17/10/2024
নবমুসলিম স্টিভ রকওয়েলের আত্মকাহিনী
কানাডার একজন বিখ্যাত নাগরিক, নাম তার স্টিভ রকওয়েল। তার ঘটনাটি অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। কারণ, তিনি মুসলিম থেকে খ্রিস্টান, আবার খ্রিস্টান থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন। স্টিভ রকওয়েলের পূর্ব পুরুষগণ ছিলেন মুসলিম। সেই সূত্রে তিনিও ছিলেন মুসলিম। হয়তো পারিবারিক অবহেলা, মুসলিম সোসাইটির অবহেলা ও বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের চারিত্রিক দুর্বলতা প্রভৃতির কারণে এক সময় মুসলিমদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন এবং ইসলাম থেকে দূরে সরে যান। খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে জানতে থাকেন এবং খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। খ্রিস্টান ধর্ম চর্চা ও পালন করতে করতে এক সময় তিনি একজন বড় মাপের খ্রিস্টান আলেম হয়ে যান। এরপর দীর্ঘ দিন চার্চের পাদ্রির দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। তিনি চার্চেও পাদ্রী হিসেবে খুব ভাল বক্তা হয়ে যান।
ইসলাম গ্রহণ ও ইসলামের জন্য ত্যাগ:
মহান আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন সে অবশ্যই হেদায়েত প্রাপ্ত হন। হেদায়েতের মালিক তো একমাত্র তিনিই। স্টিভ রকওয়েলকে দিয়ে ইসলামের খেদমত করাবেন বলে তাকে হেদায়েত দান করেন। স্টিভ রকওয়েল ইসলামের দাওয়াত পেলেন এবং ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিলেন। ইসলামের জন্য তার ত্যাগ অপরিসীম। কানাডার টরেন্টো শহরের হার্ট অফ দ্যা সিটির প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন স্টিভ রকওয়েল নিজে। তিনি নিজে সেই মসজিদের ইমামও। শহরের যে অংশে মসজিদটি অবস্থিত সে অঞ্চলটি কমার্সিয়াল প্লেস হিসেবে পরিচিত। যার অপর নাম ডান্ডাস স্কয়ার। তিনি যে জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করেছেন সে জায়গা যেন স্বর্ণের চেয়েও দামী। উক্ত মসজিদের সকল ব্যয় তিনি নিজেই বহন করে থাকেন।
জুমার খতিব : প্রতি জুমায়ই তিনি বিশ্বের সমসাময়িক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে খুৎবা দেন। তিনি কাউকে ভয় করে কথা বলেন না। তিনি খুবই স্পষ্ট ভাষী এবং কাস্টমাইজ করে খুৎবা দেন না। তিনি যে মসজিদের খতিব তাতে দু'টি জুমা হয়। (আমেরিকা-কানাডার প্রায় সব মসজিদেই এক ঘন্টার ব্যবধানে জুমার দু'টি জামাত হয়)। এ মসজিদের এক পাশে রসায়ন ইউনিভার্সিটি অবস্থিত। প্রথম জামাতে খুৎবা দেন রসায়ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসরগণ এবং দ্বিতীয় জুমায় খুৎবা দেন স্টিভ রকওয়েল। জুমার মুসল্লিদের মধ্যে অর্ধেকই রসায়ন ইউনিভার্সিটির মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী
দাওয়াতী কাজ: ইসলামের দাওয়াতী কাজে তার অবদান
অপরিসীম। তার মসজিদের পাশেই অবস্থিত টরেন্টোর বিখ্যাত শপিংমল ইটন সেন্টার। উক্ত শপিংমলের সামনে ইসলামী দাওয়াতী গ্রুপ প্রতি শনি ও রবি বার টেবিল নিয়ে বসে পথচারীদের মাঝে হাজার হাজার মেটারয়াল বিতরণ করেন। অনেকেই অন দ্যা স্পটে ইসলাম গ্রহণ করেন। যা হোক, স্টিভ রকওয়েল ঐ দাওয়াতী কাজে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। মাঝে মাঝে তিনি রসায়ন ইউনিভার্সিটির অমুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের দাওয়াত দেন জুমার খুৎবা শোনার জন্য। মসজিদের ভেতরে শেষ সারিতে তাদের জন্য এক সারী চেয়ার দেয়া হয় তাদের বসার জন্য। এ খুৎবা শুনে অনেকেই সঠিক পথের দিশা পান।
টিভি শোর ব্যবস্থা:
ভিশন টিভি নামে একটি টিভিতে প্রত্যেক শনিবার তিনি Call to the minarat নামে একটি টিভি শোর ব্যবস্থা করে থাকেন। অনুষ্ঠানটি মূলতঃ comparative religion-এর উপরে ভিত্তি করে চালিত হয়। ঐ অনুষ্ঠান দেখে অনেক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে থাকেন। ঐ টিভি চ্যানেলের খরচও তিনি নিজেই বহন করে থাকেন।
কেন নাম বদলাননি:
স্টিভ রকওয়েল তার পূর্ব নাম পরিবর্তন করে ইসলামী নাম কেন রাখেননি এ ব্যাপারে প্রায়ই প্রশ্নের সম্মুখীন হন। কেউ তাকে এ প্রশ্ন করলে তিনি প্রশ্নকর্তাকে জিজ্ঞেস করেন আপনার নাম কি? উত্তরে তিনি ইসলামী নাম বললে তিনি বলেন, আপনার এ মুসলিম নাম নিয়ে আপনি যতটা না অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত নিয়ে যেতে পারবেন তার চাইতে আমি স্টিভ রকওয়েল নাম নিয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি দ্বীনী দাওয়াত নিয়ে অমুসলিমদের কাছে যেতে পারি। আমার এ নামের জন্য অমুসলিমরা আগ্রহ করে আমার কথা শুনে থাকে। তার কথাটি শতভাগ সত্য, নর্থ আমেরিকা বা ইউরোপের যারাই ইসলাম গ্রহণ করেছেন প্রত্যেকেই নিজেদের নামের পূর্বেও একটি অংশ রেখে দিয়েছেন, এতে দাওয়াতী কাজ করতে তাদের সত্যই খুব সুবিধা হয় বলে তারা জানান। যেমন: ইউসুফ চেম্বার, ইউসুফ স্টেস, আবদুর রহীম গ্রীন, আব্দুল্লাহ হাকিম কুইক, বিলাল ফিলিপস, আব্দুল মালেক ক্লেয়ার প্রমুখ। কারণ, একজন অমুসলিম তখন চিন্তা করেন এ লোক তো আমার মতই একজন অমুসলিম ছিল, সে কেন মুসলিম হলো এ ব্যাপারে চিন্তায় ব্রতী হয় আর এ ব্যাপারে যখনই চিন্তা করতে থাকে তখন তার জন্য হেদায়েতের রাস্তা খুলে যায়।