18/05/2022
ম্যাক্রো ইকনমির চারটা খুটি।
এই চারটার যে কোন একটা ভেঙ্গে পড়লে, দেশের সার্বিক অর্থনীতি ভেগ্নে পড়বে।
১। ইনফ্লেশান।
২। এক্সচেঞ্জ রেট।
৩। ইন্টেরেস্ট রেট
৪। গ্রোথ রেট
বাংলাদেশ ২০১৬ থেকে হাই গ্রথ এচিভ করার জন্যে এই চারটি খুটির তিনটি খুটির ভিত্তি নড়বরে করে দিয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের ম্যাক্রো স্টাবিলিটি অনেক দিন ধরেই ভঙ্গুর।
যেদিকে শ্রীলংকা এই চারটি খুটির একটি খুটিতে ধবস নামার কারনে ভেঙ্গে পড়েছে সেখানে বাংলাদেশের চারটি খুটির তিনটি খুটিতে নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার কারনে, একটা সংকট যে আসন্য এইটা কোন অর্থনীতিবিদের জন্যে সারপ্রাইজ হওয়ার কথা না।
আসুন আমরা দেখি, প্রকৃত চিত্র কি।
১। ইনফ্লেশান।
বিগত চার পাঁচ বছরে দ্রব্য মুল্যের আকাশ ছোঁয়া দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিবিএসের ডাটা ম্যানিপুলেশানের মাধ্যমে একটি অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতিকে লুকিয়ে রেখেছে।
২। এক্সচেঞ্জ রেট
সাইফুর রহমান সাহেব, ২০০৬ এ ডলার পেগ থেকে সরে এসে ফ্রি ফ্লোটিং করলেও, সেন্ট্রাল ব্যাংকের ইন্টারভেনশানের মাধ্যমে একটা আরটিফিসিয়াল মান ধরে রেখেছে। যার ফলে, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ব্রুগেলের হিসেবে বাংলাদেশের আরইইআর ১৭০ এ গ্যাছে (সোর্স কমেন্টে) ,যদিও বিবির ফিনান্সিয়াল স্টাবিলিটি রিপোর্টে ১১০ থেকে ১১৫ আরইইআর দেখানো হচ্ছে। এইটা হতে পারে যে ব্রুগেল এবং বিবি ডিফা রেন্ট কারেন্সি বাস্কেট হিসেব করেছে কিন্তু এইটা ক্লিয়ার বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, পাকিস্তান শ্রীলংকা বিগত বছর গুলোতে তাদের মুদ্রা ডেপ্রিসিয়েট করেছে, ফলে, বাংলাদশের কারেন্সিও একটা বড় কারেকশান ডিউ ছিল।
ফলে , বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১০/১১৫ আরইইআর পরিস্কার ভাবে একটা মিথা ডাটা।
ফলে এই মিথ্য্যা ডাটা দিয়ে কম আরইইআর দেখায়, শক্ত মুদ্রার মান ধরে রাখার ফলে এর ফলে কম দামে পন্য আমদানি করা গ্যাছে , বড় বড় প্রজেক্টের পন্য কম মূল্য আনা গ্যাছে। কিন্তু এখন কারেকশানের টাইম আসছে। ফলে এখন আমরা টের পাচ্ছি, সেই ভুল পলিসির দায়।
৩। ইন্টেরেস্ট রেট।
নয় ছয় ইন্টেরেস্ট রেটের মাধ্যমে সাধারন মানুষের ব্যাংকের টাকা মেরে ব্যবসায়ীদেরকে সহজে ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু সাধারন মানুষের জন্যে ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে ক্ষতি। কারণ, সরকার নির্ধারিত ডেপোজিট রেট থেকে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি, ফলে। নয় ছয় ইন্টেরেস্ট রেটের মাধ্যমে সাধারন মানুষের অর্থ চুষে নিয়েছে বড় বড় ব্যবসায়ীরা।
৪। গ্রোথ রেট । ফলে ম্যাক্রো অর্থনীতির এই ক্রিটিকাল তিনটা ইস্যুকে মানিপুলেট করে যখন আপনি গ্রোথ অর্জন করেছেন, সেই গ্রোথ কোন মতেই টেকসই ছিলনা। আর, যে গ্রোথ হয়েছে মূল্যস্ফীতি এডজাস্ট করলে, কি থাকে সেইটাও প্রশ্ন।
এই চোষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিভাবে প্রবৃদ্ধির বেনেফিসিয়ারি ছিল খুব ছোট একটা গ্রুপ ।
মুরগির পেটে কেটে সোনার ডিম বের করার মত, সাধারন মানুষকে চুষে নিয়ে, অল্প কিছু মানুষের কাছে ওয়েলথ ট্রান্সফারের এই প্রক্রিয়া একটা সংকটে রূপান্তরিত বাধ্যে।
এইটা ছাড়াও আছে রাজনইতক সংকট এবং সিস্টেম লেভেল ক্রাইসিস যে আলোচনায় আর গেলাম না।
বাংলাদেশ খুব সম্ভবত সাময়িক এই ডলার সংকট কেটে উঠবে। কিন্তু, মিড টার্মে (২ থেকে ৪) বছরে বাংলাদেশ যে একটা গভীর সংকটে ঢুকবে তা, ম্যাক্রো ম্যানেজমেন্টে স্পস্ট।
অর্থনীতিবিদদের অনেক আগেই এইটা বোঝার কথা। কিন্তু উনারা যখন সব কিছু দিব্যলোকের মত স্পষ্ট, যখন একটা ৭ বছরের বাচ্চাও বলতে পারবে সংকট দেখা যাচ্ছে তখনই তারা সংকট দেখতে পান।
কিন্তু ইনারাই মাত্র তিন মাস আগের পত্রিকা উল্টে দেখেন, বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিস্ময়কর রোল মডেল উন্নয়ন নিয়ে এডিটোরিয়াল লিখেছেন।
ফলে এই সংকট সৃষ্টির পেছনে তাদের দায় ও কম নয় ।
জিয়া হাসান