03/02/2023
প্রেমরোগ সিরিজ (পর্বঃ ৫ )
কৈশোরকে সামলিয়ে নাও প্লিজ..
সুযোগ পেলেই রাস্তার ধারের কোনো স্কুলে ঢু মারি। ক্লাসে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মনস্তত্ত্বকে বুঝতে চেষ্টা করি। শিক্ষকরা ওদের পড়াই, আমি ওদের পড়ি।
ভয়াবহ একটা ব্যাপার আছে কৈশোরের। এখন যা বলব, সেটা শরিয়াহ পারস্পেকটিভ থেকে নয়, সমাজকে যেভাবে দেখছি, সেখান থেকে।
আমাদের কিশোররা চুটিয়ে প্রেম করছে। রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই মুশকিল। ছেলেমেয়েদের বডি লাঙ্গুয়েজ দেখে ভয়ই পাই। ওরা নিজেদের মধ্যে আলাপে ওদের মতো নয়, এমন সিনিয়রদের নিয়ে ট্রল করে। কোনটা খ্যাত মার্কা এন্ড্রয়েড, কার পোশাক আনস্মার্ট, কোন বাইক আর চলে না, কে কতটা ছ্যাবলা...এসব আর কি!
এসব কিশোর প্রজন্ম নিজেদের এতটাই স্মার্ট মনে করে, অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার কারণই খুঁজে পায় না।এনিওয়ে, ওদের স্মার্টনেসকে আমরাই না-হয় সম্মান করলাম। আমার দু:খ অন্য জায়গায়।
কিশোররা কেবল বয়সের ফাঁদে জড়িয়ে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছে।
এই কিশোরদের সার্কেলটা খেয়াল করুন। স্কুলের চৌহদ্দি, আশেপাশের কিছু বন্ধু, আত্মীয়স্বজন। এরা আড্ডা দিলে এই সার্কেলের মধ্যেই দিতে হয়, প্রেমিক-প্রেমিকা খুঁজে ফিরে এই সার্কেলেই। একজন কিশোর তার এই সার্কেলের বাহিরের বিশাল দুনিয়াকে দেখতে পায় না।
আমি হামেশাই দেখছি, স্কুলগামী কিশোরী যে ভ্যানে যাতায়াত করে, সেই ভ্যানওয়ালার সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। যে দোকানে টিফিন কিনে, সে দোকানীর সাথে সম্পর্ক করছে। যে তাকে একটা এন্ড্রয়েড কিনে দিচ্ছে, বিনিময়ে তাকে জীবনটা দিয়ে দিচ্ছে। স্কুলের সমবয়সী বন্ধু-বান্ধবীরা সম্পর্কে জড়াচ্ছে। কাজিনদের সাথে সম্পর্ক করছে। তাদের কাছে এর বাইরে কোনো স্পেস নাই।
গ্রামীণ জীবন থেকেই বলি।
স্কুলের আশেপাশে কয়টা গ্রামই থাকে আর! স্কুলের বাচ্চারা যখন প্রেম করছে, তখন তাদের চয়েজ এরিয়া সে স্কুল অথবা আশেপাশের গ্রাম। এরা কলেজ পর্যন্ত যদি অপেক্ষা করত, তাহলে তাদের পছন্দের এরিয়া পুরো উপজেলায় বিস্তৃত হতো। এরা যদি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা উচ্চতর অধ্যয়ন পর্যন্ত সামলিয়ে নিতে পারত, অনেক কোয়ালিটি চুজিংয়ের স্পেস থাকতো।
এরা জীবনের মানে বুঝেছে—সামনে যা পাও, সেটাই পৃথিবী। এরা ছোট্ট মুদি দোকানটাকে দেখেছে, সুপারশপ দেখেনি। মুদি দোকানের গুটিকতক পণ্যের মধ্য থেকেই বাজার করছে, একটু দূরে শহরের সুপারশপটা কখনো এরা দেখতে চায় না। মুদি দোকানের পণ্য চয়েজ আর সুপারশপের পণ্য চয়েজ কখনো কি সমান হতে পারে?
স্কুলগুলোতে গিয়ে বাচ্চাদের প্রেম করার জন্য একটু সময় নেওয়ার অনুরোধ করি। তাদের আরেকটু পরিণত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলি। স্কুলের সময়টাতেই নিজেকে কারও কাছে আত্মসমর্পণ না করিয়ে বেটার সময়ের অপেক্ষা করতে বলি। তাদের বলি—স্কুলের প্রেমিক-প্রেমিকা মাধ্যমিকের গণ্ডি নাও পেরুতে পারে, অন্তত স্নাতকে পৌঁছে যাও, স্নাতক পর্যন্ত ধৈর্য ধরো। সেখানে গেলে সবাইকে স্নাতক অবস্থায় পাবে, তোমাদের চয়েজের মানের পরিবর্তন হবে। কুয়োর মধ্যে এক বালতি পানি না খুঁজে, সমুদ্রে যাও না কেন?
এতক্ষণ পড়ে নিশ্চয় আপনাদের মেজাজ গরম হয়ে গেছে। শরিয়াহকে উপেক্ষা করে প্রেমের পক্ষে ওকালতি করছি স্কুলগুলোতে!
নাহ! মোটেও তা নয়।
আধুনিক জাহেলিয়াত সম্পর্কে ধারণাই নাই আমাদের। এদের ট্যাকটিক্যালি হ্যান্ডেল করা ছাড়া উপায় নাই। কোনো নসিহতে তারা প্রেমের নামে এই ভয়ংকর জাহেলিয়াত থেকে ফিরবে না। এদের কাছে প্রেম পবিত্র, মহান। তাদের ভাষায়—প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয়।
এদের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সামলিয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়ে মূলত কিছু সময় নিতে চেয়েছি। কারণ, সামনে তাদের জন্য অনেক দাওয়াহ স্টেশন অপেক্ষা করছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদরাসায় জীবনের বোধ বদলে দেওয়ার মতো ম্যাকানিজম আছে। অনেক দাওয়াহ গ্রুপের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ আছে। আল্লাহ চাইলে একটা ফানুসের জীবনবোধের পরিবর্তে তারা একটা মিনিংফুল জীবনবোধের সন্ধান পাবে ইনশাআল্লাহ।
টিনএজকে আমাদের ডিল করতেই হবে৷ এক মোহাচ্ছন্ন পৃথিবী থেকে তাদের যতটা সম্ভব বিরত রাখতেই হবে।
এটা আমার ব্যক্তিগত বোধ। আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আছে, স্বীকার করি। ভিন্নমতকে সম্মান করি। প্রজন্ম নিয়ে পেরেশানি থেকে কথাগুলো লিখলাম। একটা জনপদকে অধ্যয়ন করছি। বোধগুলো তুলে ধরলাম। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কিশোরদের সেভ করুন। হেরার আলোয় আলোকিত প্রজন্ম তৈরি হোক।
অবস্থা খুব ভয়াবহ!
আপনাদের পায়ে পড়ি ভাই কিশোরদের বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।
চলবে..
কপিরাইট :
Tasawwuf---তাসাউফ
প্রেমরোগ সিরিজ (পর্বঃ ৪ ) হে বোন, তুমি কি জানো, তুমি কতো মূল্যবান? রাস্তার অচেনা-অপরিচিত ছেলেরা যেমন তোমার নন-মাহরাম, ...