27/01/2025
মি'রাজের রাতে প্রিয় নবী (সা.) উম্মাহর জন্য যে উপহারগুলো এনেছিলেনঃ
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত ছিল, পরে ৫ ওয়াক্ত করা হয়।
২. সূরা বাকারা-এর শেষ দুই আয়াত: বিশেষ রহমত ও নিরাপত্তার আয়াত।
৩. শাফাআত: কিয়ামতের দিন উম্মতের জন্য সুপারিশের অধিকার।
৪. তাওবার সুযোগ: মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার দরজা খোলা।
৫. উম্মাহর মর্যাদা বৃদ্ধি: উম্মতে মুহাম্মদীকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া।
সুবহানআল্লাহ।
31/03/2024
শাফেঈ মাযহাবের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা অন্য মাযহাবে নেই:
১. ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ একজন কুরাইশী ছিলেন।
২. ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ হানাফী ও মালেকী উভয় ফিকহ সম্পর্কে পরিপূর্ণ দক্ষ ছিলেন।
৩. উসূলে হাদীস ও উসূলে ফিকহকে পরিপূর্ণ শাস্ত্র আকারে তিনিই রুপ দেন।
৪. ফতোয়ার মধ্যে রায় যুক্তি বাদ দিয়ে হাদীস ভিত্তিক রায়কে অগ্রাধিকার দেন।
৫. ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ একজন মুহাদ্দীস ছিলেন ও বহু স্থান থেকে হাদীস সংগ্রহ করেছেন। অপরপক্ষে আবূ হানিফা হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল এবং ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ মদিনার হাদীসের উপর নির্ভর করতেন।
৬. শাফেঈ ফিকহের ডেভলপমেন্ট মুহাদ্দীসগণ দ্বারা হয়েছে অন্য মাযহাবে যা বিরল।
৭. শাফেঈ ফিকহে সবচেয়ে প্রথমে নুসুসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নুসুসের জাহেরী অর্থকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
৮. শাফেঈ মাযহাবে কোন আহকামের ফায়দা হিকমতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শুনলাম এবং মানলাম নীতি অনুসরণ করা হয়।
৯. শাফেঈ মাযহাবে কিয়াস তথা ইজতিহাদকে অস্বীকার করা হয় না। কিন্তু না প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়।
১০. শাফেঈ মাযহাব একটি পূর্ণাঙ্গ মাযহাব। পর্যাপ্ত কিতাবাদী রয়েছে।
১১. শাফেঈ মাযহাবে দলীলের উপর আমলকে গুরুত্ব দেওয়া হয় তাই ইখতিলাফকে সুনজরে দেখা হয়ে থাকে।
১২. শাফেঈ মাযহাবের দলীলগুলি অধিকাংশ সহীহাইনের মধ্যে আছে ও সুনানে আরবার মধ্যে রয়েছে।
১৩. তাক্বলীদের প্রয়োজন নেই।
05/07/2023
আমাদের শাফেয়ী মাযহাবের সবচেয়ে ভালো অবস্থান হল দাড়ি কামানো অপছন্দ (মাকরূহ) এবং হারাম নয়।
শাফেঈ মাযহাব বাংলাদেশ - The Shafi'i Madhab Bangladesh
ইবনে হাজার আল-হায়তামি, মুহাম্মাদ আল-রামলি, আল-খতিব আল-শিরবিনি, এবং শাইখ আল-ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারীর মতো মরহুম শাফি’র মাযহাবের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অবস্থান এটাই।
(ইআনাতুল-তালিবিন, ২.৩৪১)।
ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে এটি ইমাম নববী এবং ইমাম রাফেঈ উভয়ের অবস্থান ছিল!
(হাশিয়াত শিরওয়ানি, ৯.৩৭৬)।
ইমাম নববী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সহীহ মুসলিমের তাফসীরে এবং তাঁর রওদাত আত-তালিবিনেও দাড়ি মুণ্ডন করা অপছন্দনীয়।
দাড়ি ছাঁটার হুকুম কি?
দাড়ি ছাঁটাও অপছন্দনীয়। এটা হারাম নয়, যেমনটা দাড়ি কামানো সংক্রান্ত হুকুম থেকে অনুমান করা যায় (যদি দাড়ি কামানো হারাম না হয়, তাহলে তা ছাঁটা কিভাবে হারাম হতে পারে?)।
ইবনে হাজার তার তুহফা গ্রন্থে বলেছেন:
"আমাদের ইমামগণ যা বলেছেন তার বহিঃপ্রকাশ হল যে দাড়ি ছাঁটা নিঃশর্তভাবে অপছন্দনীয়।"
(তুহফাত আল-মুহতাজ, ৯.৩৭৬)
তুহফাহ গ্রন্থে, ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, ছহীহ আল-বুখারী এবং সহীহ মুসলিম উভয়ের হাদীসের উপর ভিত্তি করে এই বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেখানে নবী (সাঃ) পুরুষদের দাড়ি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ: وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ فَحَى عُمَرَ إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ لَبَيْتِمَرَ قَلَي ضَلَ أَخَذَهُ
মুশরিকদের থেকে আলাদা হও: দাড়ি বাড়াও এবং গোঁফ ছোট কর। আর ইবনে উমর যখন হজ্জ করতেন, তখন দাড়ি চেপে ধরতেন এবং এর অতিরিক্ত যা ছিল তা সরিয়ে ফেলতেন।
এছাড়াও, ইবনে হাব্বান আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যেটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে নিতেন। ইমাম বুখারী যেমন বর্ণনা করেছেন তেমনি ইবনে ওমরেরও এটি ছিল।
প্রথম হাদিসটিকে দ্বিতীয়টির চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যেমনটি ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন, কারণ এটি অধিকতর সহীহ। তবুও, দ্বিতীয় বর্ণনাটি প্রথমটির সাথে মিলিত হয়েছে এবং এইভাবে অনুশীলনও করা হয়েছে। শাফীগণ এটিকে প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন যে রায়ের নির্দিষ্টকরণ ঘটেছে; সুতরাং এটা মাকরূহ, হারাম নয়। সেইসাথে, ইবনে হাজার একটি কুৎসিত চেহারা এড়াতে দাড়ি ছাঁটাই করার মতামতের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি কেউ সঠিকভাবে বর করে এবং তার দাড়িতে তেল দেয় তবে সে অরক্ষিত হবে না।
দাড়ির সুন্নত দৈর্ঘ্য কত?
দাড়ির সর্বোত্তম দৈর্ঘ্য হ'ল এটিকে কাটা ছাড়া এবং এটিকে স্পর্শ না করা, যেমনটি উপরে ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন। এই সর্বোত্তম দৈর্ঘ্যের চেয়ে কম কিছু অপছন্দ করা হয়। ইবনে হাজার আপত্তির পূর্বাভাস দিয়েছেন যে এর ফলে একজনের চেহারা কুৎসিত হয়ে যাবে এই বলে যে এটি কেবল তখনই ঘটবে যখন কেউ নিজের দাড়ি ধোয়া বা তেল না লাগিয়ে তার যত্ন নেওয়াকে অবহেলা করে।
(তুহফাত আল-মুহতাজ, ৯.৩৭৬)।
14/05/2023
উসূল আল ফিকহ’ এর সর্বপ্রথম প্রণেতা হচ্ছেন ইমাম শাফিঈ এবং এ বিষয়ে সর্বপ্রথম প্রণীত গ্রন্থ তাঁর ‘আর-রিসালাহ’।
দূর্বল একটি সূত্রে আবু হানীফার ছাত্র আবু ইউসুফ কর্তৃক সর্বপ্রথম উসূল আল ফিকহ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনার বর্ণনা থাকলেও এর স্বপক্ষে শক্তিশালী কোন প্রমাণ নেই আর গ্রন্থটি পরবর্তীকালে পাওয়াও যায়নি।
আয যারকাশী তার আল-বাহরুল মুহীত গ্রন্থে লিখেছেন, “ইমাম শাফিঈ (রহ) প্রথম ব্যক্তি যিনি উসূল আল ফিকহ সম্পর্কে লিখেছেন।
ইমাম জুয়াইনী বলেন, “ইমাম শাফিঈ (রহ) এর পূর্বে আর কেউ উসূল সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেননি কিংবা এ বিষয়ে তাঁর মতো এতো বেশী জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন না।”
#শাফেয়ী_মাহযাব_বাংলাদেশ
06/05/2023
ইমাম শাফিয়ী রহিমাহুল্লাহ অতুলনীয় ঘোড় সওয়ার এবং বীর বাহাদুর ছিলেন। তিনি এক হাতে নিজের কান আরেক হাতে ঘোড়ার কান ধরে ঘোড়া দৌড়াতে পারতেন। ঘোড়া প্রবল বেগে দৌড়তে থাকতো। ঘোড়া দৌড়তো আর তিনি ঘোড়ার পিঠে লাফাতে থাকতেন।
[মানাকিবুশ শাফিয়ী লিলবাইহাকি ২/১২৯]
01/05/2023
Imam Ash-Shāfi'ī, said,
Knowledge is of two types: knowledge of the religion which is true understanding and knowledge of the worldly life which is medicine. Whatever is other than this from the likes of poetry and other than that is nothing more than painstaking and pointless.
Al-Hilyah (volume 9 page 142)
26/04/2023
ইমাম আশ-শাফেঈ (রহ.) বলেন-
أصحاب العربية جن الإنس، يبصرون مالا يبصر غيرهم
যারা আরবী জানে তারা মানুষের মধ্যে থাকা জ্বিন জাতির মতো । তারা তা দেখতে পায় যা সাধারণ মানুষ দেখতে পারে না
[مناقب الشافعی 2/53 ]
25/04/2023
ইমাম শাফিঈ(রহ.) বলেছেন,
যে সুন্নাহর উপর আমি আছি, যার উপর আমি আমার মুহাদ্দিস সাথী-বন্ধুদের দেখেছি এবং সুফিয়ান, মালিক প্রমুখ যাদেরকে আমি দেখেছি এবং যাদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছি সেই সুন্নাহ অনুযায়ী আমাদের সকলের কথা এই যে, এসব সাক্ষ্যের স্বীকৃতি দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ রয়েছেন আকাশে তাঁর ‘আরশের উপর, তিনি যেভাবে ইচ্ছা তার সৃষ্টির নিকটবর্তী হন এবং যেভাবে ইচ্ছা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন।
ইমাম ইবনে কাইয়ুম(রহ.),ইজতিমা‘উল জুয়ূশিল ইসলামিয়া, পৃষ্ঠাঃ১৬৫।
ইছবাতু ছিফাতিল ‘উলু, পৃষ্ঠাঃ১২৪।
ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ(রহ.), মাজমূ‘ ফাতাওয়া খন্ডঃ৪,পৃষ্ঠাঃ১৮১-১৮৩।
ইমাম যাহাবী(রহ.), আল ‘উলু, পৃষ্ঠাঃ ১২০;
আলবানী(রহ.), মুখতাছারুল ‘উলু পৃষ্ঠাঃ ১৭৬।