20/05/2026
প্রিয় শুভেন্দু,
গরু জবাই বন্ধের মহত্তম অভিযানে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। গরুর প্রতি আপনার এই অগাধ শ্রদ্ধা, সীমাহীন ভক্তি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রেম দেখে আমরা সত্যিই অভিভূত। এখন শুধু অনুরোধ, এই ভক্তি যেন কেবল বক্তৃতামঞ্চ, মিছিলের স্লোগান আর টিভি ক্যামেরার সামনে আটকে না থাকে। যদি এখনো শুরু না করে থাকেন, তবে আজ থেকেই তিন বেলা নিয়ম করে গো-মূত্র সেবন শুরু করুন। আর সম্ভব হলে সকালে একবার, সন্ধ্যায় একবার গো-মূত্রে স্নান করুন। এতে ভক্তির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই ধরনের পবিত্রতাই নিশ্চিত হবে।
কঠোরভাবে খেয়াল রাখবেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে দলীয় পাহারাদার বসাতে হবে। শুধু আস্ত গরু নয়, গরুর একটি লোম, একটি শিং, এমনকি লেজের সামান্য নড়াচড়াও যেন বাংলাদেশের দিকে যেতে না পারে। সীমান্তে যদি দরকার হয় ‘গো-ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট’ বসান। গরুরও তো মর্যাদা আছে; তাকে আর পাঁচটা সাধারণ প্রাণীর মতো সীমান্ত পার হতে দেওয়া যায় না।
মমতা ব্যানার্জীর যুগে গরু যে কত অবহেলিত হয়েছে, কত অসম্মানিত হয়েছে—তা ভাবলেই চোখে জল আসে। এতদিন স্কুল-কলেজে মানুষ পড়েছে, বিজ্ঞান পড়েছে, ইতিহাস পড়েছে, সাহিত্য পড়েছে—এ এক ভয়ংকর সেক্যুলার অপচয়! এখন সময় এসেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত অর্থে পবিত্র কাজে ব্যবহার করার। স্কুল-কলেজের শ্রেণিকক্ষগুলোকে গরুর সম্মানজনক আবাসনে রূপান্তর করুন। ব্ল্যাকবোর্ডে গণিতের সূত্র না লিখে লিখুন—“গো-মাতা সর্বোচ্চ সত্য।” ল্যাবরেটরিতে রসায়ন নয়, গো-মূত্রের আধ্যাত্মিক গুণাবলি পরীক্ষা করা হোক। ছাত্রদের শেখানো হোক কীভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে গো-মূত্র সেবন করতে হয়, কীভাবে গোবরের সামনে মাথা নত করতে হয়, এবং কীভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের বদলে গো-উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হয়।
আর যেসব হিন্দু নারী এতদিন গরু পালন করে কোরবানীর সময় মুসলমানদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাতেন—তাদের অপরাধ তো অকল্পনীয়! তারা গরুকে অর্থনীতির অংশ ভেবেছিলেন, অথচ আপনারা তাকে রাজনীতির সিংহাসনে বসিয়েছেন। অতএব তাদের জন্য বিশেষ ‘গো-নৈতিকতা পুনর্বাসন কেন্দ্র’ খোলা যেতে পারে। সেখানে তারা শিখবেন, ঋণ, সংসার, সন্তান, জীবিকা—এসব তুচ্ছ বিষয়; গো-মাতার সম্মানই একমাত্র রাষ্ট্রীয় সত্য। যারা গরু পালনের জন্য ব্যাংক বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তাদের বোঝান—সুদখোর মহাজনের কাছে মাথা নত করার চেয়ে গো-মাতার সামনে অনাহারে বসে থাকা অনেক পবিত্র।
আধুনিক বিজ্ঞান বলে গরুর গোবর উৎকৃষ্ট জৈব সার। কিন্তু গো-মাতার দানকে মাটিতে ফেলে দেওয়া কি কম অপমানের কথা? মাটিরও তো মর্যাদা আছে, কিন্তু গোবরের মর্যাদা কি তার চেয়ে কম? তাই গোবরকে শুধু সার হিসেবে ব্যবহার না করে ভাতের বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রীয় খাদ্যনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করুন। ইচ্ছে করলে গোবরের রুটি, গোবরের পিঠা, গোবরের পরোটা, এমনকি গোবরের বিরিয়ানি চালু করা যায়। এতে একদিকে কৃষি বাঁচবে, অন্যদিকে ভক্তির পাকস্থলীও পবিত্র হবে। গো-মাতার আশীর্বাদে শরীর, মন, ভোটব্যাংক—সবই ভালো থাকবে।
শুভেন্দু, গরুর চামড়া দিয়ে জুতা, ব্যাগ, বেল্ট বানানো বিরাট অধর্মের কাজ। গো-মাতার চামড়া পায়ের নিচে থাকবে—এ কেমন ভক্তি? অতএব অবিলম্বে গরুর চামড়ার সব কারখানা বন্ধ করুন। যারা গরুর চামড়ার জুতা পরে গো-রক্ষার বক্তৃতা দেয়, তাদের জন্য আলাদা সংশোধনাগার হওয়া দরকার। মুখে গো-মাতা, পায়ে গো-মাতা—এই দ্বিচারিতা আর চলতে দেওয়া যায় না।
শুধু তাই নয়, যেসব দেশ গরুর মাংস খায়, তাদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করুন। আমেরিকা, ইউরোপ, চীন, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য—কেউ ছাড় পাবে না। গো-মাতার মাংস ভক্ষণকারীদের সঙ্গে বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রযুক্তি বিনিময়—এসব ভক্তির পথে বাধা। পশ্চিমবঙ্গের যারা এসব দেশে কাজ করে, তাদেরও ঘোষণা দিন—এক সপ্তাহের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। না ফিরলে তাদের বাড়িঘর রাষ্ট্রীয় গো-সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হোক। যারা গো-মাংসভোজী দেশের রেমিট্যান্স নেবে, কিন্তু মঞ্চে উঠে গো-মাতার জয়ধ্বনি দেবে—তাদের ভক্তির হিসাবও একদিন মিলিয়ে দেখা দরকার।
আর একটি অনুরোধ—রাজ্যের সব সরকারি দপ্তরে চা-কফির বদলে গো-মূত্র পরিবেশন বাধ্যতামূলক করুন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হোক গো-মূত্র পান দিয়ে, শেষ হোক গোবর-প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে। বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করুন—সেই সব গরুর স্মরণে, যারা এতদিন মানুষের খাদ্য, কৃষকের সম্পদ ও অর্থনীতির অংশ ছিল; এখন তারা হোক রাজনীতির পোস্টার, স্লোগান ও ধর্মীয় উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু।
শুভেন্দু, আপনি যখন গো-ভক্তির এই সুবর্ণযুগ শুরু করলেন, তখন আর অর্ধেক পথে থেমে গেলে চলবে না। গরুকে শুধু জবাই থেকে বাঁচালেই হবে না; তাকে অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রশাসন, পররাষ্ট্রনীতি, খাদ্যনীতি—সব কিছুর কেন্দ্রে বসাতে হবে। মানুষ না খেয়ে মরুক, কৃষক ঋণে ডুবে যাক, দরিদ্র নারী জীবিকার পথ হারাক—এসব ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে ভাবলে মহৎ রাজনীতি করা যায় না। মহৎ রাজনীতির জন্য প্রয়োজন মহৎ প্রতীক; আর আপনার রাজনীতিতে সেই প্রতীকের নাম—গরু।
গো-মাতার মূত্র পান করে, গোবরের রুটি খেয়ে, ভক্তির আলোয় আলোকিত থাকুন, শুভেন্দু। আপনার শরীর পবিত্র হোক, মন পবিত্র হোক, রাজনীতি আরও পবিত্র হোক—এবং পশ্চিমবঙ্গ একদিন সত্যিকার অর্থেই মানুষহীন, যুক্তিহীন, কিন্তু গরুসমৃদ্ধ এক মহাপবিত্র রাজ্যে পরিণত হোক।
ইতি,
মইনুল হক
ডেট্রয়েট, মিশিগান।
ও হ্যাঁ শুভেন্দু—দেখুন তো কী কাণ্ড! এত বড় অধর্মের কথা বলতে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। গো-মাতাকে দিয়ে হালচাষ করানো তো মহাপাপ! অতএব জোয়াল ধামড়া গো-রক্ষকদের কাঁধে তুলে দিন, আর লাঙ্গলটা কৃষকের হাতে ধরিয়ে দিন। শাস্ত্রে আছে—‘গো-মাতার সেবা করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’।
20/03/2026
05/02/2026
03/02/2026
28/01/2026
21/01/2026
21/01/2026