
🔸 এই চার রাকআত হল, যোহরের পরে দু রাকাআত সুন্নতে রাতেবা (নিয়মিত সুন্নতে মুআক্কাদা) এর সাথে আরও দু রাকআত যুক্ত করে মোট ৪ রাকাআত।
🔸 এই ৪ রাকআত পড়ার নিয়ম হল, যোহরের চার রাকআত ফরয সালাত শেষে দু রাকআত পড়ে সালাম ফিরানোর পরে আরও দু রাকআত আদায় করা।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- যা কখনো ছাড়া উচিৎ নয়-তা হল, যোহরের আগে চার রাকআত আর পরে দু রাকআত। তবে কেউ যদি পরে আরও দু রাকাআত যুক্ত করে চার রাকাআত পড়ে তবে সে সুন্নত মোতাবেক আমল করবে এবং এর মাধ্যমে লাভ করবে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার বিশাল মর্যাদা। আল্লাহ তাওফীক দান করুন। আমীন।
🔺️উওর: খ)যোহরের পরে দু রাকআত নিয়মিত সুন্নতে রাতেবা বা নিয়মিত সুন্নতে মু্আক্কাদার অন্তর্ভূক্ত। তাই এ দু রাকআত সুন্নতে রাতেবা বা সুন্নতে মুআক্কাদার নিয়তেই আদায় করবেন। কিন্তু তার পরের দু রাকআত সুন্নতে রাতেবা নয় বরং সাধারণ নফল। তাই তা সাধারণ নফলের নিয়তে আদায় করবেন।
এভাবে যদি মোট ৪ রাকআত আদায় করা হয় তাহলে উপরোক্ত হাদিস অনুসারে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সকলকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাযত করেন। আমীন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।
29/05/2022
এক পায়ে স্যান্ডেল পরা
▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰
আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ.কে এক পায়ে স্যান্ডেল পরে হাঁটা প্রসঙ্গে একটি হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল।
তিনি বললেন, হাদীসের বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী এক পায়ে স্যান্ডেল পড়ে হাঁটা হারাম।
প্রশ্নকারী: যদি এক পায়ে স্যান্ডেল পরে অন্যটি খোঁজ করা হয় তাহলে কি সমস্যা আছে?
বিন বায : না, অন্যটি না পাওয়া পর্যন্ত এক পায়ে স্যান্ডেল পরবে না।
প্রশ্নকারী: এভাবে এক ধাপও কি হাঁটা ঠিক নয়?
বিন বায: যদি পারো যে, এক ধাপেও আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘন করবে না তবে তাই করো।
সুন্নাহর অনুসরণ ও হারাম বর্জন জীবনের ছোট-বড় সকল ক্ষেত্রে
▰▰▰▰▰▰▰▰▰
*আসুন জেনে নেই, এক পায়ে স্যান্ডেল পরে হাঁটা প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসগুলো:*
১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(( لا يمشِ أحدكم في نعلٍ واحدةٍ ؛ لينعلهما جميعًا ، أو ليخلعهما جميعًا ))
“তোমাদের কেউ যেন এক স্যান্ডেল পরে না হাঁটে। হয় উভয়টি পরিধান করবে; না হয় উভয়টি খুলে ফেলবে।” (সহীহ মুসলিম-আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত)
২) তিনি আরও বলেন:
(( إذا انقطع شِسْعُ نعلِ أحدِكم, فلا يمش في نعلٍ واحدةٍ حتى يُصلِحَها ))
“তোমাদের কারও স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গেলে সে যেন এক স্যান্ডেল পরে না হাঁটে যতক্ষণ না সে ছেড়া ফিতা মেরামত করে। (অর্থাৎ ছেড়া ফিতা মেরামত করার পর সে যেন দুটি স্যান্ডেল পরে।)”
(আবু হুরায়রা রা.এবং শাদ্দাদ বিন আউস হতে বর্ণিত, সহীহুল জামে)
------------------------
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
(দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার,সউদী আরব)
29/05/2022
প্রশ্ন: ইশার সালাতের শুরু ও শেষ সময় কখন?
▬▬▬▬🌐💠🌐▬▬▬
উত্তর:
মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথেই (অর্থাৎ পশ্চিম দিগন্তের লাল আভা অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথে) ইশার ওয়াক্ত শুরু হয় এবং মধ্যরাত পর্যন্ত তা বিদ্যমান থাকে। এ মর্মে হাদিস হল:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَقْتُ الظُّهْرِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَسْقُطْ ثَوْرُ الشَّفَقِ وَوَقْتُ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَوَقْتُ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ
‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘আসরের সলাতের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত যোহরের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। আর সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। সন্ধ্যাকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। ইশার সলাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের সলাতের সময় থাকে যতক্ষণ সূর্যোদয় না হয়।" (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ, অধ্যায়: পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের সময়, হা/১২৭৩০)
তবে কেউ যদি ভুলে যায় অথবা ঘুমের কারণে যথাসময়ে পড়তে না পারে তাহলে যখনই তার স্মরণ হবে হবে বা ঘুম ভাঙ্গবে তখনোই কাল বিলম্ব না করে তা আদায় করবে তাহলে গুনাহ হবে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে অর্ধরাত্রি অতিক্রম করে ইশার নামায পড়া জায়েয নাই।
অবশ্য কিছু আলেমের মতে, জরুরত বশত: ফরজের আগ পর্যন্ত পড়া জায়েয রয়েছে। অর্থাৎ বিশেষ প্রয়োজন বশত: ফরজ হওয়া আগ পর্যন্ত জায়েয। তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করা ঠিক নয়।
কিন্তু শক্তিশালী দলীল থাকার কারণে প্রথম অভিমতটি অধিক অগ্রাধিকার যোগ্য। সতর্কতা বিবেচনায়ও এটি অধিক গ্রহণযোগ্য। কেননা সালাতের মত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্তকতা কাম্য।
সুতরাং সর্বাধিক সঠিক কথা হল, ইশার সালাতের শেষ সময় হল, অর্ধরাত্রি। এর পরে আদায় করলে তা কাযা হিসেবে গণ্য হবে। [এ মত ব্যক্ত করেছেন আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমীন রহ (শারহুল মুমতি ২/৫৩)]
❖ মধ্যরাত নির্ধারণের পদ্ধতি কি?
মধ্যরাত নির্ধারণের পদ্ধতি হল, সূর্যাস্ত থেকে ফজরের সময় হওয়ার সময় হিসাব করে এর ঠিক মধ্যবর্তী সময়টা মধ্যরাত্রি তথা ইশার নামাযের শেষ ওয়াক্ত।
উদাহরণ: সূর্য যদি সন্ধ্যা ৫টায় অস্ত যায় আর ফজরের সময় হয় ভোর ৫টায়। তাহলে তার মানে হল, মধ্যরাত রাত ১১টা। অনুরূপভাবে, সন্ধ্যা ৫ টায় সূর্য অস্ত গিয়ে ভোর ৬টায় ফজর হলে মধ্যরাত্রি হবে রাত ১১.৩০ মি:।
আল্লাহু আলাম
▬▬▬🌐💠🌐▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।
24/05/2022
"ও নদীরে তুই ভাঙ্গলি আমার ঘর"
কোন ঈমানদার বা আল্লাহ বিশ্বাসী ব্যক্তি যদি একথা বলে তাহলে এতে কোন সমস্যা নেই। কেননা সে মহান আল্লাহকে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ কারী ও পরিচালক বলে মনে করে। সে বিশ্বাস করে যে, নদী, সাগর, বাতাস বা প্রকৃতির নিজস্ব কোন শক্তি নেই আল্লাহর শক্তি ছাড়া। এসব কোন কিছুই আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া পরিচালিত হয় না।
প্রমাণ হল, তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, নদী কি নিজস্ব ক্ষমতায় ঘরবাড়ি ভেঙেছে নাকি আল্লাহর হুকুমে? তাহলে সে অবশ্যই উত্তরে বলবে, একমাত্র আল্লাহর হুকুমেই তা হয়েছে।
প্রকৃত পক্ষে, এভাবে বাক্য ব্যবহার করা ভাষা সাহিত্যের একটি রীতি। আরবি, বাংলা সহ সব ভাষাতেই এমন রূপক বাক্য ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
شيبتني هود والواقعة والمرسلات، وعم يتساءلون، وإذا الشمس كورت
"সূরা হুদ, সূরা ওয়াকিয়াহ, সূরা মুরসালাত, সূরা নাবা ও সূরা কুব্বিরাতের ভয়াবহতায় আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।" [তিরমিযী, হা/ ৩২৯৭]
আরবি সাহিত্যে এ জাতীয় বাক্যের প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। যেমন:
أنبت الربيع البقل...
أنبت البقل شباب الزمان، وأحيا الأرض الربيع
قال أبو العتاهية:
فيَا لَيتَ الشّبابَ يَعُودُ يَوْماً .. فأُخبرَهُ بمَا فَعَلَ المَشيبُ
এ ধরনের ভাষা ব্যবহারকে আরবি সাহিত্যে মাজায বা রূপক বলা হয়।
কবি নজরুল বলেছেন, "হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছ মহান।" (কবিতা: দারিদ্র)
আমরাও অনেক সময় বলে থাকি, "কালবোশেখীর ভয়াবহ তাণ্ডব সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে ভিখারি তে পরিণত করেছে।"
আল্লাহতে বিশ্বাসী কোন মুমিন ব্যক্তি রূপক অর্থে এই জাতীয় বাক্য ব্যবহার করলে তাতে কোন দোষ নেই ইনশাআল্লাহ।
অবশ্য কোন নাস্তিক বা আল্লাহকে অবিশ্বাসী ব্যক্তি এমন কথা বললে অবশ্যই তা শিরক।
সুতরাং এমন বাক্যকে এককথায় শিরকি বাক্য বলা যাবে না।
তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যথা ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদিতে আমাদের উচিত, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, বেশি বেশি ইস্তেগফার করা এবং নিজেদের ভুল ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আল্লাহর পথে ফিরে আসা। এ সব অভিমানী গান গেয়ে কোন লাভ নেই। আর তাতে যদি মিউজিক এর মিশ্রণ ঘটে তাহলে তা নিঃসন্দেহে হারাম।
আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
উত্তর প্রদানে :
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।
24/05/2022
১০টি ইসলাম ধ্বংসকারী বিষয়:
সংকলনে :
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার,
সৌদি আরব।
১০টি ইসলাম ধ্বংসকারী বিষয়
মূলঃ আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ্ বিন বায (রহঃ)
সাবেক প্রধান মুফতী ও গবেষণা ও দা’ওয়াহ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রধান, সঊদী আরব।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত। দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক সেই মহান নবীর উপর যার পরে আর কোন নবী নেই। আরো নাযিল হোক তাঁর পরিবার বর্গ, সহচর বৃন্দ এবং তাঁর হেদায়াতের অনুসারীদের উপর।
অত:পর হে মুসলিম ভাই! এ কথা জেনে নিন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল বান্দার উপর ইসলামে প্রবেশ করা, উহা আঁকড়ে ধরা এবং উহার পরিপন্থী বিষয় থেকে সতর্ক থাকা ফরজ করেছেন। আর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সে দিকে আহবান করার জন্যই প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ এই মর্মে ঘোষণা দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করবে সে হেদায়াত প্রাপ্ত হবে পক্ষান্তরে যে তাঁর থেকে বিমুখ হবে সে পথভ্রষ্ট হবে। তিনি বহু আয়াতে মুরতাদ হওয়ার মাধ্যম, শির্ক ও কুফরীর সকল প্রকার হতে সতর্ক করেছেন।
বিদ্যানগণ মুরতাদের বিধি-বিধান অধ্যায়ে এই মর্মে উল্লেখ করেছেন যে, একজন মুসলমান ব্যক্তির রক্ত ও ধন-সম্পদ হালাল কারী বিভিন্ন ইসলাম বিধ্বংসী কার্য কলাপ সম্পদনের মাধ্যমে মুরতাদ ও ইসলাম হতে বহিস্কার হয়ে যায়।
ইসলাম বিধ্বংসী কাজ হল সর্ব মোট ১০টি যা শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব ও অন্যান্য বিদ্বানগণ উল্লেখ করেছেন। আমরা ঐ সকল ইসলাম বিধ্বংসী কাজ গুলো নিন্মে সংক্ষিপ্ত ভাবে কিঞ্চিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সহ আপনার জন্য উল্লেখ করছি। যাতে আপনি উক্ত বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থেকে অপরকে সতর্ক করতে পারেন।
ইসলাম বিধ্বংসী কাজ গুলো নিন্মরূপঃ
১মঃ আল্লাহর ইবাদতে শির্ক করা। আল্লাহ বলেনঃ
إنَّ اللهَ لاَيَغْفِرُ أنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ ماَ دُوْنَ ذلكَ لِمَنْ يَشاَءُ
“নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করেন না। উহা ব্যতিরেকে উহার নিন্ম পর্যায়ের পাপ সবই তিনি যাকে ইচছা ক্ষমা করেন”। (নিসা : ১১৬)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ
إنَّهُ مَنْ يُشْرِكُ بِاللهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظاَّلِمِيْنَ مِنْ أنْصَارِ
“নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি শির্ক করবে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর এই সমস্ত যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকবে না”। (মায়েদাহ্ : ৭২)
জ্ঞাতব্যঃ এই শির্কের অন্তর্ভূক্ত হল: মৃতকে আহবান করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা, তাদের জন্য নযর-নেয়াজ মানা ও পশু যবেহ করা। যেমন কোন ব্যক্তি জ্বিনের জন্য বা কোন কবেরর জন্য যবেহ করল ইত্যাদি।
২য়ঃ নিজের ও আল্লাহর মধ্যে মধ্যস্থতা সাব্যস্ত করে তাদের উপরেই ভরসা রাখা। এই ধরণের ব্যক্তি সর্ব সম্মতিক্রমে কাফের বলে গণ্য।
৩য়ঃ মুশরিককে মুশরিক বা কাফেরকে কাফের না বলা বা তাদের কুফরীতে সন্দেহ পোষণ করা কিংবা তাদের ধর্মকে সঠিক ভাবা।
৪র্থঃ এই বিশ্বাস করা যে অন্যের আদর্শ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের চাইতে অধিক পূর্ণাঙ্গ। কিংবা এই বিশ্বাস করা যে, অন্যের বিধান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিধান অপেক্ষা অধিক উত্তম। (যেমন কেউ কেউ তাগুতের বিধানকে নবীর বিধানের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিযে থাকে) সে ব্যক্তি কাফের বলে গণ্য হবে।
৫মঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনিত কোন বস্তুকে ঘৃণার চোখে দেখা। এমতাবস্থায় সে কাফের বলে গণ্য হবে যদিও সে ঐ বস্তুর উপর বাহ্যিক ভাবে আমল করে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
ذلكَ بِأنَّهُمْ كَرِهُوا ماَ أنْزَل اللهُ فَأحْبَطَ أعْماَلَهُمْ
“ইহা এজন্যই যে, তারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিষয়কে ঘৃণা করেছে সুতরাং আল্লাহ তাদের আমল গুলোকে পণ্ড করে দিয়েছেন”। (মুহাম্মাদ : ৯)
৬ষ্ঠঃ দ্বীনের কোন বিষয় নিয়ে বা তার পুরস্কার কিংবা শাস্তিকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা। আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ
قُلْ أبِاللهِ وآياَتِهِ وَرَسُوْلِهِ كُنْتُمْ تستهزئون . لاَ تَعْتَذِرُوْا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إيْماَنِكُمْ
“আপনি বলুন (হে রাসূল) তোমরা কি আল্লাহর সাথে, স্বীয় আয়াত সমূহের সাথে এবং রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? কোন প্রকার ওজর-আপত্তির অবতারণা কর না। তোমরা ঈমান আনায়নের পর আবার কুফরী করেছ”। (তাওবাহ্ : ৬৫-৬৬)
৭মঃ যাদু-টোনা করা: যাদুর অন্যতম প্রকার হল তন্ত্র-মন্ত্রের সাহায্যে দুজন মানুষের বন্ধন তৈরী করা বা তাদের মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি যাদু করবে বা তাতে রাজি হবে সে কাফের বলে বিবেচিত হবে। আল্লাহ তাআলার বলেনঃ
(وماَ يُعَلِّماَنِ مِنْ أحَدٍ حَتىَّ يَقُوْلاَ إنَّماَ نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلاَ تَكْفُرْ )
“ঐ দুজন (হারূত- মারুত ফেরেস্তা) কাউকে যাদু শিক্ষা দিতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত এই কথা না বলতেন-নিশ্চয় আমরা (তোমাদের জন্য) পরীক্ষা স্বরূপ। সুতরাং (আমাদের নিকট যাদু শিখে) কাফের হয়ো না”। (বাকারা : ১০২)
৮মঃ মুশরিকদেরকে মুসলমানদের বিরূদ্ধে সাহায্য সহযোগিতা করা। আল্লাহ তাআলার বাণী:
وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإنَّهُ مِنْهُمْ ، إنَّ اللهَ لاَ يَهْدِيْ الْقَوْمَ الظاَّلِمِيْنَ
“তোমাদের মধ্য হতে যে ওদের (অর্থাৎ বিধর্মীদের) সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই দলভূক্ত বলে গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ যালেমদেরকে হেদায়াত দান করেন না”। (মায়েদা : ৫১)।
৯মঃ এ বিশ্বাস করা যে, কারও জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শরীয়তের বাইরে থাকার অবকাশ রয়েছে। যেমন (এক শ্রেণীর ভণ্ড সূফীর ধারণা অনুপাতে) অবকাশ ছিল খিযির (আ:)এর জন্য মূসার (আ:) শরীয়ত হতে বাইরে থাকার। এ বিশ্বাসেও সে কাফের হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسْلاَمِ دِيْناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوِ فِيْ الآخِرَةِ مِنَ الْخاَسِرِيْنَ
“যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অন্বেষণ করবে তার থেকে তা গ্রহন করা হবে না। এবং সে পরকালে ক্ষতি গ্রস্থদের দলভূক্ত হবে”। (আলে ইমরান: ৮৫)
১০মঃ সম্পূর্ণ রূপে আল্লাহর দ্বীন হতে বিমুখ থাকা। সে ব্যাপারে জ্ঞানার্জন না করা, তদানুযায়ী আমল না করা, এই ধরণের মন-মানসিকতার ব্যক্তিও কাফের বলে পরিগণিত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
وَمَنْ أظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآياَتِ رَبِّهِ ثُمَّ أعْرَضَ عَنْهاَ ، إناَّ مِنَ الْمُجْرِمِيْنَ مُنْتَقِمُوْنَ
“ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কে বেশী যালিম (অত্যাচারী) হতে পারে, যাকে উপদেশ দেওযা হয়েছে স্বীয় প্রতিপালকের আয়াত সমূহ দ্বারা অত:পর সে উহা হতে বিমুখ হয়েছে? নিশ্চয় আমি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ কারী”। (সাজদাহ্ : ২২)
কোন লোক এ সকল বিষয়ে লিপ্ত হলে সে কাফের বলে বিবেচিত হবে চাই সে মজা করার জন্য এ সকল কাজ করুক বা গুরুত্ব সহকারে করুক, সেচ্ছায় করুক বা ভয়ে করুক। অবশ্য কাউকে যদি বাধ্য করা হয় তবে তার ব্যাপার আলাদা। এ সমস্ত ইসলাম বিধ্বংস বিষয় অত্যন্ত মারাত্মক। তার পরও তা ব্যাপকভাবে এসব সংগঠিত হয়ে থাকে। সুতরাং মুসলিম ব্যক্তির উপর অপরিহার্য কর্তব্য হল এ সকল বিষয় থেকে সতর্ক থাকা। আমরা আল্লাহর নিকট তার ক্রোধ অবধারিত কারী বিষয় হতে এবং তাঁর যন্ত্রনা দায়ক শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর, তাঁর পরিবারের উপর, সাহাবীগণের উপর আল্লাহ রহমত ও শান্তির ধারা অবতীর্ণ হোক।
[এখান থেকেই শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (রহ:) এর বক্তব্য শেষ]।
উল্লেখিত চতুর্থ প্রকার ইসলাম বিধ্বংসী বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত হবে ঐ ব্যক্তি যে বিশ্বাস করে যে, মানুষ যে সমস্ত সংবিধান রচনা করেছে উহা ইসলামী সংবিধানের চেয়েও উত্তম, অথবা উহার সম পর্যায়ের অথবা এই বিশ্বাস করে যে, ঐ সমস্ত মানব রচিত বিধানের নিকট ফায়সালা তলব করা জায়েয, যদিও শরীয়তের বিধানকেই সে উত্তম মনে করে- এধরণের সকল বিশ্বাসই চতুর্থ প্রকার ইসলাম বিধ্বংসী বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত। অনুরূপভাবে যদি কেউ বিশ্বাস করে যে ইসলামের বিধি-বিধান এই বিংশ শতাব্দীতে বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। অথবা এই বিশ্বাস করে যে, ইহাই মূলত: মুসলিমদের পশ্চাদ মুখী হওয়ার কারণ। অথবা উহাকে সে স্বীয় প্রতি পালকের সাথে সম্পর্ক করার মধ্যেই সীমিত রাখে, জীবনের অন্যান্য বিষয়ের কোন কর্তৃত্ব নেই বলে ধারণা করে।অর্থাৎ বলে যে শরীয়ত ব্যক্তিগত জিনিস, সমাজ, রাষ্ট্র বা জীবনের অন্য ক্ষেত্রে শরীয়তের প্রয়োজন নাই তাহলে সেও চতুর্থ প্রকার ইসলাম বিধ্বংসকারী আমল সম্পাদনকারী কাফেরদের দলভূক্ত হবে।
অনুরূপ ভাবে চতুর্থ প্রকারে শামিল হবে ঐ ব্যক্তির কথা যে এমনটি ধারণা করে যে, চোরের হাত কাটা, বিবাহিত ব্যাভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা ইত্যাদী আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করা আধুনিক যুগের জন্য উপযোগী নয়।
অনুরূপ ভাবে চতুর্থ প্রকারের অন্তর্ভূক্ত ঐ ব্যক্তির কথা, যে বিশ্বাস করে যে বৈষয়িক বিষয় সমূহ এবং দণ্ডবিধি ইত্যাদির ব্যাপারে শরিয়ত ব্যতীত অন্য বিধান দিয়ে ফায়সালা করা জায়েয। যদিও সে এই বিশ্বাস না রাখে যে উহা শরীয়তের বিধান অপেক্ষা উত্তম। (তবুও সে কাফের বলেই গণ্য হবে) কারণ সে এর মাধ্যমে এমন বিষয়কে হালাল করেছে যা আল্লাহ হারাম করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর হারাম কৃত বিধানকে হালাল করবে যার হারাম হওয়া দ্বীন ইসলামে সর্বজন বিদিত। যেমন: ব্যাভিচার করা, মদ্যপান করা, সূদী কারবার করা, আল্লাহর শরীয়ত ব্যতীত অন্য বিধান দ্বারা ফায়সালা করা ইত্যাদি বিষয়কে যে হালাল মনে করবে সে মুসলমানদের সর্ব সম্মতিক্রমে কাফের বলে গণ্য হবে।
আমরা আল্লাহর সমীপে এই কামনা করি, তিনি যেন সকলকে তাঁর সন্তুষ্টি মূলক কাজের তাওফীক দেন এবং আমাদেরকে এবং সমস্ত মুসলিমদেরকে সঠিক পথের হেদায়াত দান করেন। নিশ্চয় তিনি সর্ব শ্রোতা ও নিকটবর্তী। আল্লাহ্ তাআলা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার বর্গ ও সাহাবীদের উপর রহমত ও শান্তির ধারা অবতীর্ণ করূন। আমীন॥
অনুবাদঃ শাইখ আখতারুল আমান বিন আব্দুস সালাম
সাবেক দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।
24/05/2022
♦️♦️প্রকাশ্য পাপীকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন নাঃ♦️♦️
বর্তমান সমাজে প্রকাশ্যে সংঘটিত কয়েকটি পাপঃ
১) টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করা
(পুরুষদের)।
২) দাড়ি মুণ্ডন করা।
৩) মানুষের সামনে গান-বাদ্য বাজানো।
৪) ধুমপান
৫) নারীদের বেপর্দায় চলাফেরা।
৬) বিনা ওযরে (পুরুষের) জামাতের সাথে নামায না
পড়া।
৭) রামাযানে দিনের বেলায় মানুষের সামনে পানাহার
করা।
৮) সুদের কারবার করা ও সুদী ব্যাংকে চাকরী করা।
৯) মানুষের সামনে গীবত ও চুগোলখোরী
করা।
১০) দ্বীনদার কোন মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ
করা।
১১) খৃস্টানদের বড় দিন উদযাপনে অংশ নেয়া।
১২) হিন্দুদের পুজায় বা তাদের মেলায় অংশ নেয়া।
১৩) প্রকাশ্যে মুসলিমদের গালাগালি করা।
.........
আল্লাহ বলেন, ﻟَﺎ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﺠَﻬْﺮَ ﺑِﺎﻟﺴُّﻮﺀِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝِ
ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﻇُﻠِﻢَ “আল্লাহ
কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে
কারো প্রতি জুলুম
হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। (নিসাঃ ১৪৮)
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, ﻛُﻞُّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻣُﻌَﺎﻓًﻰ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤُﺠَﺎﻫِﺮِﻳﻦَ
ﻭَﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤُﺠَﺎﻫَﺮَﺓِ ﺃَﻥْ
ﻳَﻌْﻤَﻞَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺛُﻢَّ ﻳُﺼْﺒِﺢَ ﻭَﻗَﺪْ ﺳَﺘَﺮَﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻓَﻴَﻘُﻮﻝَ ﻳَﺎ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﻋَﻤِﻠْﺖُ
ﺍﻟْﺒَﺎﺭِﺣَﺔَ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ ﻭَﻗَﺪْ ﺑَﺎﺕَ ﻳَﺴْﺘُﺮُﻩُ ﺭَﺑُّﻪُ ﻭَﻳُﺼْﺒِﺢُ ﻳَﻜْﺸِﻒُ
ﺳِﺘْﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻨْﻪُ
“আমার উম্মতের সবাইকে ক্ষমা করা হবে, কিন্তু
যারা প্রকাশ্যে পাপকাজ করে বেড়ায় তাদেরকে
ক্ষমা করা হবে না।
আর প্রকাশ্যে পাপ কাজ করার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেঃ
রাতে একজন
লোক কোন পাপে লিপ্ত হয়, সেই সময় আল্লাহ
তার
বিষয়টিকে গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু সকাল
হলে সে নিজেই
মানুষকে বলে হে উমুক! আজ রাতে আমি এটা এটা
করেছি।
রাতে যখন সে পাপ করছিল, তখন তার পালনকর্তা
সেটা গোপন
রেখেছিলেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই নিজের
বিরুদ্ধে আল্লাহর পর্দাকে উন্মুক্ত করে
দিল।” (বুখারী ও মুসলিম)
24/05/2022
#চলমান ধর্মের কাছে চুড়ান্ত ধর্মের বিজয় ।
🎴বাপ-দাদারা কি এতদিন ভুল করে আসছেন?
🎴এত বড় বড় আলেম তো এভাবেই আমল করে আসছেন, তারাও ভুল?
🎴অধিকাংশ মানুষই তো এই আমল করছে, সবাই ভুল?
🎴এত বড় বড় হুজুর এ আমল করছে, তা কি ভুল?
🎴এত লোক অমুক আমল করছে , তা কি আর বিদআত হয়?
🎴এত বড় হুজুর মাজারে শিরক করছে?
🎴আমাদের বাপ দাদা কি জানত না?
🎴আরে এগুলো তো ফেৎনা, আমরা সবাই হক!
🎴আমাদের হুজুরেরা কি কম বুঝে?
যখনই আপনি সমাজে প্রচলিত কোন শিরক বা বিদ’আতী আমলকে ধরিয়ে দিবেন, তখনই কিছু লোক এসব কথা বলে। তারা কোরআন হাদীসের কোন দলির দিয়ে কথা বলবে না। তারা জানে না অধিকাংশ কোন দলিল নয়, দলিল হলো কোরআন ও সহীহ হাদীস।
#কিন্তু_দেখুন_মহান_আল্লাহ_কি_বলেছেনঃ-
👉আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা অনুসরণ কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন’, তারা বলে, ‘বরং আমরা অনুসরণ করব আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে যার উপর পেয়েছি’। যদি তাদের পিতৃ-পুরুষরা কিছু না বুঝে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত না হয়, তাহলেও কি? (বাকারা ১৭০)
👉অধিকাংশই নির্বোধ।
[মায়িদাহ ১০৩]
👉অধিকাংশ লোকই অবগত নয়।
[আনআম ৩৭]
👉অধিকাংশই অজ্ঞ।
[আনআম ১১১]
👉অধিকাংশই জানে না।
[আরাফ ১৩১]
👉তুমি যতই প্রবল আগ্রহ ভরেই চাও না কেন, মানুষদের অধিকাংশই ঈমান আনবে না।
[ইউসুফ ১০৩]
👉তুমি যদি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অনুসরন কর তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে ফেলবে, তারা কেবল আন্দাজ-অনুমানের অনুসরন করে চলে; তারা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই করে না।
[আনআম ১১৬]
👉তাদের অধিকাংশই কেবল ধারনার অনুসরন করে; সত্যের মুকাবালায় ধারনা কোন কাজে আসে না।
[ইউসুফ ৩৬]
👉অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ্তে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।
[ইউসুফ ১০৬]
👉আমি কি তোমাদের জানাব কাদের নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়? তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি চরম মিথ্যুক ও পাপীর নিকট। ওরা কান পেতে থাকে আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী
[শু’আরা ২২১-২২৩]
👉তারা তাদের পিতৃ- পুরুষদের বিপথগামী পেয়েছিল। অতঃপর তাদেরই পদাংক অনুসরন করে ছুটে চলেছিল। এদের আগের লোকদের অধিকাংশই গুমরাহ হয়ে গিয়েছিল।
[সাফফাত ৬৯-৭১]
সুতরাং অধিকাংশ মানুষ গোমড়াহীতে থাকলেই সেটা হক্ব হয়ে যায় না। হক্ব সেটাই যেটা কোরআন আর সহীহ হাদীসে আছে সেটা।
আল্লাহ আমাদের হ্ক দ্বীন চেনার, বোঝার এবং মানার তৌফিক দান করুক।(আমিন)
24/05/2022
ইসলামের দৃষ্টিতে ডিপ্রেশনে পড়ে হাত, পা বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা এবং বিভিন্নভাবে নিজেকে কষ্ট দেয়া
▬▬▬▬ ◐◯◑ ▬▬▬▬
প্রশ্ন: অনেকে ডিপ্রেশনে পড়লে নিজের হাত বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটে। এ বিষয়ে ইসলাম কী বলে?
উত্তর:
আমাদের মনে রাখা কর্তব্য যে, পার্থিব জীবনে বিষণ্ণতা (depression) দু:খ-কষ্ট, বিপদ, বিপর্যয়, ব্যর্থতা, রোগ-ব্যাধি, ক্ষয়-ক্ষতি, স্বপ্নভঙ্গ, না পাওয়ার বেদনা ইত্যাদি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এগুলো মানুষকে সর্বদাই ঘিরে থাকে। এটাই দুনিয়ার প্রকৃত স্বরূপ।
এ সব কিছু থেকে মুক্তির একটি মাত্র স্থান রয়েছে। তা হল, জান্নাত। জান্নাত ছাড়া মানুষের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা আর কোথাও পূর্ণ হবে না আর কোথাও তারা সকল দু:খ-কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে না।
যাহোক, একজন ইমানদারের জীবনে ভাল-মন্দ যা কিছুই ঘটুক না কেন তার কর্তব্য, সর্বাবস্থায় আল্লাহর তকদিরের উপর সন্তুষ্ট থাকা, তার রহমত থেকে হতাশ না হওয়া , ধৈর্য ধারণ করা এবং কথাবার্তা ও আচার-আচরণে হাহুতাশ ও অস্থিরতা প্রকাশ না করা। কারণ বিপদ-মসিবত দিয়ে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে পরীক্ষা করেন, তার গুনাহ মোচন করে এবং আখিরাতে মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।
জং ধরা লোহাকে যেভাবে ভাপরের আগুনে পুড়িয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে খাঁটি ও পরিশুদ্ধ করা হয় তেমনি মানুষকে নানা পরীক্ষা ও বিপদাপদে ফেলে আল্লাহ তার গুনাহ মোচন করে খাঁটি, পবিত্র ও পরিশুদ্ধ মানুষে পরিণত করেন।
সতুরাং মুমিনের কর্তব্য, সুখ, সমৃদ্ধি ও ভালো অবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা আর দু:খ, দুর্দশা ও কষ্টে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া। উভয় অবস্থায় তার জন্য অবারিত কল্যাণ রয়েছে আল হামদুলিল্লাহ।
কবি যথার্থই বলেছেন,
সকল ব্যথার বোঝা বইতে পারে,
সব জ্বালা যাতনাও সইতে পারে,
বিপদ-আপদ এলে আল্লাহকে ডাকে।
তাঁর দয়া করুণায় ভরসা রাখে।
হারায় না হুঁশ।
সেই তো মানুষ...সেই তো মানুষ!
(একটি ইসলামি সঙ্গীতের রিলিক্স)
◈◈ বিপদাপদে মুমিনের কর্তব্য:
আল্লাহ ভীরুদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বেদনাদায়ক নিয়তির উপর ধৈর্য ধারণ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَٱلصَّٰبِرِينَ فِى ٱلْبَأْسَآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَحِينَ ٱلْبَأْسِ أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ صَدَقُوا۟ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُتَّقُونَ
”আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই তাকওয়া বান (আল্লাহ ভীরু)।” (সূরা বাকারা: ১৭৭)
● দুনিয়ার জীবনটাই মূলত: দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পরিপূর্ণ। তাই আল্লাহ তাআলা আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন,
وَبَشِّرِالصَّابِرِينَ - الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّـهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ولَـٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
"আর ধৈর্য ধারণকারীদেরকে সু সংবাদ দাও। যারা বিপদ এলে বলে: “ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্নালিল্লাইহি রাজিঊন" (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর অধীনস্থ এবং তার কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী)। এদের উপরই আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়া ও করুণা বর্ষিত হয় এবং এরাই সুপথে প্রতিষ্ঠিত।” (সূরা বাকারা: ১৫৫)
● সহিহ বুখারিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
ما مِن عبدٍ تُصيبُه مُصيبةٌ، فيقولُ: إنَّا لله وإنَّا إليه راجعونَ، اللهُمَّ أْجُرْني في مُصِيبتِي، وأَخْلِفْ لي خيرًا منها، إلَّا أَجَرَه اللهُ في مُصِيبته، وأَخْلَفَ له خيرًا منها
"যে আল্লাহর বান্দা বিপদে আপতিত হলে বলে: ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইল্লাইহি রাজিঊন, "আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখলুফ লাহু খাইরান মিনহা" অর্থাৎ নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য নিবেদিত এবং তার কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ, বিপদে আমাকে প্রতিদান দাও এবং এর থেকে উত্তম বিকল্প দান কর।”
তাকে আল্লাহ তাকে তার বিপদে উত্তম প্রতিদান দিবেন এবং তারচেয়ে ভালো বিকল্প ব্যবস্থা করবেন।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, কিতাবুল জানাইয)
● রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,
وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ : لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا ، وَلَكِنْ قُلْ : قَدَرُ اللَّهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ ، فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ “
“যদি তোমার কোন কাজে কিছু ক্ষতি সাধিত হয়, তখন তুমি এভাবে বলো না যে, “যদি আমি কাজটি এভাবে করতাম তা হলে আমার এই এই হত।” বরং বল, “আল্লাহ এটাই তকদীরে রেখেছিলেন। আর তিনি যা চান তা-ই করেন।” কেননা ‘যদি’ শব্দটি শয়তানের কাজের পথকে উন্মুক্ত করে দেয়।” (মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৯৮)।
◈◈ শরীরে আঘাত করা, মাথার চুল মুণ্ডন করা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা বা রক্তাক্ত করা হারাম ও গুনাহের কাজ:
বিপদাপদ, হতাশা, অস্থিরতা, কারো মৃত্যু শোক ইত্যাদি কারণে মাথার চুল মুণ্ডন করা, মাথার চুল ছেঁড়া, কাপড় ছেঁড়া, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা বা রক্তাক্ত করা, শরীরে আঘাত করা বা অন্য কোনভাবে নিজেকে কষ্ট দেয়া হারাম ও গুনাহের কাজ। এটি আল্লাহর তকদিরের প্রতি আক্ষেপ ও ধৈর্য হীনতার প্রকাশ।
● আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ
“আর তোমরা নিজেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৯৫)
● নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَيْسَ مِنّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ، وَدَعا بِدَعْوى الْجاهِلِيَّةِ
"যে ব্যক্তি গালে চপেটাঘাত করে, পকেট ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের মত আহবান করে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম। মজমু ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ২৫/৩০২, ৩০৭)
● নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,
أَنا بَرِيءٌ مِمَّنْ بَرئَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَرِئَ مِنَ الصَّالِقَةِ وَالْحالِقَةِ وَالشَّاقَّةِ
"যে মহিলা (বিপদ-মুসিবতে) চিৎকার করে, মাথা মুণ্ডন করে, কাপড় ছিঁড়ে তার থেকে আমি সম্পর্ক মুক্ত।” (সহীহ মুসলিম)
● আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
‘‘তোমরা নিজের বা অন্যের ক্ষতি করতে পারবে না এবং তোমরা একে অপরেরও ক্ষতি করতে পারবে না।’’। (ইবনে মাজাহ ২৩৬৯, ২৩৭০)
অর্থাৎ যে সকল কথা, কাজ ও আচরণ দ্বারা নিজের অথবা অন্যের শারীরিক, মানসিক, অর্থ-সম্পদ, মর্যাদা-সম্ভ্রম ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইসলামে তা করা বৈধ নয়। আল্লাহু আলাম।
আল্লাহর নিকট দুআ করি, তিনি যেন, আমাদেরকে সর্ববস্থায় তার লিখিত তাকদিরের উপর সন্তুষ্ট থাকার এবং ধৈর্য ধরার তাওফিক দান করেন। আমিন।
▬▬▬▬ ◐◯◑ ▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
24/05/2022
মুসলিম পরিবারের বিয়েতে কনে বরকে সোনার আংটি পরিয়ে দেয় কেন?
সম্পাদনায় :
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার,
সৌদি আরব।
মুসলিম পরিবারের বিয়েতে কনে বরকে সোনার আংটি পরিয়ে দেয় কেন?
“আমার উম্মতের যে ব্যক্তি (পুরুষ) সোনা পরিধান করবে, আল্লাহ তার প্রতি জান্নাতের সোনা হারাম করে দিবেন।” (আহমাদ, আদাবুয যুফাফ ২২২ পৃষ্ঠা)
আমাদের মুসলিম পরিবারে বিয়েতে কনে বরকে স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেয়। এই রেওয়াজ বহু বছর ধরে চলে আসছে। শুধু বরকে নয় বরের বোন জামাইদেরকেরও স্বর্ণের আংটি উপহার দেয়া হয়। আর বিয়েতে বরকে অনেক আত্মীয়-স্বজন ও স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়ে থাকে। আমরা কি জানি না স্বর্ণ ব্যবহার পুরুষদের জন্য হারাম? নাকি নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিস পড়েও না জানার ভান ধরে এই প্রথা চালিয়ে দিচ্ছি। এর জন্য কি শাস্তি পেতে হবে না? যারা জেনে শুনে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদেশকে অমান্য করছে তারা কি জান্নাতে যেতে পারবে? তারা কি পুলসিরাত পার হতে পারবে?
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হালাল না কি হারাম কয়েকটি হাদিস থেকে জেনে নিই:
আবু হুরায়রা (রা:) বলেন, “ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোনার আংটি পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।” (বুখারী- আদাবুয যুফাফ-২১৪)
আলী (রা:) বলেন,“রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে সোনার আংটি পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।” (তিরমিযী, আবুদাঊদ, নাসাঈ,ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৫৬,‘পোশাক অধ্যায়)
আবু হুরায়রা (রা: বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রিয়জনকে আগুনের কড়া বা আংটি পরানো পছন্দ করে, সে যেন তাকে সোনার কড়া বা আংটি পড়ায়। (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪০১, বাংলা মিশকাত হা/৪২০৫)
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক লোকের হাতে সোনার একটি আংটি দেখলেন। তিনি তা খুলে নিয়ে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, “তোমাদের কোন ব্যক্তি আগুনের টুকরো হাতে রাখতে চাইলে এই আংটি হাতে রাখতে পারে।” (মুসলিম, আলবানী, আদাবুয যুফাফ ২১৫ পৃষ্ঠা)
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা:) বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,‘আমার উম্মতের যে ব্যক্তি সোনা পরিধান করবে, আল্লাহ তার প্রতি জান্নাতের সোনা হারাম করে দিবেন। (আহমাদ, আদাবুয যুফাফ ২২২ পৃষ্ঠা)
যায়েদ ইবনু আকরাম (রা:) বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘স্বর্ণ ও রেশমি বস্ত্র আমার উম্মতের নারীদের জন্য বৈধ এবং পুরুষের জন্য হারাম।’ (সিলসিলা ছাহীহা হা/১৮৬৫/৩০৩০)
উপরোক্ত হাদিসগুলো পড়ে আমরা জানতে পারি:
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম। তাই বিয়েতে বরকে স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেয়া জায়েজ নয়। স্বর্ণের আংটির পরিবর্তে হাত ঘড়ি পরিয়ে দেয়া যেতে পারে।
এঙ্গেজমেন্ট করা:
“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।” (আবু দাউদ কিতাবুল লিবাস)
ইদানীং পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণে বিয়েতে এ্যাংগেজমেন্ট করার রেওয়াজ ব্যাপকতা পেয়েছে। এই আংটি পরানোকে যদি এমন ধরে নেওয়া হয় যে এর মাধ্যমে বিবাহের কথা পাকাপোক্ত হয়ে গেল তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কেননা, মুসলিম সমাজ বা শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। আরও নিন্দনীয় ব্যাপার হল, এ আংটি প্রস্তাব দানকারী পুরুষ নিজ হাতে কনেকে পরিয়ে দেয়। কারণ, এ পুরুষ এখনো তার জন্য বেগানা। এখনো সে মেয়েটির স্বামী হয়নি। কেননা, কেবল বিবাহ চুক্তি সম্পাদিত হবার পরেই তারা স্বামী-স্ত্রী বলে গণ্য হবেন।
লিখেছেন: সিটিজি৪বিডি
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী
24/05/2022
🔴নামাজের🔺 রুকন ও 🔸ওয়াজিব যা ইচ্ছা করে ত্যাগ করলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে জেনে নিন ⬇⬇
🔶৭. সালাতের/ নামাজের রুকন সমূহ ( أركان الصلاة) ❓
◾🔴‘রুকন’ অর্থ স্তম্ভ। এগুলি অপরিহার্য বিষয়। যা ইচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে পরিত্যাগ করলে ছালাত বাতিল হয়ে যায়। যা ৭টি। যেমন-
🔸(১) ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো : আল্লাহ বলেন, وَقُوْمُوْا ِللهِ قَانِتِيْن َ ‘আর তোমরা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠচিত্তে দাঁড়িয়ে যাও’ (বাক্বারাহ ২/২৩৮)
🔹(২) তাকবীরে তাহরীমা : অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবর’ বলে দুই হাত কাঁধ অথবা কান পর্যন্ত উঠানো। আল্লাহ বলেন, وَلِرَبَّكَ فَكَبِّرْ ‘তোমার প্রভুর জন্য তাকবীর দাও’ (মুদ্দাছছির ৭৪/৩)। অর্থাৎ তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা কর। রাসূলূল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, تَحْرِيْمُهَا التَّكْبِيْرُ وَتَحْلِيْلُهَا التَّسْلِيْمُ- ‘ছালাতের জন্য সবকিছু হারাম হয় তাকবীরের মাধ্যমে এবং সবকিছু হালাল হয় সালাম ফিরানোর মাধ্যমে’।[113]
🔸(৩) সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ- (লা ছালা-তা লেমান লাম ইয়াক্বরা’ বেফা-তিহাতিল কিতা-বে) ‘ঐ ব্যক্তির ছালাত সিদ্ধ নয়, যে ব্যক্তি সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করে না’।[114]
🔹( ৪ ও ৫) রুকূ ও সিজদা করা : আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا ارْكَعُوْا وَاسْجُدُوْا... ‘হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ কর ও সিজদা কর...’(হজ্জ ২২/৭৭)।
🔴🔷(৬) তা‘দীলে আরকান বা ধীর-স্থির ভাবে ছালাত আদায় করা :
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَدَّ وَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَرَجَعَ يُصَلِّي كَمَا صَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ثَلاَثًا فَقَالَ وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَهُ فَعَلِّمْنِيْ ....
‘আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে ছালাত আদায় শেষে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সালাম দিলে তিনি তাকে সালামের জওয়াব দিয়ে বলেন, তুমি ফিরে যাও এবং ছালাত আদায় কর। কেননা তুমি ছালাত আদায় করনি। এইভাবে লোকটি তিনবার ছালাত আদায় করল ও রাসূল (ছাঃ) তাকে তিনবার ফিরিয়ে দিলেন। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম করে বলছি, এর চাইতে সুন্দরভাবে আমি ছালাত আদায় করতে জানিনা। অতএব দয়া করে আপনি আমাকে ছালাত শিখিয়ে দিন! ........ (অতঃপর তিনি তাকে ধীরে-সুস্থে ছালাত আদায় করা শিক্ষা দিলেন)’।[115] হাদীছটি حديث مسيئ الصلاة বা ‘ছালাতে ভুলকারীর হাদীছ’ হিসাবে প্রসিদ্ধ।
🔺(৭) ক্বা‘দায়ে আখীরাহ বা শেষ বৈঠক :
হযরত উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় মহিলাগণ জামা‘আতে ফরয ছালাত শেষে সালাম ফিরানোর পরে উঠে দাঁড়াতেন এবং রাসূল (ছাঃ) ও পুরুষ মুছল্লীগণ কিছু সময় বসে থাকতেন। অতঃপর যখন রাসূল (ছাঃ) দাঁড়াতেন তখন তাঁরাও দাঁড়াতেন’।[116] এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, শেষ বৈঠকে বসা এবং সালাম ফিরানোটাই ছিল রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের নিয়মিত সুন্নাত।
প্রকাশ থাকে যে, কঠিন অসুখ বা অন্য কোন বাস্তব কারণে অপারগ অবস্থায় উপরোক্ত শর্তাবলী ও রুকন সমূহ ঠিকমত আদায় করা সম্ভব না হ’লে বসে বা শুয়ে ইশারায় ছালাত আদায় করবে।[117] কিন্তু জ্ঞান থাকা পর্যন্ত কোন অবস্থায় ছালাত মাফ নেই।
[113] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১২ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, ‘যা ওযু ওয়াজিব করে’ অনুচ্ছেদ-১; মুসলিম, মিশকাত হা/৭৯১, ‘ছালাতের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১০। [114] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮২২, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২, রাবী ‘উবাদাহ বিন ছামিত (রাঃ)। দ্রষ্টব্য : কুতুবে সিত্তাহ সহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থ। [115] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭৯০, ‘ছালাতের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১০। [116] . বুখারী, মিশকাত হা/৯৪৮ ‘তাশাহহুদে দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-১৭। [117] . বুখারী; মিশকাত হা/১২৪৮ ‘কাজে মধ্যপন্থা অবলম্বন’ অনুচ্ছেদ-৩৪; ত্বাবারাণী কাবীর, ছহীহাহ হা/৩২৩। }
🔴৮. সালাতের /নামাজের ওয়াজিব সমূহ⬇ ( واجبات الصلاة) ❓
🔴🔲রুকন-এর পরেই ওয়াজিব-এর স্থান, যা আবশ্যিক। যা ইচ্ছাকৃতভাবে তরক করলে ছালাত বাতিল হয়ে যায় এটা🔴 ভুলক্রমে তরক করলে ✅‘সিজদায়ে সহো’ দিতে হয়।🔸 যা ৮টি। [118] যেমন-
🔹১. ‘তাকবীরে তাহরীমা’ ব্যতীত অন্য সকল তাকবীর।[119]
🔸২. রুকূতে তাসবীহ পড়া। কমপক্ষে ‘সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম’ বলা।[120]
🔹৩. ক্বাওমার সময় ‘সামি‘আল্লা-হু লেমান হামেদাহ’ বলা।[121]
🔸৪. ক্বওমার দো‘আ কমপক্ষে ‘রববানা লাকাল হাম্দ’ অথবা ‘আল্লা-হুম্মা রববানা লাকাল হাম্দ’ বলা। [122]
🔹৫. সিজদায় গিয়ে তাসবীহ পড়া। কমপক্ষে ‘সুবহা-না রবিবয়াল আ‘লা’ বলা।[123]
🔸৬. দুই সিজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসা ও দো‘আ পাঠ করা। যেমন কমপক্ষে ‘রবিবগফিরলী’ ২ বার বলা।[124]
🔹🔴৭. প্রথম বৈঠকে বসা ও ‘তাশাহহুদ’ পাঠ করা।[125]
🔸৮. সালামের মাধ্যমে ছালাত শেষ করা।[126]
[118] . মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব, ‘ছালাতের আরকান ও ওয়াজিবাত’ গৃহীত: মাজমূ‘আ রাসা-ইল ফিছ ছালাত (রিয়াদ: দারুল ইফতা, ১৪০৫ হিঃ) পৃঃ ৭৮। [119] . বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য, মিশকাত হা/৭৯৯, ৮০১, ‘ছালাতের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১০; ফিক্বহুস্ সুন্নাহ ১/১২০। [120] . নাসাঈ, আবুদাঊদ তিরমিযী, মিশকাত হা/৮৮১ ‘রুকূ’ অনুচ্ছেদ-১৩। [121] . বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/ ৮৭০, ৭৪, ৭৫, ৭৭। [122] . বুখারী হা/৭৩২-৩৫, ৭৩৮, ‘আযান’ অধ্যায়, ৮২, ৮৩ ও ৮৫ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/৮৬৮, ‘ছালাত’ অধ্যায়; মুসলিম হা/৯০৪, ৯১৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়। [123] . নাসাঈ, আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/ ৮৮১। [124] . ইবনু মাজাহ হা/৮৯৭; আবুদাঊদ হা/৮৫০, তিরমিযী হা/২৮৪; নাসাঈ হা/১১৪৫, মিশকাত হা/৯০০, ৯০১ ‘সিজদা ও উহার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-১৪; নায়ল ৩/১২৯ পৃঃ; মজমু‘আ রাসা-ইল ৭৮ পৃঃ। [125] . আহমাদ, নাসাঈ, নায়ল ৩/১৪০; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৯০৯, ‘তাশাহহুদ’ অনুচ্ছেদ-১৫। [126] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১২ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, ‘যা ওযূ ওয়াজিব করে’ অনুচ্ছেদ-১; আবুদাঊদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৯৫০-৫১, ‘তাশাহহুদের দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-১৭ ; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৬ পৃঃ।
🔴প্রশ্ন -নামাজের/ সালাতের রুকন, ওয়াজিব, সুন্নত ও নামায ভংগের কারণসমূহ কি কি??
__________________________________
নামাযের রোকন,ওয়াজিব ও সুন্নত বিষয় সমূহ:
➖➖➖➖➖
✅🔳নামাযে রুকন হচ্ছে মোট ১৪টিঃ⬇⬇
💠 ক) নামাযের রোকন সমূহ:
🔸১. দাঁড়ানো ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে সামর্থ্য থাকলে।
🔸২. তাকবীরাতুল ইহরাম। (তকবীর তাহরীমা)
🔹৩. সূরা ফাতেহা পাঠ করা।
🔸৪. রুকু করা।
🔹৫. রুকু হতে উঠা।
🔹৬. সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করা।
🔸৭. সিজদা থেকে উঠা।
🔹৮. দুই সিজদার মাঝে বসা।
🔸৯. শেষ তাশাহুদের জন্য বসা।
🔹১০. শেষোক্ত তাশাহুদ পাঠ করা।
🔸১১. শেষ তাশাহুদে নবী সা. এর উপর দরূদ পাঠ করা ।
🔸১২. দুটি সালাম দেওয়া।
🔹১৩. সমস্ত রোকন আদায়ে ধীরস্থীরতা অবলম্বন করা।
🔸১৪. ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা।
✅🔴নামাযের ওয়াজিব (বা ফরয) হচ্ছে মোট ৮টিঃ🔺
🔴রুকন-এর পরেই ওয়াজিব-এর স্থান, যা আবশ্যিক🔳✅যা ইচ্ছাকৃতভাবে তরক করলে ছালাত বাতিল হয়ে যায় এবং ভুলক্রমে তরক করলে ‘সিজদায়ে সহো’ দিতে হয়। যা ৮টি যেমন-
💠 🔴✅খ) নামাজের ওয়াজিব সমূহ:⬇⬇
🔹১. তকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সমুদয় তাকবীর।
🔸২. রুকুতে “সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম” বলা।
🔸৩. ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলা ইমাম এবং একক ব্যক্তির জন্য।
🔹৪. ‘রাব্বানা লাকাল হামদ্’ বলা - সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
🔺৫. সিজদায় “ সুবহানা রাব্বিয়াল আলা ” বলা।
🔸৬. দুই সিজদার মাঝে “রব্বিগ ফিরলী” বলা।
🔹৭. প্রথম তাশাহুদের জন্য বসা।
🔸৮. প্রথম তাশাহুদ পাঠ করা।
♻ 🔴নামাযের ওয়াজেব ও রোকন সমূহের মধ্যে পার্থক্য:⬇
১. রোকন হতে কোন কিছু ভুল বশত: ছাড়া পড়লে তা এবং তার পরবর্তী বিষয় আদায় করবে এবং ভুলের জন্য সিজদা দিবে।
২.ওয়াজিব হতে কিছু ছাড়া পড়লে সাহু সিজদা দিয়ে তাকে পূর্ণ করতে পারবে।
আর রোকন ও ওয়াজিবের কোন একটি ইচ্ছাকৃত ভাবে পরিত্যাগ করলে নামায বাতিল হয়ে যাবে; সাহু সিজদার মাধ্যমেও তা সংশোধন হবে না।
💠 গ) নামাযের সুন্নত সমূহ:
নামায আদায়ের পদ্ধতিতে উল্লেখিত রোকন ও ওয়াজিব ব্যতীত যা কিছু রয়েছে তা সবই সুন্নত। আর সুন্নত পরিত্যাগ করার কারণে নামায বাতিল হয় না। বস্তত: সুন্নত আদায়কারীকে সওয়াব দেওয়া হয়। আর উহা পরিত্যাগকারীকে শাস্তি দেওয়া হয় না।
♻ সুন্নত দুই প্রকার:
◼ ১. কর্মগত সুন্নত: যেমন- দাঁড়ানো অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা। সেজদার স্থানে তাকানো, দুই পার্শ্বদেশ হতে উভয় বাহুকে পৃথক রাখা, জুতা সহ নামায আদায় করা। শেষ তাশাহুদে তাওয়ার্রুক করা অর্থাৎ বাম পা ডান পায়ের নীচে দিয়ে বের করত: বাম নিতম্বের উপর বসা।
◼২. মৌখিক সুন্নত: যেমন- ছানার দুয়া পাঠ করা, আউযুবিল্লাহ- বিসমিল্লাহ পাঠ করা। সেজদাহ্ ও রুকুতে এক তাসবীহের অতিরিক্ত তাসবীহ বলা।
✅🔲🔹নামাযের সুন্নাত সমূহ হচ্ছেঃ🔸
১. ‘সানা’ বা প্রারম্ভিক দু’আ পাঠ করা।
২. ডান হাতকে বাম হাতের উপর করে দাঁড়ানো অবস্থায় রুকুর পূর্বে ও পরে ‘বুকের’ উপর রাখা।
৩. দুই হাতের আঙ্গুল মিলিত ও দণ্ডয়মান অবস্থায় অবস্থায় কাধঁ অথবা দুই কানের লতি পর্যন্ত তুলে ইশারা করা, তাকবীরাতুল ইহরামের সময়, রুকু’ করার সময়, রুকু’হতে উঠার সময় ও প্রথম বৈঠক হতে তৃতীয় রাকা’আতের জন্যে দাঁড়ানের সময়।
৪. রুকু’ ও সিজাদার তাসবীহ সমূহের একের অধিকবার পাঠ করা।
৫. দুই সিজদার মাঝে মাগফিরাত বা ক্ষমার জন্য দু’আ একবারের অধিক পাঠ করা।
৬. রুকু’তে মাথাকে পিঠের বরাবর বা সমান্তরাল রাখা।
৭. সিজদারত অবস্থায় দুই হাতকে পার্শদ্বয় হতে, পেটকে উরুদ্বয় হতে ও উরুদ্বয়কে পায়ের নলীদ্বয় হতে দূরে রাখা।
৮. (নারী ও পুরুষের উভয়ের জন্য) সিজদার সময় জমিন হতে দুই হাতকে উঁচু করে রাখা।
৯. প্রথম বৈঠকে ও দুই সিজাদার মাঝখানে ডান পা খাড়া রেখে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা। (প্রথম বৈঠকে পুরুষদের মতো করে বসা, নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নাহ)।
১০. তিন ও চার রাক’আত বিশিষ্ট নামাযের শেষ বৈঠকে তাওয়াররুক করা। তাওয়াররুকের নিয়ম হল, বাম পা কে ডান পায়ের নলীর নিচে রাখা, অতঃপর ডান পায়ের পাতা খাড়া রেখে নিতম্বের উপর বসা। (দ্বিতীয় বৈঠকে নারীদের মতো করে বসা, নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নাহ)।
১১. প্রথম ও দ্বিতীয় বৈঠকে তাশাহুদের বসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শাহাদত আঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করা ও দু’আর সময় নড়ানো।
১২. প্রথম বৈঠকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার পরিবারের উপর এবং ইব্রাহীম ও ইব্রাহীম আলাইহিস সলাতু ওয়াস সালামের পরিবারের উপর সলাত ও বরকত বর্ষণ করা। অর্থাৎ, ২টি বৈঠকের নামাযের প্রথম বৈঠকে ‘দুরুদে ইবরাহীম’ পাঠ করা সুন্নাহ।
১৩. শেষ বৈঠকে দু’আ মাসুরা পড়া।
১৪. ফজরের নামাযে, জুমু’আর নামাযে, দুই ঈদের নামাযে, বৃষ্টি প্রার্থনার নামাযে এবং মাগরিব ও এশার নামাযের প্রথম দুই রাক’আত ফরয নামাযে উচ্চ স্বরে সুরা-ক্বিরাত পাঠ করা।
১৫. যুহর, আসর ও মাগরিবের তৃতীয় রাক’আতে এবং এশার সলাতের শেষ দুই রাক’আতে চুপিস্বরে সুরা-ক্বিরাত পাঠ করা।
১৬. সূরা ফাতিহা পড়ার পর ক্বুরআনের অন্য স্থান থেকে (সুরা বা আয়াত) পাঠ করা।
নামাযের যে সুন্নাতগুলো আমরা উল্লেখ করেছি, তা ছাড়াও হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য সুন্নাতগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। যেমন- ইমাম, মুক্তাদী ও একা একা সলাত আদায়কারীর রুকু’ হতে উঠে রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু এর অতিরিক্ত দুয়া পাঠ করা, এটি সুন্নাত। আরও তার (নামাযের সুন্নাতের) অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে, রুকু’র সময় দুই হাতের অঙ্গুলগুলো ছাড়ানো বা আলাদা অবস্থায় রেখে দুই হাঁটুকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরা। আরো হচ্ছে, সিজদার সময় অঙ্গুলগুলো মিলিত রাখা, নাক মাটিতে লাগিয়ে রাখা. . .ইত্যাদি।
__________________________________
✅🔴যে সকল কারণে নামায নষ্ট হয়, সেগুলো হচ্ছে মোট ৮টিঃ⬇
১. নামাযে মাসলাহাতের (কল্যাণ মূলক) বহির্ভূত এমন বিষয়ে স্বরণ ও জানা থাকা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা। তবে মনের ভুলে অথবা কোন মূর্খ ব্যাক্তি না জেনে কথা বলে ফেললে, তার নামায বাতিল হবে না।
২. নামাযে উচ্চস্বরে হাসা। তবে সামান্য মুচকি হাসা যা দেখে কেউ বুঝতে ন আপারে তবে তার কারনে নামায ভাংবেনা।
৩. নামাযের ভেতরে কোন কিছু খাওয়া।
৪. নামাযের ভেতরে কোন কিছু পান করা।
৫. নামায চলাকালীন সময় ‘আওরাহ’ বা লজ্জাস্থান প্রকাশিত হওয়া।
৬. সলাতে ধারাবাহিকভাবে অনেক বেশী বেহুদা বা অনর্থক কাজ করা। (আর অধিক কাজের পরিমাণ নির্ণয় করার মানদণ্ড হল, কেউ তার দিকে তাকালে মনে হবে যেন, সে নামাযের মাঝে নয়)।
৭. ক্বিবলার দিক থেকে ডান বা বাম দিকে অনেক বেশি সরে যাওয়া।
৮.🔴 #নামাযের_ভেতরে_সালাম_ফেরানোর_পূর্বে_যেকোনো_সময়ে_অযু_ভেঙ্গে_যাওয়া।
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎস গ্রন্থঃ “সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ”
লেখকঃ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
(রহঃ), প্রাক্তন গ্র্যান্ড মুফতি, সৌদি আরাবিয়া।
↙
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka