26/09/2023
শেয়ার ক্যাটাগরি/ শ্রেণীবিভাগ
কোম্পানির অবস্থানের ওপর নির্ভর করে শেয়ারবাজারের শেয়ারগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মোট ৪টি ক্যাটাগরি আছে, এগুলো হলো এ বি এন ও জেড ক্যাটাগরি।
এ' শ্রেণী
'এ' শ্রেণীর শেয়ারগুলো শেয়ারবাজারের এক্সিলেন্ট শেয়ার হিসেবে ধরা হয়। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় যে 'এ' শ্রেণীর কোম্পানির শেয়ার হলো বাজারের ভালো কোম্পানির শেয়ারগুলো, যে শেয়ারগুলোর ভালো পরিমাণে কেনাবেচা হয়, কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ নিয়মিত বার্ষিক পরিচালনা পর্ষদ সভা করে এবং শেয়ার প্রতিবছরে ১০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশও দিয়ে থাকে। 'এ' শ্রেণীর শেয়ারের উদাহরণ হলো : ফার্মাএইড, গ্রামীণফোন, ডেসকো ইত্যাদি ।
'বি' শ্ৰেণী
'বি' শ্রেণীতে আছে যে কোম্পানিগুলো বাজারে ভালো করতে পারছে না,
মানে 'এ' ক্যাটাগরির এবং নরমাল শ্রেণীর 'এন' ক্যাটাগরির শেয়ারের নিচে আছে। যেমন মেট্রো স্পিনিং, ম্যাকসন্স স্পিনিং, দেশ গার্মেন্টস ইত্যাদি । এ. বি. এর তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারগুলো কেনার পর বিক্রির উপযুক্ত হতে ৩ দিন সময় লাগে, মানে শেয়ার জন্য করার পর ৩য় দিনে শেয়ার বিক্রি
করা যাবে ভার আগে নয়। ৩ দিনের মাথায় শেয়ার বিক্রির উপযুক্ত হওয়ার
সময়কে শেয়ার ম্যাচুউরিটি টাইম বলা হয়।
'এন' শ্ৰেণী
'এন' শ্রেণীতে আছে সেসব নতুন কোম্পানির শেয়ার, যেগুলো কোম্পানি এক বছরেরও কম সময় হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এগুলোকে নরমাল শেয়ার ক্যাটাগরি হিসেবে ধরা হয়। ওয়েস্টার্ন মেরিন, ইমারেন্ড ওয়েল, খুলনা প্রিন্টিং ইত্যাদি এগুলো হলো 'এন' শ্রেণীর শেয়ার।
'জেড' শ্ৰেণী
'জেড' শ্রেণীতে আছে অপেক্ষাকৃত হীন কোম্পানির শেয়ারগুলো, যেই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিত সভাও করে না আবার লভ্যাংশও ঘোষণা করে না। জেড শ্রেণীর একটা কোম্পানির শেয়ার কিনলে আরেকটা সমস্যা হলো শেয়ারটি পরিণত হয়ে উপযুক্ত হতে ৭ দিন সময় লাগে, ৮তম দিনে শেয়ারটি বিক্রি করা যাবে তার আগে নয়। সাধারণত বিনিয়োগকারীদের এসব কোম্পানির শেয়ার কিনতে নিরুৎসাহিত করার জন্যই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক এটা নির্ধারিত করা হয়েছে। 'জেড' ক্যাটাগরির শেয়ার সেটেলমেন্ট করার জন্য সপ্তাহের একটি দিন মাত্র বরাদ্দ, সেখানে অন্যান্য ক্যাটাগরির শেয়ারের জন্য সপ্তাহের যেকোনো দিন। 'জেড' ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার আরেকটি অসুবিধা হলো এ শেয়ারে মার্জিন বা ঋণ নিয়ে কেনার সুবিধা থাকে না। সাধারণত বেশি সাবধানী বিনিয়োগকারীরা অনেক আকর্ষণীয় সুযোগ পেলেও এই ধরনের কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেন করা থেকে নিজেদের বিরত রাখে। তবে এক শেয়ার ব্যবসায়ী থেকে আরেক ব্যবসায়ীর শেয়ারের শ্রেণী মূল্যায়ন ও নির্বাচন করার কারণ ভিন্ন হয়। কীভাবে কোন ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করার সুযোগটা দেখছে তার ওপর নির্ভর করবে কোনো ব্যবসায়ী 'জেড' ক্যাটাগরির শেয়ার কিনবে কি না। যদি কারো কৌশল এমন হয় ভালো সুযোগ পেলেই তার সদ্ব্যবহার করবে তাহলে 'জেড' শ্রেণীর শেয়ারেও বিনিয়োগকারী অনেক সফলতা পেতে পারে। যদি আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন ভালো কোম্পানি ছাড়া শেয়ার কিনবেন না তাহলে 'জেড' শ্রেণী এড়ানোই উত্তম।