18/05/2022
যশোর-ঝিনাইদহ ছয় লেন সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগে রাতারাতি তৈরি হচ্ছে অর্ধশত বহুতল ভবন। এখনো চলছে এক, দুই, তিন ও চারতলার নির্মাণকাজ। জমি অধিগ্রহণের টাকার পাশাপাশি স্থাপনা বাবদ অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়াই এর উদ্দেশ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পেছনে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারদের ইন্ধন রয়েছে।
18/05/2022
ম্যাক্রো ইকনমির চারটা খুটি।
এই চারটার যে কোন একটা ভেঙ্গে পড়লে, দেশের সার্বিক অর্থনীতি ভেগ্নে পড়বে।
১। ইনফ্লেশান।
২। এক্সচেঞ্জ রেট।
৩। ইন্টেরেস্ট রেট
৪। গ্রোথ রেট
বাংলাদেশ ২০১৬ থেকে হাই গ্রথ এচিভ করার জন্যে এই চারটি খুটির তিনটি খুটির ভিত্তি নড়বরে করে দিয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের ম্যাক্রো স্টাবিলিটি অনেক দিন ধরেই ভঙ্গুর।
যেদিকে শ্রীলংকা এই চারটি খুটির একটি খুটিতে ধবস নামার কারনে ভেঙ্গে পড়েছে সেখানে বাংলাদেশের চারটি খুটির তিনটি খুটিতে নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার কারনে, একটা সংকট যে আসন্য এইটা কোন অর্থনীতিবিদের জন্যে সারপ্রাইজ হওয়ার কথা না।
আসুন আমরা দেখি, প্রকৃত চিত্র কি।
১। ইনফ্লেশান।
বিগত চার পাঁচ বছরে দ্রব্য মুল্যের আকাশ ছোঁয়া দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিবিএসের ডাটা ম্যানিপুলেশানের মাধ্যমে একটি অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতিকে লুকিয়ে রেখেছে।
২। এক্সচেঞ্জ রেট
সাইফুর রহমান সাহেব, ২০০৬ এ ডলার পেগ থেকে সরে এসে ফ্রি ফ্লোটিং করলেও, সেন্ট্রাল ব্যাংকের ইন্টারভেনশানের মাধ্যমে একটা আরটিফিসিয়াল মান ধরে রেখেছে। যার ফলে, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ব্রুগেলের হিসেবে বাংলাদেশের আরইইআর ১৭০ এ গ্যাছে (সোর্স কমেন্টে) ,যদিও বিবির ফিনান্সিয়াল স্টাবিলিটি রিপোর্টে ১১০ থেকে ১১৫ আরইইআর দেখানো হচ্ছে। এইটা হতে পারে যে ব্রুগেল এবং বিবি ডিফা রেন্ট কারেন্সি বাস্কেট হিসেব করেছে কিন্তু এইটা ক্লিয়ার বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, পাকিস্তান শ্রীলংকা বিগত বছর গুলোতে তাদের মুদ্রা ডেপ্রিসিয়েট করেছে, ফলে, বাংলাদশের কারেন্সিও একটা বড় কারেকশান ডিউ ছিল।
ফলে , বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১০/১১৫ আরইইআর পরিস্কার ভাবে একটা মিথা ডাটা।
ফলে এই মিথ্য্যা ডাটা দিয়ে কম আরইইআর দেখায়, শক্ত মুদ্রার মান ধরে রাখার ফলে এর ফলে কম দামে পন্য আমদানি করা গ্যাছে , বড় বড় প্রজেক্টের পন্য কম মূল্য আনা গ্যাছে। কিন্তু এখন কারেকশানের টাইম আসছে। ফলে এখন আমরা টের পাচ্ছি, সেই ভুল পলিসির দায়।
৩। ইন্টেরেস্ট রেট।
নয় ছয় ইন্টেরেস্ট রেটের মাধ্যমে সাধারন মানুষের ব্যাংকের টাকা মেরে ব্যবসায়ীদেরকে সহজে ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু সাধারন মানুষের জন্যে ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে ক্ষতি। কারণ, সরকার নির্ধারিত ডেপোজিট রেট থেকে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি, ফলে। নয় ছয় ইন্টেরেস্ট রেটের মাধ্যমে সাধারন মানুষের অর্থ চুষে নিয়েছে বড় বড় ব্যবসায়ীরা।
৪। গ্রোথ রেট । ফলে ম্যাক্রো অর্থনীতির এই ক্রিটিকাল তিনটা ইস্যুকে মানিপুলেট করে যখন আপনি গ্রোথ অর্জন করেছেন, সেই গ্রোথ কোন মতেই টেকসই ছিলনা। আর, যে গ্রোথ হয়েছে মূল্যস্ফীতি এডজাস্ট করলে, কি থাকে সেইটাও প্রশ্ন।
এই চোষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিভাবে প্রবৃদ্ধির বেনেফিসিয়ারি ছিল খুব ছোট একটা গ্রুপ ।
মুরগির পেটে কেটে সোনার ডিম বের করার মত, সাধারন মানুষকে চুষে নিয়ে, অল্প কিছু মানুষের কাছে ওয়েলথ ট্রান্সফারের এই প্রক্রিয়া একটা সংকটে রূপান্তরিত বাধ্যে।
এইটা ছাড়াও আছে রাজনইতক সংকট এবং সিস্টেম লেভেল ক্রাইসিস যে আলোচনায় আর গেলাম না।
বাংলাদেশ খুব সম্ভবত সাময়িক এই ডলার সংকট কেটে উঠবে। কিন্তু, মিড টার্মে (২ থেকে ৪) বছরে বাংলাদেশ যে একটা গভীর সংকটে ঢুকবে তা, ম্যাক্রো ম্যানেজমেন্টে স্পস্ট।
অর্থনীতিবিদদের অনেক আগেই এইটা বোঝার কথা। কিন্তু উনারা যখন সব কিছু দিব্যলোকের মত স্পষ্ট, যখন একটা ৭ বছরের বাচ্চাও বলতে পারবে সংকট দেখা যাচ্ছে তখনই তারা সংকট দেখতে পান।
কিন্তু ইনারাই মাত্র তিন মাস আগের পত্রিকা উল্টে দেখেন, বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিস্ময়কর রোল মডেল উন্নয়ন নিয়ে এডিটোরিয়াল লিখেছেন।
ফলে এই সংকট সৃষ্টির পেছনে তাদের দায় ও কম নয় ।
জিয়া হাসান
02/12/2021
৭০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্দিনে রহিমআফরোজ গ্রুপ
বদরুল আলম ও হাছান আদনান
দেশে ব্যাটারি শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছিল রহিমআফরোজ। আইপিএস আর সোলার প্যানেলের মাধ্যমে অন্ধকারে আলো পৌঁছে দেয়ার কাজেও নেতৃত্বও দিয়েছে গ্রুপটি। ১৯৫৪ সালে এ সি আবদুর রহিমের হাত ধরে জন্ম রহিমআফরোজ অ্যান্ড কোংয়ের। প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ৬০ বছরে উত্তরসূরিদের হাতে গ্রুপটির বিকাশ ও বিস্তৃতি হয়েছে ঈর্ষণীয় মাত্রায়। ব্যবসায়িক সততা ও কার্যকর সুশাসনের দিক থেকেও রহিমআফরোজের সুনাম ছিল গোটা করপোরেট জগতে। দীর্ঘকালীন অর্জিত সুনামের কারণে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণও পেয়েছে শিল্প গ্রুপটি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ আছে রহিমআফরোজের। ব্যবসায়িক বিপর্যয়ে খেলাপি হয়েছে গ্রুপটির বেশির ভাগ ঋণ। পুনঃতফসিল করে ঋণ নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে গ্রুপটি। তবে ডাউন পেমেন্ট দেয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ জমা দিতে না পারায় আটকে গেছে অনেক ঋণের পুনঃতফসিল প্রক্রিয়া। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও এখন রহিমআফরোজের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একসময় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের চাকরির জন্য রহিমআফরোজ ছিল লোভনীয় এক করপোরেট হাউজ। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে শিল্প গ্রুপটিতে যোগদান ছিল সাধারণ ঘটনা। উৎপাদনের পাশাপাশি বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির ব্যাটারি বিপণনের মাধ্যমে দেশের ব্যাটারি বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। আইপিএস ও ইউপিএসের বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আমদানীকৃত গাড়ির টায়ার, লুব্রিকেন্ট ও জ্বালানির বাজারেও দাপট ছিল গ্রুপটির। সোলার প্যানেল ও আগোরার মতো রিটেইল সুপারশপের মাধ্যমে গণমানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল রহিমআফরোজের নাম।
এখন ব্যাংকের তালিকায় খেলাপি হওয়ায় ঋণপত্রও খুলতে পারছে না শিল্প গ্রুপটি। স্থবিরতা নেমে এসেছে ব্যাটারি উৎপাদন, বিপণন ও রফতানিতে। কোম্পানি টিকিয়ে রাখতে রফতানির চিন্তা বাদ দিয়ে আপাতত ব্যাটারির স্থানীয় বাজার ধরে রাখাতেই মনোনিবেশ করেছে গ্রুপটি।
নির্মম এ বাস্তবতার কথা মানছেন রহিমআফরোজের গ্রুপ পরিচালক নিয়াজ রহিমও। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে গিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছি। আগোরা করতে গিয়ে কৃষিতেও বড় অংকের বিনিয়োগ করেছিলাম। সেখানেও লোকসান হয়েছে ৭০-৮০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বাতাসে ভেসে গিয়েছে। এত বড় লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে করতেই এল করোনার আঘাত। গত দুই বছরে বেশির ভাগ সময়ই কর্মীদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হয়েছে। এ মুহূর্তে কর্মীদের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন খারাপ পরিস্থিতি রহিমআফরোজ গ্রুপের ৭০ বছরের ইতিহাসে আসেনি।
নিয়াজ রহিম ২০১৩ সালে অনেকটা আকস্মিকভাবে গুলেনবারি সিনড্রম (জিবিএস) রোগে আক্রান্ত হন। এরপর প্রায় তিন বছর তিনি দেশে ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ এ সময়ে ব্যবসা থেকে পুরোপুরি বাইরে ছিলেন তিনি। তার এ দীর্ঘ অনুপস্থিতি রহিমআফরোজ গ্রুপের ব্যবসায়িক বিপর্যয়ে প্রভাব ফেলেছে। মূলত ওই সময় থেকেই শিল্প গ্রুপটির কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমতে শুরু করে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নিয়াজ রহিম বলেন, বহুজাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য কর্মীদের আমরা নিয়োগ দিয়েছিলাম। কাজ করার জন্য তাদের একটি আদর্শ পরিবেশও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দায়বদ্ধতা না থাকায় ফলপ্রসূ হয়নি। সুস্থ থাকা অবস্থায় কাজ শেষে অনেক রাতেও বাসায় ফিরতাম। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেয়া হয়নি। এ জবাবদিহিতার অভাবই রহিমআফরোজের আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
১৯৪০-এর দশকে সীমিত পরিসরে ট্রেডিং ব্যবসায় যুক্ত হন এ সি আবদুর রহিম। ১৯৪৭ সালে যৎসামান্য পুঁজি নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে ব্যবসার পরিধি বড় করেন তিনি। এরপর ১৯৫৪ সালের ১৫ এপ্রিল রহিমআফরোজ অ্যান্ড কোং নামে একটি কোম্পানি গড়ে তোলেন তিনি। ১৯৫৯ সালে তিনি দেশে যুক্তরাজ্যের লুকাস ব্যাটারির বিপণন শুরু করেন। বিপণন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডানলপ টায়ারেরও। লুকাস ব্যাটারি ও ডানলপ টায়ারের বিক্রিতে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেন এ উদ্যোক্তা। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে লুকাস ব্যাটারি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়ে বড় সাফল্য আসে রহিমআফরোজের। ১৯৮২ সালে আবদুর রহিম মারা গেলে তার তিন সন্তান আফরোজ রহিম, ফিরোজ রহিম ও নিয়াজ রহিম ব্যবসার হাল ধরেন। পিতার রেখে যাওয়া কোম্পানি দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে আরো বড় হয়ে রূপ নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেটে।
১৯৮৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাটারি উৎপাদন শুরু করে রহিমআফরোজ। একই বছর ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের সহায়তায় শুরু হয় সোলার পাওয়ার বিপণন। ১৯৯২ সালে সিঙ্গাপুরে ব্যাটারি রফতানির মাধ্যমে রহিমআফরোজের নাম বিদেশেও বিস্তৃত হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে প্রথম আইপিএস চালু করে কোম্পানিটি। ২০০০ সালে ভারতের আহমেদাবাদে অফিস খোলে রহিমআফরোজ। ২০০১ সালে আগোরা নামের সুপারস্টোর চালু করে গ্রুপটি।
বর্তমানে রহিমআফরোজ গ্রুপের অধীনে চালু আছে ১৫টির বেশি কোম্পানি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ আছে রহিমআফরোজ ব্যাটারির নামে। কোম্পানিটির নামে ব্যাংকঋণ আছে ৫২২ কোটি টাকা। এছাড়া রহিমআফরোজ অ্যাকিউমুলেটরস লিমিটেডের নামে ৩৯৮ কোটি, রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশনের নামে ২৯৭ কোটি, রহিমআফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেডের নামে ২৫২ কোটি, রহিমআফরোজ ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের নামে ২২০ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ রয়েছে। এছাড়া শিল্প গ্রুপটির অধিভুক্ত কোম্পানি রহিমআফরোজ রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের নামে ১৬৫ কোটি, রহিমআফরোজ এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে ৯৯ কোটি, রহিমআফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে ৮১ কোটি, রহিমআফরোজ সিআইসি এগ্রো লিমিটেডের নামে ৬২ কোটি, আরজেড পাওয়ার লিমিটেডের নামে ৫৪ কোটি, রহিমআফরোজ গ্যাসটেক লিমিটেডের নামে ২৭ কোটি এবং আগোরা লিমিটেডের নামে ২২ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বাকি ঋণ রয়েছে রহিমআফরোজের প্রতিষ্ঠান এক্সেল রিসোর্সেস লিমিটেড, মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড, কোর নলেজ লিমিটেড ও রহিমআফরোজ সিএনজি লিমিটেডের নামে। সব মিলিয়ে রহিমআফরোজ গ্রুপের ১৬টি কোম্পানির নামে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ছিল ৬২৭ কোটি টাকা।
রহিমআফরোজের দুটি কোম্পানির নামে প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ঋণ আছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের। অনেক আগেই খেলাপির খাতায় নাম উঠেছে পুরো ঋণ। তবে ঋণটি পুনঃতফসিলের উদ্যোগ নিয়েছে রহিমআফরোজ গ্রুপ। এর মধ্যে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে পুনঃতফসিলের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। যদিও ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেয়ার শর্ত দিয়ে পুনঃতফসিল প্রস্তাবটি ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, রহিমআফরোজ ছিল দেশের সেরা করপোরেট গ্রুপ। অথচ কয়েক বছর ধরে গ্রুপটির ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে না। আমাদের ঋণটি খেলাপি হয়ে যাওয়ায় পুনঃতফসিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন কিছু শর্ত দিয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি। তবে আশা করছি, আমাদের কাছে থাকা রহিমআফরোজের ঋণটি পুনঃতফসিল হয়ে যাবে। দেশের ব্যাটারি ও সোলার শিল্পের সমৃদ্ধি ও বিকাশে শিল্প গ্রুপটির অনবদ্য অবদান আছে। রহিমআফরোজ ঘুরে দাঁড়াক, এ প্রত্যাশাই করছি।
রহিমআফরোজের কোম্পানিগুলোয় ঋণ আছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেরও। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, খেলাপি হয়ে যাওয়ার পর রহিমআফরোজ আমাদের ব্যাংকের ঋণটি পুনঃতফসিল করেছে। শিল্প গ্রুপটি আমাদের কাছে শুধু ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়েছিল। কোনো সুদ মওকুফ বা অন্য কোনো সুবিধা তারা চায়নি। রহিমআফরোজের উদ্যোক্তারা সৎ ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত। আশা করছি, গ্রুপটি দুঃসময় কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।
আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে বর্তমানে স্থায়ী সম্পদ ও কিছু কোম্পানি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে রহিমআফরোজ গ্রুপ। এরই মধ্যে সুপারশপ আগোরা বিক্রি করে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গ্রুপটি। তবে আগোরার বিদেশী অংশীদারদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতের অমিল হওয়ায় এখনো বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি রহিমআফরোজ। ব্যয় কমাতে গ্রুপটি এরই মধ্যে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। রহিমআফরোজের কর্মীর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার থেকে বর্তমানে এক হাজারে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০১২ সালে বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ালেখা শেষ করে রহিমআফরোজে যুক্ত হয়েছেন নিয়াজ রহিমের জ্যেষ্ঠ সন্তান ফারাজ এ রহিম। গ্রুপটির ব্যবসায়িক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিভিন্নমুখী কারণে রহিমআফরোজের ব্যবসা খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছে। তবে আমরা হারিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়িনি। আমাদের ব্যাটারির রফতানি বাজার হলো মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকা, আসিয়ান ও সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশ। করোনা শুরুর পর থেকেই এসব দেশে রফতানির জন্য তৈরি করা হাজার হাজার ব্যাটারি কারখানা ও চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে। পণ্য বহনের জন্য জাহাজ সংকটের কারণেও অনেক দেশের ক্রয়াদেশ নেয়া যাচ্ছে না। আপাতত আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবসা জোরদারের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আশা করছি, ব্যাংকঋণগুলো নিয়মিত হয়ে গেলে রহিমআফরোজ স্বমহিমায় ঘুরে দাঁড়াবে।
নিয়াজ রহিম বলেন, রহিমআফরোজ আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। উত্তরাধিকারীদের ঐক্য ধরে রাখতে আমাদের পারিবারিক সংবিধানও আছে। আমার তিন সন্তান বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। রহিমআফরোজের এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হলো ক্যাশ-ফ্লো সংকট। আমরা সরকার ঘোষিত কোনো প্রণোদনার অর্থ এখনো পাইনি। আশা করছি, দ্বিতীয় দফায় আমরা প্রণোদনার অর্থ পাব। কোনো ব্যাংক বা ব্যক্তির কাছে আমরা দয়া চাই না। ব্যাংকগুলোর কাছে শুধু ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন করছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ সহায় থাকলে কোনো সংকটই থাকবে না।
15/11/2020
শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে সহযোগিতা করবে কোরিয়া
বাংলা ট্রিবিউন
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার হাই কমিশনার লি জ্যাং কেয়ান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই কথা জানান। রাজধানীর মতিঝিলের এফবিসিসিআই আইকনে এই বৈঠক হয়।
বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অটোমোবাইল শিল্পের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরিতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা যৌথ উদ্যোগে কোরিয়ার আগ্রহ প্রকাশ। প্রযুক্তি কেন্দ্রে এর সম্ভাব্য অবদান, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে অ্যাক্সেস সুবিধা প্রদান; একই সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের (অলটারনেট ডিসপ্যুট রেজল্যুশন সেন্টার) জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রদানের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন।
এফবিসিসিআই সভাপতি কোরিয়ার হাই কমিশনারের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। পাশাপাশি তারা উভয় দেশের বাইলেটারাল ভ্যালু চেইন ইনিশিয়েটিভ, কূটনৈতিক সম্পর্ক, কেসিসিআই, কেওআইএমএ, কেআইটিএ’কে সম্পৃক্ত করে বাণিজ্য চুক্তি; কোভিড-১৯ সম্পৃক্ততা, বিনিয়োগে প্রণোদনা; জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে টিভিইটি দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমিক অভিবাসন বিষয়ে আলোচনা করেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি দক্ষিণ কোরিয়ার হাই কমিশনারকে এফবিসিসিআই ইমপ্যাক্ট ৪.০ সম্পর্কে অবহিত করেন। যার মধ্যে আছে এফবিসিসিআই এডিআর সেন্টার, টেক সেন্টার, স্কিল ল্যাব, এফবিসিসিআই ইনস্টিটিউট, এফবিসিসিআই ইউনিভার্সিটি, ইকোনমিক অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ সেন্টার, মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ-সেমিনার-স্কিলস অডিটোরিয়াম ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পার্টনারশিপে ফেডারেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, এলডিসি ও এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ইত্যাদি।
বাংলাদেশের উন্নয়ন গতিপথের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমান এফবিসিসিআই বোর্ড এফবিসিসিআই ভিশন ২০৪১ চালু করেছে, যা ইমপ্যাক্ট ৪.০ উদ্যোগ নিয়ে গঠিত।
বৈঠকে অ্যাম্বাসি অব রিপাবলিক অব কোরিয়া (আরওকে)-এর কমার্শিয়াল সেকশনের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জং ওন কিম ও ডেপুটি চিফ অব মিশন কাউন্সিল চিওল-স্যাং কিম সহ এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজনু সিআইপি; মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ; নিজামুদ্দিন রাজেশ এবং পরিচালক সুজিব রঞ্জন দাশ; মো. মুনির হোসাইন ও সালাউদ্দিন আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রামের কোরিয়ান অনারারি কনস্যুল হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল।
31/10/2020
ন্যানোপ্রযুক্তি ও ক্রায়োসার্জারি
এস এম হাবিব উল্লাহ, মাস্টার ট্রেইনার ও প্রভাষক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, রাউজান সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম
ন্যানোপ্রযুক্তি ও ক্রায়োসার্জারি
অ- অ অ+
ন্যানোপ্রযুক্তি
যা শিখতে পারবে
১। ন্যানো প্রযুক্তির ধারণা।
২। ন্যানো প্রযুক্তির প্রয়োগক্ষেত্র।
৩। ন্যানো প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা।
ন্যানোপ্রযুক্তি
পারমাণবিক বা আণবিক পর্যায়ে অতিক্ষুদ্র যন্ত্র তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞানকে ন্যানো টেকনোলজি তথা ন্যানোপ্রযুক্তি বলে। ন্যানো শব্দটি গ্রিক nanos শব্দ থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ dwarf। কিন্তু এটি একটি মাপের একক হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। রিচার্ড ফাইনম্যানকে ন্যানোপ্রযুক্তির জনক বলা হয়।
১ মিটারের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগকে বলা হয় ১ ন্যানোমিটার। অর্থাৎ 1 nm = 10-9 m। ন্যানোমিটার পর্যায়ের টেকনোলজিকেই বলে ন্যানো টেকনোলজি।
প্রয়োগ
১। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার
২। ন্যানো রোবট
৩। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি
৪। জ্বালানি
৫। প্যাকেজিং ও প্রলেপ
৬। ওষুধ
৭। খেলাধুলার সামগ্রী
৮। মহাকাশ অভিযান
৯। বস্ত্রশিল্প
১০। কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
ন্যানো টেকনোলজির সুবিধা
১। এ প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্রপাতি বেশি টেকসই হয়। আকারে ক্ষুদ্র ও ওজনে হালকা হয়।
২। ন্যানো টেকনোলজির প্রয়োগে উৎপাদিত ওষুধকে বলে ‘স্মার্ট ড্রাগ’। এগুলোর ব্যবহারে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যায়।
৩। খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেজিংয়ের সিলভার তৈরির কাজে লাগে।
৪। এ প্রযুক্তিতে তৈরি ন্যানো ট্রানজিস্টর, ডায়োড, প্লাজমা ডিসপ্লে ইত্যাদির ফলে ইলেকট্রনিক শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হচ্ছে।
৫। ন্যানো প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারি, ফুয়েল সেল, সোলার সেল ইত্যাদির মাধ্যমে সৌরশক্তিকে অধিকতর কাজে লাগানো যায়।
ন্যানোপ্রযুক্তির অসুবিধা
১। ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যয়বহুল হওয়ায় এ প্রযুক্তিতে তৈরি পণ্যও ব্যয়বহুল।
২। ন্যানোপারটিকেল মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ক্রায়োসার্জারি
যা শিখতে পারবে
১। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসা পদ্ধতির ধারণা।
২। ক্রায়োসার্জারির ব্যবহারের সুবিধা।
৩। মহাকাশ অভিযানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা।
ক্রায়োসার্জারি হলো এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যাতে তাপমাত্রা কমিয়ে শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। গ্রিক শব্দ ‘ক্রায়ো’ যার অর্থ বরফের মতো শীতল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সার্জারি’ তথা ‘হাতের কাজ’। ক্রায়োসার্জারিকে ক্রায়োথেরাপিও বলা হয়।
নিম্ন তাপমাত্রায় ক্রায়োসার্জারি দেহকোষের ভেতরকার বরফ ক্রিস্টালগুলোর বিশেষ আকার বা বিন্যাসকে ছিন্ন করে দূরে সরিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে তাপ কমাতে ব্যবহার করা হয়—
তরল নাইট্রোজেন
হিলিয়াম গ্যাস
আর্গন গ্যাস
ডাই মিথাইল ইথাইল প্রোপ্রেন ইত্যাদি।
ক্রায়োথেরাপি বা ক্রায়োসার্জারি যেভাবে কাজ করে
এ পদ্ধতিতে টিউমারের ভেতরের ক্যান্সার টিস্যুতে তাপমাত্রা মাইনাস ১২০ থেকে মাইনাস ১৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনতে ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে তরল আর্গন গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ওই টিস্যুটি বরফপিণ্ডে পরিণত হয়। ফলে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধের কারণে টিস্যুটির ক্ষয় সাধিত হয়। আবার ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে টিউমার টিস্যুটির ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে টিস্যুটির তাপমাত্রা 200C থেকে 400C-এ ওঠানো হয়। তখন জমাটবদ্ধ টিউমার টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং টিস্যুটি ধ্বংস হয়ে যায়।
ক্রায়োসার্জারির ব্যবহার
নিউরোসার্জারি এবং টিউমার বা ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় এবং বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ শারীরিক রোগ যেমন—যকৃতের ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ত্বকের ছোট টিউমার, তিল, আঁচিল, ত্বকের ক্যান্সার ইত্যাদিও ক্রায়োসার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
ক্রায়োসার্জারির সুবিধা
১। প্রথম সুবিধা হচ্ছে আক্রান্ত টিস্যুতে শীতক যন্ত্রটি এমনভাবে লাগানো হয়, যাতে টিস্যুর সবধরনের ক্রিয়াকলাপকে সাময়িকভাবে অকার্যকর করে রাখা যায় এবং চিকিৎসা শেষে টিস্যুটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায়।
২। দ্বিতীয় সুবিধা হচ্ছে এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা যখন নিচে নামানো হয় তখন সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে রক্ত সরে যায় এবং রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়। ফলে রক্তপাত হয় না বললেই চলে। হলেও তা খুব কম।
৩। তৃতীয় সুবিধা হচ্ছে ক্যান্সার নিরাময়ে বহুল প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহূত কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের মতো চিকিৎসায় এই পদ্ধতির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
৪। বর্তমানে এই পদ্ধতি ধীরে ধীরে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং অস্ত্রোপচারের জায়গাটা দখল করে নিচ্ছে। ক্যান্সার ও নিউরো রোগীদের কাছে দিন দিন এই পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে।
https://www.facebook.com/The-International-Institute-for-Nanotechnology-Bangladesh-109647287564280
13/10/2020
মেক্সিকোয় এক সংসদ সদস্য সংসদ অধিবেশনে প্রতিবাদ স্বরূপ নিজের পরনের পোশাক খুলে ফেলেন এবং বাকি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন- "আপনি আমাকে নগ্ন দেখতে লজ্জা পেয়েছেন,অথচ রাস্তায় আপনার জনগণকে নগ্ন,খালি পা, বেপরোয়া, বেকার এবং ক্ষুধার্ত দেখে আপনি লজ্জা পান না যখন আপনি তাদের ধন-সম্পদ চুরি করে, দুর্ণীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েন। এই লজ্জা কার!!"
আপনারা মেয়েদের পোষাক নিয়ে কমেন্ট করেন, কিন্তু কোনো ছেড়া ব্লাউজ পরা মা যখন রাস্তায় ভিক্ষা করে সেটা নিয়ে কথা বলেন না কেনো?ছোট শিশুরা ধর্ষন হয় সেটা নিয়ে কথা বলেন না কেন? তখন আপনার চক্ষুলজ্জা কোথায় যায়?
24/09/2020
কারিগরি শিক্ষা
শিক্ষকের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট ৯২% শিক্ষার্থী
সাইফ সুজন
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষায় পাঠদানরত শিক্ষকদের মানের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে অনেক বছর ধরেই। এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে খোদ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও, যার ব্যতিক্রম নয় কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের এক সাম্প্রতিক গবেষণায়ও দেখা গিয়েছে এর প্রতিফলন। গবেষণায় উঠে আসে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্স পাস করে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের ৯২ শতাংশই তাদের শিক্ষকদের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট।
সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) কোর্সের মান যাচাই ও বাজার উপযোগী করার লক্ষ্যে একটি গবেষণা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। গবেষণাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাবির ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চকে। গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২৮টি জেলার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরিপ চালায় গবেষক দল। জরিপে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও চাকরিদাতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ‘আ ট্রেসার স্টাডি ফর মেকিং এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) কোর্স মোর মার্কেট রেসপনসিভ অ্যান্ড প্র্যাকটিক্যাল ওরিয়েন্টেড’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্স জরিপে পাস করে বের হওয়া ৫৮৪ জনের কাছে শিক্ষকদের মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাদের মধ্যে ৯২ দশমিক ৫ শতাংশই শিক্ষকের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, শিক্ষকের মান খুব খারাপ। ৩৯ শতাংশ বলেছেন শিক্ষকদের মান খারাপ। এছাড়া শিক্ষকের মান মোটামুটি বলে মত দিয়েছেন ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। আর শিক্ষকদের মান ভালো বলে মত দিয়েছেন মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। খুব ভালো বলে মত দিয়েছেন শূন্য দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশেই নির্ভর করে শিক্ষকের যোগ্যতার ওপর। যদিও শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে নিয়োগে অনিয়ম ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের অভাবে তাদের সে যোগ্যতা ও দক্ষতা হয়ে পড়ছে প্রশ্নবিদ্ধ।
কারিগরি শিক্ষাসংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মান নিয়ে পরিচালিত গবেষণাটিতে এরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জরিপে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষকদের কারিগরি দক্ষতা বিষয়ে জানতে চাইলেও উঠে এসেছে বেশ হতাশাব্যঞ্জক চিত্র। স্কিল লেভেল নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দক্ষতার মান খুবই খারাপ। ৪২ দশমিক ১ শতাংশের মতে শিক্ষকদের দক্ষতার মান খারাপ। এ দক্ষতার মান মোটামুটি বলে অভিমত দিয়েছেন ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ভালো বলে মত দিয়েছেন মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। শিক্ষকদের কারিগরি দক্ষতা খুব ভালো বলে মনে করছেন শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষকের আচরণেরও নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন পাস করা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ। এক্ষেত্রে ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর মতে, শিক্ষকদের আচরণ খুব খারাপ। শুধু খারাপ বলে মনে করছেন ৩৯ শতাংশ। শিক্ষকদের আচরণ মোটামুটি বলে মত দিয়েছেন ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া শিক্ষকদের আচরণ ভালো বলেছেন মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। খুব ভালো বলে মত দিয়েছেন শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
গবেষণাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকের মান ও আচরণ নিয়ে জরিপের ফল খুবই ভয়াবহ। গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক ড. মোহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, সাধারণ কোর্সের বাইরে কারিগরি কোর্সের মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষ জনবল তৈরি। তবে সময়ের আবর্তনে দেখা গেছে, সাধারণ কোর্স করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কারিগরি কোর্স করা শিক্ষার্থীদের দক্ষতার মাত্রাই আলাদা করা যাচ্ছে না। অর্থাৎ লক্ষ্য ভালো থাকলেও কারিগরি কোর্স করা শিক্ষার্থীদের সে লক্ষ্য অনুযায়ী গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এর মূলত দুটি কারণ। একটি হচ্ছে, মানসম্মত শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব। শিক্ষকের মানের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা যা বলেছেন, তা সত্যিই ভয়াবহ। আর গবেষণার কাজে পরিদর্শনে গিয়ে অবকাঠামোর যে চিত্র দেখেছি, সেটি আরো ভয়াবহ। এমন ল্যাব রয়েছে, যেখানে একটি কম্পিউটারও সচল নেই। অভিযোগ রয়েছে, শুধু অবকাঠামো সাজানোর জন্যই নষ্ট কম্পিউটার এনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
শিক্ষকের জ্ঞানগত দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরাও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারছেন না। চাকরির বাজারে গিয়ে তাদের বেশকিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব, কম্পিউটার জ্ঞানের অভাব, গণিত ও ইংরেজিতে অদক্ষতা, উপস্থাপনায় দুর্বলতা, কারিগরি দক্ষতায় ঘাটতি ও অভিজ্ঞতা না থাকা ইত্যাদি। চাকরির বাজার উপযোগী করে গড়ে তুলতে না পারায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেও শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই বেকার থাকছেন। জরিপে ২০১৪ সালে কোর্স সম্পন্ন করে বের হওয়া পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, তাদের ৮৪ শতাংশই এখনো বেকার।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক (গবেষণা) রাজু মুহম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় কোর্সটির ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। পাশাপাশি সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ করেছে গবেষক দল। শিগগিরই এসব সুপারিশের আলোকে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সব অংশীজনের সঙ্গে বসা হবে। পাশাপাশি পরিকল্পনার আলোকে সেগুলো বাস্তবায়নও শুরু হবে।
23/05/2020
দিনটি ছিল শুক্রবার। জুম্মার নামাজের সময় প্রায় শেষের দিকে, এদিকে জোয়ারের পানি চলে আসার সময় হয়ে যাচ্ছে, বেড়ীবাঁধের কাজও অগোছালো। তারই ফাঁকে কাজের সামান্য বিরতি দিয়ে জুম্মার নামাজ পড়ে নিচ্ছেন সাইক্লোনের সাথে যুদ্ধরত সৈনিকরা।
মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।