14/06/2023
সংক্ষিপ্ত আকারে হজ্বের পাঁচ দিনের আমল:
৮ যিলহজ্ব থেকে ১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত হজ্বের পাঁচ দিনের আমলগুলোর কর্মপদ্ধতি: আশাকরি অনেকের কিছুটা উপকার হবে ইনশাআল্লাহ।
★ প্রথম দিন ৮ যিলহজ্ব:
৮ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর সকল হাজ্বীকে ইহরাম অবস্থায় মিনা গমন করতে হবে। যোহর থেকে পরবর্তী দিনের ফজর পর্যন্ত মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামায মিনায় পড়া এবং ৮ তারিখ দিবাগত রাত্রি মিনায় অবস্থান করা সুন্নত।
[রদ্দুল মুহতার ২/৫০৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭]
★ দ্বিতীয় দিন ৯ যিলহজ্ব:
৯ যিলহজ্ব মিনা থেকে বের হয়ে পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় উকূফ তথা অবস্থান করা ওয়াজিব। তবে এই সময়ের মধ্যে যেকোনো এক সময় অবস্থান করা ফরয। সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করা জায়েয নয়। সেখানে যোহরের ওয়াক্তে যোহর ও আসরের নামায একত্রে পড়তে হবে।
*মুযদালিফার উদ্দেশে রওনা:
আরাফার ময়দান থেকে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামায না পড়ে মুযদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা হতে হবে। সূর্যাস্তের পর বিলম্ব না করাই শ্রেয়। মাগরিব ও ইশার নামায ইশার ওয়াক্তে মুযদালিফায় গিয়ে পড়তে হবে। মুযদালিফায় রাত্রি যাপন করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
[রদ্দুল মুহতার ২/৫০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩০]
★ ৩য় দিন ১০ যিলহজ্ব:
১০ যিলহজ্ব সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিছু সময় মুযদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব। তবে সূর্যোদয়ের কিছু পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করা সুন্নত।
[মানাসিক ২১৫, ২১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩০; গুনইয়াতুন নাসিক ১৬৫]
*মিনায় রওনা:
১০ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের সামান্য পূর্বে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা করতে হবে। সূর্যোদয় পর্যন্ত বিলম্ব করা সুন্নতের খেলাফ।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৮৩]
*জামরা আকাবাতে রমী করা:
১০ যিলহজ্ব জামরা আকাবা তথা বড় শয়তানকে সাত কঙ্কর সাতবারে নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। এটাকে রমী করা বলে। তবে এদিন সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত সময়ের ভিতর রমী করা মুস্তাহাব।
*দমে শোকর বা হজ্বের কুরবানী করা:
তামাত্তু ও কিরান হজ্ব আদায়কারীদের জন্য একটি কুরবানী করা ওয়াজিব। ১০ যিলহজ্ব কঙ্কর নিক্ষেপের পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের ভিতর কুরবানী করতে হবে। সুন্নত সময় শুরু হয় ১০ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর থেকে।
*মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা:
১০ যিলহজ্ব কুরবানীর পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময় মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা ওয়াজিব।
*তাওয়াফে যিয়ারত করা:
১০ যিলহজ্ব জামরা আকাবার রমী, কুরবানী এবং মাথা কামানোর পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময় তাওয়াফে যিয়ারত তথা কা'বা শরীফ তাওয়াফ করা ফরয। এই তাওয়াফের পর সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সাঈ করা ওয়াজিব।
★ ৪র্থ দিন ১১ যিলহজ্ব:
১১ ও ১২ যিলহজ্বের রাত্রিতে মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। ১১ যিলহজ্ব যোহরের সময় থেকে আগত রাত্রের সুবহে সাদিক পর্যন্ত তিন শয়তানকে সাত কঙ্কর সাতবারে নিক্ষেপ করার সময়। সম্ভব হলে এই রমী সূর্যাস্তের আগে করে নেওয়া ভালো। সূর্যাস্তের পর মাকরূহ সময়।
★ পঞ্চম দিন ১২ যিলহজ্ব:
এদিনও যোহরের সময় থেকে আগত রাত্রের সুবহে সাদিক পর্যন্ত তিন শয়তানকে সাত কঙ্কর সাতবারে নিক্ষেপ করার সময়।
*১৩ যিলহজ্ব রমী করা:
১২ তারিখ দিবাগত রাতে মিনায় থাকা উত্তম এবং ১৩ তারিখ আবারো তিন জামারাতে রমী করা উত্তম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১৩ তারিখ রমী করে মিনা ত্যাগ করেছিলেন।
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আইয়্যামে তাশরীকের রাতগুলোতে মিনায় অবস্থান করতেন এবং সূর্য যখন ঢলে যেত তখন প্রতি জামরায় ৭টি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন।
[সুনানে আবু দাউদ ১/২৭১]
★★ তাওয়াফে বিদা
মীকাতের বাইরে অবস্থানকারী হাজ্বীদের জন্য মক্কা মুকাররামা ত্যাগ করার আগে একটি তাওয়াফ করা ওয়াজিব। একে তাওয়াফে বিদা বলা হয়। এই তাওয়াফ মক্কা থেকে বিদায়ের সময় করা উত্তম।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, লোকেরা চতুর্দিকে চলে যেতে আরম্ভ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কেউ যেন বাইতুল্লাহর নিকট তার শেষ উপস্থিতি ব্যতীত ফিরে না যায়।
[সহীহ মুসলিম ১/৪২৭]