19/09/2026
একজন মা পিএইচডি করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর তাঁর মেয়ে পিএইচডি করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুজনেরই বিষয় বিজ্ঞান, দুজনেরই পথচলা আন্তর্জাতিক একাডেমিয়ায়। মা সুলতানা শফী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে প্রথম নারী হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। এরপর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। পিএইচডি শেষে কেমব্রিজের Girton College-এ ফেলোশিপও পান। সেখানে প্রায় এক বছর থাকার পর বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে।
মেয়ের পথও বিজ্ঞানের, তবে গবেষণার বিষয় আলাদা। রেবেকা শফী ক্যালটেক থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে পিএইচডির জন্য যান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন বা Black Hole Spin। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে তাঁর গবেষণার পরিধি বিস্তৃত হয় তাত্ত্বিক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান থেকে স্নায়ুবিজ্ঞান ও মানব জেনেটিকসের দিকে। বর্তমানে তাঁর গবেষণার সঙ্গে মানবমস্তিষ্ক, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ও নিউরোসায়েন্সের সম্পর্ক জড়িয়ে আছে।
সুলতানা শফীর জীবনের বড় একটি সিদ্ধান্ত ছিল কেমব্রিজে থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরে আসা। Girton College-এর ফেলোশিপ ছেড়ে তিনি ফিরে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে তাঁর একাডেমিক যাত্রার বড় একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন পদার্থবিজ্ঞান পড়িয়েছেন। তাঁর স্বামী আহমেদ শফীও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। ১৯৬৯ সালে লন্ডনে তোলা তাঁদের একটি ছবিতে ধরা আছে সেই সময়ের স্মৃতি।
এক প্রজন্মে কেমব্রিজ, পরের প্রজন্মে হার্ভার্ড। সুলতানা শফীর একাডেমিক পথ তৈরি হয়েছিল পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। রেবেকা শফীর পথ এগিয়েছে ক্যালটেক ও হার্ভার্ড হয়ে কৃষ্ণগহ্বরের গবেষণা থেকে মানবমস্তিষ্ক ও জেনেটিকসের দিকে। মা ও মেয়ের গবেষণার বিষয় আলাদা হলেও দুজনের গল্পকে পাশাপাশি রাখলে বিজ্ঞানচর্চার একটি দীর্ঘ পারিবারিক ধারাই সামনে আসে।