যে যত বড় হয়
সে ততো নম্র হয়!
Abu Barakat
দ্বীন ইসলামের সঠিক গাইডলাইন প্রদান করে মানুষকে হেদায়েতের পথে আনার নিরন্তর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত!
ঈদ মুবারক
সারা বিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন করা সম্ভব কিনা?
কিছু লোক প্রায় সময় সারা বিশ্বে এক দিনে রোজা-ঈদ পালন করার দাবী তুলে। চাঁদপুর জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ-রোজা পালন করে। কিন্তু সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ ও রোজা পালন নিয়ে শরীয়ত কি বলে, এটা আমাদের জানা প্রয়োজন।
আখেরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো। যদি চাঁদ দেখা না যায় তবে মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। (মুসলিম শরীফ )
তবে প্রত্যেক শহরে কিন্তু চাঁদ দেখা শর্ত না। নিকটবর্তী কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলেও নতুন মাস শুরু করতে হবে। একবার রমাদ্বান শরীফ মাসের ২৯ তারিখে মদিনা শরীফে শাওওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আখেরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সহ সকলে পরের দিন রোজা রাখলেন। দিনের বেলায় একদল আরোহী মদিনা শরীফে এসে উনাদের সংবাদ দিলেন যে উনারা গতকাল সন্ধায় নতুন চাঁদ দেখেছেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের রোজা ভঙ্গ করতে আদেশ প্রদান করেন। সেদিন ঈদের নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ায় পরের দিন ঈদের নামাজ আদায়ের কথা তিনি জানিয়ে দেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ )
অপর এক সময়ে শা’বান শরীফ মাস শেষে রাতের বেলায় চাঁদ দেখার সংবাদ মদিনা শরীফে পৌছলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে রোজা রাখার জন্য ঘোষণা দিতে আদেশ করেন। (আবু দাউদ শরীফ)
এই দুইটি ঘটনা ছিলো নিকটবর্তি স্থানে চাঁদ উদিত হলে নতুন মাস শুরু হওয়া প্রসঙ্গে। তাহলে দূরবর্তী স্থানে চাঁদ উদিত হলে নতুন মাস শুরু হবে কিনা ?
এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, একবার রমাদ্বান শরীফ মাসে মদিনা শরীফ থেকে এক দিন আগে দামেষ্কে চাঁদ দেখা যায়। মদিনা শরীফে এই সংবাদ পৌছলে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দামেষ্কের সাথে মিলিয়ে মাস শুরু করা বা শেষ করার বিষয়টি নাচক করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরুপ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। (তথ্যসূত্র: ছহীহ মুসলিম শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ ইত্যাদি)
উল্লেখ্য, ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ দলিল-আদিল্লার ভিত্তিতে সাব্যস্ত করেছেন যে, কোনো অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলে তার চতুর্দিকে ৫৪০ শরয়ী মাইল বা ৯৮৭.৫ কি মি এলাকা পর্যন্ত নতুন মাস শুরু হবে। ৫৪০ শরয়ী মাইলের বাইরের এলাকার জন্য আলাদা করে চাঁদ দেখে মাস হিসেব করতে হবে। মদিনা শরীফ থেকে দামেস্কের দূরত্ব হলো ১০৫৬ কি মি। তাই যে সময়ে উপস্থিত সকল সাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও তাবেয়ীনগন স্থানীয় তারিখ অনুযায়ী চাঁদ দেখে রোজা রেখেছেন এবং ঈদ পালন করেছেন।
অর্থাৎ হাদীছ শরীফে নিকটবর্তী ও দূরবর্তী স্থানে চাঁদ দেখার হুকুম কি, তা স্পষ্ট করে বর্ণিত আছে। তাই নতুন মাস শুরু করার ক্ষেত্রে সে হিসেব মানতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, যারা সারা বিশ্বে এক দিনে ঈদ করতে চায় তারা একটি অংশ মানলেও অন্য অংশটি মানতে চায় না। মানে নিকবর্তী স্থানের চাঁদ দেখার মাধ্যমে নতুন মাস শুরু করার হাদীছ শরীফ গ্রহন করলেও, দূরবর্তী স্থানের চাঁদ দেখা গেলে যে নতুন মাস শুরু হয় না এই হাদীছ শরীফ তারা গ্রহণ করছে না। মূলত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি আদেশ পালন করলেও অপর আদেশ মুবারক তারা অমান্য করছে। কোনো মুসলমান হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিলাফ মত প্রকাশ করতে পারে না।
আবার তারা এক দিনে ঈদ পালন করার দাবি করলেও তা কিভাবে কার্যকর হবে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারে না। এ দলটির কথা মাঝে মাঝেই পরিবর্তন হয়। তাদের সর্বশেষ দাবি হলো, পৃথিবীর কোথাও নতুন চাঁদ উদিত হলে ঐ সময়ে যে সকল স্থানে রাত থাকবে, সে সকল স্থানে নতুন মাস শুরু হবে।
কিন্তু হিজরী বর্ষপঞ্জি অনুসারে দিন বা তারিখ শুরু হয় মাগরীব থেকে। অর্থাৎ মাগরীবের আগে সাবতি বা শনিবার হলে মাগরীব থেকে আহাদি বা রবিবার শুরু হবে। মাগরীবের আগে ২৯ তারিখ হলে মাগরীবের সময় ৩০ তারিখ হবে।
কোন একটি এলাকায় সন্ধায় চাঁদ উঠলো, তখন পৃথিবীর অনেক এলাকায় ইতিমধ্যে রাত নেমেছে, সেখানে রাত ২টা, ৩টা, ৪টা বাজতে পারে। তাদের মতে দেখা যাচ্ছে, রাত ৩টা/৪টা’র সময়েও নতুন দিন বা তারিখ শুরু হচ্ছে! তাহলে প্রশ্ন হলো মাগরীব থেকে ভোর রাত পর্যন্ত সময়টা কত তারিখের অন্তর্ভূক্ত? যেহেতু চাঁদ উদিত হওয়ার আগে নতুন মাসে শুরু হয় না। সেহেতু এই সময়টা নতুন মাসের অন্তর্ভূক্ত নয়। আবার মাগরীব থেকে যেহেতু নতুন তারিখ শুরু হয় তাই সে স্থানে ৩০তারিখ শুরু হয়েছে। কিন্তু সন্ধা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তো একটি দিন পূর্ণ হয় না। তাই ৩০তারিখকে পূর্ণ করতে হবে। অর্থাৎ একদিন পরে নতুন মাস শুরু করতে হবে। এ কারণে সারা বিশ্বে একই দিনে মাস শুরু করা বা ঈদ বা রোজা পালন দাবী তোলা আসলে অযৌক্তিক।
ঐ বিশেষ দলটি আরো বলে, জুমুয়াবার যেভাবে সারা পৃথিবীর মানুষ যার যার স্থানীয় সময় অনুযায়ী একই দিনে জুমার নামাজ আদায় করে থাকে, সেভাবে সবাই এক দিনে ঈদ পালন করবে।
আসলে আন্তুর্জাতিক তারিখ রেখার দুই পাশে জুমার নামাজ দুই দিনে হয়। জুমুয়ার সাথে ঈদ/রোজার পার্থক্যটা হচ্ছে, জুমুয়ার হিসেবটা সপ্তাহের হিসেব, যা সূর্যের উপর নির্ভরশীল আর ঈদ/রোজা হচ্ছে মাসের হিসেব। যা চাঁদের উপর নির্ভরশীল, যার কারণে সূর্যের তারিখ রেখার দুইপাশে জুমা দুইদিনে হয় আর চাঁদের তারিখ রেখার দুই পাশে ঈদ/রোজা দুইদিনে হয়। তবে সূর্যের তারিখ রেখা যেহেতু স্থির তাই সেটা একবার নির্ধারণ করলেই হয়ে যায় কিন্তু চাঁদের তারিখ রেখা পরিবর্তনশীল তাই সেটা প্রতি মাসে চাদ দেখে দেখে নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু এটা না বোঝার কারণে তারা বলে যে, জুমা একদিনে হয় আর ঈদ/রোজা দুইদিনে হয়।
আবার ঐ বিশেষ দলটি বলে, একই দিন ঈদ বা রোজা করলে সারা বিশ্বের সাথে ঐক্য হবে।
আসলে শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক এই নতুন মতবাদ আমদানির কারণে বরং মুসলিম বিশ্বে আরো অনৈক্য তৈরী হয়েছে। যে যার মত শরীয়তের ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে ঈদ/রোজা করার দাবী তুলছে। অথচ শরীয়ত নির্দ্দিষ্ট ও সুষ্পষ্ট, আলাদা যুক্তি তর্ক দিয়ে নতুন মতবাদ প্রবেশ করানোর কোন সুযোগ নেই।
তাই মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ বা রোজা পালনের মত ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার-প্রসার বন্ধের দাবী জানাই।
-মুহম্মদ গোলাম সামদানি, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
09/04/2024
আজ বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসের চাঁদ দেখা যায় নাই,
এবার রোজা ৩০ টা হবে (আজও তারাবীহ পড়তে হবে) (১৪৪৫ হিজরী)
"আন্তর্জাতিক মাজলিসু রুইয়াতিল হিলাল"
(আন্তর্জাতিক চাঁদ গবেষণা সংস্থা)
পবিত্র রাজারবাগ শরীফ ঢাকা।
সাহরি খেতে উঠুন!
মন ভালো না থাকলে তেলাওয়াতটি শুনুন!
তিলাওয়াত: আবু বারাকাত
২৯ শা'বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী।
সুন্নতি জামে মসজিদ, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।
#আবু_বারাকাত #কুরআন #তিলাওয়াত #ক্বারী
আহলান-সাহলান
♥পবিত্র মাহে রমাদ্বান♥
আলহামদুলিল্লাহ!
সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, নারিকেলদ্বীপ ও হাতিমুরা থেকে পবিত্র রমাদ্বান শরীফের চাঁদ দেখা গিয়েছে।
ছাহাবায়ে কিরামগণ অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি।
উম্মতের জন্য উনাদের সমালোচনা করা কুফরী।
10/03/2024
পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের আসর। সুবহানাল্লাহ!
29/02/2024
কোনটার ক্ষমতা বেশি??
মাযহাব মানা ফরজ।
মাযহাবকে অস্বীকার করা মানে মুসলিম জামা'য়াতকে অস্বীকার করা। আর মুসলিম জামাতকে অস্বীকার করা মানে পবিত্র কুরআন-হাদিসকে অস্বীকার করা।
কাজেই মাজহাব অস্বীকার মানে হল কুরআন হাদিস অস্বীকার করা!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Malibag Mor
Dhaka
1217