18/08/2022
বাংলাদেশে আসছে BTS.
নেই কোন প্রতিবাদ, নেই কোন সচেতনতা ।
উম্মাহ কে সচেতন করতে এই আলোচনা সবার কাছে পৌঁছানো জরুরী মনে করছি।
BTS কি?
BTS (বিটিএস) হলো দক্ষিণ কোরিয়ান (South Korean) একটি ব্রান্ড (brand) দল।
BTS এর পুরো নাম হলো Bangtan Boys (ব্যাংটন বয়েজ) অথবা Bangtan Sonyandan (ব্যাংটন সোনিয়ান্দন)
বিটিএস এর সদস্য সংখ্যা ৭ জন। এই ৭ জন পুরুষ।
একজন মুসলিম হিসেবে BTS কে বর্জন করা জরুরী কেন?
**এরা পুরুষ হয়েও নারীদের মত সাজ গ্রহণ করে,
বিভিন্ন কনসার্টে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে মানুষ কে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করে।
তারা নারীদের মত পোষাক পরিধান করে ,কানে দুল ব্যবহার করে , ঠোটে লিপিস্টিক দেয়।
অথচ পুরুষ হয়ে নারীর বেশভূষা ধারণ কারির উপর নবিজী লা’নত করেছেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّهُ لَعَنَ الْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ، وَالْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ
অর্থ:
ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন যেসব নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যেসব পুরুষ নারীদের বেশ ধারণ করে।
আবূ দাউদ-৪০৯৭
**এরা নিজেদের শরীরে ইলুমিনাতি তথা দাজ্জালের এক চোখের ট্যাটু অঙ্কন করার মাধ্যমে দাজ্জালকে প্রমোট করে ।
ট্যাটু অঙ্কন সম্পর্কে নবীজি বলেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ،
আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য যে নারী ট্যাটু আঁকে ও আঁকায়,তাদের উপর আল্লাহর লা’নত।
বুখারী-৫৯৪৮
দুঃখের বিষয় হলো বাংলাদেশের বেশিরভাগ তরুণী মেয়েরা এদের ভক্ত।
আবার অনেককেই তাদের কে ভালোবেসে নিজেদের কে " BTS LOVER "পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে থাকে।
আবার কিছু তরুণ-তরুণী তাদের বেশভূষা ধারণ করে তাদের নাম রেখেছে BTS ARMY ।
তাদের ব্যাপারে নবিজী বলেন
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
অর্থ:
ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে।
তাছাড়া যারা অশ্লীলতা কে প্রমোট করে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
اِنَّ الَّذِيْنَ يُحِبُّوْنَ اَنْ تَشِيْعَ الْفَاحِشَةُ فِى الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌۙ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِۗ وَاللّٰهُ يَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ( النور: ١٩ )
তরজমা:
যারা পছন্দ করে যে, মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার বিস্তৃতি ঘটুক তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাতে। আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না।
সূরা নূর -১৯
সুস্পষ্ট হয়ে গেল BTS কে বর্জন করা সময়ের দাবি,
এবং এ ব্যাপারে তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক করাও জরুরী।
আল্লাহ আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সকল ফেতনা থেকে হেফাযত করুন!
02/12/2021
ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য
শিক্ষা ইসলামের প্রাথমিক মৌলিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। আদি শিক্ষক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। তাই ফেরেশতারা বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র! আপনি যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের আর কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী ও কৌশলী।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ৩২)।
শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের জন্য পঠন-পাঠন অন্যতম মাধ্যম। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)–এর প্রতি ওহির প্রথম নির্দেশ ছিল, ‘পড়ো, তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন “আলাক” থেকে। পড়ো, তোমার রব মহা সম্মানিত, যিনি শিক্ষাদান করেছেন লেখনীর মাধ্যমে। শিখিয়েছেন মানুষকে, যা তারা জানত না।’ (সুরা-৯৬ আলাক, আয়াত: ১-৫)।
ইসলামি শিক্ষায় অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার মূল পাঠ্যগ্রন্থ আল–কোরআন। ‘দয়াময় রহমান (আল্লাহ)! কোরআন শেখাবেন বলে মানব সৃষ্টি করলেন; তাকে বর্ণনা শেখালেন।’ (সুরা-৫৫ রহমান, আয়াত: ১-৪)।
কর্মে ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধন নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তথ্য প্রদান বা জ্ঞানদান করাকে শিক্ষাদান বা পাঠদান বলে। খলিফা হজরত উমর (রা.)–এর এক প্রশ্নের জবাবে হজরত উবায় ইবনে কাআব (রা.) বলেন, ‘ইলম হলো তিনটি বিষয়, আয়াতে মুহকামাহ (কোরআন), প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত (হাদিস) ও ন্যায় বিধান (ফিকাহ)।’ (তিরমিজি)। হজরত উবায় ইবনে কাআব (রা.) বলেন, ‘(শিক্ষিত তিনি) যিনি শিক্ষানুযায়ী কর্ম করেন অর্থাৎ শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষাও থাকে।’ (তিরমিজি ও আবু দাউদ)।
ইলম বা জ্ঞান হলো মালুমাত বা ইত্তিলাআত তথা তথ্যাবলি। এটি দুভাবে অর্জিত হতে পারে, (ক) হাওয়াচ্ছে খামছা তথা পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে। যথা: ১. চক্ষু, ২. কর্ণ, ৩. নাসিকা, ৪. জিহ্বা ও ৫. ত্বক। এই জ্ঞানকে ইলমে কাছবি বা অর্জিত জ্ঞান বলে। (খ) ওয়াহি। যথা: (১) কোরআন ও (২) সুন্নাহ বা হাদিস। এ প্রকার জ্ঞানকে ইলমুল ওয়াহি বা ওয়াহির জ্ঞান বলে। ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান সদা পরিবর্তনশীল, ওহির জ্ঞান অপরিবর্তনীয়।
নবী–রাসুলদের দাওয়াতি কাজের মূল ভিত্তি ছিল জ্ঞানের আলো দিয়ে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসা। হজরত ইব্রাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন: ‘হে আমাদের প্রভু! আপনি তাদের মাঝে এমন রাসুল পাঠান, যিনি তাদের সমীপে আপনার আয়াত উপস্থাপন করবে, কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদের পবিত্র করবে। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী স্নেহশীল ও কৌশলী।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১২৯)।
বিদ্যা মানে জ্ঞান, শিক্ষা মানে আচরণে পরিবর্তন। সব শিক্ষাই বিদ্যা কিন্তু সব বিদ্যা শিক্ষা নয়; যদি তা কার্যকরী বা বাস্তবায়ন করা না হয়। জ্ঞান যেকোনো মাধ্যমেই অর্জন করা যায়, অধ্যয়ন জ্ঞানার্জনের একটি পন্থা মাত্র। অধ্যয়ন তথা জ্ঞানচর্চা বা বিদ্যার্জন সব সময় শিক্ষার সমার্থক নয়।
ইসলামে শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আদম সন্তানকে মানুষরূপে গড়ে তোলা। যে শিক্ষা আত্মপরিচয় দান করে, মানুষকে সৎ ও সুনাগরিক হিসেবে গঠন করে এবং পরোপকারী, কল্যাণকামী ও আল্লাহর প্রতি অনুরাগী হতে সাহায্য করে, সে শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা। শিক্ষা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে, অন্তর্দৃষ্টিতাই আল্লাহ তাআলা বাবা আদম (আ.) কে সৃষ্টি করে প্রথমে তাঁর শিক্ষাব্যবস্থা করলেন। কোরআনের বর্ণনায়, ‘আর আল্লাহ তাআলা আদমকে সকল বস্তুর পরিণতি শেখালেন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ৩১)। যে জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষের অন্তর হিংসা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা থেকে মুক্ত হয়ে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়, তা–ই ইসলামি শিক্ষা।
রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শিক্ষাদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার রব আমাকে তালিম দিয়েছেন, তা কতই–না উত্তম শিক্ষা এবং আমার রব আমাকে তারবিয়াত করেছেন, তা কতই না শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণ।’ (মুসনাদে আহমাদ)। মূলত শিক্ষা হলো আত্মজ্ঞান বা আত্মোপলব্ধি। শিক্ষিত মানুষ বিনীত ও নিরহংকার হয়ে থাকেন। শুধু ভাষা জ্ঞান বর্ণ জ্ঞান বা বিষয় জ্ঞানের নাম শিক্ষা নয়। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর অক্ষরজ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ওহির শিক্ষায় আলোকিত হয়ে তিনি হয়েছেন বিশ্ব-শিক্ষক।
লেখক
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী:
02/12/2021
শিক্ষার গুরুত্ব : যে বৈশিষ্ট্যটি মানুষকে অন্য সব প্রাণীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে তা মানুষের জ্ঞান বা বুদ্ধি। এই জ্ঞান বা বুদ্ধির বিকাশ ও সমৃদ্ধি ঘটে শিক্ষার মাধ্যমে। শিক্ষাই মানুষকে মর্যাদার শিখরে পৌঁছে দেয়।
02/12/2021
2022 সালের ক্যালেন্ডার লাইক দিয়ে সাথে থাকুন
28/11/2021
📢📢 সুখবর সুখবর 📢📢
ইমাম মোয়াজ্জেন দের জন্য সুখবর 📢📢
বহু বছর থেকে গবেষণা করেন সমাজের বিভিন্ন সমস্যার উপর
সম্মানিত ইমাম সাহেব ও মোয়াজ্জেম সাহেবদের সম্মান কিভাবে স্থায়ী করা যায় ও সমাজের সমস্যাগুলি সহজে সমাধান করা যায় এই বিষয়ে সঠিক উপায় এবং দীর্ঘ টাইম মসজিদের খেদমতে ও সমাজের খেদমতে নিজেকে বিশেষভাবে তৈরি করার ফর্মুলা ।
সমাজ হাতে রাখার কৌশল, চাকুরী, খেদমতে দীর্ঘদিন টিকে থাকার কৌশল এবং সুদক্ষ মিষ্টি ভাষী মন যোগানো ভাষা নামাজের সুন্নত তরিকা, জুমার খুতবা, বিয়ের খুতবা পড়ার কৌশল সহ আরো বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রতি ইংরেজি মাসের 1 তারিখ থেকে মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ হয়।
আগ্রহীগণ যোগাযোগ করে আপনার কোটা পূরণ করুন ।
প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
কোর্স ফি 5100/- টাকা
27/11/2021
সুখবর সুখবর ইমাম মোয়াজ্জেন দের জন্য সুখবর বহু বছর থেকে গবেষণা করেন সমাজের বিভিন্ন সমস্যার উপর
সম্মানিত ইমাম সাহেব ও মোয়াজ্জেম সাহেবদের সম্মান কিভাবে স্থায়ী করা যায় ও সমাজের সমস্যাগুলি সহজে
সমাধান করা যায় এই বিষয়ে সঠিক উপায় এবং দীর্ঘ টাইম মসজিদের খেদমতে ও সমাজের খেদমতে নিজেকে
বিশেষভাবে তৈরি করার ফর্মুলা ,সমাজ হাতে রাখার কৌশল, চাকুরী/খেদমতে দীর্ঘদিন টিকে থাকার কৌশল এবং
সুদক্ষ মিষ্টি ভাষী মন যোগানো ভাষা নামাজের সুন্নত তরিকা জুমার খুতবা বিয়ের খুতবা পড়ার কৌশল সহ আরো
বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে প্রতি ইংরেজি মাসের 1 তারিখ থেকে মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ হয় আগ্রহীগণ যোগাযোগ
করে আপনার কোটা পূরণ করুন প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে কোর্স ফি 5100!!!
27/11/2021
A Trusted Islamic Training Center For All. You Are Welcome!!! Imam Muwajjin Training Canter Is The Best Training Center In Bangladesh. Please Visit Our Office And Take Our Hospitality.
17/11/2021
আল-কোরআনের মধ্যে রয়েছে সকল সমস্যার সমাধান
বিশ্ব মানবতার জীবন পরিচালনার জন্য যা দরকার আল্লাহ তায়ালা আল-কোরআনের মধ্যে সব দিয়ে দিয়েছেন। মানুষের জন্য এমন কিছু নাই যার প্রয়োজন আছে অথচ কোরআনে তা বলা হয়নি, বরং সব কিছুকে সাজিয়ে-গুছিয়ে পরিস্কার করে আল-কোরআনে বলে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।’ (সূরা আন-নাহল- ৮৯)
15/11/2021
নামাজ ও রোজার চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার
সংগ্রহ করে রাখুন সময়ে কাজে লাগবে
14/11/2021
নামাজের ফজিলত
নামাজ মুমিনের অন্যতম প্রধান ইবাদত। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার উপর আরোপিত সকল ইবাদতের মধ্যে নামাজ এমন একটি ইবাদত যা ব্যক্তিজীবনকে গড়ে তুলে মুমিন হিসেবে আর সমাজ জীবনে ব্যক্তি কে গড়ে তুলে সুবাসিত পুষ্প তুললে। নামাজের মাধ্যমেই জীবনের সর্বাঙ্গীন সফলতা লাভ করা যায়।ইসলামী শরীয়ত প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির উপর দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সালাত আদায়ের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তিনি সালাতের বিষয়ে অনেক কথা বলে গিয়েছেন। রাসূলে করিম (সা.) সালাতের ফজিলত ও মরতবা সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনার মধ্যে নিচে ৩৬টি হাদীস বর্ণনা করা হলো।
(১) যে ব্যক্তি পাক-পবিত্র সহি শুদ্ধভাবে রুকু-সেজদার সাথে নামাজ আদায় করলো তার জন্যে বেহেশত ওয়াজিব, দোজখ তার জন্য হারাম হয়ে যায়।
(২) আল্লাহর পেয়ারা হাবীব (স) আরো এরশাদ করেছেন, রোজ হাশরে সর্বাগ্রে নামাজের হিসাব নেয়া হবে, মহান রাব্বুল-আলামীন আমার উম্মতের উপর সর্বপ্রথম নামাজ ফরজ করেছেন। নামাজ দ্বীন-ইসলামের খুঁটিস্বরূপ।
(৩) আল্লাহ পাক পরওয়ারদেগার ঐ ব্যক্তিকে দেখ্তে অধিক ভালোবাসেন যে নামাজের মধ্যে সেজদায় কপাল মাটিতে ঠেকায়।
(৪) নামাজ অন্তরের নূরস্বরূপ-যার ইচ্ছা হয় নামাজ দ্বারা অন্তরকে আলোকিত করতে পারে,-
(৫) মানুষ নামাজে দাঁড়ালে তাঁর জন্য বেহেশ্তের দরওয়াজা খুলে যায়।
(৬) আল্লাহ ও নামাজের মধ্যে কোন আড়াল থাকে না।- সেজদা অবস্থায় আল্লাহ পরম করুনাময়ের সান্নিধ্য-নৈকট্য বেশী অর্জিত হয়।
(৭) নামাজের জন্য আল্লাহতায়ালাকে ভয় করো তিনবার বলা হয়েছে। দ্বীন-ধর্মের একমাত্র নিদর্শন নামাজ- যে ব্যক্তি একাগ্রচিত্তে নামাজ সম্পন্ন করে সে প্রকৃত মো’মেন। (৮) দেহের জন্যে যেরূপ মক্তব, দ্বীনের জন্য তেমন নামাজ।
(৯) সেজদায় ব্যবহৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহ পাক দোজখের আগুনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।
(১০) ওয়াক্তমত শুদ্ধভাবে যে নামাজ আদায় করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়।
(১১) নামাজ মো’মেন লোকের রূহস্বরূপ।
(১২) মহান আল্লাহ পাক ঈমান ও নামাজের চাইতে শ্রেষ্ঠতর আর কিছু ফরজ করেন নাই। যদি করতেন তবে তার
ফেরেশতাকুলকে করতে হুকুম করতেন।
(১৩) মানুষ ও শেরেকের মধ্যে নামাজই একমাত্র প্রাচীর।
(১৪) জমীনের যে অংশে নামাজ আদায় করা হয় সেই অংশ অন্য। অন্য অংশের উপর গর্ব করে থাকে।
(১৫) প্রাত:কালে যে নামাজ পড়তে যায় তার ঈমানের ঝান্ডা উড্ডিদ থাকে।
(১৬) আউয়ালওয়াক্ত অর্থাৎ নামাজের সময় হলে প্রথম দিকে নামাজ আদায় আল্লাহ পাকের নিকট অতীব পছন্দনীয়।
(১৭) নামাজ নি:সন্দেহে প্রত্যেক মো’মেন বান্দার কোরবানীস্বরূপ।
(১৮) ওয়াক্তমত (সুনির্দিষ্ট সময়ে) নামাজ আদায় করা সর্ব শ্রেষ্ঠ আমল।
(১৯) মানুষ যখন একান্তচিত্তে নামাজ আদায় করতে থাকে শয়তান তখন তার প্রতিভয় জড়-সড় কম্পমান থাকে।
(২০) সে যখন নামাজের ব্যতিক্রম করে তখন শয়তানের সাহস বৃদ্ধি পায় ও পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে
(২১) দু’রাকাত নামাজ পড়ে দোওয়া করলে নিশ্চিত আলøাহপাক তা কবুল করে নেন। (২২) যে ব্যক্তি নির্জনে এমনভাবে নামাজ আদায় করলো যে, আলøাহপাক ব্যতীত কেহ জানেনা সে যেন আলহর প্রিয় বান্দা হিসাবে পরিগণিত হলো এবং দোওয়া-ফরিয়াদ কবুলিয়াতের দরজায় পৌঁছে গেল।
(২৩) জোহরের ফরজের পূর্বের চারি রাকাত নামাজ তাহাজ্জুদের চারি রাকাতের সমান। (২৪) মাঝ রাতের নামাজ শ্রেষ্ঠতম ইবাদত।
(২৫) মানুষ যখন নামাজের জন্য দাঁড়ায় আল্লাহ তাবারক তায়ালার রহমত, করুনা, বরকত, নেয়ামত বর্ষিত হয়
10/11/2021
ইমাম-মুয়াজ্জিন ট্রেনিং সেন্টারের যেকোনো বিজ্ঞপ্তি জানতে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের যেকোনো নিউজ পেতে অথবা খেদমতের সন্ধান পেতে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন
09/11/2021
মুয়াজ্জিনের মর্যাদা ও কর্তব্য
আজান ইসলামের অন্যতম শিয়ার বা নিদর্শন। এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য স্বীকৃত একটি বিষয়। এজন্য মুয়াজ্জিনেরও রয়েছে অনেক উঁচু মর্যাদা। এ পদের অধিকারীদের ইজ্জত-সম্মানের চোখে দেখা অবশ্য কর্তব্য। কারণ এটি কোনো চাকরি নয়; বরং ইসলামের সুমহান একটি খেদমত। মুয়াজ্জিন যেভাবে আজানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার বড়ত্বের ঘোষণা করেন এবং তাঁর একত্ববাদের স্তুতি গান, তার প্রতিদান-বিনিময়ও আল্লাহ এমনভাবে দেবেন যে, কেয়ামতের দিন তিনি সবার ওপর মর্যাদার অধিকারী হবেন। তার বিশেষ অবস্থান হবে। এদের জন্য আল্লাহ তায়ালার খাস রহমত ও পুরস্কার রয়েছে। ফজিলতগুলো জানলে সবার মনেই অবশ্যই আকাক্সক্ষা হবে যে, যদি ইমাম, মুয়াজ্জিন হতে পারতাম! অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আমাদের সমাজে ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তাদের হেয় দৃষ্টিতে দেখা হয়। অবস্থার এত অবনতি যে, ধর্মপ্রাণ সচেতন লোকগুলো থেকেও ইমামতি ও মুয়াজ্জিনিকে নিচু দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ইমামকে একটু মর্যাদা দিলেও মুয়াজ্জিনকে তো কোনোই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাদের থেকে ভুলত্রুটি প্রকাশ পেতে পারে, তাই বলে এদের সঙ্গে শক্ত ভাষায় কথা বলা চরম অন্যায়। তাদের ছোট করা মানে ধর্মকে ছোট করা। মসজিদের দায়িত্বশীল ছাড়াও কিছু কিছু প-িত শ্রেণির মুসল্লিকেও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে দেখা যায়। এগুলো চরমভাবে সমাজে থাকার কারণে সাধারণ মুসলমানরা ইমাম, মুয়াজ্জিন হওয়ার সদিচ্ছা ত্যাগ করে দুনিয়াবি কাজে লেগে যান। যারা এ ধরনের অনৈতিক কাজ করেন, তাদের অবশ্যই এ ধরনের কর্মকা- থেকে বিরত থাকা উচিত। নতুবা কেয়ামতের দিন কঠিনভাবে পাকড়াও হতে হবে মহান আল্লাহর কাছে।
নবীজির অনেক হাদিসে মুয়াজ্জিনদের অনেক মর্যাদার কথা বলা হয়েছে।
নামাজের সময় নির্ধারণ : নামাজের সময় নির্ধারণ মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব। তিনি আমানতের সঙ্গে সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে আজানের দায়িত্ব পালন করবেন। এতে অন্য কেউ নাক গলানো কাম্য নয়। হ্যাঁ মুয়াজ্জিন প্রয়োজনে ইমামের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মসজিদের ইমাম হলো মুসল্লিদের জন্য জিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন আমানাতদারস্বরূপ। হে আল্লাহ! তুমি ইমামদের সৎপথ প্রদর্শন কর এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা কর।’ (তিরমিজি : ২০৭)। হাদিসের শেষাংশে রয়েছে যে, নবীজি (সা.) মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষভাবে মাগফিরাতের দোয়া করেছেন, হে আল্লাহ আজানে তাদের কোনো রকম ভুল হলে মাফ করে দেন।
বেতন-ভাতা : বেতন-ভাতা ছাড়া আজানের মতো সুমহান খেদমত করতে পারলে ভালো। উসমান ইবনে আবুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) এর কাছে বললাম, আমাকে আমার গোত্রের ইমাম নিযুক্ত করুন। রাসুল (সা.) বললেন, তোমাকে তাদের ইমাম নিযুক্ত করা হলো। তুমি দুর্বল ব্যক্তিদের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবে এবং এমন এক ব্যক্তিকে মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করবে যে আজানের কোনোরূপ বিনিময় গ্রহণ করবে না।’ (মুসলিম : ৫৩১)। বেতন-ভাতা ছাড়া ইমামতি-মুয়াজ্জিনি করা একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। কেউ নিতে চাইলে এতে আপত্তির সুযোগ নেই।
বরং একজন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে সর্বোচ্চ সম্মানী দেওয়া একান্ত কর্তব্য। অনেক মসজিদেই লক্ষ্য করা যায়, মসজিদে দামিদামি জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয়, প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের ব্যয়বহুল খরচ করা হয়; কিন্তু ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতনের বেলায় ওয়াজ শুরু হয়ে যায়। এ লোকগুলো আসলে মসজিদের টাকা সাশ্রয় করছে এমন নয়, বরং তারা নিজেদের ওপর বালা-মুসিবত টেনে আনছে। চিন্তা করার বিষয় যে, গ্রামে একজন মজদুর যেখানে মাসে অন্তত সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা রোজগার করে সেখানে দ্বীন-ধর্মের ধারক-বাহক ইমাম-মুয়াজ্জিন যারা জীবন-যৌবন ব্যয় করে মসজিদে পড়ে থাকেন, উম্মতের কল্যাণের ফিকিরে সময় কাটান, তাদের সঙ্গে একি আচরণ! কীভাবে ৫-৭ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়! এজন্য ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতনের বিষয়টি বিবেচনা করাসহ মসজিদের যাবতীয় উন্নয়নের জন্য যুব শ্রেণিকে দায়িত্ব দেওয়া দরকার এবং তারা নিজেরাও এ মহৎ কাজে এগিয়ে আসা কাম্য।
মুয়াজ্জিনের আজানের সাক্ষ্য : কেয়ামতের দিন মানুষ-জিন সবাই মুয়াজ্জিনের আজানের সাক্ষ্য দেবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে কোনো মানুষ ও জিন অথবা অন্য কিছু মুয়াজ্জিনের স্বরের শেষ রেশটুকুও শুনবে, সে কেয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।’ (বোখারি : ৬০৯)।