17/03/2024
আজকের আলোচনা ইসলামী পৌরাণিক মক্কা।
---------------------------------------------------------------------------
কি কারণে মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) আরব দেশের বিখ্যাত নগরী বলা হয়?
---------------------------------
মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) বিশ্ব নবীর জন্মস্থান বলার কারণ কি?
---------------------------------
মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) বিশ্ববাসীর তীর্থস্থান বলার কারণ কি?
---------------------------------
মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) হজ (ﺤﺞ) এর স্থান বলার কারণ কি?
---------------------------------
মক্কার (ﻤﻛﺔ) ঘরের ৩৬০ মূর্তির ব্যাখ্যা
---------------------------------
মক্কার (ﻤﻜﺔ) ঘরের ওপর দিয়ে কোনো পাখি উড়ে যেতে পারে না কেন?
---------------------------------
মক্কার (ﻤﻜﺔ) ঘর মানব-দানবের উপাসনা হতে চির রুদ্ধ কেন?
--------------------------------
ইসলামী পৌরাণিক মক্কা
(الأساطير الإسلامية مكة)
(Islamic mythology Mecca)
ভূমিকা (Prolegomenon)
মক্কা (ﻤﻛﺔ) আরবি পরিভাষা। এটি আরবীয় পুরাণে বর্ণিত স্থানবাচক একটি অনন্য পরিভাষা। মক্কা (ﻤﻛﺔ) পরিভাষাকে কেন্দ্র করে আরবীয় সুবিজ্ঞ রূপকারগণ অসংখ্য চমৎকার/ Miracles/ (معجزات) (মু’জিযা) নির্মাণ করেছেন।
সুমহান রূপকার মনীষীদের দ্বারা নির্মিত অনুপম চমৎকারগুলো একত্র করেই; সম্পাদিত হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত অগণিত মহাগ্রন্থ। আরবীয় পুরাণে বর্ণিত; অসংখ্য পরিভাষার মধ্যে; মক্কা (ﻤﻛﺔ) স্থানবাচক একটি অনন্য পরিভাষা।
অত্র সত্তাটির অলৌকিককাহিনী জানার পর; এর প্রকৃত তথ্য, তত্ত্ব ও তাৎপর্য জানাও প্রয়োজন। বর্তমানে গত অষ্টম শতাব্দীর পূর্বে সংকলিত কুরয়ানে এই মক্কা (ﻤﻛﺔ) পরিভাষাটির কোনো উল্লেখ নেই।
তবে; অষ্টম শতাব্দীর পরে সংকলিত কুরয়ানগুলোয় মক্কা (ﻤﻛﺔ) পরিভাষাটি একবার উল্লেখ রয়েছে। “وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُم بِبَطْنِ مَكَّةَ مِن بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا”; অর্থ “তিনি মক্কা নগরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন; তাদের ওপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু করো; কাঁই তা দেখেন।” (কুরয়ান, সুরা ৪৮ ফাতহ; আয়াত-২৪)।
এছাড়াও; অষ্টম শতাব্দীর পূর্বে আরবীয় অঞ্চল অথবা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর কোনো পুস্তক-পুস্তিকায় মক্কা (ﻤﻛﺔ) পরিভাষার উল্লেখ নেই। তাই; ধরে নেওয়া হয় যে; সৌদি আরবের বর্তমান মক্কা (ﻤﻛﺔ) ইসলামের সূতিকাগার নয়। বরং ইসলামের উৎপত্তি স্থল হলো জর্ডানের পেট্রা (Petra)।
মক্কা (ﻤﻚ ﻤﻛﺎ ﻤﻛﺔ) পরিভাষার অনুবাদসমূহ
(Translations of Mecca terminology)
১. আরবি-বাংলা অভিধান (বাংলা একডেমী)।[১]
১ ﻤﻛﺔ (মক্কহ); আরবের প্রসিদ্ধ নগরী, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মস্থান; যেখানে কা’বাগৃহ অবস্থিত। ﺠﺎ- ﻤﺚ-
২ ﻤﻚ (মক্ক); চোষা, চোষণ, ধ্বংস, চর্বণ, প্রাপ্য গ্রহণ।
২. আরবি ফার্সি তুর্কি হিন্দি উর্দু শব্দের অভিধান (বাংলা একাডেমি)।[২]
মক্কা বি আরবদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগর এবং মুসলমানদের তীর্থস্থান ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মস্থান, তার মধ্যে কা’বা শরীফ মুসলিম জগতের কিবলা, হজ্জের স্থান {মক্কঃ ﻤﻛﻪ আ.}
৩. আল-কাওসার (আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান)।[৩]
১ ﻤﻚ [মাক্কুন] (ﻥ) চোষা, ধ্বংস করা, হ্রাস করা।
২ ﻤﻛﺎ [মাকা] গর্ত, সুড়ঙ্গ, শৃগাল ও খেঁকশিয়াল ইত্যাদির গর্ত।
৪. আল কুরয়ানের বাংলা অভিধান[৪]
ﻤﻛﺔ (মাক্কাতুন) মক্কা নগরী।
৬. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (বাংলা একাডেমি)।[৬]
মক্কা বি আরবদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগর এবং মুসলমানদের তীর্থস্থান, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মস্থান, কা’বা এখানেই অবস্থিত {আ.মক্কা.ﻤﻛﺔ, পূর্বনাম বক্কা}
৫. ফরহঙ্গ.ই.রব্বানী (উর্দূ-বাংলা-অভিধান)।[৭]
ﻤﻛﻪ (মক্কাঃ); আঃ নাঃ পুং আরবদেশের পবিত্র মক্কা নগরী।
বিভিন্ন অভিধান থেকে প্রাপ্ত পরিভাষা
(Terminologies obtained from several dictionaries)
“১. গর্ত, সুড়ঙ্গ, শৃগাল ও খেঁকশিয়াল ইত্যাদির গর্ত ২. চোষা, চোষণ, ধ্বংস, চর্বণ, ধ্বংস করা, হ্রাস করা, প্রাপ্য গ্রহণ ৩. আরবের প্রসিদ্ধ নগরী, আরবদেশের পবিত্র মক্কা নগরী, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মস্থান; যেখানে কা’বাগৃহ অবস্থিত, আরবদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগর এবং মুসলমানদের তীর্থস্থান, তার মধ্যে কা’বা শরীফ মুসলিম জগতের কিবলা, হজের স্থান।”
পর্যালোচনা (Reviews)
উপরোক্ত পরিভাষাগুলোর মধ্যে ‘গর্ত, সুড়ঙ্গ, শৃগাল ও খেঁকশিয়াল ইত্যাদির গর্ত’; এ অংশটুকু আরবি ‘মক্কা’ (ﻤﻛﺔ) পরিভাষার প্রকৃত বঙ্গানুবাদ। “চোষা, চোষণ, ধ্বংস, চর্বণ, ধ্বংস করা, হ্রাস করা, প্রাপ্য গ্রহণ”; এ অংশটুকু আরবি মক্কা (ﻤﻛﺔ) পরিভাষাটির ভাবানুবাদ।
“আরবের প্রসিদ্ধ নগরী, আরবদেশের পবিত্র মক্কা নগরী, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মস্থান; যেখানে কা’বাগৃহ অবস্থিত, আরবদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগর এবং মুসলমানদের তীর্থস্থান, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মস্থান, কা’বা এখানেই অবস্থিত, আরবদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগর এবং মুসলমানদের তীর্থস্থান ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মস্থান, তারমধ্যে কা’বা শরীফ মুসলিম জগতের কিবলা, হজের স্থান।
এ অংশটুকু আরবি মক্কা (ﻤﻛﺔ) পরিভাষাটির কোনো অনুবাদ নয়। তবে; এগুলোকে মক্কা (ﻤﻛﺔ) পরিভাষাটির প্রকৃত মূলক সত্তা উদ্ঘাটনের জন্য নির্মিত চমৎকার বা রূপক ব্যাখ্যা বলা যায়। কোনো পরিভাষার সত্তা উদ্ঘাটনের জন্য; রূপকভাবে নির্মিত চমৎকার বা রূপক ব্যাখ্যা কখনও পরিভাষার অনুবাদ হতে পারে না।
সমাধান (Solution)
মক্কা [ﻤﻚ ﻤﻛﺎ ﻤﻛﺔ] (আপৌছ)বি গর্ত, সুড়ঙ্গ, শৃগালজাতীয় প্রাণীর গর্ত, শৃগাল ও খেঁকশিয়াল ইত্যাদির গর্ত ক্রি চোষা, ধ্বংস করা, হ্রাস করা, চর্বি চুষে বের করা, প্রাপ্য উদ্ধারের জন্য পুনঃপুন চেষ্টা করা বিণ চর্বণকারী, চোষণকারী, ধ্বংসকারী, চর্বি গ্রহণকারী (ব্যাপ) ইসলামী পুরাণে; আরবদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগর এবং মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান ও কুরয়ানে বর্ণিত বিশ্বনবীর জন্মস্থান; যেখানে মুসলমানদের প্রধান তীর্থস্থান কা’বাঘর অবস্থিত (ব্য্য) শ্বরবিজ্ঞানে; জননপথকে সুড়ঙ্গ বলা হয়।
ভগ কানা বা ছিদ্র। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে পুরো স্ত্রী জননতন্ত্রকে কানাই বলা হয়। জরায়ুতে রজস্রাব সৃষ্টি হওয়ার পর; এখানেই প্রথম রজ দেখা যায়। এজন্য; এ স্থানকে নবীর জন্মস্থান বলা হয় (পরি) শিশ্ন রূপ হাড় হতে শুক্ররূপ চর্বি চুষে বের করে নেয়। এজন্য; জননপথকে চোষণকারী বলা হয় (শ্ববি) অযোধ্যা, গণ্ডগ্রাম, গোকুল, গোষ্ঠ, নাগিনী, নৌকা, পাথর, ব্রজ, রজকিনী, স্রাবস্তী (ইংপ) destroyer, origin (ইদে) গন্দম (ফা.گندم), দাজ্জাল (আ.ﺪﺟﺎﻞ), হামান (আ.ﻫﺎﻤﺎﻦ), হারুত (আ.ﻫﺎﺭﻮﺓ) (ব্য্য) যোনি কানা বা ছিদ্র বলে পুরো স্ত্রী জননতন্ত্রকে কানাই বলা হয় (দেপ্র) এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘কানাই’ পরিবারের ‘বাঙালি পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা’ বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; বর্তমানে আরবের একটি নগরীকে মক্কা (ﻤﻚ ﻤﻛﺎ ﻤﻛﺔ) বলা হয় ২. আরবীয় শ্বরবিজ্ঞানে; যোনিকে মক্কা (ﻤﻚ ﻤﻛﺎ ﻤﻛﺔ) বলা হয় (বাপৌছ) কলাপী, কালনাগিনী, দস্যু, দানব, ব্রজপুর, মরা৪ ও রাক্ষস (বাপৌচা) অনন্ত, কবন্ধ, ধন্বন্তরী, বরুণ, বৃত্র, মাধাই ও হিবাচী (বাপৌউ) অন্ধকূপ, করঙ্গ, গোকুল, চিতা, চুলা, পাখি২ ও প্রস্তর (বাপৌরূ) রজকিনী (বাপৌমূ) কানাই {আ}
মক্কার গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of Mecca)
১. “আয় গো যাই নবীর দীনে, দিনের ডঙ্কা বাজে সদাই মক্কা মদিনে।” (পবিত্র লালন-১৬০/১)।[৭৭]
২. “এক মু’মিন মক্কায় যেতে, লোক ছিল না সাথে, ভাবে সে মনে মনে, আল্লাহ করি কী এখনে, নামাজ ক্বাজা হলে আখিরে মরণ।” (পবিত্র লালন-৪৭৬/২)।[৭৭]
৩. “কাশী কী গয়াতে যাই, ভেবে কিছু দিশে না পাই, ও কথা কারে শুধাই, কী মিলে মক্কাতে গেলে।” (পবিত্র লালন-৬৮৯/২)।[৭৭]
৪. “কাশী কী মক্কায় যাবিরে মন, চল দেখি যাই, দোটানাতে ঘুরলে পথে, সন্ধ্যাবেলায় উপায় নাই।” (পবিত্র লালন-২৯২/১)।[৭৭]
৫. “কেউ বলে মক্কায় গিয়ে, হজ করলে যাবে গুনা, কেউ বলছে মানুষ ভজে, মানুষ হও না।” (পবিত্র লালন-৩০৩/২)।[৭৭]
৬. “গয়া কাশী বৃন্দাবনে- উদয় হয়রে কত নামে, যে যায় মক্কা মদিনে- নিতে তারই চরণধুলা, সপ্ততল পাতালে গিয়ে- লুকায় সেথা নীর হয়ে, বাতাস রূপে দ্বিদ্বারে- চালায় তার অবলীলা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১১)।[৭৮]
৭. “গয়া কাশী মক্কা মদিনা, বাইরে খুঁজলে ধান্ধা যায় না, দেহরতী খুঁজলে পাবি মনা, সব তীর্থের ফল গিয়ে।” (পবিত্র লালন-৯৯১/৩)।[৭৭]
৮. “ধড়ে কোথায় মক্কা মদিনে, চেয়ে দেখ নয়নে, ধড়ের খবর না জানলে, ঘোর যাবে না কোন দিনে।” (পবিত্র লালন-৫৫৫/১)।[৭৭]
৯. “নামাজ পড়ব কী, মক্কার ঘরে বাধল গোল, মক্কার ঘরের চাবি ধরে, সব দেখি আউল বাউল।” (পবিত্র লালন-৫৯৭/১)।[৭৭]
১০. “নিঠাঁইয়ে বাস করে সাঁই মহাশূন্যের অমরায়, পাবে না বৈতরণী বিরজা সুরধুনী আর মক্কায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৩)।[৭৮]
মক্কার ওপর কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ লালন
(Some full Lalon on the Mecca)
১. “১আছে আদি-মক্কা এ মানবদেহে,
দেখ রে মন ধেয়ে,
দেশ দেশান্তর দৌড়ে এবার,
মরিস কেন হাঁপিয়ে।
২করে অতি আজব ভাক্কা,
গঠেছে সাঁই মানুষ-মক্কা,
কুদরতি নূর দিয়ে,
চার দ্বারে চার নূরের ইমাম,
মধ্যে সাঁই বসিয়ে।
৩মানুষ-মক্কা কুদরতি কাজ,
উঠছেরে আজগুবি আওয়াজ,
সাততলা ভেদিয়ে,
আছে সিংদরজায় দ্বারী একজন,
নিদ্রাত্যাগী হয়ে।
৪তিল পরিমাণ জায়গার ওপর,
গঠেছেন সাঁই ঊর্ধ্বনগর,
মানুষ-মক্কা এ,
কত লাখ লাখ হাজি করছেন হজ,
সে জায়গায় গিয়ে।
৫দশ-দুয়ারী মানুষ-মক্কা,
গুরু পদে ডুবে দেখ গা,
ধাক্কা সামলিয়ে,
লালন বলে সে গুপ্ত-মক্কার
আদি-ইমাম সে-ই মেয়ে।” (পবিত্র লালন-৮০)।[৭৭]
কি কারণে মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) আরব দেশের বিখ্যাত নগরী বলা হয়?
(What is the cause to say mecca the famous town of Arab countries?)
কখনই; শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা ব্যতীত অন্য কোনো সাধারণ পরিভাষা ব্যবহার করা হয় না।
যেমন।
৩. “মণি মঞ্চ মন্থনদণ্ড
গিলে খায় অহিমুণ্ড
ত্রিবেণীতে হয় বিখণ্ড
বলন কয় অটল ছাড়া।” (বলন তত্ত্বাবলী, বলন-১)।[৭৮]
৪. চৌডালা বৃক্ষ বৃন্দাবন
ত্রিনালে হয় বরিষণ
দুটি বর্ণ করে ধারণ
সাদা কালো একেক বেলা।” (বলন তত্ত্বাবলী, বলন-৪২)।[৭৮]
৫. “ঘাটে একবার আসি একবার যাই
যাইয়া দেখি শ্যাম ঘাটে নাই।
মাতাল কবি রাজ্জাক দেওয়ান [১০৬]
‘কামনদী’ অক্ষয়, অগ্নিকুণ্ড, অগ্নিকুণ্ডলী, অগ্নিকূপ, অগ্নিগর্ভ, অগ্নিনদী, অগ্নিবেশ্য, অগ্নিভাণ্ড, অতল, অতৃপ্তা, অনন্তনাগ, অযোধ্যা, আখা, আঙ্গিনা, আয়লা, ইন্দ্রাসন, ইরাবতী, উঠান, উনান, উনুন, কবন্ধ, করঙ্গ, করবির, কর্বুর, কানাই, কান্যকুব্জ, কামনদী, কামবর্ত্ম, কামযমুনা, কামাক্ষ্যা, কালিন্দী, কালীগঙ্গা, কালীতলা, কালীদহ, কুণ্ডলিনী, কুলকুণ্ডলিনী, কুব্জা, কুব্জী, কুম্ভকর্ণ, কুম্ভীনসী, কৈটভ, ক্রব্যাদ, খেয়া, খেয়াঘাট, গঙ্গা, গিরিনদী, গিরিপথ, গোকুল, চত্বর, চিতা, চুলা, জাঁতি, জারিতা, ডাঙ্গা, নদী, নাগ, নাগলোক, পথ, পরশুরাম, পুষ্কর, ফল্গু, বাসুকি, বৈতরণী, ব্যাধ, ব্রজ, ব্রজধাম, ব্রহ্মপুত্র, মনসা, মালা, যম, যমুনা, রংপুর, রক্তগঙ্গা, রঙ্গমঞ্চ, রঙ্গালয়, রজকিনী, রণাঙ্গন, রাক্ষস, রোহিণী, লৌহিত্য, শার্দুল, শ্মশান, সর্প, সর্পরাজ, সিংহ, সিংহাসন, সীতাকুণ্ড, সুন্দ, স্রাবনী, স্রাবস্তি, স্বর্গগঙ্গা, স্বর্গদ্বার, স্বর্গনদী, হবনী, হসন্তিকা, হাপর, হালট, হিবাচী, হুহু ও হোমকুণ্ড এগুলো যে সাধারণ পরিভাষা নয়; তা বুঝা যায়। আলোচ্য উদ্ধৃতির মধ্যে বর্ণিত ‘কামনদী’ ও ‘ঘাট’ ইত্যাদি পরিভাষা দ্বারা শ্বরবিজ্ঞানে কানাই বুঝায়। কানাই দেবতা কিন্তু ‘কামনদী’ ও ‘ঘাট’ ‘বাঙালি পৌরাণিক রূপক পরিভাষা’। আবার; এসব পরিভাষা পুরাণে চরিত্র রূপে ব্যবহৃত হলেই দেবতা হয়।
তেমনই; আদ (আ.ﻋﺎﺪ), আদালত (আ.ﻋﺪﺍﻠﺕ), আমরাস্তা (আ.ﻋﺎﻢﺮﺍﺴﺗﻪ), আরাফাত (আ.ﻋﺭﻔﺎﺕ), ইদগাহ (আ.ﻋﻴﺪﮔﺎﻩ), ইরাক (আ.ﻋﺮﺍﻖ), এজলাস (আ.ﺍﺟﻼﺲ), কা’বা (আ.ﻜﻌﺑﻪ), ক্বাবিল (আ.ﻗﺎﺑﻞ), কারবালা (আ.ﻜﺮﺑﻼ), ক্বারী (আ.ﻘﺎﺮﻯ), খন্দক (আ.ﺧﻨﺪﻖ), খাড়াদাজ্জাল (ফা.ﺧﺮﺪﺟﺎﻞ), ঘিঞ্জি (ফা.ﮔﻨﺞ), জঙ্গিজাহাজ (ফা.ﺟﻨﮕﯽﺟﻬﺎﺯ), জনাব (আ.ﺟﻨﺎﺏ), জমজম (আ.ﺯﻤﺯﻢ), জাঙ্গাল (হি.ﺪﻧﮕﻝ), জাদুকর (ফা.ﺠﺎﺩﻭﮔﺮ), জায়নামাজ (ফা.ﺠﺎﺌﮯﻨﻤﺎﺯ), জেব (আ.ﺠﻴﺏ), তন্দুর (আ.ﺗﻨﻮﺭ), তালাব (ফা.ﺗﺎﻻﺐ), দজলা (আ.ﺪﺠﻠﺔ), দপ্তর (আ.ﺪﻔﺗﺭ), দাজ্জাল (আ.ﺪﺟﺎﻞ), দিজলা (আ.ﺪﺠﻠﺔ), নহর (আ.ﻨﻬﺮ), ফরজ (আ.ﻔﺭﺽ), ফিসাবিলিল্লাহ (আ.ﻔﻰﺴﺒﻴﻝﺍﻟﻟﻪ), বগল (ফা.ﺑﻐﻝ), বাগেএরাম (ফা.ﺑﺎﻍ ﺍﺮﻢ), মকাম (আ.ﻤﻗﺎﻢ), মফস্বল (আ.ﻤﻔﺻﻞ), ময়দান (আ.ﻤﻴﺪﺍﻦ), মসজিদ (আ.ﻤﺴﺠﺪ), মহল্লা (আ.ﻤﺤﻟﻪ), মারওয়া (আ.ﻤﺮﺆﺓ), মাহফিল (আ.ﻤﺤﻔﻞ), মেহরাব (আ.ﻤﺤﺭﺍﺏ), মোকাম (আ.ﻤﻗﺎﻢ), রঙ্গমহল (ফা.ﺭﻨﮓﻤﺤﻞ), রমজান (আ.ﺭﻤﺿﺎﻦ), রাস্তা (ফা.ﺮﺍﺴﺘﻪ), রাহ (ফা.ﺭﺍﻩ), রোয়াক (আ.ﺭﻭﺍﻖ), লোকমান (আ.ﻟﻘﻤﺎﻦ), সিকা (আ.ﺴﻜﻪ), সুরাহি (আ.ﺻﺭﺍﺤﻰ), হাজ্জাম (আ.ﺤﺠﺎﻢ), হাবিয়া (আ.ﻫﺎﻭﻴﻪ), হাম্মাম (আ.ﺤﻤﺎﻡ), হামান (আ.ﻫﺎﻤﺎﻦ), হারুত (আ.ﻫﺎﺭﻮﺓ), হুজরা (আ.ﺤﺠﺭﻩ), হোবল (আ.ﻫﺒﻞ) এসব ইসলামী সাম্প্রদায়িক শাস্ত্রের পরিভাষা।
তেমনই; Origin, Source, Fountain, Spring, Tribunal & Charitable এসব ইংরেজি পুরাণের পরিভাষা। Archangel, Basilisk, Chimaera, Harpy, Vampire এসব গ্রিক পৌরাণিক পরিভাষা।
উপরোক্ত আরবি ফার্সি, উর্দু ও হিন্দি পরিভাষা দ্বারা ইসলামী শাস্ত্রে; ফারজ (ﻔﺮﺝ) বুঝায়। যাকে বাংলায়; গাঁড়, গুদ, গুহ্য, গুয়া, ভগ, মাঙ্গ, মার্গ, যোনি, কানাই, সেঁটা; এবং ইংরেজিতে v***a, va**na, female organ of generation ইত্যাদি বলা হয়। এ ফারজকে (ﻔﺮﺝ) বাংলা শ্বরবিজ্ঞানে বৈতরণী বলা হয়।
যেমন; বাংলায় ‘কাননদী’ ‘প্রেমনদী’ ও ‘ফল্গু’ ইত্যাদি পরিভাষা নিয়ে পুরাণ নির্মাণ করা হয়; তেমনই; আরবীয় রূপকারগণও তাদের ও ‘মক্কা’ (ﻤﻛﺔ), কা’বা (ﻜﻌﺑﻪ), খন্দক (ﺧﻨﺪﻖ) ও হুজরা (ﺤﺠﺭﻩ) ইত্যাদি পরিভাষা নিয়ে পুরাণ নির্মাণ করে থাকেন।
‘ফারজ (ﻔﺮﺝ) বা va**na কে ‘ফল্গু’ বা ‘মক্কা’ (ﻤﻛﺔ) বলা হয়। এই কামঘাট বা বাণিজ্যালয়ে জীবের সাঁইরূপ পালনকর্তা ও জীবের কাঁই সদৃশ সৃষ্টিকর্তার আগমন-প্রত্যাগমন, ভজন-সাধন, ক্রয়-বিক্রয় বা দর্শন-প্রদর্শন হয়।
এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে; ‘ফল্গু’ বা ‘মক্কাকে’ (ﻤﻛﺔ) বিখ্যাতনগর বলা হয়। এছাড়াও; বলা যায় যে; যেমন; একমাত্র নগর বা হাটেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় হয়; তেমনই; ‘বৈতরণী’ বা ‘বিরজা’ বা ‘মক্কাতে’ (ﻤﻛﺔ) মানবের সাধনীয় সাঁই ও কাঁই সদৃশ উপাস্য দুটি ক্রয়-বিক্রয় হয়।
তাই; শ্বরবিজ্ঞানে; পবিত্র ‘ফল্গু’ বা ‘মক্কাকে’ (ﻤﻛﺔ) হাট বা নগর বলা হয়।
মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) বিশ্ব নবীর জন্মস্থান বলার কারণ কি?
(What is the reason to say Mecca the birthplace of world prophet?)
অর্থাৎ; ইসলামী পুরাণের ‘নবী’ (نبي) এর বাংলা অনুবাদ ‘বসিধ’ বা ‘দূত’। ‘মক্কা’ (ﻤﻛﺔ) পরিভাষার বাংলা অনুবাদ হলো; ‘বিরজা’। যারফলে; বিরজাকে বসিধের জন্মস্থান বর্ণনা করাই যথেষ্ট হবে। শুধু বসিধ নয়; কোনো ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা’ এরই জন্ম বা প্রয়াণ নেই।
তবে; শ্বরবিজ্ঞানে দেবতাগণের জন্ম ও প্রয়াণের ওপর যেসব বর্ণনা নির্মাণ করা হয়েছে; হচ্ছে বা হবে; তা চমৎকার বৈ নয়। যদিও প্রকৃতপক্ষে; দেবতাগণের জন্ম-প্রয়াণ কিছুই নেই। পরিশেষে বলা যায় যে; দেবতাগণের রূপান্তর ভিন্ন সৃষ্টি ও ধ্বংস কিছুই নেই। আরবীয় শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত বিশ্ব নবীর জন্মস্থান মক্কা; এটাও একটি চমৎকার। প্রকৃতির নিয়মে প্রতি মাসে একমাত্র বিরজা পথেই বিশ্ববসিধকে আগমন করতে দেখা যায়। এজন্য; ‘বিরজাকে’ শ্বরবিজ্ঞানে বিশ্বনবীর জন্মস্থান বলা হয়।
মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) বিশ্ববাসীর তীর্থস্থান বলার কারণ কি?
(What is the reason to say Mecca the sacred place of the world?)
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে; আরব্য ‘মক্কা’ (ﻤﻛﺔ) পরিভাষাটির বাংলা ছদ্মনাম ‘বিরজা’। এজন্য; ‘বিরজাকে’ বিশ্ববাসীর তীর্থস্থান বলার কারণ ব্যাখ্যা করাই যথেষ্ট হবে।
তীর্থ (বাপৌছ)বি ঘাট, গুরু, পুণ্যস্থান, পবিত্রস্থান (ব্যাপ) ১. সাম্প্রদায়িক পাপমোচন স্থান, বিশেষ পুণ্যস্থান রূপে প্রসিদ্ধ, দেবতা ও মহাপুরুষগণের অধিষ্ঠান ভূমি, ঋষি সেবিত পবিত্র জল, জলাশয়ে অবতরণ বা স্নানের ঘাট ২. সংস্কৃত কাব্যগুলোতে মনীষীগণের জন্য প্রদত্ত উপাধি বিশেষ (শ্ববি) অযোধ্যা, গোকুল, গোষ্ঠ, নাগিনী, নৌকা, পাথর, ব্রজ, রজকিনী, স্রাবস্তী (ইংপ) origin (ইদে) গন্দম (ফা.گندم), মক্কা (আ.ﻤﻜﺔ), দাজ্জাল (আ.ﺪﺟﺎﻞ), হামান (আ.ﻫﺎﻤﺎﻦ), হারুত (আ.ﻫﺎﺭﻮﺓ) (দেপ্র)
এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘কানাই’ পরিবারের একটি ‘বাঙালি পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা’ বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; সাম্প্রদায়িক পাপমোচনের পবিত্র স্থানকে তীর্থ বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; যোনিকে রূপকভাবে তীর্থ বলা হয় (বাপৌছ) কলাপী, কালনাগিনী, দস্যু, দানব, ব্রজপুর, মরা৪ ও রাক্ষস (বাপৌচা) অনন্ত, কবন্ধ, ধন্বন্তরী, বরুণ, বৃত্র, মাধাই ও হিবাচী (বাপৌউ) অন্ধকূপ, করঙ্গ, গোকুল, চিতা, চুলা, পাখি২ ও প্রস্তর (বাপৌরূ) রজকিনী (বাপৌমূ) কানাই।
বিরজা (বাপৌচা)বি ফল্গু, বৈতরণী, শ্রীক্ষেত্র (ব্যাপ) যমদূতের নদী, রাধিকার জনৈক সখী, বৈষ্ণব শাস্ত্রে কথিত নদী বিশেষ; যে নদী বেয়ে বৈকুণ্ঠে যেতে হয় (শ্ববি) জননপথ, va**na, সাওয়া (আ.ﺴﻭﺀﺓ) (রূপ্রশ) গণ্ডকী, গোদাবরী, পদ্মা, বিরজা, ফল্গু, ব্রহ্মপুত্র, মন্দাকিনী, যমুনা, সুরধুনী, সুরনদী, অযোধ্যা (ইংপ) canal (ইপ) দজলা (ﺪﺠﻠﺔ), বরজখ (আ.ﺒﺮﺯﺥ) (দেপ্র) এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘বৈতরণী’ পরিবারের ‘বাঙালি পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা’ ও বাঙালি পৌরাণিক ‘দেবী’ বিশেষ (সংজ্ঞা) ১ সাধারণত; যমদূতের নদীকে বিরজা বলা হয় ২ শ্বরবিজ্ঞানে; ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত জননপথকে বৈতরণী বা রূপকভাবে বিরজা বলা হয় (বাপৌছ) খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ (বাপৌচা) ডাঙ্গা, বিরজা ও যমুনা (বাপৌউ) উঠান, দুয়ার ও পথ (বাপৌরূ) নদী (বাপৌমূ) বৈতরণী।
বিশ্বের প্রতিটি দ্বিপস্থ জীবের সহজাত প্রবৃত্তি হলো কাম। এজন্য; সব পুরুষ প্রজাতির প্রাণী ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য; ইচ্ছায় অনিচ্ছায় বিরজাধামে গমনাগমন করে থাকে। ফল্গু বা বিরজা নদে স্নান না করলে; চন্দ্রচেনাপ্রাপ্ত পুরুষদের মস্তিষ্ক শীতল হয় না।
বিশেষ করে মানবের ক্ষেত্রে বলা যায়; মানবকুল যেই ঘাটে অবতরণ করে ইন্দ্রিয় তৃপ্তিলাভ করে; তা হলো; যোনি। তাই; বিশ্বের সব পুরাণে যোনিকে রূপকভাবে বা প্রতীকীভাবে; মহাপুণ্যময় স্থান পরিদর্শন বা পর্যটন স্থান বা চরম ও পরম প্রশান্তিলাভ স্থান বলে উল্লেখ করা হয়।
এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে যোনিকেই বিশ্ববাসীর পুণ্যময় তীর্থস্থান বলা হয়। বিরজাধামকে কেন্দ্র করেই জীবকুল সংসার জীবনে আবদ্ধ হয়। কী বাঘ; কী সিংহ; কী মানুষ; কী পশুপাখি; সবাই সে পুণ্যময় ঘাটে অবতরণ ও স্নান করে চরম ও পরম ইন্দ্রিয় তৃপ্তিলাভ করে। এজন্যই; শ্বরবিজ্ঞানে ‘বিরজাকে’ বিশ্ববাসীর মহাপুণ্যময় তীর্থস্থান বলে।
মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) হজ (ﺤﺞ) এর স্থান বলার কারণ কি?
(What is the reason to say Mecca the place of pilgrimage?)
হজ [ﺤﺞ] (আপৌছ)বি চিকীর্ষা, যুযুৎসা, জিগীষা, জিঘাংসা, জিহীর্ষা, যুদ্ধাভিলাষ, হননচ্ছো, বিজয় করার ইচ্ছে, জয় করার ইচ্ছে, বধ করার ইচ্ছে, অপহরণ করার ইচ্ছে, পরাভূত করার ইচ্ছে (ব্যাপ) ইসলামী শাস্ত্রাদিতে বর্ণিত; আরবি চান্দ্রবর্ষের জিলহজ চাঁদের নবম দিনে মক্কার অদূরবর্তী আরাফাত মাঠে অবস্থান ও পরে কাঁইয়ের পবিত্র ঘর দর্শনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠান (পরি) শুক্র নিয়ন্ত্রণ করে শুক্ররণে কানাইয়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা (শ্ববি) অটল গমনাগমন, রতীহীন সঙ্গম (দেপ্র) এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘তীর্থযাত্রা’ পরিবারের একটি ‘বাঙালি পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা’ বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. ইসলামী শাস্ত্রে কোনকিছু বিজয় করার প্রবল ইচ্ছাকে হজ (ﺤﺞ) বলা হয় ২. শুক্র নিয়ন্ত্রণের দ্বারা সঙ্গমের ওপর বিজয়লাভ করাকে ইসলামী শাস্ত্রে হজ (ﺤﺞ) বলা হয় (বাপৌছ) তীর্থভ্রমণ (বাপৌচা) মুমুক্ষা (বাপৌউ) জিগীষা (বাপৌরূ) নিষ্কামিতা (বাপৌমূ) তীর্থযাত্রা {আ}
হজ (ﺤﺞ) অর্থ; যুদ্ধাভিলাষ, চিকীর্ষা, জিগীষা ও পরাজিত করার ইচ্ছে ইত্যাদি।
কিসের যুদ্ধাভিলাষ, কাকে পরাজিত করার ইচ্ছে? যেহেতু; পবিত্র কুরয়ান জীবনবিধান; তাহলে; ১. জীবনের কোন ক্ষেত্রে ও কাকে পরাজিতকরণের কথা বলা হয়েছে? ২. জিহীর্ষুদের কেন সেলাই ছাড়া কাপড় পড়তে বলা হয়? ৩. কালো পাথর (হাজরে আসওয়াদ (ﺤﺠﺭﺍﺴﻮﺪ) কী? ৪. কেন কালোপাথরে চুমা দিতে হয়? এসব প্রশ্নগুলোর উত্তরে একমাত্র বিরজা গমনই পাওয়া যায়।
আত্মতাত্ত্বিক মনীষীগণের মতে; ১. কামে পরাজিতকরণ ২. গমন সুবিধার জন্য ৩. কানাই ও ৪. সম্মানের জন্য। শিশ্নের কামশক্তি দ্বারা; শ্বরবিজ্ঞানে; যোনির কামশক্তি পরাজিত করাকেই প্রকৃত পরাজিতকরণ বলা হয়। বৈতরণীতে এই জয় পরাজয় ব্রত সুসম্পন্ন হয়। তাই; যোনিকে অযোধ্যা বা পরাজয় স্থান বলা হয়। তেমনই; আরবীয় পুরাণে মক্কাকে (ﻤﻛﺔ) পরাজিতকরণের স্থান বলা হয়।
মক্কার (ﻤﻛﺔ) ঘরের ৩৬০ মূর্তির ব্যাখ্যা
(Explained 360 sculpture of the Mecca house)
মূর্তি (বাপৌছ) দেহ, প্রতিমা, আকৃতি, কাঠামো, ঠাট, অবকাঠামো, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি (শ্ববি) খাঁচা, ধড়, পিঞ্জর, body, horse, জাসাদ (আ.ﺠﺴﺪ), বদন (আ.ﺒﺪﻦ), ফারাস (আ.ﻔﺮﺱ) (দেপ্র) এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘দেহ’ পরিবারের একটি ‘বাঙালি পৌরাণিক রূপক পরিভাষা’ (সংজ্ঞা) ১. যে কোনো আকৃতি বা কাঠামোকে মূর্তি বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহকে বাংলায় রূপকভাবে মূর্তি বলা হয় (বাপৌছ) দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ১, শাস্ত্র ও স্বর্গালয় (বাপৌচা) কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন, ব্রজ৩ ও ভুবন (বাপৌউ) অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, তরী, বৃক্ষ ও হাতি (বাপৌরূ) পৃথিবী (বাপৌমূ) দেহ।
মূর্তির রহস্য জানার পূর্বে ৩৬০ সংখ্যাটির রহস্য জানা প্রয়োজন। মুসলমানদের বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তাদের বিভিন্নমুখী আলোচনা ও পর্যালোচনা শুনে মনে হয়; যেন ৩৬০ সংখ্যাটির আবিষ্কারক বা ধারকবাহক তারাই। তারা সর্বত্র বলে বেড়ায় যে; ‘আদম ৩৬০ বছর কেঁদেছিলেন’; ‘আদমের ৩৬০টি সন্তান হয়েছিল’, মক্কার (ﻤﻜﺔ) ঘরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল’ ------ ইত্যাদি।
এবার ৩৬০ সংখ্যাটির উৎপত্তি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।
১. “গুরু তোমার বাড়িখানা
পঞ্চভূতের আড্ডাখানা
ছয়জনে করে পোদ্দারি
বারোজনা রয় কাছে
তিনশত ষাটজন সামনে আছে
আজকে ক’বে ঠিক করি।” (বলন তত্ত্বাবলী, বলন-৯৭)।[৭৮]
২. “চৌদ্দপায়ে বিশ্ব ঘুরে উনিশজনা সহচর
দশনরের সঙ্গে মিলন করে একসঙ্গে বরাবর
তেড়ে মারে তিনশত ষাট নর
সারাজগৎ তার সুনাম।” (বলন তত্ত্বাবলী, বলন-৩৫)।[৭৮]
৩. “তিনশত ষাট আত্মা চক্র
এই দেহেতে আছে বর্ত্য
বলন কয় আত্মাই সত্য
তার ওপরে কিছু নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী, বলন-১২)।[৭৮]
৪. “তিনশত ষাটজন অতিথী সাক্ষী রয় তিনজনা
বত্রিশজনে শেষ করে আশিজনের খানা
উনিশজনা দরশনার্থী সত্তরজন প্রতিবেশী
বলন কয় সেই বিয়েটি সদাই হয় আঁধার ঘরে। ”
(বলন তত্ত্বাবলী, বলন-২০৬)।[৭৮]
৫. “তিনশত ষাটজন পতি
চল্লিশজন উপপতি
আরও দু’জন সোহাগ প্রার্থী
আমি ভজব কাহারে রে।” (বলন তত্ত্বাবলী, বলন-২০৭)।[৭৮]
১০. “তিনশত ষাট রসের নদী
বেগে ধায় ব্রহ্মাণ্ড ভেদি
তার মধ্যে রূপ নিরবধি
ঝলক দিচ্ছে এই মানুষে।” (পবিত্র লালন- ৫৩৮)।[৭৭]
১১. “তিনশত ষাট রসের মাঝার
তিনরস গণ্য হয় রসিকার
সাধলে সে করণ এড়াবে শমন
এই ভুবনে।” (পবিত্র লালন- ৩২৫)।[৭৭]
‘বলন’ ও ‘লালন’ এর উপরোক্ত উদ্ধৃতির মধ্যে ৩৬০ সংখ্যাটির প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু পবিত্র কুরয়ানে সংখ্যাটির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে; মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক ইতিহাসের মধ্যে সংখ্যাটির এত বহুল ব্যবহার এলো কোথায় হতে? “কোনো গোরু যদি কোনো দাস বা দাসীকে গুতিয়ে মেরে ফেলে; তবে; তার অধিকারীকে সে গোরুর অধিকারী তিনশত ষাট রতি রূপা দেবে; এবং সে গোরুটাকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে হবে।” (তোরাহ, স্থানান্তর, ২১/৩২)।[৩৪]
মহাগ্রন্থ ‘তোরাহ’ এর উপরোক্ত উদ্ধৃতি হতে ধারণা করা যায় যে; ৩৬০ সংখ্যাটি পবিত্র তোরাহ গ্রন্থ হতে; এবং তোরাহ বাইবেল হতে এসেছে। অতএব; বলা যায় যে; ৩৬০ সংখ্যাটি হয়তো বাংভারত হতে অথবা গ্রিক পুরাণ হতে ইসলামী পুরাণে প্রবেশ করেছে।
“দ্বাদশ প্রধয়শ্চক্রমেকং ত্রীণি নভ্যানি ক উ তচ্চিকেত
তম্মিন্ত্সাকং ত্রিশতা ন শংকবোহর্পিতাঃ ষষ্টির্ন চলাচলাসঃ”
অর্থ; “দ্বাদশ পরিধি একচক্র ও তিননাভি; একথা কে জানে? ঐ চক্রে তিনশত ষাট সংখ্যক চলাচল অর সন্নিবিষ্ট আছে।” (ঋবেসপ্রখপ্রম, সূ-১৬৪, ঋ-৪৮)।[৩৯]
আবার; পৃথিবীর আদি-মহাগ্রন্থ পবিত্র ‘বেদ’ এর উপরোক্ত উদ্ধৃতি হতে জানা যায়; আলোচ্য ৩৬০ সংখ্যাটির ব্যাপক ব্যবহার শ্বরবিজ্ঞানে অনেক বছর পূর্ব হতেই ছিল। আমরা আরও বলতে পারি যে; ৩৬০ সংখ্যাটি মুসলমানদের কেবল সাম্প্রদায়িক সংখ্যা নয়; বরং সংখ্যাটি বিশ্ববাসীর পুরাণ সম্পদ।
এ সূত্র ধরে বলা যায়; প্রায় চার হাজার (৪,০০০) বছর পূর্বেই পবিত্র ‘বেদ’ এর মাধ্যমে শ্বরবিজ্ঞানে ৩৬০ সংখ্যাটির লিখিত ব্যবহার আরম্ভ হয়; যেহেতু; ‘বেদ’ সংকলিত হয়েছিল প্রায় চার হাজার (৪,০০০) বছর পূর্বে। তখন হতে এই সংখ্যা বিশ্বের বিভিন্ন শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ এবং সাম্প্রদায়িক শাস্ত্রীয় ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় ব্যবহার হতে থাকে। কালক্রমে সেটি প্রাচীন আরবীয় পৌরাণিক জগতে প্রবেশ করে। স্মরণীয় যে সংখ্যাটি বেদে উল্লেখ আছে; কিন্তু কুরয়ানের কোথাও উল্লেখ নেই।
হুর [ﺤﻮﺭ] (আপৌছ)বি অনিষ্ট, ক্ষতি, স্বাধীনতা, মুক্তি, পরিচ্ছন্নতা (প্রাঅ) অপ্সরা, কিন্নরী, সুন্দরী, অত্যন্ত সুন্দরী (ব্যাপ) ইসলামী পুরাণে; স্বর্গীয় অপরূপা পরিচারিকা ও অপ্সরা বিশেষ (পরি) স্বর্গীয় অমৃতসুধা রূপ সম্পদ; যা সিদ্ধ সাধকগণ মানবদেহ হতে সাধনবলে আহরণ করে থাকেন (ব্য্য) ১. সাধারণ অর্থে পুরাণের প্রায় সর্বক্ষেত্রে ‘শুক্রকে’ অপ্সরা বলা হয়। কিন্তু ৩৬০ সংখ্যাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে; এখানে; অপ্সরা অর্থ সুধা হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত ২. স্বাধীনতা; স্বাধিষ্ঠান হতে সুধা রূপ সাঁই আহরণ করার পর; সন্তান সৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভবনা থাকে না। অর্থাৎ; গমনাগমনের পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়া যায়।
এজন্য; অপ্সরাকে (অপসারণ) স্বাধীনতা বলা হয় (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইদে) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (আ.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (আ.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (আ.رَسُول) (ইপ) কাওসার (আ.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (আ.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘পালনকর্তা’ পরিবারের ‘বাঙালি পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা’ ও আরবীয় পৌরাণিক
‘দেবী’ বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; ইসলামী পুরাণে বর্ণিত এক প্রকার সুন্দরীকে হুর (ﺤﻮﺭ) বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; জরায়ুর মধ্যে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট ও সুপেয় শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে বাংলায় ‘পালনকর্তা’ বা ইসলামী পুরাণে রূপকভাবে হুর (ﺤﻮﺭ) বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল১, তীর্থবারি, পাখি৬, ফল ও ফুল১ (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {আ}
বরাত (বাপৌছ)বি কপাল, ললাট, ভাগ্য, নিয়তি, অদৃষ্ট, বিধিলিপি, ভাগ্যলিপি, দক্ষতা, যোগ্যতা (বাপ) কোজাগর {ফা.বরাত.ﺒﺮﺍﺖ/ আ.বরায়াত. ﺒﺮﺍﻋﺖ}
অর (বাপৌছ)বি ১. ব্যাসার্ধ, radius ২. অরি, অরাতি, শত্রু, বৈরী, রিপু (প্রাঅ) চকোর পাখি, চাতক পাখি (ব্য্য) অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অসতর্কতার সুযোগ পেলেই স্বর্গীয় অপ্সরা রূপ সাঁই সন্তান সৃষ্টি করেন। অতঃপর; তা লালনপালন আরম্ভ করেন। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে সাঁইকে কোথাও চোর; কোথাওবা শত্রু চরিত্রে অভিনয় করানো হয়েছে (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি।
মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইদে) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (আ.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (আ.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (আ.رَسُول) (ইপ) কাওসার (আ.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (আ.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘পালনকর্তা’ পরিবারের ‘বাঙালি পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা’ বিশেষ
(সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; শত্রুকে বাংলায় অর বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; জরায়ুর মধ্যে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট ও সুপেয় শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে বাংলায় ‘পালনকর্তা’ বা রূপকভাবে অর বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল১, তীর্থবারি, পাখি৬, ফল ও ফুল১ (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।
মানুষ মাটির দ্বারা নির্মিত। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে; মানুষকেও মাটির মূর্তি বলা হয়। মানবসন্তানের পুনরুত্থান হতে প্রয়াণ পর্যন্ত; মানবজীবনকে শৈশবকাল, কৈশোরকাল, যৌবনকাল, পৌঢ়কাল ও বৃদ্ধকাল; এ পাঁচভাগে ভাগ করা যায়।
শৈশবকালের সংজ্ঞা (Definition of childhood)
মানুষ সন্তান রূপে পুনরুত্থিত হওয়ার পর হতে ছয় বছর পর্যন্ত বয়সকে শৈশবকাল বলে।
কৈশোরকালের সংজ্ঞা (Definition of adolescence)
মানুষ সন্তান রূপে পুনরুত্থিত হওয়ার পর; সাত (৭) হতে দশ (১০) বছর পর্যন্ত বয়সকে কৈশোরকাল বলে।
যৌবনকালের সংজ্ঞা (Definition of youth)
মানুষ সন্তান রূপে পুনরুত্থিত হওয়ার পর; এগারো (১১) হতে চল্লিশ (৪০) বছরের মধ্যবর্তী ত্রিশ (৩০) বছর বয়সকে যৌবনকাল বলে।
প্রৌঢ়কালের সংজ্ঞা (Definition of elderly)
মানবজীবনের একচল্লিশ (৪১) হতে ষাট (৬০) বছরের মধ্যবর্তী বিশ (২০) বছর বয়সকে প্রৌঢ়কাল বলে।
বৃদ্ধকালের সংজ্ঞা (Definition of aged)
মানবজীবনের একষট্টি (৬১) ঊর্ধ্ব বয়সকে পৌঢ়কাল বলে।
যৌবনকালে প্রতি প্রতিপদে নারীদেহের মানব সরোবরের মানব গাছে একটি মানব ফুল ফোটে।
অর্থাৎ; প্রতিমাসে একটি করে ডিম্বকের সৃষ্টি হয়। সে সরোবরে শুক্রাণু পতিত হলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে মানব গাছে সন্তান রূপ মানব ফল ধরে। সন্তান রূপ ফল লালনপালন করতে গিয়ে; পরবর্তী এগারো (১১)টি ফুল সরোবরেই ধ্বংস হয়ে যায়। সন্তান ভূমিষ্ঠের পর মানব সরোবর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হওয়ার পর; আবার; বসিধ, সাঁই ও কাঁইয়ের স্বাভাবিক আগমন প্রত্যাগমন আরম্ভ হয়। তবে; সন্তানধারণ না করলে; প্রতি মাসেই মানব সরোবরের মানব বৃক্ষে একটি মানব ফুল ফোটে। অর্থাৎ; প্রতি বছরে মোট বারো (১২)টি ফুল ফোটে। এ ধারাটি চলতে থাকে পুরো যৌবনকাল। যৌবনকাল সারা বিশ্বে গড়ে ত্রিশ (৩০) বছর। যারফলে; ত্রিশ বছরে মোট (৩০×১২) = ৩৬০টি বা তিনশত ষাটটি ফুল ফোটে। এ তিনশত ষাটটি মানব ফুলকে; বিশ্বের বিভিন্ন শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে ৩৬০ সন্তান, ৩৬০ মানুষ, ৩৬০ মূর্তি, ৩৬০ অলি (ﻭﻟﻰ), ৩৬০ রগ, ৩৬০ হাড় ও ৩৬০ বছর ইত্যাদি বলা হয় হয়। এ সূত্র ধরে বলা যায় যে; আজ হতে প্রায় সাত হাজার (৭,০০০) বছর পূর্বে; শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণ নির্মাণ করার জন্য; সুবিজ্ঞ আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ ৩৬০ ‘পৌরাণিক মূলক সংখ্যা’টি আবিষ্কার করেছিলেন।
অতঃপর; প্রায় দুই হাজার (২,০০০) বছর পর্যন্ত মৌখিক পরম্পরার দ্বারা এটা কালাতিপাত করেছে। পরবর্তী আরও এক হাজার (১,০০০) বছর পর্যন্ত মৃৎপাত্র, চামড়া ও গাছের ছালবাকলে লিখিত অবস্থায় ছিল। সর্বশেষে; প্রায় চার হাজার (৪,০০০) বছর পূর্বে বিশ্বের আদি-মহাগ্রন্থ ‘বেদ’ এর মধ্যে সংকলিত হয়; যা পবিত্র বেদ এর উদ্ধৃতির মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
সারা বিশ্বের বিভিন্ন শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে তিনশত ষাট এর সহগ পরিভাষা রূপে যা-ই থাকুক না কেন; সব সহগ পরিভাষা দ্বারাই মানব ডিম্বক বুঝায় ও মানবদেহের জীবজল সাঁইকে বুঝায়। শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণ নির্মাণের জন্য; অভিনব ও নতুন নতুন সহগ নির্মাণ করা শৈল্পিক পাণ্ডিত্য।
মক্কার (ﻤﻜﺔ) ঘরের ওপর দিয়ে কোনো পাখি উড়ে যেতে পারে না কেন?
(Why no bird could not fly over the house of Mecca?)
আরবি মক্কা (ﻤﻜﺔ) শব্দের বাংলা পারিভাষিক অনুবাদ ‘বৈতরণী’। বৈতরণী ধরেই আলোচনা সামনে অগ্রসর করার চেষ্টা করব।
বৈতরণী (বাপৌমূ)বি গণ্ডকী, গোদাবরী, পদ্মা, ফল্গু, বিরজা, ব্রহ্মপুত্র, মন্দাকিনী, যমুনা, সুরধুনী, সুরনদী, সুড়ঙ্গ, কামনদী, মায়ানদী, ভবনদী (ব্যাপ) বাংভারতীয় পুরাণে বর্ণিত; যমদূতের নদী, যমদ্বারের নদী, উড়িষ্যার একটি নদী বিশেষ (শ্ববি) জননপথ, va**na, সাওয়া (আ.ﺴﻭﺀﺓ), অযোধ্যা (ইংপ) canal (ইপ) দজলা (ﺪﺠﻠﺔ), বরজখ (আ.ﺒﺮﺯﺥ) (দেপ্র) এটি ‘বাঙালি পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘বৈতরণী’ পরিবার প্রধান ও যোনিপথের ‘রূপান্তরিত মূলক’ বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; বাংভারতীয় পুরাণে ভয়ঙ্করভাবে বর্ণ