18/05/2024
শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. করাচীতে ২ বছর কারাবাসের পর ১৯২৩ সালের অক্টোবরে মুক্তি লাভ করলে উনিসহ অন্যান্য নেতার জন্য বড় বড় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। দিল্লীতে মাওলানা জাওহারের সম্মানে এত বড় সংবর্ধনা সভা করা হয়েছিল যে, পূর্বে কখনো কোন নেতার সম্মানে এমন আয়োজন হতে দেখা যায়নি।
শায়খুল ইসলামের জন্যও দেওবন্দ, সাহারানপুর, মুরাদাবাদ, মুযাফ্ফরনগর প্রভৃতি স্থানে সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তিনি নিজ জীবনে বরাবরই ছিলেন প্রচার বিমুখ। তাই ইচ্ছাকৃতভাবেই এ সকল অনুষ্ঠান এড়িয়ে যান এবং অন্যকে এগুলো করার সুযোগ দিতেও বিরত থাকেন। জেল থেকে মুক্তি সম্পর্কে পূর্বে কাউকে কিছু জানতে না দিয়ে তিনি রাতে চুপচাপ বাড়ী পৌছে যান।
(রাশিদ হাসান উসমানী, তাক্কিরায়ে হযরত শায়খ মাদানী (দেওবন্দ: রাশিদ কোম্পানী, তা. বি.), পৃ ১৩৯-১৪১)
দেওবন্দে নিজের একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষীগণের এক অনুরোধের জবাবে তিনি তীক্ষ্ণ ভাষায় বলেছিলেন,
"আমাদের কিসের আনন্দ মিছিল? আমরা কি ইংরেজকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছি? আমার কাছে নিজের মুক্তিতে আদৌ কোন খুশি মনে হচ্ছে না।
বরং আমার দুঃখ যে, ইংরেজ দিন দিন জয়ী হচ্ছে আর আমরা হেরে যাচ্ছি, এমন পরাজিতদের স্ফূর্তি মিছিল করার সুযোগ কোথায়?"
(আবদুর রশীদ আরশাদ, বীস বড়ে মুসলমান (লাহোর: মাকতাবায়ে রশীদিয়্যা লিমিটেড, ১৯৬৯), পৃ ৪৫১)
জেলে শায়খুল ইসলামের ইবাদত ও বন্দেগীর অনুমান পীর গোলাম মুজাদ্দিদের একটি উক্তি থেকে বোঝা যায়। দিল্লীতে জনৈক লোক তাঁর কাছে মুরীদ হওয়ার আবেদন করলে তিনি বলেছিলেন,
"মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী এখানে (দিল্লীতে) উপস্থিত। অথচ তোমরা আমার কাছে এসেছ মুরীদ হওয়ার জন্য। আমার হাতে পবিত্র কুরআন রয়েছে (তখন তিনি তিলাওয়াতরত ছিলেন)।
আমি শপথ করে বলছি, জেলে অবস্থান কালে তাঁর ইবাদত ও বন্দেগীর যে চিত্র আমি স্বচক্ষে অবলোকন করেছি তাতে আমার বিশ্বাস, বর্তমান বিশ্বে বুযর্গী ও শরীঅতের অনুসরণে তাঁর কোন জুড়ি নেই।"
(আবুল হাসান বারাবাংকুবী, হায়রত আঙ্গীয ওয়াকিআত (দেওবন্দ: মাকতাবায়ে দীনিয়্যা, ১৯৭৫), পৃ ১৫৭-১৫৮।)
Courtesy: Ask Sumon