04/07/2024
কোটাগরু তো অনেক খেল, সামনে কী আর খাবে?
বাকি আছে একটাই এবার— দেশটাও খেতে চাবে।
Rain Rain, Go Away
04/07/2024
কোটাগরু তো অনেক খেল, সামনে কী আর খাবে?
বাকি আছে একটাই এবার— দেশটাও খেতে চাবে।
নিজেকে জ্ঞানী ভেবে মূর্খকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার মানসিকতা মোটেও সমীচীন নয়। জ্ঞানের মহিমা কার্যত অজ্ঞতারই অপর পাশে অবস্থান করে। অন্ধকার না থাকলে আলো যেমন অর্থহীন, সংঘর্ষ না থাকলে শান্তি যেমন অস্তিত্বহীন, ঠিক তেমনি জ্ঞানও ইউজলেস অজ্ঞতা ছাড়া। নিজেকে জাহির করবার জন্য জ্ঞানেরই বেশি প্রয়োজন অজ্ঞতাকে। ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম:
অর্জিত জ্ঞান → মধ্যবর্তী পর্দা → জ্ঞানের মর্যাদা
এই মধ্যবর্তী পর্দাটাই অজ্ঞতা। অজ্ঞতার সাথে মিথস্ক্রিয়া করে কেবল পজিটিভ আউটকাম আনতে পারলেই জ্ঞান 'মর্যাদা'য় পরিণত হয়, তার আগে নয়। মোমের আলো যদি কোনো প্রাণের কাজেই না লাগে তবে তা জ্বলা–না-জ্বলা উভয়ই এক, অর্থহীন। একজন শিক্ষক তখনই মর্যাদাবান হয়ে ওঠেন, যখন তাঁর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর অজ্ঞতা দূরীভূত হয়। এর আগ অবধি শিক্ষকের মর্যাদা-অমর্যাদা বলে কিছু থাকে না।
বইমেলায় একজন বিশেষ লেখককে দেখা যায়, তিনি ইংরেজি নিয়ে কাজ করছেন। প্রশ্ন করতে গিয়ে সঠিক উত্তর দিতে না পারা সবাইকে তীব্রভাবে অপদস্থ করছেন। দেখে মনে হলো— তিনি সম্ভবত জ্ঞান ছুঁতে পেরেছেন, তবে জ্ঞানের দর্শনটা ছুঁতে পারেননি।
❑ যেসব কথা বলবার জন্য কারো
সাথে ‘গলায় গলায় ভাব’ হয়নি– ২৩
বড়ো অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখেছি আজ। দেখেছি একটা রাষ্ট্র, এমন রাষ্ট্র যেখানে মানুষ কথা বলতে পারে না, কথা বলতে পারে শুয়োর সম্প্রদায়। অদ্ভুতভাবে এরা আবার মানুষের মতোই দেখতে, চোখ-মুখ-হাত-পা ঠিক মানুষের মতোই। খুব সামান্য যে দুটো পার্থক্য দেখলাম— ১. এদের মাথায় গোবর থাকলেও সেরিব্রামটা নেই, ২. মেরুদণ্ড ভঙ্গুর ও করুণভাবে বাঁকা।
09/01/2024
01/01/2024
পা হয়ে যায় গুম!
01/01/2024
আগুন পুষে রাখছি বুকে; সব কথা তো বলার নয়
শোধ নেব না, শোধ নেব না, শোধ নিতেও ঘৃণা হয়।
অপমান সব তুচ্ছ করে আকাশ হয়ে ভাসব যেই,
পায়ে ঠেলা দূরে থাক, মাথা গুঁজেও পাবে না খেই।
দাঁতে দাঁত চিপে থাকি; দুঃসময় ঠিকই হবে শেষ
ভারী বৃষ্টি-ঝড়ের পরে মেঘেরাও হয় নিরুদ্দেশ।
বলছি আমি শুনে রাখো ধোঁয়া ওঠা ভাতের মাড়
একদিন সব উল্টো হবে, হিসেব হবে পুনর্বার।
হিসেব হবে বুক পোড়ানোর, হিসেব হবে দারুণ সাফ
স্বকারাগারে বন্দি তুমি, পারলে কোরো তোমায় মাফ।
আগুন দিয়ে পোড়াবো না, পোড়াবো অনুশোচনায়—
শেখাব মানুষ কেমন করে আঘাত ছাড়াও আঘাত পায়।
— ফুয়াদ হাসান | প্রতিশোধ
গেল ২০ ডিসেম্বর, ২৩ শেষে বয়স ছুঁয়ে ফেলল ২২ এর রেখা। দেখতে দেখতে জীবনের বাইশটা বছর কেটে গেল! এ বাইশ বছরে আছে প্রাপ্তির আনন্দ, তারও বেশি আছে অপ্রাপ্তির ধাক্কা। মেলা কিছুই বলতে মন চায়, লিখতে মন চায়— তবু সব তো বলা যায় না, লেখা যায় না।
পারতাম যদি, থুথু মেরে (তীব্র ঘৃণায়) ২০১৮-২০২২ এই পাঁচটা বছর জীবন থেকে মুছে দিতাম। মুছে দিতাম ২০২৩ এরও অনেকটা; সামান্যটুকু রাখার একমাত্র কারণ— ও সময়ের ভেতরেই আমি ১৮-২৩ সীমাটা শনাক্ত করতে পেরেছি।
১৮-২৩ এ পাওয়া কিছু মুখ আমি আর দ্বিতীয়বার দেখতে চাই না, কিছু ঘটনা দ্বিতীয়বার স্মরণ করতে চাই না, কিছু শুয়োরকে দ্বিতীয়বার মানুষ ভাবতে চাই না।
২৩ অবধি পাওয়া সমগ্র ধকল-ধাক্কা সামলে ২০২৪ এ নিজেকে সুস্থ করতে চাই, ফিরিয়ে আনতে চাই। জীবনের শ্রেষ্ঠ বছর করতে চাই ২০২৪-কে। কোনো শুয়োরের সামান্যতম আনাগোনা প্রত্যাশা করি না।
— ফুয়াদ হাসান
২০শে ডিসেম্বর, ২০০১। কোনো এক অলুক্ষণে দুপুরে জন্মেছিলাম আমি। এক-দুই-তিন করে প্রাক-যৌবন কেটে গেল; জীবন নামক নির্দিষ্ট আয়ুতে বাঁধা বৃক্ষটি বেয়ে ঝরে গেল একুশটি পাতা। বড়ো অনাদর-অবহেলায় বেড়ে উঠেছি আমি। কী পেলাম, কী দিলাম তার সমীকরণটি বড্ড ভারসাম্যহীন। একুশ বছর কাটিয়ে মনে হলো বিশেষ কিছুই পাইনি; আবার যে সামান্যটুকু পেয়েছি, তার সামান্যতমও পরিশোধ করতে পারিনি। এত সামান্য পেয়েও কী তীব্রভাবে ঋণী হয়ে গেলাম!
একুশ বছরের এ জীবনে পেছন ফিরে দেখি কিছুই ঠিকঠাক নেই; খুব অল্প কিছু বাদে সব কেমন যেন শুষ্ক, অগোছালো, ভরসাহীন। বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা ও কপটতার পেরেকে এ জীবন বিদ্ধ হয়েছে বহুবার। অনেক নোংরা ও চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছি; জেনেছি, বুঝেছি, শিখেছি। অর্জিত শিক্ষাগুলোর সবচেয়ে বড়োটি হলো নিজের দর্শনকে উপলব্ধি করা, নিজের সংগ্রামের বাটখারায় স্বপ্নকে মাপতে পারা।
যেদিন থেকে 'স্বপ্ন-সততা-সংগ্রাম' এ তিনটিকে ধারণ করেছি, সেদিন থেকে আর কখনোই ফিরে তাকাইনি, ভয় পাইনি। আমাদের স্বপ্ন তথা লক্ষ্যটা যদি কাদা-জলে কর্দমাক্ত কোনো পথ হয়, তবে সংগ্রামভরা প্রতিটা দিন একেকটা শক্তপোক্ত ইট, যেগুলোকে পরপর বিছিয়ে দিলেই আমরা এ পথ পেরিয়ে যেতে পারি। 'জীবনে খারাপ সময় চলছে' এর অর্থ জীবনের একটি গৌরবময় গল্প রচিত হচ্ছে। কেউ পারুক বা না পারুক, আমি পারব, আমাকে পারতেই হবে। অন্যের দায়ভার অন্যের হতেই পারে, আমার দায়ভার আমার। আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কিংবা আমাকে টেনে তোলবার দায়িত্ব আমার, এবং একান্তই আমার। আই রিপিট— কেউ পারুক বা না পারুক, আমি পারব, আমাকে পারতেই হবে। আমি পারার জন্যই লড়ছি, আমি লড়ছি বলেই পারব।
— ফুয়াদ হাসান